📄 খাইবার পরবর্তী সামরিক অভিযান
১) বনু ফাজারার বিরুদ্ধে সারিয়া
এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন আবু বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু। মুসলিমদের আক্রমণের মুখে তারা তাদের নারী-শিশু সহ পাহাড়ের দিকে পালাতে থাকে। তাদের পিছু নেন সালামাহ ইবন আল-আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু, তিনি তাদের পালাবার পথে এমনভাবে তীর ছুঁড়তে থাকেন যে তারা থামতে বাধ্য হয়। এরপর তিনি তাদের বন্দী করে আবু বকরের কাছে নিয়ে আসেন। বন্দীদের মধ্যে একজন নারীকে সালামাহর খুব পছন্দ হয়ে যায়। তিনি তাকে দাসী হিসেবে রাখতে চাইলেন। আবু বকর সেই সুন্দরী নারীকে দাসী হিসেবে সালামাহকে দিয়ে দিলেন। কিন্তু এরপর আল্লাহর রাসূল সালামাহকে বলেন যেন তিনি এই নারীকে ফিরিয়ে দেন। সালামাহ কিছুটা অনিচ্ছার সাথে সেই নারীকে আল্লাহর রাসূলের হাতে ফিরিয়ে দেন। আল্লাহর রাসূল তখন সেই নারীকে কুরাইশদের কাছে পাঠিয়ে দেন যেন তার বিনিময়ে কুরাইশদের হাত থেকে কিছু বন্দী মুসলিমদের ছাড়িয়ে আনা যায়।
এই সারিয়া থেকে শিক্ষা হলো মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করার গুরুত্ব। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'বন্দীকে মুক্ত করো।' মুসলিম বন্দীদের কাফিরদের হাত থেকে মুক্ত করা একটি ওয়াজিব দায়িত্ব। এই ঘটনায় আমরা দেখি একজন নারীকে একজন সাহাবির পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল তাকে ফিরিয়ে নিয়ে কুরাইশদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন যেন তার বিনিময়ে কিছু মুসলিমদের ছাড়িয়ে আনা যায়。
২) গালিব ইবন আবদুল্লাহর সারিয়া
ত্রিশ জন মুসলিমকে পাঠানো হয় বনু মুলাউয়ি গোত্রের বিরুদ্ধে। এরা ছিল গাতফানের একটি গোত্র। অভিযান করতে গিয়ে তারা শত্রুদের প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে পড়েন এবং তাদের প্রায় সবাই শহীদ হয়ে যান। অভিযানের নেতা বাশির ইবন সাদ আহত হন, জান নিয়ে কোনোরকমে মদীনায় ফেরত আসেন। এই আক্রমণের জবাব দিতে আল্লাহর রাসূল আরেকটি সারিয়া প্রেরণ করেন। এই সারিয়ার কমান্ডার ছিলেন গালিব ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। যাত্রাপথে বনু মুলাউয়ির এক লোককে গুপ্তচর মনে করে গ্রেপ্তার করেন। লোকটির নাম হারিস ইবন মালিক। সে বললো, 'আমাকে তোমরা কেন গ্রেপ্তার করলে? আমি তো মুসলিম হতে এসেছি।' গালিব তাকে বললেন, 'তুমি যদি সত্য বলে থাকো, তাহলে একদিন একরাত বন্দী হয়ে থাকলে এমন কিছু যায় আসে না।' গালিব তাকে একদিনের জন্য বন্দী রাখতে চাচ্ছিলেন কারণ সে যদি গুপ্তচর হয়ে থাকে তাহলে সে শত্রুদের কাছে মুসলিম বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে। সমস্যা হচ্ছে লোকটি দাবি করেছে সে মুসলিম হতে চেয়েছে আর একজন মুসলিমকে বন্দী করে রাখা যায় না। কিন্তু এখানে পরিস্থিতি এমন ছিল যে তাকে একদিনের জন্য বন্দী না রাখলে পুরো বাহিনীই বিপদের মুখে পড়তে পারে।
যা-ই হোক, শত্রুপক্ষের উপর নজরদারি করার জন্য জুনদুব ইবন মাকিস একটা পাহাড়ে ওঠেন। পাহাড়ে উঠে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লেন যেন শত্রুরা তাকে দেখতে না পায়। কিন্তু তবুও কীভাবে কীভাবে যেন শত্রুপক্ষের একজন তাকে দেখে ফেলে, তাকে লক্ষ্য করে একটা তীর ছুঁড়ে মারে। সেই তীর এসে জুনদুবের শরীরে বিদ্ধ হয়। প্রচণ্ড ব্যথায় তার শরীর যেন বিষিয়ে উঠলো। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়ার উপর পুরো বাহিনীর নিরাপত্তা নির্ভর করছে। টু শব্দটি করলেও মুসলিমদের অবস্থান শত্রুদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। সমস্ত প্রস্তুতি আর পরিকল্পনা মাঠে মারা যাবে।
জুনদুব সেই ভয়ঙ্কর ব্যথা দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিলেন। শত্রুরা যেন তার উপস্থিতি টের না পায়, তার জন্য যেন মুসলিমদের অভিযান ভণ্ডুল না হয়ে যায়। এরপর আস্তে করে তীরটি খুলে ফেলেন। এই কঠিন মুহূর্তে কীভাবে একটা মানুষ এতটা সবর করতে পারে? যন্ত্রণায় নীল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা, তবু জুনদুব নিজের শরীরকে স্থির ধরে রেখেছেন। এই অধ্যবসায়, এই ধৈর্য কোথা থেকে এল? এটা ছিল তাদের ঈমানের ফল। আল্লাহর ওপর তাদের বিশ্বাস কতটা জোরালো ছিল আর জিহাদের ব্যাপারে তারা কতটা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন -- এই ঘটনা তার একটি চমৎকার উদাহরণ।
এরপর আরও একটি তীর জুনদুবের গায়ে বিঁধে। এবারো তিনি নড়াচড়া না করে তীরটি আস্তে করে খুলে ফেলেন। কোনোকিছুর নড়াচড়া না দেখে সেই তীর নিক্ষেপকারী লোকটি চলে যায়। সে ভাবলো কেউ বুঝি নেই। পরবর্তীতে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষের উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে কিছু লোককে হত্যা করে তাদের উট এবং অন্য সম্পদ দখল করে নেন। শত্রুরাও তাদের বিরাট বাহিনী নিয়ে মুসলিমদের ধাওয়া করা শুরু করে। এই পর্যায়ে তাদের মোকাবেলা করার মতো অবস্থা মুসলিম বাহিনীর ছিল না। তারা পিছু হটতে থাকেন। তখন আল্লাহ তাআলা সেই স্থানে বৃষ্টিবর্ষণ করে প্লাবন ঘটান যার মাধ্যমে মুসলিম বাহিনী নিরাপদে ফিরে আসে।
গালিব ইবন আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন আরেকটি সারিয়া ছিল বনু আউয়াল এবং বনু আবদ ইবন সালাবার উদ্দেশ্যে। এই অভিযানে উসামা ইবন যাইদের একটি বিখ্যাত ঘটনা আছে। তিনি এই অভিযানে এক লোককে গ্রেপ্তার করেন। সে তখন বলে উঠে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।' কিন্তু উসামা তাকে হত্যা করে ফেলেন। তার যুক্তি ছিল নিশ্চয়ই লোকটা জান বাঁচানোর জন্য কালিমা পড়েছে। আল্লাহর রাসূল এই ঘটনা শুনে প্রচণ্ড অসন্তোষ প্রকাশ করেন। উসামাকে বললেন, 'তুমি কি লোকটার বুক চিরে দেখেছো সে সত্যি বলছে না মিথ্যা? লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছো?'
এই ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, বাহ্যিক অবস্থার উপর একজন মানুষকে বিচার করতে হবে। এই কারণে রাসূলুল্লাহ বলছিলেন, তুমি কি তার বুক চিরে দেখেছো যে সত্যি বলছে নাকি মিথ্যা? একজন মানুষ যদি নিজেকে মুসলিম দাবি করে, তখন তাকে ঈমানদার ধরতে হবে, নিছক সন্দেহের কারণে তাকে কাফির ভাবা যাবে না। তবে ঈমান আনার দাবি করার পরেও যদি তার কাছ থেকে স্পষ্ট কুফরি প্রকাশ পায়, সেক্ষেত্রে প্রকাশ্য কুফরির দিকটাই নিতে হবে। অন্তর ফেঁড়ে দেখা আমাদের দায়িত্ব নয়।
দ্বিতীয় শিক্ষা হলো মুসলিম রক্তের পবিত্রতা। বিনা কারণে একজন মুসলিমকে হত্যা করা ভয়াবহ একটি পাপ। আল্লাহর রাসূলের প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যায় এটা মারাত্মক পর্যায়ের গুনাহ। একজন মুসলিমের রক্ত পবিত্র, এবং হাদীসে এসেছে কাবাঘর থেকেও মুসলিমদের রক্ত দামি।
৩) আবু হাদরাদের সারিয়াহ
আবু হাদরাদ দুইশো দিরহাম মোহরের বিনিময়ে এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন কিন্তু মোহর আদায় করার সামর্থ্য তার ছিল না। তখন তিনি রাসূলুল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে আসলেন। এত মোটা অংকের মোহর রাসূলুল্লাহর পছন্দ হলো না। তিনি বললেন, 'সুবহানআল্লাহ! টাকা যদি স্রোতের মতো ভেসে আসতো তবুও তো এত মোহর ধরা ঠিক হতো না। তোমাকে সাহায্য করার মতো কিছুই আমার কাছে নেই।'
যাই হোক, রাসূলুল্লাহ আবু হাদরাদ সহ আরও দুজনকে পাঠালেন কায়েস নামের এক লোককে শায়েস্তা করার জন্য। সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য লোক সংগ্রহ করছিল। এই অভিযানে দেওয়ার মতো রাসূলুল্লাহর হাতে ছিল একটি দুবলা পাতলা উট। সেই উটকে সম্বল করে তারা তিনজন বের হলেন। তারা সেই লোককে হত্যা করতে সমর্থ হন। এরপর আল্লাহর রাসূল আবু হাদরাদকে তেরোটি উট দেন। এই উট দিয়ে তিনি মোহর পরিশোধ করেন।
৪) আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার সারিয়াহ
ইয়াসির ইবন রাজাম নামের এক ইহুদি গাতফানের লোকদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এক করার চেষ্টা করছিল। তার কাছে ত্রিশ সৈনিক সহ আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহাকে পাঠানো হয়। তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, তাকে খাইবারের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। তখন ইয়াসির তার ত্রিশ সঙ্গীসহ মদীনায় যেতে রাজি হয়। কিন্তু পথিমধ্যে সে তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করতে থাকে। তখন সে আবদুল্লাহ ইবন উনাইসকে হত্যা করার চেষ্টা করে। আবদুল্লাহ ইবন উনাইস আহত হন কিন্তু নিজেকে সামলে নেন। দুই দলের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং ইহুদিদের একজন ছাড়া সবাই মারা পড়ে।
৫) বাতনু ইদামের সারিয়াহ
এই অভিযান প্রেরিত হয়েছিল ইদামে, নেতৃত্বে ছিলেন আবু হাদরাদ অথবা আবু কাতাদা। এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অভিযানে অংশ নেওয়া মুহাল্লিম ইবন জাসসামার কাহিনী। অভিযান চলাকালীন সময়ে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আমর ইবন ইদবাত আশযায়ী। তিনি ছিলেন একজন মুসলিম। মুসলিম হিসেবে তিনি সেই বাহিনীকে সালাম দেন। বলেন, 'আসসালামু আলাইকুম।' সেই সুযোগে মুহাল্লিম ইবন জাসসামা তাকে সেখানেই খুন করে ফেলে। জাহিলিয়াতের সময় মুহাল্লিমের সাথে সেই লোকের কোনোকিছু নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। তার জের ধরে মুহাল্লিম তাকে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও হত্যা করে।
এই ঘটনার পরে হুনাইনের সময়ে গাতফানের নেতা উয়াইনা ইবন হিসন রাসূলুল্লাহর কাছে এসে এই হত্যার প্রতিশোধস্বরূপ রক্তের বদলে রক্ত দাবি করলো। আর মুহাল্লিমের পক্ষের লোকেরা রক্তপণ দিতে অস্বীকার করলো। ফিতনা এড়ানোর জন্য আল্লাহর রাসূল তাদেরকে রক্তপণ হিসেবে একশোটি উট দিতে চাইলেন। উয়াইনা তখন বললো, 'আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি তাকে ছাড়বো না, যতক্ষণ না তার পরিবার সেই কষ্ট পাবে, যে কষ্ট আমার পরিবার পেয়েছে।' রাসূলুল্লাহ দ্বিতীয়বারের মতো রক্তপণ নিতে প্রস্তাব করলেন। শেষপর্যন্ত তারা রাজি হলো এবং রক্তপণ গ্রহণ করলো।
মুহাল্লিমের লোকেরা মুহাল্লিমকে বললো, 'তুমি রাসূলুল্লাহর কাছে যাও এবং তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলো। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও।' লম্বা সুঠামদেহী মুহাল্লিম আল্লাহর রাসূলের কাছে আসলো। পরনে ছিল মৃত্যুর পোশাক। বললো, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি মুহাল্লিম, আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।' রাসূলুল্লাহ বললেন, 'হে আল্লাহ! আপনি মুহাল্লিমকে ক্ষমা করবেন না।' মুহাল্লিম চোখ মুছতে মুছতে চলে গেল।
এই ঘটনার পর মুহাল্লিম আর এক মাস বেঁচে ছিল। তাকে দাফন করা হয়, কিন্তু কবরের মাটি তাকে গ্রহণ করেনি। তাকে ছুঁড়ে ফেলে, বারবার। এরপর তার লাশ দুই পাহাড়ের মাঝে পাথরচাপা দিয়ে দাফন করা হয়। এই ঘটনা শুনে আল্লাহর রাসূল মন্তব্য করেন, 'আল্লাহর কসম! মুহাল্লিমের চাইতে নিকৃষ্ট লোককেও মাটি গ্রহণ করে নেয়। কিন্তু আল্লাহ এই ঘটনার মাধ্যমে তোমাদের পারস্পরিক জানমালের নিষিদ্ধতার ব্যাপারে সতর্ক করতে চেয়েছেন।' মুসলিমের রক্তের পবিত্রতার বিষয়ে এই ঘটনা আরেকটি শিক্ষা।
৬) আবদুল্লাহ ইবন হুযাফা আস-সাহমীর সারিয়ার কাহিনী
এই সারিয়াহর নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন হুযাফা। অভিযান চলাকালীন সময়ে তার অধীনস্থ সৈনিকরা এমন কিছু একটা করে বসে যে কারণে তিনি খুব রেগে যান। রেগে গিয়ে তাদের বলেন, 'তোমরা আগুনে ঝাঁপ দাও।' সৈনিকরা উত্তর দিল, 'এই আগুন থেকে রক্ষা পেতেই তো আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি!' তখন আবদুল্লাহ ইবন হুযাফা বললেন, 'আমি হচ্ছি আমীর এবং আমীরকে মান্য করা ওয়াজিব!' সৈনিকরা তবুও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলো। পরে তার রাগ পড়ে গেল, আগুনও নিভে গেল। তারা ফিরে এলেন। এ ঘটনা শুনে রাসূলুল্লাহ মন্তব্য করলেন, 'যদি তারা তাদের আমীরের কথামতো আগুনে ঝাঁপ দিতো, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত সেই আগুনেই থেকে যেত। আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো আনুগত্য চলে না। আনুগত্য কেবল ভালো কাজে।'
টিকাঃ
৯৩. সহীহ মুসলিম, অধ্যায় জিহাদ, হাদীস ৫৪।
৯৪. সহীহ মুসলিম, অধ্যায় ঈমান, হাদীস ১৮৩।
৯৫. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৮।
৯৬. ইবন মাজাহ, অধ্যায় রক্তপণ, হাদীস ২৭২৬ (আরবি রেফারেন্স)।
৯৭. সুনান আবু দাউদ, অধ্যায় রক্তপণ, হাদীস ৪৫০৩ (আরবি রেফারেন্স)।
৯৮. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৭।
১) বনু ফাজারার বিরুদ্ধে সারিয়া
এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন আবু বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু। মুসলিমদের আক্রমণের মুখে তারা তাদের নারী-শিশু সহ পাহাড়ের দিকে পালাতে থাকে। তাদের পিছু নেন সালামাহ ইবন আল-আকওয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু, তিনি তাদের পালাবার পথে এমনভাবে তীর ছুঁড়তে থাকেন যে তারা থামতে বাধ্য হয়। এরপর তিনি তাদের বন্দী করে আবু বকরের কাছে নিয়ে আসেন। বন্দীদের মধ্যে একজন নারীকে সালামাহর খুব পছন্দ হয়ে যায়। তিনি তাকে দাসী হিসেবে রাখতে চাইলেন। আবু বকর সেই সুন্দরী নারীকে দাসী হিসেবে সালামাহকে দিয়ে দিলেন। কিন্তু এরপর আল্লাহর রাসূল সালামাহকে বলেন যেন তিনি এই নারীকে ফিরিয়ে দেন। সালামাহ কিছুটা অনিচ্ছার সাথে সেই নারীকে আল্লাহর রাসূলের হাতে ফিরিয়ে দেন। আল্লাহর রাসূল তখন সেই নারীকে কুরাইশদের কাছে পাঠিয়ে দেন যেন তার বিনিময়ে কুরাইশদের হাত থেকে কিছু বন্দী মুসলিমদের ছাড়িয়ে আনা যায়।
এই সারিয়া থেকে শিক্ষা হলো মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করার গুরুত্ব। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'বন্দীকে মুক্ত করো।' মুসলিম বন্দীদের কাফিরদের হাত থেকে মুক্ত করা একটি ওয়াজিব দায়িত্ব। এই ঘটনায় আমরা দেখি একজন নারীকে একজন সাহাবির পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল তাকে ফিরিয়ে নিয়ে কুরাইশদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন যেন তার বিনিময়ে কিছু মুসলিমদের ছাড়িয়ে আনা যায়。
২) গালিব ইবন আবদুল্লাহর সারিয়া
ত্রিশ জন মুসলিমকে পাঠানো হয় বনু মুলাউয়ি গোত্রের বিরুদ্ধে। এরা ছিল গাতফানের একটি গোত্র। অভিযান করতে গিয়ে তারা শত্রুদের প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে পড়েন এবং তাদের প্রায় সবাই শহীদ হয়ে যান। অভিযানের নেতা বাশির ইবন সাদ আহত হন, জান নিয়ে কোনোরকমে মদীনায় ফেরত আসেন। এই আক্রমণের জবাব দিতে আল্লাহর রাসূল আরেকটি সারিয়া প্রেরণ করেন। এই সারিয়ার কমান্ডার ছিলেন গালিব ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। যাত্রাপথে বনু মুলাউয়ির এক লোককে গুপ্তচর মনে করে গ্রেপ্তার করেন। লোকটির নাম হারিস ইবন মালিক। সে বললো, 'আমাকে তোমরা কেন গ্রেপ্তার করলে? আমি তো মুসলিম হতে এসেছি।' গালিব তাকে বললেন, 'তুমি যদি সত্য বলে থাকো, তাহলে একদিন একরাত বন্দী হয়ে থাকলে এমন কিছু যায় আসে না।' গালিব তাকে একদিনের জন্য বন্দী রাখতে চাচ্ছিলেন কারণ সে যদি গুপ্তচর হয়ে থাকে তাহলে সে শত্রুদের কাছে মুসলিম বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে। সমস্যা হচ্ছে লোকটি দাবি করেছে সে মুসলিম হতে চেয়েছে আর একজন মুসলিমকে বন্দী করে রাখা যায় না। কিন্তু এখানে পরিস্থিতি এমন ছিল যে তাকে একদিনের জন্য বন্দী না রাখলে পুরো বাহিনীই বিপদের মুখে পড়তে পারে।
যা-ই হোক, শত্রুপক্ষের উপর নজরদারি করার জন্য জুনদুব ইবন মাকিস একটা পাহাড়ে ওঠেন। পাহাড়ে উঠে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়লেন যেন শত্রুরা তাকে দেখতে না পায়। কিন্তু তবুও কীভাবে কীভাবে যেন শত্রুপক্ষের একজন তাকে দেখে ফেলে, তাকে লক্ষ্য করে একটা তীর ছুঁড়ে মারে। সেই তীর এসে জুনদুবের শরীরে বিদ্ধ হয়। প্রচণ্ড ব্যথায় তার শরীর যেন বিষিয়ে উঠলো। কিন্তু তার প্রতিক্রিয়ার উপর পুরো বাহিনীর নিরাপত্তা নির্ভর করছে। টু শব্দটি করলেও মুসলিমদের অবস্থান শত্রুদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। সমস্ত প্রস্তুতি আর পরিকল্পনা মাঠে মারা যাবে।
জুনদুব সেই ভয়ঙ্কর ব্যথা দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিলেন। শত্রুরা যেন তার উপস্থিতি টের না পায়, তার জন্য যেন মুসলিমদের অভিযান ভণ্ডুল না হয়ে যায়। এরপর আস্তে করে তীরটি খুলে ফেলেন। এই কঠিন মুহূর্তে কীভাবে একটা মানুষ এতটা সবর করতে পারে? যন্ত্রণায় নীল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা, তবু জুনদুব নিজের শরীরকে স্থির ধরে রেখেছেন। এই অধ্যবসায়, এই ধৈর্য কোথা থেকে এল? এটা ছিল তাদের ঈমানের ফল। আল্লাহর ওপর তাদের বিশ্বাস কতটা জোরালো ছিল আর জিহাদের ব্যাপারে তারা কতটা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন -- এই ঘটনা তার একটি চমৎকার উদাহরণ।
এরপর আরও একটি তীর জুনদুবের গায়ে বিঁধে। এবারো তিনি নড়াচড়া না করে তীরটি আস্তে করে খুলে ফেলেন। কোনোকিছুর নড়াচড়া না দেখে সেই তীর নিক্ষেপকারী লোকটি চলে যায়। সে ভাবলো কেউ বুঝি নেই। পরবর্তীতে মুসলিম বাহিনী শত্রুপক্ষের উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে কিছু লোককে হত্যা করে তাদের উট এবং অন্য সম্পদ দখল করে নেন। শত্রুরাও তাদের বিরাট বাহিনী নিয়ে মুসলিমদের ধাওয়া করা শুরু করে। এই পর্যায়ে তাদের মোকাবেলা করার মতো অবস্থা মুসলিম বাহিনীর ছিল না। তারা পিছু হটতে থাকেন। তখন আল্লাহ তাআলা সেই স্থানে বৃষ্টিবর্ষণ করে প্লাবন ঘটান যার মাধ্যমে মুসলিম বাহিনী নিরাপদে ফিরে আসে।
গালিব ইবন আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন আরেকটি সারিয়া ছিল বনু আউয়াল এবং বনু আবদ ইবন সালাবার উদ্দেশ্যে। এই অভিযানে উসামা ইবন যাইদের একটি বিখ্যাত ঘটনা আছে। তিনি এই অভিযানে এক লোককে গ্রেপ্তার করেন। সে তখন বলে উঠে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।' কিন্তু উসামা তাকে হত্যা করে ফেলেন। তার যুক্তি ছিল নিশ্চয়ই লোকটা জান বাঁচানোর জন্য কালিমা পড়েছে। আল্লাহর রাসূল এই ঘটনা শুনে প্রচণ্ড অসন্তোষ প্রকাশ করেন। উসামাকে বললেন, 'তুমি কি লোকটার বুক চিরে দেখেছো সে সত্যি বলছে না মিথ্যা? লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছো?'
এই ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, বাহ্যিক অবস্থার উপর একজন মানুষকে বিচার করতে হবে। এই কারণে রাসূলুল্লাহ বলছিলেন, তুমি কি তার বুক চিরে দেখেছো যে সত্যি বলছে নাকি মিথ্যা? একজন মানুষ যদি নিজেকে মুসলিম দাবি করে, তখন তাকে ঈমানদার ধরতে হবে, নিছক সন্দেহের কারণে তাকে কাফির ভাবা যাবে না। তবে ঈমান আনার দাবি করার পরেও যদি তার কাছ থেকে স্পষ্ট কুফরি প্রকাশ পায়, সেক্ষেত্রে প্রকাশ্য কুফরির দিকটাই নিতে হবে। অন্তর ফেঁড়ে দেখা আমাদের দায়িত্ব নয়।
দ্বিতীয় শিক্ষা হলো মুসলিম রক্তের পবিত্রতা। বিনা কারণে একজন মুসলিমকে হত্যা করা ভয়াবহ একটি পাপ। আল্লাহর রাসূলের প্রতিক্রিয়া দেখেই বোঝা যায় এটা মারাত্মক পর্যায়ের গুনাহ। একজন মুসলিমের রক্ত পবিত্র, এবং হাদীসে এসেছে কাবাঘর থেকেও মুসলিমদের রক্ত দামি।
৩) আবু হাদরাদের সারিয়াহ
আবু হাদরাদ দুইশো দিরহাম মোহরের বিনিময়ে এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন কিন্তু মোহর আদায় করার সামর্থ্য তার ছিল না। তখন তিনি রাসূলুল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে আসলেন। এত মোটা অংকের মোহর রাসূলুল্লাহর পছন্দ হলো না। তিনি বললেন, 'সুবহানআল্লাহ! টাকা যদি স্রোতের মতো ভেসে আসতো তবুও তো এত মোহর ধরা ঠিক হতো না। তোমাকে সাহায্য করার মতো কিছুই আমার কাছে নেই।'
যাই হোক, রাসূলুল্লাহ আবু হাদরাদ সহ আরও দুজনকে পাঠালেন কায়েস নামের এক লোককে শায়েস্তা করার জন্য। সে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য লোক সংগ্রহ করছিল। এই অভিযানে দেওয়ার মতো রাসূলুল্লাহর হাতে ছিল একটি দুবলা পাতলা উট। সেই উটকে সম্বল করে তারা তিনজন বের হলেন। তারা সেই লোককে হত্যা করতে সমর্থ হন। এরপর আল্লাহর রাসূল আবু হাদরাদকে তেরোটি উট দেন। এই উট দিয়ে তিনি মোহর পরিশোধ করেন।
৪) আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহার সারিয়াহ
ইয়াসির ইবন রাজাম নামের এক ইহুদি গাতফানের লোকদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এক করার চেষ্টা করছিল। তার কাছে ত্রিশ সৈনিক সহ আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহাকে পাঠানো হয়। তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, তাকে খাইবারের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। তখন ইয়াসির তার ত্রিশ সঙ্গীসহ মদীনায় যেতে রাজি হয়। কিন্তু পথিমধ্যে সে তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস করতে থাকে। তখন সে আবদুল্লাহ ইবন উনাইসকে হত্যা করার চেষ্টা করে। আবদুল্লাহ ইবন উনাইস আহত হন কিন্তু নিজেকে সামলে নেন। দুই দলের মধ্যে মারামারি শুরু হয় এবং ইহুদিদের একজন ছাড়া সবাই মারা পড়ে।
৫) বাতনু ইদামের সারিয়াহ
এই অভিযান প্রেরিত হয়েছিল ইদামে, নেতৃত্বে ছিলেন আবু হাদরাদ অথবা আবু কাতাদা। এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অভিযানে অংশ নেওয়া মুহাল্লিম ইবন জাসসামার কাহিনী। অভিযান চলাকালীন সময়ে পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আমর ইবন ইদবাত আশযায়ী। তিনি ছিলেন একজন মুসলিম। মুসলিম হিসেবে তিনি সেই বাহিনীকে সালাম দেন। বলেন, 'আসসালামু আলাইকুম।' সেই সুযোগে মুহাল্লিম ইবন জাসসামা তাকে সেখানেই খুন করে ফেলে। জাহিলিয়াতের সময় মুহাল্লিমের সাথে সেই লোকের কোনোকিছু নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। তার জের ধরে মুহাল্লিম তাকে মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও হত্যা করে।
এই ঘটনার পরে হুনাইনের সময়ে গাতফানের নেতা উয়াইনা ইবন হিসন রাসূলুল্লাহর কাছে এসে এই হত্যার প্রতিশোধস্বরূপ রক্তের বদলে রক্ত দাবি করলো। আর মুহাল্লিমের পক্ষের লোকেরা রক্তপণ দিতে অস্বীকার করলো। ফিতনা এড়ানোর জন্য আল্লাহর রাসূল তাদেরকে রক্তপণ হিসেবে একশোটি উট দিতে চাইলেন। উয়াইনা তখন বললো, 'আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি তাকে ছাড়বো না, যতক্ষণ না তার পরিবার সেই কষ্ট পাবে, যে কষ্ট আমার পরিবার পেয়েছে।' রাসূলুল্লাহ দ্বিতীয়বারের মতো রক্তপণ নিতে প্রস্তাব করলেন। শেষপর্যন্ত তারা রাজি হলো এবং রক্তপণ গ্রহণ করলো।
মুহাল্লিমের লোকেরা মুহাল্লিমকে বললো, 'তুমি রাসূলুল্লাহর কাছে যাও এবং তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলো। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও।' লম্বা সুঠামদেহী মুহাল্লিম আল্লাহর রাসূলের কাছে আসলো। পরনে ছিল মৃত্যুর পোশাক। বললো, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি মুহাল্লিম, আল্লাহর কাছে আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।' রাসূলুল্লাহ বললেন, 'হে আল্লাহ! আপনি মুহাল্লিমকে ক্ষমা করবেন না।' মুহাল্লিম চোখ মুছতে মুছতে চলে গেল।
এই ঘটনার পর মুহাল্লিম আর এক মাস বেঁচে ছিল। তাকে দাফন করা হয়, কিন্তু কবরের মাটি তাকে গ্রহণ করেনি। তাকে ছুঁড়ে ফেলে, বারবার। এরপর তার লাশ দুই পাহাড়ের মাঝে পাথরচাপা দিয়ে দাফন করা হয়। এই ঘটনা শুনে আল্লাহর রাসূল মন্তব্য করেন, 'আল্লাহর কসম! মুহাল্লিমের চাইতে নিকৃষ্ট লোককেও মাটি গ্রহণ করে নেয়। কিন্তু আল্লাহ এই ঘটনার মাধ্যমে তোমাদের পারস্পরিক জানমালের নিষিদ্ধতার ব্যাপারে সতর্ক করতে চেয়েছেন।' মুসলিমের রক্তের পবিত্রতার বিষয়ে এই ঘটনা আরেকটি শিক্ষা।
৬) আবদুল্লাহ ইবন হুযাফা আস-সাহমীর সারিয়ার কাহিনী
এই সারিয়াহর নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন হুযাফা। অভিযান চলাকালীন সময়ে তার অধীনস্থ সৈনিকরা এমন কিছু একটা করে বসে যে কারণে তিনি খুব রেগে যান। রেগে গিয়ে তাদের বলেন, 'তোমরা আগুনে ঝাঁপ দাও।' সৈনিকরা উত্তর দিল, 'এই আগুন থেকে রক্ষা পেতেই তো আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি!' তখন আবদুল্লাহ ইবন হুযাফা বললেন, 'আমি হচ্ছি আমীর এবং আমীরকে মান্য করা ওয়াজিব!' সৈনিকরা তবুও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলো। পরে তার রাগ পড়ে গেল, আগুনও নিভে গেল। তারা ফিরে এলেন। এ ঘটনা শুনে রাসূলুল্লাহ মন্তব্য করলেন, 'যদি তারা তাদের আমীরের কথামতো আগুনে ঝাঁপ দিতো, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত সেই আগুনেই থেকে যেত। আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো আনুগত্য চলে না। আনুগত্য কেবল ভালো কাজে।'
টিকাঃ
৯৩. সহীহ মুসলিম, অধ্যায় জিহাদ, হাদীস ৫৪।
৯৪. সহীহ মুসলিম, অধ্যায় ঈমান, হাদীস ১৮৩।
৯৫. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮৮।
৯৬. ইবন মাজাহ, অধ্যায় রক্তপণ, হাদীস ২৭২৬ (আরবি রেফারেন্স)।
৯৭. সুনান আবু দাউদ, অধ্যায় রক্তপণ, হাদীস ৪৫০৩ (আরবি রেফারেন্স)।
৯৮. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৭।