📄 মুসআব ইবন উমাইর ؓ
মুসআব ইবন উমাইর কেমন ছিলেন সে বিষয়ে সবচাইতে চমৎকার মন্তব্যটি করেছেন খাব্বাব রা.। তিনি বলেন,
'কিছু লোক দুনিয়ার বুকে পুরস্কার পায় না, সব পুরস্কার জমা করে রাখে আখিরাতের জন্য। মুসআব ইবন উমাইর তেমনই একজন। উহুদের দিনে তিনি মারা যান, রেখে যান শুধু গায়ে জড়ানোর এক টুকরো চাদর। সে চাদর দিয়ে যখন আমরা তাঁর মাথা ঢাকতে যাই, তাঁর পা বের হয়ে আসে। আর যখন পা ঢাকতে যাই, মাথা বের হয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাঁর মাথাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিয়ে পা দুটো যেন ইযকির ঘাস দিয়ে ঢেকে দিই।
অথচ এই মুসআব ইবন উমাইর ছিলেন জাহেলিয়াতের যুগে একজন 'সেলিব্রেটি'! কী ছিল না তাঁর! বাবা-মায়ের চোখের মণি, তরুণীদের ঘুম হরণকারী, দামী পোশাক আর সিরিয়ার সুগন্ধি ছাড়া যার চলতো না! অথচ ইসলাম মানুষটিকে আমূলে বদলে দিল। তিনি হয়ে গেলেন একেবারে সাদাসিধে। মৃত্যুর সময় তাঁর পুরো দেহ ঢাকার মতো এক টুকরো কাপড়ও তাঁর পরনে ছিল না।
অন্যদিকে আবদুর রহমান ইবন আওফ ছিলেন ধনী সাহাবিদের একজন। একদিন ইফতারের কথা, তাঁর সামনে কিছু খাবার আনা হলো। তিনি বললেন, 'মুসআব মারা গেছে, অথচ সে ছিল আমার চাইতে উত্তম, একটা ছোট্ট চাদর ছাড়া তাঁর আর কিছুই ছিল না। হামযা মারা গেছে, অথচ সেও আমার চেয়ে উত্তম। তাঁরা মারা গেছে অথচ আমরা এখনও দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ভোগ করে চলেছি।' এই বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন, আর কিছুই খেতে পারলেন না।
রাসূলুল্লাহ মুসআব ইবন উমাইরের মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে কুরআনের একটি আয়াত পড়লেন,
"মু'মিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে। তাদের কেউ কেউ [যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করে] তার দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, আবার কেউ কেউ [শাহাদাত বরণের] প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তনই করেনি।” (সূরা আহযাব, ৩৩: ২৩)
এই আয়াতের অর্থ হলো আল্লাহর সাথে আমাদের একটি ওয়াদা আছে, কিছু মানুষ আল্লাহর পথে জীবন দিয়ে সেই ওয়াদা পূর্ণ করেছে। যেমন মুস'আব ইবন উমাইর। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি এরাই হলো শহীদ। তোমরা আসো, তাদের দেখে যাও। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, কিয়ামতের আগ পর্যন্ত যারাই তাদেরকে সালাম দেবে তাদেরকে তারা সালামের উত্তর প্রদান করবে।'
টিকাঃ
13 তিরমিযী, অধ্যায় মানাকিব, হাদীস ৪২২৫ (আরবি রেফারেন্স)।
14 সহীহ বুখারি, অধ্যায় জানাযা, হাদীস ৩৬।
মুসআব ইবন উমাইর কেমন ছিলেন সে বিষয়ে সবচাইতে চমৎকার মন্তব্যটি করেছেন খাব্বাব রা.। তিনি বলেন, 'কিছু লোক দুনিয়ার বুকে পুরস্কার পায় না, সব পুরস্কার জমা করে রাখে আখিরাতের জন্য। মুসআব ইবন উমাইর তেমনই একজন। উহুদের দিনে তিনি মারা যান, রেখে যান শুধু গায়ে জড়ানোর এক টুকরো চাদর। সে চাদর দিয়ে যখন আমরা তাঁর মাথা ঢাকতে যাই, তাঁর পা বের হয়ে আসে। আর যখন পা ঢাকতে যাই, মাথা বের হয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাঁর মাথাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিয়ে পা দুটো যেন ইযকির ঘাস দিয়ে ঢেকে দিই।
অথচ এই মুসআব ইবন উমাইর ছিলেন জাহেলিয়াতের যুগে একজন 'সেলিব্রেটি'! কী ছিল না তাঁর! বাবা-মায়ের চোখের মণি, তরুণীদের ঘুম হরণকারী, দামী পোশাক আর সিরিয়ার সুগন্ধি ছাড়া যার চলত না! অথচ ইসলাম মানুষটিকে আমূলে বদলে দিল। তিনি হয়ে গেলেন একেবারে সাদাসিধে। মৃত্যুর সময় তাঁর পুরো দেহ ঢাকার মতো এক টুকরো কাপড়ও তাঁর পরনে ছিল না।
অন্যদিকে আবদুর রহমান ইবন আওফ ছিলেন ধনী সাহাবিদের একজন। একদিন ইফতারের কথা, তাঁর সামনে কিছু খাবার আনা হল। তিনি বললেন, 'মুসআব মারা গেছে, অথচ সে ছিল আমার চাইতে উত্তম, একটা ছোট্ট চাদর ছাড়া তাঁর আর কিছুই ছিল না। হামযা মারা গেছে, অথচ সেও আমার চেয়ে উত্তম। তাঁরা মারা গেছে অথচ আমরা এখনও দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ভোগ করে চলেছি।' এই বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন, আর কিছুই খেতে পারলেন না।
রাসূলুল্লাহ মুসআব ইবন উমাইরের মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে কুরআনের একটি আয়াত পড়লেন,
"মু'মিনদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে। তাদের কেউ কেউ [যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করে] তার দায়িত্ব পূর্ণ করেছে, আবার কেউ কেউ [শাহাদাত বরণের] প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তনই করেনি।” (সূরা আহযাব, ৩৩: ২৩)
এই আয়াতের অর্থ হল আল্লাহর সাথে আমাদের একটি ওয়াদা আছে, কিছু মানুষ আল্লাহর পথে জীবন দিয়ে সেই ওয়াদা পূর্ণ করেছে। যেমন মুস'আব ইবন উমাইর। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি এরাই হল শহীদ। তোমরা আসো, তাদের দেখে যাও। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, কিয়ামতের আগ পর্যন্ত যারাই তাদেরকে সালাম দেবে তাদেরকে তারা সালামের উত্তর প্রদান করবে।'
টিকাঃ
১৩. তিরমিযী, অধ্যায় মানাকিব, হাদীস ৪২২৫ (আরবি রেফারেন্স)।
১৪. সহীহ বুখারি, অধ্যায় জানাযা, হাদীস ৩৬।
📄 সাদ ইবন আর-রাবী ؓ
সাদ ইবন আর-রাবীর সাথে রাসূলুল্লাহ যুদ্ধের আগে পরামর্শ করছিলেন। সে কথা আগেই বর্ণনা করা হয়ে হয়েছে। যুদ্ধের পর রাসূলুল্লাহ তাঁর অবস্থা জানতে চাইলেন। বললেন, 'কে আমাকে সাদ ইবন রাবীর খবর দিতে পারবে? সে কি বেঁচে আছে না মারা গেছে? যদি তাঁকে জীবিত দেখতে পাও আমার সালাম পৌঁছে দিও।' একজন আনসারী সাহাবি, উবাই ইবন কাব, সাদের খোঁজে বেরিয়ে গেলেন। জীবনের অন্তিম মুহূর্তে সাদকে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় খুঁজে পেলেন। তাঁকে পেয়ে বললেন, 'রাসূলুল্লাহ তোমার অবস্থা জানতে চেয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। কী অবস্থা এখন তোমার?' সাদ বললেন,
'রাসূলুল্লাহর প্রতি সালাম এবং তোমাকেও। রাসূলুল্লাহকে আমার পক্ষ থেকে বলে দিও, আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি। আল্লাহ তাঁকে সকল নবীর চাইতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পুরষ্কৃত করুক। আর আনসারদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে বলে দিও, সাদ ইবন রাবী তাদের বলেছে, তোমরা বেঁচে থাকতে যদি তোমাদের নবীর উপর একটা আঁচড়ও আসে, তবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবার মতো কোনো অজুহাত তোমাদের থাকবে না। যতদিন তোমাদের চোখের পাতা নড়বে, ততদিন পর্যন্ত তোমরা নবীকে রক্ষা করে যাবে।'
মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তেও সাদ রাসূলুল্লাহর জন্য শ্রেষ্ঠ বিনিময় কামনা করছেন। অথচ এই রাসূলুল্লাহকে বাঁচাতে গিয়েই আজ সাদ নিজের জীবনের শেষ প্রান্তে। আজকের মুসলিমরা তো এতই স্বার্থপর, এতই কৃপণ মনের অধিকারী হয়ে গেছে যে তারা দ্বীন ইসলামের জন্য জান ও মাল বিলিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতেই পারে না। যখন বিপদ আসে, উল্টো ভাবতে থাকে যে ইসলামের জন্যই আজ তাদের এ দুর্দশা। প্রয়োজনে তারা তাদের দুনিয়ার নিরাপত্তা, সুখ, শান্তি বজায় রাখার জন্য দ্বীনের ব্যাপারে ছাড় দিয়ে দেয়।
একটু তুলনা করে দেখা যাক-- শুধুমাত্র আল্লাহর রাসূলকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আনসারীদের জীবনে কী বিপর্যয় নেমে আসে! তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের পরিবার-পরিজনকে কষ্ট সহ্য করতে হয়, যুদ্ধ-বিগ্রহে জড়াতে হয়, পুরো আরব তাদের শত্রু হয়ে যায়। কিন্তু এরপরেও সাদ ইবন আর-রাবী এতটুকু বিরক্ত নন। বরং তিনি নবীজির পুরষ্কারের জন্য দুআ করছেন। শুধু তাই নয়, সাদ তাঁর আনসারী ভাইবোনের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী পাঠিয়েছেন এই বলে, তাদের মাঝে যতক্ষণ একবিন্দু প্রাণ আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা যেন নবীজিকে রক্ষা করে যায়। তাদের জীবদ্দশায় যদি নবীজির গায়ে একটি কাঁটাও লাগে, তাহলেও তারা এর জন্য আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবে, তাদের কোনো কৈফিয়ত শোনা হবে না। রাসূলুল্লাহর সাহায্যকারী আনসাররা দ্বীন ইসলামকে এভাবেই বুঝতেন।
সাদ ইবন আর-রাবীর সাথে রাসূলুল্লাহ যুদ্ধের আগে পরামর্শ করছিলেন। যুদ্ধের পর রাসূলুল্লাহ তাঁর অবস্থা জানতে চাইলেন। বললেন, 'কে আমাকে সাদ ইবন রাবীর খবর দিতে পারবে? সে কি বেঁচে আছে না মারা গেছে? যদি তাঁকে জীবিত দেখতে পাও আমার সালাম পৌঁছে দিও।' একজন আনসারী সাহাবি, উবাই ইবন কাব, সাদের খোঁজে বেরিয়ে গেলেন। জীবনের অন্তিম মুহূর্তে সাদকে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় খুঁজে পেলেন। তাঁকে পেয়ে বললেন, 'রাসূলুল্লাহ তোমার অবস্থা জানতে চেয়ে আমাকে পাঠিয়েছেন। কী অবস্থা এখন তোমার?' সাদ বললেন,
'রাসূলুল্লাহর প্রতি সালাম এবং তোমাকেও। রাসূলুল্লাহকে আমার পক্ষ থেকে বলে দিও, আমি জান্নাতের সুবাস পাচ্ছি। আল্লাহ তাঁকে সকল নবীর চাইতে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পুরষ্কৃত করুক। আর আনসারদেরকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে বলে দিও, সাদ ইবন রাবী তাদের বলেছে, তোমরা বেঁচে থাকতে যদি তোমাদের নবীর ওপর একটা আঁচড়ও আসে, তবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবার মতো কোনো অজুহাত তোমাদের থাকবে না। যতদিন তোমাদের চোখের পাতা নড়বে, ততদিন পর্যন্ত তোমরা নবীকে রক্ষা করে যাবে।'
মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তেও সাদ রাসূলুল্লাহর জন্য শ্রেষ্ঠ বিনিময় কামনা করছেন। অথচ এই রাসূলুল্লাহকে বাঁচাতে গিয়েই আজ সাদ নিজের জীবনের শেষ প্রান্তে। আজকের মুসলিমরা তো এতই স্বার্থপর, এতই কৃপণ মনের অধিকারী হয়ে গেছে যে তারা দ্বীন ইসলামের জন্য জান ও মাল বিলিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতেই পারে না। যখন বিপদ আসে, উল্টো ভাবতে থাকে যে ইসলামের জন্যই আজ তাদের এ দুর্দশা। প্রয়োজনে তারা তাদের দুনিয়ার নিরাপত্তা, সুখ, শান্তি বজায় রাখার জন্য দ্বীনের ব্যাপারে ছাড় দিয়ে দেয়।
একটু তুলনা করে দেখা যাক-- শুধুমাত্র আল্লাহর রাসূলকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে আনসারীদের জীবনে কী বিপর্যয় নেমে আসে! তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের পরিবার-পরিজনকে কষ্ট সহ্য করতে হয়, যুদ্ধ-বিগ্রহে জড়াতে হয়, পুরো আরব তাদের শত্রু হয়ে যায়। কিন্তু এরপরেও সাদ ইবন আর-রাবী এতটুকু বিরক্ত নন। বরং তিনি নবীজির পুরষ্কারের জন্য দুআ করছেন। শুধু তাই নয়, সাদ তাঁর আনসারী ভাইবোনের উদ্দেশ্যে সতর্কবাণী পাঠিয়েছেন এই বলে, তাদের মাঝে যতক্ষণ একবিন্দু প্রাণ আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা যেন নবীজিকে রক্ষা করে যায়। তাদের জীবদ্দশায় যদি নবীজির গায়ে একটি কাঁটাও লাগে, তাহলেও তারা এর জন্য আল্লাহর কাছে দায়ী থাকবে, তাদের কোনো কৈফিয়ত শোনা হবে না। রাসূলুল্লাহর সাহায্যকারী আনসাররা দ্বীন ইসলামকে এভাবেই বুঝতেন।
📄 আবদুল্লাহ ইবন জাহশ ؓ
উহুদ যুদ্ধের আগের কথা, আবদুল্লাহ ইবন জাহশ আর সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাসের দেখা হলো। আবদুল্লাহ ইবন জাহশ বললেন, 'আসো, আমরা একসাথে আল্লাহর কাছে দুআ করি।' তাঁরা ঠিক করলেন, প্রথমে তাঁদের একজন দুআ করবেন, অপরজন বলবেন আমীন। এরপর অপরজন দুআ চাইবেন, তখন প্রথমজন বলবেন আমীন। প্রথমে সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস দুআ করলেন,
'হে আল্লাহ! আমি যদি শত্রুর দেখা পাই, তাহলে আমার সাথে এমন এক শত্রুর সাক্ষাৎ করিয়ে দাও যে হবে প্রচণ্ড শক্তিশালী। সে আমার সাথে লড়বে এবং আমি তার সাথে লড়বো। এরপর তুমি আমাকে তার ওপর লড়াইয়ে বিজয়ী করে দিও। আমি যেন তাকে হত্যা করে তার দেহ থেকে বর্ম ছিনিয়ে নিতে পারি।'
আবদুল্লাহ ইবন জাহশ বললেন, 'আমীন'। সাদ বললেন, 'এবার তোমার পালা।' আবদুল্লাহ ইবন জাহশ দুআ করলেন,
'হে আল্লাহ! আমার সাথে একজন শক্তিশালী যোদ্ধার সাক্ষাৎ করিয়ে দাও, যে আমার বিরুদ্ধে লড়বে এবং আমি তার বিরুদ্ধে লড়বো। এরপর সে আমাকে হত্যা করবে আর আমার নাক ও কান কেটে নেবে। আমি যেদিন তোমার সাথে মিলিত হবো, সেদিন যেন তুমি আমায় জিজ্ঞেস করতে পারো, তোমার নাক ও কান কেন কাটা হয়েছে হে আবদুল্লাহ? আর আমি বলব, হে আল্লাহ! তোমার এবং তোমার রাসূলের জন্য। তখন তুমি বলবে, আবদুল্লাহ, তুমি সত্যি বলেছিলে!'
সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস এই দুআ শুনে বললেন, 'আমীন।' সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস তাঁর ছেলের কাছে যখন এ কাহিনীটি বলছিলেন, তিনি বলেন, 'শোনো বাবা, সেই দিন আমাদের দুজনের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন জাহশের দুআটাই বেশি ভালো ছিল। দিনশেষে দেখতে পেলাম, তাঁর নাক আর কান একটা দড়িতে বাঁধা।'
আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআটি সত্যিই কবুল করে নিয়েছিলেন! ঠিক সেভাবে কবুল করেছেন, যেভাবে তিনি চেয়েছেন! এই দুআ থেকে এটাও জানা যায় যে নিজের মৃত্যুকামনা করা জায়েয কেবলমাত্র তখনই, যখন আল্লাহর পথে মৃত্যুর দুআ হয়।
উহুদ যুদ্ধের আগের কথা, আবদুল্লাহ ইবন জাহশ আর সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাসের দেখা হল। আবদুল্লাহ ইবন জাহশ বললেন, 'আসো, আমরা একসাথে আল্লাহর কাছে দুআ করি।' তাঁরা ঠিক করলেন, প্রথমে তাঁদের একজন দুআ করবেন, অপরজন বলবেন আমীন। এরপর অপরজন দুআ চাইবেন, তখন প্রথমজন বলবেন আমীন। প্রথমে সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস দুআ করলেন,
'হে আল্লাহ! আমি যদি শত্রুর দেখা পাই, তাহলে আমার সাথে এমন এক শত্রুর সাক্ষাৎ করিয়ে দাও যে হবে প্রচণ্ড শক্তিশালী। সে আমার সাথে লড়বে এবং আমি তার সাথে লড়বো। এরপর তুমি আমাকে তার ওপর লড়াইয়ে বিজয়ী করে দিও। আমি যেন তাকে হত্যা করে তার দেহ থেকে বর্ম ছিনিয়ে নিতে পারি।'
আবদুল্লাহ ইবন জাহশ বললেন, 'আমীন'। সাদ বললেন, 'এবার তোমার পালা।' আবদুল্লাহ ইবন জাহশ দুআ করলেন,
'হে আল্লাহ! আমার সাথে একজন শক্তিশালী যোদ্ধার সাক্ষাৎ করিয়ে দাও, যে আমার বিরুদ্ধে লড়বে এবং আমি তার বিরুদ্ধে লড়বো। এরপর সে আমাকে হত্যা করবে আর আমার নাক ও কান কেটে নেবে। আমি যেদিন তোমার সাথে মিলিত হব, সেদিন যেন তুমি আমায় জিজ্ঞেস করতে পারো, তোমার নাক ও কান কেন কাটা হয়েছে হে আবদুল্লাহ? আর আমি বলব, হে আল্লাহ! তোমার এবং তোমার রাসূলের জন্য। তখন তুমি বলবে, আবদুল্লাহ, তুমি সত্যি বলেছিলে!'
সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস এই দুআ শুনে বললেন, 'আমীন।' সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস তাঁর ছেলের কাছে যখন এ কাহিনীটি বলছিলেন, তিনি বলেন, 'শোনো বাবা, সেই দিন আমাদের দুজনের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন জাহশের দুআটাই বেশি ভালো ছিল। দিনশেষে দেখতে পেলাম, তাঁর নাক আর কান একটা দড়িতে বাঁধা।'
আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআটি সত্যিই কবুল করে নিয়েছিলেন! ঠিক সেভাবে কবুল করেছেন, যেভাবে তিনি চেয়েছেন! এই দুআ থেকে এটাও জানা যায় যে নিজের মৃত্যুকামনা করা জায়েয কেবলমাত্র তখনই, যখন আল্লাহর পথে মৃত্যুর দুআ হয়।
📄 খাইসামা আবু সাদ ؓ
খাইসামা বেশ বয়স্ক একজন সাহাবি। তবুও তিনি যুদ্ধে যেতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। কিতালে অংশ নেওয়া বৃদ্ধদের ওপর ফরয নয়, কিন্তু তিনি খুব করে চাইতেন শহীদ হতে। খাইসামার এক ছেলে বদরের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। খাইসামা বলেন,
'বদরের যুদ্ধে আমি যেতে পারিনি। বদরের সময় আমি জিহাদে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করলাম, তখন আমার আর আমার ছেলের মধ্যে লটারি হলো। লটারিিতে ছেলে জিতলো। সে যুদ্ধে গেল আর আল্লাহ তাকে শাহাদাহ দান করলেন। গতরাতে ওকে স্বপ্নে দেখেছি, ওকে দেখতে অসাধারণ লাগছিল! সে খুব মজা করে জান্নাতের ফল খাচ্ছিল। আমাকে বললো, এসো, জান্নাতে আমাদের সঙ্গী হয়ে যাও! আমাকে আল্লাহ যে ওয়াদা করেছিলেন তা আসলেই সত্যি হয়েছে।'
হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি জান্নাতে তার সাথে মিলিত হতে চাই। আমি বুড়ো হয়ে গেছি, আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাকে শাহাদাহ দান করেন! তিনি যেন আমাকে সাদের সাথে জান্নাতে এক হওয়ার সুযোগ দেন!'
রাসূলুল্লাহ তাঁর অনুরোধ রাখেন, তাকে যুদ্ধে যেতে দেন। খাইসামা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। যুদ্ধে না যাওয়ার যথেষ্ট অজুহাত খাইসামার ছিল, কিন্তু তিনি আর সবার মতো নন। বরং তাঁর ভয় ছিল না জানি বিছানায় শুয়েই মারা যান আর শাহাদাহ থেকে বঞ্চিত হন! জিহাদে না-যাবার অজস্র অজুহাতের বিপরীতে, বৃদ্ধ খাইসামার এই একটি আবেগী দুআ আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।
খাইসামা বেশ বয়স্ক একজন সাহাবি। তবুও তিনি যুদ্ধে যেতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। কিতালে অংশ নেওয়া বৃদ্ধদের ওপর ফরয নয়, কিন্তু তিনি খুব করে চাইতেন শহীদ হতে। খাইসামার এক ছেলে বদরের যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন। খাইসামা বলেন,
'বদরের যুদ্ধে আমি যেতে পারিনি। বদরের সময় আমি জিহাদে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করলাম, তখন আমার আর আমার ছেলের মধ্যে লটারি হল। লটারিতে ছেলে জিতল। সে যুদ্ধে গেল আর আল্লাহ তাকে শাহাদাহ দান করলেন। গতরাতে ওকে স্বপ্নে দেখেছি, ওকে দেখতে অসাধারণ লাগছিল! সে খুব মজা করে জান্নাতের ফল খাচ্ছিল। আমাকে বলল, এসো, জান্নাতে আমাদের সঙ্গী হয়ে যাও! আমাকে আল্লাহ যে ওয়াদা করেছিলেন তা আসলেই সত্যি হয়েছে।
হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি জান্নাতে তার সাথে মিলিত হতে চাই। আমি বুড়ো হয়ে গেছি, আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন আমাকে শাহাদাহ দান করেন! তিনি যেন আমাকে সাদের সাথে জান্নাতে এক হওয়ার সুযোগ দেন!'
রাসূলুল্লাহ তাঁর অনুরোধ রাখেন, তাকে যুদ্ধে যেতে দেন। খাইসামা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন। যুদ্ধে না যাওয়ার যথেষ্ট অজুহাত খাইসামার ছিল, কিন্তু তিনি আর সবার মতো নন। বরং তাঁর ভয় ছিল না জানি বিছানায় শুয়েই মারা যান আর শাহাদাহ থেকে বঞ্চিত হন! জিহাদে না-যাওয়ার অজস্র অজুহাতের বিপরীতে, বৃদ্ধ খাইসামার এই একটি আবেগী দুআ আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত।