📄 মুসলিমদের শুরা
কুরাইশদের যুদ্ধে বের হওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তাদের কাফেলা ইতোমধ্যেই নিরাপদ অবস্থানে পৌঁছে যায়, কিন্তু তবু তারা নিজেদের ঔদ্ধত্য আর অহংকার প্রকাশের জন্য বের হয়েছিল। তারা তাদের শক্তি সামর্থ্য নিয়ে দম্ভ করছিল। রাসূল বুঝতে পারলেন যে, কাফেলাটি অন্যদিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে কিন্তু কুরাইশরা ব্যাপক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি ভেবেছিলেন তাদেরকে কাফেলার ৪০ জনের সাথে মোকাবেলা করতে হবে কিন্তু পরিস্থিতি এমন দাঁড়ালো যে, ১০০০ জনের বিশাল বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ শূরা ডাকলেন আর সাহাবাদের জিজ্ঞেস করলেন তাঁরা এ ব্যাপারে কে কী ভাবছেন। আবু বকর দাঁড়িয়ে কিছু কথা বললেন, উমারও একই কথা বললেন। এরপর দাঁড়ালেন মিকদাদ ইবন আসওয়াদ, তিনি বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ, আল্লাহ আযযা ওয়াজাল আপনাকে যে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন আপনি তার জন্য অগ্রসর হোন। বনী ইসরাঈল তাদের নবী মূসাকে বলেছিল, মূসা, তুমি তোমার রবকে নিয়ে গিয়ে যুদ্ধ করো, আমরা এখান থেকে নড়ছি না। কিন্তু আমরা আপনাকে কখনোই এমন কথা বলব না। আমরা যুদ্ধ করবো আপনার সামনে থেকে, আপনার পেছন থেকে, আপনার ডানে দাঁড়িয়ে এবং আপনার বামে দাঁড়িয়ে। আপনি আপনার রবকে নিয়ে যুদ্ধে অগ্রসর হোন, আমরাও আপনার সাথে আছি।
একথা শুনে আল্লাহর রাসূলের মুখ উজ্জ্বল হয়ে গেল। তিনি উৎসাহের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দিলেন। মিকদাদের এই কথাগুলো ছিল সাহাবাদের জন্য প্রেরণা। কিন্তু সবাই এ যুদ্ধে অংশ নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। কারণ তাঁরা মদীনা থেকে বের হয়েছিলেন কাফেলা আক্রমণ করতে, বিশাল বাহিনীর সাথে লড়বার জন্য নয়। তাদের এই মনের কথা তাঁরা গোপন রাখলেও, আল্লাহ তা কুরআনে প্রকাশ করে দেন। কুরআনে এই যুদ্ধের কথা বর্ণিত হয়েছে। যুদ্ধের কথা বর্ণিত হয় ইতিহাসগ্রন্থেও। কিন্তু পার্থক্য হলো এই যে, একজন ইতিহাসবেত্তা শুধু তা-ই লেখেন যা তিনি উপলব্ধি করছেন, বাইরে থেকে দেখছেন। কিন্তু কার মনে কী আছে তা তিনি জানেন না। কিন্তু আল্লাহ তা জানেন, তাই বদরের যুদ্ধের প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
“যেমন করে আপনাকে আপনার রব ঘর থেকে বের করেছেন ন্যায় ও সৎকাজের জন্য, অথচ ঈমানদারদের একটি দল (তাতে) সম্মত ছিল না।” (সূরা আনফাল, ৮:৫)
কিছু কিছু সাহাবী এই যুদ্ধে অংশ নিতে ইচ্ছুক ছিলেন না, কিন্তু তাঁরা ছিলেন মু'মিন। তাঁরাই ছিলেন সে সময়ের সেরা মুসলিমদের একেকজন। যুদ্ধ স্বাভাবিকভাবেই একটি অপছন্দনীয় বিষয়। আর মুসলিম বাহিনী হিসাবে এটিই ছিল প্রথম।
"তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।” (সূরা বাক্বারাহ, ২: ২১৬)
আল্লাহ আযযা ওয়াজাল এরপর বলেন,
"তারা আপনার সাথে বিতর্ক করছে সত্য ও ন্যায় বিষয়ে, তা প্রকাশিত হওয়ার পর। যেন তাদেরকে মৃত্যুর দিকে হাঁকিয়ে নেয়া হচ্ছে, আর তারা তা দেখছে। স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে দু'টি দলের মধ্য হতে একটি সম্বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ওটা তোমাদের করতলগত হবে। তোমরা এই আশা ছিল যেন নিরস্ত্র দলটি তোমাদের আয়ত্তে এসে পড়ে। অথচ আল্লাহ চাচ্ছিলেন তাঁর 'কথা' দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং কাফেরদের মূল কেটে দেবেন যাতে করে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে দেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে।” (সূরা আনফাল, ৮:৬-৮)
আল্লাহ মুসলিমদের মনের কথা জানিয়ে দিচ্ছেন, 'আর তোমরা চাইছিলে যে কণ্টকহীন, বাধা বিপত্তিহীন কাফেলাটি যেন তোমাদের ভাগে আসে'। অর্থাৎ, লোকেরা কাফেলা চেয়েছিল। সেটা আক্রমণ করা ছিল তুলনামূলক সহজ, সেটিতে মুহাজিরদের অর্থ ছিল। এটাই ছিল তাদের পরিকল্পনা।
কিন্তু আল্লাহরও পরিকল্পনা ছিল, আর আল্লাহর পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়। মুসলিমরা চেয়েছিল নিছক কাফেলা আক্রমণ করে সম্পদ নিয়ে যেতে, তারা বড় কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায়নি। কিন্তু আল্লাহ চাননি এই যুদ্ধ হোক নিছক মুহাজিরদের সম্পদ ফিরে পাওয়ার যুদ্ধ, তিনি চেয়েছেন আরো বড় কিছু। তিনি চেয়েছেন এই যুদ্ধে হক ও বাতিলের আদর্শ মুখোমুখি হোক আর তিনি হক্ককে জয়ী করেন এবং মিথ্যাকে পরাজিত করেন। তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে বদলে দেন যে, মুসলিমদের এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। আর একারণে এই দিনকে বলা হয় ফুরক্বানের দিন বা সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী দিন।
টিকাঃ
৯৮. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৬১।
📄 গোপন তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ
রাসূলুল্লাহ কুরাইশ বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করে যাচ্ছিলেন। বদরের কাছাকাছি তিনি তাঁর এক সাহাবির সাথে থামলেন। ইবনে হিশাম বলেছেন, এই সাহাবি ছিলেন আবু বকর। তাঁরা এক বৃদ্ধ বেদুইনকে থামিয়ে তার কাছে কুরাইশ এবং মুহাম্মাদ ও তাঁর সঙ্গীদের সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইলেন। বুড়ো লোকটি বললো,
- আপনারা নিজেদের পরিচয় না দেওয়ার আগে আমি কিছুই বলবো না।
- আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি যদি আমাদেরকে তথ্য দেন তাহলে আমরা কারা সেটা আপনাকে বলবো, রাসূলুল্লাহ বললেন।
- আচ্ছা আমি তথ্য দিলে তোমরাও দেবে, তাই তো?
- হ্যাঁ।
- আমি শুনেছি, মুহাম্মাদ এবং তাঁর সাহাবিরা অমুক দিন বের হয়েছে। যদি তা সত্য হয় তবে আজ তাদের অমুক জায়গায় থাকার কথা, (বৃদ্ধ ঠিক ঠিক সে জায়গার কথাই বললো, যেখানে রাসূলুল্লাহ এবং তাঁর সাহাবিরা অবস্থান করছিলেন) আর আমি শুনেছি কুরাইশরা অমুক দিন বের হয়েছে। আর এটি যদি সত্য হয়, তবে তাদের আজকে অমুক জায়গায় থাকার কথা। এবার তোমরা বলো তোমরা কোথা থেকে এসেছ।
- আমরা 'মা' থেকে এসেছি।'
এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ সেখান থেকে চলে আসছিলেন আর বৃদ্ধ লোকটি জিজ্ঞেস করছিলো 'মা থেকে মানে কী? এটা কি ইরাকের পানি থেকে?' কিন্তু রাসূলুল্লাহ কোনো উত্তর না দিয়ে হেঁটে চলে যাচ্ছিলেন যেন লোকটি আর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না পায়। আসলে রাসূলুল্লাহ বলতে চেয়েছিলেন 'আমরা মা অর্থাৎ পানি থেকে এসেছি।' কারণ আল্লাহ আযযা ওয়াজাল কুরআনে বলেন 'মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে পানি থেকে'। কথার কৌশলে আল্লাহর রাসূল বুড়ো লোকটিকে এড়িয়ে গেলেন এবং তাকে কোনো তথ্য দিলেন না।
মুহাম্মাদ কুরাইশদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়ে গেলেন। এই বৃদ্ধ লোকটির তথ্য বেশ নির্ভরযোগ্য ছিল, কারণ সে মুহাম্মাদ আর তাঁর সাহাবিদের অবস্থান সঠিকভাবে আন্দাজ করেছিল। রাসূলুল্লাহ সাহাবিদের কাছে ফিরে গেলেন। তিনি কুরাইশদের সম্পর্কে আরো খবর আনতে আলী ইবনে আবি তালিব, আয যুবাইর এবং সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সাথে কিছু সাহাবিদের পাঠালেন। তাঁরা কুরাইশদের বাহিনীর এক ক্রীতদাসকে দেখতে পেয়ে আটক করে নিয়ে আসেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কাদের লোক?' সে বললো 'আমি কুরাইশ বাহিনীর লোক।' সাহাবারা তাকে প্রহার করে আবু সুফিয়ানের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলেন। কিন্তু সেই ক্রীতদাসটি আবু সুফিয়ান কোথায় আছে তা জানতো না। সাহাবারা তারপর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি আর কাদের সম্পর্কে জানো?' সে বললো, 'আমি আবু জাহেল, আবু উমাইয়্যা ইবন খালাফ, উতবা ইবন রাবিয়া এবং কুরাইশ বাহিনীর বিখ্যাত লোকদের সম্পর্কে জানি।' কিন্তু তাঁরা তাকে আবু সুফিয়ান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য মারতে শুরু করলেন। এরপর সে বললো, 'ঠিক আছে আমি বলছি আবু সুফিয়ান কোথায়।' এ কথা বলার পর সাহাবারা তাকে প্রহার করা বন্ধ করলেন। তখন সে বললো, 'আমি জানি না আবু সুফিয়ান কোথায়।' রাসূলুল্লাহ তখন সালাত শেষ করে বললেন, 'যখন সে সত্য বলেছিল তখন তোমরা তাকে প্রহার করেছো, আর যখন মিথ্যা বলেছে তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছ।' এরপর রাসূলুল্লাহ নিজেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন।
- আচ্ছা, কুরাইশদের লোকবল কেমন?
- অনেক হবে।
- তাদের সংখ্যা কতো?
- ঠিক বলতে পারছি না।
- আচ্ছা, তারা প্রতিদিন কয়টি উট জবাই করে তা জানো?
- তারা একদিন ১০টি উট জবাই করে আর পরের দিন জবাই করে ৯টি।
- হুম, তাহলে তাদের সংখ্যা ৯০০ থেকে ১০০০ জন।
টিকাঃ
৯৯. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৬৬।
📄 দুই বাহিনীর পরিসংখ্যান
বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের সঠিক সংখ্যা ছিল ৯৫০ জন। রাসূলুল্লাহর হিসাব প্রায় ঠিক ছিল। মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল ৩০০ জনের একটু বেশি, অর্থাৎ মুসলিমরা ছিল কুরাইশদের ৩ ভাগের ১ ভাগ। তাদের মধ্যে ৮৬ জন ছিলেন মুহাজির, ৬১ জন ছিলেন আল আওস গোত্রের আর ১৭০ জন ছিলেন আল খাযরাজের। আল আউস গোত্রের বাসস্থান ছিল মদীনার উপরিভাগে। আর রাসূলুল্লাহ সেনা সংগ্রহ করার সময় বলেছিলেন, যাদের বাহন প্রস্তুত আছে শুধু তাঁরা সেনাদলে যোগদান করতে পারবে। তাই আল আউস গোত্রের লোকেরা একটু দূরে বসবাস করায় তাদের অল্পসংখ্যক লোক এই যুদ্ধে যোগদান করতে পেরেছে।
বুখারি থেকে বর্ণিত, আল বারা ইবন আযিব বর্ণনা করেন, 'আমরা, রাসূলুল্লাহর সাহাবারা যখন বদরের কথা আলোচনা করতাম, তখন আমরা বলতাম – বদরে অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের সংখ্যা আর তালুতের যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুজাহিদ, যারা নদীর পানিপান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে পেরেছিল তাদের সংখ্যা সমান। আর যারা এতে সফল হয়েছিল তাঁরা ছিল মু'মিন, তাঁরা ৩১০ জনের একটু বেশি ছিল।'
বদরের মুসলিম আর বনী ইসরাইলদের যারা তালুতের সাথে অংশগ্রহণ করেছিল তাদের মধ্যে একটা মিল ছিল। আল বারা এখানে যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা হলো, বনী ইসরাঈলের যেসব মু'মিন তালুতের সাথে যুদ্ধে যোগদান করেছিল তারাই ছিল তাদের যুগে সেরা। আর বদরে যেসব মু'মিন যুদ্ধ করেছিলেন তাঁরা ছিলেন তাদের যুগের সেরা। তাঁরা দুনিয়াবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তাই তাঁরাই ছিলেন যুগশ্রেষ্ঠ।
এই যুদ্ধে মুসলিমদের ছিল নিজস্ব ব্যানার, পতাকা, স্লোগান আর রণধ্বনি। যুদ্ধে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ধরে রাখাই ছিল এসবের উদ্দেশ্য। বদরের যুদ্ধের ব্যানার ছিল সাদা। এটি ছিল মুসআব ইবনে উমাইরের হাতে। রাসূলুল্লাহ দুটি কালো পতাকা বহন করিয়েছিলেন; একটির নাম ছিল আল উকবা, এটি ছিল আলী ইবনে আবি তালিবের হাতে এবং অপর কালো পতাকাটি আনসারদের একজনের হাতে দেওয়া হয়েছিল।
পুরো বাহিনীর মাত্র ২টি ঘোড়া ছিল। একটি ছিল যুবাইরের আর অন্যটি আল মিকদাদ ইবন আসওয়াদের হাতে। মুসলিমদের উট ছিল ৭০টি; প্রতিটি উট ৩ জনকে পালাক্রমে ভাগাভাগি করে চড়তে হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ নিজের উটটি আলী ইবনে আবি তালিব এবং মারসাদ ইবনে মারসাদ আল ঘানাওয়ীর সাথে ভাগাভাগি করেছিলেন।
📄 রণক্ষেত্রে অবস্থান
যুদ্ধের ময়দানে আল্লাহর রাসূল দাঁড়িয়ে। তিনি ভাবছেন কোন অবস্থানে থেকে যুদ্ধ করলে কৌশলগত সুবিধা হবে। তিনি ভেবেচিন্তে একটি অবস্থান নির্বাচন করলেন। তখন একজন আনসারী সাহাবি, আল হাব্বাব ইবন আল মুনযির রাসূলুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, 'রাসূলুল্লাহ, আল্লাহ কি আপনাকে ওয়াহীর মাধ্যমে এই জায়গা নির্ধারণ করতে আদেশ দিয়েছেন নাকি আপনি কৌশলগত কারণে জায়গাটি পছন্দ করেছেন?
আল হাব্বাবের প্রশ্নের ধরনটি লক্ষণীয়। তিনি জানতে চাইছেন সেই নির্দিষ্ট জায়গাটি পছন্দ করার কারণ কী। যদি এটি আল্লাহর তরফ থেকে ওয়াহী হয়, তাহলে আল হাব্বাব তা নির্দ্বিধায় মেনে নিতেন, কিন্তু যদি যুদ্ধের কোনো কৌশল হয় তাহলে তাঁর কিছু বলার আছে। রাসূলুল্লাহ তাঁকে বললেন, 'না, এটা ওয়াহী নয়, এটা নিছক যুদ্ধের কৌশল। আল মুনযির তখন প্রস্তাব করলেন যে, তাদের উচিত বদরের কুয়া পর্যন্ত পৌঁছানো এবং কুয়াকে পেছনে রেখে একটি জলাধার তৈরি করে কুয়ার সামনে অবস্থান নেওয়া। তিনি এর পেছনে যুক্তিও দেখালেন। মুসলিমরা যদি এই অবস্থানে থাকে তাহলে কুরাইশরা পানির নাগাল পাবে না কিন্তু মুসলিমদের দখলে প্রচুর পানি থাকবে। রাসূলুল্লাহ তাঁর এই প্রস্তাব খুবই পছন্দ করলেন এবং সে অনুযায়ী যুদ্ধের অবস্থান বেছে নিলেন।