📄 বয়কটের অবসান
বয়কট চুক্তির বিরোধিতায় যে লোকটি উঠে দাঁড়ান তিনি হিশাম ইবন আমর। তিনি ছিলেন বনু হাশিমের মাতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়। চুক্তি বাতিল করার পেছনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। খাবারে বোঝাই একটি উট নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যেতেন, বনু হাশিম গোত্রের কাছাকাছি গেলে উটটি ছেড়ে দিতেন যেন সেটা চড়তে চড়তে পাহাড়ের নিচে বনু হাশিমের কাছে গিয়ে পৌঁছে, যেন খাবারগুলো তারা পায়।
একদিন যুহাইর ইবন আবি উমাইয়ার কাছে গিয়ে বললেন, 'যুহাইর! তোমার আপন মামারা নিদারুণ যন্ত্রণায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছে, আর তুমি খেয়ে-পরে-আনন্দের মধ্যে বসে আছো কীভাবে? আমি শপথ করে বলছি, যদি এই মানুষগুলো আবুল হাকামের নিজের মামা হতো, সে তাদের সাথে কখনো এরকম করতো না।' যুহাইরও বনু হাশিমের মাতৃসম্পর্কীয় আত্মীয় ছিলেন। হিশাম তাঁকে বোঝালেন যে, আবু জাহেলের অন্যায় ও দ্বিমুখী নীতি মেনে নেওয়া তাদের ঠিক হচ্ছে না। যুহাইর ইবন আবি উমাইয়া জবাব দিলেন,
- তুমি আমাকে দোষারোপ করছো? আমি একা একজন মানুষ, আমি কী করতে পারি বলো? আল্লাহর শপথ, যদি আমার পাশে আর একটি লোকও থাকতো, আমি এই নিষেধাজ্ঞার দলিল বাতিল করে আসতাম।
- বেশ, তোমার সাথে একজন আছে, হিশাম জানালেন।
- কে সে?
- আমি আছি তোমার সাথে।
- তাহলে চলো তৃতীয় একজনকে খুঁজে বের করি।
হিশাম তৃতীয় একজনকে খুঁজে বের করতে বেরিয়ে গেলেন। তিনি দেখা পেলেন মুতইম ইবন আদীর, তাকে বললেন,
- মুতইম! তুমি কি বনু আল মানাফের দুই গোত্রের কষ্ট দেখে আনন্দিত হচ্ছো? কুরাইশদের চুক্তিটি তুমি দেখনি? আল্লাহর কসম, তুমি যদি আজকে তাদেরকে এই কাজ করতে দাও, তাহলে কালকে তারা তোমার সাথেও একই কাজ করবে।
- তা বুঝলাম, কিন্তু আমি এক্ষেত্রে কী করতে পারি? আমি তো একা।
- তোমার সাথে আমিও আছি।
- তৃতীয় একজনকে খুঁজে বের করলে কেমন হয়?
- তৃতীয় জনকেও আমি পেয়েছি। সে হলো যুহাইর ইবন আবি উমাইয়া।
- বাহ! তাহলে চতুর্থ কাউকে খুঁজে বের করা যাক।
চতুর্থজনকেও এভাবে খুঁজে পাওয়া গেল, তিনি হলেন আবুল বাখতারি। তিনিও এই চুক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি তাদের প্রস্তাবে রাজি হলেন এবং তাদের পক্ষে আরো লোক খুঁজে বের করার কথা বললেন। এরপর হিশাম খুঁজে পেলেন পঞ্চমজনকে। তিনি হলেন জামা ইবন আসওয়াদ। তাঁরা পরিকল্পনা করে পরদিন রাতের বেলা আল হুজুমে দেখা করলেন এবং সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন পরদিন সকালে গিয়ে তাঁরা সমস্ত দলিল নষ্ট করে ফেলবেন। কিন্তু সেটা এমনভাবে করা হবে যেন কেউ বুঝতে না পারে যে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত।
পরদিন সকালে যুহাইর ইবন আবি উমাইয়া এক বিশেষ পোশাক পরে (জোব্বা) কাবাঘরে তাওয়াফ করলেন। সময়টি ছিল কুরাইশ নেতাদের সাক্ষাতের সময়। তাদের এই সমাবেশ হতো আন নাদওয়াতে। যুহাইর সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন,
'হে কুরাইশের লোকসকল! তোমাদের কি খুব আনন্দ হচ্ছে যে তোমরা ভালো খেয়ে-পরে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছো, ওদিকে বনু হাশিম আর বনু মুত্তালিব দুর্দশার জীবন পার করছে? আল্লাহর শপথ করে বলছি, এই দলিল ছেঁড়ার আগ পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হবো না।'
পূর্ব পরিকল্পনা মতে, ওই পাঁচজনের দ্বিতীয় ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'হ্যাঁ! আমিও কখনই ওই দলিলের সাথে একমত ছিলাম না।' এরপর তৃতীয়জন উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'আমি শপথ করে বলছি আমি এই দলিলের সাথে নেই এবং আমি এই ধরনের চুক্তির অংশ হতে চাইনা।' এরপর চতুর্থজন উঠে দাঁড়িয়ে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কথা বললো এবং সবশেষে হিশাম ইবন আমর উঠে দাঁড়িয়ে কথা বললেন।
তখন আবু জাহেল উঠে দাঁড়িয়ে বললো, 'এই ঘটনা সাজানো, তোমরা রাতেই এসব পরিকল্পনা এঁটেছিলে!' কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, দলিলটি ছেঁড়ার জন্য আল মুতইম ইবন আদী কাবাঘরের দিকে ছুটে যান। তিনি আবিষ্কার করলেন সেই দলিলটি ইতিমধ্যেই উইপোকা খেয়ে ফেলেছে। শুধুমাত্র "আমাদের রবের নামে"–এই বাক্যটি ছাড়া!
দুই বা তিন বছর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার পর এভাবেই নাটকীয়তার সাথে এর পরিসমাপ্তি ঘটে।
বয়কট চুক্তির বিরোধিতায় যে লোকটি উঠে দাঁড়ান তিনি হিশাম ইবন আমর। তিনি ছিলেন বনু হাশিমের মাতৃসম্পর্কীয় আত্মীয়। চুক্তি বাতিল করার পেছনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। খাবারে বোঝাই একটি উট নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে যেতেন, বনু হাশিম গোত্রের কাছাকাছি গেলে উটটি ছেড়ে দিতেন যেন সেটা চড়তে চড়তে পাহাড়ের নিচে বনু হাশিমের কাছে গিয়ে পৌঁছে, যেন খাবারগুলো তারা পায়।
একদিন যুহাইর ইবন আবি উমাইয়ার কাছে গিয়ে বললেন, 'যুহাইর! তোমার আপন মামারা নিদারুণ যন্ত্রণায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছে, আর তুমি খেয়ে-পরে-আনন্দের মধ্যে বসে আছো কীভাবে? আমি শপথ করে বলছি, যদি এই মানুষগুলো আবুল হাকামের নিজের মামা হতো, সে তাদের সাথে কখনো এরকম করতো না।' যুহাইরও বনু হাশিমের মাতৃসম্পর্কীয় আত্মীয় ছিলেন। হিশাম তাঁকে বোঝালেন যে, আবু জাহেলের অন্যায় ও দ্বিমুখী নীতি মেনে নেওয়া তাদের ঠিক হচ্ছে না। যুহাইর ইবন আবি উমাইয়া জবাব দিলেন,
- তুমি আমাকে দোষারোপ করছো? আমি একা একজন মানুষ, আমি কী করতে পারি বলো? আল্লাহর শপথ, যদি আমার পাশে আর একটি লোকও থাকতো, আমি এই নিষেধাজ্ঞার দলিল বাতিল করে আসতাম।
- বেশ, তোমার সাথে একজন আছে, হিশাম জানালেন।
- কে সে?
- আমি আছি তোমার সাথে।
- তাহলে চলো তৃতীয় একজনকে খুঁজে বের করি।
হিশাম তৃতীয় একজনকে খুঁজে বের করতে বেরিয়ে গেলেন। তিনি দেখা পেলেন মুতইম ইবন আদীর, তাকে বললেন,
- মুতইম! তুমি কি বনু আল মানাফের দুই গোত্রের কষ্ট দেখে আনন্দিত হচ্ছো? কুরাইশদের চুক্তিটি তুমি দেখনি? আল্লাহর কসম, তুমি যদি আজকে তাদেরকে এই কাজ করতে দাও, তাহলে কালকে তারা তোমার সাথেও একই কাজ করবে।
- তা বুঝলাম, কিন্তু আমি এক্ষেত্রে কী করতে পারি? আমি তো একা।
- তোমার সাথে আমিও আছি।
- তৃতীয় একজনকে খুঁজে বের করলে কেমন হয়?
- তৃতীয় জনকেও আমি পেয়েছি। সে হলো যুহাইর ইবন আবি উমাইয়া।
- বাহ! তাহলে চতুর্থ কাউকে খুঁজে বের করা যাক।
চতুর্থজনকেও এভাবে খুঁজে পাওয়া গেল, তিনি হলেন আবুল বাখতারি। তিনিও এই চুক্তির বিরোধী ছিলেন। তিনি তাদের প্রস্তাবে রাজি হলেন এবং তাদের পক্ষে আরো লোক খুঁজে বের করার কথা বললেন। এরপর হিশাম খুঁজে পেলেন পঞ্চমজনকে। তিনি হলেন জামা ইবন আসওয়াদ। তাঁরা পরিকল্পনা করে পরদিন রাতের বেলা আল হুজুমে দেখা করলেন এবং সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন পরদিন সকালে গিয়ে তাঁরা সমস্ত দলিল নষ্ট করে ফেলবেন। কিন্তু সেটা এমনভাবে করা হবে যেন কেউ বুঝতে না পারে যে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত।
পরদিন সকালে যুহাইর ইবন আবি উমাইয়া এক বিশেষ পোশাক পরে (জোব্বা) কাবাঘরে তাওয়াফ করলেন। সময়টি ছিল কুরাইশ নেতাদের সাক্ষাতের সময়। তাদের এই সমাবেশ হতো আন নাদওয়াতে। যুহাইর সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন,
'হে কুরাইশের লোকসকল! তোমাদের কি খুব আনন্দ হচ্ছে যে তোমরা ভালো খেয়ে-পরে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছো, ওদিকে বনু হাশিম আর বনু মুত্তালিব দুর্দশার জীবন পার করছে? আল্লাহর শপথ করে বলছি, এই দলিল ছেঁড়ার আগ পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হবো না।'
পূর্ব পরিকল্পনা মতে, ওই পাঁচজনের দ্বিতীয় ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'হ্যাঁ! আমিও কখনই ওই দলিলের সাথে একমত ছিলাম না।' এরপর তৃতীয়জন উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'আমি শপথ করে বলছি আমি এই দলিলের সাথে নেই এবং আমি এই ধরনের চুক্তির অংশ হতে চাইনা।' এরপর চতুর্থজন উঠে দাঁড়িয়ে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কথা বললো এবং সবশেষে হিশাম ইবন আমর উঠে দাঁড়িয়ে কথা বললেন।
তখন আবু জাহেল উঠে দাঁড়িয়ে বললো, 'এই ঘটনা সাজানো, তোমরা রাতেই এসব পরিকল্পনা এঁটেছিলে!' কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়, বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, দলিলটি ছেঁড়ার জন্য আল মুতইম ইবন আদী কাবাঘরের দিকে ছুটে যান। তিনি আবিষ্কার করলেন সেই দলিলটি ইতিমধ্যেই উইপোকা খেয়ে ফেলেছে। শুধুমাত্র "আমাদের রবের নামে”-এই বাক্যটি ছাড়া!
দুই বা তিন বছর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকার পর এভাবেই নাটকীয়তার সাথে এর পরিসমাপ্তি ঘটে।
📄 শিক্ষা
১। এই ঘটনায় থেকে শিক্ষণীয় হলো, সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে অনেক বড় অর্জন সম্ভব। মাত্র পাঁচজন লোক মিলে একটি ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছেন কেবল সাংগঠনিক গুণকে কাজে লাগিয়ে। অল্প কিছু মানুষের চেষ্টায় কুরাইশ কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা রদ হয়ে যায়। এর সূচনা হয় হিশাম ইবন আমরের হাতে। তাঁর মাথাতেই প্রথম চিন্তাটি আসে। তিনি সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য সমমনা কিছু মানুষ যোগাড় করলেন। অতঃপর সকলে মিলে এই অন্যায্য চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাতে সমর্থ হন। এক হয়ে কাজ করা কতটা জরুরি তা এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। মুসলিম ভাই ও বোনদের উচিত গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ানো এবং নিজ থেকে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহী হওয়া, যেমনটা করেছিলেন হিশাম ইবন আমর।
২। উইপোকার দলীল খেয়ে ফেলা একটি বিষয়ে ইঙ্গিত করে তা হলো, আল্লাহর সৈনিকরা সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এমনকি উইপোকাও আল্লাহর সৈনিক হতে পারে।
“কেউ জানেনা আল্লাহর সৈনিকের ব্যাপারে কিন্তু একমাত্র তিনিই জানেন।” (সূরা আল-মুদ্দাসসির, ৭৪: ৩১)
১। এই ঘটনায় থেকে শিক্ষণীয় হলো, সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে অনেক বড় অর্জন সম্ভব। মাত্র পাঁচজন লোক মিলে একটি ব্যাপক পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছেন কেবল সাংগঠনিক গুণকে কাজে লাগিয়ে। অল্প কিছু মানুষের চেষ্টায় কুরাইশ কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা রদ হয়ে যায়। এর সূচনা হয় হিশাম ইবন আমরের হাতে। তাঁর মাথাতেই প্রথম চিন্তাটি আসে। তিনি সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য সমমনা কিছু মানুষ যোগাড় করলেন। অতঃপর সকলে মিলে এই অন্যায্য চুক্তির পরিসমাপ্তি ঘটাতে সমর্থ হন। এক হয়ে কাজ করা কতটা জরুরি তা এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। মুসলিম ভাই ও বোনদের উচিত গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ানো এবং নিজ থেকে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহী হওয়া, যেমনটা করেছিলেন হিশাম ইবন আমর।
২। উইপোকার দলীল খেয়ে ফেলা একটি বিষয়ে ইঙ্গিত করে তা হলো, আল্লাহর সৈনিকরা সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এমনকি উইপোকাও আল্লাহর সৈনিক হতে পারে।
"কেউ জানে না আল্লাহর সৈনিকের ব্যাপারে কিন্তু একমাত্র তিনিই জানেন।” (সূরা আল-মুদ্দাসসির, ৭৪: ৩১)