📄 মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা
ইবনে ইসহাক বলেন, শাস ইবন কাইস নামের এক বুড়ো ইহুদি ছিল। সে ছিল এক ইসলামবিদ্বেষী। তার অন্তর জুড়ে ছিল কুফরি। মুসলিমদের সে খুব বেশি ঘৃণা করতো। ইসলাম গ্রহণের আগে আওস ও খাযরাজ গোত্র পরস্পরকে ঘৃণা করতো। সে দেখলো রাসূলুল্লাহর আবির্ভাবের পর গোত্র দুটি বন্ধু হয়ে গেছে। তারা মিলেমিশে আছে; একসাথে এক মজলিসে বসে কথা বলছে। এই দৃশ্য তার সহ্য হলো না। সে বলে উঠলো,
'এই জমিনে আজ আওস আর খাযরাজ এক হয়েছে। আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, যতদিন তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ততদিন এই দেশে আমাদের কোনো জায়গা নেই। আমরা ইহুদিরা এই মদীনায় ততদিনই টিকে থাকবো, যতদিন আরবরা বিভক্ত থাকবে। আর যতদিন তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবে, ততদিন আমাদের বিপদ!'
সে আওস খাযরাজের জমায়েতে বসে থাকা এক ইহুদি যুবককে ডেকে বললো, 'আওস-খাযরাজের কাছে যাও! স্মরণ করিয়ে দাও তাদের অতীত জীবনের হানাহানি, বু'আস আর অন্য সব যুদ্ধের কাহিনী! অতীতের চেতনা আর উসকানিমূলক কবিতাগুলো আবৃত্তি করে করে ক্ষেপিয়ে তোলো!'
কবিতা ছিল সেই যুগের মিডিয়া। সেই তরুণ সাফল্যের সাথেই কাজটি করলো। সে দুই দলের জাহিলিয়াতি যুগের ঘটনাগুলো নিয়ে কথা বলা আরম্ভ করে। ধীরে ধীরে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। তরুণও কবিতা আবৃত্তি চালিয়ে যেতে থাকে। পরিবেশ ক্রমেই আরও উত্তপ্ত হয়। এক সময় দুই দলের মাঝে ঝগড়া বেঁধে যায়। সবাই বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ে, একে অপরকে যুদ্ধের দিকে আহ্বান করতে থাকে। এমনকি যুদ্ধ করার স্থানও ঠিক করে ফেলে! যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। কিছু অপ্রীতিকর শব্দ, কিছু জাহিলিয়াতি চেতনার বাণী—ব্যস এটুকুই। শান্তিময় পরিবেশকে নষ্ট করে অশান্ত আর অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। মুসলিমদের তাই শব্দচয়নের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা, শয়তান অসতর্ক কথাকে কেন্দ্র করে বিভেদ তৈরি করে।
“(হে নবী) আমার বান্দাদের বলে দিন, তারা যেন (কথা বলার সময়) এমন সব কথা বলে যা উত্তম; (কেননা) শয়তান (খারাপ কথা দ্বারা) তাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির উসকানি দেয়; আর শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।” (সূরা ইসরা, ১৭: ৫৩)
আওস ও খাযরাজের মধ্যে যুদ্ধের কথা রাসূলুল্লাহর কানে পৌঁছলে তিনি ছুটে এলেন। মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় করো! তোমরা কি আবার সেই জাহিলিয়াতের জীবনের ফেলে আসা শত্রুতাকে ফিরিয়ে আনতে চাও? অথচ আমি এখন তোমাদের মাঝে আছি! আল্লাহ তোমাদেরকে ঈমান আর ইসলামের দিকে হিদায়াত করেছেন। তোমরা কি ভুলে গেছ আল্লাহর সেই অনুগ্রহের কথা যে অনুগ্রহের কারণে আজ তোমরা জাহিলিয়াত ও কুফরি থেকে মুক্তি পেয়েছ? যে অনুগ্রহ তোমাদের অন্তরে শত্রুতার পরিবর্তে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের বীজ বপন করেছে?' রাসূলুল্লাহর এই কথা শুনে তারা যেন সংবিৎ ফিরে পেল। সবকিছু ভুলে একে অপরের সাথে কোলাকুলি করা আরম্ভ করল। একে অপরের কাছে ক্ষমা চাইতে লাগলো। অথচ কিছুক্ষণ আগেও তারা যুদ্ধে লড়তে প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
“(হে নবী!) আপনি বলুন, হে আহলে কিতাবরা, তোমরা কেন (জেনে বুঝে) আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করো, অথচ তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তাআলাই তার ওপর সাক্ষী। আপনি (আরও) বলুন, হে আহলে কিতাবরা, যারা ঈমান এনেছে তোমরা কেন তাদের আল্লাহর পথ থেকে ফেরাতে চেষ্টা করছো? (এভাবেই) তোমরা (আল্লাহর) পথকে বাঁকা করতে চাও অথচ (এই লোকদের সত্যপন্থী হবার ব্যাপারে) তোমরাই তো সাক্ষী; আল্লাহ তাআলা তোমাদের এই সব (বিদ্রোহমূলক) আচরণ সম্পর্কে মোটেই বেখবর নন। তোমরা যারা ঈমান এনেছো, তোমরা যদি (আগে) যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের কোনো একটি দলের কথা মেনে চলো, তাহলে (মনে রেখো), ঈমান আনার পরও এরা তোমাদের কাফির বানিয়ে দেবে।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ৯৮-১০০)
আল্লাহ মুসলিমদের সতর্ক করে বলছেন, আহলে কিতাবদের অর্থাৎ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অনুসরণ করার ফলাফল খুবই ভয়াবহ। এর পরিণতি কুফর। ইহুদিরা খুব ভালো করেই জানতো মুহাম্মাদ হচ্ছেন সত্য নবী। তাদের কিতাবেই রাসূলুল্লাহর আগমনের কথা লেখা আছে। কিন্তু তবু তারা মুসলিমদের হিংসা করে। কারণ, আল্লাহ ইহুদিদের কাছে রাসূলুল্লাহকে প্রেরণ না করে আরবদের কাছে প্রেরণ করেছেন। এটা তারা মানতে পারে না। তাই তারা চায় মুসলিমরা কুফরি করুক। তাদেরকে অনুসরণ করলে একটাই গন্তব্য, কুফরি। পেছনে ফেরার আর কোনো পথ নেই।
"আর তোমরা কীভাবে কুফরি করো, যখন তোমাদের সামনে (বার বার) আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হচ্ছে, তা ছাড়া (এ আয়াতে বাহক স্বয়ং) আল্লাহর রাসূল যখন তোমাদের মাঝেই মজুদ রয়েছেন, যে ব্যক্তিই আল্লাহ (ও তাঁর বিধান)-কে শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে, সে অবশ্যই সোজা পথে পরিচালিত হবে। হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহকে ভয় করো, ঠিক যতটুকু ভয় তাঁকে করা উচিত, (আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ) আত্মসমর্পণকারী না হয়ে তোমরা কখনো মৃত্যু বরণ কোরো না। তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর (সেই) নিআমতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের দুশমন ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তাআলা (তাঁর দ্বীনের বন্ধন দিয়ে) তোমাদের একের জন্যে অপরের মনে ভালোবাসার সঞ্চার করে দিলেন, অতঃপর (যুগ-যুগান্তরের শত্রুতা ভুলে) তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে একে অপরের 'ভাই' হয়ে গেলে, অথচ তোমরা ছিলে (হানাহানির) অগ্নিকুণ্ডের প্রান্তসীমায়, অতঃপর সেখান থেকে আল্লাহ তাআলা (তাঁর রহমত দিয়ে) তোমাদের উদ্ধার করলেন; আল্লাহ তাআলা এভাবেই তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যাতে করে তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারো। তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা (মানুষদের কল্যাণের দিকে ডাকবে, সত্য ও) ন্যায়ের আদেশ দেবে, আর (অসত্য ও) অন্যায় কাজ থেকে (তাদের) বিরত রাখবে; (সত্যিকার অর্থে) এরাই হচ্ছে সাফল্যমণ্ডিত। তোমরা (কখনো) তাদের মতো হয়ে যেও না, যাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং (নিজেদের মধ্যে) নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে; এরাই হচ্ছে সে সব মানুষ যাদের জন্যে কঠোর শাস্তি রয়েছে।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১০১-১০৫)
📄 দ্বীন ইসলাম নিয়ে বিদ্রূপ ও ঠাট্টা-তামাশা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইহুদিদের আরও একটি অপকর্ম উন্মোচন করেন। সেটা হলো ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা করা (Blasphemy)। তারা রাসূলুল্লাহকে নিয়ে, মুসলিমদের নিয়ে এবং ইসলাম ও আল্লাহ আযযা ওয়া জালের সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতো। এমন একটি ঘটনা ঘটে আবু বকর ও এক ইহুদি পণ্ডিত ফিনহাসের মাঝে। তাদের কথোপকথনের পর একটি আয়াত নাযিল হয়। ঘটনাটি ছিল এমন, আবু বকর সিদ্দীক তাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। তখন ফিনহাস টিটকিরি মেরে বললো, 'শোনো, তোমার রব তো গরিব। আমরা হলাম ধনী। যদি তোমাদের রব ধনীই হয়ে থাকে, তাহলে তিনি তোমাদেরকে দান-খয়রাত করতে বলেন কেন? এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি অভাবী আর আমরা ধনী, আমাদেরকেই তাঁর প্রয়োজন।'
এই কথা শুনে আবু বকরের মেজাজ প্রচণ্ড খারাপ হলো। তিনি ফিনহাসের মুখে ঘুষি মেরে বসলেন। ফিনহাসও কম যায় না। সে দৌড়ে গিয়ে রাসূলুল্লাহর কাছে আবু বকরের নামে নালিশ করে দিলো। রাসূলুল্লাহ আবু বকরের কাছে এই বিষয়ে কৈফিয়ত চাইলেন। আবু বকর রাসূলুল্লাহকে সব খুলে বললেন। ফিনহাস কী কটূক্তি করেছে তাও জানালেন। কিন্তু ফিনহাস একবাক্যে কটূক্তি করার কথা অস্বীকার করলো! তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আয়াত নাযিল করলেন,
"আল্লাহ তাআলা সেই (ইহুদি) লোকদের কথা (ভালো করেই) শুনেছেন, যখন তারা (বিদ্রূপ করে) বলেছিল (হ্যাঁ), আল্লাহ তাআলা অবশ্যই গরীব, আর আমরা হচ্ছি ধনী; তারা যা কিছু বলে তা আমি (তাদের হিসেবের খাতায়) লিখে রাখবো, (আমি আরও লিখে রাখবো) অন্যায়ভাবে তাদের নবীদের হত্যা করার বিষয়টি ও, (সেদিন) আমি তাদের বলবো, এবার এই জাহান্নামের স্বাদ উপভোগ করো। এ (আযাব) হচ্ছে তোমাদের নিজেদেরই হাতের কামাই, যা তোমরা (আগেই এখানে) পাঠিয়েছো, আল্লাহ তাআলা কখনো তাঁর নিজ বান্দাদের প্রতি অবিচারক নন। (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১৮১-১৮২)
ইহুদিরা নিয়মিত মুসলিমদের সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতো, উপহাস করতো। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে বলেছেন,
"অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের নিজ জীবন সম্পর্কে পরীক্ষা করা হবে। আর তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে এবং মুশরিকদের পক্ষ থেকে অবশ্যই তোমরা অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। এ অবস্থায় যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো তবে নিশ্চয়ই তা হবে দৃঢ় সংকল্পের কাজ।” (সূরা আলে-ইমরান, ৩: ১৮৬)
ইহুদিদের কাছ থেকে এমন আচরণ পাওয়াই স্বাভাবিক। তারা মুসলিমদের সম্পর্কে নেতিবাচক কথাবার্তা বলবে, পত্র-পত্রিকায় ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করবে, মিডিয়ায় মুসলিমদের নিয়ে মিথ্যার বেসাতি সাজাবে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের বলছেন যদি মুসলিমরা ধৈর্যশীল আর তাক্বওয়াবান হয়, তাহলে তাদের এসব মিথ্যাচার ইসলাম ও মুসলিমদেরকে কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ সত্য টিকে থাকে আর মিথ্যা বিলুপ্ত হয়।
📄 রাসূলুল্লাহর ﷽ সাথে বেয়াদবি
ইহুদিরা রাসূলুল্লাহকে অসম্মান করে কথা বলতো। একবার তারা রাসূলুল্লাহর কাছে এসে ফাজলামি করে বললো, 'আসসামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ'। কথাটি শুনতে 'আসসালামু আলাইকা' এর মতোই লাগে, কিন্তু তারা আসলে সালাম এর লামকে বাদ দিয়ে সালামের বদলে বললো সাম। যার অর্থ দাঁড়ায়, 'তোমার মৃত্যু হোক'। আইশা এ কথা শুনে খুবই ক্ষেপে গেলেন। 'আসসামু আলাইকুম, বানরের দল, শুকরের দল...' এই বলে তিনি ইহুদিদের উদ্দেশ্যে অভিশাপ দিতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'এভাবে বোলো না আইশা, আল্লাহ তাআলা নোংরা ভাষা পছন্দ করেন না।' তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আয়াত নাযিল করলেন,
"তুমি কি তাদের লক্ষ করো না, যাদের (আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সম্পর্কে কোনো) গোপন কানাঘুষা করতে নিষেধ করা হয়েছিল; (কিন্তু) তারা (ঠিক) তারই পুনরাবৃত্তি করলো যা করতে তাদের বারণ করা হয়েছিল। তারা একে অপরের সাথে সুস্পষ্ট গুনাহের কাজ, মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও রাসূলের নাফরমানীর ব্যাপারে কানাঘুষা করতে লাগলো, (অথচ) এরা যখন তোমার সামনে আসে তখন তোমাকে এমনভাবে অভিবাদন জানায়, যা দিয়ে আল্লাহ তাআলাও তোমাকে অভিবাদন জানান না। তারা মনে মনে বলে, আমরা যা বলি সেজন্যে আল্লাহ আমাদেরকে শাস্তি দেন না কেন? জাহান্নামই তাদের উপযুক্ত শাস্তি, সেখানে তারা প্রবেশ করবে, কত নিকৃষ্ট সেই আবাস!” (সূরা মুজাদিলাহ, ৫৮: ৮)
ইহুদিরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতো, 'আচ্ছা, আমরা যে এত আজেবাজে কথা বলি এজন্যে আল্লাহ আমাদের শাস্তি দেন না কেন? তাহলে নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল নন।' আল্লাহ বলছেন তাদের জন্য উপযুক্ত শাস্তি হলো জাহান্নামের আগুন।
📄 ইহুদিরা ছিল মুনাফিকদের আধ্যাত্মিক গুরু
"(মুনাফিকদের অবস্থা হচ্ছে) তারা যখন ঈমানদার লোকদের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, (আবার) যখন একাকী তাদের শয়তানের সাথে মিলিত হয় তখন বলে, আমরা তো তোমাদের সাথেই আছি, (ঈমানের কথা বলে ওদের সাথে) আমরা ঠাট্টা করেছিলাম মাত্র!” (সূরা বাক্বারাহ, ২: ১৪)
এখানে শয়তান বলতে বোঝানো হচ্ছে ইহুদিদেরকে। তাদের সাথেই মুনাফিকরা দেখা করতো।
"যাদের কাছে হিদায়াতের পথ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরও তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, শয়তান এদের মন্দ কাজগুলো (ভালো লেবাস দিয়ে) শোভনীয় করে রাখে এবং তাদের জন্যে নানা মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে রাখে। এটা এ জন্যেই (হয়েছে) যে, (মানুষদের জন্যে) আল্লাহ তাআলা যা কিছু নাযিল করেছেন তা যারা পছন্দ করে না-- এরা তাদের বলে, আমরা (ঈমানদারদের দলে থাকলেও) কিছু কিছু ব্যাপারে তোমাদের কথামতোই চলবো, আল্লাহ তাআলা এদের গোপন অভিসন্ধি সম্পর্কে খবর রাখেন।" (সূরা মুহাম্মাদ, ৪৭: ২৫-২৬)
'কিছু কিছু ব্যাপারে আমরা তোমাদের কথামতো চলবো'—এ কথাটি ইহুদিদের উদ্দেশ্যে মুনাফিকদের বলা কথা। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলছেন যে, কাফির হওয়ার জন্য ইহুদি হওয়ার দরকার নেই বা তাদের সাথে পুরোপুরি একমত হবার দরকার নেই। কিছু ব্যাপারে একমত হওয়াই কাফির হবার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। মুসলিমদের এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। ইহুদি কিংবা খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সাবধান হওয়া জরুরি।
“(হে নবী) আপনি কি সে সম্প্রদায়ের অবস্থা কখনো লক্ষ করেননি, যারা এমন জাতির সাথে বন্ধুত্ব পাতায় যাদের ওপর আল্লাহ তাআলা অভিশাপ দিয়েছেন (ইহুদি জাতি); এ (সুযোগসন্ধানী) লোকেরা যেমন তোমাদের আপন নয়, (তেমনি) তারাও ওদের আপন নয়, এরা জেনে শুনে আল্লাহর ওপর মিথ্যা শপথ করে। আল্লাহ তাআলা তাদের জন্যে (জাহান্নামের) কঠোর আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন; তারা যে কাজ করছে তা সত্যিই এক (জঘন্য) অপরাধের কাজ। তারা তাদের (মিথ্যা) শপথগুলোকে (নিজেদের স্বার্থ রক্ষায়) ধাল বানিয়ে নিতো, অতপর তারা মানুষদের আল্লাহর পথ থেকে ফিরিয়ে রাখতো, অতএব তাদের জন্যে (রয়েছে) এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।” (সূরা মুজাদিলাহ, ৫৮: ১৪-১৬)