📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 আবদুল্লাহ ইবন জাহশ ؓ

📄 আবদুল্লাহ ইবন জাহশ ؓ


উহুদ যুদ্ধের আগের কথা, আবদুল্লাহ ইবন জাহশ আর সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাসের দেখা হলো। আবদুল্লাহ ইবন জাহশ বললেন, 'আসো, আমরা একসাথে আল্লাহর কাছে দুআ করি।' তাঁরা ঠিক করলেন, প্রথমে তাঁদের একজন দুআ করবেন, অপরজন বলবেন আমীন। এরপর অপরজন দুআ চাইবেন, তখন প্রথমজন বলবেন আমীন। প্রথমে সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস দুআ করলেন,
'হে আল্লাহ! আমি যদি শত্রুর দেখা পাই, তাহলে আমার সাথে এমন এক শত্রুর সাক্ষাৎ করিয়ে দাও যে হবে প্রচণ্ড শক্তিশালী। সে আমার সাথে লড়বে এবং আমি তার সাথে লড়বো। এরপর তুমি আমাকে তার ওপর লড়াইয়ে বিজয়ী করে দিও। আমি যেন তাকে হত্যা করে তার দেহ থেকে বর্ম ছিনিয়ে নিতে পারি।'
আবদুল্লাহ ইবন জাহশ বললেন, 'আমীন'। সাদ বললেন, 'এবার তোমার পালা।' আবদুল্লাহ ইবন জাহশ দুআ করলেন,
'হে আল্লাহ! আমার সাথে একজন শক্তিশালী যোদ্ধার সাক্ষাৎ করিয়ে দাও, যে আমার বিরুদ্ধে লড়বে এবং আমি তার বিরুদ্ধে লড়বো। এরপর সে আমাকে হত্যা করবে আর আমার নাক ও কান কেটে নেবে। আমি যেদিন তোমার সাথে মিলিত হবো, সেদিন যেন তুমি আমায় জিজ্ঞেস করতে পারো, তোমার নাক ও কান কেন কাটা হয়েছে হে আবদুল্লাহ? আর আমি বলব, হে আল্লাহ! তোমার এবং তোমার রাসূলের জন্য। তখন তুমি বলবে, আবদুল্লাহ, তুমি সত্যি বলেছিলে!'
সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস এই দুআ শুনে বললেন, 'আমীন।' সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস তাঁর ছেলের কাছে যখন এ কাহিনীটি বলছিলেন, তিনি বলেন, 'শোনো বাবা, সেই দিন আমাদের দুজনের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন জাহশের দুআটাই বেশি ভালো ছিল। দিনশেষে দেখতে পেলাম, তাঁর নাক আর কান একটা দড়িতে বাঁধা।'
আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআটি সত্যিই কবুল করে নিয়েছিলেন! ঠিক সেভাবে কবুল করেছেন, যেভাবে তিনি চেয়েছেন! এই দুআ থেকে এটাও জানা যায় যে নিজের মৃত্যুকামনা করা জায়েয কেবলমাত্র তখনই, যখন আল্লাহর পথে মৃত্যুর দুআ হয়।

উহুদ যুদ্ধের আগের কথা, আবদুল্লাহ ইবন জাহশ আর সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাসের দেখা হল। আবদুল্লাহ ইবন জাহশ বললেন, 'আসো, আমরা একসাথে আল্লাহর কাছে দুআ করি।' তাঁরা ঠিক করলেন, প্রথমে তাঁদের একজন দুআ করবেন, অপরজন বলবেন আমীন। এরপর অপরজন দুআ চাইবেন, তখন প্রথমজন বলবেন আমীন। প্রথমে সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস দুআ করলেন,

'হে আল্লাহ! আমি যদি শত্রুর দেখা পাই, তাহলে আমার সাথে এমন এক শত্রুর সাক্ষাৎ করিয়ে দাও যে হবে প্রচণ্ড শক্তিশালী। সে আমার সাথে লড়বে এবং আমি তার সাথে লড়বো। এরপর তুমি আমাকে তার ওপর লড়াইয়ে বিজয়ী করে দিও। আমি যেন তাকে হত্যা করে তার দেহ থেকে বর্ম ছিনিয়ে নিতে পারি।'

আবদুল্লাহ ইবন জাহশ বললেন, 'আমীন'। সাদ বললেন, 'এবার তোমার পালা।' আবদুল্লাহ ইবন জাহশ দুআ করলেন,

'হে আল্লাহ! আমার সাথে একজন শক্তিশালী যোদ্ধার সাক্ষাৎ করিয়ে দাও, যে আমার বিরুদ্ধে লড়বে এবং আমি তার বিরুদ্ধে লড়বো। এরপর সে আমাকে হত্যা করবে আর আমার নাক ও কান কেটে নেবে। আমি যেদিন তোমার সাথে মিলিত হব, সেদিন যেন তুমি আমায় জিজ্ঞেস করতে পারো, তোমার নাক ও কান কেন কাটা হয়েছে হে আবদুল্লাহ? আর আমি বলব, হে আল্লাহ! তোমার এবং তোমার রাসূলের জন্য। তখন তুমি বলবে, আবদুল্লাহ, তুমি সত্যি বলেছিলে!'

সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস এই দুআ শুনে বললেন, 'আমীন।' সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস তাঁর ছেলের কাছে যখন এ কাহিনীটি বলছিলেন, তিনি বলেন, 'শোনো বাবা, সেই দিন আমাদের দুজনের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন জাহশের দুআটাই বেশি ভালো ছিল। দিনশেষে দেখতে পেলাম, তাঁর নাক আর কান একটা দড়িতে বাঁধা।'

আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআটি সত্যিই কবুল করে নিয়েছিলেন! ঠিক সেভাবে কবুল করেছেন, যেভাবে তিনি চেয়েছেন! এই দুআ থেকে এটাও জানা যায় যে নিজের মৃত্যুকামনা করা জায়েয কেবলমাত্র তখনই, যখন আল্লাহর পথে মৃত্যুর দুআ হয়।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 খাইসামা আবু সাদ ؓ

📄 খাইসামা আবু সাদ ؓ


খাইসামা বেশ বয়স্ক একজন সাহাবি। তবুও তিনি যুদ্ধে যেতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। কিতালে অংশ নেওয়া বৃদ্ধদের ওপর ফরয নয়, কিন্তু তিনি খুব করে চাইতেন শহীদ হতে। খাইসামার এক ছেলে বদরের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। খাইসামা বলেন,
'বদরের যুদ্ধে আমি যেতে পারিনি। বদরের সময় আমি জিহাদে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করলাম, তখন আমার আর আমার ছেলের মধ্যে লটারি হলো। লটারিিতে ছেলে জিতলো। সে যুদ্ধে গেল আর আল্লাহ তাকে শাহাদাহ দান করলেন। গতরাতে ওকে স্বপ্নে দেখেছি, ওকে দেখতে অসাধারণ লাগছিল! সে খুব মজা করে জান্নাতের ফল খাচ্ছিল। আমাকে বললো, এসো, জান্নাতে আমাদের সঙ্গী হয়ে যাও! আমাকে আল্লাহ যে ওয়াদা করেছিলেন তা আসলেই সত্যি হয়েছে।'
হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি জান্নাতে তার সাথে মিলিত হতে চাই। আমি বুড়ো হয়ে গেছি, আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাকে শাহাদাহ দান করেন! তিনি যেন আমাকে সাদের সাথে জান্নাতে এক হওয়ার সুযোগ দেন!'
রাসূলুল্লাহ তাঁর অনুরোধ রাখেন, তাকে যুদ্ধে যেতে দেন। খাইসামা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। যুদ্ধে না যাওয়ার যথেষ্ট অজুহাত খাইসামার ছিল, কিন্তু তিনি আর সবার মতো নন। বরং তাঁর ভয় ছিল না জানি বিছানায় শুয়েই মারা যান আর শাহাদাহ থেকে বঞ্চিত হন! জিহাদে না-যাবার অজস্র অজুহাতের বিপরীতে, বৃদ্ধ খাইসামার এই একটি আবেগী দুআ আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।

খাইসামা বেশ বয়স্ক একজন সাহাবি। তবুও তিনি যুদ্ধে যেতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। কিতালে অংশ নেওয়া বৃদ্ধদের ওপর ফরয নয়, কিন্তু তিনি খুব করে চাইতেন শহীদ হতে। খাইসামার এক ছেলে বদরের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। খাইসামা বলেন,

'বদরের যুদ্ধে আমি যেতে পারিনি। বদরের সময় আমি জিহাদে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করলাম, তখন আমার আর আমার ছেলের মধ্যে লটারি হল। লটারিতে ছেলে জিতল। সে যুদ্ধে গেল আর আল্লাহ তাকে শাহাদাহ দান করলেন। গতরাতে ওকে স্বপ্নে দেখেছি, ওকে দেখতে অসাধারণ লাগছিল! সে খুব মজা করে জান্নাতের ফল খাচ্ছিল। আমাকে বলল, এসো, জান্নাতে আমাদের সঙ্গী হয়ে যাও! আমাকে আল্লাহ যে ওয়াদা করেছিলেন তা আসলেই সত্যি হয়েছে।

হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি জান্নাতে তার সাথে মিলিত হতে চাই। আমি বুড়ো হয়ে গেছি, আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাকে শাহাদাহ দান করেন! তিনি যেন আমাকে সাদের সাথে জান্নাতে এক হওয়ার সুযোগ দেন!'

রাসূলুল্লাহ তাঁর অনুরোধ রাখেন, তাকে যুদ্ধে যেতে দেন। খাইসামা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। যুদ্ধে না যাওয়ার যথেষ্ট অজুহাত খাইসামার ছিল, কিন্তু তিনি আর সবার মতো নন। বরং তাঁর ভয় ছিল না জানি বিছানায় শুয়েই মারা যান আর শাহাদাহ থেকে বঞ্চিত হন! জিহাদে না-যাওয়ার অজস্র অজুহাতের বিপরীতে, বৃদ্ধ খাইসামার এই একটি আবেগী দুআ আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px