📄 সালাতুল খওফ
এই যুদ্ধে কোনো মুখোমুখি সংঘর্ষ হলো না। শত্রুরা মুসলিমদের হঠাৎ আক্রমণে ভয় পেয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে আশেপাশের পাহাড়ে পালিয়ে গেল। তাদের নারী-শিশু আর গরুবাছুর পর্যন্ত রেখে গেল। কিন্তু তাদের ফিরে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তারা হয়তো কাছেই আছে, যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণ করে বসতে পারে। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ নতুন এক পন্থায় জামাতের সালাত আদায় করলেন।
"এবং আপনি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবেন ও তাদের নিয়ে নামায পড়বেন, তখন একদল যেন আপনার সঙ্গে দাঁড়ায় আর তারা যেন সশস্ত্র থাকে; অতঃপর সিজদাহ করা হলে তারা যেন তোমাদের পেছনে অবস্থান করে, আর অপর এক দল যারা নামাযে শরীক হয়নি তারা তোমাদের সাথে যেন নামাযে শরীক হয় এবং তারা যেন সতর্ক ও সশস্ত্র থাকে। অবিশ্বাসীরা কামনা করে যেন তোমরা অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্র সম্বন্ধে অসতর্ক হও যাতে তারা তোমাদের ওপর হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে, কিন্তু তোমাদের কোনো দোষ নেই যদি বৃষ্টি-বাদলের জন্য তোমাদের কষ্ট হয় বা তোমাদের অসুখ হয় আর তোমরা অস্ত্র রেখে দাও, কিন্তু অবশ্যই হুঁশিয়ার থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। (সূরা নিসা, ৪: ১০২)
এই সালাতের নিয়ম হলো, প্রথমে অর্ধেক সৈন্য ইমামের পেছনে সালাত আদায় করবে আর বাকিরা পাহারা দেবে। প্রথম রাকাতের পর ইমাম দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, প্রথম দল তখন নিজেরা দ্বিতীয় রাকাত পড়ে সালাত শেষ করবে। এরপর দ্বিতীয় দল এগিয়ে আসবে, ইমামের দ্বিতীয় রাকাতের সাথে নিজেরা প্রথম রাকাত পড়বে। ইমাম বসা অবস্থায় তারা নিজে দ্বিতীয় রাকাত আদায় করে সালাত শেষ করবে। এই সালাতের নাম হলো সালাতুল খাওফ।
এখানে দেখার বিষয় হলো সালাতের গুরুত্ব। সালাতের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, শত্রুর সীমানায় জীবন-মরণ অবস্থাতেও সালাত আদায় করতে হবে। আল্লাহর রাস্তায় যারা যুদ্ধ করছেন, তাদের জন্যই যদি এই বিধান হয় তাহলে যারা নিরাপদে আছে তাদের জন্য কী করণীয় হতে পারে? ইসলামে সালাতের কোনো মাফ নেই। মাথা নাড়াতে অক্ষম হলে চোখের ইশারায় হলেও আদায় করতে হবে। সাহাবিদের জিহাদী অভিযানগুলো আমাদেরকে সালাতের গুরুত্বও শিক্ষা দেয়।