📄 বদর যুদ্ধের শিক্ষা
প্রথমত, বিজয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। বিজয়ের পর সাধারণত সৈন্যরা তাদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, সাহসিকতা নিয়ে গর্ববোধ করে। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়াজাল কখনোই মুসলিমদের বিজয়ের জন্য তাদের প্রশংসা করেননি।
"(আসলে) এ সংখ্যাটা (বলে) আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্যে একটি সুসংবাদ দিয়েছেন, (নতুবা বিজয়ের জন্য তো তিনি একাই যথেষ্ট, আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন) যেন এর ফলে তোমাদের মন (কিছুটা) প্রশান্ত (ও আশ্বস্ত) হতে পারে, আর সাহায্য ও বিজয়! সে তো পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে, তিনিই সর্বজ্ঞ।” (সূরা আল-ইমরান, ৩: ১২৬)
"(যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছে) তাদের তোমরা কেউই হত্যা করোনি, বরং আল্লাহ তাআলাই তাদের হত্যা করেছেন, আর তুমি যখন (তাদের প্রতি) তীর নিক্ষেপ করছিলে, (মূলত) তুমি নিক্ষেপ করোনি বরং করেছেন আল্লাহ তাআলা স্বয়ং।” (সূরা আনফাল, ৮: ১৭)
সুতরাং কৃতিত্ব কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য। আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের জন্য কঠিন কাজকে সহজ করে দেন। নিজ যোগ্যতায় মুসলিমরা বদরে বিজয়ী হয়নি, বরং আল্লাহ তাদেরকে বিজয়ী করেছেন। জীবনের যেকোনো অর্জন হোক তা ব্যবসাবাণিজ্য, শিক্ষাদীক্ষা কিংবা দাঈ হিসেবে সফলতা, শুধুমাত্র আল্লাহ তাওফীক্ব দেন বলেই তা সম্ভব হয়।
"স্মরণ করো, যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে কম, এই যমীনে তোমাদের মনে করা হতো তোমরা অত্যন্ত দুর্বল, তোমরা সর্বদাই এ ভয়ে থাকতে যে, কখন (অন্য) মানুষরা তোমাদের ওপর চড়াও হবে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন, নিজ সাহায্য দ্বারা তোমাদেরকে শক্তিশালী করেছেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র রিযক দান করেছেন। যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় করো।" (সূরা আনফাল, ৮: ২৬)
আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের তাদের আগের অবস্থা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, তারা ছিল সংখ্যায় কম, নিপীড়িত এবং ভীতসন্ত্রস্ত। কিন্তু আল্লাহ তাদের আশ্রয় দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন ও সবকিছুর যোগান দিয়েছেন। বদরে অনেকগুলো অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। যেমন:
# সৈন্যের সংখ্যা কম দেখা।
# যুদ্ধের আগে বৃষ্টি।
# যুদ্ধের আগের রাতে মুসলিমদের শান্তিপূর্ণ ঘুম।
# ফেরেশতাদের অবতরণ।
# উমাইয়্যা নিহত হওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর ভবিষ্যৎবাণী ফলে যাওয়া।
# উকাশাহ ইবন মিহযানের তরবারি যুদ্ধে ভেঙ্গে যায়, পরে রাসূলুল্লাহ একটি কাঠের গুড়িকে সত্যিকারের তরবারিতে পরিণত করেন।
# কাফির নেতৃবৃন্দের মৃত্যু - যুদ্ধের আগে রাসূলুল্লাহ্ বলে রেখেছিলেন, 'এই জায়গায় অমুক মারা যাবে। ওই জায়গায় তমুক মারা যাবে।' তিনি যেসব জায়গায় যাদের মৃত্যু হবে বলে দিয়েছিলেন, ঠিক সে সে জায়গায় তাদের মৃত্যু হয়।
# কাতাদা ইবনে নোমান যুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাঁর একটি চোখ কোটর থেকে বের হয়ে ঝুলতে থাকে। সাহাবারা সেটা কেটে ফেলতে উদ্যত হয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ্ তাঁদের তা করতে মানা করলেন। রাসূলুল্লাহ্ সেই ঝুলে থাকা চোখটি হাতে নিয়ে কোটরের ভিতর আবার বসিয়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। কাতাদা বলেন, 'ওই ঘটনার পর থেকে সেই চোখে আমি অন্য চোখ থেকেও ভালো দেখতে পেতাম।'
# আল-আব্বাসের অর্থ-সম্পদ কোথায় আছে সে ব্যাপারে রাসূলুল্লাহর ওয়াহী মারফত জেনে যাওয়া।
# ওয়াহাব ইবনে উমায়েরের গুপ্তহত্যার পরিকল্পনা প্রকাশ হয়ে যাওয়া।
বদরের যুদ্ধের এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল আল্লাহর ইচ্ছায়। প্রতিটি ঘটনাই অলৌকিক। কুরআন ছাড়াও রাসূলুল্লাহর জীবনে অনেক মু'জিযা ছিল। সেগুলো বেশিরভাগই ঘটেছিল জিহাদের সময়ে। আল্লাহ তাআলার বেশিরভাগ আউলিয়ার 'কারামত' ঘটে জিহাদের সময়ে।
দ্বিতীয়ত, বদরের যুদ্ধের সৈনিকরা ঈমানকে নিজের পরিবার অপেক্ষা প্রাধান্য দিয়েছিলেন। নিজ পরিবারের কাফির সদস্যদের চেয়ে তাঁরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মু'মিন ভাইদের বেশি আপন করে নিয়েছিলেন। তাঁরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি নিজের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করেছিলেন এবং কুফরির সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছিলেন।
বদর যুদ্ধে আবু বকর ছিলেন মুসলিমদের পক্ষে। তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান ছিল কুফফারদের পক্ষে। এই ঘটনার পরের কথা। আব্দুর রাহমান তাঁর বাবাকে বললেন, 'বাবা, আমি আপনাকে বদরের দিনে ময়দানে দেখেছিলাম। কিন্তু আমি আপনাকে এড়িয়ে গেছি, কারণ আমি আপনাকে আক্রমণ করতে চাইনি।' আবু বকর বললেন, 'সেদিন আমি তোমাকে দেখিনি, তবে যদি দেখতাম, আমি তোমার পিছু নিতাম এবং তোমাকে হত্যা করতাম।' আবু বকর নিজ ছেলের সাথে যুদ্ধ করতে দ্বিধাবোধ করেননি। ঈমানের মূল্য রক্তের সম্পর্ক থেকেও দামি। তাই তিনি নিজের ছেলেকে আল্লাহর জন্য হত্যা করতে চেয়েছিলেন।
'তার হাত ভালো করে বাঁধো, দড়ির বাঁধন শক্ত করো। তার মা বেশ ধনী। তিনি তার ছেলের মুক্তির জন্য মুক্তিপণ দেবেন।'
এ কথাগুলো বলেছিলেন মুসআব ইবনে উমাইর। তাঁর ভাই আবু আযীয ছিল কুরাইশদের পক্ষে। যুদ্ধে আবু আযীয বন্দী হয়, আনসাররা তাকে বেঁধে রেখেছিল। বন্দী আবু আযীযের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মুসআব আনসারদেরকে এই কথাগুলো বলেন। আবু আযীয অবাক হয়ে গেল এই ভেবে, কীভাবে একজন মানুষ তার ভাইকে শক্ত করে বাঁধা আর মুক্তিপণ চাওয়ার কথা বলতে পারে!
আবু আযীয বললো, 'ভাই! তুমি আমার সাথে এমন আচরণ করলে!' মুসআব বললেন, 'ভাই হিসেবে সে তোমার চেয়ে আমার বেশি আপন।' - তিনি ইঙ্গিত করলেন সেই আনসারের দিকে যে আবু আযীযকে ধরে রেখেছে, 'এরাই হলো আমার সত্যিকারের ভাই, তুমি নও। ইসলামের কারণে আজকে এরা আমার ভাই। যদিও তুমি আমার রক্তের ভাই কিন্তু তোমার কুফরি আমাদের মাঝে ব্যবধান সৃষ্টি করেছে।'
কুরাইশদের মধ্যে কিছু তরুণ ইসলামের প্রতি আগ্রহী হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ কুরাইশদের বিখ্যাত পরিবারের সন্তান। আল্লাহ তাআলা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো জানতেন। সাধারণত তরুণরা একটু অন্যরকম হতে পছন্দ করে। প্রায়ই তারা প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে যেতে চায়। এদের মধ্যে ছিল আলী ইবন উমাইয়া ইবন খালাফ, আবুল কায়েস ইবন আল-ওয়ালিদ ইবন মুঘিরা, আবু কায়েস ইবন ফাকিহ, আল-হারিস ইবন জামা'আ, এবং আল-আউস ইবন মুন্নাব্বিহ – এরা সকলেই ছিল ধনী কুরাইশ পরিবারের সন্তান। তারা মুসলিম হয়েছিল, কিন্তু ইসলামের জন্য কোনো প্রকার ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করতে রাজি ছিল না। তাই তারা মক্কায় রয়ে যায়, মদিনায় হিজরত করেনি। এরা ছিল বিগড়ে যাওয়া তরুণ। আল্লাহর পক্ষ থেকে হিজরতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তারা হিজরত করেনি। বলা চলে তারা হিজরতের 'ঝামেলায়' যেতে রাজি হয়নি। শুধু তাই নয়, তারা তাদের বাপ ও তাদের গোত্রদের সাথে বদরের যুদ্ধে অংশ নেয়।
ইবনে হিশাম বলেন, 'তারা সকলেই বদরের যুদ্ধে নিহত হয়।' এরা সকলে কিন্তু মুসলিম ছিল। হয়তো তারা যুদ্ধে অংশ নিতে চায়নি, কিন্তু তাদের পরিণতি ছিল অবমাননাকর মৃত্যু।
ইসলাম মানে কেবল কালিমা পাঠ নয়, ইসলামের সাথে জড়িয়ে আছে ত্যাগ স্বীকার। নামকাওয়াস্তে মুসলিমের সাথে সত্যিকারের মুসলিমদের পার্থক্য এই যে, সত্যিকারের মুসলিমরা ইসলামের খাতিরে ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকে। এই মুসলিমরা, যারা বদরের যুদ্ধে কাফিরদের সাথে এসেছিল, হয়তো তারা নিতান্ত অনিচ্ছার সাথে যুদ্ধে এসেছিল, হয়তো তারা মুসলিমদের লক্ষ্য করে একটি তীরও ছোঁড়েনি, তরবারি চালায়নি। কিন্তু এদের ব্যাপারে আল্লাহ কী বলেছেন?
"নিশ্চয় যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছিল, ফেরেশতারা তাদের জান কবজ করার সময় বলে, তোমরা কী অবস্থায় ছিলে? তারা বলে, এ ভূখণ্ডে আমরা অসহায় ছিলাম। ফেরেশতারা বলে, আল্লাহর জমিন কি প্রশস্ত ছিল না যে, তোমরা তাতে হিজরত করতে? সুতরাং এদের বাসস্থান হলো জাহান্নাম, কতো নিকৃষ্ট সে আবাস।” (সূরা আন-নিসা, ৪:৯৭)
ইসলাম অবহেলা বা হেলাফেলা করার দ্বীন নয়। ঠেলেঠুলে ইসলাম পালন করলে এর কোনো মূল্য ইসলামে নেই। ইসলাম গুরুত্বের সাথে নেওয়ার দ্বীন। এটা পার্ট-টাইম চাকরির মতো নয়, কিংবা এমন নয় যে যখন খুশি করলাম আর মন-না-চাইলে ছেড়ে দিলাম। এই ধরনের ধর্মকর্মের স্থান ইসলামে নেই। আল্লাহ আযযা ওয়াজাল যে জান্নাতের অঙ্গীকার দিয়েছেন, সে জান্নাতের জন্য কষ্ট করতে হবে।
ইবনে আব্বাস এ আয়াতের ব্যাপারে মন্তব্য করেছেন, 'মুশরিকদের সংখ্যাবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তাদের সাথে কিছু মুসলিম বদরে যোগ দিয়েছিল। তাদের কেউ নিহত হয়েছে মুসলিমদের ছোঁড়া তীরে, কেউ নিহত হয়েছে মুসলিমদের তরবারিতে, তাই আল্লাহ সূরা নিসার এই আয়াতটি নাযিল করেছেন।'
এই আয়াতে মক্কায় পড়ে থাকা এইসব নামকা ওয়াস্তে মুসলিমদের কথাই বলা হয়েছে। তাদের ইসলাম তাদের কোনো কাজে আসেনি। মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভাগ্যে জুটেছে জাহান্নামের আগুন। কেননা তারা হিজরত করেনি।
তৃতীয়ত, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া। রাসূলুল্লাহ সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করেছিলেন, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দান করেছিলেন। যুদ্ধের জন্য সবচেয়ে ভালো স্থানটি নির্বাচন করেছিলেন, তাদেরকে সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড় করিয়েছিলেন। এই সবকিছুর পর তিনি তাঁবুর ভেতরে গিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করলেন। এটাই হলো তাওয়াক্কুল। তাওয়াক্কুলের অর্থ হলো দুনিয়াবী সকল উপায়ে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জালের উপর ভরসা করা। রাসূলুল্লাহ তাঁর সাধ্যমতো সবধরনের প্রস্তুতিই নিয়েছিলেন। এরপর তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জালের কাছে দুআ করা আরম্ভ করেছিলেন।
একবার কিছু লোক অলসভাবে হাঁটছিল আর এমন ভাব করছিল যেন তারা যুহদ করছে। উমার ইবন খাত্তাব জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কারা?' তারা বললো, 'আমরা মুতাওয়াক্কিলুন।' আল্লাহর উপর যারা তাওয়াক্কুল করে তাদের বলা হয় মুতাওয়াক্কিলুন। উমার এগিয়ে গিয়ে তাদেরকে লাঠি দিয়ে পিটুনি দিয়ে বললেন, 'তোমরা কি জানো না যে, আকাশ থেকে স্বর্ণ ও রুপার বৃষ্টি বর্ষণ হয় না? যাও, তোমরা কাজ করে খেতে শেখ।'
রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'যদি তোমরা আল্লাহর উপর সঠিক ভাবে তাওয়াক্কুল কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের পাখির মতো রিযিক প্রদান করবেন। তারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং বিকেলে ভরপেটে বাড়ি ফিরে।' পাখিরা বাসায় বসে থাকে না। তারা কাজ করতে বেরিয়ে যায় আর খাবার খুঁজে নেয়। তাই তাওয়াক্কুলের মধ্যে সাধ্যমতো চেষ্টা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। কেউ চেষ্টা না করে এই দাবি করতে পারবে না আমি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করেছি। যদিও চেষ্টাই সবকিছু নয়, চেষ্টার উপর ভরসা করা যাবে না। নিজের বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা অথবা দুনিয়ার কোনো কিছুর উপর নির্ভর করা চলবে না, ভরসা ও নির্ভরতা কেবল আল্লাহর উপর। তাই শুধু নিজের প্রচেষ্টার উপর নির্ভর করা কিংবা চেষ্টা না করে শুধু দুআ করা- দুটিই প্রান্তিকতা এবং বর্জনীয়। চেষ্টা এবং তাওয়াক্কুল – দুটিই একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
📄 ছয় বছর পর
রাসূল মক্কায় প্রবেশ করছেন বিজয়ী হয়ে। তাঁকে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে না, জাতীয় সঙ্গীত বাজছে না, নেই কোনো লাল গালিচা, আর তাঁর মাঝেও নেই কোনো অহংকারের ছাপ। তিনি বুক উঁচু করে, অবনত মস্তকে, আল্লাহর প্রতি বিনম্র চিত্তে সেখানে প্রবেশ করছেন। তিনি উটের পিঠে, ঢোকার সময় তিনি আল্লাহর কাছে সাজদারত, তিনি এতটাই নীচু হয়ে আছেন যে তাঁর দাড়ি উটের সাথে লেগে আছে। তাঁর মধ্যে ঔদ্ধত্য নেই, আছে নম্রতা, নেই উত্তেজনা, আছে সাকিনাহ, প্রশান্তি।
এভাবেই কাবাঘরের সামনে দাঁড়ালেন। তাঁর চারিদিক ঘিরে অসংখ্য মানুষ। মক্কার জনতার চোখেমুখে বিস্ময়, ভয়, কৌতূহল! তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে একটি মানুষের সিদ্ধান্তের উপর – সেই মুহাম্মাদ, যাকে তারা অপমান করেছে, দিনের পর দিন অভুক্ত রেখেছে, দেশছাড়া করে ছেড়েছে- আজ তিনিই বীরের বেশে নেতা হয়ে ফিরে এসেছেন নিজের ঘরে। কুরাইশের লোকেরা আজ তাঁর তরবারীর নীচে।
রাসূলুল্লাহ তাদের জিজ্ঞেস করলেন,
-তোমাদের কী ধারণা? আজ তোমাদের সাথে আমি কেমন ব্যবহার করবো?
- আপনার কাছ থেকে এক মহৎ ভাইয়ের মতো আচরণ আশা করি।
রাসূল বললেন, আমি তোমাদের সেটাই বলব যা ইউসুফ তাঁর ভাইদের বলেছিলেন, লা তাসরীবা 'আলাইকুমুল ইয়াওম - আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা মুক্ত, স্বাধীন।
মাত্র ছয় বছরের ব্যবধানে কীভাবে এই বিশাল পরিবর্তন রচিত হলো? মক্কার মেষ চরানো এক যুবক হয়ে গেলেন অসাধারণ এক নেতা, আরবের অধিপতি, সাহাবীদের কাঙ্ক্ষিত আশ্রয়। মৃত্যুর পরেও যাঁর ছায়া আমাদেরকে আগলে রেখেছে। কী ছিল সেই মহান পুরুষের যাত্রা, প্রতিকূলতা ও সংগ্রাম? উত্তরগুলো পরবর্তী পর্বে সম্পূর্ণতা পাবে ইন শাআল্লাহ। দ্বিতীয় খণ্ডে থাকছে তাঁর জীবনের বাকি অংশের কাহিনি। রাসূলুল্লাহর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক, আমীন!
[পরবর্তী খণ্ডে সমাপ্য, ইন শা আল্লাহ]