📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 খালিদ ইবন আল-ওয়ালিদের ؓ ইসলাম গ্রহণ

📄 খালিদ ইবন আল-ওয়ালিদের ؓ ইসলাম গ্রহণ


'আল্লাহ যখন আমার ভালো চাইলেন, তখন আমার অন্তরে ইসলামের জন্য ভালোবাসা তৈরি করে দিলেন এবং আমাকে বুঝ দান করলেন। তখন আমি নিজেই নিজেকে বলতাম, আমি মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে কতবার যুদ্ধ করলাম। কিন্তু প্রতিবারই মনে হতো খালি খালিই এত কষ্ট করছি, শেষ পর্যন্ত মুহাম্মাদই বিজয়ী হবেন। আল্লাহর রাসূল যখন হুদাইবিয়ায় আসলেন, তখন আমি দুইশো মুশরিকের একটি দল নিয়ে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করতে বেরিয়ে পড়লাম। আল্লাহর রাসূল আর তাঁর সাহাবিদের দেখা পেলাম উসফানে। আল্লাহর রাসূলকে একেবারে মুখোমুখি পেয়ে গেলাম। তখন তিনি সাহাবিদের নিয়ে যুহরের সালাতে ইমামতি করছিলেন। আমরা ঠিক করলাম তাঁকে আক্রমণ করবো। কিন্তু কেন যেন আর আক্রমণ করা হয়ে উঠলো না -- আসলে, এটার মাঝেই কল্যাণ ছিল। ওদিকে তিনি আমাদের পরিকল্পনা টের পেয়েছিলেন, তাই আসরের সময় সালাতুল খাওফ আদায় করলেন। বিষয়টা আমাকে খুব নাড়া দিল। আমার মনে হলো কোনো না কোনোভাবে তিনি আমাদের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবেনই, আমরা তাঁর কিছুই করতে পারবো না।'

এরপর হুদাইবিয়ার সন্ধি হলো। আল্লাহর রাসূল সাহাবিদের নিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু খালিদ ইবন ওয়ালিদের মাথায় হাজির হলো এক ঝাঁক প্রশ্ন আর দ্বিধাদ্বন্দ্ব -- 'আমার জীবনে আর কী আছে? আমি কোথায় যাবো? নাজ্জাশীর কাছে? না, সে তো নিজেই মুহাম্মাদের অনুসারী হয়ে পড়েছে। তার রাজ্যে মুসলিমরা নিরাপদ। তবে কি আমি হেরাক্লিয়াসের কাছে যাবো? কিন্তু সেখানে গেলে আমাকে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান বা ইহুদি হয়ে যেতে হবে। আমাকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে জীবন কাটাতে হবে। নাকি আমি নিজের দেশেই থেকে যাব?'

এভাবেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর হতাশার মধ্যে এক একটা দিন কাটতে লাগলো। উমরাতুল কাযার সময় এল। মুহাম্মাদ এবং তাঁর সঙ্গীরা উমরা পালন করবেন- এই দৃশ্য সহ্য করার মতো মানসিক শক্তি খালিদের ছিল না। তিনি মক্কা থেকে অনেক দূরে এক জায়গায় চলে গেলেন। সেবার উমরা করতে এসেছিলেন তারই ভাই আল-ওয়ালিদ ইবন আল-ওয়ালিদ। তিনি যাওয়ার সময়ে ভাইয়ের জন্য একটা চিঠি রেখে গেলেন। চিঠিতে লেখা ছিল,

'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ইসলামের প্রতি তোমার বিদ্বেষ দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। তোমার মতো একটা বুদ্ধিমান লোক কী করে ইসলামের বিরোধিতা করে! মানুষ কেমন করে ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে-- আমার বুঝে আসে না। আল্লাহর রাসূল তোমার কথা জানতে চেয়েছেন, জিজ্ঞাসা করেছেন খালিদ কোথায়? আমি বলেছি, আল্লাহ তাঁকে নিয়ে আসবেন। এরপর তিনি বলেছেন, তার মতো মানুষ ইসলামকে উপেক্ষা করে কীভাবে! সে যদি তার শক্তি আর সাহসকে মুসলিমদের পক্ষে ঢেলে দিতো, তাহলে সেটাই তার জন্য উত্তম হতো আর আমরাও তাকে অন্যদের তুলনায় বেশি প্রাধান্য দিতাম। ভাই, নিজেকে তুমি অনেক বঞ্চিত করেছো, আর নিজেকে বঞ্চিত কোরো না।'

এরপর খালিদ বর্ণনা করেন,

'চিঠিটি পড়ে আমি এখান থেকে পালাবার শক্তি ফিরে পেলাম। আর ইসলাম গ্রহণের প্রতি ইচ্ছেও বেড়ে গেল। আমার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের মন্তব্য শুনে খুশি খুশি লাগছিল। আরও একটা ব্যাপার ছিল। একটা স্বপ্ন। আমি একদিন স্বপ্ন দেখলাম, আমি একটা সংকীর্ণ, আবদ্ধ, খরাপীড়িত দেশে ছিলাম। সেখান থেকে সবুজ, উর্বর আর বিস্তীর্ণ এক দেশে চলে এসেছি। আমার মনে হলো, নিশ্চয়ই এই স্বপ্নের কোনো গূঢ় অর্থ আছে।'

মদীনায় যাওয়ার পর খালিদ আবু বকরের কাছে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন। আবু বকর তাকে বলেন, 'এই স্বপ্নের অর্থ হচ্ছে তুমি শিরক থেকে বের হয়ে ইসলামে প্রবেশ করেছো।'

খালিদ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি মুসলিম হয়ে যাবেন এবং মদীনায় হিজরত করবেন। তার ইচ্ছে হলো হিজরতের যাত্রাপথে ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক সমমনা কাউকে সাথে নিতে। প্রথমে গেলেন সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যার কাছে। সাফওয়ানের কাছে নিজের মুসলিম হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। বললেন, 'আমাদের অবস্থা তো দেখতেই পাচ্ছো। অল্প কিছু লোকই আমাদের ধর্মের উপরে আছে। নিশ্চয়ই মুহাম্মাদের সম্মানই আরবদের সম্মান।' সাফওয়ান তখন সাফ জানিয়ে দিলো, 'সবাই মুসলিম হয়ে গেলেও আমি কোনোদিন মুসলিম হবো না।'

এরপর গেলেন আবু জাহলের ছেলে ইকরিমার কাছে। তাকেও একই কথা বললেন। ইকরিমাও মুসলিম হতে প্রত্যাখ্যান করলো। এরপর তার সাথে দেখা হলো উসমান ইবন তালহার সাথে। খালিদ প্রথমে ভাবলেন উসমানের সাথে এই বিষয় নিয়ে কোনো আলাপ করবেন না। কারণ এই উসমান পরিবারের সাত সদস্য উহুদে মুসলিমদের হাতে নিহত হয়েছে। কিন্তু তারপরেই ভাবলেন, 'আচ্ছা, কী-ই আর এমন হবে এ কথা বললে? আমি তো চলেই যাচ্ছি, কথা বলেই যাই।' কত বিস্ময়কর ঘটনাই তো দুনিয়াতে ঘটে। উসমান ইবন তালহা, যার পরিবারের সাত সাত জন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেছে, সেই তালহাকেই দেখা গেল ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহী। তারা দুজনে এবার একসাথে হিজরত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। পথিমধ্যে দেখা হলো আমর ইবন আল-আসের সাথে। তিনজন মিলে একসাথে মদীনায় গেলেন।

মদীনার সীমান্তে এসে খালিদ কাপড় বদলে ভালো পোশাক পরে নিলেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তের জন্য সুন্দর করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই। রাসূলুল্লাহর সাথে দেখা হলো। খালিদকে সেই দূর থেকে দেখার পর থেকেই রাসূলুল্লাহর মুখে এক চিলতে হাসি ঝুলেই আছে। খালিদ কাছে আসলেন, বাইয়াত দিলেন। আল্লাহর রাসূল তাকে বললেন, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তোমাকে পথ দেখিয়েছেন। আমি তোমার মাঝে বুদ্ধির ছাপ দেখেছি, আর আশা করেছি তোমার বুদ্ধিমত্তা তোমাকে ভালো পথে নিয়ে আসবে।' খালিদ ইবন ওয়ালিদ বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আপনি তো জানেন যে, আমি আপনার বিরোধিতা করেছি। গোঁয়ারের মতো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেন।'

নবীজি বললেন, 'ইসলাম তো আগের সমস্ত গুনাহকে মুছে দেয়।' খালিদ বললেন, 'তবুও আপনি আমার জন্য দুআ করে দিন। নবীজি তখন দুআ করলেন, 'হে আল্লাহ! তোমার পথ থেকে মানুষকে বিরত রাখতে খালিদ যা কিছু করেছে, তার জন্য আপনি খালিদকে ক্ষমা করে দিন।'

খালিদের পর একে একে আমর ইবন আল আস এবং উসমান ইবন তালহা বাইয়াত করলেন। কুরাইশদের তিন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ইসলামের ছায়াতলে চলে এল। তাদের ইসলাম গ্রহণ ছিল মুসলিমদের বিজয় আর মুশরিকদের পরাজয়।

'আল্লাহ যখন আমার ভালো চাইলেন, তখন আমার অন্তরে ইসলামের জন্য ভালোবাসা তৈরি করে দিলেন এবং আমাকে বুঝ দান করলেন। তখন আমি নিজেই নিজেকে বলতাম, আমি মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে কতবার যুদ্ধ করলাম। কিন্তু প্রতিবারই মনে হতো খালি খালিই এত কষ্ট করছি, শেষ পর্যন্ত মুহাম্মাদই বিজয়ী হবেন। আল্লাহর রাসূল যখন হুদাইবিয়ায় আসলেন, তখন আমি দুইশো মুশরিকের একটি দল নিয়ে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করতে বেরিয়ে পড়লাম। আল্লাহর রাসূল আর তাঁর সাহাবিদের দেখা পেলাম উসফানে। আল্লাহর রাসূলকে একেবারে মুখোমুখি পেয়ে গেলাম। তখন তিনি সাহাবিদের নিয়ে যুহরের সালাতে ইমামতি করছিলেন। আমরা ঠিক করলাম তাঁকে আক্রমণ করবো। কিন্তু কেন যেন আর আক্রমণ করা হয়ে উঠলো না -- আসলে, এটার মাঝেই কল্যাণ ছিল। ওদিকে তিনি আমাদের পরিকল্পনা টের পেয়েছিলেন, তাই আসরের সময় সালাতুল খাওফ আদায় করলেন। বিষয়টা আমাকে খুব নাড়া দিল। আমার মনে হলো কোনো না কোনোভাবে তিনি আমাদের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবেনই, আমরা তাঁর কিছুই করতে পারবো না।'

এরপর হুদাইবিয়ার সন্ধি হলো। আল্লাহর রাসূল সাহাবিদের নিয়ে চলে গেলেন। কিন্তু খালিদ ইবন ওয়ালিদের মাথায় হাজির হলো এক ঝাঁক প্রশ্ন আর দ্বিধাদ্বন্দ্ব -- 'আমার জীবনে আর কী আছে? আমি কোথায় যাবো? নাজ্জাশীর কাছে? না, সে তো নিজেই মুহাম্মাদের অনুসারী হয়ে পড়েছে। তার রাজ্যে মুসলিমরা নিরাপদ। তবে কি আমি হেরাক্লিয়াসের কাছে যাবো? কিন্তু সেখানে গেলে আমাকে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টান বা ইহুদি হয়ে যেতে হবে। আমাকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে জীবন কাটাতে হবে। নাকি আমি নিজের দেশেই থেকে যাব?'

এভাবেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর হতাশার মধ্যে এক একটা দিন কাটতে লাগলো। উমরাতুল কাযার সময় এল। মুহাম্মাদ এবং তাঁর সঙ্গীরা উমরা পালন করবেন- এই দৃশ্য সহ্য করার মতো মানসিক শক্তি খালিদের ছিল না। তিনি মক্কা থেকে অনেক দূরে এক জায়গায় চলে গেলেন। সেবার উমরা করতে এসেছিলেন তারই ভাই আল-ওয়ালিদ ইবন আল-ওয়ালিদ। তিনি যাওয়ার সময়ে ভাইয়ের জন্য একটা চিঠি রেখে গেলেন। চিঠিতে লেখা ছিল,

'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ইসলামের প্রতি তোমার বিদ্বেষ দেখে আমি অবাক হয়ে যাই। তোমার মতো একটা বুদ্ধিমান লোক কী করে ইসলামের বিরোধিতা করে! মানুষ কেমন করে ইসলামকে প্রত্যাখ্যান করতে পারে-- আমার বুঝে আসে না। আল্লাহর রাসূল তোমার কথা জানতে চেয়েছেন, জিজ্ঞাসা করেছেন খালিদ কোথায়? আমি বলেছি, আল্লাহ তাঁকে নিয়ে আসবেন। এরপর তিনি বলেছেন, তার মতো মানুষ ইসলামকে উপেক্ষা করে কীভাবে! সে যদি তার শক্তি আর সাহসকে মুসলিমদের পক্ষে ঢেলে দিতো, তাহলে সেটাই তার জন্য উত্তম হতো আর আমরাও তাকে অন্যদের তুলনায় বেশি প্রাধান্য দিতাম। ভাই, নিজেকে তুমি অনেক বঞ্চিত করেছো, আর নিজেকে বঞ্চিত কোরো না।'

এরপর খালিদ বর্ণনা করেন,

'চিঠিটি পড়ে আমি এখান থেকে পালাবার শক্তি ফিরে পেলাম। আর ইসলাম গ্রহণের প্রতি ইচ্ছেও বেড়ে গেল। আমার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলের মন্তব্য শুনে খুশি খুশি লাগছিল। আরও একটা ব্যাপার ছিল। একটা স্বপ্ন। আমি একদিন স্বপ্ন দেখলাম, আমি একটা সংকীর্ণ, আবদ্ধ, খরাপীড়িত দেশে ছিলাম। সেখান থেকে সবুজ, উর্বর আর বিস্তীর্ণ এক দেশে চলে এসেছি। আমার মনে হলো, নিশ্চয়ই এই স্বপ্নের কোনো গূঢ় অর্থ আছে।'

মদীনায় যাওয়ার পর খালিদ আবু বকরের কাছে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলেন। আবু বকর তাকে বলেন, 'এই স্বপ্নের অর্থ হচ্ছে তুমি শিরক থেকে বের হয়ে ইসলামে প্রবেশ করেছো।'

খালিদ সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি মুসলিম হয়ে যাবেন এবং মদীনায় হিজরত করবেন। তার ইচ্ছে হলো হিজরতের যাত্রাপথে ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক সমমনা কাউকে সাথে নিতে। প্রথমে গেলেন সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যার কাছে। সাফওয়ানের কাছে নিজের মুসলিম হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। বললেন, 'আমাদের অবস্থা তো দেখতেই পাচ্ছো। অল্প কিছু লোকই আমাদের ধর্মের উপরে আছে। নিশ্চয়ই মুহাম্মাদের সম্মানই আরবদের সম্মান।' সাফওয়ান তখন সাফ জানিয়ে দিলো, 'সবাই মুসলিম হয়ে গেলেও আমি কোনোদিন মুসলিম হবো না।'

এরপর গেলেন আবু জাহলের ছেলে ইকরিমার কাছে। তাকেও একই কথা বললেন। ইকরিমাও মুসলিম হতে প্রত্যাখ্যান করলো। এরপর তার সাথে দেখা হলো উসমান ইবন তালহার সাথে। খালিদ প্রথমে ভাবলেন উসমানের সাথে এই বিষয় নিয়ে কোনো আলাপ করবেন না। কারণ এই উসমান পরিবারের সাত সদস্য উহুদে মুসলিমদের হাতে নিহত হয়েছে। কিন্তু তারপরেই ভাবলেন, 'আচ্ছা, কী-ই আর এমন হবে এ কথা বললে? আমি তো চলেই যাচ্ছি, কথা বলেই যাই।' কত বিস্ময়কর ঘটনাই তো দুনিয়াতে ঘটে। উসমান ইবন তালহা, যার পরিবারের সাত সাত জন ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেছে, সেই তালহাকেই দেখা গেল ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহী। তারা দুজনে এবার একসাথে হিজরত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। পথিমধ্যে দেখা হলো আমর ইবন আল-আসের সাথে। তিনজন মিলে একসাথে মদীনায় গেলেন।

মদীনার সীমান্তে এসে খালিদ কাপড় বদলে ভালো পোশাক পরে নিলেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তের জন্য সুন্দর করে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই। রাসূলুল্লাহর সাথে দেখা হলো। খালিদকে সেই দূর থেকে দেখার পর থেকেই রাসূলুল্লাহর মুখে এক চিলতে হাসি ঝুলেই আছে। খালিদ কাছে আসলেন, বাইয়াত দিলেন। আল্লাহর রাসূল তাকে বললেন, 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি তোমাকে পথ দেখিয়েছেন। আমি তোমার মাঝে বুদ্ধির ছাপ দেখেছি, আর আশা করেছি তোমার বুদ্ধিমত্তা তোমাকে ভালো পথে নিয়ে আসবে।' খালিদ ইবন ওয়ালিদ বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আপনি তো জানেন যে, আমি আপনার বিরোধিতা করেছি। গোঁয়ারের মতো সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন যেন তিনি আমাকে ক্ষমা করে দেন।'

নবীজি বললেন, 'ইসলাম তো আগের সমস্ত গুনাহকে মুছে দেয়।' খালিদ বললেন, 'তবুও আপনি আমার জন্য দুআ করে দিন। নবীজি তখন দুআ করলেন, 'হে আল্লাহ! তোমার পথ থেকে মানুষকে বিরত রাখতে খালিদ যা কিছু করেছে, তার জন্য আপনি খালিদকে ক্ষমা করে দিন।'

খালিদের পর একে একে আমর ইবন আল আস এবং উসমান ইবন তালহা বাইয়াত করলেন। কুরাইশদের তিন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ইসলামের ছায়াতলে চলে এল। তাদের ইসলাম গ্রহণ ছিল মুসলিমদের বিজয় আর মুশরিকদের পরাজয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px