📄 সাদ ইবন মুয়াযের ؓ মর্যাদা
আল্লাহর রাসূল সাদ ইবন মুয়াযের সম্মানে বলেছিলেন, 'তোমরা তোমাদের নেতার সম্মানার্থে উঠে দাঁড়াও।'⁵⁸ সাদ ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যার জন্য সাহাবিদের উঠে দাঁড়াতে বলেন। আল্লাহর রাসূল জানতে পারলেন সাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত ঘনিয়ে এসেছে। তিনি রীতিমতো ছুটে গেলেন। পৌঁছে দেখা গেল সাদকে গোসল দেওয়া হচ্ছে।⁵⁹
সাদ ইবন মুয়াযের লাশ বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সাহাবিরা বলেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! এত হালকা লাশ এর আগে কখনো বহন করিনি।' রাসূল বললেন, 'কেনই বা হবে না বলো? এমন সব ফেরেশতারা আজ জমিনে এসে সাদের লাশ বহন করছেন যারা এর আগে আর কখনো পৃথিবীতে আসেননি।' এক বর্ণনায় আছে, সাদের লাশ বহন করতে সত্তর হাজার ফেরেশতা আসমান থেকে জমিনে নেমে আসে।
সাদ ইবন মুআয আল্লাহর কত প্রিয় ছিলেন তা একটি হাদিস থেকে বোঝা যায়। বলা হয় যে, তাঁর মৃত্যুতে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল!⁶⁰ সাদের মৃত্যুর অনেক দিন পরের কথা, রাসূলুল্লাহর কাছে উপহার হিসেবে একটা চাদর আসলে তিনি বলেন, 'জান্নাতে সাদ ইবন মুয়াযের যে রুমালটা আছে তা এই চাদরের চাইতেও উত্তম আর কোমল।'⁶¹
সাদ ইবন মুআযকে কবরে রাখার পর রাসূলুল্লাহর চেহারা বদলে যায়। তিনি তিনবার তাসবীহ ও তিনবার তাকবীর পড়লেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'কবর সাদকে চাপ দিয়ে ধরেছিল। যদি কেউ কবরের চাপ থেকে মুক্তি পেত সে হতো সাদ। এরপর কবর আবার প্রশস্ত হয়ে গেল।'
সাদ ইবন মুআয যখন মারা যান তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাঁইত্রিশ বছর। দ্বীনের জন্য একজন মুসলিম যুবক কীভাবে নিজের জীবন দিয়ে দেয়, তার উৎকৃষ্ট নমুনা সাদ ইবন মুয়াযের জীবন।
টিকাঃ
৫৮. সুনান আবু দাউদ, অধ্যায় আদাব, হাদীস ৪৪৩।
৫৯. সুনান নাসাঈ, অধ্যায় জানাযা, হাদীস ২৩৯।
৬০. সহীহ বুখারি, অধ্যায় আনসারদের মর্যাদা, হাদীস ১৪৭।
৬১. সহীহ বুখারি, অধ্যায় আনসারদের মর্যাদা, হাদীস ১৪৬।