📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 ছয় বছর পর

📄 ছয় বছর পর


রাসূল মক্কায় প্রবেশ করছেন বিজয়ী হয়ে। তাঁকে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে না, জাতীয় সঙ্গীত বাজছে না, নেই কোনো লাল গালিচা, আর তাঁর মাঝেও নেই কোনো অহংকারের ছাপ। তিনি বুক উঁচু করে, অবনত মস্তকে, আল্লাহর প্রতি বিনম্র চিত্তে সেখানে প্রবেশ করছেন। তিনি উটের পিঠে, ঢোকার সময় তিনি আল্লাহর কাছে সাজদারত, তিনি এতটাই নীচু হয়ে আছেন যে তাঁর দাড়ি উটের সাথে লেগে আছে। তাঁর মধ্যে ঔদ্ধত্য নেই, আছে নম্রতা, নেই উত্তেজনা, আছে সাকিনাহ, প্রশান্তি।

এভাবেই কাবাঘরের সামনে দাঁড়ালেন। তাঁর চারিদিক ঘিরে অসংখ্য মানুষ। মক্কার জনতার চোখেমুখে বিস্ময়, ভয়, কৌতূহল! তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে একটি মানুষের সিদ্ধান্তের উপর – সেই মুহাম্মাদ, যাকে তারা অপমান করেছে, দিনের পর দিন অভুক্ত রেখেছে, দেশছাড়া করে ছেড়েছে- আজ তিনিই বীরের বেশে নেতা হয়ে ফিরে এসেছেন নিজের ঘরে। কুরাইশের লোকেরা আজ তাঁর তরবারীর নীচে।

রাসূলুল্লাহ তাদের জিজ্ঞেস করলেন,
-তোমাদের কী ধারণা? আজ তোমাদের সাথে আমি কেমন ব্যবহার করবো?
- আপনার কাছ থেকে এক মহৎ ভাইয়ের মতো আচরণ আশা করি।

রাসূল বললেন, আমি তোমাদের সেটাই বলব যা ইউসুফ তাঁর ভাইদের বলেছিলেন, লা তাসরীবা 'আলাইকুমুল ইয়াওম - আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা মুক্ত, স্বাধীন।

মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে কীভাবে এই বিশাল পরিবর্তন রচিত হলো? মক্কার মেষ চরানো এক যুবক হয়ে গেলেন অসাধারণ এক নেতা, আরবের অধিপতি, সাহাবীদের কাঙ্ক্ষিত আশ্রয়। মৃত্যুর পরেও যাঁর ছায়া আমাদেরকে আগলে রেখেছে। কী ছিল সেই মহান পুরুষের যাত্রা, প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম? উত্তরগুলো পরবর্তী পর্বে সম্পূর্ণতা পাবে ইন শাআল্লাহ। দ্বিতীয় খণ্ডে থাকছে তাঁর জীবনের বাকি অংশের কাহিনি। রাসূলুল্লাহর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, আমীন!

[পরবর্তী খণ্ডে সমাপ্য, ইন শা আল্লাহ]

ফন্ট সাইজ
15px
17px