📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 মসজিদের ভূমিকা

📄 মসজিদের ভূমিকা


"আল্লাহ যেসব ঘরকে মর্যাদায় উন্নীত করা এবং সেগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করার আদেশ দিয়েছেন, সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এমন লোকেরা, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় বিরত রাখে না আল্লাহর স্মরণ থেকে, সালাত কায়েম করা থেকে এবং যাকাত প্রদান করা থেকে। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে। (তারা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে) যাতে আল্লাহ তাদের উৎকৃষ্টতর কাজের প্রতিদান দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও অধিক দেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন"। (সূরা নূর, ২৪: ৩৬-৩৮)

বর্তমান সময়ে মসজিদকে শুধু মাত্র ইবাদাতের স্থান মনে করা হলেও, রাসূলুল্লাহর যুগে মসজিদকে শুধুই ইবাদাতের স্থান মনে করা হতো না। এটি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক স্থান। মসজিদ ছিল সমাজের ব্যস্ততম প্রাণকেন্দ্র।

# মসজিদ ইট-কাঠের নিছক একটি দালান নয়। মসজিদের প্রাণ হলো মসজিদের ভিতরে থাকা মানুষগুলো। কুরআনে সেই সব মানুষের প্রশংসা করা হয়েছে যারা আল্লাহ তাআলার ঘর মসজিদে অবস্থান করে এবং সেখানে শুধুমাত্র আল্লাহর কথা স্মরণ করে। তারা হয়তো ব্যবসা-বাণিজ্য করে, কিন্তু মসজিদে গেলে তারা সেসবের কথা স্মরণ করে না। আল্লাহ তাআলার ঘরে থাকা অবস্থায় তারা শুধুমাত্র আল্লাহকেই স্মরণ করে। মসজিদ হচ্ছে সালাত ও যিকরের স্থান। এটিই মসজিদের প্রথম ও প্রাথমিক ভূমিকা।

# মসজিদ মুসলিমদের জন্য শিক্ষাকেন্দ্র। মক্কায় মুসলিমদের শিক্ষাকেন্দ্র ছিল দার-উল-আরকাম, আর মদীনায় ছিল মসজিদ-ই-নববী। এখানেই রাসূলুল্লাহ খুতবা দিতেন, কথা বলতেন, আলোচনা করতেন। সাহাবাগণ মসজিদে একসাথে বসে আল্লাহ তাআলার কিতাব নিয়ে পড়াশোনা করতেন।

# রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'যদি মানুষ আল্লাহ তাআলার ঘরে (মসজিদে) একত্রে বসে আল্লাহ তাআলার কিতাব অধ্যয়ন করে এবং তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করে, তাহলে আল্লাহ তাদেরকে চারটি জিনিস দেবেন: 'সাকিনা (প্রশান্তি), রাহমা (দয়া), ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে রাখবে এবং আল্লাহ তাআলা আরও উন্নত জমায়েতে তাদের নাম উল্লেখ করবেন।'

# মসজিদ হলো মুসলিমদের একে অপরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করার জায়গা। এটি তাদের সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেসব মুসলিমরা মসজিদে জামা'আতে সালাত এবং জুমু'আর সালাত আদায় করেন তারা দিনে পাঁচবার একে অপরের সাথে দেখা করার সুযোগ পান। এটি তাদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ববোধকে মজবুত করে দেয়।

# মসজিদ-ই-নববী ছিল পথিক ও গরিবদের জন্য থাকার জায়গা। এই মসজিদে আশ্রয় নেওয়া সাহাবীদের বলা হতো আহলুস-সুফফা।

# মসজিদ থেকেই তৎকালীন সময়ে সেনাদল জিহাদের জন্য যাত্রা আরম্ভ করতো। আমীরের হাতে জিহাদের পতাকা তুলে দেওয়া হতো মসজিদেই।

# মসজিদ হলো দাওয়াতের স্থান। ইয়েমেন থেকে আগত খ্রিস্টানরা মসজিদে অবস্থান করেছিল। তারা সেখানে অবস্থানকালে মুসলিমদের ইবাদতরত অবস্থায় দেখতে পেত এবং মুসলিমদের সাথে রাসূলুল্লাহর আলোচনাও শুনতে পেয়েছিল। এর থেকে বোঝা যায়, দাওয়াহর স্বার্থে অমুসলিমরা মসজিদে প্রবেশের অনুমতি পেতে পারে।

মসজিদ-ই-নববী খুবই সাদামাটা ছিল কিন্তু এখান থেকেই জ্ঞানার্জন করেছেন মুসলিমদের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম, সাহাবাগণ। অথচ বর্তমান সময়ে অনেক বড় বড় মসজিদ থাকলেও এই মসজিদগুলো 'ইলমের প্রতীক নয়, বরং অর্থের শ্রাদ্ধের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px