📄 মানাত ধ্বংস
মানাত মূর্তিটি ছিল লোহিত সাগরের পাড়ে। মক্কা-মদীনার মাঝামাঝি জায়গায়। জাহিলিয়াতের যুগে আওস, খাযরাজ, গাসসান এবং অন্যান্য অনেক গোত্র মূর্তিপূজা করতো। হজ্জের সময়ে তারা এই মূর্তির পূজো দিয়েই হজ্জের সূচনা করতো। সাদ ইবন যাইদ আল-আশহালীকে আল্লাহর রাসূল এই মূর্তি ধ্বংস করার জন্য পাঠালেন। বিশজন সৈনিক নিয়ে তিনি মানাত ধ্বংস করতে গেলেন। মানাতের রক্ষক তাদের বললো,
- কেন এসেছো?
- মানাত ধ্বংস করতে!
- করো দেখি কী করতে পারো!
সাদ মূর্তির দিকে এগিয়ে গেলেন। বেরিয়ে এল একটি কালো নারী। সে মুখ দিয়ে আজেবাজে বকছিল। সাদ প্রথমে সেই মহিলাকে হত্যা করলেন, এরপর মূর্তি ধ্বংস করে ফিরে এলেন।
📄 সুওযা ধ্বংস
এই মূর্তির পূজা করতো বনু হুযাইল গোত্র। মক্কা বিজয়ের পর বনু হুযাইল গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে। আল্লাহর রাসূল আমর ইবন আল আসকে সুওয়া ধ্বংস করতে পাঠান। আমর মূর্তি ভাঙ্গতে উদ্যত হলে সুওয়ার রক্ষক তাকে বাধা দিল না। কিন্তু বললো, 'তুমি এর কিছুই করতে পারবে না।'
আমর বললেন, 'তুই এখনো মিথ্যার ওপরে বেঁচে আছিস? শোনে এই মূর্তি? দেখে এই মূর্তি?' এই বলে মূর্তিটি গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিলেন। এরপর জানতে চাইলেন, 'এখন কী মনে হয় তোর?'
'আমি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম' এই বলে সুওয়ার রক্ষক মুসলিম হয়ে গেল। চোখের সামনে মূর্তির অসারতার প্রমাণ পেয়ে হয়তো তার বোধোদয় ঘটেছিল। এভাবেই বিভিন্ন মূর্তি ভাঙার মাধ্যমে আরবের বুক থেকে শিরকের প্রতীকগুলোকে একে একে উচ্ছেদ করা হলো।