📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 ১) আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামী শক্তির উত্থান

📄 ১) আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামী শক্তির উত্থান


তৎকালীন পরাশক্তিগুলোর উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহর পাঠানো চিঠিগুলোর মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এই চিঠিগুলোর কাজ ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের উপস্থিতি এবং সম্প্রসারণশীল নীতির ব্যাপারে সবাইকে জানান দেওয়া। চিঠিগুলো ছিল সংক্ষিপ্ত কিন্তু গাম্ভীর্যপূর্ণ। তিনি সবাইকে আভাস দিচ্ছিলেন -- নতুন এই রাষ্ট্রকে সমীহ করেই চলতে হবে, একে হালকাভাবে নেওয়া চলবে না। তৎকালীন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি ছিল একটি অভূতপূর্ব বিষয়। সে সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হয় পারস্য নয়তো রোমানদের অধীনস্থ ছিল। বর্তমান সময়ের সাথে এই অবস্থার কিছুটা মিল পাওয়া যায়, গত একশো বছরের উপরে যেমন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিভক্ত এবং আন্তর্জাতিক পরাশক্তি যেমন আমেরিকা, রাশিয়া বা ব্রিটেনের মুখাপেক্ষী হয়ে আছে।

রাসূলুল্লাহর চিঠিগুলো ছিল সেই সময়ের পরাশক্তিগুলোর প্রতি চ্যালেঞ্জ। তাদেরকে ইসলামের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার আহবান করা এবং এই আহবানে সাড়া না দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সাবধান করা। বেশিরভাগ রাষ্ট্রীয় শক্তি এই আহবানে সাড়া দেয়নি, যে কারণে পরবর্তীতে সাহাবিরা সেই সাম্রাজ্য এবং দেশগুলোর বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনা করেছেন। পারস্যের প্রতিক্রিয়া ছিল সবচাইতে রূঢ়, তাদের পতনও হয়েছে সবচাইতে দ্রুত। নতুন কিসরা মাত্র ছয় মাসের জন্য সিংহাসনে বসার সুযোগ পায়। এর পর আভ্যন্তরীণ কোন্দলে পারস্যের রাজনৈতিক কাঠামো একেবারেই নড়বড়ে হয়ে পড়ে। পরবর্তী মাত্র চার বছরে দশবার ক্ষমতার রদবদল হয়। শেষ পর্যন্ত ৬৩৭ সালে মুসলিমদের হাতে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। আল্লাহর রাসূলের দুআ কবুল হয়। পারস্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে রোমান সম্রাট হিরাকল সম্মান দেখিয়েছিল আর তার সাম্রাজ্য টিকেছিল প্রায় আটশো বছর। ১৪৫৩ সালে সুলতান মুহাম্মাদ ফাতহের হাতে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। বাহরাইন, মিশর, ইয়েমেন, শাম, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় আবু বকর এবং উমারের খিলাফতকালেই। রোমান এবং পারস্য-- দুই পরাশক্তির পতন ঘটে, উত্থান হয় নতুন এক পরাশক্তি ইসলামের। ইসলাম পরবর্তী প্রায় তেরোশো বছর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নেতৃত্বের আসনে আসীন ছিল।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 ২) কাফির নেতৃবৃন্দের প্রতি মনোভাব

📄 ২) কাফির নেতৃবৃন্দের প্রতি মনোভাব


রোমান সম্রাটকে লেখা চিঠিতে আল্লাহর রাসূল তাকে রাজা বা নেতা হিসেবে সম্বোধন করেননি। এর ব্যাখ্যায় ইবন হাজার আসকালানি বলেছেন, ইসলাম কোনো কাফিরের কর্তৃত্ব বা রাজত্বকে স্বীকৃতি বা বৈধতা দেয় না। তবে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য তাকে পুরোপুরি অসম্মানও করা হয়নি। বলা হয়েছে আযীম আর- রুম বা রোমের মহান ব্যক্তি। চিঠিতে বলা হয়েছে শান্তি বর্ষিত হোক যারা সত্য পথের অনুসারী। হিরাকল বা অন্য কোনো সম্রাটকেই আল্লাহর রাসূল সরাসরি সালাম দেননি। বলেছেন, 'সালাম তাদের জন্য যারা সত্য পথের অনুসরণ করে।' -- বর্তমানকালে আমরা একটি ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। যেসব কাফির রাষ্ট্রের নেতা সরাসরি ইসলামের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত, লক্ষ লক্ষ মুসলিমদের হত্যা এবং মুসলিমদেশের দুর্দশার জন্য দায়ী -- তেমন নেতাকেও মুসলিমরা সম্মান জানাচ্ছে, অভিনন্দন জ্ঞাপন করছে। নিঃসন্দেহে এটা পরাজিত এবং দুর্বল মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। এটা রাসূলুল্লাহর শিক্ষা নয়, এটা সাহাবিদের পথও নয়। এটা হলো লাঞ্ছনা এবং অবমাননার পথ। তারা শত্রুদের সাথে মাথা উঁচু রেখে কথা বলেছেন। রাসূলুল্লাহর তাঁর চিঠিতে, লেখায়, কথায় শিষ্টাচার অবলম্বন করেছেন কিন্তু 'রাজনৈতিক শিষ্টাচারের' নামে কাফিরদের অপ্রয়োজনীয় সম্মান দেখাননি।

ফন্ট সাইজ
15px
17px