📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 সেনাদের উদ্দেশ্যে নবীজির ﷽ বক্তব্য

📄 সেনাদের উদ্দেশ্যে নবীজির ﷽ বক্তব্য


রাসূলুল্লাহ মূল সেনাবাহিনীকে তিনটি বাহিনীতে বিভক্ত করলেন:
- আল মুহাজিরীন, তাদের পতাকা দেওয়া হয় মুসআব ইবন উমাইরকে।
- আল-আওস, তাদের পতাকা তুলে দেওয়া উসাইব ইবন খুযাইরের হাতে।
- এবং আল-খাযরাজ, আল-হুবাব ইবন মুনযির তাদের হয়ে পতাকা বহন করেন।
যুদ্ধের আগে সৈনিকদের উদ্দেশ্যে একজন কমান্ডারের বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাস জুড়ে এমন অনেক ঘটনা পাওয়া যায়, যেখানে কমান্ডার সৈনিকদের উদ্দেশ্যে এমন তেজোদ্দীপ্ত ঝাঁঝালো বক্তব্য দিয়েছেন যে সৈনিকরা প্রবল সাহসিকতায় ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হতে চেয়েছে। উহুদের প্রাক্কালেও এমন একটি ঘটনা পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ তাঁর বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি বক্তব্য রাখলেন,
'ভাইয়েরা, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাকে যা আদেশ করেছেন, আমি তোমাদের তা-ই আদেশ করছি: আল্লাহর আনুগত্য করো। যা কিছু তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। তোমরা যারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানো এবং ধৈর্য, দৃঢ় বিশ্বাস, আন্তরিকতা আর নিষ্ঠার সাথে নিজেদের প্রস্তুত করেছো, আজ তাদের জন্য পুরস্কার লুফে নেওয়ার সুযোগ! নিশ্চয়ই শত্রুর সাথে জিহাদ করা সহজ কাজ নয়, বরং কষ্টকরই বটে। খুব অল্প ক'জনই ধৈর্যের সাথে তা করতে পারে। তবে আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাঁকে মেনে চলে। আর যারা তাঁকে মানে না, তাদের সাথে থাকে শয়তান। তাই ধৈর্যের সাথে জিহাদ করো আর খুঁজে ফেরো সেই প্রতিশ্রুতি (শাহাদাহ) যা আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন। আর আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি, তোমরা তা অবশ্যই পালন করবে। কেননা, আমি তোমাদেরকে তা-ই করতে বলি, যা সঠিক। মনে রেখো, অনৈক্য, মতভেদ আর হতাশাই হলো দুর্বলতা আর শক্তিহীনতার কারণ। যারা এমন করে, আল্লাহ না তাদের ভালোবাসেন, আর না বিজয় দান করেন।'

রাসূলুল্লাহ মূল সেনাবাহিনীকে তিনটি বাহিনীতে বিভক্ত করলেন: আল মুহাজিরীন, তাদের পতাকা দেওয়া হয় মুসআব ইবন উমাইরকে; আল-আওস, তাদের পতাকা তুলে দেওয়া উসাইদ ইবন খুযাইরের হাতে; এবং আল-খাযরাজ, আল-হুবাব ইবন মুনযির তাদের হয়ে পতাকা বহন করেন। যুদ্ধের আগে সৈনিকদের উদ্দেশ্যে একজন কমান্ডারের বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ তাঁর বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি বক্তব্য রাখলেন:

'ভাইয়েরা, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাকে যা আদেশ করেছেন, আমি তোমাদের তা-ই আদেশ করছি: আল্লাহর আনুগত্য করো। যা কিছু তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। তোমরা যারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানো এবং ধৈর্য, দৃঢ় বিশ্বাস, আন্তরিকতা আর নিষ্ঠার সাথে নিজেদের প্রস্তুত করেছো, আজ তাদের জন্য পুরস্কার লুফে নেওয়ার সুযোগ! নিশ্চয়ই শত্রুর সাথে জিহাদ করা সহজ কাজ নয়, বরং কষ্টকরই বটে। খুব অল্প ক'জনই ধৈর্যের সাথে তা করতে পারে। তবে আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাঁকে মেনে চলে। আর যারা তাঁকে মানে না, তাদের সাথে থাকে শয়তান। তাই ধৈর্যের সাথে জিহাদ করো আর খুঁজে ফেরো সেই প্রতিশ্রুতি (শাহাদাহ) যা আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন। আর আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি, তোমরা তা অবশ্যই পালন করবেন। কেননা, আমি তোমাদেরকে তা-ই করতে বলি, যা সঠিক। মনে রেখো, অনৈক্য, মতভেদ আর হতাশাই হলো দুর্বলতা আর শক্তিহীনতার কারণ। যারা এমন করে, আল্লাহ না তাদের ভালোবাসেন, আর না বিজয় দান করেন।'

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 যুদ্ধের আগের মুহূর্তগুলো

📄 যুদ্ধের আগের মুহূর্তগুলো


রাসূলুল্লাহ উহুদ পাহাড়ের সামনে দাঁড়ালেন, যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়ে আছে। লক্ষ করলেন পেছনের দিক থেকে আক্রমণের একটি সম্ভাবনা আছে। সেখানে একটি ছোটখাটো পাহাড়। উহুদ পাহাড়ের ঠিক বরাবর। রাসূলুল্লাহ পঞ্চাশ জন তীরন্দাজকে সেই আইনাইন পাহাড়ের ওপর অবস্থান নিতে বললেন। তাদেরকে পরিষ্কার ভাষায় দিকনির্দেশনা দিলেন, 'আমার কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত তোমরা এই পাহাড়েই অবস্থান করবে। যদি তোমরা দেখ শকুন এসে আমাদের মৃতদেহ খুবলে খাচ্ছে, তবু আমার ইশারা ছাড়া এক পা-ও নড়বে না। যদি দেখ শত্রুদের ওপর আমরা বিজয় লাভ করেছি, আর তাদেরকে পায়ের নিচে পিষে ফেলছি, তবুও আমার ইশারা ছাড়া তোমরা এখান থেকে সরবে না।'
দিনের আলোর মতো পরিষ্কার নির্দেশনা। যুদ্ধক্ষেত্রে জয় পরাজয় যা-ই হোক না কেন—তীরন্দাজরা তাদের অবস্থানেই থাকবে আর শত্রুপক্ষকে পেছন থেকে আক্রমণ করতে দেখলে তীরবর্ষণ করবে। কেননা শত্রুরা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে পাশ থেকে কিংবা পেছন থেকে হামলা করে মুসলিমদেরকে বিপদে ফেলে দিতে পারে।

রাসূলুল্লাহ উহুদ পাহাড়ের সামনে দাঁড়ালেন, যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়ে আছে। লক্ষ করলেন পেছনের দিক থেকে আক্রমণের একটি সম্ভাবনা আছে। সেখানে একটি ছোটখাটো পাহাড়। উহুদ পাহাড়ের ঠিক বরাবর। রাসূলুল্লাহ পঞ্চাশ জন তীরন্দাজকে সেই আইনাইন পাহাড়ের ওপর অবস্থান নিতে বললেন। তাদেরকে পরিষ্কার ভাষায় দিকনির্দেশনা দিলেন, 'আমার কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত তোমরা এই পাহাড়েই অবস্থান করবে। যদি তোমরা দেখ শকুন এসে আমাদের মৃতদেহ খুবলে খাচ্ছে, তবু আমার ইশারা ছাড়া এক পা-ও নড়বে না। যদি দেখ শত্রুদের ওপর আমরা বিজয় লাভ করেছি, আর তাদেরকে পায়ের নিচে পিষে ফেলছি, তবুও আমার ইশারা ছাড়া তোমরা এখান থেকে সরবে না।' দিনের আলোর মতো পরিষ্কার নির্দেশনা। যুদ্ধক্ষেত্রে জয় পরাজয় যা-ই হোক না কেন--তীরন্দাজরা তাদের অবস্থানেই থাকবে আর শত্রুপক্ষকে পেছন থেকে আক্রমণ করতে দেখলে তীরবর্ষণ করবে। কেননা শত্রুরা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে পাশ থেকে কিম্বা পেছন থেকে হামলা করে মুসলিমদেরকে বিপদে ফেলে দিতে পারে।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 কুরাইশদের কূটচাল

📄 কুরাইশদের কূটচাল


যুদ্ধের শুরুতে কুরাইশরা একটি কূট কৌশল অবলম্বন করলো। তারা মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইলো। আবু সুফিয়ান আল-আনসারকে সংবাদ পাঠালো, 'দেখো, তোমাদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের বোঝাপড়া আমাদের ভাইদের সাথে। কাজেই তোমরা আমাদের পথ থেকে সরে দাঁড়াও।'
আনসাররা জবাব দিল, 'এখন এ কথা বলছো! আরে, তোমরাই কি সেই কুরাইশ নও, যারা মাত্র কিছুদিন আগে, রাসূলুল্লাহ মদীনায় হিজরত করার পর আমাদেরকে চিঠি লিখে হুমকি দিয়েছিলে যে, যদি আমরা রাসূলুল্লাহকে তোমাদের হাতে তুলে না দিই, তাহলে তোমরা আমাদের হত্যা করবে, আমাদের মেয়েদেরকে দাসী বানাবে, আমাদের টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেবে? আর এখন হঠাৎ বলছো আমাদের সাথে তোমাদের কোনো শত্রুতা নেই? এটা মিথ্যা, এসব তোমাদের ছলনা!'
কুরাইশরা চেয়েছিল মুসলিমদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করতে, যাতে করে এক এক করে সবাইকে শেষ করতে পারে। আজকের দিনে কাফিররা যেমন করে বলে: মুসলিমদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই, আমরা তো শুধু 'সন্ত্রাসী'দের দমন করছি। এটা আধুনিক সামরিক সংস্কৃতির একটি কৌশল যার মাধ্যমে শত্রুর মধ্যে অনৈক্য তৈরি করা হয়। বলা যেতে পারে এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের (Psychological Warfare) একটি অস্ত্র। কাফিররা এ কথা বলে উম্মাহর একটি অংশের কাছে বিশ্বাস বা আস্থা অর্জন করে তাদের বন্ধু সাজতে চায় এবং যারা উম্মাহর পক্ষে লড়ছে তাদেরকে ভিলেন বানাতে চায়। বাস্তবতা হলো, প্রথমে তারা তথাকথিত 'সন্ত্রাসী'দের দমন করবে, আর এরপর বাদ বাকি উম্মাহর বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। এরকম হওয়ার আগে মুসলিমদের এক হতে হবে।
কুরাইশরা আওস গোত্রের আবু আমরকে পাঠিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির দ্বিতীয় প্রচেষ্টা চালালো। সে আগে মদীনাতেই থাকতো। ইসলাম যখন মদীনায় আসে তখন সে মুসলিম হতে অস্বীকৃতি জানায় আর মদীনা ছেড়ে কুরাইশদের সেনাবাহিনীতে যোগদান করে। আগে তার গোত্রের লোকেরা তাকে অনেক ভালবাসত, তাকে 'রাহিব' বা যাজক বলে ডাকতো। তাই কুরাইশদের সে বললো, 'আমি আমার লোকদের গিয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে মুহাম্মাদের সাথে যুদ্ধ করতে রাজি করাবো।' আবু আমর খুব আত্মবিশ্বাসী। গোত্রের লোকজন তাকে অনেক ভালবাসতো, তার কথা মেনে নেবে—এটাই তার মাথায় ঘুরছে। কিন্তু ইসলাম যে মানুষের ভালো-লাগা, ভালোবাসা, আনুগত্য সবকিছু বদলে দিতে পারে সেটা আবু আমরের ধারণা ছিল না। তার গোত্রের কাছে এই বিদঘুটে প্রস্তাব নেওয়ামাত্র তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করলো। তাকে অভিশাপ দিতে লাগলো। সে কী বুঝলো কে জানে, বললো, 'নাহ, আমি চলে যাবার পর আমার লোকদের উপর শয়তান ভর করেছে।'
আসলে শয়তান না, আনসারদের অন্তরকে বদলে দিয়েছিল ইসলাম। এভাবে শত্রুদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে গেল, আলহামদুলিল্লাহ।

যুদ্ধের শুরুতে কুরাইশরা একটি কূট কৌশল অবলম্বন করল। তারা মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইল। আবু সুফিয়ান আল-আনসারকে সংবাদ পাঠাল, 'দেখো, তোমাদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের বোঝাপড়া আমাদের ভাইদের সাথে। কাজেই তোমরা আমাদের পথ থেকে সরে দাঁড়াও।' আনসাররা জবাব দিল, 'এখন এ কথা বলছো! তোমরাই কি সেই কুরাইশ নও, যারা রাসূলুল্লাহ মদীনায় হিজরত করার পর আমাদেরকে চিঠি লিখে হুমকি দিয়েছিলে? আর এখন হঠাৎ বলছো আমাদের সাথে তোমাদের কোনো শত্রুতা নেই? এটা মিথ্যা, এসব তোমাদের ছলনা!'

কুরাইশরা চেয়েছিল মুসলিমদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করতে, যাতে করে এক এক করে সবাইকে শেষ করতে পারে। এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটি অস্ত্র। কুরাইশরা আওস গোত্রের আবু আমরকে পাঠিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির দ্বিতীয় প্রচেষ্টা চালাল। সে আগে মদীনাতেই থাকতো, কিন্তু ইসলাম অস্বীকার করে মদীনা ছেড়ে কুরাইশদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। তার ধারণা ছিল গোত্রের লোকজন তাকে ভালবাসে বলে তার কথা মেনে নেবে। কিন্তু তার গোত্রের কাছে এই প্রস্তাব নেওয়ামাত্র তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল এবং অভিশাপ দিতে লাগল। আবু আমর বলল, 'নাহ, আমি চলে যাওয়ার পর আমার লোকদের ওপর শয়তান ভর করেছে।' আসলে শয়তান না, আনসারদের অন্তরকে বদলে দিয়েছিল ইসলাম। এভাবে শত্রুদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে গেল, আলহামদুলিল্লাহ।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 শুরু হলো যুদ্ধ

📄 শুরু হলো যুদ্ধ


মূল যুদ্ধের আগে দ্বন্দ্বযুদ্ধ ছিল আরবদের প্রথা। উহুদেও তার ব্যতিক্রম হলো না। কুরাইশদের পতাকাবাহক তালহা ইবন উসমান মুসলিমদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল, 'মুসলিমদের মধ্যে কে আছো আমার সাথে লড়বে? আসো, আসো, পারলে আমাকে দোজখে পাঠাও। নইলে নিজেই বেহেশতে জায়গা করে নাও!' তার ঔদ্ধত্যভরা কথা শুনে আলী শান্ত থাকতে পারলেন না। তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এগিয়ে গেলেন। তরবারির এক কোপে তালহার শরীর থেকে তার পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে তাকে সেভাবেই ফেলে রেখে চলে এলেন। তবে ভিন্ন বর্ণনায় এই দ্বন্দ্বযুদ্ধে আলী নয়, যুবায়ের অংশ নিয়েছেন।
যুদ্ধের আগে রাসূলুল্লাহ একটি তরবারি হাতে নিয়ে সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন,
- কে আছে আমার হাত থেকে এই তরবারি নিতে চায়?
- আমি নেব! আমি! - অনেক সাহাবি আগ্রহ দেখালেন।
- এই তরবারি নিতে চাইলে তার হক আদায় করা চাই। কে আছে এই তরবারির হক আদায়ের ক্ষমতা রাখে? রাসূলুল্লাহ শর্ত যোগ করলেন।
- কী এই তরবারির হক? জানতে চাইলেন আবু দুজানা।
- এর হক হচ্ছে এটা দিয়ে শত্রুকে এমনভাবে আঘাত হানতে হবে যেন এটা বেঁকে যায়!
শক্ত ধাতব তরবারি বাঁকিয়ে ফেলা যেনতেন কাজ নয়! সবাই যেন কিছুটা চুপসে গেল, কিন্তু এগিয়ে এলেন আবু দুজানা, 'আমি এই তরবারির হক আদায় করবো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ তরবারি আবু দুজানার হাতে তুলে দিলেন। আবু দুজানা তরবারি নিলেন, মাথায় বাঁধলেন একটি লাল পট্টি। আবু দুজানা যখনই যুদ্ধে যেতেন, মাথায় লাল পট্টি বেঁধে নিতেন, এটা ছিল তাঁর যুদ্ধের সাজ। এরপর শত্রুদলের সামনে দাপটের সাথে হেঁটে বেড়াতেন। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে যেন শক্তি ঝরে পড়তো।
তাঁর এই বিশেষ হাঁটার ধরন দেখে রাসূলুল্লাহ বলেছিলেন, 'এইভাবে দর্পভরে হাঁটা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। তবে এই পরিস্থিতির কথা ভিন্ন।', অর্থাৎ যুদ্ধের সময় শত্রুদের সামনে এভাবে হাঁটলে আল্লাহ তা পছন্দ করেন। একজন মুসলিম কখনই দাম্ভিক হবে না, তার মাঝে নম্রতা আর বিনয় থাকবে। কিন্তু নম্রতা থাকা মানেই দুর্বলতা নয়। তাই শত্রুদের সামনে হাঁটাচলায় কোনো দুর্বলতা দেখানো যাবে না। রাসূলুল্লাহর হাঁটায় দৃঢ়তা ও শক্তির ছাপ প্রকাশ পেত। আলী ইবন আবি তালিবের ভাষায়, 'তিনি যখন হাঁটতেন, দেখে মনে হতো যেন পাহাড় বেয়ে নামছেন।'

টিকাঃ
৯ সহীহ মুসলিম, অধ্যায় সাহাবিদের মর্যাদা, হাদীস ১৮৩।

মূল যুদ্ধের আগে দ্বন্দ্বযুদ্ধ ছিল আরবদের প্রথা। উহুদেও তার ব্যতিক্রম হলো না। কুরাইশদের পতাকাবাহক তালহা ইবন উসমান মুসলিমদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল, 'মুসলিমদের মধ্যে কে আছো আমার সাথে লড়বে? আসো, আসো, পারলে আমাকে দোজখে পাঠাও। নইলে নিজেই বেহেশতে জায়গা করে নাও!' তার ঔদ্ধত্যভরা কথা শুনে আলী শান্ত থাকতে পারলেন না। তরবারির এক কোপে তালহার শরীর থেকে তার পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে তাকে সেভাবেই ফেলে রেখে চলে এলেন। (ভিন্ন বর্ণনায় এই দ্বন্দ্বযুদ্ধে যুবায়ের অংশ নিয়েছেন।)

যুদ্ধের আগে রাসূলুল্লাহ একটি তরবারি হাতে নিয়ে সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, 'কে আছে আমার হাত থেকে এই তরবারি নিতে চায়?' অনেকে সাহাবি আগ্রহ দেখালেন। রাসূলুল্লাহ শর্ত যোগ করলেন, 'এই তরবারি নিতে চাইলে তার হক আদায় করা চাই। কে আছে এই তরবারির হক আদায়ের ক্ষমতা রাখে?' আবু দুজানা জানতে চাইলেন হক কী। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'এর হক হচ্ছে এটা দিয়ে শত্রুকে এমনভাবে আঘাত হানতে হবে যেন এটা বেঁকে যায়!' আবু দুজানা বললেন, 'আমি এই তরবারির হক আদায় করবো, ইয়া রাসূলাল্লাহ!' তিনি তরবারি নিলেন এবং মাথায় একটি লাল পট্টি বাঁধলেন। এরপর শত্রুদলের সামনে দাপটের সাথে হাঁটতে লাগলেন। তাঁর এই বিশেষ হাঁটার ধরন দেখে রাসূলুল্লাহ বলেছিলেন, 'এইভাবে দর্পভরে হাঁটা আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। তবে এই পরিস্থিতির কথা ভিন্ন।' অর্থাৎ যুদ্ধের সময় শত্রুদের সামনে কোনো দুর্বলতা দেখানো যাবে না। আলী ইবন আবি তালিবের ভাষায়, 'তিনি যখন হাঁটতেন, দেখে মনে হতো যেন পাহাড় বেয়ে নামছেন।'

টিকাঃ
৯. সহীহ মুসলিম, অধ্যায় সাহাবিদের মর্যাদা, হাদীস ১৮৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px