📄 হামযা-কন্যাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি
যখন রাসূলুল্লাহ মক্কা থেকে চলে যাচ্ছিলেন, সে মুহূর্তে এক অল্পবয়স্ক বালিকা দৌড়ে এসে বলতে লাগলো, 'চাচা! চাচা! চাচা!' সে মদীনায় যেতে চাচ্ছিল। এই হলো উহুদ যুদ্ধে শহীদ হামযা ইবন আল-মুত্তালিবের মেয়ে। আলী ইবন আবু তালিব তাকে খপ করে ধরে এনে স্ত্রী ফাতিমার কাছে দিয়ে বললেন, 'তোমার চাচাতো বোনের যত্ন নাও। তাকে মদীনায় ফিরিয়ে নিতে হবে।' ওদিকে জাফর ইবন আবি তালিব বাধ সাধলেন, বললেন, 'না, ওকে আমি নিতে চাই।' আলী অধিকার দেখিয়ে বললেন, 'কিন্তু আমি ওর চাচাতো ভাই।' জাফরও ছাড়বার পাত্র নন, বললেন, 'আমিও ওর চাচাতো ভাই আর আমার স্ত্রী ওর খালা!'
যেন এই বিবাদ যথেষ্ট ছিল না, তৃতীয় আরও একজন সেখানে উদয় হলেন-- যাইদ ইবন হারিসা। তিনি এসেই বললেন, 'ও তো আমার ভাইয়ের মেয়ে!' হামযার মেয়েকে নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেল। আল্লাহর রাসূলের প্রিয় চাচার মেয়ের দায়িত্ব বলে কথা-- কেউই এত বড় একটা কাজের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছিলেন না।
রাসূলুল্লাহ তখন আসলেন তাদের এই মধুর দ্বন্দ্ব মিটমাট করতে। সেই বালিকার দায়িত্ব তুলে দিলেন জাফর ইবন আবি তালিবের স্ত্রীর হাতে, আর সেই সাথে কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন, বললেন, 'খালার মর্যাদা মায়ের সমতুল্য।' বাকিরা যেন মন খারাপ না করে এজন্যই হয়তো নবীজি এরপর একে একে প্রত্যেকের প্রশংসা করলেন। আলীকে বললেন, 'তুমি আমার থেকে এবং আমি তোমার থেকে।' যাইদকে বললেন, 'তুমি হলে আমাদের ভাই এবং আমাদের মাওলা।' আর জাফরকে বললেন, 'চেহারায় আর চরিত্রে আমার সাথে যার সবচাইতে মিল সে হচ্ছো তুমি।'
টিকাঃ
৯৯. সহীহ বুখারি, অধ্যায় মাঘাযি, হাদীস ২৮৬।
যখন রাসূলুল্লাহ মক্কা থেকে চলে যাচ্ছিলেন, সে মুহূর্তে এক অল্পবয়স্ক বালিকা দৌড়ে এসে বলতে লাগলো, 'চাচা! চাচা! চাচা!' সে মদীনায় যেতে চাচ্ছিল। এই হলো উহুদ যুদ্ধে শহীদ হামযা ইবন আল-মুত্তালিবের মেয়ে। আলী ইবন আবু তালিব তাকে খপ করে ধরে এনে স্ত্রী ফাতিমার কাছে দিয়ে বললেন, 'তোমার চাচাতো বোনের যত্ন নাও। তাকে মদীনায় ফিরিয়ে নিতে হবে।' ওদিকে জাফর ইবন আবি তালিব বাধ সাধলেন, বললেন, 'না, ওকে আমি নিতে চাই।' আলী অধিকার দেখিয়ে বললেন, 'কিন্তু আমি ওর চাচাতো ভাই।' জাফরও ছাড়বার পাত্র নন, বললেন, 'আমিও ওর চাচাতো ভাই আর আমার স্ত্রী ওর খালা!'
যেন এই বিবাদ যথেষ্ট ছিল না, তৃতীয় আরও একজন সেখানে উদয় হলেন-- যাইদ ইবন হারিসা। তিনি এসেই বললেন, 'ও তো আমার ভাইয়ের মেয়ে!' হামযার মেয়েকে নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেল। আল্লাহর রাসূলের প্রিয় চাচার মেয়ের দায়িত্ব বলে কথা-- কেউই এত বড় একটা কাজের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছিলেন না।
রাসূলুল্লাহ তখন আসলেন তাদের এই মধুর দ্বন্দ্ব মিটমাট করতে। সেই বালিকার দায়িত্ব তুলে দিলেন জাফর ইবন আবি তালিবের স্ত্রীর হাতে, আর সেই সাথে কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন, বললেন, 'খালার মর্যাদা মায়ের সমতুল্য।' বাকিরা যেন মন খারাপ না করে এজন্যই হয়তো নবীজি এরপর একে একে প্রত্যেকের প্রশংসা করলেন। আলীকে বললেন, 'তুমি আমার থেকে এবং আমি তোমার থেকে।' যাইদকে বললেন, 'তুমি হলে আমাদের ভাই এবং আমাদের মাওলা।' আর জাফরকে বললেন, 'চেহারায় আর চরিত্রে আমার সাথে যার সবচাইতে মিল সে হচ্ছো তুমি।'
টিকাঃ
৯৯. সহীহ বুখারি, অধ্যায় মাঘাযি, হাদীস ২৮৬।