📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 হুদুদ, ইসলামের সাম্য এবং শারীয়াহ

📄 হুদুদ, ইসলামের সাম্য এবং শারীয়াহ


মক্কায় প্রবেশকালে আল্লাহর রাসূলের উটের পেছনে বসা ছিলেন উসামাহ ইবন যাইদ। তার বাবা যাইদ একসময় ছিলেন দাস। আল্লাহর রাসূল কাবাঘরে আজান দিয়েছিলেন বিলালকে দিয়ে। বিলালও ছিলেন সমাজের অপাংক্তেয় শ্রেণির একজন মানুষ। এগুলো ছিল মক্কার গোত্রীয় ভেদাভেদ ও শ্রেণিবৈষম্যকে ইসলামের সাম্য ও ন্যায় দিয়ে প্রতিস্থাপনের প্রতীকি পদক্ষেপ। তবে সত্যি বলতে, গোত্রীয় বৈষম্য কুরাইশদের মাঝে এত গভীরভাবে প্রোথিত ছিল যে, হাতে-কলমে এই শিক্ষা দেওয়াটা প্রয়োজন ছিল। এই শিক্ষাটি প্রোথিত করার আরেকটি সুযোগ মেলে একটি চুরির ঘটনার মাধ্যমে।
বনু মাখযুমের এক মহিলার কাহিনী। চুরির অপরাধে তাকে ধরে আনা হয়। বনু মাখযুম ছিল কুরাইশের এক প্রভাবশালী গোত্র। তাদেরই এক সম্মানিত মহিলা চুরি করার মতো অপরাধ করেছিল। রাসূলুল্লাহ সেই মহিলার ওপর চুরির শাস্তি প্রয়োগ, অর্থাৎ হাত কাটার নির্দেশ দিলেন।
এই আদেশের পর সেই গোত্রের লোকেরা সেই মহিলাকে শাস্তি থেকে বাঁচাতে উঠেপড়ে লাগে। সম্ভ্রান্ত একজন মহিলার চুরির দায়ে হাত কাটা যাবে, বিষয়টা তাদের জন্য যেমন অভিনব, তেমনই কষ্টকর। তারা মানতেই পারছিল না প্রভাবশালী কেউ এ ধরনের শাস্তি পাবে। যে সমাজব্যবস্থায় বরাবর দুর্বল আর দাসশ্রেণির লোকেরাই শাস্তি ভোগ করে এসেছে, যে সমাজে উঁচু শ্রেণির লোকেরা বরাবর কোনো না কোনোভাবে পার পেয়ে এসেছে, সে সমাজের লোকেদের কাছে ব্যাপারটা হজম করতে কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। তারা উসামাহ ইবন যাইদকে দিয়ে আল্লাহর রাসূলের কাছে শাস্তি লাঘব বা মাফ করার জন্য অনুরোধ করাতে চাইলো। কারণ, উসামাকে রাসূলুল্লাহ খুব ভালোবাসতেন।
পীড়াপীড়িতে উসামা অনিচ্ছার সাথে রাজি হলেন। বিষয়টা নিয়ে কথা তোলার সাথে সাথে রাসূলুল্লাহর চেহারাই বদলে গেল। তিনি খুবই রেগে গেলেন। সন্ধ্যাবেলা রাসূলুল্লাহ দাঁড়িয়ে একটি খুতবা দিলেন। খুতবায় বললেন, 'তোমাদের আগের জাতিগুলো ধ্বংস হয়েছিল এই কারণে যে, তাদের সম্ভ্রান্ত বংশের কোনো লোক চুরি করলে তারা তাকে ছেড়ে দিত আর দুর্বল কেউ চুরি করলে তারা তাকে শাস্তি দিত। আমার জানের মালিক আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করতো তাহলে আমি তার হাত কেটে নিতাম!'
এরপর হাদ্দ কায়েম করা হলো অর্থাৎ শাস্তিস্বরূপ মহিলার হাত কেটে নেওয়া হলো। পরে অবশ্য সেই মহিলা তাওবা করেছিলেন। তার বিয়েও হয়েছিল। আইশা বলেন, 'এ ঘটনার পরে তিনি আমার সাথে দেখা করতে আসতেন। তার কিছু প্রয়োজন থাকলে আমি রাসূলুল্লাহকে সেসব জানাতাম।'
রাসূলুল্লাহ আমাদেরকে এমন এক আদর্শের শিক্ষা দিয়েছিলেন যেখানে আইন মানুষের জীবনকে পরিচালনা করে, ক্ষমতা নয়। যদি কোনো সমাজে কেবল দুর্বলদের শাস্তি দেওয়া হয় আর ক্ষমতাশালীরা পার পেয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল সেই সমাজকে ধ্বংস করে দেন। বর্তমান সমাজে এ ধরনের বৈষম্য তো আছেই, উপরন্তু আল্লাহর আইন বলেও কিছু নেই।
হাদীসে এসেছে যে, 'আল্লাহর হুদুদের একটি হাদ্দ প্রয়োগ করা চল্লিশ দিন টানা বৃষ্টি হওয়া থেকে কল্যাণকর। ১০৮ শুধু এই হুদুদ প্রয়োগ না করার কারণে সমাজ আজ হাজারো বরকত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই জীবনে এত বিশৃঙ্খলা। আজ এই উম্মাহর সম্পদ আছে, বিস্তৃত ভূমি আছে, কিন্তু সেসবে বারাকাহ নেই। কারণ কোথাও হুদুদের প্রয়োগ নেই। মুসলিমদের প্রত্যেকের ওপর দায়িত্ব পৃথিবীতে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করা। ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামী শাসনব্যবস্থাকে বা শরীয়াহকে বর্তমানে বর্বর এবং মধ্যযুগীয় ব্যবস্থা হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি কল্যাণ, শান্তি ও বারাকাহ আছে। মুসলিমদের স্বর্ণযুগ বলে যে যুগটির কথা বলা হয়, সেটি প্রকৃতপক্ষে এই শরীয়াহর যুগ। আর যে যুগে মুসলিমরা সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত, পদদলিত আর পিছিয়ে আছে, সেটি হলো গত দুশো বছর ধরে চলে আসা সাম্রাজ্যবাদের যুগ। এখন মুসলিমরা শরীয়াহকে বাদ দিয়ে কাফিরদের আইন মেনে নিয়েছে আর তাদের জীবনযাত্রার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে।

টিকাঃ
১০৮. ইবনু মাজাহ, অধ্যায় হুদুদ, হাদীস নং ২৫৩৭।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 হিজরত এবং জিহাদ

📄 হিজরত এবং জিহাদ


বুখারীতে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ মক্কা বিজয়ের পর বলেন, 'আজ থেকে আর কোনো হিজরত নেই। শুধু জিহাদ ও নিয়্যত আছে। আর যদি তোমাদেরকে যুদ্ধ করার জন্য আহবান করা হয়, তাহলে তোমরা তাতে সাড়া দেবে।' ১০৯
মক্কা বিজয়ের আগে হিজরত করা ছিল বাধ্যতামূলক। সেসময়ে যে-ই মুসলিম হতো, তাকেই মক্কা থেকে মদীনা, বা আরবের অন্য যে অংশেই সে থাকুক না কেন, তাকে মদীনায় হিজরত করতে হতো। মক্কা বিজয়ের পরে কেউ কেউ রাসূলুল্লাহর কাছে হিজরত করার ইচ্ছা পোষণ করলে, রাসূলুল্লাহ তাদের বললেন, হিজরতের সময় শেষ। যারা যারা হিজরত করেছে, তারা এর আজর (সাওয়াব) পেয়ে গেছে। এখন আর হিজরতের সুযোগ নেই। হিজরতের বদলে এখন আছে জিহাদ। যে ইবাদাতের মাধ্যমে হিজরতের সাওয়াব লাভ করা যাবে, তা হলো জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ। তাবেঈ আতা ইবন রাবাহা বলেন,
'আমি আইশার কাছে গিয়ে হিজরত সম্পর্কে জানতে চাইলাম। আইশা বললেন, 'এখন আর কোনো হিজরত নেই। সে যুগে ফিতনা থেকে বাঁচতে মু'মিনরা তাদের দ্বীন নিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে পালিয়ে আসতে চাইত। কিন্তু এখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল ইসলামকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছেন যে, একজন মুসলিম যেখানে ইচ্ছা আল্লাহর ইবাদাত করতে পারে। তবে তোমাদের জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ করা উচিত এবং জিহাদের নিয়্যত রাখা উচিত।'
আজ থেকে আর কোনো হিজরত নেই- এই কথার অর্থ এই নয় যে হিজরতের আদেশ রহিত হয়ে গেছে। বরং এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, মক্কা থেকে মদীনায় আর হিজরত করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু জিহাদ করার উদ্দেশ্যে হিজরত করা অথবা ভালো নিয়ত, যেমন ভালোভাবে দ্বীন পালনের উদ্দেশ্যে হিজরত করা- এ দুটো আদেশ ক্বিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ইবন কাসীর এই ব্যাপারে মন্তব্য করেন, '(সাধারণভাবে) এখন আর হিজরত নেই, তবে এমন কিছু পরিস্থিতি আছে যখন হিজরত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। যেমন হারবিদের (মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত কুফফার দেশ বা গোষ্ঠী) কাছাকাছি থাকলে আর তাদের মাঝে প্রকাশ্যে দ্বীন পালনের সুযোগ না থাকলে সেখান থেকে হিজরত করা বাধ্যতামূলক। এ বিষয়ে আলিমরা একমত।'
অর্থাৎ, হিজরতের হুকুম এখনো আছে। পরিস্থিতিভেদে সেটা আবশ্যক অথবা ঐচ্ছিক হতে পারে। যদি কাফিরদেশে নিজের দ্বীন প্রকাশ করা বা পালন করা সম্ভব না হয়, তাহলে সেই ভূমি থেকে ইসলামের ভূমিতে অথবা এমন কোনো দেশে হিজরত করা উচিত যেখানে স্বাধীনভাবে ইসলাম পালন করতে কোনো বাধা নেই। প্রকাশ্যে দ্বীন পালন বলতে ব্যক্তিগত আহকামগুলো নয়, বরং ইসলামের সবগুলো আহকাম পালন করার সুযোগ থাকতে হবে।
বর্তমানে কোনটা কুফরের ভূমি ও কোনটা হারবি ভূমি সেটা স্পষ্ট। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট ইসলামের ভূমি নেই। তাই বর্তমান সময়ের জন্য হুকুম হলো একজন মুসলিমের সেখানেই হিজরত করা উচিত, যেখানে সবচেয়ে ভালোভাবে আল্লাহর ইবাদাত করা যাবে। বিষয়টা কিছুটা আপেক্ষিক। একজন মুসলিম যদি তার দেশে সঠিকভাবে আল্লাহর ইবাদাত করতে পারে, তাহলে সে সেখানে থাকতে পারে। কিন্তু যদি তা না হয়, তাহলে তার এমন কোনো জায়গা খুঁজে বের করা উচিত, যেখানে সে তার দ্বীন নিয়ে সবচেয়ে কম ভীত থাকবে। এখানে যেটা দেখতে হবে সেটা হলো দ্বীন, দুনিয়া নয়। হতে পারে, কোনো একটি দেশে তার দুনিয়া নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। কিন্তু সেখানে দ্বীন পালনে বাধা আসছে। আবার আরেকটি দেশে দ্বীন পালনে বাধা তুলনামূলক কম, কিন্তু দুনিয়াবি আরাম-আয়েশের বিবেচনায় সে জায়গাটি আরামদায়ক নয়। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় দেশে হিজরত করাটাই দ্বীনের দাবি।

টিকাঃ
১০৯. বুখারী, অধ্যায় জিহাদ, হাদীস নং ২৬৩১।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 বিজয়ের আগের ও পরের মুসলিমরা সমান নয়

📄 বিজয়ের আগের ও পরের মুসলিমরা সমান নয়


আমর ইবন সালামা ছিলেন মক্কার বাইরে থেকে আসা একজন সাহাবি। তিনি তার ছোটবেলার কথা বর্ণনা করেন,
'আমাদের সামনে দিয়ে কোনো মুসাফির গেলেই আমরা তাকে মুহাম্মাদের কথা জিজ্ঞেস করতাম। তারা বলতো, তিনি দাবি করেছেন যে, আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন আর তাঁর কাছে আল্লাহর কাছ থেকে ওয়াহী আসে। আর তিনি মাত্রই অমুক-তমুক ব্যাপারে ওয়াহী লাভ করেছেন। আমি এমনভাবে এই শব্দগুলো (কুরআনের আয়াত) মুখস্থ করতাম যে তা আমার অন্তরে গেঁথে গিয়েছিল।'
অর্থাৎ মুহাম্মাদ সম্পর্কে গোটা আরব অনেক আগে থেকেই খোঁজ খবর রাখত। যদিও তখনো তাদের বেশিরভাগ মুসলিম হয়নি। ইসলাম ছিল সেই সময়ের পত্রিকার হেডলাইন। আমর ইবন সালামা তখন একজন শিশু। কিন্তু মানুষের কথাবার্তা তার কানে আসতো আর এভাবে তিনি কুরআনের অনেক আয়াত মুখস্থ করে ফেলেছিলেন। অথচ তার গোত্রের লোকেরা তখন কাফির ছিল।
আরবরা দলে দলে মুসলিম হয়েছে মক্কা বিজয়ের পরে। আসলে তারা দেখতে চাইছিল কুরাইশ বনাম মুহাম্মাদের এই দ্বন্দ্বে কে জয়ী হয়। গণমানুষ এভাবেই চিন্তা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তারা সত্যের সন্ধান করে না, বরং তারা জয়ী দলের সন্ধান করে। তারা দেখে কারা বিজয়ী হচ্ছে আর তারপর বিজয়ী দলের অনুসরণ করে। তাই সে যুগের আরবরা বলতো, 'মুহাম্মাদ যদি তাঁর নিজ গোত্রের বিপক্ষে হেরে যান তাহলে তাঁকে আর তাঁর গোত্রকে ছেড়ে দাও। আর যদি তিনি বিজয়ী হন, তাহলে তিনি একজন নবী ও তিনি সত্যবাদী।'
এই মানসিকতা ত্রুটিপূর্ণ। বিজয় সত্যের মানদণ্ড নয়। আমরা রাসূলুল্লাহর হাদীস থেকে জানি এমন কিছু নবী এই দুনিয়ায় ছিলেন, যাদের অনুসারী ছিল খুবই কম। দশ, পাঁচ, দুই বা একজন। এমন নবীও ছিলেন, যাদের কোনো অনুসারীই ছিল না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তারা ভুলের ওপরে ছিলেন বা তারা ব্যর্থ হয়েছেন। কেননা, হিদায়াত আল্লাহর হাতে, নবীর দায়িত্ব কেবল দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। একজন নবী যদি সঠিকভাবে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে তিনি সফল। ইসলাম এভাবেই সফলতাকে সংজ্ঞায়িত করে, জয়-পরাজয়ের ভিত্তিতে নয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ আরবজনতার বিপরীতে স্বল্পসংখ্যক মানুষই ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় অর্থাৎ মক্কা বিজয়ের আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তারা জানতো, আল্লাহর রাসূল হচ্ছেন সত্য নবী। তাই তারা বিজয়ের অপেক্ষা করেনি। ইসলামকে সত্য জেনে মুসলিম হয়ে ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকারে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন,
“তোমাদের মধ্যে তারা কখনো একই রকম (মর্যাদার অধিকারী) হবে না যারা (মক্কা) বিজয়ের আগে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করেছে এবং জিহাদ করেছে। তাদের মর্যাদা ওদের তুলনায় বেশি যারা (মক্কা) বিজয়ের পর (আল্লাহর পথে) ব্যয় করেছে এবং জিহাদ করেছে। (অবশ্য) আল্লাহ উভয়ের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তোমরা যা করো আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা হাদীদ, ৫৭: ১০)
সুতরাং বিজয়ের আগে মুসলিম হওয়া আর পরে মুসলিম হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যারা মক্কা বিজয়ের আগে মুসলিম হয়েছে, হিজরত ও জিহাদ করেছে, তাদের মর্যাদা মক্কা বিজয়ের পরের মুসলিমদের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে এই আয়াতটি মুসলিমদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। কারণ, বর্তমানে ইসলাম শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠিত অবস্থায় নেই। কাজেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগে এই প্রতিকূল পরিবেশে যারা ইসলামকে আঁকড়ে ধরবে, ইসলামের জন্য ত্যাগ স্বীকার করবে, তাদের মর্যাদা ও পুরস্কার নিঃসন্দেহে সেসব লোকের চাইতে বেশি যারা ইসলামের বিজয় দেখার পর ইসলামের বাহিনীতে যোগ দেবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px