📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) 📄 আল ইসরা ওয়াল মিরাজের ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় বিষয়

📄 আল ইসরা ওয়াল মিরাজের ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় বিষয়


১. রাসূলুল্লাহর বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনা দুইবার ঘটেছে। যখন তিনি হালিমা সাদিয়ার কাছে ছিলেন তখন প্রথমবার এ ঘটনা ঘটে। সে সময় তাঁর বয়স একদম কম ছিল। আর দ্বিতীয়বার ঘটে আল ইসরা ওয়াল মিরাজের সময়। এখানে ইসরা মানে হলো রাতের ভ্রমণ আর মিরাজ অর্থ আরোহণ করা।

২. মূসার সাথে রাসূলুল্লাহর কথোপকথন বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে। আল্লাহ তাআলা যখন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করার নির্দেশ দিলেন তখন মুহাম্মাদ তা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মুসার সাথে তাঁর দেখা হলে তিনি তাঁকে বলেছেন, 'আপনার উম্মত তা পালন করতে পারবে না।' মূসা এ তাঁর দীর্ঘদিনের নবুওয়াতের অভিজ্ঞতা থেকে এ উপদেশটি দিয়েছিলেন। এটাই অভিজ্ঞতার মূল্য, তাত্ত্বিক জ্ঞানই সবকিছু নয়। অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন আছে। মূসা রাসূলুল্লাহকে বলেছিলেন, 'মানুষের ব্যাপারে আমার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে, আপনি নতুন। কিন্তু আমি আমার জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছি বনী ইসরাইলের মতো এক কওমের সাথে। তাই বলছি আপনার উম্মাত এত সালাত আদায় করতে পারবে না। আপনি গিয়ে তা কমিয়ে আনুন।' মূসা তাঁর অভিজ্ঞতা থেকেই রাসূলুল্লাহকে এরকম উপদেশ দিয়েছিলেন। মূসার নিজ জীবন থেকে বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

যখন মূসা তাঁর চল্লিশ দিনের সাওম শেষে আল্লাহ তাআলার সাথে কথা বলতে গেলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে জানালেন যে তাঁর অনুপস্থিতিতে বনী ইসরাইলীরা বাছুরের উপাসনা করছে। এই কথা শুনে তিনি খুব তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। কিন্তু যখন তিনি নিজ চোখে এই দৃশ্য দেখলেন, তখন তিনি রাগে ফেটে পড়েন আর আল্লাহর কাছ থেকে সদ্য পাওয়া ফলকগুলো হাত থেকে ছুঁড়ে ফেলেন। এর কারণ হলো, কোনো কিছু শোনা আর দেখার মধ্যে পার্থক্য আছে।

আল্লাহ তাআলা যখন নবীজিকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারণ করে দিলেন তখনও মূসা বললেন যে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করাও এই উম্মাতের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়বে। মূসা আসলে ঠিকই বলেছিলেন। বর্তমানে মুসলিমদের অধিকাংশই প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতও ঠিক মতো আদায় করে না। অনেকে নিজের ইচ্ছানুযায়ী সালাত আদায় করে, অর্থাৎ কিছু আদায় করে আবার কিছু বাদ দেয়। আল্লাহ মূসার ওপর রহম করুন যিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য সালাতকে সহজ করে দিয়েছেন। যদি প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা লাগত তবে তা কতই না কষ্টকর হতো! প্রকৃতপক্ষে নবী-রাসূলদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান ছিল তাতে কোনোরকম হিংসা-বিদ্বেষ ছিল না, বরং তাঁরা একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। রাসূলুল্লাহকে দেখে মূসার কেঁদে ফেলার কারণ ছিল তিনি জানতেন রাসূলুল্লাহর অনুসারীর সংখ্যা তাঁর অনুসারী থেকে অনেক বেশি হবে, কিন্তু তারপরও তিনি রাসূলুল্লাহকে তাঁর উম্মাতের সুবিধার জন্য উপদেশ দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহর প্রতিও তাঁর সহানুভূতিমূলক মনোভাব ছিল। আল্লাহ তাআলার সকল নবী একে অপরকে ভালোবাসেন। তাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা ছিল একে অপরকে ভালোবাসার প্রতিযোগিতা।

শেষ বিচারের দিনে বিভিন্ন নবী-রাসূলদের অনুসারীর সংখ্যা হবে বিভিন্ন রকম। কারো সাথে দশ জন অনুসারী থাকবে, আবার কারো সাথে পাঁচ জন, কারো সাথে মাত্র একজন, আবার কোনো নবী উপস্থিত হবেন একা। এমন নবী থাকবেন যিনি সারা জীবন ধরে মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করেছেন কিন্তু কেউই তাদের এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এরপর রাসূলুল্লাহ কিয়ামতের দিন এক বিশাল জনসমুদ্র দেখে ভাববেন এটা তাঁর উম্মত, কিন্তু সেটি হবে মূসার উম্মাত, রাসূলুল্লাহর উম্মতের সংখ্যা হবে আরো বেশি।

৩. আল ইসরা ওয়াল মিরাজের ঘটনা থেকে আরেকটি শিক্ষণীয় বিষয় হলো সালাতের গুরুত্ব। ইসলামের সকল ইবাদাতের আদেশ নাযিল হয়েছে দুনিয়ার বুকে, জিবরীলের মাধ্যমে। কিন্তু একমাত্র সালাতের হুকুম আল্লাহ তাআলা সরাসরি দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহর সাথে একান্ত সাক্ষাতে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। মূসা যখন তুর পর্বতের ওপর আল্লাহ তাআলার সাথে সরাসরি কথা বলেছিলেন তখন আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাইলের জন্য সালাতের বিধান নির্ধারণ করে দেন, অর্থাৎ এক্ষেত্রেও আল্লাহ তাআলা সালাতের নির্দেশ তাঁর রাসূলকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছিলেন।

"আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। অতএব আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর।” (সূরা ত্ব-হা, ২০: ১৪)

আর ওই সময়েই মূসা রিসালাতের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। চল্লিশ বছর বয়সে রাসূল হওয়ার পরপরই মূসাকে সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও পরে সালাতের নির্দেশ। এতেই বুঝা যায় যে, সালাত মুসলিমদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'মু'মিন ও কাফিরদের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত আদায় না করা।' এমনকি ঠিক সময়ে সালাত আদায় না করাও একটি গুনাহ।

"তাদের পর তাদের অপদার্থ বংশধরেরা এল। তারা সালাত নষ্ট করলো এবং কুপ্রবৃত্তির অনুবর্তী হলো। সুতরাং তারা অচিরেই পথভ্রষ্টতা প্রত্যক্ষ করবে।" (সূরা মারইয়াম, ১৯: ৫৮)

যারা সালাতকে অবহেলা করেছে অর্থাৎ সালাত আদায় করেনি আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য জাহান্নামের ওয়াদা করেছেন। ইবন আব্বাস এই আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন যে, এখানে ওইসব লোকদের কথা বলা হয়নি যারা কিনা সালাত একদমই আদায় করে না, বরং সেসব লোকদের কথা বলা হয়েছে যারা অর্ধেক সালাত আদায় করে। ইবন খাত্তাব বলেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি ফরয সালাত ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেয় তবে সে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে গেল, যদিও এ ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিন্তু এই ব্যাপারে সবাই একমত যে সালাত ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এ বিধান থেকে কেউই পার পাবে না। আর্থিক সামর্থ্য বা সাথে যাওয়ার মতো (নারীদের ক্ষেত্রে) কেউ না থাকলে হজ্ব মাফ করে দেওয়া হয়, অসুস্থতা বা বয়সজনিত সমস্যার কারণে সাওম মাফ করে দেওয়া হয়েছে আর নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ না থাকলে কাউকে যাকাত আদায় করতে হয় না, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই সালাত ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

কেউ যদি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে না পারে তবে বসে আদায় করবে, বসে আদায় করতে না পারলে শুয়ে আদায় করবে, শুয়ে আদায় করতে না পারলে আঙ্গুল দিয়ে ইশারায় সালাত পড়বে। আর যদি তাও করতে না পারে তাহলে চোখের ইশারায় সালাত আদায় করবে। অবস্থা যাই হোক না কেন সালাত আদায় করতেই হবে। যতক্ষণ জ্ঞান আছে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই, এমনকি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ও সালাত আদায় করতে হবে। সালাত হলো এমন একটি ইবাদত যা ছেড়ে দেওয়ার জন্য কোনো অজুহাতই কার্যকর হবে না। মুসলিম আলিমগণ বলেছেন যে শত্রুপক্ষের ওপর নজরদারি করার সময় আঙ্গুল দিয়ে ইশারায় সালাত আদায় করা যাবে।

৪. এ সফর আমাদেরকে পবিত্র ভূমি জেরুসালেমের গুরুত্ব জানিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-ইসরা-তে বলেছেন,

"পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত - যার আশেপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাঁকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।” (সূরা ইসরা, ১৭: ১)

জেরুসালেমের কর্তৃত্বের ব্যাপারে মু'মিনদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা ইবরাহীমের কাছে ওয়াদা করেছিলেন যে, জেরুসালেমের অভিভাবকত্ব ইবরাহীমের উত্তরসূরিদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই ওয়াদা বনী ইসরাঈলের বিভিন্ন নবী-রাসূলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। মূসাকেও জেরুসালেমের কর্তৃত্ব দেওয়ার ওয়াদা করা হয়েছিল, তবে তিনি সেটা তাঁর জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেননি, তাঁর উত্তরসূরি ইউশা ইবন নুনের জীবদ্দশায় জেরুসালেমের কর্তৃত্ব মু'মিনদের হাতে দেওয়া হয়। বনী ইসরাঈল যতদিন পর্যন্ত সত্য পথের অনুসারী ছিল ততদিন পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাদেরকে এই পবিত্র ভূমিতে অবস্থান করতে দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন তারা আল্লাহ তাআলার দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ল, নবীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে দিল, তাদেরকে খুন করতে লাগল, এমনকি ঈসাকে হত্যা করার চেষ্টা চালালো তখনই আল্লাহ তাআলা তাদের কাছ থেকে জেরুসালেম কেড়ে নিলেন এবং এই পবিত্র ভূমির দায়িত্ব ইসমাইলের উত্তরসূরিদের ওপর অর্পণ করলেন। আর এ কারণেই জেরুসালেম এখন মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মাতের ভূমি। যুগ যুগ ধরে নবী-রাসূলগণ যে বাণী প্রচার করেছেন, সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ সেই একই বাণীর বাহক। এখন তিনিই আদমের সমস্ত সন্তানের নেতা। যে কারণে বনী ইসরাইলকে জেরুসালেমের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই একই কারণে উম্মাতে মুহাম্মাদীকে জেরুসালেমের কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণটি হলো তাওহীদ।

মূসা যেমন তাঁর জীবদ্দশায় জেরুসালেম জয় করতে পারেননি কিন্তু তাঁরই অনুসারী ইউশার সময় তা মুসলিমদের কর্তৃত্বে আসে, ঠিক তেমনি মুহাম্মাদ তাঁর জীবদ্দশায় জেরুসালেম জয় করতে না পারলেও উমার ইবন খাত্তাবের শাসনামলে তা মুসলিমদের অধীনে চলে আসে। জেরুসালেমের তৎকালীন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করার সাহস করেনি, তবে মুসলিমরা যখন জেরুসালেমের গেটে পৌঁছল তখন তারা বললো, 'আমরা মুসলিমদের খলিফা ছাড়া অন্য কারো কাছে আত্মসমর্পণ করব না। চাবি নেওয়ার জন্য তাঁকেই এখানে আসতে হবে।' এজন্য উমার ইবন খাত্তাব জেরুসালেমের চাবি নেওয়ার জন্য মদীনা থেকে জেরুসালেমে এসেছিলেন।

৫. নবুওয়াতের দশম বছর ছিল রাসূলুল্লাহর জন্য কষ্টের সময়, তাই এই সময়ে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছেন। এ ভ্রমণে জিবরীল ছিলেন তাঁর পথপ্রদর্শক। এ ভ্রমণে তিনি পূর্ববর্তী নবী-রাসূলদের সাথে দেখা করার সুযোগ পান। এ ভ্রমণ ছিল যেন সত্যিকারের এক বিস্ময়-রাজ্যে ভ্রমণ। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে শেষ পর্যন্ত তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ আল-কাউসার নামে একটি নদী দেখেছিলেন। এটি তাঁকে দেওয়া হয়েছে। এই নদী ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহর প্রতি এক বিশেষ উপহার। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "কষ্টের সাথেই রয়েছে স্বস্তি”–এর মানে হলো, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কষ্টের জন্য উত্তম পুরস্কারের অঙ্গীকার করেছেন। একজন মুসলিম যত কষ্টের মধ্য দিয়েই থাকুক না কেন, আল্লাহ তাআলা প্রতিটি কষ্টের বিনিময়ে তার জন্য কিছু না কিছু বরাদ্দ করে রেখেছেন যা সে এই দুনিয়া অথবা পরকালে পাবে। সুতরাং একজন মুসলিমের কখনই ভেঙে পড়া উচিত না।

৬. আবু বকরের মর্যাদা: কুরাইশের লোকেরা যখন আল ইসরা ওয়াল মিরাজের ঘটনা নিয়ে হাসিঠাট্টা করছিল তখন আবু বকর সেখানে ছিলেন না। তিনি যখন মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন কেউ একজন তাঁর কাছে গিয়ে বললো, 'আপনি জানেন কী হয়েছে? মুহাম্মাদ দাবি করেছেন যে, তিনি এক রাতের মধ্যেই জেরুসালেম গিয়ে আবার ফিরে এসেছেন।' এরপর আবু বকর বলেছিলেন, 'যদি তিনি একথা দাবি করে থাকেন-তাহলে তা অবশ্যই সত্য।' এরপর আবু বকর যখন জানতে পারলেন যে মুহাম্মাদ আসলেই এ দাবি করেছেন, তখনই তিনি এ ঘটনাকে বিনা দ্বিধায় সত্য বলে মেনে নিয়েছিলেন।

লক্ষণীয় হলো আবু বকরের উক্তির প্রথম অংশ, 'যদি তিনি একথা বলে থাকেন...' –এই কথার মাধ্যমে হাদীসের সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। যে কেউ হাদীস বর্ণনা করলেই তা গ্রহণ করা যাবে না। বরং আমাদেরকে নিশ্চিত হতে হবে যে, মুহাম্মাদ আসলেই তা বলেছেন কি না। মুসলিম ও আহলে কিতাবদের মধ্যে মূল পার্থক্য আসলে এখানেই। ইহুদি ও খ্রিস্টানদের যা বলা হতো তাই তারা কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ করতো, যদিও তাদের প্রকৃত কিতাব আগেই পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু হাদীসের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মুসলিমদের রয়েছে আলাদা এক শাস্ত্র, যেখানে হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে কার বর্ণনা বিশ্বাসযোগ্য তা বের করার জন্য হাজার হাজার ব্যক্তিদের জীবনী নিয়ে পড়াশোনা করা হয়।

৭. আবু বকরের উক্তির দ্বিতীয় অংশ, '...তাহলে তা সত্য', রাসূলুল্লাহর প্রতি আবু বকরের এমনই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে রাসূল যা-ই বলতেন তিনি তা-ই বিশ্বাস করতেন এবং এ কারণেই তাঁকে বলা হতো 'আস সিদ্দীক'।

ফন্ট সাইজ
15px
17px