📄 কূটনৈতিক যুদ্ধ
রাসূলুল্লাহ তাঁর শত্রুদের কার কী উদ্দেশ্য তা খুব ভালোই জানতেন। শত্রু বলতে তখন তিনটি ভিন্ন দল। বহিরাগত শত্রু মক্কার কুরাইশ আর গাতফান তো আছেই, সাথে যুক্ত হলো অভ্যন্তরীণ শত্রু ইহুদি গোত্র বনু কুরায়যা।
কুরাইশ আর ইহুদিদের সাথে মুসলিমদের বিরোধ ছিল ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বিরোধ। তারা নিছক অর্থ-সম্পদের জন্য লড়ছিল না। তারা জানতো মুসলিমদের দমন করতে না পারলে আরবে তাদের আদর্শ, প্রভাব, প্রতিপত্তি সবই বিলীন হয়ে যাবে। তাদের কাছে এটা টাকা-পয়সা থেকেও গুরুতর বিষয়। ইসলামের উত্থান মানে তাদের জন্য অস্তিত্বের প্রশ্ন। অন্যদিকে গাতফানের উদ্দেশ্য ছিল শুধুই অর্থনৈতিক স্বার্থ। কীভাবে নিজেদের পকেট ভারী করা যায় সেটাই তাদের একমাত্র চিন্তা। হোক তা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, কিংবা অন্য কারো বিরুদ্ধে। সমস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হচ্ছিল শত্রুপক্ষের একটি অংশের সাথে চুক্তি করে তাদের ঐক্য ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে এই অবরোধকে দুর্বল করে দেওয়া সহজ হবে। চুক্তির জন্য আল্লাহর রাসূল বেছে নিলেন গাতফান গোত্রকে।
জিহাদ যুদ্ধক্ষেত্রের ইবাদত বটে, কিন্তু কেবল সামরিক শক্তিই সবকিছু নয়। জিহাদকে সফল করতে চাই রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কূটনৈতিক পারদর্শিতা। গাতফানের সাথে চুক্তি করার বিষয়টা আল্লাহর রাসূলের অসাধারণ কূটনৈতিক পারদর্শিতাই প্রমাণ করে।
গাতফানের নেতাদের প্রস্তাব করা হলো, যদি তারা কুরাইশ-ইহুদির সম্মিলিত জোট ভেঙে চলে যায় আর মুসলিমদের সাথে শান্তিচুক্তি করে তাহলে মদীনার এক বছরে যত ফসল হয় তার তিন ভাগের এক ভাগ তাদের দিয়ে দেওয়া হবে। যুদ্ধ না করেই এতগুলো শস্য পেয়ে যাওয়া কম কথা নয়! তারা অনায়াসে রাজি হয়ে গেল। চুক্তিপত্র লেখা হলো, বাকি থাকলো স্বাক্ষর করে চূড়ান্ত করা।
কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের আগে রাসূলুল্লাহ আনসারদের সাথে আলাপ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কেননা মদীনার সিংহভাগ ফসলের মালিক ছিল এই আনসাররাই। তিনি আনসারদের দুই নেতা, সাদ ইবন মুআয এবং সাদ ইবন উবাদাহকে গাতফানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়টি জানালেন।
সাদ ইবন মুআয মনোযোগ দিয়ে সব শুনলেন। এরপর বললেন,
- হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কেন এই চুক্তি করতে চান? এটা কি আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা নাকি আল্লাহর আদেশ? আল্লাহ তাআলার আদেশ হলে তো মানা অবশ্য কর্তব্য, আর আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা হলেও আমরা মাথা পেতে নেব। তবে আপনি যদি আমাদের ভালোর কথা ভেবে এই চুক্তি করতে চেয়ে থাকেন, সে ক্ষেত্রে আমাদের আপত্তি আছে।
রাসূলুল্লাহ উত্তর দিলেন,
- আমি তোমাদের স্বার্থেই এই চুক্তিটি করতে চাই। আরবরা সবাই তোমাদের বিরুদ্ধে এক হয়েছে, সবদিক থেকে তোমার ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। এই চুক্তি করা হলে তোমাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে আমি মনে করি।
কঠিন এক মুহূর্ত। দীর্ঘ বিশ দিন ধরে শত্রুরা মদীনা অবরোধ করে রেখেছে। মুসলিমরা ক্লান্ত। এ অবস্থায় কতদিন নিজেদের মনোবল ধরে রাখা সম্ভব, সেটা একটা প্রশ্ন বটে। দশ হাজার সেনাদল যদি মদীনায় ঢুকে পড়ে, হয়তো মৃত্যুই হবে মুসলিমদের পরিণতি। অন্যদিকে এই ধরনের একটা চুক্তিতে নিশ্চিতভাবে মুসলিমরা উপকৃত হবে। তবুও সেই বিপদের ঘনঘটায় অবিচল সাদ দৃঢ়তার সাথে বলে উঠলেন, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা একটা সময় মুশরিক ছিলাম। গাতফানরাও মুশরিক। আমরা আল্লাহর ইবাদত করতাম না, মূর্তিপূজা করতাম। আল্লাহ যে কে—সেটাই তখন জানতাম না। সেই (জাহিলিয়াতের) সময়ের কথা বলছি, এই গাতফানের লোকেরা আমাদের কাছ থেকে একটা খেজুর কেড়ে নেবার কথা স্বপ্নেও ভাবেনি। হয় তারা আমাদের অতিথি হিসেবে এসে আমাদের খেজুর খেতে পেরেছে, নয়ত নিজের পয়সা দিয়ে কিনে খেয়েছে। আর আজকে আল্লাহ তাআলা দ্বীন ইসলাম দিয়ে আমাদের ধন্য করেছেন, আমাদের হিদায়াত দিয়েছেন, আপনাকে আমাদের মাঝে পাঠিয়ে আমাদের সম্মানিত করেছেন -- আজ কি না আমরা আমাদের সম্পত্তি ওদের হাতে তুলে দেবো? এমন চুক্তির আমাদের প্রয়োজন নেই, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আল্লাহর কসম করে বলছি, ওদের আমরা কিচ্ছু দেবো না। ওদের জন্য আমাদের তরবারিগুলো উঁচিয়ে ধরবো -- যতক্ষণ না মহান আল্লাহ আমাদের আর ওদের মাঝে ফয়সালা করে দেন।'⁴²
উত্তরে রাসূলুল্লাহ বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা যা ভালো মনে করো।' সাদ ইবন মুআয তখন রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে চুক্তিপত্রের দলিল নিয়ে লেখাগুলো মুছে ফেললেন। বললেন, 'এবার তারা আমার সাথে লড়াই করুক।'
টিকাঃ
৪২. সীরাত ইবন হিশাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২২।
📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রথম সাহায্য: নুআইম ইবন মাসউদ ؓ
পরিস্থিতির এই পর্যায় পর্যন্ত মুসলিমরা আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রেখেছে, তাঁর ওপর ভরসা করে এসেছে এবং দ্বীন ইসলামের আদর্শে অটল থেকেছে। ঈমানের পরীক্ষায় মুসলিমরা বিজয়ী হয়েছে, তাই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সাহায্য করবেন। বাহ্যিক বিবেচনায় মুসলিমদের এই যুদ্ধে হেরে যাওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের অপ্রত্যাশিতভাবে সাহায্য করেন। তিনি পাঠালেন নুআইম ইবন মাসউদ নামের এক ব্যক্তিকে।
নুআইম ইবন মাসউদ ছিলেন গাতফান গোত্রের। তিনি রাসূলুল্লাহর কাছে এসে বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। কিন্তু আমার গোত্রের লোকজন তা জানে না। আপনি আমাকে যা খুশি আদেশ করুন।' গাতফান মুসলিমদের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুসলিমরা টিকে থাকবে কি না কোনো ঠিক নেই। এমন সময়ে কেউ ইসলাম গ্রহণ করবে ভাবাই যায় না। কিন্তু এটাই ছিল আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহ চেয়েছিলেন তাকে আল্লাহর সৈনিক বানাবেন, তাই উপযুক্ত সময়ে তাকে বের করে এনেছেন।
রাসূলুল্লাহ নুআইমকে বললেন, 'তুমি একা একজন মানুষ, যদি আমাদের সেনাদলে যোগ দাও, তাতে পরিস্থিতি খুব বেশি হেরফের হবে না। কাজেই এমন কিছু করো যাতে শত্রুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। একটা কথা মনে রেখো, যুদ্ধ মানেই ধোঁকা।'
নুআইম ছিলেন বুদ্ধিমান লোক। তিনি জানতেন কে কার আদর্শিক শত্রু এবং কে কার কৌশলগত মিত্র। এই সহজ সমীকরণটি আবিষ্কার করে তিনি প্রথমে বনু কুরাইযার ইহুদিদের কাছে গেলেন। তাদের বললেন,
'দেখো তোমরাও আমাকে এতদিন ধরে চেনো, আমিও তোমাদের চিনি। আমাদের বন্ধুত্ব নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তোমরা ভালো করেই জানো, আমি যদি তোমাদের কোনো উপদেশ দিই, সেটা তোমাদের ভালোর জন্যই। তোমরা আসলে বেশ বড়সড় একটা ভুল করেছ। মুহাম্মাদের বিরুদ্ধে তোমরা যুদ্ধে নামতে চাচ্ছো, অথচ তোমরা থাকো কিন্তু এই মদীনাতেই। এখানে তোমাদের স্ত্রী-সন্তান আছে, সহায়-সম্পত্তি আছে। কুরাইশ আর গাতফানের অবস্থা কিন্তু তোমাদের মতো না, এটা তাদের দেশ না। তারা পরিবার-পরিজন সব ঠিকঠাক রেখে যুদ্ধে এসেছে। এখন যুদ্ধের সুযোগ পেয়ে যেমন এসেছে, তেমনি অবস্থা বেগতিক দেখলেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে ফেরত যাবে। তখন তোমাদের কী হবে ভেবেছো? তোমরা থাকবে মুহাম্মাদের হাতের মুঠোয়। তার সঙ্গে লড়ে তোমরা সুবিধা করতে পারবে না। তারচেয়ে বরং তোমাদের একটা বুদ্ধি দিই, শোনো: তোমরা কুরাইশদের নেতাদের থেকে কিছু লোককে বন্ধক হিসেবে তোমাদের কাছে রাখো। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে যুদ্ধ কোরো না। তাদের সাথে তোমরা যে চুক্তি করলে, তার নিশ্চয়তাস্বরূপ তাদের কিছু লোক তোমাদের জিম্মায় থাকুক, যুদ্ধ শেষ হলে তারপর ছেড়ে দেবে।'⁴³
তখনকার দিনে এভাবে কাউকে জিম্মি রাখা অস্বাভাবিক কোনো রীতি ছিল না। তাই বনু কুরায়যা নুআইমকে সন্দেহ করলো না। আর তার কথায় যুক্তিও ছিল, তাই তারা রাজি হয়ে গেল। এরপর নুআইম গেলেন কুরাইশদের কাছে, তাদের বললেন,
'তোমাদের সাথে আমার বন্ধুত্ব নিয়ে আশা করি নতুন করে কিছু বলতে হবে না। তোমরা তো আমাকে চেনোই। আমি তোমাদের ভালোর জন্যই উপদেশ দেবো, সেটাও তোমরা জানো। আমার কানে একটা খবর এসেছে। তোমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে তোমাদের সেটা জানানো কর্তব্য বলে মনে করি। তোমরা হয়তো টের পাওনি, আমি শুনেছি, মুহাম্মাদের সাথে চুক্তি বাতিল করে ইহুদিরা এখন অনুতপ্ত। তারা তাঁর সাথে আবার পুরোনো চুক্তিতে ফিরে যেতে চায়। তারা যে আসলেই অনুতপ্ত সেটা প্রমাণ করার জন্য তারা মুহাম্মাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে এই বলে যে: আমরা আমাদের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত। এই কাজের প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ যদি আমরা কুরাইশ ও গাতফানদের কিছু নেতাকে আপনার হাতে তুলে দিই আর আপনি তাদের হত্যা করতে পারেন -- আপনি কি তাতে খুশি?
মুহাম্মাদ তাদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে বলেই জানি। কাজেই ইহুদিরা যদি তোমাদের কাউকে জিম্মি হিসেবে নিয়ে যেতে চায় তাহলে সাবধান! ভুলেও তোমাদের কাউকে তাদের হাতে দিও না।'⁴⁴
এরপর তিনি গাতফান গোত্রের কাছে গিয়ে একই কথা পুনরাবৃত্তি করেন।
জোটের প্রত্যেকে নুআইমের কথা বিশ্বাস করলো আর তাদের নিজেদের মধ্যে জন্ম নিল অবিশ্বাস। কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি যে, নুআইম মুসলিম হয়ে এখন আল্লাহর রাসূলের পক্ষে কাজ করছে। এদিকে কুরাইশরাও অস্থির হয়ে ওঠে। তারা যে করেই হোক একটা দফারফা চাচ্ছিল। ইকরিমা ইবন আবু জাহলকে প্রতিনিধি হিসেবে তারা বনু কুরায়যার কাছে পাঠায়। সে বলে, 'দীর্ঘদিন অবরোধ করে আমরা বেশ ক্লান্ত। আমাদের ঘোড়া আর উটগুলো মারা যাচ্ছে। আমরা যুদ্ধের জন্য সরবরাহ চাই। তোমরা প্রস্তুতি নাও। আমরা আজকেই মুহাম্মাদের সাথে চিরতরে বোঝাপড়া করে ফেলি, তাকে খতম করে দিই।' ইহুদিরা বললো, 'আমরা তো শনিবারে যুদ্ধ করি না। আর তোমরা আদৌ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করবে কি না—সেটা নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। তাই জামানতস্বরূপ তোমাদের কিছু লোককে আমাদের কাছে দাও। মুহাম্মাদকে শেষ করা পর্যন্ত তারা আমাদের কাছেই থাকবে।'
ইকরিমা ফিরে এসে আবু সুফিয়ানকে এই খবর জানালে সে বলে, 'আরে! নুআইম তো ঠিক এই কথাটাই আমাদের বলেছিল।' আবু সুফিয়ান বনু কুরায়যার কাছে খবর পাঠায় যে, তারা ইহুদিদের কাছে কোনো কুরাইশিকে জিম্মি রাখবে না। সে কথা শুনে ইহুদিরা বললো, 'নুআইমের কথা দেখছি অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়ে গেল! এই কুরাইশের লোকেরা মোটেও আন্তরিক নয়। বিপদে পড়লে ঠিকই আমাদের ছেড়ে পালাবে। কুরাইশ আর গাতফানকে সাফ জানিয়ে দাও আমাদের হাতে তাদের কাউকে জিম্মি না দিলে আমরা তাদের সাথে নেই।'
নবীজি তখন আল্লাহর কাছে একটা দুআ করেছিলেন,
'হে আল্লাহ, হে কিতাব নাযিলকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! ঐ সম্মিলিত বাহিনীকে পরাস্ত করে দিন! তাদের পরাজিত করে দিন, তাদের নড়বড়ে করে দিন!'⁴⁵
তাঁর এই দুআ কবুল হয়েছিল, একটি বিশাল সামরিক জোটকে আল্লাহ ভেঙে দিলেন একটি মাত্র মানুষকে ব্যবহার করে—নুআইম ইবন মাসউদ। মুসলিমরা ঈমান, ধৈর্য, অধ্যবসায় আর আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তাই আল্লাহও তাদের সাহায্য করলেন।
টিকাঃ
৪৩. সীরাত ইবন হিশাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৭।
৪৪. সীরাত ইবন হিশাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৮।
৪৫. সহীহ বুখারি, অধ্যায় দুআ, হাদীস ৮৭।
📄 গাতফানের সাথে চুক্তি ও নুআইমের ঘটনা থেকে শিক্ষা
১) রাসূলুল্লাহ চাচ্ছিলেন গাতফানকে জোট থেকে আলাদা করে দিতে। এটা হিকমাহর পরিচায়ক। কারণ সবার সাথে একসাথে যুদ্ধ এড়িয়ে যদি শত্রুদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা যায় কিম্বা একটি অংশকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলা যায়, তবে সেটাই উত্তম। কেননা তাতে শত্রুকে দুর্বল করে ফেলা যায়।
২) নেতার উচিত তার প্রত্যেকটা সৈনিক এবং উপকরণের উপযুক্ত ব্যবহার করা। সবাইকেই ময়দানের সৈনিক হতে হবে এমন নয়। রাসূল নুআইমের হাতে তরবারি তুলে দেননি। তিনি জানতেন কী কাজে তাঁকে ব্যবহার করা সর্বোত্তম। প্রত্যেককে তার উপযুক্ত কাজে উপযুক্ত পরিবেশে নিয়োগ করা উচিত।
📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে দ্বিতীয় সাহায্যঃ ঝড়ো বাতাস
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল প্রথমে মুসলিমদের সাহায্য করেছেন নুআইম ইবন মাসউদের মাধ্যমে। এর পরপরই তিনি পাঠান প্রচণ্ড ঝড়ো ঠান্ডা বাতাস আর ফেরেশতাদের বাহিনী, যা শত্রুদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয়।
"হে মু'মিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিআমতের কথা স্মরণ করো, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যাদেরকে তোমরা দেখতে না। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা দেখেন।” (সূরা আল-আহযাব, ৩৩: ৯)
এই হিমশীতল হাওয়ায় কুরাইশরা ধ্বংস হয়নি সত্যি, কিন্তু ভয়ানক বাতাসের তোড়ে তাদের মনে একটা ত্রাস সৃষ্টি হয়। ভয়াবহ সেই বাতাস, ভয়ানক সে বাতাসের জোর। তাঁবুর রশি ছিড়ে গেছে, রান্নার পাতিলগুলো উল্টে পড়ে কোথায় উড়ে গেছে। আলো নিভে গেছে, ঘরবাড়ি তছনছ হয়ে গেছে। সেই সাথে ফেরেশতারা চারপাশ থেকে চিৎকার করে বলে ওঠেন, আল্লাহু আকবার!
সব মিলিয়ে শত্রু শিবিরে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, গোত্রের নেতারা সব চিৎকার করে উঠলো, 'কে আছো! জলদি আসো! আমাকে বাঁচাও! বাঁচাও আমাকে!' প্রচণ্ড ভয়ে তাদের মনে হচ্ছিল তারা বুঝি মারাই যাবে। যুদ্ধ করার মতো মনোবল বা সাহস কিছুই আর অবশিষ্ট থাকলো না।
অদ্ভুত বিষয় হলো, এতকিছু হয়ে গেল অথচ মুসলিমরা কিছু টেরও পায়নি। এই বাতাস শুধু শত্রুশিবিরেই আক্রমণ করেছিল। আল-কুরতুবির মতে, এই বাতাস ছিল নবীজির একটি মু'জিযা।