📄 সাফিয়া বিনত আল-মুত্তালিব ؓ
সাফিয়া ছিলেন হামযার বোন। হামযার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তিনি ভাইয়ের মৃতদেহ শেষবারের মতো দেখতে চান। ওদিকে হামযার মৃতদেহ খুব বাজেভাবে বিকৃত করা হয়েছিল। তাই তাঁর ছেলে আয-যুবাইর ইবন আওয়্যাম তাকে থামাতে চাইলেন। তিনি থামলেন না। বলে উঠলেন, 'তুমি আমাকে কেন আটকাচ্ছো? আমার ভাইকে কীভাবে বিকৃত করা হয়েছে সে কথা আমি শুনেছি। তাঁর সাথে যেটাই হয়েছে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়েই হয়েছে। আর এটাই আমার জন্য সান্ত্বনা হিসেবে যথেষ্ট। চিন্তা কোরো না, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখবো আর শান্ত থাকবো, ইনশাআল্লাহ।'
হামযার শরীর খুব খারাপভাবে বিকৃত করা হয়। শত্রুরা তাঁর নাক, কান, গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। তাঁর পেট আর বুক চিরে খুলে ফেলে। কিন্তু সাফিয়া তারপরেও তাকে দেখার জন্য জোরাজুরি করতে থাকেন। তখন রাসূলুল্লাহ তাকে যাওয়ার অনুমতি দেন। সাফিয়া ময়দানে যান, হামযার বিকৃত মৃতদেহর কাছে দাঁড়ান। ভাইয়ের মৃতদেহর দিকে তাকিয়ে তাঁর জন্য দুআ করেন। আল্লাহর কাছে হামযার জন্য ক্ষমা চান। তারপর বলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন - আমরা আল্লাহর কাছ থেকেই এসেছি, আর তাঁরই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন। না, তিনি ভেঙে পড়েননি, কোনো বিলাপ করেননি। আপন ভাইয়ের এই মর্মান্তিক চিত্র দেখেও এতটুকু ধৈর্য হারাননি। তিনি ছিলেন আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট।
সাফিয়া ছিলেন হামযার বোন। হামযার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তিনি ভাইয়ের মৃতদেহ শেষবারের মতো দেখতে চান। ওদিকে হামযার মৃতদেহ খুব বাজেভাবে বিকৃত করা হয়েছিল। তাই তাঁর ছেলে আয-যুবাইর ইবন আওয়্যাম তাঁকে থামাতে চাইলেন। তিনি থামলেন না। বলে উঠলেন, 'তুমি আমাকে কেন আটকাচ্ছো? আমার ভাইকে কীভাবে বিকৃত করা হয়েছে সে কথা আমি শুনেছি। তাঁর সাথে যেটাই হয়েছে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে গিয়েই হয়েছে। আর এটাই আমার জন্য সান্ত্বনা হিসেবে যথেষ্ট। চিন্তা কোরো না, আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখবো আর শান্ত থাকবো, ইনশাআল্লাহ।'
হামযার শরীর খুব খারাপভাবে বিকৃত করা হয়। শত্রুরা তাঁর নাক, কান, গোপনাঙ্গ কেটে ফেলে। তাঁর পেট আর বুক চিরে খুলে ফেলে। কিন্তু সাফিয়া তারপরেও তাকে দেখার জন্য জোরাজুরি করতে থাকেন। তখন রাসূলুল্লাহ তাঁকে যাওয়ার অনুমতি দেন। সাফিয়া ময়দানে যান, হামযার বিকৃত মৃতদেহর কাছে দাঁড়ান। ভাইয়ের মৃতদেহর দিকে তাকিয়ে তাঁর জন্য দুআ করেন। আল্লাহর কাছে হামযার জন্য ক্ষমা চান। তারপর বলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইনাইহি রাজিউন - আমরা আল্লাহর কাছ থেকেই এসেছি, আর তাঁরই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন। না, তিনি ভেঙে পড়েননি, কোনো বিলাপ করেননি। আপন ভাইয়ের এই মর্মান্তিক চিত্র দেখেও এতটুকু ধৈর্য হারাননি। তিনি ছিলেন আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট।
📄 হামনাহ বিনত জাহশ ؓ
হামনাহ বিনত জাহশ হলেন আবদুল্লাহ ইবন জাহশের বোন। উহুদের যুদ্ধে হামনা তাঁর স্বামী, চাচা আর ভাইকে হারান। একই দিনে জীবনের সবচাইতে আপন তিনজন মানুষকে হারিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন,
- ধৈর্য ধরো, আল্লাহর পুরষ্কারের আশায় সন্তুষ্ট হও।
- কে মারা গেছে, ইয়া রাসূলুল্লাহ? হামনা বুঝতে পারলেন তার কোনো আপনজন মারা গেছে।
- তোমার ভাই আবদুল্লাহ ইবন জাহশ মারা গেছে হামনাহ।
- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইনাইহি রাজিউন, হামনা তার ভাইয়ের জন্য দুআ করলেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ আবার তাকে বললেন,
- ধৈর্য ধরো আর আল্লাহর পুরষ্কারের আশায় সন্তুষ্ট হও।
- আর কেউ কি মারা গেছে আল্লাহর রাসূল? হামনাহ জানতে চাইলেন।
- হ্যাঁ, তোমার চাচা, হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব।
- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, তাঁর শাহাদাহ কবুল করে নিন!
রাসূলুল্লাহ আবার তাকে বললেন,
- ধৈর্য ধরো আর আল্লাহর পুরষ্কারের আশায় সন্তুষ্ট হও।
- আমার আর কে মারা গেছে রাসূলুল্লাহ? হামনা বুঝতে পারলেন নিশ্চয়ই তার আপন আরও কেউ মারা গেছে।
- তোমার স্বামী, মুসআব ইবন উমাইর।
হামনা চিৎকার করে ওঠেন। ভাই আর চাচার মৃত্যু সংবাদ তাকে টলাতে পারেনি, কিন্তু এরপর স্বামীর মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। এ দৃশ্য নবীজি দেখে বলেন, 'নারীর কাছে তার স্বামী খুবই বিশেষ একজন।' স্ত্রীর কাছে স্বামী সবচেয়ে আপনজন। তাই হামনা বিনত জাহশ নিজের বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুতে নিজেকে শান্ত রাখতে পারলেও, স্বামীর কথা শুনে ভেঙে পড়েন। হঠাৎ কেঁদে ওঠার ব্যাপারে পরে তিনি বলেন, 'আমার সন্তানদের কথা মনে পড়ে গেল। বাবাকে ছাড়া যে তারা এতিম হয়ে গেল।' এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন।
হামনাহ বিনত জাহশ হলেন আবদুল্লাহ ইবন জাহশের বোন। উহুদের যুদ্ধে হামনা তাঁর স্বামী, চাচা আর ভাইকে হারান। একই দিনে জীবনের সবচাইতে আপন তিনজন মানুষকে হারিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন,
- ধৈর্য ধরো, আল্লাহর পুরস্কারের আশায় সন্তুষ্ট হও।
- কে মারা গেছে, ইয়া রাসূলাল্লাহ? হামনা বুঝতে পারলেন তার কোনো আপনজন মারা গেছে।
- তোমার ভাই আবদুল্লাহ ইবন জাহশ মারা গেছে হামনাহ।
- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, হামনা তার ভাইয়ের জন্য দুআ করলেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ আবার তাকে বললেন,
- ধৈর্য ধরো আর আল্লাহর পুরস্কারের আশায় সন্তুষ্ট হও।
- আর কেউ কি মারা গেছে আল্লাহর রাসূল? হামনাহ জানতে চাইলেন।
- হ্যাঁ, তোমার চাচা, হামযা ইবন আবদুল মুত্তালিব।
- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, তাঁর শাহাদাত কবুল করে নিন!
রাসূলুল্লাহ আবার তাকে বললেন,
- ধৈর্য ধরো আর আল্লাহর পুরস্কারের আশায় সন্তুষ্ট হও।
- আমার আর কে মারা গেছে রাসূলুল্লাহ? হামনা বুঝতে পারলেন নিশ্চয়ই তার আপন আরও কেউ মারা গেছে।
- তোমার স্বামী, মুসআব ইবন উমাইর।
হামনা চিৎকার করে ওঠেন। ভাই আর চাচার মৃত্যু সংবাদ তাকে টলাতে পারেনি, কিন্তু এরপর স্বামীর মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। এ দৃশ্য নবীজি দেখে বলেন, 'নারীর কাছে তার স্বামী খুবই বিশেষ একজন।' স্ত্রীর কাছে স্বামী সবচেয়ে আপনজন। তাই হামরা বিনত জাহশ নিজের বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুতে নিজেকে শান্ত রাখতে পারলেও, স্বামীর কথা শুনে ভেঙে পড়েন। হঠাৎ কেঁদে ওঠার ব্যাপারে পরে তিনি বলেন, 'আমার সন্তানদের কথা মনে পড়ে গেল। বাবাকে ছাড়া যে তারা এতিম হয়ে গেল।' এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ তাঁর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করলেন।
📄 আদ দিনারিয়া ؓ
উহুদের যুদ্ধের সময় বনু দীনার গোত্রের এক নারীর বাবা-ভাই আর স্বামী তিনজনেই শহীদ হয়ে যান। যখন তার কাছে খবর আসলো, যুদ্ধে তোমার বাবা, ভাই এবং স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, শান্তস্বরে তিনি কেবল একটাই প্রশ্ন করলেন, রাসূলুল্লাহ কেমন আছেন?
- উনি ঠিক আছেন। তুমি তাকে যেমন দেখতে চাও, তেমনি আছেন।
- কোথায় আছেন তিনি? আমাকে দেখাও, আমি তাকে দেখতে চাই!
রাসূলুল্লাহকে দেখে বনু দীনারের সেই মুসলিমাহ খুশিতে বলে ওঠেন, 'আপনি থাকলে বাকি সব কিছু হারানোর বেদনাই তুচ্ছ!'
আমরা সবাই মুখে মুখে বলি, আমরা রাসূলুল্লাহকে ভালোবাসি, তাঁর জন্য জীবন দিতে চাই। আমরা ইসলামের জন্য নিজেদের বিলিয়ে দিতে চাই। কিন্তু এই ভালোবাসা হলো তাত্ত্বিক ভালোবাসা। যদি না আমরা এটা বুঝতে পারি যে, সাহাবিরা কীভাবে রাসূলুল্লাহকে ভালোবাসতেন, তাহলে এই ভালোবাসা নিছক মুখের কথাই রয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহর এই সাহাবিয়াত তার স্বামী, বাবা, ভাইকে হারানোর কথা শুনেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি। শুধু জানতে চেয়েছেন একটি জিনিস, রাসূলুল্লাহ কেমন আছেন? তিনি আল্লাহর রাসূলকে এক ঝলক দেখলেন। তাতেই তার চোখ জুড়িয়ে গেল। তিনি বলে উঠলেন, 'যদি আপনি থাকেন, তবে তো সব বেদনাই তুচ্ছ।'
এটাই হচ্ছে আল্লাহর রাসূলের প্রতি আল্লাহর বান্দাদের ভালোবাসা!
উহুদের যুদ্ধের সময় বনু দীনার গোত্রের এক নারীর বাবা-ভাই আর স্বামী তিনজনেই শহীদ হয়ে যান। যখন তার কাছে খবর এল, যুদ্ধে তোমার বাবা, ভাই এবং স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে, শান্তস্বরে তিনি কেবল একটাই প্রশ্ন করলেন, রাসূলুল্লাহ কেমন আছেন?
- উনি ঠিক আছেন। তুমি তাকে যেমন দেখতে চাও, তেমনি আছেন।
- কোথায় আছেন তিনি? আমাকে দেখাও, আমি তাকে দেখতে চাই!
রাসূলুল্লাহকে দেখে বনু দীনারের সেই মুসলিমাহ খুশিতে বলে ওঠেন, 'আপনি থাকলে বাকি সব কিছু হারানোর বেদনাই তুচ্ছ!'
আমরা সবাই মুখে মুখে বলি, আমরা রাসূলুল্লাহকে ভালোবাসি, তাঁর জন্য জীবন দিতে চাই। আমরা ইসলামের জন্য নিজেদের বিলিয়ে দিতে চাই। কিন্তু এই ভালোবাসা হলো তাত্ত্বিক ভালোবাসা। যদি না আমরা এটা বুঝতে পারি যে, সাহাবিরা কীভাবে রাসূলুল্লাহকে ভালোবাসতেন, তাহলে এই ভালোবাসা নিছক মুখের কথাই রয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহর এই সাহাবিয়াত তার স্বামী, বাবা, ভাইকে হারানোর কথা শুনেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেননি। শুধু জানতে চেয়েছেন একটি জিনিস, রাসূলুল্লাহ কেমন আছেন? তিনি আল্লাহর রাসূলকে এক ঝলক দেখলেন। তাতেই তার চোখ জুড়িয়ে গেল। তিনি বলে উঠলেন, 'যদি আপনি থাকেন, তবে তো সব বেদনাই তুচ্ছ।'
এটাই হচ্ছে আল্লাহর রাসূলের প্রতি আল্লাহর বান্দাদের ভালোবাসা!