📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 একটি সামাজিক কু-প্রথার পরিসমাপ্তি

📄 একটি সামাজিক কু-প্রথার পরিসমাপ্তি


যাইদ এবং যাইনাবের সংসারে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন আল্লাহর রাসূল জানতেন তাদের এই সংসার টিকবে না এবং শেষ পর্যন্ত যাইনাবের সাথে তাঁর বিয়ে হবে -- আল্লাহ তাঁকে বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেন। কিন্তু তবু তিনি যাইদকে যাইনাবের সাথে সংসার চালিয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন। নিকট ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে সেটা ভেবে রাসূলুল্লাহ বেশ অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠবে। সমাজের লোক ছি ছি করবে। কারণ সেই সময়ে পালকপুত্রের স্ত্রী বিয়ে করা ছিল সমাজের দৃষ্টিতে খুব বাজে একটি বিষয়। কেমন ছিল তখন আল্লাহর রাসূলের মানসিক অবস্থা? আল্লাহ বলছেন,

“আর স্মরণ করো! যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন ও যার প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাকে আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো, আর আল্লাহকে ভয় করো। (কিন্তু এ পর্যায়ে) আপনার মনের ভেতরে যে কথা আপনি লুকিয়ে রেখেছিলেন আল্লাহ তাআলা তা প্রকাশ করে দিলেন। (আসলে আপনার পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করার ব্যাপারে) আপনি মানুষদের (কথাকেই) ভয় করছিলেন, অথচ (আপনি জানেন) আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন ভয় পাওয়ার বেশি হকদার।” (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ৩৭)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমাজের এই অর্থহীন প্রথাকে ভেঙে দিতে চাইলেন। এই প্রথা মুখে আদেশ দিয়েও ভাঙা যেত, কিন্তু আল্লাহ চাইলেন কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এই প্রথাকে ভেঙে দিতে। আর তাই তাঁর রাসূলকে বিয়ে দিলেন যাইনাবের সাথে। মুখে বলা আর করে দেখানো কখনোই এক নয়। কোনো কথা বলার চেয়ে করে দেখালে নিশ্চিতভাবেই সেটা অনেক বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে। আল্লাহ সেটাই ফয়সালা করেন, আল্লাহর রাসূলের সাথে যাইনাবের বিয়ে দিয়ে দেন।

যাইদ এবং যাইনাবের সংসারে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন আল্লাহর রাসূল জানতেন তাদের এই সংসার টিকবে না এবং শেষ পর্যন্ত যাইনাবের সাথে তাঁর বিয়ে হবে -- আল্লাহ তাঁকে বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেন। কিন্তু তবু তিনি যাইদকে যাইনাবের সাথে সংসার চালিয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন। নিকট ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে সেটা ভেবে রাসূলুল্লাহ বেশ অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠবে। সমাজের লোক ছি ছি করবে। কারণ সেই সময়ে পালকপুত্রের স্ত্রী বিয়ে করা ছিল সমাজের দৃষ্টিতে খুব বাজে একটি বিষয়। কেমন ছিল তখন আল্লাহর রাসূলের মানসিক অবস্থা? আল্লাহ বলছেন,

“আর স্মরণ করো! যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন ও যার প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাকে আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো, আর আল্লাহকে ভয় করো। (কিন্তু এ পর্যায়ে) আপনার মনের ভেতরে যে কথা আপনি লুকিয়ে রেখেছিলেন আল্লাহ তাআলা তা প্রকাশ করে দিলেন। (আসলে আপনার পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করার ব্যাপারে) আপনি মানুষদের (কথাকেই) ভয় করছিলেন, অথচ (আপনি জানেন) আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন ভয় পাওয়ার বেশি হকদার।” (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ৩৭)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমাজের এই অর্থহীন প্রথাকে ভেঙে দিতে চাইলেন। এই প্রথা মুখে আদেশ দিয়েও ভাঙা যেত, কিন্তু আল্লাহ চাইলেন কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এই প্রথাকে ভেঙে দিতে। আর তাই তাঁর রাসূলকে বিয়ে দিলেন যাইনাবের সাথে। মুখে বলা আর করে দেখানো কখনোই এক নয়। কোনো কথা বলার চেয়ে করে দেখালে নিশ্চিতভাবেই সেটা অনেক বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে। আল্লাহ সেটাই ফয়সালা করেন, আল্লাহর রাসূলের সাথে যাইনাবের বিয়ে দিয়ে দেন।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 যাইনাবের সাথে রাসূলুল্লাহর ﷽ বিয়ে নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীদের অপপ্রচার

📄 যাইনাবের সাথে রাসূলুল্লাহর ﷽ বিয়ে নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীদের অপপ্রচার


কাফিররা রাসূলুল্লাহর যে দুটো বিয়ে নিয়ে সবচাইতে বেশি আক্রমণ করে তার একটি হলো আইশার সাথে বিয়ে, আরেকটি হলো যাইনাবের সাথে বিয়ে। মজার বিষয় এ দুটো বিয়েই সরাসরি আল্লাহর নির্দেশে হয়েছে।

১) ইসলামবিদ্বেষীরা বলে থাকে যাইদের বিয়ের পর আল্লাহর রাসূল যাইনাবের প্রেমে পড়েছিলেন। তাই যাইদকে তিনি তালাক দিতে বলেছেন যেন যাইনাবকে বিয়ে করতে পারেন। এর জবাব হলো, আল্লাহর রাসূল অনেক আগে থেকেই যাইনাবকে চিনতেন। তখনো হিজাবের আয়াত নাযিল হয়নি, তিনি যাইনাবকে আগেই দেখেছেন। বিয়ে করতে চাইলে তিনি আগেই যাইনাবকে বিয়ে করতে পারতেন। আর রাসূলুল্লাহ নিজেই চেয়েছেন যাইদের সাথে যাইনাবের বিয়ে হোক। তাদের সংসারে যখন বনিবনা হচ্ছিল না, তখনো আল্লাহর রাসূল যাইদকে বারবার বলেছেন যেন তিনি সংসার করার চেষ্টা চালিয়ে যান।

২) ইসলাম বিদ্বেষীদের একটি বড় অপপ্রচার হলো আল্লাহর রাসূল নিজে কুরআন রচনা করেছেন। এই অপবাদ নিয়ে আলোচনার বিশাল জায়গা রয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে শুধু একটা বিষয়ের অবতারণা করা হলো: আল্লাহর রাসূল ﷺ ওয়াহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে, যাইনাবের সাথে তাঁর বিয়ে হবে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে তিনি কাউকে কিছুই বলতে পারেননি, বরং যাইদকে তালাক না দিতেই উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই বিষয়টির নিন্দা করেছেন।

"আর তুমি মানুষকে ভয় করেছিলে, অথচ আল্লাহরই বেশি অধিকার যে তুমি তাঁকেই ভয় করবে।"

সমাজের মানুষ কী বলবে এটা ভেবে আল্লাহর রাসূল ﷺ ভয় পাচ্ছিলেন-- আর এজন্য আল্লাহ তাঁকে নিন্দা করেন। যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ নিজে কুরআন লিখতেন, তাহলে তিনি নিজের লেখা কিতাবে নিজের নিন্দা বা সমালোচনা করতেন না। কারণ একজন মানুষ কখনোই প্রকাশ্যে লজ্জায় বা অস্বস্তিতে পড়তে চায় না। কিন্তু এই আয়াতটি ছিল রাসূলুল্লাহর ﷺ জন্য অস্বস্তিকর, কেননা এখানে আল্লাহ তাঁকে মৃদু ভাষায় তিরস্কার করছেন। এই প্রসঙ্গে মা আইশার একটি চমৎকার মন্তব্য এখানে উল্লেখযোগ্য, 'যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ কুরআনের কোনো আয়াত গোপন করতেন, তবে তিনি তাঁকে নিন্দা করার এই আয়াতটি মানুষের কাছে গোপন করতেন।'

কাফিররা রাসূলুল্লাহর যে দুটো বিয়ে নিয়ে সবচাইতে বেশি আক্রমণ করে তার একটি হলো আইশার সাথে বিয়ে, আরেকটি হলো যাইনাবের সাথে বিয়ে। মজার বিষয় এ দুটো বিয়েই সরাসরি আল্লাহর নির্দেশে হয়েছে।

১) ইসলামবিদ্বেষীরা বলে থাকে যাইদের বিয়ের পর আল্লাহর রাসূল যাইনাবের প্রেমে পড়েছিলেন। তাই যাইদকে তিনি তালাক দিতে বলেছেন যেন যাইনাবকে বিয়ে করতে পারেন। এর জবাব হলো, আল্লাহর রাসূল অনেক আগে থেকেই যাইনাবকে চিনতেন। তখনো হিজাবের আয়াত নাযিল হয়নি, তিনি যাইনাবকে আগেই দেখেছেন। বিয়ে করতে চাইলে তিনি আগেই যাইনাবকে বিয়ে করতে পারতেন। আর রাসূলুল্লাহ নিজেই চেয়েছেন যাইদের সাথে যাইনাবের বিয়ে হোক। তাদের সংসারে যখন বনিবনা হচ্ছিল না, তখনো আল্লাহর রাসূল যাইদকে বারবার বলেছেন যেন তিনি সংসার করার চেষ্টা চালিয়ে যান।

২) ইসলাম বিদ্বেষীদের একটি বড় অপপ্রচার হলো আল্লাহর রাসূল নিজে কুরআন রচনা করেছেন। এই অপবাদ নিয়ে আলোচনার বিশাল জায়গা রয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে শুধু একটা বিষয়ের অবতারণা করা হলো: আল্লাহর রাসূল ﷺ ওয়াহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে, যাইনাবের সাথে তাঁর বিয়ে হবে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে তিনি কাউকে কিছুই বলতে পারেননি, বরং যাইদকে তালাক না দিতেই উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই বিষয়টির নিন্দা করেছেন।

"আর তুমি মানুষকে ভয় করেছিলে, অথচ আল্লাহরই বেশি অধিকার যে তুমি তাঁকেই ভয় করবে।"

সমাজের মানুষ কী বলবে এটা ভেবে আল্লাহর রাসূল ﷺ ভয় পাচ্ছিলেন-- আর এজন্য আল্লাহ তাঁকে নিন্দা করেন। যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ নিজে কুরআন লিখতেন, তাহলে তিনি নিজের লেখা কিতাবে নিজের নিন্দা বা সমালোচনা করতেন না। কারণ একজন মানুষ কখনোই প্রকাশ্যে লজ্জায় বা অস্বস্তিতে পড়তে চায় না। কিন্তু এই আয়াতটি ছিল রাসূলুল্লাহর ﷺ জন্য অস্বস্তিকর, কেননা এখানে আল্লাহ তাঁকে মৃদু ভাষায় তিরস্কার করছেন। এই প্রসঙ্গে মা আইশার একটি চমৎকার মন্তব্য এখানে উল্লেখযোগ্য, 'যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ কুরআনের কোনো আয়াত গোপন করতেন, তবে তিনি তাঁকে নিন্দা করার এই আয়াতটি মানুষের কাছে গোপন করতেন।'

ফন্ট সাইজ
15px
17px