📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 যুদ্ধের কারণ

📄 যুদ্ধের কারণ


খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয় হিজরী ৫ ম বর্ষের শাওয়াল মাসে। সেই যে বনু নাযির গোত্রকে মদীনা থেকে বের করে দেওয়া হলো, এরপর তারা তাদের বাক্স-পেটরা, ধন-দৌলত নিয়ে আশ্রয় নিল খাইবারে। ইহুদিরা মুসলিমদের প্রতি শত্রুতা করে কখনো ক্লান্ত হয় না। খাইবারে এসেও তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। পরিকল্পনা করলো একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক জোট গঠন করার। মুসলিমদের অগ্রগতি দমন করতে এরচেয়ে ভালো কোনো রাস্তা তাদের মাথায় আসলো না। তাদের নেতারা মক্কায় সফর করে। সফরে প্রতিনিধিদলে ছিল সালাম ইবন আবি আল হুকাইক, হুয়াই ইবন আখতাব, কুনানাহ ইবন আর-রাবী, হাউযাহ ইবন কাইস প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

সফরের উদ্দেশ্য সফল হয়। কুরাইশ, গাতফান ও তাদের আরও কিছু মিত্রশক্তি একটি সম্মিলিত সামরিক জোট গঠনের মাধ্যমে মদীনা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। ইহুদি ও কুরাইশদের সাথে মুসলিমদের বিরোধ ছিল প্রতিটি ফ্রন্টে—ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক। কিন্তু গাতফান গোত্রের ব্যাপারটা ভিন্ন। তাদের এই জোটে অংশ নেওয়ার একটাই কারণ, অর্থনৈতিক স্বার্থ—মদীনার গনিমতের মালে ভাগ পাওয়া। এই সম্মিলিত জোটে সৈন্য ছিল দশ হাজার, যার ছয় হাজারই সরবরাহ করে বনু গাতফান ও তাদের মিত্রশক্তি। বিনিময়ে তারা খাইবারের এক বছরের খেজুর পাবে। আর বাকি চার হাজার সৈন্য সরবরাহ করে কুরাইশ ও তাদের মিত্রশক্তি। ইহুদিদের নিজস্ব তেমন কোনো লোকবল ছিল না।

ইলম ও পাণ্ডিত্যের কারণে ইহুদিদের আরবরা সমীহ করতো। তারা পড়াশোনা করতো, তাদের মাঝে আলিম ছিল। এই বৈঠকে মক্কার মুশরিকরা ইহুদিদের জিজ্ঞেস করে, 'আচ্ছা, তোমরা তো ধর্মের ব্যাপারে অনেক জ্ঞান রাখো। একটা কথা বলো তো, কারা সঠিক পথে আছে আমরা নাকি মুহাম্মাদ?' ইহুদিরা তখন উত্তর দেয়, 'তোমরাই সঠিক পথে আছো।'³⁸ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আয়াত নাযিল করলেন,

"তুমি কি তাদেরকে দেখোনি, যারা কিতাবের কিছু অংশ প্রাপ্ত হয়েছে, যারা মান্য করে প্রতিমা ও শয়তানকে এবং কাফিরদেরকে বলে যে, এরা মুসলমানদের তুলনায় অধিকতর সরল সঠিক পথে রয়েছে? এরা হলো সে সমস্ত লোক, যাদের ওপর লা'নত করেছেন আল্লাহ তাআলা স্বয়ং। বস্তুতঃ আল্লাহ যার ওপর লা'নত করেন তুমি তার কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না।” (সূরা নিসা, ৪: ৫১-৫২)

আক্বীদা বিশ্বাসের বিবেচনায় ইহুদি ও মুসলিমদের মধ্যে বেশ কিছু মিল আছে। ইহুদিরা ভালো করেই জানতো মুসলিমরা বিশুদ্ধ তাওহীদে বিশ্বাস করে। অন্যদিকে মুশরিকদের সাথে তাওহীদের যোজন যোজন দূরত্ব। তবুও শুধুমাত্র হিংসা, শত্রুতা আর অন্ধ বিদ্বেষে তারা মূর্তিপূজারি কুরাইশদের ধর্মকে সঠিক বলে দেয়। ওদিকে ইহুদিদের কাছ থেকে মনমতো 'ফতোয়া' পেয়ে কুরাইশরাও বিপুল উৎসাহে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

টিকাঃ
৩৮. সীরাত ইবন হিশাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৪।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 মুসলিম পক্ষ

📄 মুসলিম পক্ষ


সামরিক জোটের খবর রাসূলুল্লাহ ﷺ সবাই জানতে পারলেন। জরুরি ভিত্তিতে শুরা ডাকা হলো। এই পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে সাহাবিদের সাথে পরামর্শ হবে। কিন্তু কেউই তেমন বাস্তবসম্মত বা কার্যকরী কোনো বুদ্ধি দিতে পারলো না। এবার মুখ খুললেন সালমান আল ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু। এই সেই সাহাবি যিনি সত্যের সন্ধানে বহু দেশ ঘুরে অবশেষে ইসলামের দেখা পেয়েছিলেন। তিনি হঠাৎ তাঁর দেশের কথা তুললেন, পারস্যের অভিজ্ঞতার কথা। বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি যখন পারস্যে ছিলাম, তখন ঘোড়সওয়ারি শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কা থাকলে পরিখা খনন করতাম। আমার মনে হয় আপনি এই পরিকল্পনাটি বিবেচনা করে দেখতে পারেন।'

প্রস্তাবটি রাসূলুল্লাহর ﷺ মনে ধরল। বাকি সাহাবিদেরও বেশ পছন্দ হলো। পরিখা খননের জন্য বেছে নেওয়া হলো মদীনার উত্তর দিক। এ দিকটাতেই শত্রুপক্ষের আক্রমণ করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মদীনার পূর্ব-পশ্চিম দুই দিকেই পাথুরে পাহাড়ি অঞ্চল, আর দক্ষিণে ঘন সন্নিবেশিত ঘরবাড়ি, কৃষিজমি। অর্থাৎ মদীনার উত্তর দিকটাই ছিল সবচাইতে অরক্ষিত।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 পরিখা খনন

📄 পরিখা খনন


পরিখা খনন শুরুর আগে রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রথমে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তাদের বনু হারিসার দুর্গে পাঠিয়ে দেন যেন তারা নিরাপদে থাকে। এরপর শুরু হলো পরিখা খনন। পরিখা খনন যেমন-তেমন কাজ না, কঠিন কাজ! আর সীমিত লোকবল নিয়ে এই কাজ করা তো রীতিমতো অসম্ভব ব্যাপার। মানুষজন উত্তেজিত, উদভ্রান্ত। এমন সংকটের মুহূর্তে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাওয়া সহজ নয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহর অসাধারণ ব্যবস্থাপনায় পরিখা খননের কাজটি সহজ হয়ে গেল। সাহাবিদেরকে দশ জনের ছোট ছোট দলে ভাগ করে দিলেন। প্রতিটি দলের ওপর দায়িত্ব ছিল চল্লিশ হাত খনন করা। এভাবে করে পুরো উত্তর দিকজুড়ে নিয়োজিত হলো সাহাবিদের অনেকগুলো দল। খননের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারলে এই পরিখাই মদীনাকে দেবে সুদৃঢ় নিরাপত্তা।

খননের কাজ শুরু হলো খুব প্রতিকূল আবহাওয়ায়। প্রচণ্ড শীত, কনকনে বাতাস। এরই মাঝে চলছে ঠুকঠুক করে মাটি খনন। রাসূলুল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো জায়গা থেকে সরার অনুমতি নেই। নয় জন মাটি কাটে, এক জন পাহারা দেয়। এভাবে পালাবদল করে কাজ চলতে থাকে। মাটি কাটার জন্য কোনো যন্ত্র নেই, নেই অত্যাধুনিক কোনো ব্যবস্থা। নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে সেগুলোকে বহন করে নিয়ে যেতে হচ্ছে। শারীরিক কষ্ট তো আছেই, তার ওপর যোগ হয়েছে প্রচণ্ড মানসিক চাপ আর শঙ্কা। যেকোনো মুহূর্তে শত্রুরা চলে আসতে পারে।

নেতা ও সামরিক কমান্ডাররা সাধারণত পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা আর নির্দেশ প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ নেতার আসনে বসে থাকেননি। নিজেই নেমে পড়লেন পরিখা খননে। পৃথিবীর কজন নেতা অনুসারীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছোটখাটো কাজ করে? রাসূলুল্লাহ করেছিলেন। সারা বিশ্বের নেতা হয়ে তিনি মাটি কেটেছেন। তাঁর চোখ-মুখ-গা ধুলোয় ধূসরিত হয়েছে।

শুধু গায়ের জোরে কতক্ষণ টেকা যায়? কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ চালাতে হলে চাই প্রচণ্ড মনোবল, তীব্র উৎসাহ আর উদ্দীপনা। রাসূলুল্লাহ পুরো সময়টা জুড়ে সাহাবিদের মনোবল চাঙ্গা রাখেন। আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা কবিতা আবৃত্তি শুরু করেন। আনাস ইবন মালিক সেদিনের বর্ণনা দিয়ে বলেন,

'আনসার ও মুহাজিরগণ একদিন ভোরে তীব্র শীতের মধ্যে পরিখা খনন করছিলেন। তাদের কোনো ক্রীতদাস ছিল না, যাদেরকে দিয়ে এই কাজ করিয়ে নেবেন। রাসূলুল্লাহ বের হয়ে পরিখা খননের স্থানে উপস্থিত হলেন। সাহাবিদের ক্ষুধায় ক্লিষ্টতা ও কষ্ট দেখে বললেন, হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আখিরাতের সুখই প্রকৃত সুখ। তুমি আনসার আর মুহাজিরদেরকে ক্ষমা করে দাও।

সাহাবিরা উত্তরে বললেন, আমরা তো সব বাইয়াত করেছি মুহাম্মাদের হাতে, জিহাদ করবো, লড়ে যাব, দেহে যতদিন প্রাণ থাকে।

সে সময় সাহাবিদের খাবার হিসেবে বরাদ্দ ছিল এক মুঠো যব। বাসি চর্বিতে মিশিয়ে সেই যব রান্না করা হতো। বড় বিস্বাদ সে খাবার, বড় দুর্গন্ধময়।'³⁹

নেতৃত্বের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত সেদিন রচিত হলো। আল্লাহর রাসূল কবিতা পড়ছেন, সাহাবিরাও সমবেত কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি করে পরস্পরকে অনুপ্রাণিত করছে। এভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিখা খননের কাজ সহজ হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাআলা এই আন্তরিক মানুষগুলোর ব্যাপারে আয়াত নাযিল করলেন,

"মু'মিন তো তারাই, যারা আল্লাহর ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং রাসূলের সাথে কোনো সমষ্টিগত কাজে শরীক হলে তাঁর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণ না করে চলে যায় না। যারা আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে। অতএব তারা আপনার কাছে তাদের কোনো কাজের জন্যে অনুমতি চাইলে আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, মেহেরবান।" (সূরা নূর, ২৪: ৬২)

জিহাদ এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে মু'মিন ও মুনাফিকদের আচরণে পার্থক্য স্পষ্ট হয়। জিহাদের ব্যাপারে মুনাফিকদের কখনোই মু'মিনদের মতো উৎসাহ থাকবে না। খন্দকের যুদ্ধে জরুরি প্রয়োজনে মু'মিনরা রাসূলুল্লাহর অনুমতি নিয়ে কাজ থেকে বিরতি নিতেন। প্রয়োজন মেটাতে শহরের ভেতরে যেতেন এবং দ্রুত চলে আসতেন। অন্যদিকে মুনাফিকরা ছোটখাটো অজুহাত দিয়ে কাজে ফাঁকি দিতে থাকে। এমনকি অনুমতি না নিয়েই ভেতরে চলে যায়। আল্লাহ তাদের ব্যাপারে বলেছেন,

"রাসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহবানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।” (সূরা নিসা, ২৪: ৬৩)

সাহাবিরা পরিখা খননের কাজ শেষ করলেন। কুরাইশ ও গাতফান বাহিনী মদীনার কাছে চলে আসে। পরিখা দেখে তারা হতচকিত হয়ে যায়। তারা এরকম কিছু আশাই করেনি! তারা ভাবছিল দশ হাজার সৈন্য নিয়ে হামলা চালিয়ে খুব সহজে মদীনা দখল করে ফেলবে। তাদের মনোবলে কিছুটা ভাটা পড়ে গেল। কেননা তারা এসেছিল সর্বাত্মক হামলার প্রস্তুতি নিয়ে। মদীনাকে অবরোধ করে রাখা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

টিকাঃ
৩৯. সহীহ বুখারি, অধ্যায় ৬৪ মাঘাজি, হাদীস ১৪৪।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 দ্বন্দ্বযুদ্ধ: আলী ؓ বনাম আমর ইবন আবদ আল-উদ

📄 দ্বন্দ্বযুদ্ধ: আলী ؓ বনাম আমর ইবন আবদ আল-উদ


খন্দকের যুদ্ধে বদর বা উহুদের মতো মুখোমুখি যুদ্ধ হয়নি, কিন্তু অনেকগুলো ছোট ছোট খণ্ডযুদ্ধ হয়। জোট বাহিনী বিভিন্নভাবে মদীনায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা চালায়, কিন্তু সেটা তারা করতে পারেনি।

আমর ইবন আব্দ আল-উদ ছিল কুরাইশদের এক জনপ্রিয় বীরযোদ্ধা। সে মুসলিমদের উদ্দেশ্যে দ্বৈতযুদ্ধের জন্য চ্যালেঞ্জ করে, 'কে আছে আমার সাথে লড়বে?'

আলী এগিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহকে বললেন, 'আমি যেতে চাই আল্লাহর রাসূল।'

রাসূলুল্লাহ বললেন, 'তুমি যেও না। ও হলো আমর ইবন আব্দ আল-উদ।' আমর ছিল বেশ শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, তাই রাসূলুল্লাহ আলীকে নিরুৎসাহিত করলেন।

আমর তখন টিটকারি মেরে বলে উঠলো, 'কী হলো! তোমাদের কি একজনও নেই? কোথায় তোমাদের সেই জান্নাত যেখানে তোমরা শহীদ হলে যেতে পারবে?'

আলী আবার উঠে দাঁড়ালেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ না করলেন। আমর তৃতীয়বার চ্যালেঞ্জ জানালে আলী আবার অনুমতি চান। রাসূলুল্লাহ বললেন,
- আলী! বোঝার চেষ্টা করো। এটা হচ্ছে আমর ইবন আব্দ আল-উদ!
- হোক, তবুও আমি লড়বো।

এরপর রাসূলুল্লাহর অনুমতি পেয়ে আলী এগিয়ে গেলেন দ্বৈতযুদ্ধে। আমর আলীকে জিজ্ঞেস করলো,
- কে তুমি?
- আমি আলী।
- আবদ মানাফের ছেলে আলী?
- না, আমি আবু তালিবের ছেলে আলী।
- দেখো, ভাতিজা, তোমার চাচাগোছের কেউ নেই লড়াই করার জন্য? তোমার রক্ত ঝরানোর কোনো ইচ্ছা আমার নেই।
- কিন্তু আমার আছে! আল্লাহর কসম করে বলছি!

আমর ক্ষেপে গিয়ে আলীর বর্মে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করলো। সেই আঘাতে বর্ম ভেঙে আলী মাথায় আঘাত পেয়ে যান। আমরের তলোয়ার আলীর বর্মে আটকে যায়। আলী তখন আমরের ঘাড়ে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে ফেলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px