📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম সাহায্য: নুআইম ইবন মাসউদ ؓ
পরিস্থিতির এই পর্যায় পর্যন্ত মুসলিমরা আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখেছে, তাঁর ওপর ভরসা করে এসেছে এবং দ্বীন ইসলামের আদর্শে অটল থেকেছে। ঈমানের পরীক্ষায় মুসলিমরা বিজয়ী হয়েছে, তাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সাহায্য করবেন। বাহ্যিক বিবেচনায় মুসলিমদের এই যুদ্ধে হেরে যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অপ্রত্যাশিতভাবে সাহায্য করেন। তিনি পাঠালেন নুআইম ইবন মাসউদ নামের এক ব্যক্তিকে।
নুআইম ইবন মাসউদ ছিলেন গাতফান গোত্রের। তিনি রাসূলুল্লাহর কাছে এসে বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। কিন্তু আমার গোত্রের লোকজন তা জানে না। আপনি আমাকে যা খুশি আদেশ করুন।' গাতফান মুসলিমদের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুসলিমরা টিকে থাকবে কি না কোনো ঠিক নেই। এমন সময়ে কেউ ইসলাম গ্রহণ করবে ভাবাই যায় না। কিন্তু এটাই ছিল আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহ চেয়েছিলেন তাকে আল্লাহর সৈনিক বানাবেন, তাই উপযুক্ত সময়ে তাকে বের করে এনেছেন।
রাসূলুল্লাহ নুআইমকে বললেন, 'তুমি একা একজন মানুষ, যদি আমাদের সেনাদলে যোগ দাও, তাতে পরিস্থিতি খুব বেশি হেরফের হবে না। কাজেই এমন কিছু করো যাতে শত্রুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। একটা কথা মনে রেখো, যুদ্ধ মানেই ধোঁকা।'
নুআইম ছিলেন বুদ্ধিমান লোক। তিনি জানতেন কে কার আদর্শিক শত্রু এবং কে কার কৌশলগত মিত্র। এই সহজ সমীকরণটি আবিষ্কার করে তিনি প্রথমে বনু কুরাইযার ইহুদিদের কাছে গেলেন। তাদের বললেন,
'দেখো তোমরাও আমাকে এতদিন ধরে চেনো, আমিও তোমাদের চিনি। আমাদের বন্ধুত্ব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তোমরা ভালো করেই জানো, আমি যদি তোমাদের কোনো উপদেশ দিই, সেটা তোমাদের ভালোর জন্যই। তোমরা আসলে বেশ বড়সড় একটা ভুল করেছ। মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধে নামতে চাচ্ছো, অথচ তোমরা থাকো কিন্তু এই মদীনাতেই। এখানে তোমাদের স্ত্রী-সন্তান আছে, সহায়-সম্পত্তি আছে। কুরাইশ আর গাতফানের অবস্থা কিন্তু তোমাদের মতো না, এটা তাদের দেশ না। তারা পরিবার-পরিজন সব ঠিকঠাক রেখে যুদ্ধে এসেছে। এখন যুদ্ধের সুযোগ পেয়ে যেমন এসেছে, তেমনি অবস্থা বেগতিক দেখলেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফেরত যাবে। তখন তোমাদের কী হবে ভেবেছো? তোমরা থাকবে মুহাম্মাদের হাতের মুঠোয়। তার সঙ্গে লড়ে তোমরা সুবিধা করতে পারবে না। তারচেয়ে বরং তোমাদের একটা বুদ্ধি দিই, শোনো: তোমরা কুরাইশদের নেতাদের থেকে কিছু লোককে বন্ধক হিসেবে তোমাদের কাছে রাখো। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে যুদ্ধ কোরো না। তাদের সাথে তোমরা যে চুক্তি করলে, তার নিশ্চয়তাস্বরূপ তাদের কিছু লোক তোমাদের জিম্মায় থাকুক, যুদ্ধ শেষ হলে তারপর ছেড়ে দেবে।'⁴³
তখনকার দিনে এভাবে কাউকে জিম্মি রাখা অস্বাভাবিক কোনো রীতি ছিল না। তাই বনু কুরায়যা নুআইমকে সন্দেহ করলো না। আর তার কথায় যুক্তিও ছিল, তাই তারা রাজি হয়ে গেল। এরপর নুআইম গেলেন কুরাইশদের কাছে, তাদের বললেন,
'তোমাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব নিয়ে আশা করি নতুন করে কিছু বলতে হবে না। তোমরা তো আমাকে চেনোই। আমি তোমাদের ভালোর জন্যই উপদেশ দেবো, সেটাও তোমরা জানো। আমার কানে একটা খবর এসেছে। তোমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে তোমাদের সেটা জানানো কর্তব্য বলে মনে করি। তোমরা হয়তো টের পাওনি, আমি শুনেছি, মুহাম্মাদের সাথে চুক্তি বাতিল করে ইহুদিরা এখন অনুতপ্ত। তারা তাঁর সাথে আবার পুরোনো চুক্তিতে ফিরে যেতে চায়। তারা যে আসলেই অনুতপ্ত সেটা প্রমাণ করার জন্য তারা মুহাম্মাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে এই বলে যে: আমরা আমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত। এই কাজের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ যদি আমরা কুরাইশ ও গাতফানদের কিছু নেতাকে আপনার হাতে তুলে দিই আর আপনি তাদের হত্যা করতে পারেন -- আপনি কি তাতে খুশি?
মুহাম্মাদ তাদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বলেই জানি। কাজেই ইহুদিরা যদি তোমাদের কাউকে জিম্মি হিসেবে নিয়ে যেতে চায় তাহলে সাবধান! ভুলেও তোমাদের কাউকে তাদের হাতে দিও না।'⁴⁴
এরপর তিনি গাতফান গোত্রের কাছে গিয়ে একই কথা পুনরাবৃত্তি করেন।
জোটের প্রত্যেকে নুআইমের কথা বিশ্বাস করলো আর তাদের নিজেদের মধ্যে জন্ম নিল অবিশ্বাস। কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি যে, নুআইম মুসলিম হয়ে এখন আল্লাহর রাসূলের পক্ষে কাজ করছে। এদিকে কুরাইশরাও অস্থির হয়ে ওঠে। তারা যে করেই হোক একটা দফারফা চাচ্ছিল। ইকরিমা ইবন আবু জাহলকে প্রতিনিধি হিসেবে তারা বনু কুরায়যার কাছে পাঠায়। সে বলে, 'দীর্ঘদিন অবরোধ করে আমরা বেশ ক্লান্ত। আমাদের ঘোড়া আর উটগুলো মারা যাচ্ছে। আমরা যুদ্ধের জন্য সরবরাহ চাই। তোমরা প্রস্তুতি নাও। আমরা আজকেই মুহাম্মাদের সাথে চিরতরে বোঝাপড়া করে ফেলি, তাকে খতম করে দিই।' ইহুদিরা বললো, 'আমরা তো শনিবারে যুদ্ধ করি না। আর তোমরা আদৌ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করবে কি না—সেটা নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। তাই জামানতস্বরূপ তোমাদের কিছু লোককে আমাদের কাছে দাও। মুহাম্মাদকে শেষ করা পর্যন্ত তারা আমাদের কাছেই থাকবে।'
ইকরিমা ফিরে এসে আবু সুফিয়ানকে এই খবর জানালে সে বলে, 'আরে! নুআইম তো ঠিক এই কথাটাই আমাদের বলেছিল।' আবু সুফিয়ান বনু কুরায়যার কাছে খবর পাঠায় যে, তারা ইহুদিদের কাছে কোনো কুরাইশিকে জিম্মি রাখবে না। সে কথা শুনে ইহুদিরা বললো, 'নুআইমের কথা দেখছি অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়ে গেল! এই কুরাইশের লোকেরা মোটেও আন্তরিক নয়। বিপদে পড়লে ঠিকই আমাদের ছেড়ে পালাবে। কুরাইশ আর গাতফানকে সাফ জানিয়ে দাও আমাদের হাতে তাদের কাউকে জিম্মি না দিলে আমরা তাদের সাথে নেই।'
নবীজি তখন আল্লাহর কাছে একটা দুআ করেছিলেন,
'হে আল্লাহ, হে কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! ঐ সম্মিলিত বাহিনীকে পরাস্ত করে দিন! তাদের পরাজিত করে দিন, তাদের নড়বড়ে করে দিন!'⁴⁵
তাঁর এই দুআ কবুল হয়েছিল, একটি বিশাল সামরিক জোটকে আল্লাহ ভেঙে দিলেন একটি মাত্র মানুষকে ব্যবহার করে—নুআইম ইবন মাসউদ। মুসলিমরা ঈমান, ধৈর্য, অধ্যবসায় আর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তাই আল্লাহও তাদের সাহায্য করলেন।
টিকাঃ
৪৩. সীরাত ইবন হিশাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৭।
৪৪. সীরাত ইবন হিশাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৮।
৪৫. সহীহ বুখারি, অধ্যায় দুআ, হাদীস ৮৭।
📄 গাতফানের সাথে চুক্তি ও নুআইমের ঘটনা থেকে শিক্ষা
১) রাসূলুল্লাহ চাচ্ছিলেন গাতফানকে জোট থেকে আলাদা করে দিতে। এটা হিকমাহর পরিচায়ক। কারণ সবার সাথে একসাথে যুদ্ধ এড়িয়ে যদি শত্রুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা যায় কিম্বা একটি অংশকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা যায়, তবে সেটাই উত্তম। কেননা তাতে শত্রুকে দুর্বল করে ফেলা যায়।
২) নেতার উচিত তার প্রত্যেকটা সৈনিক এবং উপকরণের উপযুক্ত ব্যবহার করা। সবাইকেই ময়দানের সৈনিক হতে হবে এমন নয়। রাসূল নুআইমের হাতে তরবারি তুলে দেননি। তিনি জানতেন কী কাজে তাঁকে ব্যবহার করা সর্বোত্তম। প্রত্যেককে তার উপযুক্ত কাজে উপযুক্ত পরিবেশে নিয়োগ করা উচিত।
📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বিতীয় সাহায্যঃ ঝড়ো বাতাস
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল প্রথমে মুসলিমদের সাহায্য করেছেন নুআইম ইবন মাসউদের মাধ্যমে। এর পরপরই তিনি পাঠান প্রচণ্ড ঝড়ো ঠান্ডা বাতাস আর ফেরেশতাদের বাহিনী, যা শত্রুদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়।
"হে মু'মিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতের কথা স্মরণ করো, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যাদেরকে তোমরা দেখতে না। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা দেখেন।” (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ৯)
এই হিমশীতল হাওয়ায় কুরাইশরা ধ্বংস হয়নি সত্যি, কিন্তু ভয়ানক বাতাসের তোড়ে তাদের মনে একটা ত্রাস সৃষ্টি হয়। ভয়াবহ সেই বাতাস, ভয়ানক সে বাতাসের জোর। তাঁবুর রশি ছিড়ে গেছে, রান্নার পাতিলগুলো উল্টে পড়ে কোথায় উড়ে গেছে। আলো নিভে গেছে, ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। সেই সাথে ফেরেশতারা চারপাশ থেকে চিৎকার করে বলে ওঠেন, আল্লাহু আকবার!
সব মিলিয়ে শত্রু শিবিরে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, গোত্রের নেতারা সব চিৎকার করে উঠলো, 'কে আছো! জলদি আসো! আমাকে বাঁচাও! বাঁচাও আমাকে!' প্রচণ্ড ভয়ে তাদের মনে হচ্ছিল তারা বুঝি মারাই যাবে। যুদ্ধ করার মতো মনোবল বা সাহস কিছুই আর অবশিষ্ট থাকলো না।
অদ্ভুত বিষয় হলো, এতকিছু হয়ে গেল অথচ মুসলিমরা কিছু টেরও পায়নি। এই বাতাস শুধু শত্রুশিবিরেই আক্রমণ করেছিল। আল-কুরতুবির মতে, এই বাতাস ছিল নবীজির একটি মু'জিযা।
📄 জোটবাহিনীর প্রস্থান
অবরোধের ক্লান্তি, হতাশা, কোন্দল আর সবশেষে ঝড়ো বাতাস সব মিলিয়ে কুরাইশরা মানসিকভাবে একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারা যেন আর কিছুই ভাবতে পারছিল না। রাসূলুল্লাহ তাঁদের অবস্থা ও কৌশল বোঝার জন্য একজন সাহাবিকে শত্রু ক্যাম্পে নজরদারি করার জন্য পাঠাতে চাইলেন। সবাইকে ডেকে বললেন, 'কে আছে যে আমাকে শত্রুর ব্যাপারে তথ্য এনে দেবে? যে এই কাজ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আমার সাথে স্থান দেবেন।'
চারদিকে পিনপতন নীরবতা।
রাসূলুল্লাহ আবার ডাকলেন। কেউ সাড়া দিল না। তারপর আবার।
সাহাবিরা সাধারণত ভালো কাজের সুযোগ পেলেই লুফে নিতেন। আল্লাহর রাসূলের আদেশ মানতে উন্মুখ হয়ে থাকতেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে কেউই জবাব দিল না। হিমশীতল রাত। বাইরে প্রচণ্ড ঠান্ডা। সারাদিনের ধকলের পর সবাই ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কাতর। এর মধ্যে শত্রুশিবিরের একেবারে ভেতরে গিয়ে খবর নিয়ে আসার মতো বিপজ্জনক মিশনে যাওয়ার অবস্থা কারোরই নেই।
রাসূলুল্লাহ আর অপেক্ষা করলেন না। তাঁর দক্ষ নজরে বেছে নিলেন সবচেয়ে উপযুক্ত সৈনিকটিকে। হুযাইফা ইবন আল-ইয়ামানের নাম ধরে ডেকে বললেন, 'হুযাইফা, তুমি যাও, শত্রুদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করে আনো। কিন্তু এমন কিছু করে তাদের উসকে দিও না যাতে করে তারা আমাদের বিরুদ্ধে আবার যুদ্ধে নেমে পড়ে।'
এতক্ষণ বিষয়টা ছিল ঐচ্ছিক। কিন্তু রাসূলুল্লাহ যখন সরাসরি আদেশ করলেন, হুযাইফাকে তাই যেতেই হলো। হুযাইফা ছিলেন বুদ্ধিমান, চোখ-কান খোলা, প্রত্যুৎপন্নমতি, পরিস্থিতি চট করে সামাল দিতে সক্ষম। হুযাইফা বের হলেন। বাইরে হাড়-কাঁপানো ঠান্ডা, কিন্তু হুযাইফা তার কিছুই টের পেলেন না। সবই আল্লাহর সাহায্য! সেই অন্ধকার রাত্রিতে হুযাইফার অভিজ্ঞতা তাঁর মুখেই শোনা যাক,
'আমি বের হয়ে এলাম, মনে হলো যেন উষ্ণ পানির ওপর হাঁটছি। সুযোগ বুঝে শত্রুদের ক্যাম্পে ঢুকে পড়লাম। গিয়ে দেখি লণ্ডভণ্ড অবস্থা। আবু সুফিয়ান আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে গা গরম করছে। তাকে দেখেই আমি আমার ধনুকে তীর বসিয়ে ফেললাম। তাকে হত্যা করতে যাবো, এমন সময় হঠাৎ মনে পড়ল, আল্লাহ রাসুল তো আমাকে নিষেধ করেছেন যেন উসকানিমূলক কোনো কাজ না করি। এই ভেবে আর কিছু করলাম না। কিন্তু আমি যদি চাইতাম, সেদিনই তাকে হত্যা করতে পারতাম।'
গভীর রাত। ঘুটঘুট অন্ধকার। আবু সুফিয়ানের হঠাৎ সন্দেহ হলো এই অন্ধকারের মাঝে শত্রুপক্ষের কেউ তো চাইলে ক্যাম্পের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে! সে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো, 'কুরাইশরা, তোমরা দেখে নাও তোমাদের পাশে কে আছে। সবাই সবার পাশের জনের পরিচয় জেনে নাও।'
হুযাইফা এ কথা শোনার পর এক সেকেন্ডও দেরি করলেন না। ঝট করে তাঁর ডান পাশের জনকে জিজ্ঞেস করলেন, 'অ্যাই, তুমি কে?' উত্তর এল, 'আমি মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান।' ডান পাশের জনকে জিজ্ঞেস করেই সঙ্গে সঙ্গে বাম দিকে ফিরলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কে?' বাম পাশ থেকে উত্তর এল, 'আমি আমর ইবন আল-আস।' হুযাইফা এত বুদ্ধিমত্তার সাথে পুরো ঘটনা ঘটালেন যে পাশের দুইজন সন্দেহই করলো না হুযাইফা বাইরের কেউ। তারা তাকে কিছু জিজ্ঞেসই করলো না।
'আমি আমার কাজ শেষ করে চলে এলাম। আসার সময় আবারও মনে হলো উষ্ণ পানির ওপর দিয়ে হাঁটছি। রাসূলুল্লাহর কাছে যখন ফিরে গেলাম, তখন বেশ ঠান্ডা লাগতে শুরু করলো। আমি যা যা দেখে এসেছি তা রাসূলুল্লাহকে জানালাম (শত্রুরা চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে)। তিনি তখন আমাকে তাঁর শরীর থেকে চাদর খুলে আমাকে জড়িয়ে দিলেন। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙলো ফজরের সময়ে, আল্লাহর রাসূল আমাকে ডাকছেন, এই যে ঘুমকাতুরে! ওঠো!'