📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 মদীনার অর্থনৈতিক উন্নয়ন

📄 মদীনার অর্থনৈতিক উন্নয়ন


নবগঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য রাসূলুল্লাহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেন। তিনি মসজিদ-উল-হারামের পাশের একটি জায়গাকে মদীনার বাজার হিসেবে নির্ধারণ করলেন। এটি ছিল মদীনার কেন্দ্রীয় বাজার। এ বাজারকে তিনি করমুক্ত বাজার হিসেবে ঘোষণা করেন। একবার হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেল সাহাবারা নবীজির কাছে আসেন। ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন আনাস ইবন মালিক।

লোকজন এসে রাসূলুল্লাহকে বললো, 'হে আল্লাহর রাসূল, জিনিসপত্রের দাম খুব বেড়ে গেছে, তাই আপনি আমাদের জন্য জিনিসপত্রের দাম স্থির করে দিন।' এরপর রাসূলুল্লাহ বলেন, 'একমাত্র আল্লাহ তাআলাই দাম নির্ধারণের মালিক, তিনিই দাম কমান, তিনিই দাম বাড়ান। আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করতে চাই যে আমার উপর কারো জুলুমের কোনো অভিযোগ থাকবে না।'

দ্রব্যমূল্যের ব্যাপারে ইসলামের মূলনীতি হলো: রিযিকের মালিক হলেন আল্লাহ আযযা ওয়াজাল। দ্রব্যের দাম উৎপাদন ও চাহিদার সাথে সাথে পরিবর্তিত হবে এবং এই পরিবর্তন আল্লাহ তাআলার হাতে। তিনিই সবকিছুর মূল্য নির্ধারণ করে দেন, তাই রাসূলুল্লাহ এ ব্যাপারে হাত দেননি। এ থেকে বোঝা যায় ইসলামি অর্থনীতি ব্যবসার ক্ষেত্রে স্বাধীন ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করে, বেচাকেনায় দামের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে না। তবে কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে বা মজুতদারির মাধ্যমে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইসলামের কঠোর বিধিনিষেধ আছে এবং সে সংক্রান্ত বাজার পর্যবেক্ষণ নীতিমালাও রয়েছে।

টিকাঃ
৮৩. আবু দাউদ, অধ্যায় ইজারাহ, হাদীস ৩৬।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 আ'ইশার ؓ সাথে বিয়ে

📄 আ'ইশার ؓ সাথে বিয়ে


রাসূলুল্লাহ আ'ইশার সাথে সংসার শুরু করেন হিজরতের পর, সেটা হিজরতের প্রথম বা দ্বিতীয় বছরের ঘটনা, যদিও তাদের বিয়ে হয়েছিল মাক্কী জীবনের শেষের দিকে যখন আ'ইশার বয়স ছিল ছয় বছর। মদীনায় আসার পরে তাঁকে রাসূলুল্লাহর ঘরে তুলে আনা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর।

রাসূলুল্লাহ যখন আ'ইশাকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৫৪ বছর, কিন্তু আজও তিনি আসলে যেন যুবক! আমরা হাদীস থেকে জানতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ আ'ইশার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন। বয়স রাসূলুল্লাহকে বেঁধে রাখতে পারেনি, তিনি তাঁর স্ত্রী আ'ইশার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন! যেমন, একদিন তাঁরা দু'জন সফরে বের হয়েছিলেন, আ'ইশা সেদিনের কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে,

'আমি তাঁর সঙ্গে দৌড়ে পাল্লা দিলাম এবং জিতে গেলাম! কিন্তু পরে যখন আমি কিছুটা মোটা হয়ে গেলাম, তখন আবার তাঁর সাথে দৌড়ে অংশ নিলাম কিন্তু এবার তিনি আমাকে দৌড়ে হারিয়ে দেন। আর তখন তিনি বললেন, এটা হলো পূর্বের হারের বদলা!' অর্থাৎ আগেরবার আ'ইশা জিতেছিলেন, আর পরেরবার জিতলেন রাসূলুল্লাহ। রাসূলুল্লাহ বেশ স্বাস্থ্যবান ও কর্মঠ ছিলেন আর আল্লাহ তাআলার রাসূল হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর এরকম শারীরিক দক্ষতার দরকার ছিল।

রাসূলুল্লাহ যখন রাবিআ গোত্রের প্রতিনিধিদলের সাথে দেখা করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৫০ বছর। কিন্তু রাবিআ গোত্রের নেতা তার গোত্রের লোকদের কাছে রাসূলুল্লাহকে 'যুবক' হিসেবে উল্লেখ করেন। রাসূলুল্লাহ ছিলেন খুবই প্রাণবন্ত এবং উদ্যমী একজন মানুষ। তাই তাঁকে দেখে তরুণ মনে হতো। এছাড়াও আনাস ইবন মালিকের বর্ণিত হিজরতের কাহিনিতেও রাসূলুল্লাহ কেমন ছিলেন তা বোঝা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, 'যখন রাসূলুল্লাহ ও আবু বকর মরুভূমির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন তখন লোকজন আবু বকরকে চিনতে পারলেও রাসূলুল্লাহকে চিনতে পারেনি কারণ রাসূলুল্লাহকে দেখতে যুবকদের মতো লাগতো আর সেটা তারা ধারণা করেনি।' আনাস তাঁর সেই বর্ণনায় আবু বকরকে 'বয়স্ক ব্যক্তি' আর রাসূলুল্লাহকে উল্লেখ করেছেন 'যুবক' হিসেবে। এ সম্পর্কে ইবন হাজার আল- আসকালানি মন্তব্য করেছেন যে, আবু বকরের বয়স যেমন তেমনই লাগতো, বড় বা ছোট মনে হতো না। অন্যদিকে, রাসূলুল্লাহ আবু বকরের চেয়ে দুই বছরের বড় ছিলেন কিন্তু তারপরও তাঁকে দেখতে অপেক্ষাকৃত কম বয়স্ক মনে হতো।

টিকাঃ
৮৪. আবু দাউদ, অধ্যায় জিহাদ, হাদীস ১০২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px