📄 যুদ্ধে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা: মুনাফিক বনাম মু'মিন
মুসলিম সেনাবাহিনীতে ছিল এক হাজার সেনা। তারা আশ-শাউত বাগানে পৌঁছার পর মাঝপথে এসে মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ ইবন উবাই হঠাৎ করেই তার তিনশো সেনা নিয়ে বেরিয়ে গেল। 'মুহাম্মাদ ছেলে-ছোকড়াদের কথা শুনে মদীনার বাইরে যুদ্ধ করতে যাচ্ছে। এদের কথার কী কোনো দাম আছে! আর সে আমার মতামতকে দামই দিল না।' – এই খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে সে মদীনার পথ ধরলো। ইবন উবাইয়ের উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। কিন্তু আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। তিনি চেয়েছিলেন মু'মিন ও মুনাফিকদের পৃথক করে দিতে।
সাধারণ শান্তিময় পরিবেশে মু'মিন আর মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য করা খুব কঠিন। যে কেউ মুনাফিক হতে পারে। হতে পারে মসজিদে বসে ইবাদত করা লোকটা একজন মুনাফিক। এমনকি একজন আলিম, হুজুর বা মুফতিও মুনাফিক্ব হতে পারে। কিন্তু একটা জায়গায় মুনাফিকদের পরিচয় বের হয়ে যায়, তা হলো যুদ্ধের ময়দান।
"তোমরা বর্তমানে যে (ভালো মন্দে মিশানো) অবস্থার ওপর আছো, আল্লাহ তাআলা কখনো তার ঈমানদার বান্দাদের সে অবস্থা ওপর ছেড়ে দিতে চান না, যতক্ষণ না তিনি সৎলোকদের অসৎ লোকদের থেকে আলাদা করে দেবেন।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১৭৯)
"(উহুদের ময়দানে) দুদলের সম্মুখ লড়াইয়ের দিনে যে (সাময়িক) বিপর্যয় তোমাদের ওপর এসেছিল, তা (এসেছে) আল্লাহর ইচ্ছায়, এ (বিপর্যয়) দিয়ে আল্লাহ তাআলা (এ কথাটা) জেনে নিতে চান, কারা তাঁর ওপর (সঠিক অর্থে) ঈমান এনেছে। (এর মাধ্যমে) তাদের (পরিচয়ও) তিনি জেনে নেবেন, যারা (এই চরম মুহূর্তে মুনাফিক্বী) করেছে। এ মুনাফিকদের যখন বলা হয়েছিল যে, (সবাই একসাথে) আল্লাহর পথে লড়াই করো, অথবা (অন্ততপক্ষে নিজেদের শহরের) প্রতিরক্ষাটুকু তোমরা করো, তখন তারা বললো, যদি আমরা জানতাম আজ (সত্যিই) যুদ্ধ হবে, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমাদের অনুসরণ করতাম। এ সময় তারা ঈমানের চাইতে কুফরিরই বেশি কাছাকাছি অবস্থান করছিল, এরা মুখে যা কিছু গোপন করে আল্লাহ তাআলা তা সম্যক অবগত আছেন।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১৬৬-১৬৭)
অর্থাৎ মুনাফিকদের পিছু হটার কারণ হলো জিহাদ। আরও দুটি গোত্র পিছু হটার উপক্রম করেছিল-- বনু সালিমা এবং বনু হারিসা গোত্র। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাদেরকে দৃঢ়পদ রাখেন।
"(সেই নাজুক পরিস্থিতিতে) যখন তোমাদের দুটো দল মনোবল হারাবার উপক্রম করলো, (তখন) আল্লাহ তাআলাই তাদের উভয় দলের (সেই ভগ্ন মনোবল জোড়া লাগাবার কাজে) অভিভাবক ছিলেন, আর আল্লাহর ওপর যারা ঈমান আনে তাদের তো (সর্বাবস্থায়) তাঁর ওপরই ভরসা করা উচিত।" (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১২২)
এ দুই গোত্রের মনোবল হারিয়ে ফেলাটা ইচ্ছাকৃত ছিল না। তাই আল্লাহ তাদের দৃঢ়পদ রাখলেন। তাদের মাঝে সংকল্প ফিরে এল। জাবির ইবন আবদুল্লাহ বলেন, 'এই আয়াতটি আমাদের ব্যাপারে নাযিল হয়। তারা এই আয়াতটাকে খুব পছন্দ করতেন, কারণ এখানে আল্লাহ বলছেন, আল্লাহ ছিলেন তাদের ওয়ালী।
রাসূলুল্লাহ মুশরিকদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি জানান। কিছু ইহুদি তাঁকে সাহায্য করতে এসেছিল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, 'কাফিরদের কাছ থেকে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।' রাসূলুল্লাহ অল্পবয়সীদেরও সৈন্যদলে গ্রহণ করেননি, তাদের বেশ কয়েকজনকে মদীনায় পাঠিয়ে দেন। চোখের আন্দাজে বয়স দেখে কম মনে হলে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কম বয়সী ছেলেপেলেরা তাই রাসূলুল্লাহর চোখের আড়াল হয়ে ছিল যেন তিনি তাদের দেখতে না পান!
এ প্রসঙ্গে একটি মজার ঘটনা আছে। রাফী ইবন খাতীয নামে এক কমবয়সী ছেলে ছিল। তাকে মদীনায় পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সে বললো, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি ভালো তীর চালাতে পারি!' এটা শুনে রাসূলুল্লাহ তাকে থাকার অনুমতি দিলেন। রাফীর কথা শুনে তার বন্ধু সামুরাহ তার পালক বাবার কাছে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করলো, 'রাসূলুল্লাহ রাফাইকে অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেননি। অথচ কুস্তিতে তো আমি রাফীকে হারিয়ে দেই।' রাসূলুল্লাহ এই অভিযোগ শুনে বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা কুস্তি লড়ো!' সামুরা রাফীকে হারিয়ে দিল। রাসূলুল্লাহ তখন সামুরাহকেও বাহিনীতে নিয়ে নিলেন।
পুরো সীরাহ জুড়ে এমন কিছু উৎসাহী ও স্বতঃস্ফূর্ত সাহাবিদের দেখা মেলে। ঘরে বসে থাকার সুযোগ পেলেও তাঁরা সেটা ছেড়ে ময়দানে নেমে এসেছেন ইসলামের জন্য কিছু করার আশায়। রাসূলুল্লাহও তাদের উৎসাহের তারিফ করেছেন। বিশেষ দক্ষতা থাকায় কমবয়স্ক ছেলেদেরও তাঁর বাহিনীতে অংশ নিতে দিয়েছেন। তাঁরা ছিল সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম।
টিকাঃ
8 সহীহ বুখারি, অধ্যায় কুরআনের তাফসীর, হাদীস ৮১।
মুসলিম সেনাবাহিনীতে ছিল এক হাজার সেনা। তারা আশ-শাউত বাগানে পৌঁছার পর মাঝপথে এসে মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ ইবন উবাই হঠাৎ করেই তার তিনশো সেনা নিয়ে বেরিয়ে গেল। 'মুহাম্মাদ ছেলে-ছোকড়াদের কথা শুনে মদীনার বাইরে যুদ্ধ করতে যাচ্ছে। এদের কথার কি কোনো দাম আছে! আর সে আমার মতামতকে দামই দিল না।' – এই খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে সে মদীনার পথ ধরল। ইবন উবাইয়ের উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। কিন্তু আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। তিনি চেয়েছিলেন মু'মিন ও মুনাফিকদের পৃথক করে দিতে। সাধারণ শান্তিময় পরিবেশে মু'মিন আর মুনাফিকের মধ্যে পার্থক্য করা খুব কঠিন। একটা জায়গায় মুনাফিকদের পরিচয় বের হয়ে যায়, তা হলো যুদ্ধের ময়দান।
“তোমরা বর্তমানে যে (ভালো মন্দে মিশানো) অবস্থার ওপর আছো, আল্লাহ তাআলা কখনো তার ঈমানদার বান্দাদের সে অবস্থা ওপর ছেড়ে দিতে চান না, যতক্ষণ না তিনি সৎলোকদের অসৎ লোকদের থেকে আলাদা করে দেবেন।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১৭৯)
“(উহুদের ময়দানে) দুদলের সম্মুখ লড়াইয়ের দিনে যে (সাময়িক) বিপর্যয় তোমাদের ওপর এসেছিল, তা (এসেছে) আল্লাহর ইচ্ছায়, এ (বিপর্যয়) দিয়ে আল্লাহ তাআলা (এ কথাটা) জেনে নিতে চান, কারা তাঁর ওপর (সঠিক অর্থে) ঈমান এনেছে। (এর মাধ্যমে) তাদের (পরিচয়ও) তিনি জেনে নেবেন, যারা (এই চরম মুহূর্তে মুনাফিক্বী) করেছে। এ মুনাফিকদের যখন বলা হয়েছিল যে, (সবাই একসাথে) আল্লাহর পথে লড়াই করো, অথবা (অন্ততপক্ষে নিজেদের শহরের) প্রতিরক্ষাটুকু তোমরা করো, তখন তারা বলল, যদি আমরা জানতাম আজ (সত্যিই) যুদ্ধ হবে, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমাদের অনুসরণ করতাম। এ সময় তারা ঈমানের চাইতে কুফরিরই বেশি কাছাকাছি অবস্থান করছিল, এরা মুখে যা কিছু গোপন করে আল্লাহ তাআলা তা সম্যক অবগত আছেন।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১৬৬-১৬৭)
অর্থাৎ মুনাফিকদের পিছু হটার কারণ হলো জিহাদ। আরও দুটি গোত্র পিছু হটার উপক্রম করেছিল-- বনু সালিমা এবং বনু হারিসা গোত্র। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল তাদেরকে দৃঢ়পদ রাখেন। “(সেই নাজুক পরিস্থিতিতে) যখন তোমাদের দুটো দল মনোবল হারাবার উপক্রম করল, (তখন) আল্লাহ তাআলাই তাদের উভয় দলের (সেই ভগ্ন মনোবল জোড়া লাগাবার কাজে) অভিভাবক ছিলেন, আর আল্লাহর ওপর যারা ঈমান আনে তাদের তো (সর্বাবস্থায়) তাঁর ওপরই ভরসা করা উচিত।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১২২)
রাসূলুল্লাহ মুশরিকদের কাছ থেকে সাহায্য নিতে অস্বীকৃতি জানান। কিছু ইহুদি তাঁকে সাহায্য করতে এসেছিল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, 'কাফিরদের কাছ থেকে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই।' রাসূলুল্লাহ অল্পবয়সীদেরও সৈন্যদলে গ্রহণ করেননি, তাদের বেশ কয়েকজনকে মদীনায় পাঠিয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে একটি মজার ঘটনা আছে। রাফী ইবন খাতীয নামে এক কমবয়সী ছেলে ছিল। তাকে মদীনায় পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সে বলল, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি ভালো তীর চালাতে পারি!' এটা শুনে রাসূলুল্লাহ তাকে থাকার অনুমতি দিলেন। রাফীর কথা শুনে তার বন্ধু সামুরাহ তার পালক বাবার কাছে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করল, 'রাসূলুল্লাহ রাফীকে অনুমতি দিয়েছেন, কিন্তু আমাকে অনুমতি দেননি। অথচ কুস্তিতে তো আমি রাফীকে হারিয়ে দিই।' রাসূলুল্লাহ এই অভিযোগ শুনে বললেন, 'ঠিক আছে, তোমরা কুস্তি লড়ো!' সামুরা রাফীকে হারিয়ে দিল। রাসূলুল্লাহ তখন সামুরাহকেও বাহিনীতে নিয়ে নিলেন। সাহাবিরা তাঁদের উৎসাহের জন্য ইসলামের সেবা করতে ময়দানে নেমে আসতেন এবং রাসূলুল্লাহ তাঁদের বিশেষ দক্ষতার কদর করতেন। তাঁরা ছিল সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম।
টিকাঃ
৮. সহীহ বুখারি, অধ্যায় কুরআনের তাফসীর, হাদীস ৮১।
📄 সেনাদের উদ্দেশ্যে নবীজির ﷽ বক্তব্য
রাসূলুল্লাহ মূল সেনাবাহিনীকে তিনটি বাহিনীতে বিভক্ত করলেন:
- আল মুহাজিরীন, তাদের পতাকা দেওয়া হয় মুসআব ইবন উমাইরকে।
- আল-আওস, তাদের পতাকা তুলে দেওয়া উসাইব ইবন খুযাইরের হাতে।
- এবং আল-খাযরাজ, আল-হুবাব ইবন মুনযির তাদের হয়ে পতাকা বহন করেন।
যুদ্ধের আগে সৈনিকদের উদ্দেশ্যে একজন কমান্ডারের বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাস জুড়ে এমন অনেক ঘটনা পাওয়া যায়, যেখানে কমান্ডার সৈনিকদের উদ্দেশ্যে এমন তেজোদ্দীপ্ত ঝাঁঝালো বক্তব্য দিয়েছেন যে সৈনিকরা প্রবল সাহসিকতায় ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হতে চেয়েছে। উহুদের প্রাক্কালেও এমন একটি ঘটনা পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ তাঁর বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি বক্তব্য রাখলেন,
'ভাইয়েরা, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাকে যা আদেশ করেছেন, আমি তোমাদের তা-ই আদেশ করছি: আল্লাহর আনুগত্য করো। যা কিছু তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। তোমরা যারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানো এবং ধৈর্য, দৃঢ় বিশ্বাস, আন্তরিকতা আর নিষ্ঠার সাথে নিজেদের প্রস্তুত করেছো, আজ তাদের জন্য পুরস্কার লুফে নেওয়ার সুযোগ! নিশ্চয়ই শত্রুর সাথে জিহাদ করা সহজ কাজ নয়, বরং কষ্টকরই বটে। খুব অল্প ক'জনই ধৈর্যের সাথে তা করতে পারে। তবে আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাঁকে মেনে চলে। আর যারা তাঁকে মানে না, তাদের সাথে থাকে শয়তান। তাই ধৈর্যের সাথে জিহাদ করো আর খুঁজে ফেরো সেই প্রতিশ্রুতি (শাহাদাহ) যা আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন। আর আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি, তোমরা তা অবশ্যই পালন করবে। কেননা, আমি তোমাদেরকে তা-ই করতে বলি, যা সঠিক। মনে রেখো, অনৈক্য, মতভেদ আর হতাশাই হলো দুর্বলতা আর শক্তিহীনতার কারণ। যারা এমন করে, আল্লাহ না তাদের ভালোবাসেন, আর না বিজয় দান করেন।'
রাসূলুল্লাহ মূল সেনাবাহিনীকে তিনটি বাহিনীতে বিভক্ত করলেন: আল মুহাজিরীন, তাদের পতাকা দেওয়া হয় মুসআব ইবন উমাইরকে; আল-আওস, তাদের পতাকা তুলে দেওয়া উসাইদ ইবন খুযাইরের হাতে; এবং আল-খাযরাজ, আল-হুবাব ইবন মুনযির তাদের হয়ে পতাকা বহন করেন। যুদ্ধের আগে সৈনিকদের উদ্দেশ্যে একজন কমান্ডারের বক্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ তাঁর বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে ছোট্ট একটি বক্তব্য রাখলেন:
'ভাইয়েরা, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে আমাকে যা আদেশ করেছেন, আমি তোমাদের তা-ই আদেশ করছি: আল্লাহর আনুগত্য করো। যা কিছু তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকো। তোমরা যারা নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানো এবং ধৈর্য, দৃঢ় বিশ্বাস, আন্তরিকতা আর নিষ্ঠার সাথে নিজেদের প্রস্তুত করেছো, আজ তাদের জন্য পুরস্কার লুফে নেওয়ার সুযোগ! নিশ্চয়ই শত্রুর সাথে জিহাদ করা সহজ কাজ নয়, বরং কষ্টকরই বটে। খুব অল্প ক'জনই ধৈর্যের সাথে তা করতে পারে। তবে আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাঁকে মেনে চলে। আর যারা তাঁকে মানে না, তাদের সাথে থাকে শয়তান। তাই ধৈর্যের সাথে জিহাদ করো আর খুঁজে ফেরো সেই প্রতিশ্রুতি (শাহাদাহ) যা আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন। আর আমি তোমাদের যা আদেশ করেছি, তোমরা তা অবশ্যই পালন করবেন। কেননা, আমি তোমাদেরকে তা-ই করতে বলি, যা সঠিক। মনে রেখো, অনৈক্য, মতভেদ আর হতাশাই হলো দুর্বলতা আর শক্তিহীনতার কারণ। যারা এমন করে, আল্লাহ না তাদের ভালোবাসেন, আর না বিজয় দান করেন।'
📄 যুদ্ধের আগের মুহূর্তগুলো
রাসূলুল্লাহ উহুদ পাহাড়ের সামনে দাঁড়ালেন, যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়ে আছে। লক্ষ করলেন পেছনের দিক থেকে আক্রমণের একটি সম্ভাবনা আছে। সেখানে একটি ছোটখাটো পাহাড়। উহুদ পাহাড়ের ঠিক বরাবর। রাসূলুল্লাহ পঞ্চাশ জন তীরন্দাজকে সেই আইনাইন পাহাড়ের ওপর অবস্থান নিতে বললেন। তাদেরকে পরিষ্কার ভাষায় দিকনির্দেশনা দিলেন, 'আমার কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত তোমরা এই পাহাড়েই অবস্থান করবে। যদি তোমরা দেখ শকুন এসে আমাদের মৃতদেহ খুবলে খাচ্ছে, তবু আমার ইশারা ছাড়া এক পা-ও নড়বে না। যদি দেখ শত্রুদের ওপর আমরা বিজয় লাভ করেছি, আর তাদেরকে পায়ের নিচে পিষে ফেলছি, তবুও আমার ইশারা ছাড়া তোমরা এখান থেকে সরবে না।'
দিনের আলোর মতো পরিষ্কার নির্দেশনা। যুদ্ধক্ষেত্রে জয় পরাজয় যা-ই হোক না কেন—তীরন্দাজরা তাদের অবস্থানেই থাকবে আর শত্রুপক্ষকে পেছন থেকে আক্রমণ করতে দেখলে তীরবর্ষণ করবে। কেননা শত্রুরা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে পাশ থেকে কিংবা পেছন থেকে হামলা করে মুসলিমদেরকে বিপদে ফেলে দিতে পারে।
রাসূলুল্লাহ উহুদ পাহাড়ের সামনে দাঁড়ালেন, যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়ে আছে। লক্ষ করলেন পেছনের দিক থেকে আক্রমণের একটি সম্ভাবনা আছে। সেখানে একটি ছোটখাটো পাহাড়। উহুদ পাহাড়ের ঠিক বরাবর। রাসূলুল্লাহ পঞ্চাশ জন তীরন্দাজকে সেই আইনাইন পাহাড়ের ওপর অবস্থান নিতে বললেন। তাদেরকে পরিষ্কার ভাষায় দিকনির্দেশনা দিলেন, 'আমার কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত তোমরা এই পাহাড়েই অবস্থান করবে। যদি তোমরা দেখ শকুন এসে আমাদের মৃতদেহ খুবলে খাচ্ছে, তবু আমার ইশারা ছাড়া এক পা-ও নড়বে না। যদি দেখ শত্রুদের ওপর আমরা বিজয় লাভ করেছি, আর তাদেরকে পায়ের নিচে পিষে ফেলছি, তবুও আমার ইশারা ছাড়া তোমরা এখান থেকে সরবে না।' দিনের আলোর মতো পরিষ্কার নির্দেশনা। যুদ্ধক্ষেত্রে জয় পরাজয় যা-ই হোক না কেন--তীরন্দাজরা তাদের অবস্থানেই থাকবে আর শত্রুপক্ষকে পেছন থেকে আক্রমণ করতে দেখলে তীরবর্ষণ করবে। কেননা শত্রুরা অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে পাশ থেকে কিম্বা পেছন থেকে হামলা করে মুসলিমদেরকে বিপদে ফেলে দিতে পারে।
📄 কুরাইশদের কূটচাল
যুদ্ধের শুরুতে কুরাইশরা একটি কূট কৌশল অবলম্বন করলো। তারা মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইলো। আবু সুফিয়ান আল-আনসারকে সংবাদ পাঠালো, 'দেখো, তোমাদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের বোঝাপড়া আমাদের ভাইদের সাথে। কাজেই তোমরা আমাদের পথ থেকে সরে দাঁড়াও।'
আনসাররা জবাব দিল, 'এখন এ কথা বলছো! আরে, তোমরাই কি সেই কুরাইশ নও, যারা মাত্র কিছুদিন আগে, রাসূলুল্লাহ মদীনায় হিজরত করার পর আমাদেরকে চিঠি লিখে হুমকি দিয়েছিলে যে, যদি আমরা রাসূলুল্লাহকে তোমাদের হাতে তুলে না দিই, তাহলে তোমরা আমাদের হত্যা করবে, আমাদের মেয়েদেরকে দাসী বানাবে, আমাদের টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেবে? আর এখন হঠাৎ বলছো আমাদের সাথে তোমাদের কোনো শত্রুতা নেই? এটা মিথ্যা, এসব তোমাদের ছলনা!'
কুরাইশরা চেয়েছিল মুসলিমদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করতে, যাতে করে এক এক করে সবাইকে শেষ করতে পারে। আজকের দিনে কাফিররা যেমন করে বলে: মুসলিমদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই, আমরা তো শুধু 'সন্ত্রাসী'দের দমন করছি। এটা আধুনিক সামরিক সংস্কৃতির একটি কৌশল যার মাধ্যমে শত্রুর মধ্যে অনৈক্য তৈরি করা হয়। বলা যেতে পারে এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের (Psychological Warfare) একটি অস্ত্র। কাফিররা এ কথা বলে উম্মাহর একটি অংশের কাছে বিশ্বাস বা আস্থা অর্জন করে তাদের বন্ধু সাজতে চায় এবং যারা উম্মাহর পক্ষে লড়ছে তাদেরকে ভিলেন বানাতে চায়। বাস্তবতা হলো, প্রথমে তারা তথাকথিত 'সন্ত্রাসী'দের দমন করবে, আর এরপর বাদ বাকি উম্মাহর বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। এরকম হওয়ার আগে মুসলিমদের এক হতে হবে।
কুরাইশরা আওস গোত্রের আবু আমরকে পাঠিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির দ্বিতীয় প্রচেষ্টা চালালো। সে আগে মদীনাতেই থাকতো। ইসলাম যখন মদীনায় আসে তখন সে মুসলিম হতে অস্বীকৃতি জানায় আর মদীনা ছেড়ে কুরাইশদের সেনাবাহিনীতে যোগদান করে। আগে তার গোত্রের লোকেরা তাকে অনেক ভালবাসত, তাকে 'রাহিব' বা যাজক বলে ডাকতো। তাই কুরাইশদের সে বললো, 'আমি আমার লোকদের গিয়ে বুঝিয়ে শুনিয়ে মুহাম্মাদের সাথে যুদ্ধ করতে রাজি করাবো।' আবু আমর খুব আত্মবিশ্বাসী। গোত্রের লোকজন তাকে অনেক ভালবাসতো, তার কথা মেনে নেবে—এটাই তার মাথায় ঘুরছে। কিন্তু ইসলাম যে মানুষের ভালো-লাগা, ভালোবাসা, আনুগত্য সবকিছু বদলে দিতে পারে সেটা আবু আমরের ধারণা ছিল না। তার গোত্রের কাছে এই বিদঘুটে প্রস্তাব নেওয়ামাত্র তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করলো। তাকে অভিশাপ দিতে লাগলো। সে কী বুঝলো কে জানে, বললো, 'নাহ, আমি চলে যাবার পর আমার লোকদের উপর শয়তান ভর করেছে।'
আসলে শয়তান না, আনসারদের অন্তরকে বদলে দিয়েছিল ইসলাম। এভাবে শত্রুদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে গেল, আলহামদুলিল্লাহ।
যুদ্ধের শুরুতে কুরাইশরা একটি কূট কৌশল অবলম্বন করল। তারা মুসলিমদের ঐক্যে ফাটল ধরাতে চাইল। আবু সুফিয়ান আল-আনসারকে সংবাদ পাঠাল, 'দেখো, তোমাদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। আমাদের বোঝাপড়া আমাদের ভাইদের সাথে। কাজেই তোমরা আমাদের পথ থেকে সরে দাঁড়াও।' আনসাররা জবাব দিল, 'এখন এ কথা বলছো! তোমরাই কি সেই কুরাইশ নও, যারা রাসূলুল্লাহ মদীনায় হিজরত করার পর আমাদেরকে চিঠি লিখে হুমকি দিয়েছিলে? আর এখন হঠাৎ বলছো আমাদের সাথে তোমাদের কোনো শত্রুতা নেই? এটা মিথ্যা, এসব তোমাদের ছলনা!'
কুরাইশরা চেয়েছিল মুসলিমদের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করতে, যাতে করে এক এক করে সবাইকে শেষ করতে পারে। এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের একটি অস্ত্র। কুরাইশরা আওস গোত্রের আবু আমরকে পাঠিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির দ্বিতীয় প্রচেষ্টা চালাল। সে আগে মদীনাতেই থাকতো, কিন্তু ইসলাম অস্বীকার করে মদীনা ছেড়ে কুরাইশদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। তার ধারণা ছিল গোত্রের লোকজন তাকে ভালবাসে বলে তার কথা মেনে নেবে। কিন্তু তার গোত্রের কাছে এই প্রস্তাব নেওয়ামাত্র তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করল এবং অভিশাপ দিতে লাগল। আবু আমর বলল, 'নাহ, আমি চলে যাওয়ার পর আমার লোকদের ওপর শয়তান ভর করেছে।' আসলে শয়তান না, আনসারদের অন্তরকে বদলে দিয়েছিল ইসলাম। এভাবে শত্রুদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে গেল, আলহামদুলিল্লাহ।