📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 ইফকের ঘটনা থেকে শিক্ষা

📄 ইফকের ঘটনা থেকে শিক্ষা


১) কোনো মুসলিম পুরুষ বা নারীর প্রতি মিথ্যা দোষারোপ করা একটি কবীরা গুনাহ।

২) এ দুঃখজনক ঘটনার মাঝেও ভালো কিছু ব্যাপার আছে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেছেন, তোমরা একে নিজেদের জন্যে খারাপ মনে করো না; বরং এটা তোমাদের জন্যে মঙ্গলজনক।

৩) মুসলিমদের উচিত অন্য মুসলিম ভাইবোনের মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া এবং তাদের ব্যাপারে সুধারণা রাখা। আল্লাহ বলেছেন, "তোমরা যখন এ কথা শুনলে, তখন ঈমানদার পুরুষ ও নারীগণ কেন নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করোনি এবং বলোনি যে, এটা তো নির্জলা অপবাদ?"

৪) অশ্লীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা মু'মিনের বৈশিষ্ট্য নয়। আল্লাহ বলেছেন, "যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।" (সূরা নূর, ২৪: ১৯)

৫) যে বা যারা উম্মুল মু'মিনীনের চরিত্রে অপবাদ দেয় তারা কাফির -- এই ব্যাপারে আলিমদের ঐক্যমত আছে। কারণ স্বয়ং আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্ট করে আইশার চরিত্রের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন।

৬) কারো প্রতি রাগ বা ক্ষোভ যেন আমাদেরকে ভালো কাজ থেকে বা তার প্রতি ইনসাফ করা থেকে বিরত না রাখে। আবু বকর মিসতাহকে আর সাহায্য করবেন না বলে কসম করেছিলেন, কিন্তু আল্লাহ আয়াত নাযিল করলে তিনি তাঁকে ক্ষমা করে দেন এবং সাহায্য অব্যাহত রাখেন।

৭) কোনো নারীর বিরুদ্ধে যিনার অভিযোগ আনা একটি গুরুতর অপরাধ।

৮) মুহাম্মাদ ছিলেন মানুষ, রক্ত-মাংসের মানুষ। কষ্ট তাঁরও হতো, দুঃখ তিনিও পেতেন। এক মাস ধরে যখন লোকেরা তাঁর স্ত্রীর নামে আজেবাজে কথা বলেছে, তখন তাঁর কষ্ট হয়েছে।

৯) যদি কেউ কোনো মুসলিমের ওপর যিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগ আনে, তবে তাকে চারজন সাক্ষী হাজির করতে হবে। তা না হলে অভিযোগকারীকেই ৮০টি বেত্রাঘাত করা হবে।

১০) আমীর বা নেতার মর্যাদাকে সমুন্নত রাখা দ্বীন ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বীনের শত্রুদের একটি বড় অস্ত্র হলো ইসলামী নেতা বা আলিমের চরিত্রহনন।

১১) জাতীয়তাবাদ একটা রোগ এবং এই রোগ সারতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। ইফকের ঘটনার চার-পাঁচ বছর পরেও এই সমস্যাটি সাহাবিদের মধ্যে সুপ্ত অবস্থাতে ছিল যার দরুন মসজিদে মারামারি শুরু হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

১২) আবু বকর ও তাঁর পরিবারের সকলে ধৈর্যের বিনিময়ে অনেক হাসানাত (সওয়াব) লাভের সুযোগ পান।

টিকাঃ
৩৬. সহীহ বুখারি, অধ্যায় তাফসীর, হাদীস ৪৭৫০ (আরবি রেফারেন্স); অধ্যায় মাঘাযী, হাদীস ১৮৫। সহীহ মুসলিম, অধ্যায় তাওবা, হাদীস ৬৫।
৩৭. সীরাহ ইবন হিশাম, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩০৫।

ফন্ট সাইজ
15px
17px