📄 খন্দক যুদ্ধের প্রভাব
খন্দকের যুদ্ধ ছিল ইসলামের ইতিহাসে এক 'টার্নিং পয়েন্ট'। খন্দক যুদ্ধের আগ পর্যন্ত মুসলিমদের লড়াই ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কিন্তু এ যুদ্ধের পর একটা ভিন্ন ইতিহাস রচিত হয়। মদীনার ইসলামী রাষ্ট্র এবার টিকে থাকার সংগ্রামকে ছাড়িয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজ ধারণ করে। রাজনৈতিক ময়দানে দাবার ছক উল্টে যায়। বিশাল এক সামরিক জোটকে পরাস্ত করার মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধে মুসলিমরা যোজন যোজন এগিয়ে যায়। আরবের রাজনৈতিক শক্তিগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযান পরিচালনা করার মতো সাহস বা মনোভাব হারিয়ে ফেলে।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে এটাই ছিল কুরাইশদের সর্বশেষ আক্রমণ। ব্যাপারটা এমন ছিল না যে, তারা মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে গেছে। বরং যুদ্ধে হেরে তারা মনোবল হারিয়ে ফেলে। তাদের শক্তি কমে যায় এবং একটা সময় মুসলিমদের তারা সমীহের চোখে দেখা শুরু করে। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, মুসলিমদের অস্তিত্ব মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় বাকি ছিল না। খন্দক যুদ্ধের এক বছর পরের ঘটনাই এর প্রমাণ। হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশরা মুসলিমদের অস্তিত্বকে কার্যত স্বীকার করে নেয়।
আল্লাহ সূরা আলে ইমরানে বলেন, 'ইসবিরু ওয়া সবিরু', অর্থ হলো, 'তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং এই ধৈর্যে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করো।' অর্থাৎ শুধু ধৈর্য ধরাটাই যথেষ্ট নয়, বরং এমন ধৈর্য ধরা চাই যেন ধৈর্যশীল শত্রুর সাথেও পেরে ওঠা সম্ভব হয়। বদর, উহুদ, খন্দক -- তিনটি বড় বড় যুদ্ধ যখন মুসলিমরা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করলো, তখন কাফিররাই মানসিকভাবে ক্লান্ত আর হতাশ হয়ে পড়ে। একারণে আবু সুফিয়ান আর কখনোই মদীনার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী জড়ো করতে সক্ষম হয়নি।
খন্দকের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মুসলিমরা একটি কঠিন সময় শেষ করে। এটা ছিল টিকে থাকার সময়। যদিও বলা হয়ে থাকে হিজরতের সাথে সাথেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু এর শুরুর বছরগুলো ছিল শঙ্কা, গোপনীয়তা আর নিরাপত্তাহীনতার বছর। প্রতিষ্ঠালগ্নে মদীনা রাষ্ট্র কোনো সমৃদ্ধ শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল না। ত্রিমুখী আক্রমণের শঙ্কায় মদীনার পরিবেশ থমথমে হয়ে থাকতো। একদিকে মক্কার কুরাইশ, আরেকদিকে ইহুদি গোত্রগুলো আর অন্যদিকে বেদুইনরা। সে সময়টায় সাহাবিরা অস্ত্র পাশে রেখে ঘুমাতেন -- সময়টা এতটাই অনিরাপদ ছিল।
মদীনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথম পাঁচটা বছর ছিল খুবই কঠিন। কিন্তু মুসলিমরা ছিলেন দৃঢ়পদ। তারা সাহস হারাননি, আল্লাহর ওপর ভরসা করেছেন। তাই সময়ের পরিক্রমায় খন্দকের পর মুসলিমরা শক্ত অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়। এরপর থেকে মুসলিমদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, কেবলই এগিয়ে যাওয়া। এই যুদ্ধের পর আল্লাহর রাসূল বলেছিলেন, 'এখন থেকে আমরা তাদের ওপর আক্রমণ করবো, তারা আর আমাদের আক্রমণ করতে পারবে না।' খন্দকের যুদ্ধের সাথে সাথে মদীনার পররাষ্ট্রনীতিতে একটা বড় পরিবর্তন ঘটে, সেটা হলো আক্রমণাত্মক জিহাদের সূচনা। খন্দকের আগের জিহাদগুলো ছিল মূলত রক্ষণাত্মক। এই যুদ্ধের মাধ্যমে মদীনা থেকে ইহুদিদের সর্বশেষ গোত্রটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
খন্দকের যুদ্ধ ছিল ইসলামের ইতিহাসে এক 'টার্নিং পয়েন্ট'। খন্দক যুদ্ধের আগ পর্যন্ত মুসলিমদের লড়াই ছিল অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। কিন্তু এ যুদ্ধের পর একটা ভিন্ন ইতিহাস রচিত হয়। মদীনার ইসলামী রাষ্ট্র এবার টিকে থাকার সংগ্রামকে ছাড়িয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজ ধারণ করে। রাজনৈতিক ময়দানে দাবার ছক উল্টে যায়। বিশাল এক সামরিক জোটকে পরাস্ত করার মাধ্যমে স্নায়ুযুদ্ধে মুসলিমরা যোজন যোজন এগিয়ে যায়। আরবের রাজনৈতিক শক্তিগুলো মুসলিমদের বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযান পরিচালনা করার মতো সাহস বা মনোভাব হারিয়ে ফেলে।
মুসলিমদের বিরুদ্ধে এটাই ছিল কুরাইশদের সর্বশেষ আক্রমণ। ব্যাপারটা এমন ছিল না যে, তারা মুসলিমদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে গেছে। বরং যুদ্ধে হেরে তারা মনোবল হারিয়ে ফেলে। তাদের শক্তি কমে যায় এবং একটা সময় মুসলিমদের তারা সমীহের চোখে দেখা শুরু করে। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, মুসলিমদের অস্তিত্ব মেনে নেওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় বাকি ছিল না। খন্দক যুদ্ধের এক বছর পরের ঘটনাই এর প্রমাণ। হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে কুরাইশরা মুসলিমদের অস্তিত্বকে কার্যত স্বীকার করে নেয়।
আল্লাহ সূরা আলে ইমরানে বলেন, 'ইসবিরু ওয়া সবিরু', অর্থ হলো, 'তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং এই ধৈর্যে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করো।' অর্থাৎ শুধু ধৈর্য ধরাটাই যথেষ্ট নয়, বরং এমন ধৈর্য ধরা চাই যেন ধৈর্যশীল শত্রুর সাথেও পেরে ওঠা সম্ভব হয়। বদর, উহুদ, খন্দক -- তিনটি বড় বড় যুদ্ধ যখন মুসলিমরা ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করলো, তখন কাফিররাই মানসিকভাবে ক্লান্ত আর হতাশ হয়ে পড়ে। একারণে আবু সুফিয়ান আর কখনোই মদীনার বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী জড়ো করতে সক্ষম হয়নি।
খন্দকের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মুসলিমরা একটি কঠিন সময় শেষ করে। এটা ছিল টিকে থাকার সময়। যদিও বলা হয়ে থাকে হিজরতের সাথে সাথেই ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, কিন্তু এর শুরুর বছরগুলো ছিল শঙ্কা, গোপনীয়তা আর নিরাপত্তাহীনতার বছর। প্রতিষ্ঠালগ্নে মদীনা রাষ্ট্র কোনো সমৃদ্ধ শক্তিশালী রাষ্ট্র ছিল না। ত্রিমুখী আক্রমণের শঙ্কায় মদীনার পরিবেশ থমথমে হয়ে থাকতো। একদিকে মক্কার কুরাইশ, আরেকদিকে ইহুদি গোত্রগুলো আর অন্যদিকে বেদুইনরা। সে সময়টায় সাহাবিরা অস্ত্র পাশে রেখে ঘুমাতেন -- সময়টা এতটাই অনিরাপদ ছিল।
মদীনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথম পাঁচটা বছর ছিল খুবই কঠিন। কিন্তু মুসলিমরা ছিলেন দৃঢ়পদ। তারা সাহস হারাননি, আল্লাহর ওপর ভরসা করেছেন। তাই সময়ের পরিক্রমায় খন্দকের পর মুসলিমরা শক্ত অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়। এরপর থেকে মুসলিমদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, কেবলই এগিয়ে যাওয়া। এই যুদ্ধের পর আল্লাহর রাসূল বলেছিলেন, 'এখন থেকে আমরা তাদের ওপর আক্রমণ করবো, তারা আর আমাদের আক্রমণ করতে পারবে না।' খন্দকের যুদ্ধের সাথে সাথে মদীনার পররাষ্ট্রনীতিতে একটা বড় পরিবর্তন ঘটে, সেটা হলো আক্রমণাত্মক জিহাদের সূচনা। খন্দকের আগের জিহাদগুলো ছিল মূলত রক্ষণাত্মক। এই যুদ্ধের মাধ্যমে মদীনা থেকে ইহুদিদের সর্বশেষ গোত্রটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়।