📘 সীরাহ (রেইনড্রপস) > 📄 উমার ইবন খাত্তাবের ؓ ইসলাম গ্রহণ থেকে শিক্ষা

📄 উমার ইবন খাত্তাবের ؓ ইসলাম গ্রহণ থেকে শিক্ষা


১। রাসূলুল্লাহর জীবন থেকে একজন আদর্শ নেতৃত্বের গুণাবলি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ মানুষ চিনতেন, তাই তিনি উমার ইবন খাত্তাব অথবা আবু জাহেলের হিদায়াত চেয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন। উমার ইবন খাত্তাব এবং আবু জাহেলের এমন কিছু গুণ ছিল যে গুণগুলোর কারণে তারা বড় মাপের নেতা হওয়ার যোগ্যতা রাখতেন। আবু জাহেলকে তার গোত্রের লোকেরা আবুল হাকাম বলে ডাকত, এর মানে হলো জ্ঞানের পিতা। কিন্তু অনেক বড় বুদ্ধিজীবি হওয়া সত্ত্বেও সে ইসলামে প্রবেশ করেনি, আর এ কারণে রাসূলুল্লাহ তার নাম দিয়েছিলেন আবু জাহেল, যার মানে মূর্খের পিতা। এ দুজন মানুষ ছিলেন দৃঢ়চেতা, নিজেদের আদর্শ ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। তারা যা বিশ্বাস করতেন, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। তারা ছিলেন তেজী ও সাহসী, কঠিন পরিস্থিতিতে সবাইকে ছাপিয়ে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাদের ছিল। আর তাদের মধ্যে এই গুণাবলির সমন্বয় দেখেই আল্লাহর রাসূল তাদের জন্য দুআ করেছিলেন।

২। রাসূলুল্লাহর চরিত্র থেকে নেতৃত্বের আরেকটি গুণ শেখার আছে। সেটি হলো মানুষ চিনতে পারা এবং তাদের সমস্যা বুঝে তাদের অন্তরের রোগের সঠিক চিকিৎসা করা। উমার ইবন খাত্তাবের অন্তর ছিল মুসলিমদের প্রতি ঘৃণায় পরিপূর্ণ। তাই যখন উমার মুসলিম হন, রাসূল জানতেন তাঁর সমস্যাটি আসলে কোথায় এবং সেই সমস্যার প্রতিকার কী। রাসূলুল্লাহ তাঁর হাত উমার ইবন খাত্তাবের বুকে রেখে একটি দুআ পড়েছিলেন, 'হে আল্লাহ, তার অন্তরকে আপনি ঘৃণা থেকে মুক্ত করে দিন'-দুআটি তিনি তিনবার পড়েন।

৩। রাসূল বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে যারা জাহেলিয়াতে শ্রেষ্ঠ, তারা ইসলামেও শ্রেষ্ঠ, যদি তাদের দ্বীনের বুঝ থাকে।' এই কথার দ্বারা রাসূলুল্লাহ বুঝাতে চেয়েছেন যে, ইসলাম গ্রহণের পূর্ব থেকে যারা ভালো গুণের অধিকারী হয়, ইসলাম গ্রহণের পরে তারাই সবচেয়ে ভালো মুসলিম হতে পারে, যদি তাদের দ্বীনের বুঝ থাকে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00