📄 চাপ প্রয়োগ
কুরাইশরা রাসূলুল্লাহর ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। তাঁকে দমিয়ে রাখতে সম্ভাব্য সকল পথেই হেঁটেছে তারা। এক পর্যায়ে নবীজির চাচা আবু তালিবকে কাজে লাগিয়ে তাদের হীন উদ্দেশ্য হাসিলের প্রয়াস চালায়। আবু তালিবের ছেলে আকীলের মুখেই এর একটি বিবরণ পাওয়া যায়।
'একদিন কুরাইশের লোকেরা বাবার কাছে এসে খুব হৈ চৈ লাগিয়ে দিলো। বললো, তোমার ভাতিজা মুহাম্মাদ, আমাদের সভা-সমাবেশে বাধা দিচ্ছে, দশ পদের ঝামেলা বাঁধাচ্ছে। তাঁকে বলে দিও-আমাদের থেকে সাবধান, তাঁকে যেন ধারেকাছেও আর না দেখি। বাবা আমাকে ডেকে বললেন, মুহাম্মাদকে ডেকে আনো। আমি ভাইকে খুঁজতে বেরোলাম। একটা কেনাসের²⁴ মধ্যে তাঁকে খুঁজে পেলাম।"
"রাসূলুল্লাহ বাবার সাথে দেখা করতে এলেন। বাবা বললেন, লোকেরা তোমার নামে অভিযোগ এনেছে। তুমি নাকি তাদের সভায় বাধা দিচ্ছো, কী সব ঝামেলা পাকাচ্ছো, তুমি কেন এসব করছো?"
আবু তালিব মুহাম্মাদের সাথে ধমকের সুরে কথা বলছিলেন না। হুকুম দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ভাতিজাকে ডাকেননি, বরং ভাতিজার জন্য যা ভালো হবে বলে মনে হয়েছে, তেমনটাই পরামর্শ দেওয়ার জন্য ডেকেছিলেন।
রাসূলুল্লাহ আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন-চাচা, আপনি কি সূর্য দেখতে পাচ্ছেন?
- হ্যাঁ।
- এই সূর্যের তাপ থেকে আমাকে রক্ষা করতে আপনি যতোটা অপারগ, আমার এ দাওয়াতী কাজ থামিয়ে দিতেও আমি ততোটাই অপারগ। '²⁵
ইসলাম ছিল রাসূলুল্লাহর জীবন, জীবনের মিশন। এই মিশন থেকে সরে আসার কথা তিনি ভাবতেও পারতেন না। অপেক্ষাকৃত দুর্বল একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, 'যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চাঁদ এনে দেয়, তবুও আমি এ কাজ থেকে বিরত থাকবো না, যতক্ষণ না স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এই বিষয়ের ফয়সালা করে দেন, অথবা আমার মৃত্যু হয়।' তাঁর চাচা ভাতিজার কথার উত্তরে বলেন, আমার ভাতিজা, তুমি সত্য বলেছো। আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। এগিয়ে যাও এবং নিজের মিশন পূর্ণ করো। আবু তালিব বুঝতে পেরেছিলেন তাঁর ভাতিজাকে এই কাজ থেকে বিরত রাখা যাবে না। তাই তিনি নবীজিকে সবরকম ভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করতে সম্মত হন।
কুরাইশরা রাসূলুল্লাহকে আটকানোর জন্য সর্বোতভাবে চেষ্টা চালাতে থাকে। কুরাইশদের অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য মুহাম্মাদ তাঁর কিছু সাহাবীকে আবিসিনিয়াতে হিজরত করার নির্দেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে কুরাইশরা আবিসিনিয়ার শাসক নাজ্জাশির সাথে যোগাযোগ করার জন্য উঠেপড়ে লাগে। তারা তড়িঘড়ি করে তাঁর কাছে রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করে তাঁকে বলে তিনি যেন তার দেশে হিজরত করা মুসলিমদেরকে মক্কায় ফেরত পাঠান।
সে সময় মুসলিমদের অবস্থা করুণ। রাজনৈতিক প্রতিপত্তি বা অর্থনৈতিক ক্ষমতা- কোনো বিচারেই তৎকালীন মুসলিমরা কুরাইশদের সমকক্ষ বা হুমকিস্বরূপ ছিল না। তারপরও কুরাইশরা এই নিরীহ মুসলিমদের পেছনে লেগে ছিল। কারণ তারা চাইছিল ইসলামকে যেন গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা যায়। তারা বুঝতে পেরেছিল ইসলামকে যদি শুরুতেই দমন করা না হয় তাহলে একসময় তাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।
টিকাঃ
২৪. কেনাস অর্থ: একটি ছোট্ট ঘর বা তাঁবু।
২৫. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮২।
📄 হিংসা-বিদ্বেষ
হিংসার কথা বলতে প্রথমেই আসে কুরাইশদের বিখ্যাত নেতা ওয়ালিদ ইবন মুগীরার নাম। রাসূলুল্লাহর নবুওয়াত প্রাপ্তির বিষয়টি তার কোনোভাবেই সহ্য হচ্ছিল না। সে বলেছিল, 'আল্লাহ যদি কাউকে নবী বানাতেই চান, তাহলে আমাকে কেন নবী হিসেবে বাছাই করা হলো না? আমি জ্ঞানীগুণী লোক, বয়সেও মুহাম্মাদের চাইতে বড়।' একই সুরে কথা বলেছিল তাইফের আরেক লোক। হিজায অঞ্চলে সবচেয়ে প্রখ্যাত এলাকা এ দুটোই ছিল-মক্কা আর তাইফ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সূরা আয যুখরুফে তাদের এ কথা উল্লেখ করেছেন,
"আর তারা বলে, এই কুরআন কেন দুই জনপদের (মক্কা ও তাইফ) মধ্যে কোনো এক প্রভাবশালী ব্যক্তির উপর অবতীর্ণ হলো না?” (সূরা যুখরুফ, ৪৩: ৩১)
তাইফ থেকে আল মুগীরা ইবন শুআইবা একবার মক্কা বেড়াতে এলো। রাসূলুল্লাহর সাথে তার প্রথমবার সাক্ষাতের ঘটনা সে নিজেই বর্ণনা করেছে-
'আমি আবু জাহেলের সাথে মক্কার পথ ধরে হাঁটছি, এমন সময় দেখি মুহাম্মাদ। আমাদের দেখে এগিয়ে এলেন। আবু জাহেলকে বলে উঠলেন, কেন তুমি আমার অনুসরণ করছো না? কেন আল্লাহর ওপর বিশ্বাস আনছো না? কেন ইসলাম গ্রহণ করছো না?
মুহাম্মাদ, তুমি কবে আমাদের দেবতাদের অপমান করা বন্ধ করবে? তুমি যদি চাও আমরা তোমার মিশন সম্পন্ন করার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিই, তবে আমরা তোমার জন্য সে সাক্ষ্য দিয়ে দেবো। আর আমি যদি জানতাম যে তুমি সত্য বলছো, তাহলে তো কবেই তোমাকে অনুসরণ করতাম।
আবু জাহেলের এ উত্তর শোনার পর মুহাম্মাদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর সে আমার দিকে ফিরে বলে,
মুগীরা, আমি জানি মুহাম্মাদ সত্যি কথাই বলছে, কিন্তু কী যেন একটা আমাকে আটকে রেখেছে। কুসাইরের লোকেরা যখন বললো, আমরা আন-নাদওয়ার (কুরাইশদের সংসদ সভা) কর্তৃত্ব চাই, আমরা কর্তৃত্ব ছেড়ে দিলাম। তারা বললো, আমরা হিজাবার (কাবা ঘর) মালিকানা চাই, সেটাও দিয়ে দিলাম। তারা বললো, আন্দিলবার (যুদ্ধের পতাকা) দায়িত্ব চাই, সেটাও দিলাম। এরপর তারা রিফাদা আর সিকায়ার দায়িত্ব নিতে চাইলো (হাজ্জযাত্রীদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করা), আমরা তাও তাদেরকে করতে দিলাম। এবার যখন আমরা তাদের সাথে প্রতিদ্বন্দিতায় সমানে-সমান চলে এসেছি, এখন তারা বলছে, আমাদের মাঝে একজন নবী আছেন, আমরা এর সাথে কীভাবে প্রতিযোগিতা করবো? আল্লাহর কসম, আমরা কোনোদিনও তাঁকে মেনে নেব না।²⁶
নবুওয়াতের এই পুরো বিষয়টি আবু জাহেলের কাছে নিছক পারিবারিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। দুই পরিবারে প্রতিযোগিতা চলছে, কার হাতে ক্ষমতা যাবে সেটাই আবু জাহেলের মূল চিন্তা। কিন্তু সে বুঝতে পারছিল আর সবকিছুতে টেক্কা দিতে পারলেও নবুওয়াতের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূলকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সে ঠিক করলো কিছুতেই নবীজির পরিবারকে জিততে দেওয়া যাবে না। নবীজির পরিবার এই একটি দিকে তার পরিবারের থেকে এগিয়ে আছে-এটা সে কোনোক্রমেই মেনে নিতে পারছিল না। তার মনে হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষ বিষিয়ে উঠছিলো, আর এটাই আবু জাহেলের ইসলাম গ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কুরআনে পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনিতেও ঘুরেফিরে একটা রুঢ় বাস্তবতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়-সমাজের ক্ষমতাধর লোকেরাই নবী-রাসূলদের ব্যাপারে সবচাইতে বেশি বিরোধিতা করে। কেননা এক আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে তারা তাদের ক্ষমতার আসন হাতছাড়া করতে চায় না।
টিকাঃ
২৬. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৯।
📄 অত্যাচার-নিপীড়ন
নবুওয়্যাতের প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহকে অপবাদ, লাঞ্ছনা, গঞ্জনা, অপমান, ক্ষয়-ক্ষতি এ সবকিছু সহ্য করতে হলেও, অত্যাচার-নির্যাতন কখনো সহ্য করতে হয়নি। এটি ছিল আল্লাহ আযযা ওয়াজালের পক্ষ থেকে নবীজির জন্য একটি বিশেষ সুরক্ষা। প্রথমে আল্লাহ তাআলা নবীজির চাচা আবু তালিবের মাধ্যমে তাঁকে নিরাপত্তা দান করেন। আবু তালিবের মৃত্যুর পরেও আল্লাহ তাঁকে নিরাপদ রেখেছেন; তবে তাঁর অনুসারী মুসলিমরা নানা রকম অত্যাচার আর নিপীড়নের শিকার হয়। এসব ঘটনা নবীজির মনে গভীর দাগ কাটতে থাকে। তিনি ছিলেন তাঁর সাহাবীদের জন্য অন্তঃপ্রাণ। সাহাবীদের ওপর অত্যাচার তাঁকে প্রচণ্ড পীড়া দিত, তিনি তাদের কষ্ট সইতে পারতেন না।
একটি বর্ণনায় ইবন ইসহাক বলেন, 'কুরাইশরা মুসলিমদেরকে লোহার পাতে মুড়ে কড়া রোদের নিচে রেখে দিত, যেন তাদের শরীরগুলো সূর্যের উত্তাপে ঝলসে যায়।' সীমাহীন অত্যাচারের মুখেও যে সাহাবী সর্বাধিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন, তিনি হলেন বিলাল। তাঁকে যতই অত্যাচার করা হতো, তিনি যেন ততোই দৃঢ় হতেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়-এত নির্যাতন সত্ত্বেও আপনি কীভাবে 'আল্লাহ এক, আল্লাহ এক' (আহাদ, আহাদ) বলতে পারতেন?
বিলাল বলেন, কারণ আমি খেয়াল করেছি যখনই আমি 'আল্লাহ এক' বলে চিৎকার দিয়ে উঠি, ওরা আরও ক্ষেপে যায়, আরও বেশি অত্যাচার করে, তাই এটাই বারবার বলতাম।
ইবন ইসহাক বলেন, 'বিলাল আল্লাহর কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন।' বস্তুত আল্লাহ ছাড়া তাদের হৃদয়ে আর কিছুই স্থান পেতো না।
নানান মাত্রা আর ধরনের অত্যাচার বহাল থাকে। নির্যাতিতদের তালিকায় শুধু দাস সাহাবীরা নয়; বরং সম্ভ্রান্ত বংশের অনেক সাহাবীও যুক্ত হন। কুরাইশ বংশের অভিজাত পরিবার বনু উমাইয়ার সন্তান উসমান ইবন আফফান যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তাঁকে মারাত্মক রোষের শিকার হতে হয়। কুরাইশরা তাঁকে কার্পেটে মুড়ে তাঁর গায়ের ওপর লাফাতো। পায়ের চাপায় পিষে দিতো যেন তাঁকে।
মুসলিম দাসদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা ছিল ভয়াবহ। আবু জাহেল তার অধীনস্থ দাস সুমাইয়া, তাঁর স্বামী ইয়াসির, ছেলে আম্মারের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায়। ইয়াসির আর সুমাইয়া দুজনেই আবু জাহেলের হাতে শহীদ হন। এক রেওয়ায়েতে বর্ণিত আছে, আবু জাহেল সুমাইয়ার গোপনাঙ্গে বর্শা দিয়ে আঘাত করে।
বাবা-মায়ের ওপর এই পাশবিক নির্যাতনের দৃশ্য সহ্য করা কোনো সন্তানের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আম্মারকে এই ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছিল। সে চোখের সামনে দেখলো বাবা আর মা'কে অত্যাচার করতে করতে মেরে ফেলা হলো। নিজের ওপর শারীরিক নির্যাতন তো আগে থেকেই ছিল, তার ওপর বাবা-মায়ের মৃত্যু তাঁকে পাগল করে দিলো। শারীরিক অত্যাচার, মানসিক নির্যাতন সব মিলিয়ে ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত সাহাবী আম্মারের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে নবীজির বিরুদ্ধে কিছু কথা। একটা সময় যখন সব ব্যথা থেকে নিষ্কৃতি পান, তাঁকে অনুশোচনা ঘিরে ধরে। দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ছুটে যান নবীজির কাছে। নবীজি, যিনি সুখে-দুখে সর্বদা তাদের পরম আশ্রয়। পুরো ঘটনা খুলে বললেন তাঁর কাছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনের আয়াত নাযিল করলেন।
"যদি কোনো মুসলিম মাত্রাছাড়া অত্যাচারের কবলে পড়ে মুখে ঈমানের বিপরীতে কিছু কথা বলেও ফেলে, তবে সে কথার জন্য তাঁকে মাফ করে দেওয়া হবে, যদি তার অন্তরে ঈমান অটুট থাকে। কেননা আল্লাহ তাআলা কারো ওপর সাধ্যের বেশি বোঝা চাপান না।” (সূরা নাহল, ১৬: ১০৬)
ইসলামের বিরুদ্ধে আবু জাহেলের বাড়াবাড়ি সবাইকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সে ছিল দুর্বৃত্তদের নেতা, চরম ইসলামবিদ্বেষী। অপকর্ম আর দুষ্কৃতিতে তার কোনো জুড়ি নেই। সবাইকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে, মুসলিমদের অত্যাচার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। এত একনিষ্ঠভাবে শত্রুতার উদাহরণ ইতিহাসে বিরল। ইবন ইসহাকের বর্ণনায়,
'আবু জাহেল-ই হলো সেই পাপিষ্ঠ যে কুরাইশদেরকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ফুসলে দিতো। প্রভাবশালী বা উচ্চবংশীয় কোনো ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণের কথা তার কানে আসামাত্র সে তাকে অপমান করার জন্য বলতো, তুমি তোমার বাবার ধর্ম পরিত্যাগ করেছো, তোমার বাবা তোমার চেয়ে ঢের ভালো ছিল। বুড়ো আঙুল দেখাই আমরা তোমার এই ছাইপাশ আদর্শ আর মূল্যবোধকে। আমরা তোমাদেরকে বিভক্ত করে দেবো, মাটির সাথে মিশিয়ে দেবো তোমাদের সব খ্যাতি, মান-ইজ্জত নিয়ে বেঁচে থাকতে দেবো না। কোনো ব্যবসায়ী লোক মুসলিম হয়ে গেলে তাকে বলতো, আল্লাহর কসম, আমরা তোমার সাথে সব রকম ব্যবসা বয়কট করবো, তোমাকে শেষ করে দেবো। আর যদি ইসলাম গ্রহণকারী মানুষটি হতো সহায়-সম্পদহীন দুর্বল কোনো ব্যক্তি, তবে সে নিজে তো তাকে মারধোর করতোই, সেই সাথে অন্যদেরকেও মারধোর করার জন্য ডেকে আনতো। আল্লাহ আযযা ওয়াজাল আবু জাহেলকে শাস্তি দিক, তাকে ধ্বংস করুক!²⁷
উমার ইবন খাত্তাব ইসলাম গ্রহণের আগে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন। তাঁর একজন দাসী ছিল, তিনি তাঁকে অনেক মারধোর করতেন। পেটানোর মাঝখানে কখনও থেমে বলতেন, 'মনে কোরো না তোমার ওপর খুব দয়া এসেছে দেখে আমি তোমাকে পেটানো থামিয়ে দিলাম। তোমাকে মারা বন্ধ করেছি কারণ আমি এখন ক্লান্ত, তা না হলে আরো পেটাতাম।'
টিকাঃ
২৭. আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১৭।
📄 হত্যার পরিকল্পনা
পৃথিবীর বুক থেকে ইসলামের নাম চিরতরে মুছে দেওয়ার জন্য কুরাইশরা প্রথমে রাসূলুল্লাহর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চেয়েছিল। বলেছিল-এই লোকটা উন্মাদ, জাদুকর, এর কথার কোনো দাম নেই। কিন্তু বার বার ব্যর্থ হয়ে তারা শেষ পর্যন্ত নবীজিকে জানে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। আবু তালিব বেঁচে থাকতে তাদের সাহস এতোটা বাড়ে নি। তারা জানতো যে, নবীজিকে হত্যা করলে আবু তালিবের হাত থেকে তাদের মুক্তি নেই। কিন্তু আবু তালিব মারা যাওয়ার পর এসব ষড়যন্ত্র করতে আর কোনো বাধা থাকলো না। তারা নবীজিকে হত্যা করার পরিকল্পনা আঁটে। একের পর এক চাল চালে, কিন্তু প্রতিবারই আল্লাহ আযযা ওয়াজাল তাঁকে সুরক্ষিত রাখেন। হিজরতের বিবরণে এরকম একটি ঘটনা পরবর্তীতে বর্ণনা করা হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:
"কাফিররা যখন আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল যে আপনাকে বন্দী করবে অথবা হত্যা করবে অথবা বের করে দেবে – তখন তারা যেমন আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল; আল্লাহও তেমনি পরিকল্পনা করেছিলেন। আর পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে আল্লাহই শ্রেষ্ঠ।” (সূরা আনফাল, ৮: ৩০)