📄 বিবিধ শিক্ষা
১) ইসলামে বস্তুগত প্রতীকের কোনো স্থান নেই
উমারের খিলাফতের সময়ে একটি ঘটনা ঘটে। যে গাছের নিচে রাসূলুল্লাহ বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন, কিছু মুসলিম সে গাছের নিচে গিয়ে সালাত আদায় করা শুরু করে। তারা ভাবছিল, যেহেতু এই গাছের নিচে এতবড় একটা ঘটনা ঘটেছে আর কুরআনেও এই গাছের কথা উল্লেখ করা হয়েছে-- তার মানে এই গাছটি বিশেষ কিছু। মুসলিমদের এই কাজ করতে দেখে উমার ইবন খাত্তাব সোজা গাছটি কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। এই গাছের নিচে ইবাদত করা এক সময় শিরকে পরিণত হতে পারে, মানুষ হয়তো গাছটিকে 'কল্যাণকর' কিছু ভেবে বসতে পারে -- এই আশঙ্কায় উমার গাছটি কেটে ফেলেন। রাসূলুল্লাহ এ গাছের নিচে বসেছেন। কুরআনে এর কথা উল্লেখ হয়েছে সত্য, কিন্তু ইসলামে বস্তুগত প্রতীকের কোনো স্থান নেই।
২) শত্রুদের সাথে চুক্তির সময়কাল
যেহেতু আল্লাহর রাসূল শত্রুদের সাথে দশ বছরের শান্তিচুক্তি করেছেন, সে হিসেবে ইমাম শাফী, ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য আলিমরা মত দিয়েছেন শত্রুরাষ্ট্রের সাথে সর্বোচ্চ দশ বছরের চুক্তি করা জায়েয, এর বেশি নয়। দশ বছরের পর চুক্তি নবায়ন করা যেতে পারে। ইমাম আবু হানিফা এবং অন্য কিছু আলিম মনে করেন, পরিস্থিতি প্রেক্ষিতে দশ বছরের বেশি সময়ের জন্যেও চুক্তি করা যেতে পারে। তবে আগেকার আলিমদের সবাই একমত যে শত্রুরাষ্ট্রের সাথে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা চিরস্থায়ী চুক্তি করা জায়েয নয়।