📄 ঈমান সবার আগে
মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবন উবাইয়ের ছেলের নাম ছিল আবদুল্লাহ। বাবা মুনাফিক হলেও ছেলে ছিলেন সত্যিকারের মুসলিম। তিনি যখন জানতে পারলেন তার পিতার আজেবাজে কথার কারণে শাস্তিস্বরূপ তাকে হত্যা করা হতে পারে, তখন নিজেই নবীজির কাছে গিয়ে বললেন, 'আমি শুনেছি আপনি আমার পিতাকে হত্যা করতে চান। যদি তা-ই করেন, আমাকে নির্দেশ দিন, আমিই তাকে হত্যা করবো। পুরো খাযরাজ গোত্রে আমার মতো আর কেউ আমার বাবার অনুগত নয়—এ কথা খাযরাজের লোকেরা ভালো করেই জানে। আমার সামনে দিয়ে আমার পিতার হত্যাকারী নিরাপদে চলাফেরা করবে—আমি সেটা মেনে নিতে পারবো না। শয়তান তখন আমাকে পিতার হত্যাকারীকে হত্যার জন্য ফুসলাতে থাকবে। আর আমি তখন একজন কাফিরের বদলায় একজন মু'মিনকে হত্যা করে বসতে পারি। তাই যদি আপনি তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে আমাকেই তা করতে আদেশ করুন।'
নবীজি বললেন, 'না, আমরা তাকে হত্যা করবো না। এ দুনিয়ায় আমরা তাকে সঙ্গ দেবো।' এরপর আল্লাহর রাসূল ইবন উবাইয়ের পুত্রের জন্য দুআ করলেন। যে আবদুল্লাহ সারাটি জীবন 'বাবার বাধ্য সন্তান' হয়ে ছিলেন, সেই আবদুল্লাহ-ই রাসূলুল্লাহর কাছে অনুমতি চাচ্ছিলেন যেন তার বাবাকে হত্যা করা হলে তিনিই তা করার সুযোগ পান! কেন তিনি নিজের বাবাকে হত্যা করতে চেয়েছেন? এর কারণ হলো ঈমান। ঈমান সবকিছুর ওপরে প্রাধান্য পায়, এমনকি পারিবারিক বন্ধনের ওপরেও। বাবা-ভাই-স্ত্রী সবকিছুর চেয়েও বেশি দামি আল্লাহর আদেশ মেনে চলা, আখিরাতে জান্নাতের যোগ্য হওয়া। ইসলাম গ্রহণের পর আবদুল্লাহ তাই মুহাম্মাদের বিশ্বস্ত সৈনিক, অতীতের সকল আনুগত্য থেকে মুক্ত। কেননা ঈমান আনার পর চূড়ান্ত আনুগত্য কেবল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি।
📄 হেরা গুহায় নির্জনবাস
নবী কারীম মক্কা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হেরা পর্বতের গুহায় সময় কাটাতে চলে যেতেন। তিনি সাথে কিছু খাবার ও পানীয় নিতেন এবং হেরা পর্বতের নির্জনতায় আল্লাহর ইবাদাত করতেন। তখন হেরা পর্বতের গুহা থেকে কাবাকে দেখা যেতো। রাসূলুল্লাহ তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে দিনরাত আল্লাহর ইবাদাত করতেন। তিনি আল্লাহকে চিনতেন। এই সময়টা ছিল আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে ভাবার জন্য রাসূলুল্লাহর এক সুবর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, কেননা ধ্যান ও গভীর চিন্তা অন্তরকে শুদ্ধ করে। সাঈদ হাওয়া এই ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন,
'তৎকালীন সময়ে হিদায়াত অন্বেষণকারী কিছু মানুষ এই ধরনের একাকীত্বে সময় কাটানোকে বেছে নিত, সেখানে তারা আল্লাহকে স্মরণ করতো এবং আল্লাহর ইবাদত করতো। এর উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর স্মরণে নিমজ্জিত থেকে, অন্তরকে উদাসীনতা এবং নফসের খেয়াল-খশির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা যেন হৃদয়ের অন্ধকার দূরীভূত হয়ে অন্তর হিদায়াতের আলোয় আলোকিত হওয়ার সুযোগ পায়। অনেকেই মনে করে, ঈমানী যাত্রার সূচনালগ্নে একজন মানুষের উচিত নির্জনতায় কিছু নিবিড় সময় কাটানো, কারণ আল্লাহর রাসূল নবুওয়াতের আগে এবং প্রারম্ভে এভাবেই নির্জন সময় কাটিয়েছিলেন।'
মুসলিমদের আল্লাহর যিকিরে কিছু সময় একাকী কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। যেমন ভোরের প্রথমাংশে, আসরের পর অথবা জুমু'আর দিনে আসর ও মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়ে। আলেমরা এই ধরনের একান্ত যিকিরের অনেক ফাযায়েল বর্ণনা করেছেন। তবে এর মানে নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা নয়। লোকজনের সাথে মেলামেশা যেমন করতে হবে, তেমনি নিজের জন্য একান্ত কিছু সময়ও রাখতে হবে, দুটোর মাঝে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতে হবে। নির্জনতার জন্য কিয়ামুল লাইল একটি উৎকৃষ্ট সুযোগ। যখন সবাই গভীর নিদ্রায় নিমজ্জিত, তখন একাকী উঠে আল্লাহর ইবাদত করা। এই সময়টা বান্দার জন্য আল্লাহর সাথে একান্তে সময় কাটানোর অপূর্ব সুযোগ। আর এই সময়ে ইবাদাত করা বান্দার ইখলাস বা আন্তরিকতার পরিচয়ও বহন করে, কেননা এই সময়ে কেউ তাকে দেখছে না, শুধুই আল্লাহর জন্য সে সালাতে উঠে দাঁড়িয়েছে, লোক দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। অন্যান্য সালাত, যেগুলো জামা'আতের সাথে আদায় করা হয়, সেসব ক্ষেত্রে এই সুযোগ নাও থাকতে পারে।
📄 দুঃখের বছর
মাক্কী জীবনের দশম বছরকে বলা হয় আমুল হুযন বা দুঃখের বছর। কুরাইশ কর্তৃক আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস পরের ঘটনা, যে মানুষটি এতদিন ধরে রাসূলুল্লাহর সুখে-দুঃখে তাঁর পাশে ছিলেন, সেই আবু তালিব মৃত্যুশয্যায় শায়িত। রাসূলুল্লাহ আবু তালিবের পাশে বসে তাকে বললেন,
'চাচা, আপনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলুন। আপনি স্বীকার করে নিন আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমাকে এ কথাগুলো বলে যান যেন আমি শেষ বিচারের দিন আপনার পক্ষ হয়ে আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিতে পারি, আপনার শাস্তি মওকুফের জন্য আমার রবের কাছে আবেদন করতে পারি। আপনি শুধু বলুন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এ ছাড়া আমি আপনার কাছে আর কিছুই চাই না।'
রাসূলুল্লাহ যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন আবু তালিবের অপর পাশে বসা ছিল আবু জাহেল। পিছে লেগে থাকা বলতে যা বোঝায়, আবু জাহেল রাসূলুল্লাহর সাথে ঠিক তাই করতো, ইসলামের বিরোধিতায় সে ছিল আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান। সমস্ত ইসলামবিরোধী কাজ ও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা ছিল এই আবু জাহেল। রাসূলুল্লাহর বিরোধিতায় আবু জাহেল ছিল অদ্বিতীয়। সে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহর রাসূলের বিরোধিতা করে কাটিয়েছে।
আবু তালিবের এক পাশে রাসূল এবং আরেকপাশে আবু জাহেল ও আবদুল্লাহ ইবন আবি উমাইর বসে আছে। আবু জাহেল বলে উঠল, 'আবু তালিব, তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের দ্বীন ছেড়ে অন্য দ্বীনের ওপর মারা যেতে চাও? শেষ পর্যন্ত তুমি বাপের দ্বীন ত্যাগ করবে?' সে আবু তালিবকে 'ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল' করার চেষ্টা করলো। রাসূলুল্লাহ যতই আবু তালিবকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার জন্য অনুরোধ করতে লাগলেন, আবু জাহেল ততই বাধা দিতে লাগল। আবু তালিব তাঁর জীবনের শেষ কথা বলার আগ পর্যন্ত এভাবেই চলতে লাগল। অবশেষে আবু তালিব বললেন, 'আমি আমার পিতা আবদুল মুত্তালিবের দ্বীনের ওপরই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো।' এটিই ছিল মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ কথা।
আবু তালিব মারা গেলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, 'আমি আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে যাবো।' কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। বিষয়টি ছিল রাসূলুল্লাহর জন্য খুবই কষ্টকর। রাসূলুল্লাহর আট বছর বয়স থেকে আবু তালিব তাঁর দেখাশোনা করেছেন, নিজের কাছে রেখে বড় করেছেন, তাঁর ভরণপোষণ করেছেন। আবু তালিবের কাছেই রাসূলুল্লাহর শৈশবকাল কেটেছে, বড় হওয়ার পরেও আবু তালিব রাসূলুল্লাহর পাশে ছিলেন। বিয়াল্লিশ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি রাসূলুল্লাহকে সাহায্য করে গেছেন, কুরাইশদের ষড়যন্ত্র থেকে তাঁকে রক্ষা করেছেন। রাসূলুল্লাহর আট বছর বয়সে আবু তালিব সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। নবীজির পঞ্চাশ বছর পর্যন্ত সে হাত সেভাবেই তাঁকে আগলে রাখে। আবু তালিব তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় রাসূলুল্লাহকে রক্ষা করার জন্য ব্যয় করেছিলেন। তাই রাসূলুল্লাহ যখন দেখলেন তাঁর প্রিয় চাচা কাফের হিসেবে মারা যাচ্ছে তখন তা মেনে নেওয়া তাঁর জন্য বেশ কষ্টকর ছিল। তিনি যখন আবু তালিবের জন্য দুআ করতে মনঃস্থির করলেন, তখন আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল করেন,
'নবী ও মুমিনের উচিত নয় মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, যদিও তারা আত্মীয় হোক-একথা সুস্পষ্ট হওয়ার পর যে তারা জাহান্নামী।' (সূরা তাওবা, ৯:১১৩)
রাসূলুল্লাহকে আবু তালিবের জন্য দুআ করতে নিষেধ করা হলো। রাসূলুল্লাহ তাঁর চাচাকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর চাচার কথা ছিল, 'কুরাইশরা যদি আমাকে এ ব্যাপারে অপমান না করতো, তারা যা বলতো যে আমি মৃত্যুর ভয়ে কালিমা পাঠ করেছি, তবে তোমাকে খুশি করার জন্য আমি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলতাম।' আবু তালিব জানতেন কালিমা পাঠ করলে মুহাম্মাদ খুবই খুশি হবেন। কাফের হিসেবে নিজের প্রিয় চাচাকে মৃত্যুবরণ করতে দেখা নবীজির জন্য কতটা কষ্টকর ছিল তা আবু তালিব বেশ ভালোভাবেই জানতেন। আবু তালিব শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। কিন্তু তাঁর কালিমা পাঠ না করার কারণ ছিল কুরাইশদের কাছে মানসম্মান হারানোর ভয়। তখন আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত আয়াতটি নাযিল করলেন,
'আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তাআলাই যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই ভাল জানেন।' (সূরা কসাস, ২৮: ৫৬)
হিদায়াত শুধুমাত্র আল্লাহর হাতে। কে হেদায়েত পাবে তা শুধু তিনিই নির্ধারণ করেন। এমনকি রাসূলুল্লাহরও এ ব্যাপারে কিছুই করার ছিল না। তাঁর কাজ ছিল কেবল আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। এ কারণে ঈমান আনার ব্যাপারে কারো ওপর কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা ইসলাম সমর্থন করে না।
'দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। নিঃসন্দেহে হিদায়েত গোমরাহি থেকে পৃথক হয়ে গেছে। অতএব, যে ব্যক্তি তাগূতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, সে এমন রজ্জুকে আঁকড়ে ধরলো যা কখনও ছিন্ন হওয়ার নয়, আর আল্লাহ সবই শুনেন এবং জানেন।' (সূরা বাকারাহ, ২: ২৫৬)
কারোর অন্তরে কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। কে কোন ধর্ম গ্রহণ করবে সে ব্যাপারে প্রত্যেককে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দেওয়া হয়েছে আর এই ইচ্ছাশক্তিকে কে কীভাবে ব্যবহার করলো তার জন্য সবাইকে আল্লাহ তাআলার সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আবু তালিবের মৃত্যুতে যখন নবীজি শোকাহত, তার মাত্র দুই মাস পরে মারা গেলেন তাঁর স্ত্রী খাদিজা। এক মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই প্রিয়তমা স্ত্রীর মৃত্যুর মতো আরও একটি দুঃখময় ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় প্রিয় নবী মুহাম্মাদকে। তাই এই বছরকে বলা হয় শোকের বছর। এই বছরটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কষ্টকর বছর, কারণ ওই সময় তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রিয় দুইজন মানুষকে হারিয়েছেন। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রাসূলুল্লাহকে তাঁর দায়িত্ব পালনে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে আসছিলেন। খাদিজা রাসুলুল্লাহকে যেমন মানসিকভাবে সমর্থন যুগিয়েছেন ঠিক তেমনি নিজের ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছেন। অন্যদিকে, আবু তালিব রাসূলুল্লাহকে কুরাইশদের অত্যাচার ও ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, তাঁকে নিরাপত্তা প্রদান করেছেন। যে দু'জন মানুষ সুখে-দুখে, বিপদে-আপদে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে, তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন, তাঁরা হঠাৎ করেই চলে গেলেন এই দুনিয়া থেকে। শুধু তাই নয়, সে বছরে কুরাইশদের ইসলামবিরোধিতার মাত্রাও বেড়ে গেলো।
আবু তালিব যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন রাসূলুল্লাহ তেমন গুরুতর কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই ইসলাম প্রচার করতে পেরেছিলেন। কিন্তু আবু তালিবের মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহর পক্ষে আগের মতো দাওয়াতের কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। কুরাইশদের বিভিন্ন কটূক্তি ও অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে তিনি যখন ক্লান্ত অবস্থায় বাড়ি যেতেন, তখন তাঁর পাশে থাকতেন খাদিজা। তিনি তাঁকে সাহস ও স্বস্তি দিয়েছেন, জীবনের কঠিনতম মুহূর্তগুলোতে রাসূলুল্লাহর প্রিয় স্ত্রীকে পাশে পেয়েছিলেন। কিন্তু খাদিজার মৃত্যুর পর তিনি একেবারেই একা হয়ে পড়েন। খাদিজার মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ প্রায় দুই-তিন বছর পর্যন্ত বিয়ে করেননি। তখন তিনি বেশ কঠিন সময়ের মধ্যে ছিলেন।
কেন এই পরিস্থিতিতে রাসূলকে পড়তে হলো- এ প্রশ্নের উত্তরে কেউ কেউ বলেন, একসাথে এতগুলো ঘটনা ঘটার পেছনে আল্লাহ তাআলার হিকমাহ রয়েছে। তা হলো মুসলিমরা যেন আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করতে শেখে। আল্লাহ চেয়েছেন ইসলামের আহ্বানকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুসলিমরা যেন আবু তালিব বা খাদিজার এ দিকে চেয়ে না থাকে, বরং তারা যেন তাদের এই সংগ্রামে কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা ও আল্লাহর সাহায্যের দিকে চেয়ে থাকতে শেখে। সে কারনেই আল্লাহ তাআলা নবীজিকে এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করেন যে পরিস্থিতিতে তাঁকে সাহায্য করার কেউ ছিল না।
📄 ইয়াসরিব হলো মদীনা
'আমাকে স্বপ্নে হিজরতের ভূমি দেখানো হয়েছে। সেটি ছিল খেজুরগাছ পরিবেষ্টিত, দু'টি পাথুরে অঞ্চলের মাঝে অবস্থিত।'
এই হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে। বুখারিতে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ বলেন, 'আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমি মক্কা থেকে এমন এক দেশে হিজরত করছি যা খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত। আমি ধারণা করলাম যে, এলাকাটি হবে ইয়ামামা বা হিজর, কিন্তু পরে দেখা গেল যে তা ইয়াসরিব।'
মদীনার পূর্ব নাম ছিল ইয়াসরিব। রাসূলুল্লাহ এই নাম পরিবর্তন করে ইয়াসরিব নামটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, রাসূলুল্লাহ বলেন, 'যদি কেউ মদীনাকে 'ইয়াসরিব' বলে ডাকে তাহলে তাঁকে ইস্তিগফার করতে হবে।' রাসূলুল্লাহ এই শহরটির পরিচয়কে সম্পূর্ণ বদলে দিতে চেয়েছিলেন। ইয়াসরিবের ইতিহাস ছিল শত্রুতা আর যুদ্ধ-বিগ্রহে ভরপুর, তাই রাসূলুল্লাহ একে একটি নতুন পরিচয়ে পরিচিত করতে চাইলেন। ফলে এটির নতুন নাম হলো মদীনা, মদীনাতুর রাসূলুল্লাহ বা রাসূলুল্লাহর শহর। মদীনা শব্দের আক্ষরিক অর্থ শহর, তবে মদীনা বলতে এখন রাসূলুল্লাহর শহরকেই বোঝানো হয়।