📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 কিবলার পরিবর্তন

📄 কিবলার পরিবর্তন


রাসূলুল্লাহর মদীনায় হিজরতের ১৪ মাস পরে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটে। তা হলো কিবলার পরিবর্তন। মক্কাতে থাককালীন সময়ে ক্বিবলা ছিল জেরুসালেম বরাবর; কিন্তু তখন কিবলা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি, কারণ মক্কায় থাককালীন তিনি জেরুসালেম ও কাবা উভয়কে সামনে রেখে সালাত আদায় করতেন। এভাবে তিনি জেরুসালেম ও কাবা – উভয়য়ের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতে পারতেন। কিন্তু মদীনায় হিজরতের পর দেখা গেল যে, সেখান থেকে মক্কা ও জেরুসালেমের অবস্থান পরস্পরের বিপরীত। রাসূলুল্লাহ কাবা বরাবর সালাত আদায় করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তিনি আল্লাহকে জিজ্ঞেস করার সাহস পাননি। এরপর আল্লাহ আযযা ওয়াজাল ইবরাহীমের ক্বিবলা অর্থাৎ কাবাকে মুসলিমদের কিবলা বানানোর নির্দেশ দিয়ে আয়াত নাযিল করলেন। এ আয়াতটি মদীনাতে অবতীর্ণ হয়েছিল। এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ নতুন কিবলা বরাবর সালাত আদায় করলেন। এরই মধ্যে একজন সাহাবী মদীনার কয়েক মাইল দূরে তাঁর গোত্রকে কিবলা পরিবর্তনের খবরটি জানানোর জন্য বের হয়ে পড়েন। তিনি গিয়ে দেখলেন যে তাঁরা পুরনো ক্বিবলা অর্থাৎ জেরুসালেম বরাবর আসরের সালাত পড়ছে। ওই অবস্থাতেই সেই সাহাবী তাদেরকে বললেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমি মাত্রই রাসূলুল্লাহর সাথে মক্কা বরাবর সালাত আদায় করেছি।' এ কথা শুনে তাঁরা তৎক্ষণাৎ সালাতের মধ্যেই নিজেদের ক্বিবলা মক্কার দিকে পরিবর্তন করে ফেললো। এ ঘটনা থেকে রাসূলুল্লাহর প্রতি সাহাবিদের প্রবল আনুগত্য যেমন বোঝা যায়, তেমনি বোঝা যায় সেই সমাজে একজন মুসলিমের কথার উপর সবাই কতটা আস্থা রাখত।

কিন্তু এ ঘটনাটি বেশ কিছু বিতর্কের জন্ম দেয়। শুধুমাত্র কিবলা পরিবর্তনের বিষয় নিয়েই আল্লাহ আযযা ওয়াজাল সূরা আল-বাক্বারাহর ৪০টি আয়াত নাযিল করেছেন। ইবনুল কায়্যিম বলেন যে এটি ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মুশরিকদের জন্য একটি পরীক্ষা। কাবা ছিল আরবের মুশরিকদের ক্বিবলা, তাই কিবলার দিক পরিবর্তনের পর তারা রাসূলুল্লাহ সম্পর্কে বলতে শুরু করলো, "তিনি আমাদের কিবলার দিকে ফিরে এসেছেন, এখন তিনি আমাদের ধর্মের দিকেও ফিরে আসবেন।" ইবনুল কায়্যিম আরও বলেন, এই কিবলা পরিবর্তন ছিল মুনাফিকদের জন্যেও একটা পরীক্ষা ছিল যারা বলতো মুহাম্মাদ নিজেই জানে না সে কী করছে; সে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করছে। ক্বিবলার পরিবর্তন ইহুদিদের জন্যেও একটি পরীক্ষা ছিল। ইহুদিরা জেরুসালেমকে নবীদের ক্বিবলা বলে বিশ্বাস করতো। রাসূলুল্লাহ যখন ক্বিবলা পরিবর্তন করলেন, তখন তারা তাঁর সম্পর্কে বলতে শুরু করলো, 'তিনি পূর্বের নবীদের ক্বিবলা পরিত্যাগ করেছেন – এতেই প্রমাণিত হয় যে তিনি আল্লাহর রাসূল নন।' পাশাপাশি এটা মুসলিমদের জন্যও একটি পরীক্ষা ছিল – আল্লাহ দেখতে চাইছিলেন রাসূলুল্লাহর অনুসরণে তারা কতোটা দৃঢ় - তারাও কি রাসূলুল্লাহর সাথে কিবলা পরিবর্তন করছেন কি না। অর্থাৎ এই একটি ঘটনা ছিল মুসলিম-মুশরিক-ইহুদী-মুনাফিক সকলের জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে একটি পরীক্ষা।

"এখন নির্বোধেরা বলবে, কীসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ওই কিবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।” (সূরা আল-বাক্বারাহ, ২: ১৪২)

কাবা, মক্কা কিংবা জেরুসালেম সবকিছুই আল্লাহর সৃষ্টি, আর তাই মুসলিমরা কোন দিক বরাবর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহ আযযা ওয়া জালের, তাই আল্লাহ বলছেন, "পূর্ব ও পশ্চিমের মালিক আল্লাহ।" ইবনে কাসীর বলেন, 'যদি আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন নতুন একটি কিবলা নির্ধারণ করে দেন, তাহলে আমাদেরকে ঠিক সেই কিবলামুখি হতে হবে। আমরা তাঁরই বান্দা এবং তাঁরই অধীনস্থ।' ইহুদিরা মনে করতো আল্লাহ তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন না, তাই দুটো কিবলার যেকোনো একটি ঠিক, আরেকটি ভুল। মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা আরও বলতো, "যদি প্রথম ক্বিবলা ঠিক হয় তাহলে নতুন কিবলা বরাবর ইবাদত করে তোমাদের কোনো কাজে আসবে না। আর যদি দ্বিতীয় কিবলা ঠিক হয় তাহলে তো তোমাদের এতদিনের ইবাদত সব বিফলে গেল।" ইহুদিদের এ কথার জবাবে আল্লাহ তাআলা আরেকটি আয়াত নাযিল করেন।

"আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের উপর সাক্ষী হও এবং রাসূল সাক্ষী হন তোমাদের উপর। আপনি যে ক্বিবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যেই কিবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রাসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তু তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান (সালাত) নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।” (সূরা বাক্বারাহ, ২: ১৪৩)

উম্মাতান ওয়াসাত মানে হলো উত্তম ও সম্মানিত উম্মত। ইবন কাসীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেছেন,
"আল্লাহ তাআলা এই আয়াতের মাধ্যমে উম্মাতে মুহাম্মাদীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, 'তোমাদেরকে এই পছন্দনীয় ক্বিবলার দিকে ফিরাবার কারণ এই যে, তোমরা নিজেরাও পছন্দনীয় উম্মাত। তোমরা কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মাতের উপর সাক্ষ্য দেবে, কেননা তারা সবাই তোমাদের মর্যাদা স্বীকার করে।"

ইহুদিদের একটি ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, কোনো ব্যক্তি যদি ওয়াহীর আগমনের পূর্বে মারা যায় তবে তার সমস্ত ইবাদত বিফলে যাবে। আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে, পূর্বের ক্বিবলা বরাবর মুসলিমদের ইবাদত আল্লাহ নষ্ট করে দিবেন না।

"নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বার বার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কিবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ করুন এবং তোমরা যেখানেই থাক, সেই দিকেই মুখ করো। যারা আহলে-কিতাব, তারা অবশ্যই জানে যে, এটাই ঠিক পালনকর্তার পক্ষ থেকে। আল্লাহ বেখবর নন, সে সমস্ত কর্ম সম্পর্কে যা তারা করে।"

সূরা আল বাক্বারাহর পরবর্তী আয়াতগুলোতে (১৪৪-১৫০) আল্লাহ তাআলা বলেন,

"যদি আপনি আহলে কিতাবদের কাছে সমুদয় নিদর্শন উপস্থাপন করেন, তবুও তারা আপনার কিবলা মেনে নেবে না এবং আপনিও তাদের কেবলা মানেন না। তারাও একে অন্যের কেবলা মানে না। যদি আপনি তাদের বাসনার অনুসরণ করেন, সে জ্ঞানলাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে নিশ্চয় আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে, যেমন করে চেনে নিজেদের পুত্রদেরকে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি সম্প্রদায় জেনে শুনে সত্যকে গোপন করে।

বাস্তব সত্য সেটাই যা আপনার পালনকর্তা বলেন। কাজেই আপনি সন্দিহান হবেন না। আর সবার জন্যই রয়েছে কেবলা একেক দিকে, যে দিকে সে মুখ করে (ইবাদত করবে)। কাজেই সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলকভাবে এগিয়ে যাও। যেখানেই তোমরা থাকবে, আল্লাহ অবশ্যই তোমাদেরকে সমবেত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।

আর যে স্থান থেকে আপনি বের হন, নিজের মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফেরান নিঃসন্দেহে এটাই হলো আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য। বস্তুতঃ তোমার রব তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অনবহিত নন।

আর আপনি যেখান থেকেই বেরিয়ে আসুন এবং যেখানেই অবস্থান করুন, সেই দিকেই মুখ ফেরাও, যাতে করে মানুষের জন্য তোমাদের সাথে ঝগড়া করার অবকাশ না থাকে। অবশ্য যারা অবিবেচক, তাদের কথা ভিন্ন, তাদের আপত্তিতে ভীত হয়ো না। আমাকেই ভয় করো। যাতে আমি তোমাদের জন্যে আমার অনুগ্রহ সমূহ পূর্ণ করে দেই এবং তাতে যেন তোমরা সরলপথ প্রাপ্ত হও।”

"...তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় কর...” – বর্তমান সময়ে ইসলাম যখন কাফির ও মুনাফিকদের কাছ থেকে প্রচণ্ড আক্রমণ ও সমালোচনার শিকার, সেই সময়ে এই আয়াত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিক্ষা দেয়। প্রতিটি যুগেই ইসলামবিদ্বেষী কিছু লোক থাকে। তারা ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিধানের দোষ খুঁজে বেড়ায়। যেমন এই যুগে তারা বলে, ইসলাম নারীদের শোষণ করে, অথচ তারাই একসময় মনে করতো ইসলাম নারীদেরকে বেশি-বেশি অধিকার দিয়েছে। ইসলাম সন্ত্রাসবাদের ধর্ম, অশান্তির ধর্ম – ইত্যাদি নানানরকমের প্রপাগান্ডা চালায়। আল্লাহ আযযা ওয়াজাল ঈমানদারদের বলেছেন যে, তারা যেন ওইসব লোকদের ভয় না পেয়ে শুধুমাত্র আল্লাহকেই ভয় করে। কাজেই একজন মুসলিম এসব ইসলামবিদ্বেষীদের কথায় পাত্তা না দিয়ে শুধু তা-ই করবে যা আল্লাহ আযযা ওয়াজাল করতে বলেছেন। আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি বিধান, প্রতিটি আদেশ-নিষেধ মুসলিমদের জন্য একেকটি অনুগ্রহ।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 মদীনার অর্থনৈতিক উন্নয়ন

📄 মদীনার অর্থনৈতিক উন্নয়ন


নবগঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য রাসূলুল্লাহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেন। তিনি মসজিদ-উল-হারামের পাশের একটি জায়গাকে মদীনার বাজার হিসেবে নির্ধারণ করলেন। এটি ছিল মদীনার কেন্দ্রীয় বাজার। এ বাজারকে তিনি করমুক্ত বাজার হিসেবে ঘোষণা করেন। একবার হঠাৎ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেল সাহাবারা নবীজির কাছে আসেন। ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন আনাস ইবন মালিক।

লোকজন এসে রাসূলুল্লাহকে বললো, 'হে আল্লাহর রাসূল, জিনিসপত্রের দাম খুব বেড়ে গেছে, তাই আপনি আমাদের জন্য জিনিসপত্রের দাম স্থির করে দিন।' এরপর রাসূলুল্লাহ বলেন, 'একমাত্র আল্লাহ তাআলাই দাম নির্ধারণের মালিক, তিনিই দাম কমান, তিনিই দাম বাড়ান। আমি আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করতে চাই যে আমার উপর কারো জুলুমের কোনো অভিযোগ থাকবে না।'

দ্রব্যমূল্যের ব্যাপারে ইসলামের মূলনীতি হলো: রিযিকের মালিক হলেন আল্লাহ আযযা ওয়াজাল। দ্রব্যের দাম উৎপাদন ও চাহিদার সাথে সাথে পরিবর্তিত হবে এবং এই পরিবর্তন আল্লাহ তাআলার হাতে। তিনিই সবকিছুর মূল্য নির্ধারণ করে দেন, তাই রাসূলুল্লাহ এ ব্যাপারে হাত দেননি। এ থেকে বোঝা যায় ইসলামি অর্থনীতি ব্যবসার ক্ষেত্রে স্বাধীন ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করে, বেচাকেনায় দামের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে না। তবে কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে বা মজুতদারির মাধ্যমে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইসলামের কঠোর বিধিনিষেধ আছে এবং সে সংক্রান্ত বাজার পর্যবেক্ষণ নীতিমালাও রয়েছে।

টিকাঃ
৮৩. আবু দাউদ, অধ্যায় ইজারাহ, হাদীস ৩৬।

📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 আ'ইশার ؓ সাথে বিয়ে

📄 আ'ইশার ؓ সাথে বিয়ে


রাসূলুল্লাহ আ'ইশার সাথে সংসার শুরু করেন হিজরতের পর, সেটা হিজরতের প্রথম বা দ্বিতীয় বছরের ঘটনা, যদিও তাদের বিয়ে হয়েছিল মাক্কী জীবনের শেষের দিকে যখন আ'ইশার বয়স ছিল ছয় বছর। মদীনায় আসার পরে তাঁকে রাসূলুল্লাহর ঘরে তুলে আনা হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল নয় বছর।

রাসূলুল্লাহ যখন আ'ইশাকে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৫৪ বছর, কিন্তু আজও তিনি আসলে যেন যুবক! আমরা হাদীস থেকে জানতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ আ'ইশার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন। বয়স রাসূলুল্লাহকে বেঁধে রাখতে পারেনি, তিনি তাঁর স্ত্রী আ'ইশার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন! যেমন, একদিন তাঁরা দু'জন সফরে বের হয়েছিলেন, আ'ইশা সেদিনের কথা বর্ণনা করেছেন এভাবে,

'আমি তাঁর সঙ্গে দৌড়ে পাল্লা দিলাম এবং জিতে গেলাম! কিন্তু পরে যখন আমি কিছুটা মোটা হয়ে গেলাম, তখন আবার তাঁর সাথে দৌড়ে অংশ নিলাম কিন্তু এবার তিনি আমাকে দৌড়ে হারিয়ে দেন। আর তখন তিনি বললেন, এটা হলো পূর্বের হারের বদলা!' অর্থাৎ আগেরবার আ'ইশা জিতেছিলেন, আর পরেরবার জিতলেন রাসূলুল্লাহ। রাসূলুল্লাহ বেশ স্বাস্থ্যবান ও কর্মঠ ছিলেন আর আল্লাহ তাআলার রাসূল হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁর এরকম শারীরিক দক্ষতার দরকার ছিল।

রাসূলুল্লাহ যখন রাবিআ গোত্রের প্রতিনিধিদলের সাথে দেখা করেন তখন তাঁর বয়স ছিল ৫০ বছর। কিন্তু রাবিআ গোত্রের নেতা তার গোত্রের লোকদের কাছে রাসূলুল্লাহকে 'যুবক' হিসেবে উল্লেখ করেন। রাসূলুল্লাহ ছিলেন খুবই প্রাণবন্ত এবং উদ্যমী একজন মানুষ। তাই তাঁকে দেখে তরুণ মনে হতো। এছাড়াও আনাস ইবন মালিকের বর্ণিত হিজরতের কাহিনিতেও রাসূলুল্লাহ কেমন ছিলেন তা বোঝা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, 'যখন রাসূলুল্লাহ ও আবু বকর মরুভূমির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন তখন লোকজন আবু বকরকে চিনতে পারলেও রাসূলুল্লাহকে চিনতে পারেনি কারণ রাসূলুল্লাহকে দেখতে যুবকদের মতো লাগতো আর সেটা তারা ধারণা করেনি।' আনাস তাঁর সেই বর্ণনায় আবু বকরকে 'বয়স্ক ব্যক্তি' আর রাসূলুল্লাহকে উল্লেখ করেছেন 'যুবক' হিসেবে। এ সম্পর্কে ইবন হাজার আল- আসকালানি মন্তব্য করেছেন যে, আবু বকরের বয়স যেমন তেমনই লাগতো, বড় বা ছোট মনে হতো না। অন্যদিকে, রাসূলুল্লাহ আবু বকরের চেয়ে দুই বছরের বড় ছিলেন কিন্তু তারপরও তাঁকে দেখতে অপেক্ষাকৃত কম বয়স্ক মনে হতো।

টিকাঃ
৮৪. আবু দাউদ, অধ্যায় জিহাদ, হাদীস ১০২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px