📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 শোক পালনে নিষেধাজ্ঞা

📄 শোক পালনে নিষেধাজ্ঞা


মুসলিমদের বিজয়ের উল্লাসে ভাটা দিতে কুরাইশরা আইন জারি করলো পরাজয়ের দুঃখে মক্কায় কেউ প্রকাশ্যে কান্নাকাটি করতে পারবে না। কারো স্বজন হারানোর দুঃখে বিলাপ করতে পারবে না। তারা মুক্তিপণের বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করতেও সবাইকে নিষেধ করে দেয়, যেন মুক্তিপণের মূল্য বাড়িয়ে দেওয়া না হয়। ইবনে কাসির এ ব্যাপারে মন্তব্য করেন, 'আমি মনে করি, যারা মরেছে তারা তো শাস্তি পেয়েছেই, উপরন্তু যারা জীবিত ছিল তাদেরও আল্লাহ শাস্তি দিলেন কাঁদতে না দেওয়ার মাধ্যমে। কেননা কান্না বেদনার্ত অন্তরকে শান্ত করে।' অর্থাৎ বিলাপের এই নিষেধাজ্ঞা জীবিত কুরাইশদের জন্য এক প্রকার শাস্তি হিসেবে কাজ করে।

এরপর ইবনে কাসির বলেন যে, ইবন ইসহাক বলেছেন, 'মক্কার আল আসওয়াদ ইবনে আবদুল মুত্তালিব বদরের যুদ্ধে তার তিন পুত্রকে হারায়। এই লোকটি ছিল অন্ধ এবং বৃদ্ধ। তিন পুত্রকে হারিয়ে সে প্রবল শোকাহত। কিন্তু এই মানুষটিকেও ছেলের মৃত্যুতে কাঁদার অনুমতি দেওয়া হয়নি। একরাতে এক মহিলার কান্নার আওয়াজ শুনে সে বললো, 'যাও খোঁজ নিয়ে আসো কাঁদার উপর নিষেধাজ্ঞা এখনো আছে কি না। কুরাইশরা কি তাদের নিহত স্বজনদের জন্য কাঁদবে না? তাহলে আমি আমার বড় ছেলে আবু হাকিমের জন্য কাঁদতাম, কষ্টে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।' খোঁজ নিয়ে জানা গেল সেই মহিলা তার উট হারানোর দুঃখে কাঁদছে। এরপর আল আসওয়াদ কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলো,
মহিলা কাঁদছে হায় উট হারালো তাই,
উটের শোকে তার বুঝি চোখে ঘুম নাই।
উটের জন্য কাঁদিসনে যদিও তা হারিয়েছে,
বদরের কথা ভেবে কাঁদ, ওরে কপাল পুড়েছে।

এই বৃদ্ধ লোকটি তার তিন সন্তানদের জন্য কাঁদারও অনুমতি পায়নি কারণ কাফিররা চাচ্ছিল না মুসলিমরা জানুক যে কাফিররা দুঃখ করছে। তারা ভাব ধরছিল যে তারা নিহত স্বজন বা মুক্তিপণ বা বন্দীদের ব্যাপারে কোনো পরোয়াই করছে না।

টিকাঃ
১১৪. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৩৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px