📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 সামরিক অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য

📄 সামরিক অভিযানগুলোর উদ্দেশ্য


#১ এই অভিযানগুলো মুসলিমদের জন্য নিছক সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল না। বরং অন্যান্য ইবাদতগুলোর মতোই জিহাদ করাও একটি ইবাদত। আবার যখন জিহাদ করা ফরয হয়, তখন এর প্রশিক্ষণ নেওয়াও ফরয। এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে তাঁরা আল্লাহর ইবাদতও করছিলেন।
#২ এই যুদ্ধগুলো চলাকালীন সময়ে সাহাবিরা রাসূলুল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠ সময় কাটাতে পারতেন। তাঁর সাথে ভ্রমণ, খাওয়া-দাওয়া, ঘোরাফেরা করতে করতে রাসূলুল্লাহর অসাধারণ ব্যক্তিত্বের কতরকম পরিচয় যে সাহাবিদের সামনে ফুটে উঠতো তার ইয়ত্তা নেই। ফলে সাহাবিরা অনেক কিছু শিখতেও পারতেন। এভাবেই আমরা বহু সুন্নাহ সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
#৩ এই অভিযানগুলো মুসলিমদের জামাতবদ্ধ হয়ে থাকতে শেখায়। দলবদ্ধ হয়ে থাকতে হলে আনুগত্য, নিয়ম মেনে চলা, আত্মত্যাগের মতো গুণ থাকা চাই। রাসূলুল্লাহর সাথে দীর্ঘ সময় থাকতে থাকতে সাহাবিরা এই কঠিন গুণগুলো আত্মস্থ করতে শিখেছিলেন। উম্মাহর সক্রিয় অংশ হিসাবে কীভাবে বাস করা যায় তার জন্য এটি ছিল একটি শিক্ষা। এই শিক্ষা খুব জরুরি। কারণ ইসলাম কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ধর্ম নয়, এটি সামষ্টিক ধর্ম। ইসলামের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতই সমষ্টিগতভাবে পালন করা হয় যেমন সালাত, হজ্জ, উমরা, জিহাদ ইত্যাদি।
#৪ এই অভিযানগুলোতে শত্রুরা পালিয়ে যাওয়ার পরেও রাসূলুল্লাহ তাঁর বাহিনী নিয়ে শত্রুর ঘাঁটিতে বেশ কিছুদিন অবস্থান করেছেন। এই অবস্থানকে আধুনিক যুগের 'সামরিক মহড়া'র সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী গোত্রগুলোকে মুসলিম সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ধারণা দিয়ে সতর্ক করে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 সাহাবিদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক

📄 সাহাবিদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক


রাসূলুল্লাহ তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির জন্য তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি করেন। যেমন তিনি উমারের মেয়ে হাফসাকে বিয়ে করেন। হাফসার প্রথম স্বামী মারা যাবার পর উমার গেলেন উসমানের কাছে, নিজেই মেয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন। উসমান ফিরিয়ে দিলে এরপর গেলেন আবু বকরের কাছে, আবু বকর কিছুই বললেন না। এর কিছুদিন পর আল্লাহর রাসূল নিজেই প্রস্তাব পাঠিয়ে হাফসাকে বিয়ে করে নেন। হাফসা এভাবে হয়ে গেলেন উম্মুল মু'মিনীনদের একজন। এখানে দেখার মতো বিষয়, সাহাবিদের উদারচেতা আচরণ। যোগ্য পাত্র পেলে তাঁরা নিজেরাই মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব তুলতেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনোরকম অহম বোধ বা অযথা সংকোচ কাজ করতো না।
অন্যদিকে রাসূলুল্লাহ নিজের মেয়ে ফাতিমার বিয়ে দেন আলীর সাথে। আলী তখন যুবক, হাতে তাঁর অর্থকড়ি নেই বললেই চলে। এদিকে ফাতিমার বিয়ের বয়স। আলী তাঁকে বিয়ে করতে চান, রাসূলুল্লাহর কাছেও আসেন। কিন্তু লজ্জায় বিয়ের কথা তুলতে পারেন না। রাসূলুল্লাহ একদিন নিজ থেকেই জানতে চাইলেন আলী কি ফাতিমাকে বিয়ে করতে চান কিনা। আলী বললেন,
- হ্যাঁ চাই, কিন্তু মোহরানা আদায় করার মতো কিছুই আমার নেই।
- তোমরা একটা বর্ম আছে না? ওতেই চলবে, রাসূলুল্লাহ বললেন।
আলী সেই বর্ম দিয়েই মোহরানা আদায় করলেন। বিয়ে হয়ে গেল আলী আর ফাতিমার। মদীনার নেতার মেয়ের বিয়ের মোহর হলো সামান্য একটি বর্ম। রাসূলুল্লাহ নিজে যেমন অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন, তেমনি নিজ পরিবারকেও সাদামাটা জীবনে উৎসাহ দেন। আলী আর ফাতিমার সংসার ছিল সাদাসিধে সংসার। বিলাসিতা তাঁদের জীবনে কখনোই ছিল না。

টিকাঃ
৬. আন-নাসাঈ, অধ্যায় বিবাহ, হাদীস ৫৩।

ফন্ট সাইজ
15px
17px