📄 আরবের তৎকালীন ধর্মীয় পটভূমি
ইসমা'ঈল ছিলেন আরবের নবী, আর ইসমা'ঈলের দাওয়াহ ছিল তাওহীদের দাওয়াহ, তাই আরবরা প্রথমত মুসলিমই ছিল, কিন্তু কালের পরিক্রমায় তারা একটা সময়ে এসে মুশরিক হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহর আমলে আরবে মূলত তিনটি ধর্মের প্রচলন ছিল, পৌত্তলিকতা, ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম।
ইসমা'ঈল ছিলেন আরবের নবী, আর ইসমা'ঈলের দাওয়াহ ছিল তাওহীদের দাওয়াহ, তাই আরবরা প্রথমত মুসলিমই ছিল, কিন্তু কালের পরিক্রমায় তারা একটা সময়ে এসে মুশরিক হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহর আমলে আরবে মূলত তিনটি ধর্মের প্রচলন ছিল, পৌত্তলিকতা, ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম।
📄 আরবে শিরকের উদ্ভব
আমর ইবন লুহাই আল খুযাই ছিল খুযাআ গোত্রের নেতা। সে ছিল বেশ উদারমনা, ক্ষমতাবান এক ব্যক্তি। তাকে তার গোত্রের লোকেরা অনেক সম্মান করত। তারা তাকে এতটাই সম্মান করত যে তার কথাকে আইন হিসেবে মেনে নিত। একবার আমর আশ-শামে (বর্তমান সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, লেবানন এবং জর্ডান) ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভ্রমণে যায়। সেখানে সে কিছু মূর্তি দেখে। স্থানীয় লোকদেরকে এগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তারা তাকে বলে, 'মূর্তিগুলো আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী। আমাদের একেক রকম সমস্যার জন্য আমরা এক এক মূর্তির কাছে সাহায্য চাই। তারা আমাদের হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।' মূর্তিপূজার এই প্রথা আমর ইবন লুহাই আল খুযাইকে অভিভূত করে। তার মনে হলো যে, এই মুহূর্তে আরবদের জন্য এমন কিছুই চাই! আরবদের এমন কাউকে দরকার যা তাদের হয়ে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে।
আমর ইবন লুহাই আল খুযাই আশ-শামের লোকদের কাছে একটা মূর্তি চাইলো যেন সে মূর্তিটি তার গোত্রের লোকদের কাছে নিয়ে যেতে পারে। তারা তাকে হুবাল নামের এক বিশাল মূর্তি দিল। সে হুবালের মূর্তি নিয়ে মক্কায় ফেরত গেল। হারামে গিয়ে আল-কাবার ঠিক পাশে একে স্থাপন করল। তার গোত্রের লোকদেরকে বলল যে মূর্তিটি তাদের হয়ে আল্লাহর সাথে মধ্যস্থতা করবে। মক্কা ছিল আরবের কেন্দ্রবিন্দু, ধর্মীয় ব্যবস্থাপনার মধ্যস্থল। আর এ কারণে মক্কার চারপাশে এই বিদআতটি যেন দাবানলের ন্যায় ছড়িয়ে পড়ল। মানুষের মাঝে এই ভ্রান্ত প্রথাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আরেকটি কারণ ছিল ব্যক্তি হিসেবে সমাজে আমর ইবন লুহাই আল খুযাইয়ের গ্রহণযোগ্যতা, তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে চাওয়ার প্রবণতা। সে তার গোত্রের অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তি ছিল। তাই সবাই তাকে অনুসরণ করতে চাইত। মূর্তি বানানো এবং তা বিভিন্ন গোত্রের কাছে বিক্রি করা মক্কার একটি ব্যবসায় রূপ নিল। বিভিন্ন গোত্র মক্কায় আসত এবং মানুষ তাদের পছন্দের মূর্তি কিনে চলে যেতো। তারা বহনযোগ্য মূর্তি বানানো শুরু করল যাতে মূর্তিগুলো নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করা যায়।
মূর্তিপূজার বিষয়ে উমারের একটি ঘটনা আছে, একদিন উমারকে দেখা গেল একবার হাসছেন আবার কাঁদছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে কেন তিনি এমন করছেন। তিনি বললেন, 'আমি জাহেলি যুগের একটি দিনের কথা ভেবে হাসছি। সে দিন আমি ভ্রমণে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ আমার মূর্তিপূজা করার শখ জাগল। কিন্তু আমার মনে পড়ল যে আমি আমার মূর্তিটি ফেলে এসেছি। তাই আমি উপাসনার অন্য একটি উপায় বের করার চেষ্টা করলাম। তখন আমার সাথে ছিল কিছু খেজুর। আমি সেই খেজুরগুলো দিয়ে একটি মূর্তি বানালাম এবং সেই মূর্তির পূজা করলাম। সেই রাতে আমার অনেক খিদে পায়। তখন আমি খেজুরের তৈরি মূর্তিটি খেয়ে ফেলি।' উমার পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে করছিলেন এবং অনুধাবন করছিলেন যে মূর্তি পূজারিরা কত বোকা! এভাবেই ইসলাম মানুষকে বদলে ফেলে। এটাই ইসলামের কারামত। ইসলাম মানুষকে তুচ্ছ অবস্থান থেকে অনেক উঁচু স্থানে উন্নীত করে। উমার ইবন খাত্তাবের ব্যাপারে আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ তাঁর বইয়ে একটি প্রশ্ন তুলেছেন,
'ইসলাম ছাড়া উমার ইবন খাত্তাব কী হতে পারতেন?' এর উত্তরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'তিনি তাঁর গোত্রের প্রধান হতে পারতেন, অথবা তিনি কুরাইশ গোত্রের একজন প্রসিদ্ধ নেতা হতে পারতেন অথবা সর্বোচ্চ তিনি কুরাইশ বংশের নেতা হতেন। তবে তিনি যদি কম বয়সে মারা যেতেন সেটাই হতো তাঁর জন্য প্রত্যাশিত ও স্বাভাবিক ঘটনা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিলেন, এই বদঅভ্যাসের জন্য তিনি হয়তো অল্প বয়সে অপরিচিত অবস্থায় মারা যেতে পারতেন। কিন্তু ইসলাম তাঁকে ও তাঁর অবস্থানকে বদলে দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের কারণে তিনি শুধু সমগ্র আরবের নেতা হননি বরং তিনি পুরো পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশের নেতা হয়েছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক অসাধারণ ব্যক্তি।'
মক্কায় মূর্তিপূজা সাধারণ একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন উদ্দেশ্যের জন্য বিভিন্ন মূর্তি পাওয়া যেত। আল-কাবা এইসব মূর্তি দ্বারা অপবিত্র হয়ে যায়। তখন কাবা শরীফে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। চারদিকে শির্কের ছড়াছড়ি। একটি আমদানি করা মূর্তি থেকে শির্ক সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ল। দিনে দিনে এটি একটি ব্যবসায় রূপ নেয়। এভাবেই ইসমাঈলের আনীত দ্বীনের বিকৃতি ঘটে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'আমি জাহান্নামে আমর ইবন লুহাই আল খুযাইকে নাড়িভুঁড়ি ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে চলতে দেখেছি।'³ কারণ সে-ই আরবে সর্বপ্রথম মূর্তিপূজার প্রচলন করেছিল।
টিকাঃ
৩. সহীহ বুখারি, অধ্যায় মানাকিব, হাদীস ৩১।
আমর ইবন লুহাই আল খুযাই ছিল খুযাআ গোত্রের নেতা। সে ছিল বেশ উদারমনা, ক্ষমতাবান এক ব্যক্তি। তাকে তার গোত্রের লোকেরা অনেক সম্মান করত। তারা তাকে এতটাই সম্মান করত যে তার কথাকে আইন হিসেবে মেনে নিত। একবার আমর আশ-শামে (বর্তমান সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, লেবানন এবং জর্ডান) ব্যবসার উদ্দেশ্যে ভ্রমণে যায়। সেখানে সে কিছু মূর্তি দেখে। স্থানীয় লোকদেরকে এগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তারা তাকে বলে, 'মূর্তিগুলো আমাদের এবং আল্লাহর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী। আমাদের একেক রকম সমস্যার জন্য আমরা এক এক মূর্তির কাছে সাহায্য চাই। তারা আমাদের হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।' মূর্তিপূজার এই প্রথা আমর ইবন লুহাই আল খুযাইকে অভিভূত করে। তার মনে হলো যে, এই মুহূর্তে আরবদের জন্য এমন কিছুই চাই! আরবদের এমন কাউকে দরকার যা তাদের হয়ে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে।
আমর ইবন লুহাই আল খুযাই আশ-শামের লোকদের কাছে একটা মূর্তি চাইলো যেন সে মূর্তিটি তার গোত্রের লোকদের কাছে নিয়ে যেতে পারে। তারা তাকে হুবাল নামের এক বিশাল মূর্তি দিল। সে হুবালের মূর্তি নিয়ে মক্কায় ফেরত গেল। হারামে গিয়ে আল-কাবার ঠিক পাশে একে স্থাপন করল। তার গোত্রের লোকদেরকে বলল যে মূর্তিটি তাদের হয়ে আল্লাহর সাথে মধ্যস্থতা করবে। মক্কা ছিল আরবের কেন্দ্রবিন্দু, ধর্মীয় ব্যবস্থাপনার মধ্যস্থল। আর এ কারণে মক্কার চারপাশে এই বিদআতটি যেন দাবানলের ন্যায় ছড়িয়ে পড়ল। মানুষের মাঝে এই ভ্রান্ত প্রথাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আরেকটি কারণ ছিল ব্যক্তি হিসেবে সমাজে আমর ইবন লুহাই আল খুযাইয়ের গ্রহণযোগ্যতা, তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে চাওয়ার প্রবণতা। সে তার গোত্রের অন্যতম সম্মানিত ব্যক্তি ছিল। তাই সবাই তাকে অনুসরণ করতে চাইত। মূর্তি বানানো এবং তা বিভিন্ন গোত্রের কাছে বিক্রি করা মক্কার একটি ব্যবসায় রূপ নিল। বিভিন্ন গোত্র মক্কায় আসত এবং মানুষ তাদের পছন্দের মূর্তি কিনে চলে যেতো। তারা বহনযোগ্য মূর্তি বানানো শুরু করল যাতে মূর্তিগুলো নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করা যায়।
মূর্তিপূজার বিষয়ে উমারের একটি ঘটনা আছে, একদিন উমারকে দেখা গেল একবার হাসছেন আবার কাঁদছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে কেন তিনি এমন করছেন। তিনি বললেন, 'আমি জাহেলি যুগের একটি দিনের কথা ভেবে হাসছি। সে দিন আমি ভ্রমণে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ আমার মূর্তিপূজা করার শখ জাগল। কিন্তু আমার মনে পড়ল যে আমি আমার মূর্তিটি ফেলে এসেছি। তাই আমি উপাসনার অন্য একটি উপায় বের করার চেষ্টা করলাম। তখন আমার সাথে ছিল কিছু খেজুর। আমি সেই খেজুরগুলো দিয়ে একটি মূর্তি বানালাম এবং সেই মূর্তির পূজা করলাম। সেই রাতে আমার অনেক খিদে পায়। তখন আমি খেজুরের তৈরি মূর্তিটি খেয়ে ফেলি।' উমার পুরোনো দিনগুলোর কথা মনে করছিলেন এবং অনুধাবন করছিলেন যে মূর্তি পূজারিরা কত বোকা! এভাবেই ইসলাম মানুষকে বদলে ফেলে। এটাই ইসলামের কারামত। ইসলাম মানুষকে তুচ্ছ অবস্থান থেকে অনেক উঁচু স্থানে উন্নীত করে। উমার ইবন খাত্তাবের ব্যাপারে আব্বাস মাহমুদ আল-আক্কাদ তাঁর বইয়ে একটি প্রশ্ন তুলেছেন,
'ইসলাম ছাড়া উমার ইবন খাত্তাব কী হতে পারতেন?' এর উত্তরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, 'তিনি তাঁর গোত্রের প্রধান হতে পারতেন, অথবা তিনি কুরাইশ গোত্রের একজন প্রসিদ্ধ নেতা হতে পারতেন অথবা সর্বোচ্চ তিনি কুরাইশ বংশের নেতা হতেন। তবে তিনি যদি কম বয়সে মারা যেতেন সেটাই হতো তাঁর জন্য প্রত্যাশিত ও স্বাভাবিক ঘটনা। ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তিনি মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিলেন, এই বদঅভ্যাসের জন্য তিনি হয়তো অল্প বয়সে অপরিচিত অবস্থায় মারা যেতে পারতেন। কিন্তু ইসলাম তাঁকে ও তাঁর অবস্থানকে বদলে দিয়েছে। ইসলাম গ্রহণের কারণে তিনি শুধু সমগ্র আরবের নেতা হননি বরং তিনি পুরো পৃথিবীর দুই-তৃতীয়াংশের নেতা হয়েছিলেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক অসাধারণ ব্যক্তি।'
মক্কায় মূর্তিপূজা সাধারণ একটি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন উদ্দেশ্যের জন্য বিভিন্ন মূর্তি পাওয়া যেত। আল-কাবা এইসব মূর্তি দ্বারা অপবিত্র হয়ে যায়। তখন কাবা শরীফে ৩৬০টি মূর্তি ছিল। চারদিকে শির্কের ছড়াছড়ি। একটি আমদানি করা মূর্তি থেকে শির্ক সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ল। দিনে দিনে এটি একটি ব্যবসায় রূপ নেয়। এভাবেই ইসমাঈলের আনীত দ্বীনের বিকৃতি ঘটে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, 'আমি জাহান্নামে আমর ইবন লুহাই আল খুযাইকে নাড়িভুঁড়ি ছ্যাঁচড়াতে ছ্যাঁচড়াতে চলতে দেখেছি।'³ কারণ সে-ই আরবে সর্বপ্রথম মূর্তিপূজার প্রচলন করেছিল.
টিকাঃ
৩. সহীহ বুখারি, অধ্যায় মানাকিব, হাদীস ৩১।
📄 ইহুদি মতবাদের প্রচলন
ইয়েমেনের রাজা তুব্বান আসআদ ব্যবসার উদ্দেশ্যে আশ-শামে গিয়েছিল। মদীনা অতিক্রম করার সময় সে তার ছেলেকে সেখানে রেখে যায় যেন সে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তার ছেলে মদীনায় ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারে। কিন্তু মদীনার কিছু লোক তার ছেলেকে মেরে ফেলে। মদীনায় ফিরে এসে সে তার ছেলের মৃত্যুসংবাদ পায়। এ সংবাদ শুনে সে মদীনাকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাই সে মদীনায় আক্রমণ করে। তার বিশাল সৈন্য বাহিনীকে মোকাবিলা করার মতো মদীনার তেমন শক্তিই ছিল না। তুব্বান চাইলে মদীনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারত, কিন্তু সে সময় হঠাৎ মদীনায় দুইজন ইহুদী পণ্ডিতের আগমন ঘটে।
রোমানরা জেরুসালেম দখল করার পর ইহুদিরা উদ্বাস্তু হয়ে গিয়েছিল। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ শেষ নবীর খোঁজে আরবে চলে আসে। তাদের ধর্মগ্রন্থে শেষ নবীর আগমনের কিছু লক্ষণ ছিল, তারা মদীনায় সেই লক্ষণগুলো দেখতে পায়। তাই তারা মদীনায় বসতি স্থাপন করে। সেখানে বাস করত তাদের তিনটি গোত্র-বনু কায়নুকা, বনু নাযির এবং বনু কুরায়যা। ইহুদি পণ্ডিতরা তুব্বান আস'আদের কাছে গিয়ে বলে, 'দেখুন, এই স্থানটি আল্লাহ তাআলা সুরক্ষিত করে রেখেছেন, যদি আপনি মদীনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেন তবে আল্লাহ আপনাকে ধ্বংস করে দেবেন।' তারা একথা সেকথা বলে শেষ পর্যন্ত তুব্বানকে বুঝাতে সক্ষম হয় যে, মদীনা আক্রমণ করলে তুব্বান ভুল করবে। তাদের কথায় তুব্বান এতটাই প্রভাবিত হয় যে, সে শুধুমাত্র মদীনা আক্রমণ থেকেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তার ইহুদি ধর্ম ভালো লেগে যায় এবং সেই ইহুদিদের ধর্ম গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এরপর সে সেই পণ্ডিতদেরকে ইয়েমেনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তারা রাজি হয় এবং অবশেষে তুব্বান ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করে।
সেই সময় হাওয়াযিন এবং কুরাইশ গোত্রের মধ্যে বিরোধ চলছিল। হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা মক্কা ও তুব্বান আস'আদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার প্রয়াস চালিয়ে আসছিল এবং তারা এই উদ্দেশ্য পূরণে সফলও হয়। তুব্বান মক্কা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন ইহুদি পণ্ডিতরা আবার তাকে বলল যে আল্লাহ তাআলা মক্কাকেও সুরক্ষিত করে রেখেছেন। তাই মক্কায় আক্রমণ করার বদলে তুব্বানের মক্কায় যাওয়া উচিত এবং কাবা শরীফ তাওয়াফ করা উচিত। তুব্বান ইহুদি পণ্ডিতদের সাথে মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু তারা সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ ইহুদি আলিমদের জন্য কাবা তাওয়াফ করা সমীচীন হবে না কেননা কাবা মাটির তৈরি মূর্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত। সুতরাং তুব্বান একাই মক্কায় যায় এবং কাবা শরীফ তাওয়াফ করে। তুব্বান সর্বপ্রথম কাবা শরীফকে চাদর দিয়ে আবৃত করে। সে প্রতি বছর একবার কাবার চাদর পরিবর্তন করত। পূর্বে তারা একটি চাদরের উপর অন্য চাদর বিছিয়ে দিতো। তারা মনে করতো যে, কাবার চাদর অনেক পবিত্র তাই এটি সরানো ঠিক হবে না। এই নিয়ম ততদিন বলবৎ থাকে যতদিন না অনেকগুলো চাদর কাবা শরীফের জন্য অতিরিক্ত ভারী হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে তারা কাবার চাদর অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তুব্বান আস'আদ ইহুদি পণ্ডিতদের নিয়ে ইয়েমেনে চলে যায় এবং সেখানে তাদেরকে ইহুদি মতবাদ প্রচারের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এবং উৎসাহ দেয়। বেশিরভাগ গোত্র এই মতবাদ গ্রহণ করে। সুতরাং তখনকার সময়ে দুই ধরনের ইহুদি ছিল। একদল ছিল জাতিগত ভাবে ইহুদি, এরা মূলত খায়বার ও মদীনায় বসবাস করত, আরেকদল ছিল বিশ্বাসগত ভাবে ইহুদি, এরা জাতিগতভাবে আরব, কিন্তু বিশ্বাসের দিক থেকে ইহুদি, এরা বসবাস করত ইয়েমেনে। এ থেকে বোঝা যায়, এক সময়ে ইহুদিরা তাদের ধর্ম প্রচার করত যা তারা এখন আর করে না। এভাবেই আরবে ইহুদি মতবাদের প্রসার ঘটেছিল।
ইয়েমেনের রাজা তুব্বান আসআদ ব্যবসার উদ্দেশ্যে আশ-শামে গিয়েছিল। মদীনা অতিক্রম করার সময় সে তার ছেলেকে সেখানে রেখে যায় যেন সে ফিরে আসার আগ পর্যন্ত তার ছেলে মদীনায় ব্যবসা চালিয়ে নিতে পারে। কিন্তু মদীনার কিছু লোক তার ছেলেকে মেরে ফেলে। মদীনায় ফিরে এসে সে তার ছেলের মৃত্যুসংবাদ পায়। এ সংবাদ শুনে সে মদীনাকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাই সে মদীনায় আক্রমণ করে। তার বিশাল সৈন্য বাহিনীকে মোকাবিলা করার মতো মদীনার তেমন শক্তিই ছিল না। তুব্বান চাইলে মদীনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারত, কিন্তু সে সময় হঠাৎ মদীনায় দুইজন ইহুদী পণ্ডিতের আগমন ঘটে।
রোমানরা জেরুসালেম দখল করার পর ইহুদিরা উদ্বাস্তু হয়ে গিয়েছিল। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ শেষ নবীর খোঁজে আরবে চলে আসে। তাদের ধর্মগ্রন্থে শেষ নবীর আগমনের কিছু লক্ষণ ছিল, তারা মদীনায় সেই লক্ষণগুলো দেখতে পায়। তাই তারা মদীনায় বসতি স্থাপন করে। সেখানে বাস করত তাদের তিনটি গোত্র-বনু কায়নুকা, বনু নাযির এবং বনু কুরায়যা। ইহুদি পণ্ডিতরা তুব্বান আস'আদের কাছে গিয়ে বলে, 'দেখুন, এই স্থানটি আল্লাহ তাআলা সুরক্ষিত করে রেখেছেন, যদি আপনি মদীনাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেন তবে আল্লাহ আপনাকে ধ্বংস করে দেবেন।' তারা একথা সেকথা বলে শেষ পর্যন্ত তুব্বানকে বুঝাতে সক্ষম হয় যে, মদীনা আক্রমণ করলে তুব্বান ভুল করবে। তাদের কথায় তুব্বান এতটাই প্রভাবিত হয় যে, সে শুধুমাত্র মদীনা আক্রমণ থেকেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তার ইহুদি ধর্ম ভালো লেগে যায় এবং সেই ইহুদিদের ধর্ম গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এরপর সে সেই পণ্ডিতদেরকে ইয়েমেনে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তারা রাজি হয় এবং অবশেষে তুব্বান ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করে।
সেই সময় হাওয়াযিন এবং কুরাইশ গোত্রের মধ্যে বিরোধ চলছিল। হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা মক্কা ও তুব্বান আস'আদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার প্রয়াস চালিয়ে আসছিল এবং তারা এই উদ্দেশ্য পূরণে সফলও হয়। তুব্বান মক্কা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন ইহুদি পণ্ডিতরা আবার তাকে বলল যে আল্লাহ তাআলা মক্কাকেও সুরক্ষিত করে রেখেছেন। তাই মক্কায় আক্রমণ করার বদলে তুব্বানের মক্কায় যাওয়া উচিত এবং কাবা শরীফ তাওয়াফ করা উচিত। তুব্বান ইহুদি পণ্ডিতদের সাথে মক্কায় গিয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু তারা সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ ইহুদি আলিমদের জন্য কাবা তাওয়াফ করা সমীচীন হবে না কেননা কাবা মাটির তৈরি মূর্তি দ্বারা পরিবেষ্টিত। সুতরাং তুব্বান একাই মক্কায় যায় এবং কাবা শরীফ তাওয়াফ করে। তুব্বান সর্বপ্রথম কাবা শরীফকে চাদর দিয়ে আবৃত করে। সে প্রতি বছর একবার কাবার চাদর পরিবর্তন করত। পূর্বে তারা একটি চাদরের উপর অন্য চাদর বিছিয়ে দিতো। তারা মনে করতো যে, কাবার চাদর অনেক পবিত্র তাই এটি সরানো ঠিক হবে না। এই নিয়ম ততদিন বলবৎ থাকে যতদিন না অনেকগুলো চাদর কাবা শরীফের জন্য অতিরিক্ত ভারী হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে তারা কাবার চাদর অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। তুব্বান আস'আদ ইহুদি পণ্ডিতদের নিয়ে ইয়েমেনে চলে যায় এবং সেখানে তাদেরকে ইহুদি মতবাদ প্রচারের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এবং উৎসাহ দেয়। বেশিরভাগ গোত্র এই মতবাদ গ্রহণ করে। সুতরাং তখনকার সময়ে দুই ধরনের ইহুদি ছিল। একদল ছিল জাতিগত ভাবে ইহুদি, এরা মূলত খায়বার ও মদীনায় বসবাস করত, আরেকদল ছিল বিশ্বাসগত ভাবে ইহুদি, এরা জাতিগতভাবে আরব, কিন্তু বিশ্বাসের দিক থেকে ইহুদি, এরা বসবাস করত ইয়েমেনে। এ থেকে বোঝা যায়, এক সময়ে ইহুদিরা তাদের ধর্ম প্রচার করত যা তারা এখন আর করে না। এভাবেই আরবে ইহুদি মতবাদের প্রসার ঘটেছিল।
📄 খ্রিস্টধর্মের আগমন
ঈসার পর পর্যায়ক্রমে খ্রিস্টধর্মের বিভিন্ন শাখা প্রশাখার সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে অনেক অনুসারী ধর্মচ্যুত হয়। খুব কম সংখ্যক লোকই অবশিষ্ট ছিল যারা ছিল সত্যিকার অর্থে এই ধর্মের প্রকৃত অনুসরণ করতো। পরবর্তীতে তারাই পুনরায় খ্রিস্টধর্ম পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়। ঈসার ধর্মের মূল বক্তব্য ছিল বিশুদ্ধ তাওহীদ।
সেই অনুসারীদের মধ্যেই একজন একবার ইয়েমেনে যান এবং সেখানে নাযরান নামের এক এলাকায় খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা শুরু করেন। সেখানে অনেক গোপনে এবং ধীরে ধীরে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কাজ চলছিল। ততদিনে তুব্বান আস'আদ মারা যায়। আর ইয়েমেনের রাজা ছিল তার ছেলে যু নাওয়াস। নতুন এই ধর্মের কথা তার কানে পৌঁছলে সে এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর অনুসারীদের ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করে।
ঈসার পর পর্যায়ক্রমে খ্রিস্টধর্মের বিভিন্ন শাখা প্রশাখার সৃষ্টি হয় এবং ধীরে ধীরে অনেক অনুসারী ধর্মচ্যুত হয়। খুব কম সংখ্যক লোকই অবশিষ্ট ছিল যারা ছিল সত্যিকার অর্থে এই ধর্মের প্রকৃত অনুসরণ করতো। পরবর্তীতে তারাই পুনরায় খ্রিস্টধর্ম পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়। ঈসার ধর্মের মূল বক্তব্য ছিল বিশুদ্ধ তাওহীদ।
সেই অনুসারীদের মধ্যেই একজন একবার ইয়েমেনে যান এবং সেখানে নাযরান নামের এক এলাকায় খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা শুরু করেন। সেখানে অনেক গোপনে এবং ধীরে ধীরে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কাজ চলছিল। ততদিনে তুব্বান আস'আদ মারা যায়। আর ইয়েমেনের রাজা ছিল তার ছেলে যু নাওয়াস। নতুন এই ধর্মের কথা তার কানে পৌঁছলে সে এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং এর অনুসারীদের ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করে।