📄 সাবধানতা অবলম্বন
কথা ছিল মুসলিমরা মক্কায় ভারী কোনো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না, কেবল তরবারি রাখতে পারবেন। কিন্তু সফরে রাসূলুল্লাহর সাথে তীর-ধনুক-বর্শা জাতীয় ভারী অস্ত্র-শস্ত্র আনলেন, সাথে আরও ছিল মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার নেতৃত্বে দুইশো ঘোড়সওয়ারী। রাসূলুল্লাহ কোনো লুকোছাপা রাখলেন না। কুরাইশরা যখন দেখলো তিনি ভারী অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মক্কার দিকে আসছেন, তখন তারা পাঠালো মিখরাজ ইবন হাফসকে। রাসূলুল্লাহ এবং তাঁর সাহাবিরা তখনো মক্কা থেকে আট মাইল দূরে বনু ইয়াজুজে। মিখরাজ আল্লাহর রাসূলকে বললো,
'মুহাম্মাদ! যৌবনে বা বার্ধক্যে কখনো আপনি বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না। আপনি আর আপনার লোকেরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হারামে প্রবেশ করছেন। অথচ আপনি বলেছেন চুক্তিমতে যেভাবে প্রবেশ করার কথা আপনি সেভাবেই প্রবেশ করবেন। কথা ছিল আপনাদের সাথে কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। কিন্তু এখন এসব কী দেখছি?'
মক্কার কুরাইশরা বলাবলি করছিল আল্লাহর রাসূল চুক্তিভঙ্গ করে যুদ্ধ করতে এসেছেন। আল্লাহর রাসূল মিখরাজকে আশ্বস্ত করলেন, 'চিন্তা কোরো না, আমাদের যেভাবে প্রবেশ করার কথা ছিল আমরা সেভাবেই প্রবেশ করবো।' এ কথা শুনে মিখরাজ কুরাইশদের বলে আসলো, 'মুহাম্মাদ অস্ত্র সহকারে মক্কায় প্রবেশ করবেন না। তিনি চুক্তির শর্ত মেনেই মক্কায় আসবেন।'
লক্ষণীয় হলো, কুফফারদের চোখে রাসূলুল্লাহ কেমন ছিলেন। মক্কার কাফিররাই সাক্ষ্য দিত তিনি একজন সত্যবাদী লোক আল আমীন। শত্রুরাও জানতো, তিনি এক কথার মানুষ। তারা তাঁকে অপছন্দ করতো ঠিকই কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তিনি এত অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন যে তাকে কদর না করে উপায় ছিল না।
রাসূলুল্লাহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র মক্কার সীমানার ঠিক বাইরে রেখে গেলেন যেন হঠাৎ প্রয়োজন পড়লে সেগুলো ব্যবহার করা যায়। তিনি এগুলো সাথে রেখেছিলেন তাঁর নিরাপত্তার জন্য, যুদ্ধ করার জন্য নয়। এগুলোর দায়িত্ব তিনি দিয়ে গেলেন মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার উপরে। তাঁর সাথে ছিল দুশো ঘোড়সওয়ারি। তারা মক্কার বাইরে অবস্থান করছিলেন। কুরাইশদের সাথে তার শান্তিচুক্তি ছিল সত্যি কিন্তু তিনি তাদের অঙ্গীকারের উপর শতভাগ আস্থা রাখেননি, কারণ ইসলামের শত্রুদের কখনই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না।
কথা ছিল মুসলিমরা মক্কায় ভারী কোনো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না, কেবল তরবারি রাখতে পারবেন। কিন্তু সফরে রাসূলুল্লাহর সাথে তীর-ধনুক-বর্শা জাতীয় ভারী অস্ত্র-শস্ত্র আনলেন, সাথে আরও ছিল মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার নেতৃত্বে দুইশো ঘোড়সওয়ারী। রাসূলুল্লাহ কোনো লুকোছাপা রাখলেন না। কুরাইশরা যখন দেখলো তিনি ভারী অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মক্কার দিকে আসছেন, তখন তারা পাঠালো মিখরাজ ইবন হাফসকে। রাসূলুল্লাহ এবং তাঁর সাহাবিরা তখনো মক্কা থেকে আট মাইল দূরে বনু ইয়াজুজে। মিখরাজ আল্লাহর রাসূলকে বললো,
'মুহাম্মাদ! যৌবনে বা বার্ধক্যে কখনো আপনি বিশ্বাসঘাতক ছিলেন না। আপনি আর আপনার লোকেরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হারামে প্রবেশ করছেন। অথচ আপনি বলেছেন চুক্তিমতে যেভাবে প্রবেশ করার কথা আপনি সেভাবেই প্রবেশ করবেন। কথা ছিল আপনাদের সাথে কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। কিন্তু এখন এসব কী দেখছি?'
মক্কার কুরাইশরা বলাবলি করছিল আল্লাহর রাসূল চুক্তিভঙ্গ করে যুদ্ধ করতে এসেছেন। আল্লাহর রাসূল মিখরাজকে আশ্বস্ত করলেন, 'চিন্তা কোরো না, আমাদের যেভাবে প্রবেশ করার কথা ছিল আমরা সেভাবেই প্রবেশ করবো।' এ কথা শুনে মিখরাজ কুরাইশদের বলে আসলো, 'মুহাম্মাদ অস্ত্র সহকারে মক্কায় প্রবেশ করবেন না। তিনি চুক্তির শর্ত মেনেই মক্কায় আসবেন।'
লক্ষণীয় হলো, কুফফারদের চোখে রাসূলুল্লাহ কেমন ছিলেন। মক্কার কাফিররাই সাক্ষ্য দিত তিনি একজন সত্যবাদী লোক আল আমীন। শত্রুরাও জানতো, তিনি এক কথার মানুষ। তারা তাঁকে অপছন্দ করতো ঠিকই কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে তিনি এত অসাধারণ একজন মানুষ ছিলেন যে তাকে কদর না করে উপায় ছিল না।
রাসূলুল্লাহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র মক্কার সীমানার ঠিক বাইরে রেখে গেলেন যেন হঠাৎ প্রয়োজন পড়লে সেগুলো ব্যবহার করা যায়। তিনি এগুলো সাথে রেখেছিলেন তাঁর নিরাপত্তার জন্য, যুদ্ধ করার জন্য নয়। এগুলোর দায়িত্ব তিনি দিয়ে গেলেন মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার উপরে। তাঁর সাথে ছিল দুশো ঘোড়সওয়ারি। তারা মক্কার বাইরে অবস্থান করছিলেন। কুরাইশদের সাথে তার শান্তিচুক্তি ছিল সত্যি কিন্তু তিনি তাদের অঙ্গীকারের উপর শতভাগ আস্থা রাখেননি, কারণ ইসলামের শত্রুদের কখনই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না।
📄 সাহাবিদের নিয়ে রাসূলুল্লাহর ﷽ উমরা সম্পাদন
আল্লাহর রাসূল মক্কায় প্রবেশ করলেন। সাহাবিরা খাপখোলা তলোয়ার হাতে তাঁকে ঘিরে রেখে এগোতে লাগলেন। মক্কার লোকেরা অনেকেই আগ্রহভরে মুসলিমদের দেখছিল। কেউ কেউ এই দৃশ্য দেখার জন্য পাহাড়ের চূড়ায় উঠে পড়ে।
মক্কার মুশরিকরা গুজব ছড়ালো মদীনার মুসলিমরা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল আর নিস্তেজ হয়ে গেছে। তারা হয়তো এসব কথা বলে মুসলিমদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে চাইছিল। তাদের এই গুজবের জবাব দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাহাবিদের আদেশ করলেন যেন তারা নিজেদের ডান কাঁধ উন্মুক্ত করে দিয়ে জোরে জোরে তাওয়াফ করেন। তিনি চাইছিলেন কুফফাররা মুসলিমদের মাঝে দুর্বলতার বিন্দুমাত্র ছাপও যেন খুঁজে না পায়। আর হয়েছিলও তাই, কুফফাররা মুসলিমদের এভাবে তাওয়াফ করতে দেখে বলে, 'ওদেরকে দেখে তো মোটেও দুর্বল মনে হচ্ছে না...'
মুসলিমরা রুকন ইয়ামিন এবং হাজরে আসওয়াদের মাঝামাঝি জায়গাটা ছাড়া বাকি অংশে খুব দ্রুত হাঁটলেন। রুকন ইয়ামিন এবং হাজরে আসওয়াদের মাঝে তারা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলেন কেননা সেখানে তাদেরকে কাফিররা দেখতে পাচ্ছিলো না। এভাবে সাতবারের মধ্যে প্রথম তিনবার তারা এভাবেই জোরে হেঁটে তাওয়াফ করলেন।
তারা এসেছিলেন উমরা করতে। কিন্তু একটা চাপা মনস্তাত্তিক যুদ্ধ চলছিল দুই শিবিরের মাঝে। জোরে জোরে তাওয়াফ, ডান কাঁধ উন্মুক্ত রাখা, জোরে জোরে হাঁটা এই সবই তাঁরা করছিলেন কুরাইশদের কাছে একটি বার্তা দেওয়ার জন্য যে আমাদেরকে দুর্বল ভেবো না। এমনটা উহুদের যুদ্ধেও দেখা গেছে। আবু দুজানাকে আল্লাহর রাসূল মাথায় লাল পট্টি বেঁধে বীরদর্পে হাঁটার অনুমতি দিয়েছেন যেন কুফফারদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার হয়। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় যখন মুসলিমরা কুরবানি করার পশু নিয়ে যায়, তখন বেছে বেছে আবু জাহেলের একটা উটকেও সাথে রাখা হয় যেন সেটা দেখে কুরাইশরা রাগে-দুঃখে ফুঁসতে পারে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, ইচ্ছে করেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কুফফারদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ কেবল মাঠে-ময়দানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই যুদ্ধ মন আর মননের যুদ্ধও বটে。
আল্লাহর রাসূল এবং সাহাবিরা তাওয়াফ সম্পন্ন করলেন। এরপর তিনি কিছু সাহাবিকে মক্কার বাইরে পাঠিয়ে দিলেন নিরাপত্তার দায়িত্বে, যেন বাকি যারা তাওয়াফ করতে পারেনি তারা মক্কায় এসে তাওয়াফ করে নিতে পারে। এভাবেই মক্কায় আগত সমস্ত মুসলিম উমরা সম্পন্ন করলো।
আল্লাহর রাসূল মক্কায় প্রবেশ করলেন। সাহাবিরা খাপখোলা তলোয়ার হাতে তাঁকে ঘিরে রেখে এগোতে লাগলেন। মক্কার লোকেরা অনেকেই আগ্রহভরে মুসলিমদের দেখছিল। কেউ কেউ এই দৃশ্য দেখার জন্য পাহাড়ের চূড়ায় উঠে পড়ে।
মক্কার মুশরিকরা গুজব ছড়ালো মদীনার মুসলিমরা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল আর নিস্তেজ হয়ে গেছে। তারা হয়তো এসব কথা বলে মুসলিমদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে চাইছিল। তাদের এই গুজবের জবাব দেওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ সাহাবিদের আদেশ করলেন যেন তারা নিজেদের ডান কাঁধ উন্মুক্ত করে দিয়ে জোরে জোরে তাওয়াফ করেন। তিনি চাইছিলেন কুফফাররা মুসলিমদের মাঝে দুর্বলতার বিন্দুমাত্র ছাপও যেন খুঁজে না পায়। আর হয়েছিলও তাই, কুফফাররা মুসলিমদের এভাবে তাওয়াফ করতে দেখে বলে, 'ওদেরকে দেখে তো মোটেও দুর্বল মনে হচ্ছে না...'
মুসলিমরা রুকন ইয়ামিন এবং হাজরে আসওয়াদের মাঝামাঝি জায়গাটা ছাড়া বাকি অংশে খুব দ্রুত হাঁটলেন। রুকন ইয়ামিন এবং হাজরে আসওয়াদের মাঝে তারা স্বাভাবিক গতিতে হাঁটলেন কেননা সেখানে তাদেরকে কাফিররা দেখতে পাচ্ছিলো না। এভাবে সাতবারের মধ্যে প্রথম তিনবার তারা এভাবেই জোরে হেঁটে তাওয়াফ করলেন।
তারা এসেছিলেন উমরা করতে। কিন্তু একটা চাপা মনস্তাত্তিক যুদ্ধ চলছিল দুই শিবিরের মাঝে। জোরে জোরে তাওয়াফ, ডান কাঁধ উন্মুক্ত রাখা, জোরে জোরে হাঁটা এই সবই তাঁরা করছিলেন কুরাইশদের কাছে একটি বার্তা দেওয়ার জন্য যে আমাদেরকে দুর্বল ভেবো না। এমনটা উহুদের যুদ্ধেও দেখা গেছে। আবু দুজানাকে আল্লাহর রাসূল মাথায় লাল পট্টি বেঁধে বীরদর্পে হাঁটার অনুমতি দিয়েছেন যেন কুফফারদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার হয়। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় যখন মুসলিমরা কুরবানি করার পশু নিয়ে যায়, তখন বেছে বেছে আবু জাহেলের একটা উটকেও সাথে রাখা হয় যেন সেটা দেখে কুরাইশরা রাগে-দুঃখে ফুঁসতে পারে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, ইচ্ছে করেই প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কুফফারদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ কেবল মাঠে-ময়দানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই যুদ্ধ মন আর মননের যুদ্ধও বটে。
আল্লাহর রাসূল এবং সাহাবিরা তাওয়াফ সম্পন্ন করলেন। এরপর তিনি কিছু সাহাবিকে মক্কার বাইরে পাঠিয়ে দিলেন নিরাপত্তার দায়িত্বে, যেন বাকি যারা তাওয়াফ করতে পারেনি তারা মক্কায় এসে তাওয়াফ করে নিতে পারে। এভাবেই মক্কায় আগত সমস্ত মুসলিম উমরা সম্পন্ন করলো।
📄 মাইমুনা বিনত আল-হারিসের ؓ সাথে রাসূলুল্লাহর ﷽ বিয়ে
মাইমুনাহ বিনত আল হারিস ছিলেন আল-আব্বাস ইবন মুত্তালিবের স্ত্রী উম্ম ফাদলের বোন। তার আগের স্বামী আবু রুহম মারা গেলে তিনি আরেকটি বিয়ে করার ইচ্ছে পোষণ করলেন। আল-আব্বাস তার ভাতিজা আল্লাহর রাসূলকে মাইমুনাহর স্বামী হিসেবে পছন্দ করলেন, মোহরানা নির্ধারিত হলো চারশো দিরহাম। আল-আব্বাস নিজের পকেট থেকে চারশো দিরহাম দিয়ে রাসূলুল্লাহর পক্ষে বিয়ের মোহরানা আদায় করলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় বেশ দ্রুতই বিয়েটি হয়ে গেল।
রাসূলুল্লাহ চাইলেন মক্কায় থাকতে থাকতেই এই বিয়ের ওয়ালিমা করে যেতে, কিন্তু ততদিনে তিনদিন পার হয়ে গেছে। হুয়াইতাব ইবন আবদুল উযযাহ, সুহাইল ইবন আমর-- এরা এসে রাসূলুল্লাহকে মক্কা ছেড়ে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিতে লাগলো। 'আপনার সময় শেষ, আপনি চলে যান।' চুক্তিবদ্ধ একটি মানুষের সাথে নূন্যতম ভদ্রতাবোধ বজায় রাখার মতো অবস্থাও তাদের ছিল না। বিদ্বেষের বিষাক্ত গরল যেন তাদের অন্তর দিয়ে উপচে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহকে তারা তিনদিনের বেশি একটা দিনও সহ্য করতে পারছিল না, এতটাই ছিল তাদের বিদ্বেষের মাত্রা। রাসূলুল্লাহ তাদের বললেন, 'আমি তো তোমাদেরই এক মহিলাকে বিয়ে করেছি। আমি যদি এখানেই আমার বিয়েটা সম্পন্ন করি আর তোমাদের জন্য কিছু খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করি, তাহলে ক্ষতি কী?' নবীজি চাইছিলেন এই বিয়ের মাধ্যমে কুরাইশদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে। কিন্তু কুরাইশরা গোঁয়ারের মতো বলতেই থাকলো, 'না, আপনার ভোজের কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই, আপনি চলে যান।' এই কথার পরে আর মক্কায় থাকা যায় না। তাই আল্লাহর রাসূল মক্কা ছেড়ে চলে গেলেন এবং সারিফে তার ওয়ালিমা সম্পন্ন করলেন। মাইমুনাহ ছিলেন আল্লাহর রাসূলের সর্বশেষ স্ত্রী। মাইমুনাহ মারা যান সেই সারিফেই, যেখানে তার ওয়ালিমা হয়েছিল।
মাইমুনাহ বিনত আল হারিস ছিলেন আল-আব্বাস ইবন মুত্তালিবের স্ত্রী উম্ম ফাদলের বোন। তার আগের স্বামী আবু রুহম মারা গেলে তিনি আরেকটি বিয়ে করার ইচ্ছে পোষণ করলেন। আল-আব্বাস তার ভাতিজা আল্লাহর রাসূলকে মাইমুনাহর স্বামী হিসেবে পছন্দ করলেন, মোহরানা নির্ধারিত হলো চারশো দিরহাম। আল-আব্বাস নিজের পকেট থেকে চারশো দিরহাম দিয়ে রাসূলুল্লাহর পক্ষে বিয়ের মোহরানা আদায় করলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় বেশ দ্রুতই বিয়েটি হয়ে গেল।
রাসূলুল্লাহ চাইলেন মক্কায় থাকতে থাকতেই এই বিয়ের ওয়ালিমা করে যেতে, কিন্তু ততদিনে তিনদিন পার হয়ে গেছে। হুয়াইতাব ইবন আবদুল উযযাহ, সুহাইল ইবন আমর-- এরা এসে রাসূলুল্লাহকে মক্কা ছেড়ে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিতে লাগলো। 'আপনার সময় শেষ, আপনি চলে যান।' চুক্তিবদ্ধ একটি মানুষের সাথে নূন্যতম ভদ্রতাবোধ বজায় রাখার মতো অবস্থাও তাদের ছিল না। বিদ্বেষের বিষাক্ত গরল যেন তাদের অন্তর দিয়ে উপচে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহকে তারা তিনদিনের বেশি একটা দিনও সহ্য করতে পারছিল না, এতটাই ছিল তাদের বিদ্বেষের মাত্রা। রাসূলুল্লাহ তাদের বললেন, 'আমি তো তোমাদেরই এক মহিলাকে বিয়ে করেছি। আমি যদি এখানেই আমার বিয়েটা সম্পন্ন করি আর তোমাদের জন্য কিছু খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করি, তাহলে ক্ষতি কী?' নবীজি চাইছিলেন এই বিয়ের মাধ্যমে কুরাইশদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে। কিন্তু কুরাইশরা গোঁয়ারের মতো বলতেই থাকলো, 'না, আপনার ভোজের কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই, আপনি চলে যান।' এই কথার পরে আর মক্কায় থাকা যায় না। তাই আল্লাহর রাসূল মক্কা ছেড়ে চলে গেলেন এবং সারিফে তার ওয়ালিমা সম্পন্ন করলেন। মাইমুনাহ ছিলেন আল্লাহর রাসূলের সর্বশেষ স্ত্রী। মাইমুনাহ মারা যান সেই সারিফেই, যেখানে তার ওয়ালিমা হয়েছিল।
📄 হামযা-কন্যাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি
যখন রাসূলুল্লাহ মক্কা থেকে চলে যাচ্ছিলেন, সে মুহূর্তে এক অল্পবয়স্ক বালিকা দৌড়ে এসে বলতে লাগলো, 'চাচা! চাচা! চাচা!' সে মদীনায় যেতে চাচ্ছিল। এই হলো উহুদ যুদ্ধে শহীদ হামযা ইবন আল-মুত্তালিবের মেয়ে। আলী ইবন আবু তালিব তাকে খপ করে ধরে এনে স্ত্রী ফাতিমার কাছে দিয়ে বললেন, 'তোমার চাচাতো বোনের যত্ন নাও। তাকে মদীনায় ফিরিয়ে নিতে হবে।' ওদিকে জাফর ইবন আবি তালিব বাধ সাধলেন, বললেন, 'না, ওকে আমি নিতে চাই।' আলী অধিকার দেখিয়ে বললেন, 'কিন্তু আমি ওর চাচাতো ভাই।' জাফরও ছাড়বার পাত্র নন, বললেন, 'আমিও ওর চাচাতো ভাই আর আমার স্ত্রী ওর খালা!'
যেন এই বিবাদ যথেষ্ট ছিল না, তৃতীয় আরও একজন সেখানে উদয় হলেন-- যাইদ ইবন হারিসা। তিনি এসেই বললেন, 'ও তো আমার ভাইয়ের মেয়ে!' হামযার মেয়েকে নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেল। আল্লাহর রাসূলের প্রিয় চাচার মেয়ের দায়িত্ব বলে কথা-- কেউই এত বড় একটা কাজের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছিলেন না।
রাসূলুল্লাহ তখন আসলেন তাদের এই মধুর দ্বন্দ্ব মিটমাট করতে। সেই বালিকার দায়িত্ব তুলে দিলেন জাফর ইবন আবি তালিবের স্ত্রীর হাতে, আর সেই সাথে কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন, বললেন, 'খালার মর্যাদা মায়ের সমতুল্য।' বাকিরা যেন মন খারাপ না করে এজন্যই হয়তো নবীজি এরপর একে একে প্রত্যেকের প্রশংসা করলেন। আলীকে বললেন, 'তুমি আমার থেকে এবং আমি তোমার থেকে।' যাইদকে বললেন, 'তুমি হলে আমাদের ভাই এবং আমাদের মাওলা।' আর জাফরকে বললেন, 'চেহারায় আর চরিত্রে আমার সাথে যার সবচাইতে মিল সে হচ্ছো তুমি।'
টিকাঃ
৯৯. সহীহ বুখারি, অধ্যায় মাঘাযি, হাদীস ২৮৬।
যখন রাসূলুল্লাহ মক্কা থেকে চলে যাচ্ছিলেন, সে মুহূর্তে এক অল্পবয়স্ক বালিকা দৌড়ে এসে বলতে লাগলো, 'চাচা! চাচা! চাচা!' সে মদীনায় যেতে চাচ্ছিল। এই হলো উহুদ যুদ্ধে শহীদ হামযা ইবন আল-মুত্তালিবের মেয়ে। আলী ইবন আবু তালিব তাকে খপ করে ধরে এনে স্ত্রী ফাতিমার কাছে দিয়ে বললেন, 'তোমার চাচাতো বোনের যত্ন নাও। তাকে মদীনায় ফিরিয়ে নিতে হবে।' ওদিকে জাফর ইবন আবি তালিব বাধ সাধলেন, বললেন, 'না, ওকে আমি নিতে চাই।' আলী অধিকার দেখিয়ে বললেন, 'কিন্তু আমি ওর চাচাতো ভাই।' জাফরও ছাড়বার পাত্র নন, বললেন, 'আমিও ওর চাচাতো ভাই আর আমার স্ত্রী ওর খালা!'
যেন এই বিবাদ যথেষ্ট ছিল না, তৃতীয় আরও একজন সেখানে উদয় হলেন-- যাইদ ইবন হারিসা। তিনি এসেই বললেন, 'ও তো আমার ভাইয়ের মেয়ে!' হামযার মেয়েকে নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেল। আল্লাহর রাসূলের প্রিয় চাচার মেয়ের দায়িত্ব বলে কথা-- কেউই এত বড় একটা কাজের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছিলেন না।
রাসূলুল্লাহ তখন আসলেন তাদের এই মধুর দ্বন্দ্ব মিটমাট করতে। সেই বালিকার দায়িত্ব তুলে দিলেন জাফর ইবন আবি তালিবের স্ত্রীর হাতে, আর সেই সাথে কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন, বললেন, 'খালার মর্যাদা মায়ের সমতুল্য।' বাকিরা যেন মন খারাপ না করে এজন্যই হয়তো নবীজি এরপর একে একে প্রত্যেকের প্রশংসা করলেন। আলীকে বললেন, 'তুমি আমার থেকে এবং আমি তোমার থেকে।' যাইদকে বললেন, 'তুমি হলে আমাদের ভাই এবং আমাদের মাওলা।' আর জাফরকে বললেন, 'চেহারায় আর চরিত্রে আমার সাথে যার সবচাইতে মিল সে হচ্ছো তুমি।'
টিকাঃ
৯৯. সহীহ বুখারি, অধ্যায় মাঘাযি, হাদীস ২৮৬।