📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 অন্যান্য কিছু অভিযান

📄 অন্যান্য কিছু অভিযান


ষষ্ঠ হিজরী মুসলিমদের জন্য ব্যস্ত একটি বছর ছিল। বড় কোনো যুদ্ধ সংঘটিত না হলেও পুরো সময় ধরে অনেকগুলো আক্রমণাত্মক অভিযানে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। এরকম আরও কিছু অভিযান সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।

১) রবিউল আউয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ উকাশাহ ইবন মিহসানের নেতৃত্বে চল্লিশ জনের একটি দলকে পাঠান বনু আসাদ গোত্রকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে। তারা বনু আসাদের এলাকায় যান। তাদের পানির কুয়া 'আল-গামর' দখল করে নেন এবং সেখানেই তাঁবু গাড়েন। শত্রুরা সবকিছু রেখে পালিয়ে যায়। তাদের রেখে যাওয়া দু'শোর মতো উট গনিমাহ হিসেবে নিয়ে উকাশাহ ফিরে আসেন।

২) মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার নেতৃত্বে দশ সদস্যের একটি বাহিনী পাঠানো হয় যিল-কিসসায়। উদ্দেশ্য ছিল বনু সালাবা এবং উওয়্যাল গোত্রকে ভয় দেখানো যেন গোত্র দুটি মুসলিমদের ভূমিতে অতর্কিত আক্রমণ করতে সাহস না পায়। তাদের লক্ষ্যস্থল ছিল মদীনা থেকে মাত্র চব্বিশ মাইল দূরে। রাতের বেলা সেখানে পৌঁছলে একশোর মতো লোক তাদের ঘিরে ধরে। তারা শত্রুদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। দশ জনের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ ছাড়া প্রত্যেকে শহীদ হয়ে যান। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ আহত অবস্থায় মদীনায় ফিরে আসেন। রাসূলুল্লাহ তখন সাথে সাথে আবু উবায়দার নেতৃত্বে চল্লিশ সদস্যের একটি বাহিনী পাঠান। তাদের আগমন আঁচ করতে পেরে শত্রুরা পলায়ন করে। তাদের কিছু সম্পদ আর একজন লোককে বন্দী করে মদীনায় নিয়ে আসা হয়।

৩) যায়িদ ইবন হারিসাকে পাঠানো হয় আল-ঈসে। জায়গাটি ছিল মদীনা থেকে চার রাতের দূরত্বে। মক্কার একটি কাফেলাকে আক্রমণ করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল। তারা কাফেলা আটক করেন, কাফেলার সম্পদ জব্দ করেন এবং কিছু লোককে বন্দী করেন। বন্দীদের মধ্যে একজন ছিলেন রাসূলুল্লাহর কন্যা যাইনাবের স্বামী আবুল-আস।

৪) একই বছরে আলী ইবন আবি তালিবকে পাঠানো হয় বনু সাদ ইবন বকরের বিরুদ্ধে একটি অভিযানে। গোত্রটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে খাইবারের ইহুদিদের সাহায্য করার পরিকল্পনা করছিল। আলীর বাহিনীর সাথে যুদ্ধ না করে গোত্রটি সেখান থেকে সরে পড়ে। একজন লোক বন্দী হয়। তার থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

অভিযানগুলো থেকে দুটো বিষয় লক্ষণীয়,

প্রথমত, চারপাশের কোথায় কী ঘটছে সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সজাগ ছিলেন। মুসলিমরা যুদ্ধের ময়দানেই কেবল শক্তিশালী ছিলেন না, বরং গোয়েন্দাগিরিতেও তারা ছিলেন সমান পারদর্শী। নজরদারি (Surveillance) এবং তথ্য সংগ্রহ (Intelligence) দুটো কাজে তাঁর গোয়েন্দা বাহিনী সবসময়ই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে এসেছে। রাসূলুল্লাহকে কখনই শত্রুরা চমকে দিতে পারেনি, বরং তিনিই সবসময় তাদেরকে চমকে দিতেন।

দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহর যুদ্ধ কেবল কুরাইশদের বিরুদ্ধে সীমিত ছিল না। বরং যে বা যারা মুসলিমদের প্রকাশ্য শত্রুদের গোপনে বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে আসছিল, রাসূলুল্লাহ তাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছেন এবং অভিযান পরিচালনা করেছেন। যদি শুরু থেকেই তাদেরকে প্রতিহত করা না হতো, তাহলে অনেকেই মদীনার বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবার সাহস দেখাতে শুরু করতো। রাষ্ট্রপরিচালনার কাজটি সবসময়ই জটিল। কিতাবি জ্ঞান এই কাজের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং আরও প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তি এবং তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ধারণা।

ষষ্ঠ হিজরী মুসলিমদের জন্য ব্যস্ত একটি বছর ছিল। বড় কোনো যুদ্ধ সংঘটিত না হলেও পুরো সময় ধরে অনেকগুলো আক্রমণাত্মক অভিযানে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়। এরকম আরও কিছু অভিযান সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।

১) রবিউল আউয়াল মাসে রাসূলুল্লাহ উকাশাহ ইবন মিহসানের নেতৃত্বে চল্লিশ জনের একটি দলকে পাঠান বনু আসাদ গোত্রকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে। তারা বনু আসাদের এলাকায় যান। তাদের পানির কুয়া 'আল-গামর' দখল করে নেন এবং সেখানেই তাঁবু গাড়েন। শত্রুরা সবকিছু রেখে পালিয়ে যায়। তাদের রেখে যাওয়া দু'শোর মতো উট গনিমাহ হিসেবে নিয়ে উকাশাহ ফিরে আসেন।

২) মুহাম্মাদ ইবন মাসলামার নেতৃত্বে দশ সদস্যের একটি বাহিনী পাঠানো হয় যিল-কিসসায়। উদ্দেশ্য ছিল বনু সালাবা এবং উওয়্যাল গোত্রকে ভয় দেখানো যেন গোত্র দুটি মুসলিমদের ভূমিতে অতর্কিত আক্রমণ করতে সাহস না পায়। তাদের লক্ষ্যস্থল ছিল মদীনা থেকে মাত্র চব্বিশ মাইল দূরে। রাতের বেলা সেখানে পৌঁছলে একশোর মতো লোক তাদের ঘিরে ধরে। তারা শত্রুদের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। দশ জনের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ ছাড়া প্রত্যেকে শহীদ হয়ে যান। মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ আহত অবস্থায় মদীনায় ফিরে আসেন। রাসূলুল্লাহ তখন সাথে সাথে আবু উবায়দার নেতৃত্বে চল্লিশ সদস্যের একটি বাহিনী পাঠান। তাদের আগমন আঁচ করতে পেরে শত্রুরা পলায়ন করে। তাদের কিছু সম্পদ আর একজন লোককে বন্দী করে মদীনায় নিয়ে আসা হয়।

৩) যায়িদ ইবন হারিসাকে পাঠানো হয় আল-ঈসে। জায়গাটি ছিল মদীনা থেকে চার রাতের দূরত্বে। মক্কার একটি কাফেলাকে আক্রমণ করা ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছিল। তারা কাফেলা আটক করেন, কাফেলার সম্পদ জব্দ করেন এবং কিছু লোককে বন্দী করেন। বন্দীদের মধ্যে একজন ছিলেন রাসূলুল্লাহর কন্যা যাইনাবের স্বামী আবুল-আস।

৪) একই বছরে আলী ইবন আবি তালিবকে পাঠানো হয় বনু সাদ ইবন বকরের বিরুদ্ধে একটি অভিযানে। গোত্রটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে খাইবারের ইহুদিদের সাহায্য করার পরিকল্পনা করছিল। আলীর বাহিনীর সাথে যুদ্ধ না করে গোত্রটি সেখান থেকে সরে পড়ে। একজন লোক বন্দী হয়। তার থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

অভিযানগুলো থেকে দুটো বিষয় লক্ষণীয়,

প্রথমত, চারপাশের কোথায় কী ঘটছে সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সজাগ ছিলেন। মুসলিমরা যুদ্ধের ময়দানেই কেবল শক্তিশালী ছিলেন না, বরং গোয়েন্দাগিরিতেও তারা ছিলেন সমান পারদর্শী। নজরদারি (Surveillance) এবং তথ্য সংগ্রহ (Intelligence) দুটো কাজে তাঁর গোয়েন্দা বাহিনী সবসময়ই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে এসেছে। রাসূলুল্লাহকে কখনই শত্রুরা চমকে দিতে পারেনি, বরং তিনিই সবসময় তাদেরকে চমকে দিতেন।

দ্বিতীয়ত, রাসূলুল্লাহর যুদ্ধ কেবল কুরাইশদের বিরুদ্ধে সীমিত ছিল না। বরং যে বা যারা মুসলিমদের প্রকাশ্য শত্রুদের গোপনে বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে আসছিল, রাসূলুল্লাহ তাদের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছেন এবং অভিযান পরিচালনা করেছেন। যদি শুরু থেকেই তাদেরকে প্রতিহত করা না হতো, তাহলে অনেকেই মদীনার বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবার সাহস দেখাতে শুরু করতো। রাষ্ট্রপরিচালনার কাজটি সবসময়ই জটিল। কিতাবি জ্ঞান এই কাজের জন্য যথেষ্ট নয়, বরং আরও প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তি এবং তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ধারণা।

ফন্ট সাইজ
15px
17px