📄 যাইদ-যাইনাবের ؓ সংসার ও বিচ্ছেদ
কিন্তু দু'জনের সংসারে বনিবনা হলো না। স্বামী-স্ত্রী দুজনে দ্বীনদার হলেই যে সংসার সুখের হবে, এমন কোনো কথা নেই। তাদের সংসার টিকেছিল মাত্র এক বছর। বিচ্ছেদের আগে যাইদ রাসূলুল্লাহর কাছে এসে অনুযোগ করতেন যে, তাদের সংসারে ভালোবাসা নেই। রাসূলুল্লাহ যাইদকে ধৈর্য ধরতে বলতেন। বলতেন, আল্লাহকে ভয় করো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে সংসার টিকলো না। তারা দু'জনেই সংসার না চালানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেন। দুজনের সম্মতিতে যাইদ যাইনাবকে তালাক দিয়ে দেন।
রাসূলুল্লাহ চাইলেন তাঁর এই ফুপাতো বোনকে পালকপুত্র যাইদ ইবন হারিসার সাথে বিয়ে দিয়ে তৎকালীন আরবের কৌলিন্য প্রথাকে ভেঙে দিতে। যাইদ অতীতে ছিলেন একজন দাস। রাসূলুল্লাহ তাকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে যাইনাব কুরাইশদের সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা। সামাজিক মর্যাদায় দু'জনের মাঝে বিশাল পার্থক্য। সে সময় আরবরা স্বাধীন হওয়া দাসকে খুব একটা সম্মানের চোখে দেখতো না। কিন্তু এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। রাসূলুল্লাহ চাইলেন আরবদের বৈষম্যমূলক মনোভাব বদলে যাক। মুসলিমরা যেন তাক্বওয়া দিয়ে মানুষকে বিচার করে, বংশ-মর্যাদা দিয়ে নয়। আর তাই তিনি নিজ পরিবার, নিজ আত্মীয়দের দিয়েই স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার সূচনা করেন। যাইনাবের কাছে তিনি যাইদকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলেন। যাইনাব রাজি হলেন না। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন,
"আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে (ভিন্ন) কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে তো প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।" (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ৩৬)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর যাইনাব বিনা তর্কে রাজি হয়ে গেলেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যায়িদকে বিয়ে করবেন।
কিন্তু দু'জনের সংসারে বনিবনা হলো না। স্বামী-স্ত্রী দুজনে দ্বীনদার হলেই যে সংসার সুখের হবে, এমন কোনো কথা নেই। তাদের সংসার টিকেছিল মাত্র এক বছর। বিচ্ছেদের আগে যাইদ রাসূলুল্লাহর কাছে এসে অনুযোগ করতেন যে, তাদের সংসারে ভালোবাসা নেই। রাসূলুল্লাহ যাইদকে ধৈর্য ধরতে বলতেন। বলতেন, আল্লাহকে ভয় করো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যে সংসার টিকলো না। তারা দু'জনেই সংসার না চালানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলেন। দুজনের সম্মতিতে যাইদ যাইনাবকে তালাক দিয়ে দেন।
রাসূলুল্লাহ চাইলেন তাঁর এই ফুপাতো বোনকে পালকপুত্র যাইদ ইবন হারিসার সাথে বিয়ে দিয়ে তৎকালীন আরবের কৌলিন্য প্রথাকে ভেঙে দিতে। যাইদ অতীতে ছিলেন একজন দাস। রাসূলুল্লাহ তাকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে যাইনাব কুরাইশদের সম্ভ্রান্ত পরিবারের কন্যা। সামাজিক মর্যাদায় দু'জনের মাঝে বিশাল পার্থক্য। সে সময় আরবরা স্বাধীন হওয়া দাসকে খুব একটা সম্মানের চোখে দেখতো না। কিন্তু এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। রাসূলুল্লাহ চাইলেন আরবদের বৈষম্যমূলক মনোভাব বদলে যাক। মুসলিমরা যেন তাক্বওয়া দিয়ে মানুষকে বিচার করে, বংশ-মর্যাদা দিয়ে নয়। আর তাই তিনি নিজ পরিবার, নিজ আত্মীয়দের দিয়েই স্রোতের বিপরীতে যাওয়ার সূচনা করেন। যাইনাবের কাছে তিনি যাইদকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলেন। যাইনাব রাজি হলেন না। তখন আল্লাহ আয়াত নাযিল করলেন,
"আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো কাজের আদেশ করলে কোনো ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে (ভিন্ন) কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে না। যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে তো প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।" (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ৩৬)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর যাইনাব বিনা তর্কে রাজি হয়ে গেলেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যায়িদকে বিয়ে করবেন।
📄 জাহিলিয়াতি আরবে সন্তান দত্তকের ধারণা
দত্তক নেওয়া বলতে আমরা বর্তমান সময়ে যা বুঝি তৎকালীন আরবে তেমনটা ছিল না। সে সময়ে যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে দত্তক হিসেবে নিত, তাহলে পালক পুত্র বা পালক কন্যা দত্তকগ্রহণকারীর আপন পুত্র বা কন্যার মতো সমস্ত অধিকার লাভ করতো। তারা দত্তক গ্রহণকারীর বংশনাম গ্রহণ করতো, সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতো। পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করা ছিল জাহিলিয়াতের সংস্কৃতিতে 'হারাম', একেবারেই মেনে নেওয়ার মতো না। অর্থাৎ, সত্যিকারের পিতা-পুত্রের যেমন সম্পর্ক, সেটাই তাদের ওপর প্রযোজ্য হতো। কিন্তু ইসলাম এসে এই নিয়মগুলো বদলে দেয়।
"...আল্লাহ তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জানো, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে (আগে) যদি তোমাদের কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে তাতে তোমাদের জন্য কোনো গুনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পতরম দয়ালু।” (সূরা আহযাব, ৩৩: ৪-৫)
অর্থাৎ, পালক পুত্রকে পুত্র বললেই সে পুত্র হয়ে যায় না। বরং তাদের সম্পর্ক হচ্ছে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। এই আয়াত নাযিল হওয়ার আগ পর্যন্ত যাইদকে ডাকা হতো যাইদ ইবন মুহাম্মাদ। এই আয়াত নাযিলের পর তিনি আগের নামে ফিরে যান- যাইদ ইবন হারিসা। ইসলামে পোষ্যপুত্রের নাম তার আসল পিতার নামেই হতে হবে, পালক পিতার নামে নয়। নিঃসন্দেহে ইয়াতীমের দেখাশোনা ও ভরণপোষণ করা ইসলামের নজরে অত্যন্ত মহৎ একটা কাজ, অনেক বেশি সাওয়াবের একটা কাজ। কিন্তু ইয়াতীম বা পালকপুত্র (কিংবা কন্যা) কখনোই পালকপিতার নামে পরিচিত হবে না এবং পিতা-পুত্রের সম্পর্ক তাদের ওপর প্রযোজ্য হবে না।
দত্তক নেওয়া বলতে আমরা বর্তমান সময়ে যা বুঝি তৎকালীন আরবে তেমনটা ছিল না। সে সময়ে যদি কোনো ব্যক্তি কাউকে দত্তক হিসেবে নিত, তাহলে পালক পুত্র বা পালক কন্যা দত্তকগ্রহণকারীর আপন পুত্র বা কন্যার মতো সমস্ত অধিকার লাভ করতো। তারা দত্তক গ্রহণকারীর বংশনাম গ্রহণ করতো, সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার লাভ করতো। পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করা ছিল জাহিলিয়াতের সংস্কৃতিতে 'হারাম', একেবারেই মেনে নেওয়ার মতো না। অর্থাৎ, সত্যিকারের পিতা-পুত্রের যেমন সম্পর্ক, সেটাই তাদের ওপর প্রযোজ্য হতো। কিন্তু ইসলাম এসে এই নিয়মগুলো বদলে দেয়।
"...আল্লাহ তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জানো, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে (আগে) যদি তোমাদের কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে তাতে তোমাদের জন্য কোনো গুনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পতরম দয়ালু।” (সূরা আহযাব, ৩৩: ৪-৫)
অর্থাৎ, পালক পুত্রকে পুত্র বললেই সে পুত্র হয়ে যায় না। বরং তাদের সম্পর্ক হচ্ছে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। এই আয়াত নাযিল হওয়ার আগ পর্যন্ত যাইদকে ডাকা হতো যাইদ ইবন মুহাম্মাদ। এই আয়াত নাযিলের পর তিনি আগের নামে ফিরে যান- যাইদ ইবন হারিসা। ইসলামে পোষ্যপুত্রের নাম তার আসল পিতার নামেই হতে হবে, পালক পিতার নামে নয়। নিঃসন্দেহে ইয়াতীমের দেখাশোনা ও ভরণপোষণ করা ইসলামের নজরে অত্যন্ত মহৎ একটা কাজ, অনেক বেশি সাওয়াবের একটা কাজ। কিন্তু ইয়াতীম বা পালকপুত্র (কিংবা কন্যা) কখনোই পালকপিতার নামে পরিচিত হবে না এবং পিতা-পুত্রের সম্পর্ক তাদের ওপর প্রযোজ্য হবে না।
📄 একটি সামাজিক কু-প্রথার পরিসমাপ্তি
যাইদ এবং যাইনাবের সংসারে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন আল্লাহর রাসূল জানতেন তাদের এই সংসার টিকবে না এবং শেষ পর্যন্ত যাইনাবের সাথে তাঁর বিয়ে হবে -- আল্লাহ তাঁকে বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেন। কিন্তু তবু তিনি যাইদকে যাইনাবের সাথে সংসার চালিয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন। নিকট ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে সেটা ভেবে রাসূলুল্লাহ বেশ অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠবে। সমাজের লোক ছি ছি করবে। কারণ সেই সময়ে পালকপুত্রের স্ত্রী বিয়ে করা ছিল সমাজের দৃষ্টিতে খুব বাজে একটি বিষয়। কেমন ছিল তখন আল্লাহর রাসূলের মানসিক অবস্থা? আল্লাহ বলছেন,
“আর স্মরণ করো! যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন ও যার প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাকে আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো, আর আল্লাহকে ভয় করো। (কিন্তু এ পর্যায়ে) আপনার মনের ভেতরে যে কথা আপনি লুকিয়ে রেখেছিলেন আল্লাহ তাআলা তা প্রকাশ করে দিলেন। (আসলে আপনার পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করার ব্যাপারে) আপনি মানুষদের (কথাকেই) ভয় করছিলেন, অথচ (আপনি জানেন) আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন ভয় পাওয়ার বেশি হকদার।” (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ৩৭)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমাজের এই অর্থহীন প্রথাকে ভেঙে দিতে চাইলেন। এই প্রথা মুখে আদেশ দিয়েও ভাঙা যেত, কিন্তু আল্লাহ চাইলেন কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এই প্রথাকে ভেঙে দিতে। আর তাই তাঁর রাসূলকে বিয়ে দিলেন যাইনাবের সাথে। মুখে বলা আর করে দেখানো কখনোই এক নয়। কোনো কথা বলার চেয়ে করে দেখালে নিশ্চিতভাবেই সেটা অনেক বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে। আল্লাহ সেটাই ফয়সালা করেন, আল্লাহর রাসূলের সাথে যাইনাবের বিয়ে দিয়ে দেন।
যাইদ এবং যাইনাবের সংসারে যখন টানাপোড়েন চলছে, তখন আল্লাহর রাসূল জানতেন তাদের এই সংসার টিকবে না এবং শেষ পর্যন্ত যাইনাবের সাথে তাঁর বিয়ে হবে -- আল্লাহ তাঁকে বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেন। কিন্তু তবু তিনি যাইদকে যাইনাবের সাথে সংসার চালিয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন। নিকট ভবিষ্যতে কী হতে যাচ্ছে সেটা ভেবে রাসূলুল্লাহ বেশ অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠবে। সমাজের লোক ছি ছি করবে। কারণ সেই সময়ে পালকপুত্রের স্ত্রী বিয়ে করা ছিল সমাজের দৃষ্টিতে খুব বাজে একটি বিষয়। কেমন ছিল তখন আল্লাহর রাসূলের মানসিক অবস্থা? আল্লাহ বলছেন,
“আর স্মরণ করো! যার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন ও যার প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাকে আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো, আর আল্লাহকে ভয় করো। (কিন্তু এ পর্যায়ে) আপনার মনের ভেতরে যে কথা আপনি লুকিয়ে রেখেছিলেন আল্লাহ তাআলা তা প্রকাশ করে দিলেন। (আসলে আপনার পালকপুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিয়ে করার ব্যাপারে) আপনি মানুষদের (কথাকেই) ভয় করছিলেন, অথচ (আপনি জানেন) আল্লাহ তাআলাই হচ্ছেন ভয় পাওয়ার বেশি হকদার।” (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ৩৭)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমাজের এই অর্থহীন প্রথাকে ভেঙে দিতে চাইলেন। এই প্রথা মুখে আদেশ দিয়েও ভাঙা যেত, কিন্তু আল্লাহ চাইলেন কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এই প্রথাকে ভেঙে দিতে। আর তাই তাঁর রাসূলকে বিয়ে দিলেন যাইনাবের সাথে। মুখে বলা আর করে দেখানো কখনোই এক নয়। কোনো কথা বলার চেয়ে করে দেখালে নিশ্চিতভাবেই সেটা অনেক বেশি প্রভাব সৃষ্টি করে। আল্লাহ সেটাই ফয়সালা করেন, আল্লাহর রাসূলের সাথে যাইনাবের বিয়ে দিয়ে দেন।
📄 যাইনাবের সাথে রাসূলুল্লাহর ﷽ বিয়ে নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীদের অপপ্রচার
কাফিররা রাসূলুল্লাহর যে দুটো বিয়ে নিয়ে সবচাইতে বেশি আক্রমণ করে তার একটি হলো আইশার সাথে বিয়ে, আরেকটি হলো যাইনাবের সাথে বিয়ে। মজার বিষয় এ দুটো বিয়েই সরাসরি আল্লাহর নির্দেশে হয়েছে।
১) ইসলামবিদ্বেষীরা বলে থাকে যাইদের বিয়ের পর আল্লাহর রাসূল যাইনাবের প্রেমে পড়েছিলেন। তাই যাইদকে তিনি তালাক দিতে বলেছেন যেন যাইনাবকে বিয়ে করতে পারেন। এর জবাব হলো, আল্লাহর রাসূল অনেক আগে থেকেই যাইনাবকে চিনতেন। তখনো হিজাবের আয়াত নাযিল হয়নি, তিনি যাইনাবকে আগেই দেখেছেন। বিয়ে করতে চাইলে তিনি আগেই যাইনাবকে বিয়ে করতে পারতেন। আর রাসূলুল্লাহ নিজেই চেয়েছেন যাইদের সাথে যাইনাবের বিয়ে হোক। তাদের সংসারে যখন বনিবনা হচ্ছিল না, তখনো আল্লাহর রাসূল যাইদকে বারবার বলেছেন যেন তিনি সংসার করার চেষ্টা চালিয়ে যান।
২) ইসলাম বিদ্বেষীদের একটি বড় অপপ্রচার হলো আল্লাহর রাসূল নিজে কুরআন রচনা করেছেন। এই অপবাদ নিয়ে আলোচনার বিশাল জায়গা রয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে শুধু একটা বিষয়ের অবতারণা করা হলো: আল্লাহর রাসূল ﷺ ওয়াহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে, যাইনাবের সাথে তাঁর বিয়ে হবে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে তিনি কাউকে কিছুই বলতে পারেননি, বরং যাইদকে তালাক না দিতেই উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই বিষয়টির নিন্দা করেছেন।
"আর তুমি মানুষকে ভয় করেছিলে, অথচ আল্লাহরই বেশি অধিকার যে তুমি তাঁকেই ভয় করবে।"
সমাজের মানুষ কী বলবে এটা ভেবে আল্লাহর রাসূল ﷺ ভয় পাচ্ছিলেন-- আর এজন্য আল্লাহ তাঁকে নিন্দা করেন। যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ নিজে কুরআন লিখতেন, তাহলে তিনি নিজের লেখা কিতাবে নিজের নিন্দা বা সমালোচনা করতেন না। কারণ একজন মানুষ কখনোই প্রকাশ্যে লজ্জায় বা অস্বস্তিতে পড়তে চায় না। কিন্তু এই আয়াতটি ছিল রাসূলুল্লাহর ﷺ জন্য অস্বস্তিকর, কেননা এখানে আল্লাহ তাঁকে মৃদু ভাষায় তিরস্কার করছেন। এই প্রসঙ্গে মা আইশার একটি চমৎকার মন্তব্য এখানে উল্লেখযোগ্য, 'যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ কুরআনের কোনো আয়াত গোপন করতেন, তবে তিনি তাঁকে নিন্দা করার এই আয়াতটি মানুষের কাছে গোপন করতেন।'
কাফিররা রাসূলুল্লাহর যে দুটো বিয়ে নিয়ে সবচাইতে বেশি আক্রমণ করে তার একটি হলো আইশার সাথে বিয়ে, আরেকটি হলো যাইনাবের সাথে বিয়ে। মজার বিষয় এ দুটো বিয়েই সরাসরি আল্লাহর নির্দেশে হয়েছে।
১) ইসলামবিদ্বেষীরা বলে থাকে যাইদের বিয়ের পর আল্লাহর রাসূল যাইনাবের প্রেমে পড়েছিলেন। তাই যাইদকে তিনি তালাক দিতে বলেছেন যেন যাইনাবকে বিয়ে করতে পারেন। এর জবাব হলো, আল্লাহর রাসূল অনেক আগে থেকেই যাইনাবকে চিনতেন। তখনো হিজাবের আয়াত নাযিল হয়নি, তিনি যাইনাবকে আগেই দেখেছেন। বিয়ে করতে চাইলে তিনি আগেই যাইনাবকে বিয়ে করতে পারতেন। আর রাসূলুল্লাহ নিজেই চেয়েছেন যাইদের সাথে যাইনাবের বিয়ে হোক। তাদের সংসারে যখন বনিবনা হচ্ছিল না, তখনো আল্লাহর রাসূল যাইদকে বারবার বলেছেন যেন তিনি সংসার করার চেষ্টা চালিয়ে যান।
২) ইসলাম বিদ্বেষীদের একটি বড় অপপ্রচার হলো আল্লাহর রাসূল নিজে কুরআন রচনা করেছেন। এই অপবাদ নিয়ে আলোচনার বিশাল জায়গা রয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে শুধু একটা বিষয়ের অবতারণা করা হলো: আল্লাহর রাসূল ﷺ ওয়াহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন যে, যাইনাবের সাথে তাঁর বিয়ে হবে। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে তিনি কাউকে কিছুই বলতে পারেননি, বরং যাইদকে তালাক না দিতেই উপদেশ দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই বিষয়টির নিন্দা করেছেন।
"আর তুমি মানুষকে ভয় করেছিলে, অথচ আল্লাহরই বেশি অধিকার যে তুমি তাঁকেই ভয় করবে।"
সমাজের মানুষ কী বলবে এটা ভেবে আল্লাহর রাসূল ﷺ ভয় পাচ্ছিলেন-- আর এজন্য আল্লাহ তাঁকে নিন্দা করেন। যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ নিজে কুরআন লিখতেন, তাহলে তিনি নিজের লেখা কিতাবে নিজের নিন্দা বা সমালোচনা করতেন না। কারণ একজন মানুষ কখনোই প্রকাশ্যে লজ্জায় বা অস্বস্তিতে পড়তে চায় না। কিন্তু এই আয়াতটি ছিল রাসূলুল্লাহর ﷺ জন্য অস্বস্তিকর, কেননা এখানে আল্লাহ তাঁকে মৃদু ভাষায় তিরস্কার করছেন। এই প্রসঙ্গে মা আইশার একটি চমৎকার মন্তব্য এখানে উল্লেখযোগ্য, 'যদি আল্লাহর রাসূল ﷺ কুরআনের কোনো আয়াত গোপন করতেন, তবে তিনি তাঁকে নিন্দা করার এই আয়াতটি মানুষের কাছে গোপন করতেন।'