📄 আবু যারের ؓ কাহিনি থেকে শিক্ষা
১. যে ব্যক্তি সরলপথের খোঁজ করে, আল্লাহ তাকে হেদায়েত দেন। আবু যার সত্য জানার প্রচেষ্টায় আন্তরিক ছিলেন, তাই আল্লাহ আযযা ওয়াজাল তাঁকে সত্যের সন্ধান দিয়েছেন।
২. রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন যে, অন্তত একটি আয়াত জানলেও তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।
৩. আবু যার ছিলেন খুবই সাহসী। সত্য কথা অকপটে তিনি সবার সামনে প্রকাশ করে দিয়েছেন। মক্কায় একজন 'বিদেশী' হওয়া সত্ত্বেও কথা বলতে ভয় পাননি, কারণ তিনি নিজের মুসলিম পরিচয় নিয়ে গর্বিত ছিলেন।
৪. আবু যারের কাছ থেকে শিক্ষণীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কোনো কথার সত্যতা যাচাই করা। মক্কার লোকেরা রাসূলুল্লাহকে জাদুকর বা মিথ্যাবাদী বলে সবার কাছে প্রচার করেছিল। কিন্তু তাদের দেখাদেখি আবু যার সে কথায় বিশ্বাস করে ফেলেননি। বরং তিনি নিজচোখে সত্য যাচাই করতে মক্কায় এসেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে বিবেক ও বুদ্ধি দান করেছেন। মুসলিমদের উচিত মিডিয়ার কথা অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে নিজের বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে সত্য বোঝার চেষ্টা করা।
৫. রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি হাদীসে বলেছেন, 'কোনো ভালো কাজকেই ছোটো মনে করো না। এমনকি যদি তা হয় তোমার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে এক চিলতে হাসি।' কোনো ভালো কাজকেই নগণ্য ভাবা যাবে না, কেননা বিচারের দিনে একটি ছোটো কাজও হয়তো অনেক ব্যবধান গড়ে দেবে। আবু যার ইসলাম সম্পর্কে খুব বেশি জানতেন-তা কিন্তু না, তিনি অল্পই জানতেন। আর তিনি নিজের গোত্রে ফিরে গিয়ে যা জানতেন, তা দ্বারাই ইসলামের দাওয়াহ দেন-এর বেশি কিছু করেন নি। হয়তো তখন তাঁর কল্পনাতেও আসেনি যে, তাঁর পুরো গোত্র তাঁর আহ্বনে সাড়া দিয়ে মুসলিম হয়ে যাবে, এমনকি তাদের দেখাদেখি আসলাম গোত্রও ইসলাম গ্রহণ করবে! কিন্তু দাঈদের কাজ এটাই। তারা বীজ বুনবে, চারাগাছ জন্ম দেবেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। হাদীসে আছে, 'কোনো ব্যক্তি হয়তো তেমন চিন্তা-ভাবনা না করেই এমন একটি ভালো কথা বলে ফেলবে, যার কারণে আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন এবং তাঁর জন্য জান্নাত নির্ধারিত করে দেবেন। আর কোনো ব্যক্তি হয়তো এমন একটা কথা বলে বসবে যা আল্লাহর রাগের কারণ হবে, ফলে আল্লাহ তার সেই কথার জন্য তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন।'