📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 প্রেক্ষাপট

📄 প্রেক্ষাপট


১) ধর্মীয় বিরোধ: কুরাইশের লোকজন দ্বীন ইসলামের অগ্রগতি মেনে নিতে পারছিল না।
"নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে এবং নিজেদের ধন-সম্পদ (এ খাতেই) ব্যয় করেছে যে, (এর দ্বারা) মানুষদের আল্লাহ তাআলার পথ থেকে ফিরিয়ে রাখবে; (এদের জন্য তুমি ভেবো না)। এরা (এ পথে) ধন-সম্পদ আরও ব্যয় করবে, অতপর একদিন সে (ব্যয় করা) টাই তাদের জন্যে মনস্তাপের কারণ হবে। এরপর (দুনিয়ার জীবনেও) তারা পরাভূত হবে, আর যারা কুফরি করেছে আখিরাতে তাদের সবাইকে জাহান্নামের পাশে একত্রিত করা হবে।” (সূরা আনফাল, ৮: ৩৬)
কাফিররা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে রাখতে তাদের সম্পদ খরচ করবে। ইমাম আশ-শাওকানি এই আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, 'এই কাফিররা রাসূলের সাথে যুদ্ধ করে, সৈন্যসামন্ত প্রেরণ করে, তার জন্য যত লাগে অর্থ খরচ করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে মুসলিম হওয়া থেকে বিরত রাখা।' বর্তমানকালেও এই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ইসলামের সাথে যুদ্ধ করার জন্যে আল্লাহর দুশমনরা ব্যয় করছে লক্ষ লক্ষ ডলার, যেন আল্লাহর আউলিয়াদের হত্যা করতে পারে, তাদের পাকড়াও করতে পারে, ইসলামের সুনাম মিটিয়ে দিতে পারে। এ যুগের কাফিররাও কুরাইশদের চেয়ে ব্যতিক্রম নয়।
২) প্রতিশোধ: কুরাইশরা চাচ্ছিল বদর যুদ্ধের গ্লানি মুছে যাক। বদরে পরাজয় তাদের অন্তর্জালা বাড়িয়ে দেয়, তাই তারা প্রতিশোধের পথ খুঁজছিল।
৩) অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ: কুরাইশদের ওপর ক্রমাগত সামরিক হামলা তাদেরকে চাপের মুখে ফেলে দেয়। কুরাইশরা ছিল আরব গোত্রগুলোর চোখে শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের ব্যবহারের জন্য সিরিয়া ও ইয়েমেনের বাণিজ্যিক পথ বেদুইনরা উন্মুক্ত রেখেছিল। কিন্তু মুসলিমদের উত্থানের সাথে পরিস্থিতি ইতিমধ্যে অনেকটাই বদলে গেছে। কুরাইশরা ছিল কাবা ঘরের অভিভাবক। কিন্তু যেহেতু আল্লাহর দ্বীনকে তারা পরিত্যাগ করেছে, তাই আল্লাহ তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে দিলেন। মক্কা থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথ অনিরাপদ হওয়ার কারণে মক্কা থেকে ইয়েমেন গিয়ে ব্যবসা করার ওপরও প্রভাব পড়ে। কারণ কুরাইশরা সিরিয়া থেকে কাঁচামাল কিনে তা ইয়েমেনে বিক্রি করতো, আবার ইয়েমেন থেকে কিনে সিরিয়াতে বিক্রি করতো। একটা বাণিজ্যিক পথ অনিরাপদ হয়ে যাওয়ার ফলে, সেই পথের ব্যবসা তো বটেই, অন্য পথের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। কুরাইশদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহর যুদ্ধ কেবল ময়দানের যুদ্ধে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং একই সাথে তা ছিল অর্থনৈতিক যুদ্ধ। কুরাইশদের শঙ্কা সাফওয়ান ইবন উমাইয়‍্যার একটি কথাতেই পরিষ্কার বোঝা যায়,
'মুহাম্মাদ আর তার দলবল আমাদের ব্যবসার বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে। বুঝতে পারছি না এখন কী করবো। অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। তারা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর সাথেও শান্তিচুক্তি বা মিত্রতা করে রেখেছে। প্রতিনিয়ত সেখান থেকে হুমকি আসছে। এখন আমরা কোথায় থাকবো? কোথায় যাব? আমাদের ব্যবসা গ্রীষ্মে সিরিয়াগামী কাফেলা আর শীতে ইয়েমেন ও আবিসিনিয়াগামী কাফেলার ওপর নির্ভরশীল। যদি সেই ব্যবসা বন্ধ করে নিজের দেশে বসে থাকি তাহলে জমানো মূলধন ভেঙে খেতে হবে। আর দেখতে দেখতেই সেটা শেষ হয়ে যাবে।'
৪) রাজনৈতিক আধিপত্য পুনরুদ্ধার: আরব উপদ্বীপের সবাই কুরাইশদের সমীহের চোখে দেখত। কিন্তু মুসলিমদের উত্থান তাদের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্যকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে দেয়। তাই আরেকটি যুদ্ধে মুসলিমদের হারানোর মাধ্যমে তারা এই আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে পড়ে।

টিকাঃ
৭. তাফসির ফাতহুল কাদির, ৩/১৭৮।

১) ধর্মীয় বিরোধ: কুরাইশের লোকজন দ্বীন ইসলামের অগ্রগতি মেনে নিতে পারছিল না। “নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে এবং নিজেদের ধন-সম্পদ (এ খাতেই) ব্যয় করেছে যে, (এর দ্বারা) মানুষদের আল্লাহ তাআলার পথ থেকে ফিরিয়ে রাখবে; (এদের জন্য তুমি ভেবো না)। এরা (এ পথে) ধন-সম্পদ আরও ব্যয় করবে, অতপর একদিন সে (ব্যয় করা) টাই তাদের জন্যে মনস্তাপের কারণ হবে। এরপর (দুনিয়ার জীবনেও) তারা পরাভূত হবে, আর যারা কুফরি করেছে আখিরাতে তাদের সবাইকে জাহান্নামের পাশে একত্রিত করা হবে।” (সূরা আনফাল, ৮: ৩৬)

কাফিররা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে রাখতে তাদের সম্পদ খরচ করবে। ইমাম আশ-শাওকানি এই আয়াত প্রসঙ্গে বলেন, 'এই কাফিররা রাসূলের সাথে যুদ্ধ করে, সৈন্যসামন্ত প্রেরণ করে, তার জন্য যত লাগে অর্থ খরচ করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে মুসলিম হওয়া থেকে বিরত রাখা। বর্তমানে হাসলেও এই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ইসলামের সাথে যুদ্ধ করার জন্যে আল্লাহর দুশমনরা ব্যয় করছে লক্ষ লক্ষ ডলার, যেন আল্লাহর আউলিয়াদের হত্যা করতে পারে, তাদের পাকড়াও করতে পারে, ইসলামের সুনাম মিটিয়ে দিতে পারে। এ যুগের কাফিররাও কুরাইশদের চেয়ে ব্যতিক্রম নয়।

২) প্রতিশোধ: কুরাইশরা চাচ্ছিল বদর যুদ্ধের গ্লানি মুছে যাক। বদরে পরাজয় তাদের অন্তর্জালা বাড়িয়ে দেয়, তাই তারা প্রতিশোধের পথ খুঁজছিল।

৩) অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণ: কুরাইশদের ওপর ক্রমাগত সামরিক হামলা তাদেরকে চাপের মুখে ফেলে দেয়। কুরাইশরা ছিল আরব গোত্রগুলোর চোখে শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের ব্যবহারের জন্য সিরিয়া ও ইয়েমেনের বাণিজ্যিক পথ বেদুইনরা উন্মুক্ত রেখেছিল। কিন্তু মুসলিমদের উত্থানের সাথে পরিস্থিতি ইতিমধ্যে অনেকটাই বদলে গেছে। কুরাইশরা ছিল কাবা ঘরের অভিভাবক। কিন্তু যেহেতু আল্লাহর দ্বীনকে তারা পরিত্যাগ করেছে, তাই আল্লাহ তাদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে দিলেন। মক্কা থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথ অনিরাপদ হওয়ার কারণে মক্কা থেকে ইয়েমেন গিয়ে ব্যবসা করার ওপরও প্রভাব পড়ে। কারণ কুরাইশরা সিরিয়া থেকে কাঁচামাল কিনে তা ইয়েমেনে বিক্রি করতো, আবার ইয়েমেন থেকে কিনে সিরিয়াতে বিক্রি করতো। একটা বাণিজ্যিক পথ অনিরাপদ হয়ে যাওয়ার ফলে, সেই পথের ব্যবসা তো বটেই, অন্য পথের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। কুরাইশদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহর যুদ্ধ কেবল ময়দানের যুদ্ধে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং একই সাথে তা ছিল অর্থনৈতিক যুদ্ধ। কুরাইশদের শঙ্কা সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যার একটি কথাতেই পরিষ্কার বোঝা যায়, 'মুহাম্মাদ আর তার দলবল আমাদের ব্যবসার বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে। বুঝতে পারছি না এখন কী করবো। অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। তারা উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর সাথেও শান্তিচুক্তি বা মিত্রতা করে রেখেছে। প্রতিনিয়ত সেখান থেকে হুমকি আসছে। এখন আমরা কোথায় থাকবো? কোথায় যাব? আমাদের ব্যবসা গ্রীষ্মে সিরিয়াগামী কাফেলা আর শীতে ইয়েমেন ও আবিসিনিয়াগামী কাফেলার ওপর নির্ভরশীল। যদি সেই ব্যবসা বন্ধ করে নিজের দেশে বসে থাকি তাহলে জমানো মূলধন ভেঙে খেতে হবে। আর দেখতে দেখতেই সেটা শেষ হয়ে যাবে।'

৪) রাজনৈতিক আধিপত্য পুনরুদ্ধার: আরব উপদ্বীপের সবাই কুরাইশদের সমীহের চোখে দেখত। কিন্তু মুসলিমদের উত্থান তাদের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র আধিপত্যকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে দেয়। তাই আরেকটি যুদ্ধে মুসলিমদের হারানোর মাধ্যমে তারা এই আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে পড়ে।

টিকাঃ
৭. তাফসির ফাতহুল কাদির, ৩/১৭৮।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 কুরাইশদের যুদ্ধ প্রস্তুতি

📄 কুরাইশদের যুদ্ধ প্রস্তুতি


সময়টি ছিল হিজরী ৩য় বছর, শাওয়াল মাস। কুরাইশরা যুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়। তিন হাজার সৈন্যবিশিষ্ট এক শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সমাবেশ ঘটায়। এই বাহিনীতে পুরুষদের সাথে নারী, দাস, এমনকি প্রতিবেশী গোত্রগুলোও অংশ নেয়। আবু সুফিয়ান, সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যা, ইকরিমা ইবন আবু জাহলের মতো কুরাইশদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অনেকেই তাদের স্ত্রীকে সাথে নিয়ে যুদ্ধে আসে। নারীদের মূল ভূমিকা ছিল পুরুষদের যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করা, বদরে পরাজয়ের তিক্ত ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করে রাখা। এই যুদ্ধের অর্থায়ন করা হয় বদরের সময় আবু সুফিয়ানের হাতে রক্ষিত সেই বিশাল কাফেলার মালামাল বিক্রি করে। সেই কাফেলাকে কেন্দ্র করেই বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বলা হয়ে থাকে, এই কাফেলায় মক্কার প্রত্যেক পরিবার কিছু না কিছু বিনিয়োগ করেছিল।
রাসূলুল্লাহর গোয়েন্দা বিভাগ ছিল সদা সক্রিয়। এবার আল-আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব মক্কায় বসে রাসূলুল্লাহর হয়ে কাজ করছেন। তিনি নিয়মিত রাসূলুল্লাহকে মক্কার তথ্য পাঠাতেন। মদীনায় চলে আসার জন্য তাঁর অন্তর অস্থির হয়ে ছিল। কিন্তু তিনি মক্কায় থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিলেন, তার কারণে রাসূলুল্লাহ তাঁকে মক্কাতেই থাকতে বলেন। কুরাইশদের যুদ্ধের পরিকল্পনার কথা রাসূলুল্লাহকে মাত্র তিনদিনের মধ্যে বার্তা পাঠিয়ে জানাতে সক্ষম হন। সে সময়কার যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা চিন্তা করলে মাত্র তিনদিনে খবর দিতে পারাটা খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার। চিঠির ভাষ্য ছিল অনেকটা এমন,
'কুরাইশরা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়তে বিশাল সেনাবাহিনী জড়ো করেছে। আপনি আপনার পরিকল্পনা মোতাবেক তাদের মোকাবেলা করুন। তাদের সেনাদলে আছে তিন হাজার সৈনিক, দু'শো ঘোড়া, বর্ম পরিহিত সাতশো যোদ্ধা এবং তিন হাজার উট। তারা তাদের সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ যুদ্ধে নামতে যাচ্ছে।'
চিঠিটি পড়ে শোনান উবাই ইবন কা'ব। তাঁকে খবরটি গোপন রাখার আদেশ করা হয়। আব্বাসের পাঠানো তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ আল-হুবাব ইবন আল-মুনযিরকে কুরাইশ বাহিনীর মাঝে পাঠান। তিনিও মোটামুটি একই তথ্য নিয়ে ফিরে আসেন।

সময়টি ছিল হিজরী ৩য় বছর, শাওয়াল মাস। কুরাইশরা যুদ্ধের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়। তিন হাজার সৈন্যবিশিষ্ট এক শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সমাবেশ ঘটায়। এই বাহিনীতে পুরুষদের সাথে নারী, দাস, এমনকি প্রতিবেশী গোত্রগুলোও অংশ নেয়। আবু সুফিয়ান, সাফওয়ান ইবন উমাইয়্যা, ইকরিমা ইবন আবু জাহলের মতো কুরাইশদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের অনেকেই তাদের স্ত্রীকে সাথে নিয়ে যুদ্ধে আসে। নারীদের মূল ভূমিকা ছিল পুরুষদের যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করা, বদরে পরাজয়ের তিক্ত ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করে রাখা। এই যুদ্ধের অর্থায়ন করা হয় বদরের সময় আবু সুফিয়ানের হাতে রক্ষিত সেই বিশাল কাফেলার মালামাল বিক্রি করে। সেই কাফেলাকে কেন্দ্র করেই বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বলা হয়ে থাকে, এই কাফেলায় মক্কার প্রত্যেক পরিবার কিছু না কিছু বিনিয়োগ করেছিল।

রাসূলুল্লাহর গোয়েন্দা বিভাগ ছিল সদা সক্রিয়। এবার আল-আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব মক্কায় বসে রাসূলুল্লাহর হয়ে কাজ করছেন। তিনি নিয়মিত রাসূলুল্লাহকে মক্কার তথ্য পাঠাতেন। মদীনায় চলে আসার জন্য তাঁর অন্তর অস্থির হয়ে ছিল। কিন্তু তিনি মক্কায় থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছিলেন, তার কারণে রাসূলুল্লাহ তাঁকে মক্কাতেই থাকতে বলেন। কুরাইশদের যুদ্ধের পরিকল্পনার কথা রাসূলুল্লাহকে মাত্র তিনদিনের মধ্যে বার্তা পাঠিয়ে জানাতে সক্ষম হন। সে সময়কার যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা চিন্তা করলে মাত্র তিনদিনে খবর দিতে পারাটা খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার। চিঠির ভাষ্য ছিল অনেকটা এমন, 'কুরাইশরা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ লড়তে বিশাল সেনাবাহিনী জড়ো করেছে। আপনি আপনার পরিকল্পনা মোতাবেক তাদের মোকাবেলা করুন। তাদের সেনাদলে আছে তিন হাজার সৈনিক, দু'শো ঘোড়া, বর্ম পরিহিত সাতশো যোদ্ধা এবং তিন হাজার উট। তারা তাদের সমস্ত অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ যুদ্ধে নামতে যাচ্ছে।' চিঠিটি পড়ে শোনান উবাই ইবন কা'ব। তাঁকে খবরটি গোপন রাখার আদেশ করা হয়। আব্বাসের পাঠানো তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ আল-হুবাব ইবন আল-মুনযিরকে কুরাইশ বাহিনীর মাঝে পাঠান। তিনিও মোটামুটি একই তথ্য নিয়ে ফিরে আসেন।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 রাসূলুল্লাহর ﷽ পাল্টা পরিকল্পনা

📄 রাসূলুল্লাহর ﷽ পাল্টা পরিকল্পনা


কুরাইশদের পরিকল্পনার কথা জানার পরও রাসূলুল্লাহ সাধারণ মানুষের কাছে এসব খবর গোপন রাখেন। তিনি প্রথমে যান আনসারদের প্রধান সাদ ইবন রাবীর কাছে। কুরাইশদের মদীনা আক্রমণের পরিকল্পনার কথা তাঁর কাছে সবিস্তারে বর্ণনা করে তাঁর মতামত জানতে চান। চলে যাওয়ার আগে সাদকে পুরো বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দেন।
রাসূলুল্লাহ চলে যাওয়ার পর, সাদ ইবন রাবীর স্ত্রী এসে জানতে চাইল,
- আচ্ছা, রাসূলুল্লাহ তোমাকে কী বলে গেলেন?
- সেটা তোমার না জানলেও চলবে, সাদ জবাব দিলেন।
- আমি কিন্তু সবই শুনে ফেলেছি!
- ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!
সাদ চিন্তায় পড়ে গেলেন। স্ত্রীর সাথে খুব রাগ করলেন। রাসূলুল্লাহকে জানালেন যে তাঁর স্ত্রী তাদের কথোপকথন শুনতে পেয়েছে, তিনি নিজে থেকে কিছু জানাননি। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'আচ্ছা, বাদ দাও, তাকে ছেড়ে দাও।'
এখানে শিক্ষা হলো, গোপনীয়তা রক্ষা করার গুরুত্ব। গোপন কথা গোপনই থাকবে, কাউকে বলা যাবে না। নিজের পরিবারের সদস্যদেরকেও না। মুসলিমদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুতর বিষয়ে রাসূলুল্লাহ শুধু সেসব সাহাবিদের সাথেই যোগাযোগ করতেন, যাদের বিষয়টি জানার প্রয়োজন আছে। এই নীতিটিকে বলা হয়ে 'দরকারের ভিত্তিতে জানা' (Need to know basis), শুধু সে-ই জানবে, যার জানা দরকার।
সা'দ ইবন রাবী তার স্ত্রীকে নিজ থেকে তাই কিছুই বলেননি। অথচ তিনি বলতে পারতেন, 'দেখেছো! আল্লাহর রাসূল এসেছিলেন আমার কাছে পরামর্শের জন্য!' এমন নয় যে তাঁর স্ত্রীকে তিনি বিশ্বাস করতেননা। বরং তাঁর স্ত্রীর জানার দরকার নেই বলেই তাকে কিছু বলেননি। বিশ্বাসই সবকিছু নয়, প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই তথ্য আদান-প্রদান করা উচিত।
অনেকে মনে করে স্বামীর তার স্ত্রীর সাথে সব কথা ভাগাভাগি করা উচিত, এ ধারণাটা ঠিক নয়। কিছু ব্যাপার আছে, যেগুলো কাছের মানুষদেরও বলতে হয় না। অনেক নারীর হয়তো কথাটা পছন্দ হবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে প্রকৃতিগতভাবেই মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে বেশি আবেগী হয়। তাই তারা অনেকসময় পুরুষদের মতো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে না। এর মানে এই নয় যে, এই ঘটনার ধুয়া তুলে পুরুষরা সবকিছুই স্ত্রীর কাছে গোপন রাখবে! যেগুলো জানার অধিকার একজন স্ত্রীর আছে, সেসব তাকে বলতে হবে। তবে বিশেষ করে উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থ সংক্রান্ত বা নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো গোপন রাখতে হবে।
রাসূলুল্লাহ সাহাবিদের ডাকলেন, আলোচনা শুরু হলো। কীভাবে কী করা যায়। মূলত দুটি মত পাওয়া গেল। এক পক্ষ বললো, আমাদের মদীনার ভেতরে থেকে যুদ্ধ করা উচিত। মদীনাকে আমরা দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করবো। এভাবে যুদ্ধ করলে নারী আর শিশুরাও ছাদ থেকে পাথর ছোঁড়ার মাধ্যমে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এটা ছিল রাসূলুল্লাহ আর মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবাইয়ের প্রস্তাব। রাসূলুল্লাহ এই প্রস্তাব করেছিলেন কৌশলগত কারণে। কিন্তু আবদুল্লাহ ইবন উবাই এই মতামত দিয়েছিল কেননা সে মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার ব্যাপারে খুবই ভয় পাচ্ছিল।
অপরদিকে অধিকাংশের মতামত ছিল মদীনার বাইরে গিয়ে খোলা ময়দানে শত্রুর মোকাবেলা করা। মদীনার ভেতরে কাফিরবাহিনী ঢুকবে, ঢুকে মুসলিমদের ঘরবাড়ি আক্রমণ করবে—তাদের মতে এটা খুবই লজ্জার বিষয়। যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি তারাই মূলত এই মত দিচ্ছিল। বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পেরে তাদের কেবলই মনে হচ্ছিল যেন তারা অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছেন। তাই এবারের যুদ্ধে যেতে তারা উন্মুখ হয়ে ছিলেন! তাদের আশঙ্কা ছিল যে শত্রুরা হয়তো মদীনায় ঢোকার সাহসই করবে না। আর সেক্ষেত্রে যুদ্ধ যদি না হয় তাহলে তারা লড়বেন কার সাথে! তাদের চাপাচাপিতে রাসূলুল্লাহ দ্বিতীয় মতটাই গ্রহণ করলেন।
সভা শেষে রাসূলুল্লাহ উঠে দাঁড়ালেন। ঘরে গিয়ে বর্ম পরে ফিরে এলেন। সাহাবিদের তখন মনে হলো রাসূলুল্লাহকে এত চাপাচাপি করা হয়নি। তখন তারা নিজেদের মধ্যেই তর্ক জুড়ে দিল, 'আল্লাহর রাসূল একটা মত দিলেন আর তোমরা ভিন্নমত দিচ্ছো! হামযা, তুমি যাও, এখনই গিয়ে তাঁকে বলো যে উনি যা ভালো মনে করবেন, আমরা সেটাই করতে রাজি আছি।'
হামযা রাসূলুল্লাহর কাছে গিয়ে সে কথা বললেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ বললেন 'যখন বর্ম পরে একজন নবী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন, তখন সে বর্ম খুলে ফেলা তাঁর জন্য সংগত নয়, ততক্ষণ না আল্লাহ তাঁর ও তাঁর শত্রুদের মধ্যে ফায়সালা করেন।' অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে, এখন বাস্তবায়নের পালা। সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা যাবে না। যদি একজন রাসূল শুরা বা আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন তিনি সেই গৃহীত সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করবেন।
নেতৃত্বের দুটো শিক্ষা:
১) সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা: একজন নেতার সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা উচিত নয়। তার যখন-তখন সিদ্ধান্ত বদল করা চলবে না। কারো কথা বা চাপাচাপিতে তার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তীতে দোলাচলে পড়া কাম্য নয়। সে সকলের মতামত শুনবে, আলোচনা করবে এবং তারপর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবে। সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটা যাবে না; সেটাই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে যদি কোনো নতুন তথ্য আসে, অথবা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার বিষয়টি ভেবে দেখা যেতে পারে। নতুবা আগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে কার্যকর থাকবে। নেতা যদি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, তাহলে তার অধীনস্থরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। যুদ্ধের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা সৈনিকদের কাছে খুবই অপছন্দনীয় একটি বিষয়। কেননা যুদ্ধক্ষেত্রে একেকটা সিদ্ধান্তের ওপর জীবন-মরণ নির্ভর করে। রাসূলুল্লাহ প্রত্যেক নেতার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। যখনই কোনো নেতা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, সেটা চূড়ান্ত হবে। লোকের কথায় চট করে তা পাল্টে ফেলা যাবে না।
২) মতপ্রদানের আবহ বিরাজ করা: রাসূলুল্লাহ সাহাবিদেরকে তাদের নিজস্ব মতামত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিতেন। ব্যাপারটা এমন হতো না যে, সাহাবিরা রাসূলুল্লাহর সামনে নিজেদের মত দিতে ভয় পাচ্ছেন বা অস্বস্তি বোধ করছেন। রাসূলুল্লাহ ছিলেন মিশুক প্রকৃতির, খোলা মনের মানুষ। যেসব বিষয়ে ওয়াহী নাযিল হয়নি, সেসব ব্যাপারে তিনি অন্যদের মত শুনতেন, ভালো মনে হলে গ্রহণ করতেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নিতেন, যেহেতু তিনিই নেতা।

কুরাইশদের পরিকল্পনার কথা জানার পরও রাসূলুল্লাহ সাধারণ মানুষের কাছে এসব খবর গোপন রাখেন। তিনি প্রথমে যান আনসারদের প্রধান সাদ ইবন রাবীর কাছে। কুরাইশদের মদীনা আক্রমণের পরিকল্পনার কথা তাঁর কাছে সবিস্তারে বর্ণনা করে তাঁর মতামত জানতে চান। চলে যাওয়ার আগে সাদকে পুরো বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দেন। রাসূলুল্লাহ চলে যাওয়ার পর, সাদ ইবন রাবীর স্ত্রী এসে জানতে চাইল, 'আচ্ছা, রাসূলুল্লাহ তোমাকে কী বলে গেলেন?' সাদ জবাব দিলেন, 'সেটা তোমার না জানলেও চলবে।' স্ত্রী বললেন, 'আমি কিন্তু সবই শুনে ফেলেছি!' সাদ চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং স্ত্রীর সাথে খুব রাগ করলেন। রাসূলুল্লাহকে জানালেন যে তাঁর স্ত্রী তাঁদের কথোপকথন শুনতে পেয়েছে। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'আচ্ছা, বাদ দাও, তাকে ছেড়ে দাও।'

এখানে শিক্ষা হলো, গোপনীয়তা রক্ষা করার গুরুত্ব। গোপন কথা গোপনই থাকবে, কাউকে বলা যাবে না। নিজের পরিবারের সদস্যদেরকেও না। মুসলিমদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুতর বিষয়ে রাসূলুল্লাহ শুধু সেসব সাহাবিদের সাথেই যোগাযোগ করতেন, যাদের বিষয়টি জানার প্রয়োজন আছে। এই নীতিটিকে বলা হয় 'দরকারের ভিত্তিতে জানা' (Need to know basis), শুধু সে-ই জানবে, যার জানা দরকার। সাদ ইবন রাবী তাঁর স্ত্রীকে নিজ থেকে তাই কিছুই বলেননি। প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই তথ্য আদান-প্রদান করা উচিত। উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থ সংক্রান্ত বা নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো গোপন রাখতে হবে।

রাসূলুল্লাহ সাহাবিদের ডাকলেন, আলোচনা শুরু হলো। কীভাবে কী করা যায়। মূলত দুটি মত পাওয়া গেল। এক পক্ষ বলল, আমাদের মদীনার ভেতরে থেকে যুদ্ধ করা উচিত। মদীনাকে আমরা দুর্গ হিসেবে ব্যবহার করবো। এভাবে যুদ্ধ করলে নারী আর শিশুরাও ছাদ থেকে পাথর ছোঁড়ার মাধ্যমে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এটা ছিল রাসূলুল্লাহ আর মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবাইয়ের প্রস্তাব। রাসূলুল্লাহ এই প্রস্তাব করেছিলেন কৌশলগত কারণে। কিন্তু আবদুল্লাহ ইবন উবাই এই মতামত দিয়েছিল কেননা সে মদীনার বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করার ব্যাপারে খুবই ভয় পাচ্ছিল। অপরপক্ষে অধিকাংশের মতামত ছিল মদীনার বাইরে গিয়ে খোলা ময়দানে শত্রুর মোকাবেলা করা। যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি তারাই মূলত এই মত দিচ্ছিল। তাদের চাপাচাপিতে রাসূলুল্লাহ দ্বিতীয় মতটাই গ্রহণ করলেন। সভা শেষে রাসূলুল্লাহ উঠে দাঁড়ালেন। ঘরে গিয়ে বর্ম পরে ফিরে এলেন। সাহাবিরা তখন ভাবলেন রাসূলুল্লাহকে এত চাপাচাপি করা ঠিক হয়নি। তাঁরা হামযাকে রাসূলুল্লাহর কাছে পাঠালেন এ কথা বলতে যে তিনি যা ভালো মনে করবেন তাঁরা তা-ই করবেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ বললেন, 'যখন বর্ম পরে একজন নবী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন, তখন সে বর্ম খুলে ফেলা তাঁর জন্য সংগত নয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর ও তাঁর শত্রুদের মধ্যে ফায়সালা করেন।' অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে, এখন বাস্তবায়নের পালা।

নেতৃত্বের দুটো শিক্ষা:
১) সিদ্ধান্তে দৃঢ়তা: একজন নেতার সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা উচিত নয়। সে সকলের মতামত শুনবে, আলোচনা করবে এবং তারপর একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবে। সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটা যাবে না; সেটাই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। রাসূলুল্লাহ প্রত্যেক নেতার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। যখনই কোনো নেতা কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, সেটা চূড়ান্ত হবে।
২) মতপ্রদানের আবহ বিরাজ করা: রাসূলুল্লাহ সাহাবিদেরকে তাঁদের নিজস্ব মতামত দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সুযোগ দিতেন। রাসূলুল্লাহ ছিলেন মিশুক প্রকৃতির, খোলা মনের মানুষ। যেসব বিষয়ে ওয়াহী নাযিল হয়নি, সেসব ব্যাপারে তিনি অন্যদের মত শুনতেন, ভালো মনে হলে গ্রহণ করতেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নিতেন, যেহেতু তিনিই নেতা।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা

📄 ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা


উহুদ পাহাড়ের পাশে তাঁরা তাঁদের গন্তব্য স্থির করলেন। মদীনা থেকে মাইলখানেক দূরে অবস্থিত উহুদ একটি বিশাল পর্বত। রাসূলুল্লাহ তাঁর যাত্রার সময় হিসেবে ইচ্ছে করেই বেছে নিলেন মধ্যরাত। এসময় ক্লান্ত কুরাইশ বাহিনীর ঘুমিয়ে থাকার কথা। মুসলিম সৈন্যবাহিনী যাত্রা শুরু করলো। রাসূলুল্লাহ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, 'কেউ কি এমন পথ দেখাতে পারবে যেটা দিয়ে গেলে শত্রুরা আমাদের গতিবিধি টের পাবে না?' আবু খাইতামা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এ কাজে এগিয়ে এলেন। তাঁরা সাধারণের চলাচলের পথ ছেড়ে কৃষিজমির ওপর উঠলেন। রওনা হলেন মদীনার বাইরে উহুদ অভিমুখে।
পথিমধ্যে মিরবা ইবন কাইযী নামের এক অন্ধ মুনাফিকের কৃষিজমি পড়ল। যখন তাঁরা খামারের কৃষিজমির উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই কৃষিজমির ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। মিরবা ক্ষেপে গেল, সে মুসলিম সেনাদলকে উদ্দেশ্য করে কাদা ছুঁড়তে লাগলো। রাগে অন্ধ হয়ে বললো, 'তুমি যদি আল্লাহর রাসূলও হও, তাহলেও আমি তোমাকে আমার বাগানে প্রবেশ করার অনুমতি দেবো না।' রাসূলুল্লাহ তাকে কোনো পাত্তা দিলেন না। বাহিনী নিয়ে যেমন চলছিলেন চলতে লাগলেন। অন্ধ লোকটা এবার বললো, 'আল্লাহর কসম! আমি যদি পারতাম, তাহলে মুহাম্মাদ আমি শুধু তোমার মুখেই কাদা ছুঁড়ে মারতাম।' সাহাবিরা রেগে গেলেন, তাকে মেরে ফেলতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'ওকে ছেড়ে দাও, এই অন্ধের অন্তর আর চোখ দুটোই অন্ধ', তাঁরা তাকে একা রেখে চলে গেলেন।
এই ঘটনা থেকে শিক্ষা হলো, ইসলামে ব্যক্তিগত স্বার্থের ওপর সামষ্টিক স্বার্থ প্রাধান্য পায়। উপরোক্ত ঘটনায় ক্ষতি হয়েছে একজনের, কিন্তু তার বিনিময়ে অন্য সকলে লাভবান হয়েছে। কাজেই, যখন প্রয়োজন হবে, তখন ব্যক্তির ওপর সমাজের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে।

উহুদ পাহাড়ের পাশে তাঁরা তাঁদের গন্তব্য স্থির করলেন। মদীনা থেকে মাইলখানেক দূরে অবস্থিত উহুদ একটি বিশাল পর্বত। রাসূলুল্লাহ তাঁর যাত্রার সময় হিসেবে ইচ্ছে করেই বেছে নিলেন মধ্যরাত। এ সময় ক্লান্ত কুরাইশ বাহিনীর ঘুমিয়ে থাকার কথা। মুসলিম সৈন্যবাহিনী যাত্রা শুরু করল। রাসূলুল্লাহ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, 'কেউ কি এমন পথ দেখাতে পারবে যেটা দিয়ে গেলে শত্রুরা আমাদের গতিবিধি টের পাবে না?' আবু খাইতামা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে এ কাজে এগিয়ে এলেন। তাঁরা সাধারণের চলাচলের পথ ছেড়ে কৃষিজমির ওপর উঠলেন। রওনা হলেন মদীনার বাইরে উহুদ অভিমুখে।

পথিমধ্যে মিরবা ইবন কাইযী নামের এক অন্ধ মুনাফিকের কৃষিজমি পড়ল। যখন তাঁরা খামারের কৃষিজমির ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই কৃষিজমির ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। মিরবা ক্ষেপে গেল, সে মুসলিম সেনাদলকে উদ্দেশ্য করে কাদা ছুঁড়তে লাগল। রাগে অন্ধ হয়ে বলল, 'তুমি যদি আল্লাহর রাসূলও হও, তাহলেও আমি তোমাকে আমার বাগানে প্রবেশ করার অনুমতি দেবো না।' রাসূলুল্লাহ তাকে কোনো পাত্তা দিলেন না। অন্ধ লোকটা এবার বলল, 'আল্লাহর কসম! আমি যদি পারতাম, তাহলে মুহাম্মাদ আমি শুধু তোমার মুখেই কাদা ছুঁড়ে মারতাম।' সাহাবিরা রেগে গেলেন, তাকে মেরে ফেলতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'ওকে ছেড়ে দাও, এই অন্ধের অন্তর আর চোখ দুটোই অন্ধ', তাঁরা তাকে একা রেখে চলে গেলেন। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা হলো, ইসলামে ব্যক্তিগত স্বার্থের ওপর সামষ্টিক স্বার্থ প্রাধান্য পায়। যখন প্রয়োজন হবে, তখন ব্যক্তির ওপর সমাজের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px