📄 ইমাম হাসানের জন্ম
একই বছর, চতুর্থ হিজরিতে জন্ম গ্রহণ করেন রাসূলুল্লাহর নাতি হাসান ইবন আলী ইবন আবি তালিব। এই খুশির খবরটি নিয়ে আলী নবীজির কাছে গেলেন। নবীজি জানতে চাইলেন তার সন্তানের নাম কী রাখা হয়েছে। আলী বললেন, 'হারব', হারব অর্থ যুদ্ধ। রাসূল বললেন, 'না! সে হাসান।' নামের অর্থে কাঠিন্য থাকা রাসূল পছন্দ করতেন না। রাসূলুল্লাহ নাতির কানে আজান দিলেন। মেয়ে ফাতিমাকে বললেন সন্তানের মাথা মুড়িয়ে দিতে, এরপর মুড়ানো চুলের ওজনের সমপরিমাণ রূপা সাদাকাহ করে দিতে। পরে আক্বীকার সময় তিনি দুটো ভেড়া কুরবানি করলেন।
📄 যাইদ ইবন সাবিতের ভাষাশিক্ষা
একই বছরের ঘটনা, রাসুলুল্লাহ যায়িদ ইবন সাবিতকে ডেকে বললেন, 'যাইদ, তুমি হিব্রু ভাষা শিখে ফেলো। আমি ইহুদিদের ঠিক বিশ্বাস করতে পারছি না।' রাসূল যেসব চিঠি পেতেন, অথবা কারো কাছে লিখে পাঠাতেন সেগুলো ইহুদিরা তাকে পড়ে শুনাতো কারণ তাদের পড়াশোনা ছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য রাসূলুল্লাহ একজন বিশ্বস্ত মুসলিমকে নিয়োগ দিতে চাইলেন। কারণ ইহুদিদের ওপর থেকে তিনি ক্রমেই আস্থা হারিয়ে ফেলছিলেন। রাসূলুল্লাহর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে যায়িদ মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে হিব্রু ভাষা রীতিমতো রপ্ত করে ফেললেন!
সাহাবিরা রাসূলুল্লাহর যে কোনো আদেশে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। আরবি ভাষা শিখতে আগ্রহী ভাই বোনদের জন্য নিঃসন্দেহে এই ঘটনা একটা বড় অনুপ্রেরণা। কোনো কাজে পদক্ষেপ নিতে বছরের পর বছর সময় লাগিয়ে দেওয়া উচিত নয়। মুসলিমদের জন্য আরবি ভাষা শেখা অনেক জরুরি। আরবি ভাষা থেকে দূরত্বের কারণে ইসলাম থেকেও মানুষের দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। কারণ ইসলামী শরীয়াহর মূল দুটি উৎস, কুরআন এবং হাদীস; দুটোই আরবি। আরবি না জানলে এগুলো থেকে উপকৃত হওয়া কঠিন। যদি যায়িদ একটি বিদেশী ভাষা ১৫ দিনের মাথায় শিখে ফেলতে পারেন, তাহলে সে ভাষা শেখার ব্যাপারে কী অজুহাত থাকতে পারে যে ভাষা মুসলিমদের জন্য অতি প্রয়োজনীয়?