📄 পরবর্তী গন্তব্যঃ মক্কা
রাসূলুল্লাহ তাঁর বাহিনী নিয়ে যী-তুওয়ায় পৌঁছলেন। সেখানে তিনি বাহিনীর কোন অংশে কে নেতৃত্ব দেবে সেটা নির্ধারণ করে দিলেন এবং কীভাবে ও কখন মক্কায় প্রবেশ করা হবে সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়ে দিলেন। বাম পাশের বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন খালিদ ইবন ওয়ালিদ। ডান পাশের বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন আয-যুবাইর ইবন আল-আওয়্যাম। আর পদাতিক সৈনিকদের নেতৃত্বে ছিলেন আবু উবায়দা
কুরাইশরা কিছু ভাড়াটে সৈন্যদের দিয়ে প্রতিরোধ গড়ার পরিকল্পনা করেছিল। এদের বলা হতো 'আউবাশ'। আল্লাহর রাসূল আনসারদের এই আউবাশদের একেবারে গুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাদেরকে আস-সাফায় অবস্থান নিতে বলেন। আয- যুবাইর মুহাজির ঘোড়সওয়ারদের নেতৃত্বে ছিলেন। তাকে মক্কার উপরিভাগে 'কিদা' নামক স্থানে পতাকা গেড়ে অবস্থান নিতে বলা হয়। খালিদের নেতৃত্বে ছিল কুদাআহ, সুলাইমসহ বেশ কিছু গোত্র। তারা অবস্থান নেন মক্কার নিচের দিকে। আনসারদের নেতৃত্বে ছিলেন সাদ ইবন উবাদাহ।
মক্কার চারদিকে মুসলিমদের চারটি বাহিনী এমনভাবে অবস্থান নিলো যে, প্রতিরোধ গড়ার মতো কোনো অবস্থাই কুরাইশদের ছিল না। তারা একেবারেই হাল ছেড়ে দিল। বিনা বাধায় মুসলিমরা মক্কায় প্রবেশ করতে লাগলো। শুধুমাত্র খালিদ ইবন ওয়ালিদ যেদিকে অবস্থান নিয়েছিলেন সেদিকে বনু বকর এবং হুদাইল বাধা প্রদান করার চেষ্টা করে। কিন্তু খালিদ ইবন ওয়ালিদ তাদের পুরোপুরি বিধ্বস্ত করে দেন। অল্পসময়েই তারা কোনোরকমে পালিয়ে বাঁচে। এটাই ছিল মক্কার কুরাইশদের পক্ষ থেকে একমাত্র নামে মাত্র প্রতিরোধ।
কতটা সহজে মুসলিমরা মক্কা জয় করে সেটা একটা ছোট্ট ঘটনা থেকে বুঝা যায়। হিমাস ইবন কাইস নামের এক যোদ্ধা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য তলোয়ারে শান দিচ্ছিল। তার স্ত্রী জিজ্ঞেস করলো,
- এই, এসব কেন করছো তুমি?
- মুহাম্মাদ আর তার সঙ্গীদের সাথে যুদ্ধ আছে!
- তাই নাকি! কয়েকটাকে ধরে এনো তো, তোমার দাস বানিয়ে রেখো!
হিমাস কিংবা তার স্ত্রী - কারোই ধারণা ছিল না তারা কীসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। আবু জাহেলের ছেলে ইকরিমার বাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে হিমাস দেখলো মুশরিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়িমড়ি করে পালাচ্ছে। হিমাস কোনোমতে নিজেকে অক্ষত রেখে ময়দান ছেড়ে পালিয়ে বাড়ি চলে আসলো। তার স্ত্রী তাকে দেখেই বলে উঠলো,
- কী ব্যাপার, তুমি না বললে ওদের হারানো তোমার জন্য ডালভাত?
- ইয়ে মানে, সাফওয়ান আর ইকরিমার মতো যোদ্ধাই যদি পালিয়ে যায়, আমার কী করার আছে বলো!
এদিকে আবু সুফিয়ান মক্কায় চলে এসেছে, চিৎকার করে বলছে, 'কুরাইশরা শোনো! মুহাম্মাদ যে বাহিনী নিয়ে এসেছে তার সাথে মোকাবেলা করা আমাদের সাধ্যের বাইরে। কাজেই যে আবু সুফিয়ানের ঘরে থাকবে সে নিরাপদ!'
মক্কার পতন হবে -- এটা মুশরিকরা মানতেই পারছিল না। আবু সুফিয়ানের মুখে এ কথা শুনে খোদ তার স্ত্রী হিন্দ ক্ষেপে গিয়ে তার গোঁফ ধরে বললো, 'এই বুড়োর মৃত্যু হোক! মেরে ফেলো একে!' আবু সুফিয়ান স্বপক্ষ নিয়ে বলতে লাগলো, 'এই মহিলার কথায় বিভ্রান্ত হয়ো না। যে বাহিনী তোমাদের সাথে লড়তে এসেছে তাদের সাথে তোমরা পেরে উঠবে না। কাজেই আমার কথা শোনো, আজ আবু সুফিয়ানের ঘরে যে থাকবে সে নিরাপদ!'
লোকেরা এ কথায় বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো, 'ধ্বংস হও তুমি! তোমার ঐ ছোট্ট ঘরে আমরা এতগুলো মানুষ আঁটবো কী করে?' আবু সুফিয়ান তখন জানিয়ে দিলো, 'কেউ যদি নিজের ঘরে অবস্থান নেয়, সে নিরাপদ। কেউ যদি মসজিদে অবস্থান নেয়, সে নিরাপদ।' এ কথা শুনে লোকেদের ভিড় দ্রুতই হালকা হয়ে গেল। সবার যার যার বাসায় অথবা মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নিল।
আল্লাহর রাসূল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন যেন কোনো প্রকার রক্তপাত ছাড়াই মক্কা বিজয় সম্ভব হয়। সেটাই হয়েছিল। তবে আনসার নেতা সাদ ইবন উবাদা উত্তেজনার বশে আবু সুফিয়ানকে দেখে বলে ওঠেন, 'আজ হলো মহান যুদ্ধের দিন! আজ কাবার পবিত্রতা লঙ্ঘিত হবে!'
কথাগুলো আল্লাহর রাসূলের কানে পৌঁছলে তিনি বলেন, 'সাদ ভুল বলেছে। এটা তো সেই দিন যেদিন আল্লাহ কাবাকে মহিমান্বিত করবেন!' রাসূলুল্লাহ সাদ ইবন উবাদার কাছ থেকে ব্যানার নিয়ে নেন। পাছে তিনি মক্কায় কোনো রক্তপাত না করে বসেন! কিন্তু এত বড় একজন সাহাবি, যিনি আল্লাহর রাসূলকে নুসরাহ দিয়েছেন, জীবন-মরণ আল্লাহর দ্বীনের জন্য বিলিয়ে দেওয়ার শপথ করেছেন, তার থেকে ব্যানার ফিরিয়ে নিয়ে তাকে কষ্ট দিতে চাচ্ছিলেন না আল্লাহর রাসূল। তাই সে ব্যানার তুলে দেন তাঁরই ছেলে কাইস ইবন সাদের হাতে।
📄 নিজের দেশে বিজয়ীর বেশে
অবশেষে এল সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। যে মানুষটি আজ থেকে আট বছর আগে এই শহর ছেড়ে রাতের আঁধারে চুপিসারে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তিনি আজ ফিরে এসেছেন। ফিরে এসেছেন সেই আজীবন পরিচিত জন্মভূমির মাটিতে। যে মানুষগুলো তাঁকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিয়েছিল, তারা আজ ভক্তি-শ্রদ্ধাভরে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে!
আজ থেকে বিশ বছর আগে তিনি আস-সুবহা ডাক দিয়ে মক্কার লোকগুলোকে জড়ো করেছিলেন। তাদের বলেছিলেন, তোমরা আল্লাহর একত্ববাদকে মেনে নাও। তারা তাঁকে তাচ্ছিল্য করেছে, অবজ্ঞা করেছে, বয়কট করেছে। কিন্তু আজ তারাই তাঁর কথা শুনার জন্য আগ্রহ ভরে অপেক্ষা করছে। এই মক্কার মাটিতে একদিন তাঁর শরীরের ওপর নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্রেফ মজা করার জন্য। আজ তাঁর গায়ে আঁচড় দেওয়ার সাহসটুকুও কারো নেই। হুমকি আর মৃত্যুভয় তাঁকে তাড়া করে বেড়িয়েছে বছরের পর বছর। কিন্তু আজ সেই হুমকিদাতার দল নিজেদের মৃত্যুভয়ে কম্পমান!
তারা বিলালকে তপ্ত মরুভূমির বুকে পাথর চাপা দিয়েছিল, উসমানকে কার্পেটে মুড়ে তার গায়ের ওপর লাফিয়ে পাশবিক অত্যাচার করেছিল। তারা খাব্বাবকে ছুঁড়ে ফেলেছিল জ্বলন্ত পাথরে, আম্মারকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে নিথর ফেলে রেখেছিল। সেই বিলাল, উসমান, খাব্বাব আর আম্মাররা আজ বিজয়ী বাহিনীর একেকজন বীর সৈনিক!
যাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর রাসূল বদদুআ করেছিলেন, তাদের কেউ আজ বেঁচে নেই। তাঁর কথার একচুল বিরোধিতা করার মতো কেউ নেই। তারা না পেরেছে প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে কিনে নিতে আর না পেরেছে যুদ্ধের ময়দানে তাঁকে হত্যা করতে। বরং মক্কার লোকেরা আজ হার মানতে বাধ্য হয়েছে তাদের চোখের সামনে বড় হয়ে ওঠা সেই চেনা মুখ 'আল-আমীন' এর কাছে। একদিন তারা বলেছিল এ তো কবি, পাগল, জাদুকর -- আরও কত কী! কিন্তু আজ তারা ঠিকই জানে, ইনিই হচ্ছেন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আল্লাহর রাসূল মক্কায় প্রবেশ করছেন। তাঁর মাথায় কালো পাগড়ি। আল্লাহ তাঁকে এক মহাসম্মান দান করেছেন। এই সম্মানের কৃতজ্ঞতায় তিনি মাথা নুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করছেন। একমনে পাঠ করছেন আল্লাহর বাণী, সূরা ফাতহের সেই আয়াতগুলো, 'নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়...'
বিজয়ীর বেশে আজ মক্কার রাজপথ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আল্লাহর রাসূল। কিন্তু কোথাও কোনো কুচকাওয়াজ নেই, নেই কামানের শব্দের মিথ্যে জৌলুস। জাতীয় সঙ্গীতের বাজনা নেই, উন্মত্ত-উল্লাসধ্বনি নেই, কোনো লাল গালিচাও পাতা নেই। পরাক্রমশালী এই বাহিনীর মাঝে নেই কোনো অহংকারের ছাপ। বুক উঁচু করে, অবনত মস্তকে, আল্লাহর প্রতি বিনম্র চিত্তে বিজয়ী রাসূলুল্লাহ প্রবেশ করছেন। তিনি উটের পিঠে বসা। শহরে ঢোকার সময় তিনি আল্লাহর কাছে সিজদা দিয়ে আছেন। এতটাই নিচু হয়ে আছেন যে তাঁর দাড়ি উটের সাথে লেগে আছে। তাঁর মধ্যে ঔদ্ধত্য নেই, আছে নম্রতা। উত্তেজনা নেই, আছে সাকিনাহ।
আল্লাহর রাসূল কাবার চারিদিকে তাওয়াফ করলেন। তাঁর হাতে একটি বর্শা ছিল। সেই বর্শা দিয়ে কাবাকে ঘিরে রাখা ৩৬০টি মূর্তিকে একে একে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে লাগলেন। মুশরিকদের দেবতারা একে একে ভূপাতিত হতে লাগলো। আল্লাহর রাসূল তিলাওয়াত করছেন কুরআনের সেই দুটো আয়াত,
"আর বলুন, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; মিথ্যা তো বিলুপ্ত হয়েই থাকে।” (সূরা আল-ইসরা, ১৭: ৮১)
"বলুন, সত্য এসেছে এবং বাতিল কিছু সৃষ্টি করতে পারে না, আর কিছু পুনরাবৃত্তিও করতে পারে না।” (সূরা সাবা, ৩৪: ৪৯)
একে একে সমস্ত মূর্তিকে ধ্বংস করা হলো। উসমান ইবন তালহা থেকে কাবার চাবি আনা হলো। রাসূলুল্লাহ কাবার দরজা খুললেন। ঢুকেই সেখানে দেখতে পেলেন কাঠের তৈরি একটা কবুতরের মূর্তি। সেটা ছুঁড়ে ভেঙে ফেললেন। আল কাবার ভেতরে আরও অনেক ছবি আর মূর্তি ছিল। সমস্ত মূর্তি ভেঙে টুকরো টুকরো করা হলো। সবগুলো ছবি মুছে ফেলা হলো। কাবার ভেতরে একটা ছবিকে মুশরিকরা নবী ইবরাহিমের ছবি বলে দাবি করতো। সেই ছবিতে ইসমাঈলের হাতে ছিল আল- আযলাম। আল-আযলাম হলো এক প্রকার লটারি। পৌত্তলিকরা কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এই লটারি ব্যবহার করতো। এই ছবি চোখে পড়ায় রাসূলুল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ ওদের ধ্বংস করুন। এই মুশরিকরা ঠিকই জানতো ইবরাহীম বা তাঁর পুত্র কেউই আল-আযলাম ব্যবহার করতেন না।'
সবগুলো প্রতিকৃতি ও ছবি সরিয়ে ফেলার পর রাসূলুল্লাহ কাবার ভেতর প্রবেশ করলেন। কাবা এখন শিরকের কলুষতা ও নোংরামি থেকে পবিত্র। আল্লাহর রাসূল কাবার প্রতিটি কোণে গিয়ে পাঠ করলেন ‘আল্লাহু আকবর’। তারপর সেখানেই সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে আল্লাহর রাসূল কাবা থেকে বের হয়ে কাবার দরজার সামনে দাঁড়ালেন। উৎসুক জনতা তাঁর চারপাশে জড়ো হয়ে আছে। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ করছে। তাদের উদ্দেশ্যে তিনি ছোট্ট একটি ভাষণ দিলেন।
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আজ তিনি তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন। একাই সমগ্র শত্রুকে পরাজিত করেছেন।
তোমরা জেনে রাখো, জাহিলিয়াতের সকল আভিজাত্যের অহমিকা আর সম্পদের প্রতিশোধের দাবি আমার পায়ের নিচে। তবে বাইতুল্লাহর সেবা এবং হাজীদের পানি পান করানোর বিষয়টি আগের মতোই থাকবে।
জেনে রাখো, যে কোনো রকমের হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব বা ক্ষতিপূরণ একশত উট, এর মধ্যে চল্লিশটি উট হতে হবে গর্ভবতী।
কুরাইশরা! তোমরা জেনে রাখো, আল্লাহ তাআলা তোমাদের মধ্য থেকে জাহিলিয়াতের অহংকার এবং বংশগৌরবের অবসান ঘটিয়েছেন। সকল মানুষ আদমের সন্তান আর আদমের সৃষ্টি মাটি থেকে।'
এরপর তিনি পাঠ করলেন সূরা হুজুরাতের একটি আয়াত।
“হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী। আল্লাহ সব কিছু জানেন, সব কিছুর খবর রাখেন।” (সূরা হুজুরাত, ৪৯: ১৩)
রাসূলুল্লাহ কাবাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। চারিদিকে অসংখ্য মানুষ। মক্কার জনতার চোখেমুখে বিস্ময়, ভয়, কৌতূহল! তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে একটি মানুষের সিদ্ধান্তের উপর -- সেই মুহাম্মাদ, যাকে তারা অপমান করেছে, দিনের পর দিন অভুক্ত রেখেছে, দেশছাড়া করে ছেড়েছে আজ তিনিই বীরের বেশে নেতা হয়ে ফিরে এসেছেন নিজের ঘরে। কুরাইশের লোকেদের বুকের রক্ত হিম হয়ে আসার কথা। তারা আজ তাঁরই তরবারীর নিচে। রাসূলুল্লাহ তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করলেন,
- তোমাদের কী ধারণা? আজ তোমাদের সাথে আমি কেমন ব্যবহার করবো?
- আপনি আমাদের ভাই, আমাদের ভাতিজা। আপনার কাছে থেকে মহৎ আচরণের আশা করি।
রাসূল বললেন, আমি তোমাদের সেটাই বলব যা ইউসুফ তাঁর ভাইদের বলেছিলেন। লা তাসরীবা আলাইকুমুল ইয়াওম-- আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তোমরা মুক্ত, স্বাধীন।'
মক্কায় শুরু হলো এক নতুন যুগের সূচনা। জাহিলিয়াতের আদর্শ, আইন-কানুন, রীতি-প্রথা সবকিছু প্রতিস্থাপিত হলো ইসলাম দিয়ে। আরবের সে সমাজে গোত্রীয় গর্ব বা বংশমর্যাদাই ছিল গোটা সমাজব্যবস্থার মূল ভিত্তি। আল্লাহর রাসূল এই ভিত্তিকে বাতিল করে দিলেন। নতুন এই সমাজের ভিত্তি হবে ইসলামী আদর্শ। আর এটি পরিচালিত হবে ইসলামী আইন ও মূল্যবোধে। মক্কার কুরাইশরা তাদের বাপ-দাদার অর্থহীন ঐতিহ্য আর সামাজিক পদমর্যাদা টিকিয়ে রাখতে সুদীর্ঘ বিশ বছর ইসলামের সাথে শত্রুতা করে এসেছে। কিন্তু তারপরও এদের মন জয় করার জন্য আল্লাহর রাসূল তাদের কোনো নিয়ম-কানুন বা আচার-প্রথা গ্রহণ করেননি।
বিলালের আজান
আল্লাহর রাসূল বিলালকে আজান দেওয়ার জন্য ডাকলেন। আজ থেকে আট বছর আগে বিলাল কথা বলতেন চুপিচুপি, কিন্তু আজ বিলাল দাঁড়িয়ে আছেন কাবাঘরের ওপরে উন্মুক্ত কণ্ঠে আজান দেবেন বলে। আজ তিনি মক্কার কাউকে ভয় পান না। বিলাল ছিলেন মুশরিকদের চোখে নীচুশ্রেণি। তাকে দেখে অনেকেরই সহ্য হলো না। তারা কানাঘুষা করতে লাগলো, 'এই কালো কাকটা এখানে কী করছে?'
কাউকে পাত্তা না দিয়ে বিলাল তার সুমধুর কন্ঠে আজান দিলেন। সবাই নিশ্চুপ হয়ে গেল। আজানের ধ্বনি যেন সবাইকে তন্ময় করে দিলো। এই একই আজানের ধ্বনিতে কারো অন্তরের দরাজ ভেঙে ইসলাম প্রবেশ করলো, আর কারো অন্তরে দাউদাউ করে বিদ্বেষের আগুন জ্বলতে লাগলো। কাবাঘর হলো আল্লাহর ঘর। শিরকের অত্যাচারে এতদিন এই ঘরটা যেন খা-খা করছিল, দীর্ঘদিন পর বিলালের আযানের মাধ্যমে তাওহীদ ফিরে এল। বিলাল ছিলেন একজন দাস। কাবায় তার আজান ছিল মক্কায় গোত্রভিত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্যের প্রতীকি সমাপ্তি। বিলালকে দিয়ে আজান দেওয়ানোর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ বুঝাতে চাচ্ছিলেন যে, ইসলাম দ্বারা যে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে তাতে জাহিলিয়াতের শ্রেণীবৈষম্যের আর কোনো স্থান নেই। একজন মানুষের মর্যাদা বা হীনতা নির্ধারিত হবে তাক্বওয়ার মাধ্যমে।
📄 সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা এবং বাইয়াত গ্রহণ
মক্কায় সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা হলো। তাদের বাড়িঘর তাদেরই থাকলো, কোনো করও আরোপ করা হলো না। বলা হলো, কেউ যদি তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করে তাহলে সে নিরাপদ। যদি সে আবু সুফিয়ানের বাড়িতে আশ্রয় নেয় সে নিরাপদ। যদি কেউ মসজিদে অবস্থান করে তাহলে সে নিরাপদ।
বিজিত শত্রুর প্রতি এই অভাবনীয় দয়া, একজন নবী ছাড়া আর কে-ই বা করতে পারেন? মক্কার লোকেরা উপলব্ধি করলো, যে দেবতাদের তারা এতকাল উপাসনা করে এসেছে, তারা আসলে মিথ্যা মাবুদ। ইসলামের সত্য উপলব্ধি করে তারা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো।
"যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে, এবং আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন, তখন আপনি আপনার রবের প্রশংসা করবেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করবেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী।” (সূরা নাসর, ১১০)
সাফা পাহাড়ে বসে আল্লাহর রাসূল তাদের বাইয়াত গ্রহণ করলেন। লোকেরা এসে তাঁর কাছে এই মর্মে বাইয়াতবদ্ধ হলো যে, তারা সাধ্যমতো তাঁর কথা শুনবে ও মানবে। মহিলাদের থেকেও আল্লাহর রাসূল সেদিন বাইয়াত নিয়েছিলেন। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দও বাইয়াত দিতে হাজির হলো। তবে সে নিজেকে আড়াল করে রাখতে চাইলো পাছে আল্লাহর রাসূল তাকে চিনে ফেলেন। বিশেষ করে আল্লাহর রাসূলের চাচা হামযার সাথে হিন্দ যা করেছিল, তাতে তার নিজেকে আড়াল করতে চাওয়াই ছিল স্বাভাবিক। আল্লাহর রাসূল বাইয়াতের শর্তগুলো এক এক করে উল্লেখ করছিলেন, আর উমার সেসব মহিলাদের সামনে পুনরাবৃত্তি করছিলেন। যেমন- শিরক না করা, সন্তান হত্যা না করা, মিথ্যা শপথ না করা ইত্যাদি। যখন আল্লাহর রাসূল বললেন, 'তোমরা চুরি করবে না...' তখন হিন্দ নিজেকে সামলে রাখতে না পেরে বলে ফেলে, 'আচ্ছা আল্লাহর রাসূল, আবু সুফিয়ান তো খুব কৃপণ স্বভাবের। সে যা খরচাপাতি দেয়, তাতে আমার আর আমার সন্তানদের চলে না। এখন যদি আমি তার থেকে কিছু না বলে নিই, সেটা কি গুনাহ হবে?' আল্লাহর রাসূল হেসে বললেন, 'যতটুকু না নিলেই নয়, ততটুকু তুমি তার থেকে নিতে পারো, সমস্যা নেই。'
এরপর আল্লাহর রাসূল আরেকটি শর্ত উল্লেখ করলেন, 'তোমরা যিনা করবে না।' হিন্দ এ কথা শুনে অবাক হয়ে বললো, 'একজন স্বাধীন নারী কী করে যিনা করতে পারে!' হিন্দের বিস্ময় বলে দেয় তৎকালীন মুশরিক সমাজেও যিনা-ব্যভিচারকে কতটা খারাপভাবে দেখা হতো। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বর্তমান মুসলিম সমাজে শহুরে জীবনে যিনা-ব্যভিচারের প্রতি মুসলিমদের এক ধরনের সহনশীলতা তৈরি হয়েছে।
হিন্দের কণ্ঠ শুনে আল্লাহর রাসূল তাকে চিনে ফেলেন। জিজ্ঞেস করেন, 'আচ্ছা তুমিই কি হিন্দ?' হিন্দ উত্তর দেয়, 'জ্বী আল্লাহর রাসূল, আমিই হিন্দ। যা কিছু হয়ে গেছে তার জন্য আমাকে মাফ করে দিন।' রাসূলুল্লাহ বললেন, 'আল্লাহ তোমাকে মাফ করে দিন।' শেষ পর্যন্ত হিন্দ সব শত্রুতা ভুলে একজন আন্তরিক মুসলিমাহ হিসেবে বাকি জীবন কাটিয়ে দেন।
কাবার চাবি রাখা এবং হাজীদের পানি সরবরাহ করা ছিল কুরাইশদের জন্যে বেশ গৌরবের একটি বিষয়। আলী ইবন আবি তালিব এই দায়িত্ব পেতে চাইলেন। আল্লাহর রাসূলের গোত্র বনু হাশিমের অনেকেই এই সম্মান লাভ করতে চাইলো। কিন্তু আল্লাহর রাসূল এই চাবি দিলেন উসমান ইবন তালহাকে। এই উসমান ইবন তালহা যখন মুশরিক ছিলেন তখনো তার গোত্র বনু শাইবার কাছেই কাবার চাবি গচ্ছিত থাকতো। মক্কা বিজয়ের পরে আল্লাহর রাসূল সেই নিয়মটি পরিবর্তন করলেন না। উসমান ইবন তালহাকে চাবি রাখার দায়িত্ব দিয়ে বললেন, 'এটা চিরদিনের জন্য রেখে দাও। তোমাদের কাছ থেকে যে এই চাবি কেড়ে নেবে সে জালিম।' বংশ পরম্পরায় এখনো সেই চাবি বনু শাইবার অধিকারে আছে।
📄 কালো তালিকা
সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেও কিছু জঘন্য অপরাধীর জন্য একটি কালো তালিকা তৈরি করা হয়। এদের ক্ষমা করা হয়নি। এই কালো তালিকায় ছিল নয় থেকে তেরো জন মানুষ। এরা হলো আব্দুল উযযাহ ইবন খাতাল এবং তার দুই দাসী, আব্দুল্লাহ ইবন সাদ আবি সারাহ, মাকিস ইবন সাবাবাহ, আল হুয়াইরিস ইবন নাকিস, হাব্বার ইবন আল-আসওয়াদ এবং সারাহ। ভিন্ন বর্ণনায় ভিন্ন ভিন্ন নামও এসেছে। এদের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ বলেন, 'তাদেরকে হত্যা করো, যদি তারা আল কাবার গিলাফ (পর্দা) ধরে ঝুলে থাকে, তবুও!'
আব্দুল্লাহ ইবন খাতাল ছিল একজন মুহাজির মুসলিম। একবার রাসূলুল্লাহ তাকে কর সংগ্রহ করার কাজে পাঠান, তার দাস তার সাথে ছিল। পথিমধ্যে কোনো কারণে সে তার দাসের ওপর রেগে গিয়ে তাকে মেরে ফেলে। সে জানতো কাজটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রাসূলুল্লাহ তাকে কোনো ছাড় দেবেন না। ইসলাম ন্যায়ের ধর্ম, চাকর হোক, মালিক হোক -- সবার জন্যই ন্যায় বিচার। আবদুল্লাহ ইবন খাতাল শাস্তির ভয়ে মক্কায় পালিয়ে যায় এবং ইসলাম ত্যাগ করে। হত্যার আদেশ জারি হওয়ার পর সে কাবাঘরের গিলাফ ধরে ঝুলে থাকে। তাকে সে অবস্থাতেই হত্যা করা হয়।
তার দুজন দাসী ছিল -- ফারতানা এবং আরনাব। আল্লাহর রাসূলের কুৎসামূলক গান গাওয়ার অপরাধে তাদের দুইজনকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে একজনকে হত্যা করা হয় এবং অপরজন মুসলিম হয়ে ছাড়া পেয়ে যায়।
আব্দুল্লাহ ইবন আবি সারাহ ছিল একজন মুসলিম এবং কুরআন সংরক্ষণকারী। কিন্তু পরবর্তীতে ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে সে মক্কায় পালিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে সে গলাবাজি করতে থাকে, 'আমি কুরআন পাল্টে ফেলবো! কুরআন লিখে তার অর্থ বদলে দেবো!' মক্কা বিজয়ের দিন পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলে সে তার দুধ ভাই উসমান ইবন আফফানের কাছে নিরাপত্তা চায়। উসমান তাকে নবীজির কাছে নিয়ে যান।
আবদুল্লাহ ইবন আবি সারাহ রাসূলুল্লাহকে বললেন, 'আমি আপনাকে বাইয়াত দিতে এসেছি।' নবীজি চুপ করে রইলেন, সে আবার বললো, 'আমি আপনাকে বাইয়াত দিতে এসেছি।' রাসূলুল্লাহ এবারও কোনো উত্তর দিলেন না। তৃতীয়বারে নবীজি তার বাইয়াত গ্রহণ করলেন।
সে চলে যাবার পর নবীজি উপস্থিত সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বললেন, 'তোমাদের মধ্যে কি বুদ্ধিমান কেউ ছিল না? আমি তো এজন্য চুপ করেছিলাম যেন তোমাদের কেউ উঠে এসে তার গর্দানটা উড়িয়ে দেয়।' একজন সাহাবি বললেন, 'ইশ! আপনি যদি আমাদেরকে একটু ইশারা করতেন!' নবীজি উত্তর দিলেন, 'ইশারা দিয়ে হত্যা করা কোনো নবীর জন্য শোভা পায় না।
আব্দুল্লাহ ইবন আবি সারাহ অদ্ভুতভাবে বেঁচে গেল। তবে সে জীবনের শেষপর্যন্ত ভালো মুসলিম হয়ে বেঁচে ছিল। তার মৃত্যু ঘটে ফজরের নামাযে সিজদারত অবস্থায়। উমার ইবন খাত্তাব এবং উসমানের শাসনামলে তিনি বেশ ভালো পদে নিযুক্ত ছিলেন।
মাকিস ইবন হুবাবার ভাই ছিলেন একজন মুসলিম। বনু মুসতালিকের যুদ্ধে তার ভাই এক আনসারী মুসলিমের হাতে ভুলক্রমে নিহত হন। মাকিস তখন হিজরত করে মদীনায় আসেন শুধুমাত্র তার ভাইয়ের মৃত্যুর ক্ষতি পূরণের টাকার লোভে। ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে সে পালিয়ে মক্কায় ফিরে আসে এবং মুরতাদ হয়ে যায়।
হুয়াইরিস ইবন নাকিসের অপরাধ ছিল সে মক্কায় আল্লাহর রাসূলকে নানাভাবে কষ্ট দিতো। মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার সময় সে আল্লাহর রাসূলের দুই কন্যা ফাতিমা এবং উম্ম কুলসুমকে উত্ত্যক্ত করে। একই রকম অপরাধ করেছিল হাব্বাব ইবন আসওয়াদ। সে হিজরতের সময় আল্লাহর রাসূলের কন্যা যাইনাবকে বর্শা উঁচিয়ে ভয় দেখায়। তখন যাইনাব ছিলেন গর্ভবতী। এ ঘটনায় যাইনাবের গর্ভপাত হয়ে যায়। হুয়াইরিসকে হত্যা করা হয় কিন্তু হাব্বাব পরবর্তীতে মুসলিম হয়ে ফিরে আসে এবং তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর সারাহ ছিল হাতিব ইবন আবি বালতার পত্রবাহিকা, মাক্কী যুগে আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধে গান গাইতো। তার জন্য নিরাপত্তা চাওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত সে বেঁচে যায়।
কালো তালিকায় আরও কিছু ব্যক্তির নাম ভিন্ন বর্ণনায় এসেছে। এখানে উল্লেখ্য, যাদের নাম কালো তালিকাভুক্ত ছিল এদের প্রায় সবার অপরাধ ছিল হয় রিদ্দা নয়তো আল্লাহর রাসূলের নিন্দা করা। তীব্রতার মাত্রায় এই দুটো অপরাধ ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। যে কারণে মক্কার সাধারণ কাফিরদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হলেও এ দুটি অপরাধের সাথে যুক্তদের ক্ষমা করা হয়নি। এ দুটি অপরাধের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। একজন কাফির যুদ্ধবন্দী হলে তাকে হত্যা করা, মুক্ত করে দেয়া, দাস হিসেবে রাখা বা তার থেকে মুক্তিপণ আদায় করা কিংবা তাকে বন্দী বিনিময়ে ব্যবহার করা - এর যেকোনোটির সিদ্ধান্ত ইমাম নিতে পারেন। কিন্তু মুরতাদের ক্ষেত্রে একটিই বিধান। তা হলো মৃত্যুদণ্ড। শুধুমাত্র সে যদি পুনরায় মুসলিম হয়ে যায়, সেক্ষেত্রেই তাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে।
উম্ম হানি ছিলেন আলী ইবন আবি তালিবের বোন। মক্কা বিজয়ের দিন তার শ্বশুর বাড়ির দুই আত্মীয় তার কাছে আশ্রয় চাইলে তিনি তাদের আশ্রয় দেন। কিন্তু আলী বিষয়টি পছন্দ করলেন না। তিনি তাদের হত্যা করতে চাইলেন। উম্ম হানি তখন রাসূলুল্লাহর শরণাপন্ন হলেন। রাসূলুল্লাহ খুব খুশি হয়ে তাকে স্বাগত জানালেন, জানতে চাইলেন কী হয়েছে। উম্ম হানি সবকিছু খুলে বলার পর সব শুনে রাসূলুল্লাহ বললেন, 'সমস্যা নেই, তুমি যাদের নিরাপত্তা দিয়েছো আমিও তাদের নিরাপত্তা দিলাম।'
টিকাঃ
১০৩. সহীহ বুখারি, অধ্যায় জিহাদ, হাদীস ২৫০।
১০৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০৭।
১০৫. সুনান আন-নাসাই, অধ্যায় রক্তপাত নিষিদ্ধকরণ, হাদীস ১০২।