📄 উযযা ধ্বংস
রাসূলুল্লাহ আল উযযা ধ্বংস করার জন্য খালিদ ইবন ওয়ালিদকে পাঠালেন। আল লাত, আল উযযা, হুবাল - এগুলো ছিল সে সময়ে মুশরিকদের কিছু জনপ্রিয় দেবতা। রাসূলুল্লাহ কাবার চারপাশের মূর্তিগুলোকে ধ্বংস করেছিলেন। এখন তিনি মক্কার বাইরের মূর্তিগুলোকেও ধ্বংস করতে চাইলেন।
আল উযযার মূর্তি ছিল নাখলায়। খালিদ ইবন ওয়ালিদ নাখলায় গেলেন। উযযার তত্ত্বাবধায়করা তাঁকে দেখেই পালিয়ে গেল। খালিদ ইবন ওয়ালিদ উযযার মূর্তি ভেঙে ফেললেন। এর ভিত্তিপ্রস্তরসহ গুঁড়িয়ে দিলেন। কিন্তু ফিরে আসার পর রাসূলুল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি আর কিছু দেখনি?' খালিদ উত্তর দিলেন 'না।' রাসূলুল্লাহ বললেন, 'তাহলে তুমি আসল কাজটাই করোনি।'
খালিদ ইবন ওয়ালিদ আবার ফিরে গেলেন। দেখতে পেলেন, এলোমেলো চুলের এক নগ্ন নারীকে। সে চিৎকার করছে আর নিজের গায়ে ময়লা ছুঁড়ে ছুঁড়ে মারছে। ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য। খালিদ ইবন ওয়ালিদ ভীত হওয়ার পাত্র নন, তলোয়ারের কোপে তাকে হত্যা করলেন। রাসূলুল্লাহকে শুনে বললেন, 'হ্যাঁ, এটাই ছিল আল উযযা। তুমি তাকে হত্যা করেছো।' বাহ্যিকভাবে একটা মূর্তি থাকলেও মূলত উযযা ছিল এক ধরনের জ্বীন বা শয়তান। এর ভিতরে জ্বীন বা শয়তান বাস করছিল। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'আজকের পর উযযা বলে আর কিছু নেই।'
📄 মানাত ধ্বংস
মানাত মূর্তিটি ছিল লোহিত সাগরের পাড়ে। মক্কা-মদীনার মাঝামাঝি জায়গায়। জাহিলিয়াতের যুগে আওস, খাযরাজ, গাসসান এবং অন্যান্য অনেক গোত্র মূর্তিপূজা করতো। হজ্জের সময়ে তারা এই মূর্তির পূজো দিয়েই হজ্জের সূচনা করতো। সাদ ইবন যাইদ আল-আশহালীকে আল্লাহর রাসূল এই মূর্তি ধ্বংস করার জন্য পাঠালেন। বিশজন সৈনিক নিয়ে তিনি মানাত ধ্বংস করতে গেলেন। মানাতের রক্ষক তাদের বললো,
- কেন এসেছো?
- মানাত ধ্বংস করতে!
- করো দেখি কী করতে পারো!
সাদ মূর্তির দিকে এগিয়ে গেলেন। বেরিয়ে এল একটি কালো নারী। সে মুখ দিয়ে আজেবাজে বকছিল। সাদ প্রথমে সেই মহিলাকে হত্যা করলেন, এরপর মূর্তি ধ্বংস করে ফিরে এলেন।
📄 সুওযা ধ্বংস
এই মূর্তির পূজা করতো বনু হুযাইল গোত্র। মক্কা বিজয়ের পর বনু হুযাইল গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে। আল্লাহর রাসূল আমর ইবন আল আসকে সুওয়া ধ্বংস করতে পাঠান। আমর মূর্তি ভাঙ্গতে উদ্যত হলে সুওয়ার রক্ষক তাকে বাধা দিল না। কিন্তু বললো, 'তুমি এর কিছুই করতে পারবে না।'
আমর বললেন, 'তুই এখনো মিথ্যার ওপরে বেঁচে আছিস? শোনে এই মূর্তি? দেখে এই মূর্তি?' এই বলে মূর্তিটি গুঁড়ো গুঁড়ো করে দিলেন। এরপর জানতে চাইলেন, 'এখন কী মনে হয় তোর?'
'আমি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করলাম' এই বলে সুওয়ার রক্ষক মুসলিম হয়ে গেল। চোখের সামনে মূর্তির অসারতার প্রমাণ পেয়ে হয়তো তার বোধোদয় ঘটেছিল। এভাবেই বিভিন্ন মূর্তি ভাঙার মাধ্যমে আরবের বুক থেকে শিরকের প্রতীকগুলোকে একে একে উচ্ছেদ করা হলো।