📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 ওয়াহাব আল মুযানি ؓ এবং তাঁর ভাতিজা ؓ

📄 ওয়াহাব আল মুযানি ؓ এবং তাঁর ভাতিজা ؓ


ওয়াহাব আল মুযানী ছিলেন একজন রাখাল। তিনি মদীনার স্থানীয় নন, এসেছিলেন মদীনার বাইরে মুযাইনা নামের এক গোত্র থেকে। তাঁর আত্মীয়স্বজনও ছিল রাখাল। রাসূলুল্লাহর সাথে দেখা করার জন্য একদিন তারা সবাই মদীনায় এল। তাদের ভেড়াগুলিও সাথে ছিল। কিন্তু মদীনায় এসে দেখলো সেখানে কেউ নেই! সবাই যুদ্ধ করার জন্য উহুদের ময়দানে গেছে। এ কথা শুনে ওয়াহাব ভেড়ার পাল মদীনাতেই ফেলে রেখে ভাতিজাকে সাথে নিয়ে যুদ্ধের জন্য রওনা দিলেন।
মুসলিমরা তখন সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তাঁরা পৌঁছেই যুদ্ধে যোগ দিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে যখন খালিদ ইবন ওয়ালিদের অতর্কিত হামলায় মুসলিমরা কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন এল ওয়াহাব আল মুযানীর পালা। রাসূলুল্লাহ দেখতে পেলেন যে শত্রুদের একটি দল জড়ো হয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে। তিনি বলে ওঠেন, 'কে আছে এদের বিরুদ্ধে লড়বে?' ওয়াহাব আল মুযানী বলে ওঠেন, 'আমি লড়বো!' এই বলে তিনি এগিয়ে যান, তাদের ওপর ক্রমাগত তীর ছুঁড়ে তাদের পিছু হটিয়ে দেন। শত্রুপক্ষের আরও একটি দল এগিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, 'কে আছে এদের থামাবে?' 'আমি থামাবো! ইয়া রাসূলুল্লাহ!' বলে আল মুযানী তরবারি নিয়ে এবারো শত্রুদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন আর পিছু হটতে বাধ্য করেন।
এরপর শত্রুদের বেশ বড়সড় একটি দল এগুতে থাকে। রাসূলুল্লাহ বুঝতে পারলেন ওয়াহাবের জীবনের শেষ মুহূর্ত চলে এসেছে। তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে বললেন, 'এগিয়ে যাও! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো!' এ কথা শুনে ওয়াহাব আল মুযানী এই বিশাল দলটির সাথে যুদ্ধ করতে এগিয়ে যান। রাসূলুল্লাহ তাঁকে এগিয়ে যেতে দেখে বলেন, 'হে আল্লাহ! তাঁর ওপর রহম করো!' ওয়াহাব আল মুযানীর দেহ তরবারির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি লড়াই করতেই থাকেন। তাঁর ভাতিজাও একইভাবে শহীদ হন। যখন তাঁর মৃতদেহ পাওয়া গেল, তাঁর শরীরে তখন বিশটি মারাত্মক জখমের চিহ্ন!
ওয়াহাব আল-মুযানীর ক্ষতবিক্ষত শরীর দেখে উমার বলেছিলেন, 'এর থেকে চমৎকার মৃত্যু তো আমি কল্পনাও করতে পারি না!' ওয়াহাব আল মুযানীর এই মৃত্যু ছিল উমারের কাছে 'স্বপ্নের মৃত্যু!' তেরো বছর পরের কথা। কাদিসিয়ার যুদ্ধের পর সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসের সাথে মুযাইনা গোত্রের এক লোকের দেখা হলো। লোকটার নাম বিলাল। তার আত্মীয়রা গনিমতের মালের অংশ পায়নি। কথাপ্রসঙ্গে সাদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আচ্ছা, তুমি কি ওয়াহাব আল-মুযানীর আত্মীয়?' সে বললো, 'জ্বী, আমি তার ভাতিজা।' সাদ বলে উঠলেন,
'তাই! তোমার চাচার কাহিনী জানো তো? উহুদের দিনে যখনই রাসূলুল্লাহ কোনো স্বেচ্ছাসেবকের জন্য ডাক দিচ্ছিলেন, প্রতিবারই তোমার চাচা এগিয়ে গিয়ে শত্রুদের হামলা করেন। তৃতীয় বারে আমিও তাঁর সাথে যোগ দিলাম। আশা ছিল যে, তাঁর সমান পুরস্কার যদি পেয়ে যাই! কারণ রাসূলুল্লাহ তখন বলছিলেন, জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমার চাচা শহীদ হয়ে গেলেন, আমিও খুব করে চাচ্ছিলাম তাঁর সাথে শহীদ হই। কিন্তু আমার সময় তখনও আসেনি। আমি ভাবি, ইশ! আমি যদি মুযানীর মতো শহীদ হয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারতাম!'
ওয়াহাব আল মুযানীর দাফনের সময় নবীজি আহত-ক্লান্ত-বিধ্বস্ত; তবু তিনি দাফনের পুরোটা সময় জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুআ করলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হও, কারণ আমি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট।' জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওয়াহাব আল মুযানী অসীম বীরত্ব আর সাহসিকতার সাথে লড়াই করে গেছেন। ওয়াহাব কিন্তু খুব নামকরা সাহাবি ছিলেন না, কিন্তু তার বীরত্বগাঁথা সাহাবিরা বহুদিন পর্যন্ত স্মরণ করেছেন।

ওয়াহাব আল মুযানী ছিলেন একজন রাখাল। তিনি মদীনার স্থানীয় নন, এসেছিলেন মদীনার বাইরে মুযাইনা নামের এক গোত্র থেকে। তাঁর আত্মীয়স্বজনও ছিল রাখাল। রাসূলুল্লাহর সাথে দেখা করার জন্য একদিন তারা সবাই মদীনায় এল। তাদের ভেড়াগুলিও সাথে ছিল। কিন্তু মদীনায় এসে দেখল সেখানে কেউ নেই! সবাই যুদ্ধ করার জন্য উহুদের ময়দানে গেছে। এ কথা শুনে ওয়াহাব ভেড়ার পাল মদীনাতেই ফেলে রেখে ভাতিজাকে সাথে নিয়ে যুদ্ধের জন্য রওনা দিলেন।

মুসলিমরা তখন সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তাঁরা পৌঁছেই যুদ্ধে যোগ দিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে যখন খালিদ ইবন ওয়ালিদের অতর্কিত হামলায় মুসলিমরা কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন এল ওয়াহাব আল মুযানীর পালা। রাসূলুল্লাহ দেখতে পেলেন যে শত্রুদের একটি দল জড়ো হয়ে তাঁদের দিকে এগিয়ে আসছে। তিনি বলে ওঠেন, 'কে আছে এদের বিরুদ্ধে লড়বে?' ওয়াহাব আল মুযানী বলে ওঠেন, 'আমি লড়বো!' এই বলে তিনি এগিয়ে যান, তাদের ওপর ক্রমাগত তীর ছুঁড়ে তাদের পিছু হটিয়ে দেন। শত্রুপক্ষের আরও একটি দল এগিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, 'কে আছে এদের থামাবে?' 'আমি থামাবো! ইয়া রাসূলুল্লাহ!' বলে আল মুযানী তরবারি নিয়ে এবারো শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন আর পিছু হটতে বাধ্য করেন।

এরপর শত্রুদের বেশ বড়সড় একটি দল এগুতে থাকে। রাসূলুল্লাহ বুঝতে পারলেন ওয়াহাবের জীবনের শেষ মুহূর্ত চলে এসেছে। তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে বললেন, 'এগিয়ে যাও! জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো!' এ কথা শুনে ওয়াহাব আল মুযানী এই বিশাল দলটির সাথে যুদ্ধ করতে এগিয়ে যান। রাসূলুল্লাহ তাঁকে এগিয়ে যেতে দেখে বলেন, 'হে আল্লাহ! তাঁর ওপর রহম করো!' ওয়াহাব আল মুযানীর দেহ তরবারির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি লড়াই করতেই থাকেন। তাঁর ভাতিজাও একইভাবে শহীদ হন। যখন তাঁর মৃতদেহ পাওয়া গেল, তাঁর শরীরে তখন বিশটি মারাত্মক জখমের চিহ্ন!

ওয়াহাব আল-মুযানীর ক্ষতবিক্ষত শরীর দেখে উমার বলেছিলেন, 'এর থেকে চমৎকার মৃত্যু তো আমি কল্পনাও করতে পারি না!' ওয়াহাব আল মুযানীর এই মৃত্যু ছিল উমারের কাছে 'স্বপ্নের মৃত্যু!' তেরো বছর পরের কথা। কাদিসিয়ার যুদ্ধের পর সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসের সাথে মুযাইনা গোত্রের এক লোকের দেখা হল। লোকটার নাম বিলাল। তার আত্মীয়রা গনিমতের মালের অংশ পায়নি। কথাপ্রসঙ্গে সাদ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আচ্ছা, তুমি কি ওয়াহাব আল-মুযানীর আত্মীয়?' সে বলল, 'জ্বী, আমি তার ভাতিজা।' সাদ বলে উঠলেন,

'তাই! তোমার চাচার কাহিনী জানো তো? উহুদের দিনে যখনই রাসূলুল্লাহ কোনো স্বেচ্ছাসেবকের জন্য ডাক দিচ্ছিলেন, প্রতিবারই তোমার চাচা এগিয়ে গিয়ে শত্রুদের হামলা করেন। তৃতীয় বারে আমিও তাঁর সাথে যোগ দিলাম। আশা ছিল যে, তাঁর সমান পুরস্কার যদি পেয়ে যাই! কারণ রাসূলুল্লাহকে তখন বলছিলেন, জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো। তোমার চাচা শহীদ হয়ে গেলেন, আমিও খুব করে চাচ্ছিলাম তাঁর সাথে শহীদ হই। কিন্তু আমার সময় তখনও আসেনি। আমি ভাবি, ইশ! আমি যদি মুযানীর মতো শহীদ হয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পারতাম!'

ওয়াহাব আল মুযানীর দাফনের সময় নবীজি আহত-ক্লান্ত-বিধ্বস্ত; তবু তিনি দাফনের পুরোটা সময় জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। দুআ করলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হও, কারণ আমি তাঁর ওপর সন্তুষ্ট।' জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ওয়াহাব আল মুযানী অসীম বীরত্ব আর সাহসিকতার সাথে লড়াই করে গেছেন। ওয়াহাব কিন্তু খুব নামকরা সাহাবি ছিলেন না, কিন্তু তার বীরত্বগাঁথা সাহাবিরা বহু দিন পর্যন্ত স্মরণ করেছেন।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 আমর ইবন আল জামুহ ؓ

📄 আমর ইবন আল জামুহ ؓ


আমর ইবন আল জামূহ ছিলেন খোঁড়া। তাঁর ছিল চার ছেলে। প্রত্যেকেই সাহসী যোদ্ধা। উহুদের যুদ্ধের সময় এলে আমর জিহাদে যোগ দিতে চান কিন্তু ছেলেরা বাধ সাধে। তাদের যুক্তি, আমরের জন্য জিহাদে যাওয়া ফরয নয়। আমর তখন রাসূলুল্লাহর কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান, 'আমার ছেলেরা চায় না আমি আপনার সাথে জিহাদে যাই। কিন্তু আল্লাহর শপথ, আমার এই খোঁড়া পা আমি জান্নাতে ফেলতে চাই।' রাসূলুল্লাহ তাঁর ছেলেদের ডেকে বললেন,
'তোমাদের বাবা যদি জিহাদে যেতে চায়, যেতে দাও। তাকে বাধা দেওয়া তোমাদের দায়িত্ব নয়। হয়তোবা আল্লাহ তাআলা তাকে শাহাদাহ দান করবেন।' আমর যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি পেলেন। শাহাদাতের স্বপ্নে বিভোর আমর রাসূলুল্লাহর কাছে এসে এক ফাঁকে জানতে চাইলেন,
- আচ্ছা রাসূলুল্লাহ, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় মারা যাই, তাহলে আমি জান্নাতে সুস্থ-সবল পা নিয়ে হাঁটতে পারবো তো?
- অবশ্যই পারবে!
আমর ইবন আল জামূহ শহীদ হিসেবেই মৃত্যুবরণ করেন। একজন অসুস্থ বা অক্ষম ব্যক্তির জন্য কিতালে যাওয়া আবশ্যক না হলেও অনুমোদিত। তবে প্রতিটি ঘটনার অসাধারণ দিকটি হলো সাহাবিদের মাঝে শহীদ হিসেবে মারা যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, অধীর আগ্রহ আর অদম্য স্পৃহা।

আমর ইবন আল জামূহ ছিলেন খোঁড়া। তাঁর ছিল চার ছেলে। প্রত্যেকেই সাহসী যোদ্ধা। উহুদের যুদ্ধের সময় এলে আমর জিহাদে যোগ দিতে চান কিন্তু ছেলেরা বাধ সাধে। তাদের যুক্তি, আমরের জন্য জিহাদে যাওয়া ফরয নয়। আমর তখন রাসূলুল্লাহর কাছে গিয়ে অনুরোধ জানান, 'আমার ছেলেরা চায় না আমি আপনার সাথে জিহাদে যাই। কিন্তু আল্লাহর শপথ, আমার এই খোঁড়া পা আমি জান্নাতে ফেলতে চাই।' রাসূলুল্লাহ তাঁর ছেলেদের ডেকে বললেন,

'তোমাদের বাবা যদি জিহাদে যেতে চায়, যেতে দাও। তাকে বাধা দেওয়া তোমাদের দায়িত্ব নয়। হয়তোবা আল্লাহ তাআলা তাকে শাহাদাহ দান করবেন।' আমর যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি পেলেন। শাহাদাতের স্বপ্নে বিভোর আমর রাসূলুল্লাহর কাছে এসে এক ফাঁকে জানতে চাইলেন,

- আচ্ছা রাসূলুল্লাহ, আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় মারা যাই, তাহলে আমি জান্নাতে সুস্থ-সবল পা নিয়ে হাঁটতে পারবো তো?
- অবশ্যই পারবে!

আমর ইবন আল জামূহ শহীদ হিসেবেই মৃত্যুবরণ করেন। একজন অসুস্থ বা অক্ষম ব্যক্তির জন্য কিতালে যাওয়া আবশ্যক না হলেও অনুমোদিত। তবে প্রতিটি ঘটনার অসাধারণ দিকটি হল সাহাবিদের মাঝে শহীদ হিসেবে মারা যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, অধীর আগ্রহ আর অদম্য স্পৃহা।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 হানযালা ইবন আবি আমীর ؓ: ফেরেশতারা গোসল দিল যাকে

📄 হানযালা ইবন আবি আমীর ؓ: ফেরেশতারা গোসল দিল যাকে


আনসারী সাহাবি হানযালা, উহুদের যুদ্ধের আগের রাতেই তাঁর বিয়ে হয়। যুদ্ধের সময়টাতে সাধারণত মুজাহিদরা ক্যাম্পে অবস্থান করেন। কিন্তু হানযালা রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে বিশেষভাবে অনুমতি চাইলেন স্ত্রীর সাথে রাত কাটাবার। রাসূলুল্লাহ অনুমতি দিলেন। হানযালা রাতে স্ত্রীর সাথে থাকলেন। ভোরে ফিরে এসে সাহাবিদের সাথে ফজরের সালাহ আদায় করলেন। এরপর স্ত্রীর জামিলাহর কাছে ফিরে এলেন বিদায় নিতে। কিন্তু জামিলাহ তাঁকে আঁকড়ে ধরলেন, তাঁরা মিলিত হলেন।
এদিকে বেশ দেরি হয়ে যাচ্ছিল, তাই ফরয গোসল না করেই হানযালা ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। দুঃসাহসী হানযালা ঘোড়ার পিঠে বসে শত্রুপক্ষের নেতা আবু সুফিয়ানকে টার্গেট করলেন। হানযালা এগিয়ে গিয়ে আবু সুফিয়ানের ঘোড়াকে তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন। আবু সুফিয়ান ঘোড়া থেকে পড়ে চিৎকার করে উঠলো। হানযালা আবু সুফিয়ানকে শেষ করে দিতে চাইলেন, কিন্তু তার আগেই এক মুশরিক এসে পড়লো। সে হানযালাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলো। তাঁর বুক ভেদ করে বর্শা পিঠ দিয়ে বেরিয়ে এল। কিন্তু হানযালা থামবার পাত্র নন। তিনি আবু সুফিয়ানকে আবার আঘাত করতে উদ্যত হলেন। সেই মুশরিক তাকে দ্বিতীয়বার আঘাত করলো। হানযালা শহীদ হলেন।
হানযালাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখেন! তিনি বলেন, 'আমি হানযালাকে দেখেছি ঠিক আসমান আর জমিনের মাঝে। ফেরেশতারা তাকে জান্নাতী রুপার পাত্রে রাখা আল-মুযনের পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দিচ্ছে!' রাসূলুল্লাহ হানযালার খবর নিতে তার স্ত্রী জামিলাহর কাছে লোক পাঠালেন। জামিলাহ ছিলেন মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর মেয়ে। কিন্তু তিনি বাবার মতো ছিলেন না। তিনি ছিলেন মুত্তাক্বী মুসলিমাহ। লোকেরা জামিলার কাছে গেল। তিনি বললেন, 'যাবার আগে তিনি গোসল করার সময় পাননি, যুনুব (অপবিত্র) অবস্থাতেই তিনি চলে যান।' রাসূলুল্লাহ শুনে বললেন, 'এজন্যই তাকে ফেরেশতারা গোসল করিয়ে দিচ্ছিল!'
আরও একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার ঘটে। জামিলাহ যখন হানযালার সাথে থেকেছিলেন, তিনি চারজন সাক্ষী ডেকে বিষয়টা জানান। এ অদ্ভুত কাজটা তিনি কেন করলেন? সাধারণত স্বামী বা স্ত্রীর একান্ত গোপন কথা অন্যদের জানবার কথা নয়। জামিলাহ বলেন, 'আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম যে আকাশ খুলে গেল আর তার ভেতর দিয়ে হানযালা চলে গেলেন, এরপর আকাশ আবার বন্ধ হয়ে গেল। তাই আমার মনে হলো যে হানযালা শহীদ হয়ে যাবেন।' স্বামী পরদিন মারা যাবে জানলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক না করাটাই 'স্বাভাবিক'। কারণ তাহলে সে নারীর জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা সহজ হবে। কিন্তু কীসের আশায় জামিলাহ জেনে শুনে স্বামীর সাথে মিলিত হলেন? কেন সবাইকে বিষয়টা জানালেন? কেন তিনি সেই পুরুষের সন্তান চাইলেন যে কিনা পরদিনই শহীদ হয়ে যাবে?
আসলে সাহাবিদের মানসিকতা আমাদের মতো ছিল না। তাঁরা দুনিয়াকে অন্যভাবে দেখতেন, তাঁরা দুনিয়াকে দেখতেন ওয়াহীর আলো দিয়ে। হানযালা শহীদ হবেন-এটি জেনেশুনেই জামিলাহ তাঁর সন্তান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়েছিলেন। জামিলাহর জন্য এটাই ছিল আনন্দের ব্যাপার যে তাঁর স্বামী হবে একজন শহীদ! হয়তো তাঁর জন্য পৃথিবীটা কঠিন হয়ে পড়বে। হয়তো কষ্ট আর দুর্দশা তাঁর ওপর চেপে বসবে, কিন্তু শহীদের স্ত্রী হবার মধ্যে যে মর্যাদা আছে, সে মর্যাদা লাভের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি জামিলাহ। তিনি যা-ই করেছেন, আল্লাহর জন্য করেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেন।
জামিলার সাথে এরপর সাবিত ইবন কাইসের বিয়ে হয়। জামিলার গর্ভে জন্ম নেওয়া হানযালার সন্তানের নাম রাখা হয় আবদুল্লাহ। আর সাবিতের সংসারে জন্ম নেয় মুহাম্মাদ। এই মুহাম্মাদই ছিল আবদুল্লাহর সবচেয়ে কাছের মানুষ। বাবা না থাকা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ ঠিকই তার সৎ বাবা ও ভাইয়ের থেকে আদর-স্নেহ-মমতা পেয়েছিল, ভালোবাসায় কোনো কমতি ছিল না। নিশ্চয়ই তাকওয়ার বিনিময়ে আল্লাহ উত্তম কিছুই দান করবেন।
আল্লাহ তাআলার প্রতি সাহাবিদের ভালবাসার আরেকটি নিদর্শন এই ঘটনা। সদ্যবিবাহিত হানযালা গোসল না করে ময়দানে ছুটে যান। পদাতিক সৈন্য হয়েও তিনি পাল্লা দেন ঘোড়সওয়ারির সাথে। যেসব ভাই ও বোনেরা বিয়ে করেছেন, তারা জানেন বিয়ের প্রথম দিনগুলোতে দুনিয়ার প্রতি কী প্রবল মায়া কাজ করে! সেই তীব্র বন্ধন উপেক্ষা করে ময়দানে যুদ্ধ যাওয়া কতই না কঠিন! আর সেটাই করেছিলেন হানযালা, আর তাই 'ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছে!'

আনসারী সাহাবি হানযালা, উহুদের যুদ্ধের আগের রাতেই তাঁর বিয়ে হয়। যুদ্ধের সময়টাতে সাধারণত মুজাহিদরা ক্যাম্পে অবস্থান করেন। কিন্তু হানযালা রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে বিশেষভাবে অনুমতি চাইলেন স্ত্রীর সাথে রাত কাটাবার। রাসূলুল্লাহ অনুমতি দিলেন। হানযালা রাতে স্ত্রীর সাথে থাকলেন। ভোরে ফিরে এসে সাহাবিদের সাথে ফজরের সালাহ আদায় করলেন। এরপর স্ত্রীর জামিলাহর কাছে ফিরে এলেন বিদায় নিতে। কিন্তু জামিলাহ তাঁকে আঁকড়ে ধরলেন, তাঁরা মিলিত হলেন।

এদিকে বেশ দেরি হয়ে যাচ্ছিল, তাই ফরয গোসল না করেই হানযালা ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। দুঃসাহসী হানযালা ঘোড়ার পিঠে বসে শত্রুপক্ষের নেতা আবু সুফিয়ানকে টার্গেট করলেন। হানযালা এগিয়ে গিয়ে আবু সুফিয়ানের ঘোড়াকে তরবারি দিয়ে আঘাত করলেন। আবু সুফিয়ান ঘোড়া থেকে পড়ে চিৎকার করে উঠল। হানযালা আবু সুফিয়ানকে শেষ করে দিতে চাইলেন, কিন্তু তার আগেই এক মুশরিক এসে পড়ল। সে হানযালাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করল। তাঁর বুক ভেদ করে বর্শা পিঠ দিয়ে বেরিয়ে এল। কিন্তু হানযালা থামবার পাত্র নন। তিনি আবু সুফিয়ানকে আবার আঘাত করতে উদ্যত হলেন। সেই মুশরিক তাকে দ্বিতীয়বার আঘাত করল। হানযালা শহীদ হলেন।

হানযালাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখেন! তিনি বলেন, 'আমি হানযালাকে দেখেছি ঠিক আসমান আর জমিনের মাঝে। ফেরেশতারা তাকে জান্নাতী রুপার পাত্রে রাখা আল-মুযনের পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দিচ্ছে!' রাসূলুল্লাহ হানযালার খবর নিতে তার স্ত্রী জামিলাহর কাছে লোক পাঠালেন। জামিলাহ ছিলেন মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবাই এর মেয়ে। কিন্তু তিনি বাবার মতো ছিলেন না। তিনি ছিলেন মুত্তাক্বী মুসলিমাহ। লোকেরা জামিলার কাছে গেল। তিনি বললেন, 'যাবার আগে তিনি গোসল করার সময় পাননি, যুনুব (অপবিত্র) অবস্থাতেই তিনি চলে যান।' রাসূলুল্লাহ শুনে বললেন, 'এজন্যই তাকে ফেরেশতারা গোসল করিয়ে দিচ্ছিল!'

আরও একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার ঘটে। জামিলাহ যখন হানযালার সাথে থেকেছিলেন, তিনি চারজন সাক্ষী ডেকে বিষয়টা জানান। এ অদ্ভুত কাজটা তিনি কেন করলেন? সাধারণত স্বামী বা স্ত্রীর একান্ত গোপন কথা অন্যদের জানবার কথা নয়। জামিলাহ বলেন, 'আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম যে আকাশ খুলে গেল আর তার ভেতর দিয়ে হানযালা চলে গেলেন, এরপর আকাশ আবার বন্ধ হয়ে গেল। তাই আমার মনে হল যে হানযালা শহীদ হয়ে যাবেন।' স্বামী পরদিন মারা যাবে জানলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক না করাটাই 'স্বাভাবিক'। কারণ তাহলে সে নারীর জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা সহজ হবে। কিন্তু কীসের আশায় জামিলাহ জেনে শুনে স্বামীর সাথে মিলিত হলেন? কেন সবাইকে বিষয়টা জানালেন? কেন তিনি সেই পুরুষের সন্তান চাইলেন যে কিনা পরদিনই শহীদ হয়ে যাবে?

আসলে সাহাবিদের মানসিকতা আমাদের মতো ছিল না। তাঁরা দুনিয়াকে অন্যভাবে দেখতেন, তাঁরা দুনিয়াকে দেখতেন ওয়াহীর আলো দিয়ে। হানযালা শহীদ হবেন-এরা জেনেশুনেই জামিলাহ তাঁর সন্তান গ্রহণ করতে বেশি আগ্রহী হয়েছিলেন। জামিলাহর জন্য এটাই ছিল আনন্দের ব্যাপার যে তাঁর স্বামী হবে একজন শহীদ! হয়তো তাঁর জন্য পৃথিবীটা কঠিন হয়ে পড়বে। হয়তো কষ্ট আর দুর্দশা তাঁর ওপর চেপে বসবে, কিন্তু শহীদের স্ত্রী হবার মধ্যে যে মর্যাদা আছে, সে মর্যাদা লাভের সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি জামিলাহ। তিনি যা-ই করেছেন, আল্লাহর জন্য করেছেন। আর আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাদের সাহায্য করেন।

জামিলার সাথে এরপর সাবিত ইবন কাইসের বিয়ে হয়। জামিলার গর্ভে জন্ম নেওয়া হানযালার সন্তানের নাম রাখা হয় আবদুল্লাহ। আর সাবিতের সংসারে জন্ম নেয় মুহাম্মাদ। এই মুহাম্মাদই ছিল আবদুল্লাহর সবচেয়ে কাছের মানুষ। বাবা না থাকা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ ঠিকই তার সৎ বাবা ও ভাইয়ের থেকে আদর-স্নেহ-মমতা পেয়েছিল, ভালোবাসায় কোনো কমতি ছিল না। নিশ্চয়ই তাকওয়ার বিনিময়ে আল্লাহ উত্তম কিছুই দান করবেন।

আল্লাহ তাআলার প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসার আরেকটি নিদর্শন এই ঘটনা। সদ্যবিবাহিত হানযালা গোসল না করে ময়দানে ছুটে যান। পদাতিক সৈন্য হয়েও তিনি পাল্লা দেন ঘোড়সওয়ারির সাথে। যেসব ভাই ও বোনেরা বিয়ে করেছেন, তারা জানেন বিয়ের প্রথম দিনগুলোতে দুনিয়ার প্রতি কী প্রবল মায়া কাজ করে! সেই তীব্র বন্ধন উপেক্ষা করে ময়দানে যুদ্ধ যাওয়া কতই না কঠিন! আর সেটাই করেছিলেন হানযালা, আর তাই 'ফেরেশতারা তাকে গোসল করিয়েছে!'

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হারাম ؓ

📄 আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন হারাম ؓ


আবদুল্লাহ ইবন আমর তাঁর ছেলে জাবিরকে উহুদের আগে ডেকে বললেন,
'বাবা শোনো, রাসূলুল্লাহর পর এই দুনিয়ায় তুমিই আমার সবচেয়ে প্রিয়। যদি তোমার বোনদের দেখাশোনা করতে না হতো, আমার ঋণ পরিশোধের বিষয়টি না থাকতো, তাহলে আমি চাইতাম তুমিও যুদ্ধে শহীদ হয়ে যাও। নিজের ব্যাপারে আমি আশা করি, আমি প্রথম সারির শহীদ সাহাবিদের একজন হবো। তোমার কাছে ওসিয়ত এই যে, তুমি আমার ঋণ পরিশোধ করে দিও আর তোমার বোনদের দেখে রেখো।'
আবদুল্লাহ ইবন আমরের স্বপ্ন সত্য হয়েছিল, তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়ে যান। রাসূলুল্লাহ বলেন, 'তোমরা তাঁর জন্যে কাঁদো বা না-কাঁদো, জেনে রেখো, তোমার বাবাকে ফেরেশতারা ঠিকই ছায়া দিয়ে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা তাকে দাফনের জন্য ওঠাচ্ছো।'
জাবির তার বাবার লাশ দেখে খুব কাঁদছিলেন। জাবিরকে ডেকে নবীজি বলেন, 'তুমি ভেঙে পড়ছো কেন জাবির?' জাবির জানালেন তার বোনদের দেখাশোনা আর তার বাবার রেখে যাওয়া ঋণের কথা। রাসূলুল্লাহ বলেন, 'আমি কি তোমাকে একটা সুসংবাদ দেবো? শোনো, আল্লাহ তাআলা কোনো পর্দা ছাড়া কারো সাথে কথা বলেন না, কিন্তু তিনি তোমার বাবা আবদুল্লাহর সাথে কথা বলেছেন সরাসরি! জানতে চেয়েছেন, আবদুল্লাহ তুমি কী চাও? আর আবদুল্লাহ উত্তর দিয়েছেন, হে আমার রব! আমাকে দুনিয়াতে ফেরত পাঠাও, যেন তোমার জন্য যুদ্ধ করে আবার শহীদ হতে পারি!'
মৃত্যুর পর শহীদ ছাড়া আর কোনো মানুষ দুনিয়াতে ফিরে যেতে চায় না। কিন্তু শহীদের কাছে তার মৃত্যুর অভিজ্ঞতা এতই সুখকর যে, সে দুনিয়াতে ফিরে গিয়ে আবারও সেই মুহূর্তটি উপভোগ করতে চায়।

টিকাঃ
15 সহীহ বুখারি, অধ্যায় জিহাদ, হাদীস ৩২।

আবদুল্লাহ ইবন আমর তাঁর ছেলে জাবিরকে উহুদের আগে ডেকে বললেন,

'বাবা শোনো, রাসূলুল্লাহর পর এই দুনিয়ায় তুমিই আমার সবচেয়ে প্রিয়। যদি তোমার বোনদের দেখাশোনা করতে না হত, আমার ঋণ পরিশোধের বিষয়টি না থাকত, তাহলে আমি চাইতাম তুমিও যুদ্ধে শহীদ হয়ে যাও। নিজের ব্যাপারে আমি আশা করি, আমি প্রথম সারির শহীদ সাহাবিদের একজন হব। তোমার কাছে ওসিয়ত এই যে, তুমি আমার ঋণ পরিশোধ করে দিও আর তোমার বোনদের দেখে রেখো।'

আবদুল্লাহ ইবন আমরের স্বপ্ন সত্য হয়েছিল, তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হয়ে যান। রাসূলুল্লাহ বলেন, 'তোমরা তাঁর জন্যে কাঁদো বা না-কাঁদো, জেনে রেখো, তোমার বাবাকে ফেরেশতারা ঠিকই ছায়া দিয়ে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা তাকে দাফনের জন্য ওঠাচ্ছো।'

জাবির তার বাবার লাশ দেখে খুব কাঁদছিলেন। জাবিরকে ডেকে নবীজি বলেন, 'তুমি ভেঙে পড়ছো কেন জাবির?' জাবির জানালেন তার বোনদের দেখাশোনা আর তার বাবার রেখে যাওয়া ঋণের কথা। রাসূলুল্লাহ বলেন, 'আমি কি তোমাকে একটা সুসংবাদ দেবো? শোনো, আল্লাহ তাআলা কোনো পর্দা ছাড়া কারো সাথে কথা বলেন না, কিন্তু তিনি তোমার বাবা আবদুল্লাহর সাথে কথা বলেছেন সরাসরি! জানতে চেয়েছেন, আবদুল্লাহ তুমি কী চাও? আর আবদুল্লাহ উত্তর দিয়েছেন, হে আমার রব! আমাকে দুনিয়াতে ফেরত পাঠাও, যেন তোমার জন্য যুদ্ধ করে আবার শহীদ হতে পারি!'

মৃত্যুর পর শহীদ ছাড়া আর কোনো মানুষ দুনিয়াতে ফিরে যেতে চায় না। কিন্তু শহীদের কাছে তার মৃত্যুর অভিজ্ঞতা এতই সুখকর যে, সে দুনিয়াতে ফিরে গিয়ে আবারও সেই মুহূর্তটি উপভোগ করতে চায়।

টিকাঃ
১৫. সহীহ বুখারি, অধ্যায় জিহাদ, হাদীস ৩২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px