📄 খন্দকের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা
১) মুসলিমদের ব্যাপারে কাফিরদের দ্বিমুখী নীতি: ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিকোণ থেকে, ইহুদিরা মুশরিকদের চাইতে মুসলিমদের অধিক নিকটবর্তী। সে হিসেবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সাথে তাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু খন্দকের যুদ্ধে তাই হয়েছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এখনও এমন ঘটছে। ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী দলগুলো সত্যের বিরুদ্ধে এক হতে মোটেই দ্বিধা করছে না।
২) কাফিরদের প্রযুক্তি গ্রহণে কোনো বাধা নেই: অনেক মুসলিম কাফিরদের প্রযুক্তিকে তাদের বিশ্বাস-সংস্কৃতির সাথে গুলিয়ে ফেলে। কাফিরদের আদর্শ, দৃষ্টিভঙ্গি, লাইফস্টাইল এসব গ্রহণ না করা গেলেও তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে বা তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান নিতে কোনো বাধা নেই। পরিখা খননের যে প্রস্তাব সালমান ফারিসী করেছিলেন সেটি ছিল কাফিরদের প্রযুক্তি। এ ধরনের কৌশলগত ব্যাপার বা কাফিরদের তৈরি প্রযুক্তির ব্যবহার ইসলামে জায়েজ।
৩) সামরিক শক্তি ও জিহাদ: এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা চাই যা সহজলভ্য। খন্দকের যুদ্ধে মুসলিমরা যোজন-যোজন পিছিয়ে ছিল। কিন্তু তবুও তারা হাল ছাড়েনি। অনেকে মনে করে, আগে কাফিরদের সমপরিমাণ শক্তি ও প্রযুক্তি অর্জন করে তারপর জিহাদে অংশ নেব। সাহাবিরা কিন্তু বিষয়টা এভাবে দেখেননি। তারা তাদের হাতে যে প্রযুক্তি ছিল সেটা দিয়েই লড়ার চেষ্টা করেছেন।
৪) নেতৃত্বে আন্তরিকতা: লোক-দেখানো নেতারা অনেক বড় বড় কথা বলে। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ করে, পরিদর্শনে বের হয়—তাদের উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট। কিন্তু রাসূলুল্লাহর মধ্যে এসব মেকি আচরণ ছিল না। সাহাবিরা যা খেয়েছেন, তিনিও তা-ই খেয়েছেন। তাদের সাথে কাজ ভাগাভাগি করেছেন, কাদামাখা হয়ে গর্ত খুঁড়েছেন। এটা ছিল সত্যিকারের মমতা।
৫) সৈনিকদের দৃঢ়তা ধরে রাখা: বনু কুরাইযার বিশ্বাসঘাতকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি চারজনের দল পাঠিয়েছিলেন। তাদের তিনি বলে দিয়েছিলেন বনু কুরাইযা যদি চুক্তিভঙ্গ করে থাকে তবে সেটা যেন জনসমক্ষে না বলে ইঙ্গিতে রাসূলুল্লাহকে জানানো হয়। যখন তিনি খবরটি শুনলেন তখন বললেন, 'সুসংবাদ গ্রহণ করো।' তিনি চাচ্ছিলেন মুসলিমরা ভেঙে না পড়ুক।
৬) জিহাদ হলো রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ:
"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ২১)
রাসূলুল্লাহর সুন্নাহর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে কুরআনের এই আয়াতটি সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হয়। ইবন জারির আত-তাবারীর মতে, এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা জিহাদবিমুখদের তিরস্কার করেছেন। এরা জিহাদে অংশ না নিয়ে পেছনে রয়ে যায়, খন্দকের শিবিরে যোগ দেয়নি। ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেন, মুফাসসির আস সুদ্দী বলেছেন এই আয়াতের অর্থ হলো তোমরা রাসূলুল্লাহর সাথে থাকো এবং যুদ্ধ করো। জিহাদের প্রেক্ষাপটেই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আজকাল লোকেরা সুন্নাহ নিয়ে প্রচুর কথা বললেও জিহাদের কথা অবজ্ঞা করে। অথচ এই জিহাদ আল্লাহর রাসূলেরই সুন্নাহ।