📄 ইহুদিরা ছিল মুনাফিকদের আধ্যাত্মিক গুরু
"(মুনাফিকদের অবস্থা হচ্ছে) তারা যখন ঈমানদার লোকদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, (আবার) যখন একাকী তাদের শয়তানের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, (ঈমানের কথা বলে ওদের সাথে) আমরা ঠাট্টা করেছিলাম মাত্র!” (সূরা বাক্বারাহ, ২: ১৪)
এখানে শয়তান বলতে বোঝানো হচ্ছে ইহুদিদেরকে। তাদের সাথেই মুনাফিকরা দেখা করতো।
"যাদের কাছে হিদায়াতের পথ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরও তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, শয়তান এদের মন্দ কাজগুলো (ভালো লেবাস দিয়ে) শোভনীয় করে রাখে এবং তাদের জন্যে নানা মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে রাখে। এটা এ জন্যেই (হয়েছে) যে, (মানুষদের জন্যে) আল্লাহ তাআলা যা কিছু নাযিল করেছেন তা যারা পছন্দ করে না-- এরা তাদের বলে, আমরা (ঈমানদারদের দলে থাকলেও) কিছু কিছু ব্যাপারে তোমাদের কথামতোই চলবো, আল্লাহ তাআলা এদের গোপন অভিসন্ধি সম্পর্কে খবর রাখেন।" (সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭: ২৫-২৬)
'কিছু কিছু ব্যাপারে আমরা তোমাদের কথামতো চলবো'—এ কথাটি ইহুদিদের উদ্দেশ্যে মুনাফিকদের বলা কথা। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলছেন যে, কাফির হওয়ার জন্য ইহুদি হওয়ার দরকার নেই বা তাদের সাথে পুরোপুরি একমত হবার দরকার নেই। কিছু ব্যাপারে একমত হওয়াই কাফির হবার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। মুসলিমদের এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। ইহুদি কিংবা খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সাবধান হওয়া জরুরি।
“(হে নবী) আপনি কি সে সম্প্রদায়ের অবস্থা কখনো লক্ষ করেননি, যারা এমন জাতির সাথে বন্ধুত্ব পাতায় যাদের ওপর আল্লাহ তাআলা অভিশাপ দিয়েছেন (ইহুদি জাতি); এ (সুযোগসন্ধানী) লোকেরা যেমন তোমাদের আপন নয়, (তেমনি) তারাও ওদের আপন নয়, এরা জেনে শুনে আল্লাহর ওপর মিথ্যা শপথ করে। আল্লাহ তাআলা তাদের জন্যে (জাহান্নামের) কঠোর আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন; তারা যে কাজ করছে তা সত্যিই এক (জঘন্য) অপরাধের কাজ। তারা তাদের (মিথ্যা) শপথগুলোকে (নিজেদের স্বার্থ রক্ষায়) ধাল বানিয়ে নিতো, অতপর তারা মানুষদের আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতো, অতএব তাদের জন্যে (রয়েছে) এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (সূরা মুজাদিলাহ, ৫৮: ১৪-১৬)
📄 ইসলামী দাওয়াহর বিরোধিতা
মদীনায় ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের আরেকটি কৌশল ছিল মানুষকে মুসলিম হওয়া থেকে বিরত রাখা। যখন আবদুল্লাহ ইবন সালাম মুসলিম হলেন, তারা তাঁকে মিথ্যুক, বিশ্বাসঘাতক বলে অপবাদ দিতে শুরু করে। শুধু যে আবদুল্লাহ ইবন সালামের মতো ইহুদিদের সাথে তারা এমন আচরণ করতো তা নয়, আরবদের সাথেও এমনটাই করতো।
মদীনার সনদ অনুসারে মুসলিমদের সাথে সুসম্পর্ক ও রাসূলুল্লাহর প্রতি অনুগত থাকার কথা থাকলেও ইহুদিরা কখনো সে কথার ধার ধারেনি। প্রথম দিন থেকেই তাদের পন্থা ছিল শত্রুতা আর ঝগড়া-বিবাদ। ইহুদিদের ক্রমাগত ষড়যন্ত্র ও অপকর্ম মুসলিম ও ইহুদিদের মুখোমুখি দাঁড় করায়। বদর যুদ্ধের পর তাদের কর্মকাণ্ড সীমা ছাড়িয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ তখন বনু কায়নুকাকে বলেন, 'ইহুদিদের বলছি, তোমরা সতর্ক হও! নয়তো আল্লাহ কুরাইশদের মতো করে তোমাদের শাস্তি দিবেন। তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। তোমরা ঠিকই জানতে পারবে যে, আমি ওয়াহীপ্রাপ্ত একজন রাসূল। তোমরা তোমাদের কিতাবেই তার প্রমাণ পাবে এবং আল্লাহর সাথে তোমরা যে অঙ্গীকারে আবদ্ধ তাতেও এর প্রমাণ পাবে।'
प्रत्युत्तরে শ্লেষভরে তারা বললো, 'মুহাম্মাদ! তুমি কি মনে করো আমরা তোমাদের সাথে আছি? ভ্রান্তির মধ্যে থেকো না। যাদের তুমি হারিয়েছ, তাদের যুদ্ধ সম্পর্কে তেমন জ্ঞান নেই, তাই তুমি তাদের হারাতে পেরেছ। আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে আসলেই টের পাবে সত্যিকারের যোদ্ধা কাকে বলে!' এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বদরের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন,
“(হে নবী) যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে সেসব (বিদ্রোহী) কাফিরদের আপনি বলে দিন, অচিরেই তোমরা (এ দুনিয়ায় লাঞ্ছিত ও) পরাজিত হবে এবং (পরকালে) তোমাদের জাহান্নামের (আগুনের) কাছে জড়ো করা হবে; (আর জাহান্নাম) তা তো হচ্ছে অত্যন্ত নিকৃষ্ট অবস্থান! সে দল দু'টোর মধ্যে তোমাদের জন্যে (শিক্ষণীয়) কিছু নিদর্শন (মজুদ) ছিল, যারা (বদরের) সম্মুখসমরে একে অপরের সামনাসামনি হয়েছিল; (এদের মধ্যে) এক বাহিনী লড়ছিল আল্লাহর (দ্বীনের) পথে, আর অপর বাহিনীটা ছিল (অবিশ্বাসী) কাফিরদের, (এ সম্মুখসমরে) তারা তাদের (প্রতিপক্ষকে) তাদের দ্বিগুণ দেখতে পাচ্ছিল, আল্লাহ তাআলা যাকে চান তাঁকে সাহায্য (ও বিজয়) দান করেন; এ (সব ঘটনার) মাঝে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন লোকেদের জন্যে অনেক কিছু শেখার আছে।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১২-১৩)
বদর যুদ্ধে সত্যের জয় হয়েছিল। যেকোনো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের জন্য বদর একটি শিক্ষা। মুসলিমরা যে সত্যের ওপর আছে--বদর তার প্রমাণ। এ যুদ্ধের সময় ইহুদিরা চোখের সামনে দেখেছিল, কীভাবে আল্লাহর সাহায্যে মুসলিমরা বিজয় অর্জন করেছে। কিন্তু তবু তারা শত্রুতায় অটল থাকলো; ইসলামের সত্যতা উপলব্ধির সুযোগ পেয়েও তারা কাজে লাগালো না।