📄 ইহুদি ইতিহাস
ইহুদিদের আবির্ভাব মানব ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাদের নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল কোনো যুগেই কম ছিল না। আজকের আধুনিক বিশ্ব যেসব খুঁটির (অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি) ওপর ভর করে দাঁড়িয়ে আছে, তার প্রতিটির পেছনেই রয়েছে ইহুদিদের অদৃশ্য আধিপত্য। জেরুজালেম থেকে নির্বাসিত হয়ে এক টুকরো নিরাপদ ভূমির খোঁজে তারা পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছে যাযাবরের মতো।
পেরিয়ে গেছে প্রায় ২০০০ বছর। নির্যাতন-নিপীড়ন এখন তাদের জন্য নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। এ নির্যাতন ভোগের পেছনে তাদের প্রতি যে অন্যান্য সম্প্রদায়দের অ্যান্টিসেমেটিক মনোভাব ছিল, তা বলা যায় না। কারণ, নিজেদের স্বার্থ ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তারা আজ পর্যন্ত যত কৌশল উদ্ভাবন করেছে, তার অধিকাংশই সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধুসুলভ ছিল না। পৃথক জাতীয়তাবাদ নীতি ও অসাধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দরুন তারা বারংবার বিতর্কিত জাতিতে পরিণত হয়েছে।
রাশিয়ায় ইহুদিরাই ছিল বলশেভিক বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে তারা জবাই করেছে লাখো তাজা প্রাণ। সেই বিপ্লবের যারা খলনায়ক, তারাই আজ আমাদের চোখে মহানায়ক। জার্মান সাম্রাজ্য পতনের পেছনেও তারা সবচেয়ে বড়ো প্রভাবক ছিল। তারা বিষাক্ত অণুজীব হয়ে সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে। এক এক করে দখল করে সেখানকার প্রতিটি শিল্প ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে তারা ইংল্যান্ডকে বানিয়েছে হাতের পুতুল। স্বর্ণ-রৌপ্যের মতো মহা মূল্যবান সম্পদ চুরি করে নিজেদের প্রাচুর্যতাকে করেছে পাহাড়সম। বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীকে রক্তক্ষয়ী অন্তঃকোন্দলে জড়িয়ে হাসিল করেছে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
প্রবীণ ও তরুণ ইহুদিরা নিজেদের প্রাচুর্যতা ও উচ্চাভিলাষী মনোভাব কাজে লাগিয়ে আমেরিকাকে একটি যুদ্ধবাজ দেশে পরিণত করেছে, যা আজ তাদের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য হাসিলের সবচেয়ে বড়ো হাতিয়ার। যেকোনো সরকারের শাসনামলে তাদের জন্য একটি সুবিধাজনক পদ বিশেষভাবে বরাদ্দ রাখা হয়। হোয়াইট হাউসেও রয়েছে তাদের অবাধ প্রবেশাধিকার। আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে বিষাক্ত মতবাদ ঢুকিয়ে দিতে ইহুদি রাবাইদের যেন পরিশ্রমের শেষ নেই। তারা বলে- 'আশীর্বাদ চাইলে ইজরাইল যাও। কারণ, আমরাই সৃষ্টিকর্তার একমাত্র মনোনীত সম্প্রদায়।'
জনসংখ্যায় এত অল্প হয়েও তারা যেভাবে নিজেদের ক্ষমতা ও আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা ইতঃপূর্বে অন্য কোনো জাতি পারেনি। পুরোনো ছেঁড়া কাপড় সংগ্রহ করে তা বিক্রি করা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির সবকিছু আজ তারা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। শিল্প-প্রতিষ্ঠানের অধিক পরিশ্রমী পদে কাজ করার ব্যাপারে তাদের রয়েছে তীব্র অনীহা। উৎপাদন ও যন্ত্রপাতি পরিচালনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদগুলোতে সাধারণত জ্যান্টাইলদের ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে সেলসম্যান, ম্যানেজার এবং ক্লার্কের মতো সহজ পদগুলো তাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। প্রাচীন প্রশিয়ানদের এক সমীক্ষা অনুযায়ী- তাদের মোট জনসংখ্যা ছিল ২৬৯৪০০ জন। এর মাত্র ছয় শতাংশ অর্থাৎ, ১৬১৬৪ জন ছিল ইহুদি, যার মধ্যে ১২০০০ জনই ছিল ব্যবসায়ী এবং ৪১৬৪ জন শ্রমিক। অন্যদিকে ৯৬ শতাংশ জ্যান্টাইল অর্থাৎ ২৫৩২৩৬ জনের মধ্যে মাত্র ১৭০০০ জন ব্যবসায়ী।
বর্তমান প্রেক্ষাপট অবশ্য ইতিহাস থেকে অনেক ভিন্ন। ব্যাবসা-বাণিজ্যের উঁচু পদগুলোতে আজ জ্যান্টাইলদের উপস্থিতি পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তাদের সংখ্যা যে হ্রাস পেয়েছে তা নয়; Jews Encyclopedia অনুযায়ী- বর্তমানে বিশ্বের বৃহদাকার প্রায় সকল বিপণিবিতান তারাই পরিচালনা করছে। ট্রাস্ট, ব্যাংক, কৃষি ও খনিজ সম্পদের মতো আরও অনেক শিল্প রয়েছে, যা তাদের কবজাধীন হয়ে পড়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও জ্যান্টাইলদের মালিকানায় রয়েছে, তার পেছনেও ইহুদিদের বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী কাজ করছে। প্রকাশনী শিল্পে তারা কতটা ক্ষমতাধর, তা সামনের অধ্যায়গুলোতে আলোচনা করা হবে। থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীত জগতে তাদের দ্বিতীয় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।
জার্মান লেখক Werner Sombart তার বই Jews and Modern Capitalism-এ উল্লেখ করেন- 'যদি আমেরিকার অভিবাসন হার, প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর জন্মহার এবং উন্নয়নসূচক একই ধারায় চলতে থাকে, তবে আগামী পঞ্চাশ বা একশো বছর পর এ দেশ হবে নিগ্রো, ক্রিতদাস ও ইহুদিদের দেশ; যেখানে তারাই হবে ক্ষমতাধর জনগোষ্ঠী।'
আলোচনার গভীরে যাওয়ার আগে দুটি বিষয়ে পরিষ্কার জ্ঞান রাখা উচিত।
প্রথমত: পৃথিবীর সব ইহুদিই সম্পদশালী নয়; তাদের মাঝেও ধনী-গরিব শ্রেণি আছে। তবে গরিব শ্রেণির দরিদ্র্যতার মূল কারণ- তাদের সম্পদশালী জ্ঞাতি ভাইয়েরা। মূলত কৌশলগত কারণেই তারা নিজেদের মাঝে এই শ্রেণি-পার্থক্যের জন্ম দিয়েছে।
দ্বিতীয়ত: শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তারা নিজেদের ঐক্য ও জাতীয়তায় বিভাজন তৈরি করেনি। ফলে কৃতিত্ব ও সফলতা অর্জনের দিক দিয়ে অন্য কোনো সম্প্রদায় কখনোই তাদের সমকক্ষ হতে পারেনি। আজকের আমেরিকা তো তারাই তৈরি করেছে। উনবিংশ শতাব্দীতে ঔপনিবেশিক শাসন ও ক্ষমতার লড়াই নিয়ে পুরো পৃথিবী যখন ক্ষত-বিক্ষত, তখন অসংখ্য মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে আমেরিকায় অভিবাসী হয়। আর এই সুযোগ লুফে নিয়ে ইহুদিরাও দলে দলে আমেরিকায় প্রবেশ করা শুরু করে। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর যেখানে একমাত্র অবলম্বন ছিল মেধা ও পরিশ্রম, সেখানে তাদের অবলম্বন অঢেল অর্থ-সম্পদ। তারা জন্ম দেয় পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার। শুরু হয় শ্রমবাজারের সাথে পুঁজিবাজারের দ্বন্দ্ব। নামমাত্র পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পুঁজিপতিরা কিনে নিতে থাকে সাধারণ মানুষের মেধা ও শ্রম।
একটা সময় ছিল- যখন তারা শুধু কৃষি কাজ করত। রোমান সম্রাট কর্তৃক জেরুজালেম থেকে নির্বাসিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এটাই ছিল তাদের মূল পেশা। তাহলে কীভাবে তাদের আমূল পরিবর্তন হলো, আর কীভাবেই-বা উত্থান ঘটল? আসলে Formative Period (১০০০ BC-৫০০ AD)-এর বিশেষ একটি শাসনব্যবস্থা তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। অর্থনৈতিক কাঠামো ন্যায়সংগত করতে পয়গম্বর মোজেস 'Money aristocracy' আইনটির প্রচলন করেন। সুদ-বাণিজ্য এবং ঋণী ব্যক্তির জমি দখল করাকে তিনি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেন। তার আইনে চিরস্থায়ী আয়েশি জীবনের কোনো স্থান ছিল না। তিনি দখলদারদের হাত থেকে আত্মসাৎ হওয়া সকল জমি উদ্ধার করে জনসাধারণের মাঝে বণ্টন করেন। এ আইন ৫০ বছর স্থায়ী ছিল; যাকে বলা হয় 'The Year of Jubilee'।
কিন্তু এমন আইন মেনে চললে তো আর রাজকীয় সম্পদের মালিক হওয়া যাবে না। তাই মোজেস মারা যাওয়ার কিছুদিন পর তারা আবারও সুদ-বাণিজ্যে ফিরে আসে। মূলত, মুনাফার প্রশ্নে তারা কখনো আপস করতে রাজি ছিল না। তাই মোজেসের যেসব আইন অধিক মুনাফা অর্জনে প্রতিবন্ধক, সেগুলোর প্রতিটি তারা পালটে দেয়। 'Law of Stranger' নামে তারা নতুন একটি আইন তৈরি করে। এ আইন অনুযায়ী অন্যান্য সম্প্রদায়দের সাথে বাণিজ্য করার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হতো। যেমন: একজন অপরিচিত জ্যান্টাইলের সাথে সুদ-বাণিজ্য করা যাবে, কিন্তু নিজ ধর্মের ভাইয়ের ওপর কখনোই সুদের বোঝা চাপানো যাবে না।
ইতিহাস বলে, ইজরাইল সব সময় একটি শাষকরাষ্ট্র হতে চেয়েছে। তারা চেয়েছে, পৃথিবীর প্রতিটি রাজ্য তাদের কুর্নিশ করবে এবং তারাই হবে সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না! জ্যাকব থেকে শুরু করে সকল পয়গম্বর চেয়েছিলেন- ইজরাইল পৃথিবীর বুকে একটি ন্যায়পরায়ণ জাতি হিসেবে টিকে থাকবে। ওল্ড টেস্টামেন্টও ঠিক একই কথা বলে। তাহলে কেন তাদের এই অধঃপতন। তা কীভাবেই-বা ঘটল? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের ফিরে যেতে হবে ক্যানাইটদের যুগে।
আজ থেকে আনুমানিক ৩৯০০/৪০০০ বছর পূর্বে ইজরাইল, লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান নীলনদের পূর্বাঞ্চলীয় অনেকটা অংশ জুড়ে ছিল ক্যানাইটদের রাজত্ব। সে সময় পয়গম্বর আব্রাহামকে মেসোপটেমিয়ার কোনো এক স্থানে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। সৃষ্টিকর্তা তাকে সেই আগুন থেকে রক্ষা করে ক্যানান ভূমিতে নিয়ে আসেন। আব্রাহাম যখন মেসোপটেমিয়ায় ছিলেন, তখনই সৃষ্টিকর্তা তাঁর সাথে একটি সন্ধি করেন। বলা যেতে পারে এটা ইজরাইল জাতির মূল সূচনালগ্ন। আব্রামের নিরানব্বই বছর বয়সে প্রভু তাকে দেখা দিলেন এবং বললেন- 'আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তুমি আমার সাথে গমন করে পরিশুদ্ধ হও। আমি তোমার সাথে আপন নিয়ম স্থির করব এবং তোমার বংশকে অতিশয় বৃদ্ধি করব।'
আব্রাম তখন ভূমিষ্ট হয়ে পড়েন। ঈশ্বর বললেন- 'দেখ, আমি তোমার সাথে এই সন্ধি করছি, তুমি হবে বহু জাতির পিতা। তোমার নাম আর আব্রাম (মহাপিতা) থাকবে না; বরং হবে আব্রাহাম (বহুলোকের পিতা)। কারণ, তোমাকে বহু জাতির পিতা বানালাম। ...এই সমগ্র ক্যানান দেশকে আমি তোমাকে এবং তোমার ভাবী বংশধরদের চিরস্থায়ী অধিকারার্থে প্রদান করব, আর আমি হব তাদের ঈশ্বর।' Genesis. 17:1-8
তারও অনেক আগে- সৃষ্টিকর্তা ঠিক এ রকমই একটি সন্ধি করেছিলেন পয়গম্বর নোয়াহের সাথে। পার্থক্য হলো- পয়গম্বর আব্রাহামের বংশধরদের যেখানে ক্যানাইট ভূমির অধিকার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে পয়গম্বর নোয়াহের বংশধরদের সমগ্র বিশ্বের কর্তৃত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
ক্যানাইটরা হলো নোয়াহের কনিষ্ঠ পুত্র হ্যামের বংশধর। নোয়াহ সৃষ্টিকর্তার সাথে সন্ধি করেছিলেন- তার বংশধররা কেবল তারই উপাসনা করবে এবং তার প্রণীত সকল আইনকানুন মেনে চলবে। কিন্তু সেই সন্তানেরা একসময় একেশ্বরবাদের কথা ভুলে গিয়ে পৌত্তলিকতায় মেতে ওঠে। তারা ঈশ্বরের আইন অগ্রাহ্য করে নিজেদের মতো আইন রচনা এবং বিভিন্ন ভাস্কর্যের উপাসনা করতে শুরু করে। যেমন: আনাথ- যুদ্ধ-বিগ্রহের কুমারী দেবী, আখিরাত- সমুদ্র পরিভ্রমণকারী, আত্তার- প্রভাতের দেবতা ইত্যাদি। তাদের এই পেগানবাদ তত দিনে ক্যানানসহ অনেক স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও আরও অনেক পাপকর্মের দরুন তারা একসময় সৃষ্টিকর্তার অভিশপ্ত জাতিতে পরিণত হয়।
অপরদিকে, পয়গম্বর আব্রাহামের বংশধরদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাঁর পৌত্র জ্যাকবের অপর নাম ইসরাইল। এই নাম অনুযায়ী তাঁর ১২ পুত্র এবং তাদের বংশধরদের একত্রে বনি ইসরাইল বলা হয়। সৃষ্টিকর্তার সহায়তায় ফেরাউনের রাজত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে জেরুজালেমে ফিরে আসার পর তাদের নিকট ঐশী বাণী আসে, তারা যেন ক্যানাইটদের সেখান থেকে বের করে দেয়।
কিন্তু তারা এই নির্দেশ অমান্য করে। তারা এই অভিশপ্ত জাতির সম্পদ ও প্রাচুর্যের মোহে পড়ে যায়। এমন একটি জাতিকে নির্বাসিত করে তারা সম্পদের মহাসমুদ্র হাতছাড়া করতে চায়নি। অবাধ্যতার সূচনা এখান থেকে শুরু। ধীরে ধীরে তারা ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বস্তুবাদী বিশ্বাসে আগ্রহী হয়ে ওঠে। কিন্তু স্বর্গীয় নির্দেশ অমান্য করার দরুন তাদের ওপর যে শাস্তি নেমে আসে, তা বহুকাল বয়ে বেড়াতে হয়। অনেকের ধারণা- এই ক্যানাইটরাই আজকের ইহুদিদের সকল ক্ষমতা ও প্রাচুর্যতার মূল কারণ।
যাযাবর হলেও ব্যবসায়-বাণিজ্যের অগ্রদূত হিসেবে তারা যে পুরো পৃথিবী চষে বেড়িয়েছে, তার কিছু নমুনা দেওয়া যাক। একসময় চায়নাতে তাদের একটি জনগোষ্ঠী ছিল। সেক্সনদের সময় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তারা দলবলে ইংল্যান্ডে হাজির হয়। পিলগ্রিম ফাদাররা দক্ষিণ আমরিকার প্লেমাউথ শিলায় আসার শত বছর আগ থেকে তাদের বণিকরা সেখানে রমরমা বাণিজ্য করত। ১৪৯২ সালে সেন্ট থমাস দ্বীপে তারা প্রথম চিনি কারখানা গড়ে তোলে। ব্রাজিলেও ছিল তাদের আফিম বাণিজ্য। তারা যে পৃথিবীর কোথাও চষে বেড়ানোর বাকি রাখেনি, তা ছোট্ট একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব; জর্জিয়াতে প্রথম যে সাদা বর্ণের শিশুটি জন্ম নেয়, সেও ছিল একজন ইহুদি- Isaac Minis।
ব্যবসায়-বাণিজ্যে নিত্যনতুন কৌশল এবং উপকরণ উদ্ভাবনের প্রতিভা- সব যুগেই তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার শীর্ষে থাকতে সাহায্য করেছে। আজকের দিনেও ব্যবসায়িক লেনদেনে এমন অনেক জিনিসের ব্যবহার হচ্ছে, যার প্রকৃত আবিষ্কারক তাদের-ই কোনো না কোনো সদস্য। যেমন: পৃথিবীর প্রাচীনতম বিল অব এক্সচেঞ্জের আবিষ্কারক হলো- Simon Rubens। তা ছাড়া কাগজের নোট, ব্যাংক নোট, বিভাগীয় বিপণিবিতান, দ্বৈত্ব করব্যবস্থা ইত্যাদি তাদেরই আবিষ্কার।
'Payable to Bearer (বাহককে প্রদেয়)' নিয়ে মজার একটি গল্প আছে। সাধারণত ধনী ব্যবসায়ীদের শত্রুর অভাব হয় না। এ কারণে ইহুদিদের শত্রুর অভাব ছিল না। কেউ যেন তাদের সম্পদ ছিনিয়ে নিতে না পারে, সে জন্য তারা সম্পদের পরিমাণ বা মালিকানা কখনো প্রকাশ করত না; বরং একজন বাহক-এর নামে এর মালিকানা গোপন রাখত। সে সময় তাদের সম্পদ জব্দ করা জলদস্যুদের জন্য বৈধ ছিল। তারা পণ্যের ওপর নিজেদের নাম না লিখে 'Bearer bill' ব্যবহার করত। তাই বোঝার কোনো উপায় থাকত না, কোনটা তাদের পণ্য আর কোনটা জ্যান্টাইলদের। তখন ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যক্তি-বিশেষকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করা হতো, কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক বাণিজ্যের চেয়ে পণ্যকেন্দ্রিক বাণিজ্যকে তারা অধিক গুরুত্ব দিত। কারণ, অর্থ পরিশোধের পূর্বে যদি ক্রেতা সাহেবের মৃত্যু হয়, তবে বিক্রেতা কখনো সে অর্থ দাবি করতে পারবে না, কিন্তু পণ্যকেন্দ্রিক বাণিজ্যে ক্রেতা সাহেব মারা গেলেও বিক্রেতা অন্তত তার পণ্য দাবি করতে পারবে। নতুন এই পদ্ধতি ব্যবসায় জগৎকে অনেক নির্দয় করে তোলে। কারণ, তখন মানুষ ব্যক্তি-বিশেষের চেয়ে পণ্য-সম্পদ রক্ষায় অতি ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
আজকের যে পুঁজিবাদ অর্থব্যবস্থা, তার জন্মদাতা তো তারাই! তবে নিজেদের এ কীর্তি গোপন রাখতে 'জ্যান্টাইল ফ্রন্ট' নামে তারা নতুন এক কৌশল উদ্ভাবন করে। অর্থাৎ মুখোশ হিসেবে জ্যান্টাইলদের ব্যবহার করে, যেন ভেতরের মানুষটাকে কেউ চিনতে না পারে। এ জন্য বিপণিবিতান, ব্যাংকিং কোম্পানি, সংগীতের দোকান, থিয়েটার হল ও মদের দোকানগুলোতে নিয়োজিত কর্মীদের অধিকাংশই খ্রিষ্টান, মুসলিম বা পেগানদের মধ্য থেকে হয়ে থাকে। কিন্তু পেছন থেকে যে এগুলোর কলকাঠি কোনো ইহুদি বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী নাড়ছে, তা অনেকের পক্ষেই বোঝা অসম্ভব।
যে স্টক একচেঞ্জ শিল্পকে কেন্দ্র করে আজ প্রতিটি দেশ বড়ো বড়ো পুঁজিবাজার গড়ে তুলছে, তাও তাদের প্রতিভার আরেকটি বহিঃপ্রকাশ। বার্লিন, প্যারিস, লন্ডন, ফ্রাঙ্কফুট ও হাম্বার্গারের প্রথম সব স্টক এক্সচেঞ্চের নিয়ন্ত্রকগোষ্ঠী তারাই। ভেনিস ও জেনওয়াককে তো বলাই হতো ইহুদিদের শহর। আধুনিক ব্যাংকিং শিল্পের প্রথম ভিত্তি প্রস্তর সেখানেই গড়ে ওঠে। তা ছাড়া ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, ব্যাংক অব আমস্টারডাম, ব্যাংক অব হাম্বার্গ, ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম ইত্যাদি তাদেরই পরিকল্পনায় গড়ে উঠে, যা আজও টিকে আছে।
তারা পৃথিবীর যেখানে গিয়েছে, সেখানেই পুরো অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। একসময় স্পেন ছিল স্বর্ণ বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। তাদের বের করে দিলে স্পেনের অর্থনীতি এমনভাবে ভেঙে পড়ে, যা আজও পুনরূদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ইউরোপের অর্থনৈতিক ইতিহাস বিভাগের ছাত্ররা প্রায়ই একটা বিষয় ভেবে খুব অবাক হয়- বিশ্ব বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু কেন বারবার পরিবর্তিত হয়েছে?
জ্যান্টাইলদের রক্ত যেন ইহুদিদের মাঝে প্রবেশ করতে না পারে, তাই বিয়ে-শাদির ব্যাপারে তাদের রয়েছে বিশেষ আইন। মধ্যযুগীয় বিভিন্ন দলিল থেকে জানা যায়- তাদের সংগ্রহে এমন অনেক তথ্য থাকত, যা তৎকালীন রাজা-বাদশাহদের কাছেও থাকত না। দূরদর্শী ক্ষমতার দিক দিয়ে তাদের সমতুল্য পৃথিবীতে আর কোনো জাতি ছিল না। ভবিষ্যৎ দিনগুলোতে পৃথিবীর বিভিন্ন রাজ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা তারা পূর্বেই অনুমান করতে পারত। পরবর্তী সময়ে তা নিউজ লেটার আকারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করত। রাজ্য পরিচালনায় আগাম তথ্য যে কতটা মূল্যবান, তা নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তাই এই অমূল্য তথ্যের প্রধান জোগানদাতা হিসেবে তারা সব সময়-ই কাজ করত; তা গুপ্তচর বৃত্তি করে হোক বা অন্য যেকোনো উপায়ে-ই হোক। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা ছিল তাদের আরেকটি কৌশল।
এই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা প্রতিটি রাষ্ট্রে ঋণ ব্যবস্থার এজেন্ট বনে যায়। গড়ে তোলে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক। প্রতিটি রাষ্ট্রে তাদের কিছু এজেন্ট থাকত, যারা সেখানকার আর্থিক লেনদেনের হিসাব রাখত। প্রয়োজনে বিভিন্ন রাষ্ট্রকে বড়ো অঙ্কের ঋণ দেওয়ার এখতিয়ার পর্যন্ত তাদের ছিল। তাদের বলা হতো 'Court Jew'। পরে এই ঋণ প্রতিটি রাজা-বাদশার ওপর বিশাল অঙ্কের দায় হিসেবে চেপে বসত। তারা কখনো রাশিয়ান জনগণকে নিয়ে ভাবত না; বরং ভাবত কীভাবে রাশিয়ার সরকারকে কবজায় আনা যায়। একই পরিকল্পনা করত জার্মানি, ফ্রান্স ও ইটালিসহ পৃথিবীর প্রতিটি রাষ্ট্রকে নিয়ে। খুব কৌশলে তারা এক রাজাকে অন্য রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লেলিয়ে দিত। ভয় ও কুসংস্কারের জাঁতাকলে কাবু করে রাখত প্রতিটি জাতিকে।
তবে এটা ঠিক যে, ব্যক্তি হিসেবে কিছু সৎ ও পরোপকারী ইহুদি সব যুগেই খুঁজে পাওয়া যাবে। শান্তির বাণী প্রচার করাই যে ইজরাইলের একমাত্র উদ্দেশ্য, এমন চেতনা কেবল তারাই লালন করে। তারপরও জাতিগতভাবে তাদের ওপর সাধারণ মানুষের যে বিদ্বেষ, তা কখনো বন্ধ হয়নি। তাদের নিয়ে একটি প্রবাদ আছে- 'ইজরাইল অনেকটা আঙুর গাছের মতো; তার শাখা-প্রশাখা যতই কাটা হোক না কেন, তা আবারও গজাবে। কারণ, তার শেকড় রয়েছে আছে মাটির অনেক গভীরে।'
আজকের যে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক, তার সূত্রপাত হয়েছিল অষ্টাদশ শতাব্দীতে। জার্মান ইহুদি পরিবার রথসচাইল্ড হলো এই শিল্পের কান্ডারি। ইংল্যান্ড, ইটালি, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়াসহ আরও অনেক দেশে তাদের শাখা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। যখনই কোনো রাজার অর্থের প্রয়োজন হতো, তারা এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহ করত। আবার যদি কোনো রাজা মূল্যবান সম্পদ (স্বর্ণ, রৌপ্য, কপার ইত্যাদি) ব্যবহার না করে বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে চাইত, তবে ব্যাংকারগণ চেকের মতো ছোট্ট একটি কাগজের টুকরো স্বাক্ষর করে সেই দেশের শাখায় পাঠিয়ে দিত। এই কাগজের টুকরো আজকের দিনে ব্যাংক চেক-এ রূপ নিয়েছে। আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম যে সামরিক বহিনী গঠিত হয়, তাতেও ছিল ইহুদিদের মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ।
বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক অফিস স্থাপনের ধারণা সর্বপ্রথম তাদের মাথা থেকেই উদ্ভাবিত হয়। ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে যখন নতুন কোনো সুযোগ বা সম্ভাবনা দেখা দিত, প্রথম তারাই সে খবর পেত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর 'Peaceful Penetration' নামে একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার দরুন আমেরিকার বাজার জার্মানদের জন্য উন্মুক্ত হয়। এতে করে সে দেশের সাধারণ জনগণ লাভবান হয়েছে তা নয়। কারণ, পুরো ঘটনার আড়ালে ছিল সেখানকার ইহুদিরা। তারা জার্মানির নাগরিকত্বকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকায় প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে। সিন্ডিকেট উপায়ে প্রতিটি শিল্পের ওপর থাবা বসাতে শুরু করে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী নিরূপায় হয়ে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে আমেরিকা জার্মানি হতে প্রচুর তুলা আমদানি করে। আরও অনেক তুলা রপ্তানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর তা আর রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। মালিক সমিতি এত তুলা নিয়ে কী করবে? সব তো নষ্ট হয়ে যাবে! ফলে তারা বাধ্য হয় তুলা নিলামে ওঠাতে। এ সময় লন্ডনে থাকা ইহুদিরা সেই পাহাড় পরিমাণ তুলা নিলামের ভিত্তিতে কিনে নেয়। তারা যে মূল্যে তুলা ক্রয় করে, তা ছিল আমেরিকান বাজারমূল্য থেকে অনেক কম। এর উদ্দেশ্য ছিল বাজারে তুলার দাম কমিয়ে আনা। ফলাফল তাই হলো; রাতারাতি তুলার দাম কমতে শুরু করে। এই সুযোগে তারা আরও অনেক তুলা কিনে বাজারকে তুলাশূন্য করে। বাজার খালি হওয়ার পর তারাই আবার তুলার দাম বাড়াতে শুরু করে। কারণ, বাজারে তুলার ছিটেফোঁটা পর্যন্ত ছিল না। তারা প্রচার করে- বাজারে তুলার খুবই অভাব, তাই তুলাজাত পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে বিশ্বযুদ্ধে তারা প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে যায়।
বিশ্ব অর্থব্যবস্থার বর্তমান প্রেক্ষাপট কতটা কঠিন রূপ নিয়েছে, তা সহজে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। নির্দয় পুঁজিবাজার কখনো শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে পারেনি। শ্রমিকদের শোষণের মাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহলগুলো সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। পুঁজিকে কুক্ষিগত করে স্বার্থান্বেষী মহল কুলি-মজুরদের পারিশ্রমিক পানির দরে নামিয়ে এনেছে। পুঁজিবাজার হলো শ্রমবাজারের ছাদস্বরূপ, কিন্তু এই ছাদ কখনো শ্রমজীবী মানুষের নিরাপদ আশ্রয় হতে পারেনি।
পুঁজি বলতে আমরা মূলত অর্থকে বুঝি, যা উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়। আমরা ভুলবশত উৎপাদক গোষ্ঠী, ব্যবসায়িক ম্যানেজার ও চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাদ বলে থাকি। কিন্তু কীভাবে তাদের পুঁজিবাদ বলব, যখন তাদের ব্যবসায়িক পুঁজির জোগানদাতা অন্য কোনো বিনিয়োগকারী গোষ্ঠী! মূলত এই বিনিয়োগকারীদের চাপে পড়ে উৎপাদক, ম্যানেজার এবং চাকরি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বভাবগত ভালো রূপ থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়। পায়ের নিচে মাটি ধরে রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ মেটাতে তারা শ্রমবাজারের ওপর কঠিন রূপ ধারণ করে। ফলে পুঁজিবাজার ও শ্রমবাজারের মধ্যে সব সময় বিরোধ লেগে থাকে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি লাভ কখনোই সম্ভব নয়; যতদিন না বিশ্ব অর্থব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এই স্বার্থান্বেষী মহলের থেকে ছিনিয়ে আনা যাবে।
আজ পুরো পৃথিবী এমন কয়েকটি ভয়ংকর মতবাদে পরিচালিত হচ্ছে, যার অধিকাংশই আমাদের অজানা। যেমন: 'সুপার ক্যাপিটালিজম'- যেখানে বলা হয় 'স্বর্ণই প্রকৃত সম্পদ'। 'সুপার গভর্নমেন্ট' একটি পৃথক ও স্বাধীন সরকারব্যবস্থা, যার উদ্দেশ্য পৃথিবীতে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার প্রতিষ্ঠা করা। যতদিন না এই ভয়ংকর মতবাদ দুটোর অবসান ঘটবে, ততদিন পর্যন্ত পুঁজিবাজার ও শ্রমবাজারের দ্বন্দ্ব চলতেই থাকবে।
আমেরিকা আবিষ্কার ইতিহাস আমাদের শিখিয়েছে, আমেরিকা আবিষ্কার করেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস। তবে এটা শেখায়নি, তিনি কাদের সহযোগিতায় এ দেশের সন্ধান পান। আজ অবধি যে সকল ঐতিহাসিক সমুদ্র অভিযান মানুষকে নতুন সব জ্ঞান ও প্রাচুর্যতা এনে দিয়েছে, তার অর্ধেক সম্ভব হয়েছে কেবল ইহুদিদের জন্য। যাযাবর জাতি হওয়ায় ইহুদিদের একটি বিশেষ সুবিধা হলো- পৃথিবীর আনাচে-কানাচে কোথায় কী আছে, তা তারা খুব ভালো করেই জানে। তা ছাড়া সমুদ্রযাত্রায় মানুষ যেসব যন্ত্রপাতি বহুকাল ধরে ব্যবহার করেছে, তার অধিকাংশই ইহুদিদের আবিষ্কার। যেমন: ম্যাপ, কম্পাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান ইত্যাদি। এ কারণে সমুদ্র অভিযান পরিচালনা করার ক্ষেত্রে তাদের মতো দক্ষতা আর কোনো জাতির ছিল না। এ জন্য প্রতিটি দেশের নৌবিভাগে তাদের আলাদা কদর ছিল।
১৪৯২ সালের ২ আগস্ট ইহুদিদের তিন লাখ অধিবাসীকে স্পেন থেকে নির্বাসিত করা হয়। ঠিক তার পরদিন ৩ আগস্ট কলম্বাস তাদের মধ্যে একদল নাবিককে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমসমুদ্র পথে বেরিয়ে পড়েন। বিশেষ এই জাতিগোষ্ঠীর সাথে সখ্যতার কথা কলম্বাস বহুবার নিজ মুখে স্বীকার করেছেন। নিজের নতুন সব অভিযান পরিকল্পনা এবং আবিষ্কারের কথা প্রথমে তিনি এ দলকে জানাতেন।
ছোটোকাল থেকেই শুনে আসছি, সমুদ্র অভিযানের প্রতি কলম্বাসের এতটা আগ্রহ দেখে রানি ইসাবেলা নিজের বহু স্বর্ণালংকার তাকে দান করে দিয়েছিলেন। সেই দানের অর্থে নির্মিত হয় জাহাজ, ক্রয় করা হয় প্রয়োজনীয় সব রসদপত্র। তবে এই দান যে তিনি এমনি এমনি করেননি, সেই তথ্য সহজে কোথাও উল্লেখ করা হয় না।
তৎকালীন স্পেন সাম্রাজ্যে রানি ইসাবেলার ঘনিষ্ঠ তিনজন ইহুদি উপদেষ্টার পরিচয় পাওয়া যায়। তারা হলেন- ভ্যালেন্সিয়ার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং রয়েল টেক্সাসের ইজারাদার Luis de Santagel, স্পেনের সরকারি কোষাধ্যক্ষ Gabriel Sanchez এবং রয়েল চ্যাম্বারলিনের সদস্য Juan Cabrero। মানুষের কল্পনাশক্তি কীভাবে প্রভাবিত করতে হয়, সেই জ্ঞান তাদের খুব ভালো করেই ছিল।
সে সময় স্পেনের অর্থনীতিতে খুব বাজে সময় যাচ্ছিল। বাণিজ্যে হিমশিম খাচ্ছিল বলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে সম্পদের পরিমাণ কমতে থাকে। বিভিন্ন দেশ থেকে ধার-দেনা করে তাদের খাদ্য ক্রয় করতে হচ্ছিল। অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া তাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়ে। সেকালে মানুষের মনে একটি ভ্রান্ত ধারণা ছিল। তারা বিশ্বাস করত, নতুন কোনো ভূমি খুঁজে পেলে হয়তো গুপ্তধন পাওয়া যাবে। মূলত এটি ছিল ইহুদিদের দীর্ঘকালীন প্রোপাগান্ডার ফল। তারা সুকৌশলে রানির মগজেও এ বিশ্বাসটি ঢুকিয়ে দেয়। তিনি ভাবেন, সত্যি যদি কলম্বাস নতুন কোনো ভূমি খুঁজে পায়, তবে অবশ্যই সেখানে অনেক ধন-সম্পদ পাবে; যা দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তাই নিজের বহু স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে তিনি প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করেন। Luis de Santagel অভিযান শুরুর আগেই রানির নিকট অর্থের আবেদন করেন। তাকে ১৭,০০০ ইউরোপিয়ান স্বর্ণমুদ্রা দেওয়া হয় (১৯২৩ সালের ১,৬০,০০০ ডলার মূল্যের সমান), যা সম্পূর্ণ অভিযানের খরচের চেয়েও অনেক বেশি।
কলম্বাসের সঙ্গী হিসেবে জাহাজে ছিল উচ্চপদস্থ পাঁচজন ইহুদি নাবিক। তাদের পরিচয়- দোভাষী Luis de Torres, শল্য চিকিৎসক Marco, চিকিৎসক Bernal, Alonzo de la Calle ও Gabriel Sanchez। অভিযানের মাঝপথে Luis de Torres কিউবাতে নামেন। সেখানে তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তামাক চাষ শুরু করেন, আর রাতারাতি বনে যান তামাক শিল্পের সম্রাট।
Luis de Santagel ও Gabriel Sanchez এই অভিযানের ছুতোয় রানীর কাছ থেকে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নেয়, কিন্তু আমেরিকা আবিষ্কারের পর তারাই আবার কলম্বাসকে ষড়যন্ত্রের জালে আটকে ফেলে। Bernal এই কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। উপদেষ্টাদের কথায় শেষ পর্যন্ত রানিও ক্ষেপে ওঠেন। কারণ, যে কল্পিত গুপ্তধনের লোভে তাকে আমেরিকা পাঠানো হয়েছিল, বাস্তবে তার কিছুই পাওয়া যায়নি। উলটো পুরো অভিযান আর্থিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তা ছাড়া রেড-ইন্ডিয়ানদের সাথে তাদের যুদ্ধ তখন চরমে। শেষমেষ এই বিখ্যাত নাবিকের স্থান হয় জেলখানায়।।
এবার তারা ভাগ্যের সন্ধানে আমেরিকাকে নিয়ে পরিকল্পনা আঁটা শুরু করে। মূলত ইউরোপ, এশিয়া বা আফ্রিকার কোথাও দীর্ঘদিন থাকার সুযোগ পাচ্ছিল না; কিছুদিন পরপরই তাদের বিভিন্ন দেশ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছিল। তাই তারা এমন একটি ভূমির সন্ধান করছিল, যেখান থেকে আর বের হতে হবে না। জেরুজালেম পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত তা-ই হবে তাদের নিরাপদ আবাসভূমি।
শুরুতে তারা দক্ষিণ আমেরিকায় যাত্রা করে, কিন্তু সে সময় ব্রাজিলের সাথে ডাচদের সামরিক রেষারেষী চলছিল বলে তারা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনে। পরে তারা ডাচদেরই একটি উপনিবেশের দিকে যাত্রা করে, যা আজ নিউইয়র্ক নামে পরিচিত। কিন্তু ডাচ গভর্নর Peter Stuyvesant এই অভিবাসী গোষ্ঠীকে সেখানে থাকার অনুমতি দেননি। তিনি তাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন, কিন্তু তারা আগে থেকেই নিজেদের সুরক্ষা বলয় তৈরি করে রেখেছিল। ফলে অভ্যর্থনা না জানালেও গভর্নর সাহেব তাদের একেবারে ফেলে দিতে পারলেন না। কিছু শর্তের বিনিময়ে সেখানে থাকার অনুমতি দিলেন। শর্তগুলো ছিল-
১. ডাচ কোম্পানিগুলোতে তাদের সম্পদ বিনিয়োগ করতে হবে।
২. সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
৩. পাইকারি শিল্পসহ সকল ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
সামান্য সুযোগ পেলে তারা কী করতে পারে, তা তিনি ভালো করেই জানতেন। তাদের কোনোভাবে আটকে রাখা যায় না। একদিকে আটকে রাখলে অন্য দিকে ঠিকই উপায় বের করে নেয়। যখন ইহুদিদের নতুন কাপড়ের বাণিজ্যে একঘরে করা হলো, তখন তারা পুরাতন কাপড় সংগ্রহ করে বিক্রি করা শুরু করল। মুহূর্তেই পুরাতন কাপড়ের বাণিজ্যে হইচই পড়ে গেল। এমন কাণ্ড দেখে সবাই অবাক। এটা কী করে সম্ভব! ইহুদিদের পণ্য বাণিজ্যে নিষিদ্ধ করা হলে- তারা ফেলে দেওয়া নষ্ট পণ্যকে কাজে লাগিয়ে ব্যাবসা করতে শুরু করে। পৃথিবীতে তারাই প্রথম জাতি, যারা ফেলে দেওয়া নষ্ট পণ্যের বাণিজ্য করেছে।
ইহুদিরাই প্রথম সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে মালামাল উদ্ধারের (Salvage) ধারণা জন্ম দিয়েছে; বিষয়টি অনেকটা গুপ্তধনের মতো। তারাই শিখিয়েছে- কীভাবে পুরাতন কাপড় ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে পুরাতন পালক পরিষ্কার করতে হয় এবং কীভাবে কাজুবাদাম ও খরগোসের চামড়া ব্যবহার করতে হয়। পশমি শিল্পে তাদের আগ্রহ সব সময়ই অনন্য পর্যায়ের ছিল। বর্তমানেও এই শিল্প ইহুদিরাই নিয়ন্ত্রণ করছে। পশমি পণ্য উৎপাদনকারী যেসব বড়ো বড়ো ব্রান্ড ও কোম্পানির নাম সচরাচর শোনা যায়, তাদের সিংহভাগ শেয়ার-ই এই বিশেষ জাতিগোষ্ঠীর। যেকোনো প্রতিকূল প্ররিস্থিতি কীভাবে নিজেদের আওতায় আনতে হয়, তা ইহুদিদের চেয়ে ভালো আর কেউ দেখাতে পারবে না।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও Mr. Stuyvesant একসময় তাদের নিউইয়র্ক বন্দর ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করতে বাধ্য হন। তাদের চোখে এই অঞ্চলটি ছিল মর্তের স্বর্গ। তারা দলবেঁধে সেখানে পাড়ি জমাতে শুরু করে। এভাবে নিউইয়র্ক হয়ে উঠে তাদের সর্বাধিক জনবসতির শহর এবং আমেরিকার প্রধান আমদানি ও রপ্তানিবন্দর। কোনো ব্যবসায়ী এ বন্দর ব্যবহার করতে চাইলে তাকে বন্দর মালিকদের কর (Tax) দিতে হতো। যেহেতু এই শহর তাদের প্রচুর ধন-সম্পদ এনে দিয়েছে, তাই তারা গর্ব করে বলত- হয়তো তাদের ধর্মে এ ভূমি সম্পর্কেই ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, আর এটাই হলো নিউ জেরুজালেম। যতদিন না তারা প্রকৃত জেরুজালেমে ফিরে যেতে পারছে, ততদিন পর্যন্ত এখানেই থাকবে।
George Washington-এর শাসনামলে আমেরিকায় তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৪০০০, কিন্তু এদের সবাই ছিল সচ্ছল ব্যবসায়ী। আমেরিকা যেন ব্রিটেনের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পায়, সে জন্য Haym Saloman (একজন ইহুদি ব্যবসায়ী) তার সকল সম্পদ স্বাধীনতাযুদ্ধে বিনিয়োগ করে। বিনিময়ে আমেরিকান সরকার তাকে এবং তার জাতিগোষ্ঠীকে অবাধে বাণিজ্য করার লাইসেন্স দেয়। ফলে মুনাফা উপার্জনের পথে তাদের আর কোনো বাধাই থাকল না।
তাদের নিকট সম্পদ ও ব্যক্তিসত্তা দুটি আলাদা বিষয়। কেউ বিপদে পড়লে তারা অবশ্যই সহানুভূতি জানাবে, কিন্তু অর্থ দিয়ে সাহায্য করার ঘটনা খুবই কম। মনে করুন, নিজের ভিটে বাড়ি বন্ধক রেখে আপনি তাদের কাছ থেকে কিছু ঋণ নিলেন এবং ব্যাবসার জন্য পণ্য কিনলেন, কিন্তু গুদামঘরে আগুন লেগে সব পণ্য পুড়ে গেল। পরিবার নিয়ে আপনার এখন পথে বসার অবস্থা। এমতাবস্থায় আপনি ঠিকই তাদের সহানুভূতি পাবেন, কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে আপনার ভিটে-বাড়ির দাবি ছেড়ে দেওয়া একেবারে অসম্ভব। তাদের চোখে It was only Business; তবে ব্যতিক্রমী কিছু উদাহরণ থাকতেই পারে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মানিতে যে সুইটশপ প্রতিষ্ঠা পায়, তা বহু আগেই নিউইয়র্কের অলি-গলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আজকের দিনে সুইটশপকে তো সমাজ ব্যবস্থার অংশই বলা যায়। সবার ওপর প্রভুত্ব কায়েমের যে মনোভাব তারা যুগ যুগ ধরে লালন করে এসেছে, তারই বহিঃপ্রকাশ আজকের শ্রমবাজার। তারা যা চেয়েছে তাই হয়েছে। সাধারণ মানুষের সঞ্চয় বলতে এখন আর কিছুই নেই। কারণ, এসব শিল্প-কারখানায় তারা যা-ই তৈরি করে, তা-ই আমাদের ক্রয় করতে হচ্ছে। তাদের পারিশ্রমিকের ওপর মুনাফা যোগ করে যখন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়, তখন সাধারণ মানুষ ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাই এত সব কর্মসংস্থান করেও মানুষের আহার-বস্ত্র নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
ইহুদিদের মনে দেশপ্রেমের কোনো বালাই নেই। নাগরিকত্ব বিষয়টি তাদের কাছে মুনাফা উপার্জনের হাতিয়ার। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। সবাই বিশ্বাস করে আমেরিকা হলো খ্রিষ্টানদের দেশ। এ দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য সবকিছু তারা-ই পরিচালনা করছে। পৃথিবীর অপর প্রান্তে থাকা কোনো খ্রিষ্টান এ দেশের পণ্য হাতে পেয়ে এই ভেবে খুশি হয়- এটা হয়তো তার-ই কোনো ধর্মীয় ভাই তৈরি করেছে। কিন্তু ভালোভাবে অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, এ দেশের নাম করা প্রায় সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিকই ইহুদি। জ্যান্টাইলদের কিছু শেয়ার থাকলেও তা পরিমাণে অনেক কম। প্রতিষ্ঠানের উঁচু পদগুলো তো ইহুদিদের জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়! কী উৎপাদন করা হবে, কীভাবে ব্যাবসা পরিচালিত হবে এবং কীভাবে মুনাফা বণ্টন করা হবে, তার সবই ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ করে। 'American Importing Company' অথবা 'American Commercial Company' নামগুলো ব্যবহার করার উদ্দেশ্য হলো- আমেরিকার সাধারণ মানুষ যেন বুঝতে না পারে এগুলো ইহুদিদের প্রতিষ্ঠান। যেসব শিল্পে তারা ইতোমধ্যেই একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
* চলচ্চিত্রশিল্প
* থিয়েটারশিল্প
* চিনিশিল্প
* তামাকশিল্প
* মাংসশিল্পের ৫০ ভাগ
* জুতাশিল্পের ৬০ ভাগ
* পোশাকশিল্প
* সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রশিল্প
* অলংকারশিল্প
* খাদ্যশস্য
* বর্তমানে তুলাশিল্প
* কলরাডো অঙ্গরাজ্যের ধাতু বিগলনশিল্প
* ম্যাগাজিন প্রকাশনী
* খবর প্রকাশনী
* তরল পানীয়শিল্প
* ঋণ ব্যবসায়
আজ তাদের যে সাফল্য, তা অগ্রাহ্য করার বিষয় নয়। তাদের পন্থা অনুসরণ করে যে কেউ-ই সম্পদশালী হতে পারবে। যেমন : বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়ানো, পণ্যকে ব্যবসায়ের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা, সুদের বিনিময়ে ঋণ দেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু জ্যান্টাইলদের পক্ষে এসব কাজ গুছিয়ে করা অসম্ভব।
কেবল কৃষি কাজে ইহুদিরা কখনো সফল হতে পারেনি। কারণ, ইহুদিরা কায়িক শ্রম একদম-ই করতে পারে না। তারা হলো পরজীবী; বেঁচে থাকে অন্যের জীবিকা ভোগ করে। সারা বছর পরিশ্রম করে একজন কৃষক যে ফসল ফলাবে, তা তারা কেড়ে নিয়ে বাণিজ্য করবে। এ পর্যন্ত তারা বহুবার পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে কৃষি উপনিবেশ তৈরির চেষ্টা করেছে এবং প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে। তবে, দুগ্ধ ও পশু পালন শিল্পে তারা যথেষ্ট উন্নতি করেছে।
আসলে মাটির সাথে তাদের সম্পর্ক কখনোই ভালো ছিল না। তারা জন্মেছে শুধু বাণিজ্য করার জন্যই। এই ছোট্ট বিষয়টি-ই পরিষ্কার করে দেয়, কেন প্যালেস্টাইন নিয়ে তাদের এমন ব্যাকুলতা! প্যালেস্টাইনকে বলা হয় প্রাচ্য ও প্রতিচ্যের বাণিজ্যিক দ্বার। এই ভূমিকে নিজেদের করে নেওয়ার অর্থ হলো এশিয়া-ইউরোপ-আফ্রিকা ও মেডিট্যারিয়ান সাগরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।
টিকাঃ
১. অ্যান্টি-সেমেটিক- ইহুদি বিদ্বেষী মনোভাব
২. বলশেভিক বিপ্লব- বিংশ শতাব্দীর শুরুতে, ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে এই বিপ্লবের সূচনা হয়, যার হাত ধরে কমিউনিস্ট সোভিয়েতের জন্ম হয়।
৩. রাবাই-ইহুদিদের ধর্মীয় গুরু।
৪. জ্যান্টাইল-পৃথিবীর নন ইহুদি সকল সম্প্রদায়কে জ্যান্টাইল বলা হয়।
৫. প্রুশিয়ান-প্রাচীন এক ইউরোপিয়ান রাষ্ট্র, যা জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের সাথে মিশে গেছে।
৬. মোজেস-নবি মুসা (আ.)
৭. জ্যাকব- নবি ইয়াকুব (আ.)
৮. ক্যানাইটদের- বাইবেলে উল্লিখিত এক অভিশপ্ত জাতি।
৯. আব্রাহাম-পয়গম্বর ইবরাহিম (আ.)
১০. নোয়াহ- পয়গম্বর নুহ (আ.)
১১. পেগান-ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্ম ব্যতীত সব ধর্মকে পেগান বলা হয় এ ছাড়াও যারা মূর্তি ও প্রকৃতির উপাসনাকারী, তাদেরকেও এ নামে সংজ্ঞায়িত করা হয়।
১২. সেক্সন-ইউরোপিয়ান এক প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী, যা আজ বিভিন্ন জাতিতে ছড়িয়ে পরেছে।
১৩. পিলগ্রিম ফাদার-ইংল্যান্ডের ঔপনিবেশিক শাসনকালে প্রথমে যে ইংলিশ নাগরিকগণ আমেরিকায় বসতি স্থাপন করে, তাদের পিলগ্রিম ফাদার বলা হয়।
১৪. প্রোপাগান্ডা-কোনো একটি বিশেষ উদ্দেশ্য বা অবস্থানের দিকে জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এমন সব বিষয় প্রচার করা, যাতে সাধারণ জনগণের ধ্যানধারণা ওই একটি দিকে পরিচালিত হয়।
১৫. সুইটশপে-যেখানে নামমাত্র পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শ্রমিকদের দিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি করিয়ে নেওয়া হয়।
📄 ইহুদি বিতর্ক : সত্য না কল্পকাহিনি
জ্যান্টাইলদের অনেকেই 'হিব্রু' ও 'সেমাইট' শব্দ দুটি দ্বারা ইহুদি জাতিকে সম্বোধন করে থাকে। ইহুদি শব্দটি মুখে এনে তারা কোনো বিপদে পড়তে চায় না।'
একটা সময় ছিল যখন রাস্তা-ঘাটে তাদের নিয়ে হরদম আলোচনা হতো। যে পরিবারটির কারণে আজ তারা এতটা ক্ষমতাধর, তার প্রতিষ্ঠাতা মেয়র এমসেল রথসচাইল্ডের বাড়িতে পুলিশ নিয়মিত হানা দিত। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর পত্র-পত্রিকায় বড়ো অক্ষরে ছাপানো হতো। তাহলে কী এমন ঘটেছিল, যার দরুন বিংশ শতাব্দীতে মানুষ ইহুদিদের ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়ে!
১৯১৩ সালে Anti-Defamation League প্রতিষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক এ সংগঠনটির সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত। একে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে বত্রিশটি শাখা অফিস। ইহুদিদের প্রতি সাধারণ মানুষের যত ক্ষোভ, তা মোকাবিলা করাই এই সংগঠনটির মুখ্য উদ্দেশ্য। একে ইহুদিদের প্রতিরক্ষা বাহিনী বললেও ভুল হবে না।
১৯৫৮ সালে W. Cleon Skousen (সাবেক এফ.বি.আই কর্মকর্তা) The Naked Communist নামে একটি বই প্রকাশ করেন। সেই বইয়ে উল্লেখ করেন- কোনো সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে চাইলে, সেখানকার অন্তত একটি প্রজন্মকে টার্গেট করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন ২০-২৫ বছরের একটি পরিকল্পনা।'
Anti-Defamation League ঠিক এই কাজটিই করে। তারা ইউরোপ-আমেরিকার সেই সব দেশকে টার্গেট করে, যেখানকার প্রশাসনিক পদগুলোতে যথেষ্ঠ ইহুদি রয়েছে। শিক্ষা, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক বিভাগগুলোতে তারা পর্যায়ক্রমে আঘাত হানতে শুরু করে। ধর্মীয় শিক্ষা উঠিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করে সেক্যুলারিজম। সেন্সর বোর্ড এমন সব নাটক ও চলচ্চিত্র অনুমোদন দিতে শুরু করে, যা যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুকৌশলে তারা খ্রিষ্টান নারী সমাজের পর্দাপ্রথা উঠিয়ে দেয়। অতীতে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে- এমন প্রতিটি বই তারা লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলতে শুরু করে। যেমন: শেক্সপিয়ারের মার্চেন্ট অব ভেনিস। পত্রিকা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বাধ্য করে, যেন তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ না করে। মানুষের মনে অদৃশ্য ভয় ঢুকিয়ে দিতে তারা জন্ম দেয় অসংখ্য উদ্ভট মতবাদ। যেমন: 'অ্যান্টি-সেমিটিজম'।
তারা চায় বিশ্ববাসী তাদের সমীহ করুক। তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করুক। যুগ যুগ ধরে তাদের ওপর যত নিপীড়ন চালিয়েছে, এবার তার দায় মিটাক। তবে তাদের সাথে যে কেউ-ই সন্ধি করতে চায়নি- এমনটা নয়। পৃথিবীর অনেক রাষ্ট্র ইহুদিদের অনুরোধ করেছে, যেন তারা পৃথক জাতীয়তাবাদ নীতি থেকে সরে আসে এবং একত্রিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! পৃথক জাতীয়তাবাদ নীতিতে তারা কতটা ঐক্যবদ্ধ- তার একটি নমুনা দেওয়া যাক।
একতাবদ্ধ জাতি মানে এই নয়, তাদের মধ্যে হানাহানি-মারামারি কিছুই ঘটে না। ক্রোধ-ঘৃণা-মারামারি সব সমাজেই বিদ্যমান। অন্যদের মতো তাদের সমাজেও এসব ঘটনা নিয়মিত ঘটতে দেখা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে আমাদের মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে- রেষারেষি শুরু হলে আমরা তৃতীয় পক্ষকে সুযোগ দিই, কিন্তু তারা দেয় না। যত যাই হোক না কেন, তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মেটায়। আবার জাতীয় ইস্যুতে তারা এক হয়ে যায়। আজ যারা মারামারি করছে, কাল তারা বন্ধুও হয়ে যেতে পারে; যদি জাতীয় স্বার্থে কোনো আঘাত আসে। এই গুণগুলো জ্যান্টাইলদের মাঝে কখনো দেখা যায় না।
জ্যান্টাইলদের মাঝে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তাদের রয়েছে বহু জাত, ধর্ম ও বিভাজন। ফলে তারা এক হতে চাইলেও সূক্ষ্ম কোনো ইস্যুতে তাদের মাঝে সংঘাত উসকে দেওয়া কোনো কঠিন কাজ নয়। এ কারণে ঐক্য বজায়ের ক্ষেত্রে ইহুদিরা সব সময় সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।
তবে সস্তা সহানুভূতি দিয়ে তো আর ক্ষমতা দখল করা সম্ভব নয়; এ জন্য প্রয়োজন যুদ্ধ। যতদিন না পৃথিবীর অন্য সব রাজত্বের পতন ঘটবে, ততদিন এই ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি হওয়া সম্ভব নয়। তাই উনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে প্রথম জায়োনিস্ট সম্মেলনের পূর্বে তারা একটি নীলনকশা তৈরি করে। কীভাবে অন্যান্য সাম্রাজ্যে আঘাত হানবে, কীভাবে জনমত তৈরি করবে, কারা এর পেছনে অর্থ বিনিয়োগ করবে ইত্যাদি বিষয়গুলো সেই নকশায় স্থান পায়। এরপর থেকে তারা কতটা ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে, তা বিংশ শতাব্দী থেকে আজ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া যুদ্ধগুলোর দিকে তাকালেই উপলব্ধি করা সম্ভব।
সবাই বলে- দুষ্ট লোকের কোনো ধর্ম নেই। তারা যে দুষ্ট, এটাই তাদের পরিচয়। তাই তাদের পরিচয় প্রকাশে ধর্মকে না জড়ানোই উচিত। কারণ, এর সাথে জড়িয়ে থাকে সমাজের বহু মানুষের আবেগ-অনুভূতি। কিন্তু যদি কোনো সম্প্রদায় নিজ ধর্মকে পুঁজি করে সন্ত্রাসবাদ কায়েম করে এবং ভয়ংকর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়, তখন কি তাদের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখার আর কোনো উপায় থাকে?
পৃথিবীতে এখনও যে বহু সৎ ও আদর্শবান ইহুদি বেঁচে আছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কিছু নৈতিকতা সব ধর্মেই পাওয়া যায়। এমন যদি হতো, বিশ্ববাসীরা সকল সমস্যার সমাধান শুধু এই ধর্মটিতে খুঁজে পাচ্ছে, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারত, কিন্তু সেখানেও তারা ব্যর্থ।
ইহুদিরা নিজেদের ধার্মিক বলে দাবি করলেও তাদের সম্পদশালীদের ধর্মীয় অনুশাসনের ধারের কাছেও দেখা যায় না। তাদের মধ্যে ওল্ড টেস্টামেন্টের ছিটেফোঁটাও নেই। যারা কঠিন দরিদ্রতায় দিন পার করছে, কেবল তাদেরই প্রকৃত ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে দেখা যায়। বেচা-বিক্রি কম হবে তা জেনেও সাব্বাতের দিনে দোকান বন্ধ রাখে এবং ইওম কিপুর দিনটিতে রোজা রাখে। ধর্মীয় চেতনা এই গরিবদের কখনো ক্ষমতার গদি এনে দিতে পারেনি। মূলত সঠিকভাবে নিজ ধর্ম পালন, আর ধর্মকে পুঁজি করে ব্যাবসা ও সন্ত্রাসবাদ কায়েম- কখনো এক বিষয় নয়।
প্রকৃতিকভাবেই তাদের প্রতিটি প্রজন্ম এমন কিছু গুণ পেয়ে থাকে, যা জ্যান্টাইলদের মাঝে সাধারণত দেখা যায় না। তাদের সবার মাঝেই কমবেশি এই গুণগুলো উপস্থিত থাকে। এ জাতীয় কিছু বৈশিষ্ট্য পাঠকদের জানা উচিত বলে মনে করি। যেমন:
১. ব্যাবসা-বাণিজ্যে ইহুদিদের মতো প্রতিভাধর জাতি আর দ্বিতীয়টি নেই। এর রহস্য কেবল সৃষ্টিকর্তাই জানেন, কেন তিনি তাদের এভাবে সৃষ্টি করেছেন।
২. ইহুদিদের মতো সূক্ষ্ম মেধাসম্পন্ন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই এসেছে। ব্যাবসা-বাণিজ্যে অসামান্য দক্ষতা অন্যদের চক্ষুশুলে পরিণত করেছে। অনেক সম্প্রদায় তো তাদের সাথে বাণিজ্য করতেই অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমনকী বহুবার তাদের একঘরে করে রাখা হয়েছিল। তবে ইহুদিদের রাজনৈতিক পরিকল্পনাগুলো এতটাই বিস্ময়কর ছিল, বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহরা পর্যন্ত তাদের অভ্যর্থনা না জানিয়ে পারত না।
৩. ইহুদিরা অসংখ্য মতবাদের জন্মদাতা। একটি সমাজকে বহু অংশে বিভক্ত করার সহজ উপায় হচ্ছে- তাদের মাথায় নতুন নতুন মতবাদ ঢুকিয়ে দেওয়া। ধরুন, একটি মাঠে ১৬টি বিড়াল আছে। এখন যদি একটি বড়ো গামলায় বিড়ালগুলোকে দুধ পান করতে দেন, তবে তারা একত্রিত হয়ে দুধ পান করবে। কিন্তু এই দুধ যদি চারটি আলাদা পাত্রে ভাগ করে মাঠের চার কোনায় রেখে দেওয়া হয়, তবে খুব সম্ভাবনা আছে বিড়ালগুলো চারটি দলে বিভক্ত হয়ে দুধ পান করবে; দলগুলোতে যদিও সদস্য সংখ্যায় পার্থক্য থাকতে পারে। নতুন নতুন মতবাদ ঠিক একই রূপে কাজ করে, যার জন্য আমাদের সমাজ আজ বহু ভাগে বিভক্ত।
প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলোতে তারা নিজেদের লেখক, কলামিস্ট ও চিত্রকর নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিছুদিন পরপর পরিকল্পিত উপায়ে নতুন সব তত্ত্ব ও মতবাদ বাজারে নিয়ে আসে। এসব পড়ে পাঠকদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পত্রিকায় যা প্রকাশিত হয়, তা সত্য-মিথ্যা যাচাই করার উপায় তো আর সবার থাকে না। ফলে পত্রিকা পড়ে মানুষ যা বোঝে, তা নিয়েই অন্যদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দেয়। আর আলোচনায় যদি সমর্থন না পায়, তবে অনেক সময় তা মারামারি পর্যন্ত গড়ায়।
ইহুদিরা আজ পর্যন্ত এত নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে কেন? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হয়তো অনেকেই দিতে পারবে না। এই প্রশ্নের উত্তর জানতে একটি উদাহরণ উপস্থাপন করা যাক। প্রাচীন ইংল্যান্ডে ব্যবসায়ী ও বণিক দলগুলোর মাঝে বেশ কিছু নিয়মকানুনের প্রচলন ছিল, যা মেনে চলা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এগুলোকে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষার অনুশাসনও বলা হতো।
যেমন: একজন প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত ঠিকাদারকে কখনো পরবর্তী কাজের জন্য দরপত্র (টেন্ডার) জমা দিতে হবে না; বরং কাজ নিজ থেকেই তার নিকট চলে আসবে। নিজ দোকানের বিক্রয় বাড়াতে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যা অন্যান্য ব্যবসায়ী ভাইদের প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে দেয়। একই সঙ্গে একাধিক পণ্যের বাণিজ্যে ছিল কঠোর নিষেধাজ্ঞা। যেমন: যদি কোনো ব্যক্তি চা-পাতা বিক্রি করে, তবে সে কখনো চা-চামচ বিক্রি করতে পারবে না। যদি কোনো বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে জনগণ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং বিজ্ঞাপিত পণ্য ক্রয় করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানকে কঠিন অপমানের মুখোমুখি হতে হতো; এমনকী ব্যাবসাও বন্ধ হয়ে যেত।
সে সময় সামাজিক অনুশাসনগুলোকে মানুষ স্বর্গীয় আইনের মতো শ্রদ্ধা করত। যারা এই আইন লঙ্ঘন করত, তাদের ওপর নেমে আসত কঠিন শাস্তি। আইন অমান্যকারীর জন্য কোনো ক্ষমার বিধান ছিল না। কিন্তু ইহুদিরা ইংল্যান্ডে আসার কিছুদিন পর সকল ব্যবসায়িক অনুশাসন ভেঙে দেয়। পণ্য বিক্রয়ে তারা এতটাই অধৈর্যশীল ছিল, একসঙ্গে অনেক পণ্য বিক্রি করতে শুরু করে। সামাজিক প্রথা ভেঙে এক দোকানে একাধিক পণ্য সাজিয়ে রাখতে শুরু করে, যা থেকে জন্ম নেয় বিভাগীয় বিপণিবিতান (Departmental Store) !
স্বল্প মুনাফা অধিক বিক্রয়- এ ধারণাটি প্রথম ইহুদিদের মগজ থেকেই বের হয়। উৎপাদন ব্যয় কম রাখতে তারা পণ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো শুরু করে। জ্যান্টাইলরা গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য দীর্ঘ সময় নিয়ে পণ্য উৎপাদন করত, কিন্তু ইহুদিদের দৌরাত্ন্যে সেই সংস্কৃতি ভেঙে পড়ে। তা ছাড়া কিস্তিতে ধার পরিশোধের বিষয়টি প্রথম তাদের মাথা থেকেই বের হয়। মোটকথা ব্যবসায়ে অচলাবস্থা তারা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারে না। যেকোনো মূল্যেই হোক বাজারে পণ্য বিক্রয় সচল রাখতেই হবে।
ইহুদিরাই প্রথম ব্যবসায়িক কাজে বিজ্ঞাপন প্রথা সংযোজন করে। দোকানের অবস্থান, পণ্যের বিবরণ, মূল্যের পরিমাণ ইত্যাদি কাগজে লিখে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টারিং-এর ধারণা তারাই বাজারে নিয়ে আসে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করত, যেন প্রয়োজনের সময় অর্থ-সাহায্য পাওয়া যায়। অসাধু ও অনৈতিক উপায়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া তাদের কাছে ছেলেখেলার মতো। অথচ জ্যান্টাইলরা কাউকে ঠকিয়ে বাণিজ্য করাকে আত্মসম্মানবোধ বিসর্জন দেওয়া মনে করত। কারণ, ধরা পড়লে তার জন্য অসহনীয় অপমান অপেক্ষা করত।
আশা করি এবার বুঝতে কষ্ট হচ্ছে না, কেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের অসংখ্যবার নির্বাসিত করা হয়েছে। ১১০০-১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের নির্বাসনের একটি সংক্ষিপ্ত ছক নিচে উপস্থাপন করা হলো-
রাষ্ট্র/দেশ সাল/নির্বাসনের বছর
ইংল্যান্ড ১২৯০
পর্তুগাল ১৪৯৭
স্পেন ১৪৯২
ফ্রান্স ১১৮২, ১৩০৬, ১৩২১, ১৩৯৪
জার্মানি ১৩৪৮, ১৫১০, ১৫৫১
সার্ডিনিয়া ১৪৯২
লিথুনিয়া ১৪৪৫, ১৪৯৫
ডসলিসিয়া ১১৫৯, ১৪৯৪
অস্ট্রিয়া ১৪২১
হাঙ্গেরি ১৩৪৯, ১৩৬০
নেপোলিস ১৫৪১
ক্রিমিয়া ১০১৬, ১৩৫০
তবে একবিংশ শতাব্দীর এ যুগে তাদের নতুন করে নির্বাসিত করবে- এমন ক্ষমতা কোনো রাষ্ট্রের নেই। মূলত তারা এ ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। আজ তারা ঠিক ততটাই ক্ষমতাধর, যতটা বাইবেলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম তথা বিশ্বব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা পৃথিবীর সব সম্পদ শুষে খাচ্ছে। মানুষ যদি জানত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কীভাবে কাজ করে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের নামে তারা কী করছে, তাহলে আগামীকাল সকালেই মহাসড়কে গণজোয়ার বয়ে যেত।
যে সুদভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থাকে পৃথিবীর প্রত্যেক পয়গম্বর নিষিদ্ধ করে গেছেন, তা-ই আজ ইহুদিরা পৃথিবীর সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, এই রাজকীয় ক্ষমতা কখন নিউইয়র্ক থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরিত হয়; যেমনটা ওল্ড টেস্টামেন্টে বলা হয়েছে। আর তখনই বুঝতে হবে- পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে।
অ্যান্টি-সেমিটিজম কী?
কোনো অপরাধী কখনোই চায় না, তার অন্ধকার জীবনের ইতিহাস সাধারণ মানুষের সামনে ফাঁস হয়ে যাক। তাকে নিয়ে পত্র-পত্রিকায় নেতিবাচক কিছু লেখা হোক এবং আইন বিভাগ তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করুক।
সে চায় পৃথিবীর সব সম্পদ একাই ভোগ করবে, কিন্তু কেউ প্রতিবাদ করতে পারবে না। তার বিরুদ্ধে যেন কেউ নেতিবাচক কিছু লিখতে না পারে, সে জন্য পত্রিকা প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের বিনিময়ের কিনে নেয়। আবার সম্পদের লোভ দেখিয়ে পুরো প্রশাসনকে নিজের পকেটে পুরে রাখে। এভাবে সে সমাজে ভিআইপির মর্যাদা পেতে শুরু করে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যেন আইন বিভাগের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। এভাবেই জন্ম নেয় নতুন সব গডফাদার, যারা সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থেকে একসময় শক্তিশালী আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। তারা এতটাই ক্ষমতাধর হয়ে উঠে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে গেলে প্রতিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্তত কয়েকবার ভাবতে হয়।
আর যখন কোনো সাহসী ব্যক্তি তথ্য-প্রমাণসহ এই অপরাধীদের অন্ধকার জীবনের ইতিহাস ফাঁস করার প্রচেষ্টা করে, তখন সমাজের চতুর্দিক থেকে একের পর এক বিদ্রুপাত্তক সমালোচনা আসা শুরু করে। যেহেতু সংবাদ সংস্থাগুলো আগেই বিক্রি হয়ে গেছে, তাই মনিবের সম্মান রক্ষায় তারা উঠেপড়ে লেগে যায়। তারা সেই সাহসী ব্যক্তিকে একের পর এক মনগড়া অভিযোগে ফাঁসাতে শুরু করে। মূলত কিছু পূর্বপরিকল্পিত কৌশল প্রতিটি সংবাদ প্রতিষ্ঠানই তৈরি করে রাখে, যেন উদ্ভূত প্রতিটি পরিস্থিতি তৎক্ষণাৎ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
সাহসী সেই ব্যক্তিটি যে তথ্যই উপস্থাপন করুক না কেন, বিক্রি হয়ে যাওয়া সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো তার সকল প্রচেষ্টাকে পণ্ড করে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে একসময় সাধারণ মানুষ গডফাদারদের বিরুদ্ধে কথা বলার ন্যূনতম সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলে। জরাজীর্ণতা ও বিভিন্ন কুসংস্কার সাধারণ মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখে। সবাই ভাবে, এদের নিয়ে কথা না বলাই ভালো। কথা বলতে গেলে না জানি কোন মিথ্যা অপবাদে দোষী হতে হয়। ফলে গডফাদাররা সব সময় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। সাংবাদিকতা শিল্পের ওপর Noam Chomsky তার স্বরচিত বই Manufacturing Consent-এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
ওপরের উদাহরণ আজকের সাম্রাজ্যবাদী ইহুদিদের সাথে মিলে যায়। মানুষ যেন তাদের বিরুদ্ধে এক হতে না পারে, সে জন্য তারা স্বাধীন তথ্য প্রবাহের ওপর আঘাত হেনেছে। ভয় ও কুসংস্কারের রাজত্ব কায়েম করতে তারা অ্যান্টি-সেমিটিজম ধারণার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি যে নতুন কিছু- তা নয়; আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা শিল্পে এটি বহুল ব্যবহৃত ও আলোচিত একটি বিষয়। ইজরাইল সম্পর্কিত অনেক ইস্যুতে আজ এই শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে; যদিও এর প্রথম ব্যবহার হয়েছিল ১৮৭৯ সালে জার্মানিতে। তবে অধিকাংশের কাছে এই শব্দকে নতুন বলে মনে হতে পারে।
ইহুদিদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের নেতিবাচক ধারণা পোষণ করাকে অ্যান্টি-সেমিটিজম বলা হয়। আর যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে এই ধারণা পোষণ করে, তাকে বলা হয় অ্যান্টি-সেমাইট। আপনি সত্য না মিথ্যা বলছেন, তা এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়।
* প্যালেস্টাইনে আরবদের অধিকার নিয়ে কথা বলুন
* বলশেভিক বিপ্লবে তাদের গণহত্যার কথা বলুন
* ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তাদের ষড়যন্ত্রের কথা বলুন
* চলচ্চিত্রশিল্পে তাদের অশ্লীলতার কথা বলুন
* বিশ্বযুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্রের কথা বলুন
* শিক্ষাব্যবস্থায় তাদের ষড়যন্ত্রের কথা বলুন
* ধর্ম প্রচারের নামে রাবাইদের বিভ্রান্তি ছড়ানোর কথা বলুন
* অনুসন্ধানী কোনো রিপোর্টে তাদের জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করুন
তবে মনে রাখুন, এ জাতীয় কোনো একটি কাজ করেছেন- তো আপনার ওপর অ্যান্টি-সেমাইট লেবেল চাপিয়ে দেওয়া হবে।
এশিয়া বা আফ্রিকায় এ বিষয়টির খুব একটা প্রচলন না থাকলেও ইউরোপ-আমেরিকায় এটি রীতিমতো হইচই-এর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক দপ্তরের সবচেয় উচ্চপদ থেকে নিম্নপদ পর্যন্ত সবাই এ সম্পর্কে অবগত। গত একশো বছরের ইতিহাস ভালোভাবে পর্যালোচনা করলে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি অ্যান্টি-সেমাইট হয়েও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছেন। প্রতিটি দেশে কিছু রাজনৈতিক আঁতুরঘর থাকে, যেখানে নতুন নতুন রাজনীতিবিদদের জন্ম হয়।
শুনে অবাক হবেন, বিশ্বের অধিকাংশ রাজনৈতিক আঁতুরঘরগুলোকে তারা একটি চেইন প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কেউ-ই কথা বলবে না। তাদের মূল লক্ষ্য জেরুজালেম। তারা জানে- হাজার বছরের পুরোনো এই ভূমিকে পুনরায় ইজরাইলের রাজধানী করা অতটা সহজ নয়। যেকোনো মুহূর্তে আক্রমণের আশঙ্কা তাদের সব সময় বিচলিত করে রাখে। তারা ভৌগোলিক সীমারেখায় ফাটল সৃষ্টি করে অসংখ্য নতুন রাষ্ট্র তৈরির ইন্ধন জুগিয়েছে। জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার নামে এক দেশের সাথে অপর দেশের দ্বন্দ্ব বাধিয়ে দিয়েছে।
ধরুন, গাজায় ইজরাইলি বিমান হামলার প্রতিবাদে ইউরোপের কয়েকটি দেশ তাদের পার্লামেন্টে ইজরাইলবিরোধী আইন পাস করল। এবার জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে তারা নিজেদের অতীত নির্যাতনের ইতিহাস এমনভাবে উপস্থাপন করতে শুরু করবে, যেন মানুষের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
কবে কোন হলোকাস্টে ১৫ বছরের এক কিশোরী শত্রু বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করেছে, তা নিয়ে পত্র-পত্রিকায় কলাম ছাপানো শুরু হবে। ব্যবিলন সেনাপতি নেবুচাদনেজারের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত তারা যত নিপীড়নের স্বীকার হয়েছে, তা নিয়ে একের পর এক প্রামাণ্যচিত্র তুলে ধরা হবে। সবশেষে সমাপ্তি টানবে এই বলে- যে জাতি হাজার বছরের নির্যাতন সহ্য করে একবিংশ শতাব্দীতে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস ফিরে পেয়েছে, তাদের প্রতি ইউরোপিয়ান দেশগুলোর এমন অ্যান্টি- সেমেটিক মনোভাব বিশ্ববাসীকে হতাশ করেছে।
এ নিয়ে ইহুদিরা টকশোর আয়োজন করবে, যেখানে তাদেরই নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা প্রতিনিধিত্ব করবে। এমন সব যুক্তি উপস্থাপন করবে, যা শ্রোতা সমাজের মগজ ধোলাই করে ছাড়বে। তারা বুঝিয়ে ছাড়বে, তাদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনগুলো-ই ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম ও হৃদয়বিদারক। তাদের প্রতিটি জীবন খুবই মূল্যবান। কেবল আত্মরক্ষা করতেই তারা গাজার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা করেছে। যারা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং যারা তাদের পক্ষ নিয়ে পার্লামেন্টে আইন পাশ করেছে, তারা উভয়েই অ্যান্টি-সেমাইট। এমনকী সেই ফেরাউন, যার হাতে বনি ইজরাইলের হাজারও শিশুপুত্র নিহত হয়েছে, সেও ছিল অ্যান্টি-সেমাইট।
তাদের প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে সফলও হয়েছে। আজ আন্তর্জাতিক মহলগুলোতে ইহুদিদের নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা হয় না। সবাই তাদের পাশ কাটিয়ে চলার পথ অবলম্বন করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে জার্মানিতে তারা যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, তা আজ পুরো বিশ্বে কায়েম হয়ে গেছে। ব্যক্তিগতভাবে একটি বা দুটি মহল ইহুদিদের নিয়ে আলোচনা করলেও সামগ্রিকভাবে বড়ো কোনো মহল তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করে না।
পৃথিবীর বড়ো বড়ো শহরগুলোতে আজ ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চারদিকে বারুদের গন্ধ। আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ যেন পৃথিবীর দরজার টোকা দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কবে, কখন, কোথা থেকে এই যুদ্ধ শুরু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ইহুদিরা চায় না চূড়ান্ত মঞ্চ তৈরির পূর্বে বিশ্ববাসীর নিকট তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হোক। কারণ, এটাই একমাত্র ইস্যু, যা পুরো জ্যান্টাইল বাহিনীকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে এক করে তুলতে পারে। অ্যান্টি-সেমিটিজমকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. কোনো রকম বাছ-বিচার ছাড়াই ইহুদিদের অপছন্দ করা প্রথম শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের ব্যাপারে খুব সীমিত জ্ঞান রয়েছে- এমন মানুষদের মনেই কেবল এ জাতীয় মনোভাব লক্ষ করা যায়। এমন অনেকে আছে, যদি জিজ্ঞাসা করা হয়- আপনি কেন তাদের ঘৃণা করেন? তবে সেই ব্যাক্তি এর গঠনমূলক কোনো উত্তর দিতে পারবে না।
২. ইহুদিদের প্রতি ঘৃণা বা শত্রুতাপূর্ণ মনোভাব পোষণ করা দ্বিতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অপছন্দ করা আর শত্রুতা পোষণ কখনো এক বিষয় নয়। যেমন: চায়ের সাথে দুধ মেশানোকে অপছন্দ করতে পারেন কিন্তু তার মানে এই নয়, আপনি দুধ ঘৃণা করেন।
৩. ইহুদিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সংঘাতমূলক মনোভাব তৃতীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ পর্যায়ের মানুষ প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে, যার দরুন তাদের ওপর পৈশাচিক অত্যাচার নেমে আসে।
অভ্যাসগত কারণে অ্যান্টি-সেমিটিজম আজ পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ পুনরায় তাদের বিরুদ্ধে এক হতে শুরু করেছে। তবে ভৌগোলিক সীমারেখার ভিত্তিতে পুরো পৃথিবীকে বিভক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে এই একতা চূড়ান্ত রূপ লাভ করতে পারছে না। তারা জানে, সংখ্যায় অল্প হয়েও বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করার একমাত্র সূত্র হলো- 'Divide and Rule' (ভাগ করো, শাসন করো)।
তারা যে কেবল আলাদা আলাদা ভূরাষ্ট্র-ই তৈরি করেছে তা নয়; বরং গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন মতবাদের বীজ ছড়িয়ে প্রতিটি দেশে জন্ম দিয়েছে অসংখ্য রাজনৈতিক দল। এরা প্রতিনিয়ত ক্ষমতার লোভে একের অপরের সঙ্গে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। যে চাকার ওপর ভর করে আপনি গন্তব্যে পৌছাবেন, সে চাকাতেই যদি ঘৃণা থাকে, তবে আর গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে না।
জার্মানদের অবস্থান ইহুদিদের বিরুদ্ধে কেন
জার্মানিকে বলা হয় কবি ও চিন্তাবিদদের দেশ। এ দেশের মাটিতে বহু প্রতিভাধর কবি, লেখক ও দার্শনিকের জন্ম হয়েছে। সমৃদ্ধ পাশ্চাত্য সাহিত্যের ইতিহাসে তাদের রয়েছে অসামান্য অবাদান। শিক্ষা, রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনে তারা প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। কিন্তু কে বলবে, মাত্র তিন দশক পূর্বেও তারা দুই ভূখণ্ডে (পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি) বিভক্ত ছিল, যা পরিচালিত হতো দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক মাতদর্শ দ্বারা! আধুনিক জার্মানির উত্থান ঠিক কবে থেকে শুরু হয়, তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ, তাদের ইতিহাসে রয়েছে অনেক জটিলতা। পথ চলতে গিয়ে তারা যত ধাক্কা খেয়েছে, তাদের ইতিহাস ততই সমৃদ্ধ হয়েছে।
যে দেশটিকে নিয়ে এত আলোচনা, তারা মাত্র একশো বছর পূর্বেও কী পরিমাণ ভয়ংকর কুসংস্কার দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল, তা কি কখনো কল্পনা করা সম্ভব? একটি জাতি তাদের ওপর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। বিষাক্ত অণুজীব হয়ে প্রবেশ করে জার্মানদের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে। ধ্বসিয়ে দেয় তাদের সমাজ ব্যবস্থার প্রতিটি কাঠামো। অভাব ও দারিদ্র্যতার দরুন নেমে আসে ভয়াভয় দুর্ভিক্ষ। ১৯২৩ সালে তাদের অর্থনীতিতে যে বিপর্যয় নেমে আসে, তা আজও বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে অন্যতম বড়ো বিপর্যয়। ঠিক তখন এমন এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে, যার কথা পুরো পৃথিবী আজও স্মরণ করে; যদিও তা নেতিবাচক অর্থে। তিনি হলেন এডলফ হিটলার। তার হাতেই নাৎসি বাহিনী প্রতিষ্ঠা পায়। প্রচলিত আছে, তার এই বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬০ লাখ ইহুদি হত্যা করে; যা হলোকাস্ট নামে পরিচিত।
হিটলারের হলোকাস্ট বিষয়টি যেমন সত্য, তেমনি তার ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা-ও অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ১৯৩৪ সালের জুন মাসে Les Annales পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে জার্মান ইহুদি লেখক Emil Ludwig Cohn বলেছিলেন- 'হিটলার কোনো যুদ্ধে যাবে না। এমনকী সে কোনো যুদ্ধে জড়াতেও চায় না। কিন্তু আমরা তার ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেবো। হয়তো এ বছর, নয় পরের কোনো বছর।'
এ প্রসঙ্গে My Political Testament-এ হিটলার উল্লেখ করেন- 'এটা পুরোপুরি অসত্য, আমি বা জার্মানির কেউ ১৯৩৯ সালে যুদ্ধে জড়াতে চেয়েছি। এর নেপথ্যে ছিল আন্তর্জাতিক ইহুদি সংগঠনগুলোর ষড়যন্ত্রময় পরিকল্পনা। তারাই আমাদের যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য করেছে। ধ্বংসাত্মক প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর আরেকটি যুদ্ধের কথা আমি কখনো কল্পনাও করিনি; হোক তা আমেরিকা বা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে।'
এই সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল ইহুদিদের অসংখ্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, যা আজও পুরো বিশ্বে কাজ করে যাচ্ছে। জেরুজালেম থেকে নির্বাসিত হয়ে নিজেদের একতা ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা 'আল-জুদান' নামে নতুন এক রাষ্ট্রের জন্ম দেয়, কিন্তু এ রাষ্ট্রকে চোখে দেখা যেত না। কারণ, এর নিজস্ব কোনো ভূমি ছিল না। তাদের সদস্যরা পৃথিবীর যে প্রান্ত অবধি ছড়িয়েছে, রাষ্ট্রের সীমানা ছিল ততদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
তারা 'কাহাল' নামে নতুন এক সমাজ ব্যবস্থার জন্ম দেয়, যা মেনে চলা সকল ইহুদিদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। আধুনিক রাষ্ট্রের ন্যায় তাদেরও ছিল পার্লামেন্ট। সেখানে নিয়মিত অধিবেশন বসত। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইহুদিদের অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিরা (বিশেষত রাবাইগণ) এই অধিবেশনে অংশগ্রহণ করত। পরবর্তী বছরের অধিবেশনে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, তা চলতি বছরে কাজের গুণাগুণ দেখে নির্ধারণ করা হতো। সে অধিবেশনে নতুন বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বাজেট পাশ করানো হতো। সেই পার্লামেন্টের নাম 'সেনহাড্রিন'। পার্লামান্টের পাশাপাশি এটা ছিল তাদের ধর্মীয় আদালত।
প্যারিস, ওয়ারসো, হ্যানয়, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে তাদের অধিবেশন বসত। গোপনীয়তা ছিল তাদের সকল কাজের প্রথম শর্ত, যেন সাধারণ মানুষ এসবের ব্যাপারে কিছুই আঁচ করতে না পারে। আল-জুদানের প্রথম সদর দপ্তর ছিল প্যারিসে। পরে তা লন্ডন, নিউইয়র্ক এবং ওয়ারসোর মতো আরও অনেক শহরে স্থানান্তরিত হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠে এর শাখা সংগঠন। গুপ্তচরের ন্যায় ছড়িয়ে পড়ে পুরো পৃথিবীতে। ইজরাইল পুনরুদ্ধার এবং জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই ছিল তাদের সকল কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য।
ছোট্ট এই শহরটিকে নিয়ে মানুষের হানাহানি-রক্তারক্তির যেন শেষ নেই। অনেকে ছন্দ করে বলে- পৃথিবীর আদি শিকড় হয়তো এই ভূমিতেই গজিয়েছে, যার জন্য সবাই এখানে ফিরে আসে। আর এখান থেকে সকল হানাহানির সূত্রপাত। তারা বিশ্বাস করে, যখন বহু প্রতীক্ষিত মসিহ পৃথিবীতে আসবেন, তখন তাদের আর কোনো দুঃখ থাকবে না। তবে তাঁর আগমন নিশ্চিত করতে এই ভূমিকে অবশ্যই ইজরাইলের রজাধানী হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ পথে কোনো কাঁটা সহ্য করা হবে না। তাই আজ অবধি যারাই পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কালের পরিক্রমায় তাদের সীমাহীন দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছে; যেমনটা ঘটেছে জার্মান ও রাশিয়ানদের ভাগ্যে।
১৯২২ সালে পূর্ব ইউরোপে যে সোভিয়েত রাষ্ট্রের সূচনা ঘটে, তা ছিল ইহুদিদের কাহাল ব্যবস্থার অনুরূপ। সোভিয়েত নিয়ে তাদের ছিল সুদীর্ঘ পরিকল্পনা। তবে ১৯০৫ সালে সেই পরিকল্পনা ফাঁস হলে, রাশিয়ান সম্রাট নিকোলাস ইহুদিদের নাগরিকত্ব বাতিল করেন। ফলে বিশাল একটি জনগোষ্ঠী উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে।
সেকালে জার্মানির ৫০ শতাংশ পত্রিকা ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পত্রিকায় কী ছাপানো হবে আর কী বাদ যাবে, তা কেবল তারাই নির্ধারণ করত। খুবই করুণ ভঙ্গিতে তারা এই উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীর মানবেতর জীবন চিত্র চারদিকে প্রচার শুরু করে। কিন্তু সম্রাট নিকোলাস কেন তাদের নাগরিকত্ব হরণ করলেন এবং কেনই-বা তাদের বের করে দিলেন, তা নিয়ে কোনো কিছুই প্রকাশ করা হলো না। ফলে সাধারণ মানুষ মূল ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞই রয়ে গেল। তাদের সামনে যা উপস্থান করা হলো, তাই গিলে খেল। উদ্বাস্তু এই জনগোষ্ঠীটির জন্য চারদিকে মায়া ও ভালোবাসার রোল পড়ে গেল। জনগণের আকুল আবেদনে জার্মান সম্রাট তার দেশের সীমানা খুলে দিলেন। কিন্তু এত অভ্যর্থনা জানিয়ে জার্মানরা যাদের আশ্রয় দিলো, কিছুদিন পর তারাই যে জোঁক হয়ে তাদের ওপর জেঁকে বসবে, তা কি জার্মানরা ভুলেও কল্পনা করেছিল!
আশ্রয় লাভের কিছুদিন পর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, উপমন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগরে মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তারা সুকৌশলে প্রবেশ করতে শুরু করে। জনসংখ্যায় মাত্র দুই শতাংশ হয়েও পুরো জার্মান প্রশাসনের হর্তাকর্তা বনে যায়। ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক হয়ে ইহুদিদের হাতে আসত মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ; যা দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তারা তুড়ি মেরে কিনে নিত। ইহুদিদের এক দল ব্যাংকারের কাছে পুরো দেশ আটকা পড়ে। শুরু হয় অর্থনৈতিক অধঃপতন, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা দেয় ১৯২৩ সালে। Frederick Taylor-এর লেখা The Downfall of Money বই থেকে একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ১৯২২ সালে তাদের বাজারে ১৬৩ মার্ক দিয়ে একটি পাউরুটি পাওয়া যেত। ১৯২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তার মূল্য হয় ১.৫ মিলিয়ন মার্ক এবং নভেম্বর শেষ হতে না হতেই তা বেড়ে দাঁড়ায় দুই বিলিয়ন মার্কে। দ্রব্যমূল্যের এমন উর্দ্ধগতির দরুন জনজীবনে ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। ঋণের দায় মেটাতে না পেরে প্রচুর প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। বেকার ও গৃহহীন হয়ে পড়ে প্রায় ৬০ লাখেরও অধিক মানুষ।
৮ নভেম্বর ১৯২৩ হিটলার প্রায় দুই হাজার সশস্ত্র সৈনিক নিয়ে মিউনিখ আক্রমণ করে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা চালায়। সেদিন মিউনিখের Bürgerbräukeller Beer Hall-এ এক প্রশাসনিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় তিন হাজারের অধিক সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিল। অর্থনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ লাভের উপায় নিয়েই এ আলোচনা চলছিল।
হিটলার তার বাহিনীসমেত আচমকা হলে প্রবেশ করে ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করে। সবাইকে বলে, এই অচলাবস্থা থকে মুক্তির পথ সে খুব ভালো করে জানে। সবাই যেন তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতীয় বিপ্লবে অংশ নেয়। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তাকে মিউনিখ মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মুখোমুখি হতে হয়। এই যুদ্ধ দুই দিন ধরে চলে। এতে তার বহু সৈনিক নিহত এবং অনেককে গ্রেফতার করা হয়। হিটলার জীবিত পালালেও ১১ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯২৪ সালে হিটলারকে বিচারের মুখোমুখি করা হলে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই পুরো ঘটনা ইতিহাসে Beer Hall Putsch নামে পরিচিত। ১৯২২ সালে মুসোলিনি যেভাবে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইটালির ক্ষমতা দখল করে, হিটলারও ভেবেছিল ঠিক একই উপায়ে জার্মানির ক্ষমতা দখল করতে পারবে। কিন্তু এই ঘটনার পর সে বুঝতে পারে, পরিপূর্ণ রাজনৈতিক দল গঠন ব্যতীত এ দেশের ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়।
এই ঘটনার পর পুরো জার্মানিতে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। আদালত কক্ষে বিচারকের সামনে সে যে বক্তব্য দিয়েছিল, পত্রিকাগুলো তা গুরুত্বের সাথে প্রচার করে। তার বক্তব্য যেন সাধারণ মানুষকে আশার আলো দেখাচ্ছিল। এরপর হিটলারকে পাঁচ বছরের জায়গায় এক বছরও জেল খাটতে হয়নি। ২০ ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে হিটলার জেল থেকে মুক্তি পায়। এর আগে জেলে বসে সে রচনা করে Mein Kampf-এর প্রথমাংশ, যা সমাপ্ত হওয়ার পর ১৯২৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়; শুরু হয় তার রাজনৈতিক দল গঠন পর্ব।
১৯৩৩ সালে তার রাজনৈতিক দল নাৎসি পার্টি ক্ষমতায় এসে প্রথমেই পুরোনো অর্থব্যবস্থাকে বাতিল ঘোষণা এবং নতুন মুদ্রা ছাপাতে শুরু করে। যে ব্যাংকারদের হাতে এতদিন দেশ জিম্মি ছিল, তাদের সে দেশছাড়া করে। রাতারাতি পুরো দেশের চিত্র পালটে যায়। পুরো বেকার সমাজকে সে একাই কাজে ফিরিয়ে আনে এবং সবার জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে শুরু করে। মাত্র কয়েক বছরের মাথায় তারা হয়ে উঠে সুপারপাওয়ার জাতি। তাদের পরিবর্তন দেখে অস্ট্রিয়াও একই নীতি অনুসরণ করতে শুরু করে। কোনো বাধা ছাড়াই হিটলারকে তাদের দেশে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
ইহুদিরা জানত, তাদের শয়তানি চেহারা অবশ্যই একদিন জনসম্মুখে প্রকাশ পাবে। তখন রাশিয়ার মতো জার্মানি থেকেও তাদের বের করে দেওয়া হবে। আজ পর্যন্ত তারা যতগুলো দেশে গিয়েছে, সেখানেই নিজেদের কৃতকর্মের জন্য বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে। তাই নিজেদের সুরক্ষা বলয় শক্তিশালি করতে প্রথম থেকেই জার্মানির বিভিন্ন মন্ত্রলায়কে নিজেদের কবজায় নিতে থাকে। বিষয়টি হিটলারের ক্ষমতায় আসার অনেক বছর আগের কথা।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর Hugo Haase এবং Otto Landsberg-এর তত্ত্বাবধানে ছয় সদস্যের জার্মান মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হন Mr. Haase, যার প্রধান সহকারী ছিলেন Karl Kautsky। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান হন Eguen Schiffer, যার প্রধান সহকারী ছিলেন Eduard Bernstein। শিক্ষা বিভাগের প্রধান হন Mr. Arndt. ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার প্রধান হন Mr. Meyer-Gerhard, শিল্পকলা বিভাগের প্রধান Mr. Kastenberg, আর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রধান হন Mr. Wurm। কোপেনহেগেনে অবস্থিত ডেনমার্ক পত্রিকা প্রতিষ্ঠান Frankfurter Zeitung-এর প্রধান হন Fritz Max Cohen; উল্লিখিত সবাই ছিলেন ইহুদি।
একই উপায়ে তারা প্রুশিয়ার প্রশাসনও দখল করে নেয়। সেখানকার মন্ত্রিসভা যে দুইজন ব্যক্তির নেতৃত্বে গঠিত হয়, তারা হলেন Paul Hirsch ও Kurt Samuel Rosenfeld। বিচার বিভাগের প্রধান হন Mr. Hirsch। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হন Mr. Rosenfeld। রাজস্ব বিভাগের প্রধান হন Mr. Simon এবং তার প্রধান সহকারী হন Mr. Furtran। যুদ্ধকালীন সময়ে খাদ্যবিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্ত হন Prof. Dr. Hirsch Ges Geheimrat Dr. Stadthagen। এ ছাড়াও, Cohen, Stern, Herz, Lowenberg, Frankel, Israelowicz, Laubenheim, Seligsohn, Katzenstein, Laufenberg, Heimann, Schlesinger, Merz এবং Weyl-এর মতো আরও অনেকে প্রশাসনিক বিভাগে নিযুক্ত হন।
বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুট, মিউনিখ ও এসেনে পুলিশ বিভাগের প্রধান হন যথাক্রমে Mr. Ernst, Mr. SinZheimer, Mr. Steiner এবং Mr. Levy। বাভারিয়ার প্রেসিডেন্ট Kurt Eisner-এর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান হন Mr. Jaffe। শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের প্রধান হন Mr. Brentano। একই উপায়ে স্যাক্সনি ও ওয়ারটেমবার্গ রাজ্যের প্রধান হন Lipsinsky-Schwarz Ges Brentano। ইতিহাস অধ্যয়ন করলে আরও অনেকের পরিচয় পাওয়া যাবে, যাদের উপস্থিতি সেখানকার প্রশাসনিক পদগুলোতে ছিল। যেমন: Max Warburg, Dr. Von Strauss, Merton, Oskar Oppenheimer, Dr. Jaffe, Deutsch, Brentano, Brenstein, Struck, Rathenau, Wassermann এবং Mendelsohn-Bartholdi।
The Berliner Tageblatt ও Muncher Neuester Nachrichten ছিল যুদ্ধকালীন সময়ে জার্মান সরকারের প্রধান দুটি পত্রিকা। মজার বিষয় হলো এই দুটি প্রতিষ্ঠানও তারা পরিচালনা করত। Frankfurter Zeitung প্রতিষ্ঠানটিকে তারা জার্মানবাসীর নৈতিক, আধ্যাত্মিক, মানবিক চরিত্র গঠন ও পরিবর্তনের কাজে বিশেষভাবে ব্যবহার করত।
সেকালে জার্মানির রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন Bethmann-Hollweg। এবার তার উপদেষ্টাদের পরিচয় তুলে ধরা যাক। যেমন: Ballin ছিলেন প্রসিদ্ধ জাহাজ ব্যবসায়ী, Theodor Wolff ছিলেন Berliner Tageblatt এবং Pan-Jewish ছিলেন পত্রিকা দুটির প্রভাশালী সদস্য; Von Gwinner ছিলেন জার্মান ব্যাংকের মহাপরিচালক এবং Rathenau ছিলেন শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা। এরা সবাই ছিলেন সরকারের সকল তথ্য ও পরামর্শের একমাত্র উৎস। তারা সাধারণ জনগণের মতো সেখানকার সরকারকেও প্রতারিত করত।
মূলত তিনটি কৌশলে তারা সাধারণ মানুষকে বোঁকা বানিয়ে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করত-
১. সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে বলশেভিক চেতনা উসকে দেওয়া।
২. প্রকাশনী শিল্পে নিজেদের কর্তৃত্ব জোড়দার করা।
৩. খাদ্য উৎপাদন ও কল-কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল সরবরাহে নিজেদের একচেটিয়া অধিপত্য নিশ্চিত করা।
১৯১৯ সালের এপ্রিল মাসে The London Globe পত্রিকার সাংবাদিক George Pitter-Wilson একটি কলামে উল্লেখ করেন- 'বলশেভিজম মূলত খ্রিষ্টান ধর্মচ্যুত একটি সমাজব্যবস্থা, যার প্রকৃত উদ্দেশ্য পৃথিবীতে ইহুদিদের রাজত্ব কায়েম।'
বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কিছুদিন পর তারা প্রচার করতে শুরু করে- জার্মানদের পরাজয় ব্যতীত প্রলেতারিয়েতদের প্রকৃত বিজয় অর্জন অসম্ভব। Mr. Strobel ঘোষণা করেন- 'জার্মানির সামগ্রিক বিজয় কখনোই গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার জন্য সুফল বয়ে আনবে না। এটা প্রলেতারিয়েটদের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে নস্যাৎ করে দেবে।' তারা জাতি হিসেবে যে কতটা বিশ্বাসঘাতক, তা এই কয়েকটি উদাহরণ থেকেই বোঝা সম্ভব।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিকদের নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করতে ইহুদিরা খাদ্য সরবরাহ লাইনে আঘাত হানে। প্রতিটি দেশপ্রেমিক সৈন্যের ন্যায় তারাও জানত, যুদ্ধ মানে কঠোর আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘকালীন কষ্ট ভোগ।
সে বছর ফসলের উৎপাদন বেশ ভালোই হয়েছিল, কিন্তু বাজারে পণ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বমূল্য সবাইকে অবাক করে দেয়। মানুষ ভাবতে শুরু করে- এত ফসল তাহলে গেল কোথায়? যুদ্ধ শুরুর পূর্বে ফসলের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অঞ্চলে ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। বিনিয়োগের অভাব ছিল না বলে ইহুদি ব্যবসায়ীরা ছদ্মবেশে সেসব ডিলারশিপ কিনে নেয়। তা ছাড়া মাঠ পর্যায়ে তাদের আরেকটি দল কাজ করত, যারা বিভিন্ন ডিলারের কাছ থেকে বাজারমূল্যে সব পণ্য কিনে নিত। ফলে অল্প দিনে পুরো বাজার ফাঁকা হয়ে যায়। পরে তারাই কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে বাজারে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়।
এত পরিকল্পনার পরও কোনো অদৃশ্য শক্তির কাছে হার মানতে হবে, তা জার্মান সরকার কখনো ভাবতেও পারেনি। যুদ্ধের পর দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। আদালতে মামলা করা হয়। অবাক কাণ্ড! দেখা গেল যিনি মামলা করেছেন, আর যিনি বিচার করছেন তারা উভয়েই ইহুদি। ফলে মামলা করেও প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অথচ এর বিপরীতে সাধারণ কোনো ব্যক্তিকে আদালতে তোলা হলে চারদিকে হইচই পড়ে যেত, তার ন্যায্য শাস্তি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকরা উঠেপড়ে লাগত।
সামাজিক স্বীকৃতি ও পদমর্যাদার প্রতি তাদের সব সময়ই মোহ কাজ করত। সম্পদশালীরা প্রতিপত্তির বিনিময়ে সমাজের উঁচু পদগুলো (যা থেকে শাসন করা সম্ভব) নিজেদের করে নিত; অনেকটা অর্থ দিয়ে সম্মান কিনে নেওয়ার মতো। কিন্তু তাদের গরিব ভাইয়েরা কী করত? তাদের তো আর সেই পরিমাণ সম্পদ নেই, যা দিয়ে ক্ষমতা কিনতে পারে! এ ক্ষেত্রে তারা একটি সূক্ষ্ম খেলা খেলত। গরিব গোষ্ঠীটি ছদ্মবেশে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেত। ফলে কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব হতো না- কে জ্যান্টাইল আর কে ইহুদি। বিভিন্ন অধিকার আদায়ের স্বপ্ন দেখিয়ে তারা মানুষের হৃদয়ে আন্দোলনের বীজ বুনে দিত। যেমন : শ্রমিক বিপ্লব। পেছন থেকে তাদের সম্পদশালী ভাইয়েরা প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিত। রাতারাতি জন্ম নিত কিছু শ্রমিকনেতা। আড়ালে কী ঘটছে, সাধারণ মানুষ কিছুই বুঝত না। তারা শুধু এতটুকুই দেখত- তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে মহান এক নেতা, যিনি তাদের নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। আর নেতাদের পক্ষে জনমত তৈরি করার জন্য পত্রিকা প্রতিষ্ঠানগুলো তো রয়েছেই।
এভাবে দল ভারী হওয়ার সাথে সাথে তারা মহা বিপ্লবের ডাক দেয়। তখন সরকার, প্রশাসন ও আইন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এক হয়েও এই আন্দোলন হটাতে পারে না। কারণ, ততক্ষণে জনগণ এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। জন্ম নেওয়া নতুন শ্রমিকনেতা চলে আসে রাষ্ট্রের রাজকীয় ক্ষমতায়। সুবিধা ভোগের জন্য তিনি সেই সকল ব্যক্তিদের পথ করে দেন, যারা বিপ্লবের সময় তার পেছনে অর্থের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিল। জার্মান, ফরাসি ও বলশেভিক বিপ্লব এমন-ই কিছু উদাহরণের সমষ্টি।
প্রলেটারিয়েটদের একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তারা যখন রাশিয়াকে ভেঙে দিলো, তখন কে ক্ষমতায় আসে? ক্রান্সস্কি। তবে তার পরিকল্পনা যথেষ্ট ছিল না বলে ক্ষমতায় আসে ট্রটস্কি। এরপর আসে লেনিন। তারা সবাই ছিল বলশেভিক বিপ্লবের এক একজন মহানায়েক এবং একই গোষ্ঠীর সদস্য।
বেলফোর ডিক্লারেশনের মধ্য দিয়ে বহু আগেই ইজরাইল পুনঃপ্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছে। শক্তি, সামর্থ্য ও প্রতিপত্তির দিক দিয়ে তারা আজ পৃথিবীর যেকোনো পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের সমকক্ষ, কিন্তু একশো বছর আগেও তারা ছিল যাযাবর জাতি। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিল পৃথিবীর নানা প্রান্তে। তাদের ছিল না নিজস্ব কোনো সৈন্য বাহিনী। তারপরও সামরিক শক্তির কোনো অভাব ছিল না। ব্রিটিশ নৌবাহিনী তো পরোক্ষভাবে তাদেরই সামরিক শক্তি ছিল।
সমুদ্রের যেখানে ইহুদিদের সুরক্ষার প্রয়োজন হতো, সেখানেই তারা এই বাহিনীকে ব্যবহার করত। ইংল্যান্ডকে ব্যবহার করে তারা বিশ্বজুড়ে যে ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করে, তার পেছনেও ছিল এ বাহিনীর বিশাল ভূমিকা।
১৯১৯ সালে আটোমানদের পরাজিত করে ব্রিটিশ জেনারেল অ্যাল্যানবি যখন জেরুজালেমে প্রবেশ করে, এই সৈন্যবাহিনীর বিশাল একটি অংশ তখনও তার সাথে উপস্থিত ছিল। শুধু ব্রিটেন কেন, প্রয়োজন হলে তারা আরও অনেক দেশের সৈন্য বাহিনীকে মাঠে নামাতে সক্ষম। ইউরোপ-আমেরিকার এমন কোনো রাষ্ট্রপ্রধান নেই, যিনি তাদের অদৃশ্য ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত নন।
কয়েকশত বছর পূর্বে স্পেন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও ইতালি পৃথিবীজুড়ে যে অসংখ্য ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছিল, তার সূর্যাস্ত বহু আগেই হয়েছে। আজ তারা নিজেরাই অন্তঃকোন্দলে ব্যস্ত। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে খুব গোপনে এক নতুন ঔপনিবেশিক শক্তির আবির্ভাব ঘটেতে যাচ্ছে। অতি সূক্ষ্ম উপায়ে এর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইজরাইলের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এই অনুমানকে আরও প্রখর করে তুলছে। কারণ, বহু প্রতিক্ষিত নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার হয়তো সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠা পাবে।
'ইহুদিরা যে পৃথিবীর সবচেয়ে বিতর্কিত জাতি, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে আজ পর্যন্ত আমরা নতুন অনেক স্থানে গিয়ে হাজির হয়েছি, যেখানে আমাদের নিয়ে পূর্বে কোনো বিতর্ক ছিল না। কিন্তু আমরা এতটাই অভাগা, সাধারণ মানুষের আক্রোশ কখনোই আমাদের পিছু ছাড়েনি। ... ইংল্যান্ডে আজ যে অ্যান্টি-সেমিটিজম ছড়িয়ে পড়ছে, ইতোমধ্যে তা আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের উপস্থিতিই যেন সব বিতর্কের মূল কারণ।' Theodore Herzl, 'A Jewish State' p. 4.
টিকাঃ
১৬. প্রতি সপ্তাহের শনিবার হলো সাব্বাত। ইহুদিদের নিকট তা হলো সাপ্তাহিক ছুটির দিন।
১৭. ইওম কিপুর- এটি ইহুদি নিকট বছরের সবচেয়ে পবিত্র দিন। দিন-রাত মিলিয়ে ২৫ ঘণ্টা রোজা রেখে তারা এই দিনটিকে পালন করে থাকে এবং সব পাপকর্মের জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে।
১৮. আল জুদান (Al Judan)- ইহুদিদের অদৃশ্য রাষ্ট্রের নাম। ধারণা করা হয়, Judah থেকে Judan শব্দটির উদ্ভব ঘটেছে।
১৯. কাহাল (Qahal)- ইহুদিদের বিশেষ এক সমাজব্যবস্থা।
২০. সেনহাড্রিন (Sanhedrin)- আল জুদান রাষ্ট্রের পার্লামেন্ট।
২১. মসিহ- ইসলাম ও খ্রিষ্ট ধর্মে তিনি ঈসা (আ.) বা যিশুখ্রিষ্ট, কিন্তু ইহুদিরা যার জন্য অপেক্ষা করছে ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী সে হলো একচোখওয়ালা দাজ্জাল।
২২. মার্ক (Mark)- জার্মান মুদ্রার নাম।
২৩. প্রলেতারিয়েট- কার্ল মার্ক্সের সংজ্ঞা অনুযায়ী মাত্র মজুরির বিনিময়ে যারা শিল্প-কারখানাগুলোতে তাদের পরিশ্রম বিক্রি করে এবং নিম্ন আয়ের গোষ্ঠী হওয়ায় সমাজের সবচেয়ে নিচু স্তরে অবস্থান করে, তাদের প্রলেতারিয়েট বলে।
২৪. নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার (New World Order)- নতুন এক সমাজব্যবস্থা। এর বৈশিষ্ট্য হলো সকল ভৌগোলিক সীমারেখা উঠে গিয়ে পুরো পৃথিবী হবে একটি মাত্র দেশ এবং তাতে একটি মাত্র সরকার ও একক মুদ্রাব্যবস্থা থাকবে। ল্যাটিন ভাষায় একে বলা হয় Novues Ordo Seclorun |
📄 আন্তর্জাতিক ইহুদি ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব
ধারণা করা হয়, ধর্মীয় কুসংস্কার, অর্থনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক বিদ্বেষ- এই তিনটি কারণে ইহুদিরা ইতিহাসজুড়ে বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করুক আর না-ই করুক, নিছক ধর্মীয় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে জ্যান্টাইলরা কখনো তাদের বিরুদ্ধে মারমুখি হয়ে ওঠেনি। তবে অর্থনৈতিক প্রতিহিংসাকে একটি কারণ বলা যেতে পারে। কারণ, অর্থ-সম্পদ না চাইলেও অনেক সময় শত্রুর জন্ম দিয়ে ফেলে। তা ছাড়া এত ছোট্ট একটি জাতি এত ধন-সম্পদের মালিক কীভাবে হয়ে উঠল, তাও অনেকের চিন্তার কারণ হয়েছিল। তারা যদিও এ ব্যাপারে নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলে- সৃষ্টিকর্তা আপন হাতে তাদের অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিয়েছে। মূলত এসব তাদের বানানো গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইহুদিরা অর্থ-সম্পদকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে সমাজকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে রেখেছে তা হলো- উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত।
এই বিভাজন তারা এত সূক্ষ্ম উপায়ে করেছে, তাতে সবাই ধরেই নিয়েছে- যাদের প্রচুর সম্পদ আছে, কেবল তারাই সমাজের উচ্চশ্রেণির। তারা যা-ই বলে, তা-ই সমাজের আইনকানুনে পরিণত হয়। বিষয়টা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে এখন আর কোনো তর্ক- বিতর্ক হয় না। এই অর্থ-সম্পদের উৎস কী, তা নিয়েও যেন কারও কোনো চিন্তা নেই।
বাইবেল অনুযায়ী- মোজেস যখন সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কথা বলতে সিনাই পাহাড়ে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর অবর্তমানে ইজরাইলবাসী স্বর্ণের বাছুর তৈরি করে পূজা শুরু করে, যা Golden Calf নামে পরিচিত। তারা বোঝাতে চেয়েছে- অর্থই ঈশ্বর। সকল উপাসনা কেবল তার নিমিত্তে। যারা এই অর্থ-সম্পদকে গুরুত্ব দেবে, কেবল তারাই হবে সমাজের উচ্চশ্রেণির জনগোষ্ঠী।
এ কারণে দেখা যায়- ইহুদিরা যখন কোনো নতুন দেশে প্রবেশ করত, তখন কেউ পাত্তাই দিত না। কারণ, তাদের অবস্থা ছিল ভিখারির মতো। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই যখন তারা অর্থ-সম্পদে এতটা ফুলে উঠত, রাজা-বাদশাহরাও তাদের নিকট ধরনা দিত।
ইহুদিরা নিজেদের সুবিধার্থে নতুন সব আইনকানুন তৈরি করে সর্বসাধারণের ওপর চাপিয়ে দিত। তারা চাইলে অর্থবাজারে ধ্বস নামে। আবার তাদের মর্জিতেই বাজার চাঙা হয়ে ওঠে এবং লাখো মানুষের জীবিকা চলে। ওয়ালস্ট্রিটসহ পৃথিবীর সব বড়ো বড়ো শেয়ার বাজারের চাবি তো এখন তাদের হাতেই জিম্মি!
সামাজিক বিদ্বেষ নিয়ে বলতে গেলে- সব যুগেই জ্যান্টাইলদের সঙ্গে ইহুদিদের আপত্তিকর কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা যেত, তবে তা আহামরি কিছু ছিল না। এমন অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে, যেখানে একজন খ্রিষ্টান ও নাস্তিক পাশাপাশি বড়ো হয়েছে; সম্পর্কে তারা প্রতিবেশী। ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রায়ই তাদের মাঝে তর্কাতর্কি হতো, কিন্তু তা কখনো রক্তারক্তিতে রূপ নেয়নি।
এ তিনটি বিষয় ছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে, যা তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। আগের অধ্যায়গুলোতে এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। যেমন: পৃথক জাতীয়তাবাদ নীতি, দেশপ্রেমহীনতা, সামাজিক অনুশাসন ভঙ্গ করা, তথ্য পাচার করা ইত্যাদি। এবার ষড়যন্ত্রময় বিশ্ব রাজনীতিতে ইহুদিরা কীভাবে দাবার গুটি চালছে, তা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ঊনবিংশ শতাব্দীর অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ইহুদি হলেন Theodor Herzl। তাকে বর্তমান ইজরাইলের অন্যতম রূপকারও বলা হয়। তার একটি বিখ্যাত উক্তি- 'We are a people- One people।' তিনি পরিষ্কার করে বলেন, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পৃথক জাতীয়তাবাদ নীতির কোনো বিকল্প নেই। ১৮৯৭ সালের প্রথম জায়োনিস্ট সম্মেলনে তিনি বলেন- 'যখন আমরা কোনো বিপদে পতিত হই, তখন অদম্য এক শক্তিকে সঙ্গে করে বিপ্লবী প্রলেতারিয়েটরূপে জেগে উঠি। তখন আর আমাদের পরাজিত করা সম্ভব নয়। আমরা হয়ে উঠি অতুলনীয়-অদম্য শক্তির আধার।'
The Jewish State গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি উল্লেখ করেন-
'আমিও বিশ্বাস করি, অ্যান্টি-সেমিটিজম সত্যি একটি বড়ো আন্দোলন। এই কুরুচিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রতিহিংসা ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। এটি এমন এক জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যার সমাধান করতে সভ্য দেশের সব রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে একত্রিত করা প্রয়োজন।'
১৯০২ সালে British Royal Commission-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মেজর Evans Gordon-এর প্রশ্নের জবাবে Dr. Herzl বলেন-
'আমি আপনাদের এমন এক রাষ্ট্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবো, যার বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে দ্রুতই তা বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক কারণে এই রাষ্ট্রের বংশধরদের অসংখ্য শত্রুর মোকাবিলা করতে হয়েছে। আপনারা চাইলে রাষ্ট্রটির পূর্বে বিশেষণ হিসেবে 'ইহুদি' যোগ করতে পারেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন, এই রাষ্ট্রটির পূর্ণরূপ কী হতে পারে!'
Lord Eustace Percy একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক ও রাজনীতিবিদ। সে সময় তিনি এই বিশেষ জাতিগোষ্ঠীটিকে নিয়ে একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করেন, যা পরবর্তী সময় Canadian Jewish Chronicle দ্বারা সমর্থিত হয়। লেখাটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-
'উদারপন্থি ও জাতীয়তাবাদ (Libaralism and Nationalism) এ দুটি নীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইউরোপিয়ান অধিবাসীগণ নিজ নিজ দেশে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকারও এ যাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রশাসনিক পদগুলোতে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে। বিষয়টিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ইহুদিরা প্রচণ্ড প্রতাপের সাথে বেরিয়ে আসে। কীভাবে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক পদগুলো নিজেদের করে নেওয়া যায়, তা নিয়ে উঠেপড়ে লাগে। এভাবে ক্ষমতা যখন হাতে চলে আসে, তখন তারাই আবার নীতি দুটির বিরোধিতা করে। একসময় নীতি দুটির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দলের জন্ম হয়, যা একত্রিত হতে যাওয়া ইউরোপকে পুনরায় দ্বিখণ্ডিত করে ফেলে।
যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্রে হস্তক্ষেপ চালাতে ইহুদিদের সচারাচর দুটি কাজ করতে দেখা যেত। উক্ত রাষ্ট্রের পুরো সাংবিধানিক কাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া এবং সেখানে নিজেদের মনোনীত সমাজব্যবস্থা কায়েম করা।
আজ ইউরোপের আকাশ জায়োনিজম ও বলশেভিজমের মেঘে আচ্ছন্ন। জায়োনিজম হলো ইহুদিদের রাজনৈতিক ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, যা বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিংশ শতাব্দীতে প্রজাতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক মতবাদ দুটি ব্যবহার করে ইহুদিরা যেভাবে কনস্টান্টিনোপল দখল করে এবং তুর্কি বিপ্লবের জন্ম দেয়, ঠিক সেভাবে ইউরোপ দখল করতে আজ তারা বলশেভিক বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে।'
নিজেদের দাপট কায়েম করতে ইহুদিরা বারবার জ্যান্টাইল রাষ্ট্রগুলোকে আক্রমণ করেছে এবং শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটিয়েছে। যেমন: তারা রাজতন্ত্র সরিয়ে প্রজাতন্ত্র, প্রজাতন্ত্রকে সরিয়ে সমাজতন্ত্র এবং অনেক জায়গায় প্রজাতন্ত্র সরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে। পুরো পৃথিবীর শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করে একদিন নিজেদের ক্ষমতা কায়েম করবে এবং সবাইকে গোলাম বানিয়ে ছাড়বে- এটাই ইহুদিদের বিশ্বাস। এর প্রথম ধাপ হিসেবে তারা গণতন্ত্রকে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
অনৈতিক ও সন্ত্রাসী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দরুন একসময় তাদের একঘরে করে রাখা হতো। তাই তারা নিজেদের জন্য ঘেটোভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলে। ইহুদিদের সংস্পর্শে এসে সমাজ যেন কলুষিত না হয়, সে জন্য তাদের কার্যক্রম নির্দিষ্ট করা ছিল। অর্থাৎ তারা চাইলেই প্রশাসনিক বা ব্যবসায়িক কাজে অংশ নিতে পারত না। ইহুদিরা এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, যা সমাজে তাদের প্রতিষ্ঠা করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী শান্তি আলোচনা এমনই একটি উদাহরণ।
তারা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধ নতুন সব শান্তি-আলোচনার দ্বার খুলে দেয়, যার উঁচু পদগুলো সব সময়ই ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ থাকে। আর সেখান থেকেই হাতের ছড়ি ঘুরিয়ে তৈরি করে নতুন আইন-কানুন। এ সম্পর্কে জানতে Sixth Zionist Conference-১৯০৩ নিয়ে যে কেউই গবেষণা করতে পারেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অটোমানদের হটিয়ে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিদের হাতে প্যালেস্টাইনের চাবি তুলে দেয়। তারপরও বহু প্রতিক্ষিত ইজরাইল প্রতিষ্ঠা করতে তাদের আরও অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হবে। এখনও ইহুদিদের অনেক সদস্যই প্যালেস্টাইনে ফিরে আসেনি। নিরাপত্তা ও আবাসন সংকটের দরুন তারা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
২৫ জুন ১৯২০, American Hebrew ম্যাগাজিনের মুখপাত্র Herman Bernstein তার একটি আর্টিকেলে প্রকাশ করেন-
'কিছুদিন আগে আমেরিকান বিচার বিভাগের এক প্রতিনিধি 'The Jewish Peril' শিরোনামে লেখা একটি পাণ্ডুলিপি নিয়ে আমার কাছে আসেন। পাণ্ডুলিপিটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়া রাশিয়ান কোনো একটি বইয়ের অনূদিত অংশ-বিশেষ, যা অনেক আগেই বাজার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিশ্বের পুরো জ্যান্টাইল জনগোষ্ঠীকে কীভাবে ইহুদিরা নিজেদের কবজায় নিয়ে আসবে, সে সম্পর্কে বহু নির্দেশনা পাণ্ডুলিপিটিতে দেওয়া হয়েছে।'
১৮৯৬ সালে Dr. Herzl এই সব নির্দেশনার একটি প্রথমিক খসড়া তৈরি করেন, যা ১৮৯৭ সালে সুইজারল্যান্ডের শহর বাসেলে অনুষ্ঠিত হওয়া জায়োনিস্ট সম্মেলনে প্রথমবারের মতো উপস্থাপন করা হয়। পরে ১৯০৩ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত অসংখ্য ছোটো ছোটো খণ্ডে এই সম্পূর্ণ খসড়াটি বাজারে আসতে থাকে, যা একসময় পূর্ণ গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। রাশিয়ার বাজারে এ নিয়ে প্রচণ্ড হইচই শুরু হওয়ায় গ্রন্থটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু তত দিনে এর অসংখ্য কপি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যায়। এর দরুন এটিকে একেবারে গায়েব করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই সম্পূর্ণ খসড়াটির একটা কপি এখনও ব্রিটিশ জাদুঘরে জমা আছে, যার ওপর লেখা আছে- '১০ আগস্ট, ১৯০৬'।
যে পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে এত হইচই, তার নাম হলো- Protocols of the Learned Elder Zion। এর ওপর ভিত্তি করে ১৯২০ সালে লন্ডনের Kzre and Spottiswoode ম্যাগাজিন একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করে, যা নিয়ে লন্ডনে থাকা ইহুদিরাও হইচই শুরু করে। নিজেদের কলঙ্ক ঢাকতে বিকল্প হিসেবে তারা London Times ম্যাগাজিনকে ব্যবহার করে। তারা Kzre and Spottiswoode-এর প্রকাশিত আর্টিক্যালটিকে 'দুঃখজনক' বলে আখ্যায়িত এবং এ জাতীয় কাজকে পাগলামির অংশ বলেও অভিহিত করে।
কিন্তু এটাই ছিল সেই নীলনকশা, যার ভিত্তিতে ইহুদিরা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্ম দিয়েছে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ তৈরি করেছে। অপসংস্কৃতিতে চারদিক ভরিয়ে তুলেছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় নাস্তিকতার জন্ম দিয়েছে। অর্থব্যবস্থাকে কুক্ষিগত এবং বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী শান্তি আলোচনাগুলোতে কেবল নিজেদের স্বার্থই হাসিল করেছে। ইহুদিদের সংগঠনগুলো আজ পর্যন্ত এই দলিলটির সঙ্গে কোনো রকম সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেনি; বরং এটিকে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে কিছু চক্রান্তকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডার অংশ বলে দাবি করে আসছে।
ইহুদিদের পক্ষ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আসুক বা না আসুক, এই সম্পূর্ণ দলিলটি আজ পর্যন্ত তাদের অন্তিম উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে যেভাবে মিলে যাচ্ছে, তা নিছক কোনো কাকতালীয় ব্যাপার হতে পারে না। পরবর্তী বেশ কয়েকটি অধ্যায়জুড়ে এ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
১৯ জুন, ১৯২০ 'Trotsky Leads Jew-Radicals to World Rule. Bolshevism Only a Tool for His Scheme' শিরোনামে Chicago Tribune একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করে। বলশেভিক বিপ্লব যে ইহুদি গুপ্তচরদের সুদীর্ঘ পরিকল্পনার একটি অংশ, তা এই লেখায় সবিস্তারে তুলে ধরা হয়। তা ছাড়া খুব দ্রুতই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তজুড়ে আরও অনেক ধ্বংসাত্মক আন্দোলন দানা বাঁধতে যাচ্ছে- এমন কড়া হুঁশিয়ারিও সেই লেখনীতে উপস্থাপন করা হয়। ইতঃপূর্বে বহু পত্রিকা প্রতিষ্ঠান ঠিক এ জাতীয় সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। এমনও হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের কিছুদিন যেতে না যেতেই তারা সেই কলামটি সরিয়ে নিয়েছে এবং ভুল তথ্য প্রকাশের বিবৃতি দিয়ে মাফও চেয়েছে।
১৯ তারিখে প্রকাশিত আর্টিক্যালটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী তুলে ধরা হলো-
'গত দুই বছরে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অনেক মূল্যবান তথ্য আমাদের হাতে এসেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে- বলশেভিকের মতো আরও অনেক বিপ্লব খুব দ্রুতই পৃথিবীর বুকে আঘাত হানতে যাচ্ছে। যারা নিরন্তর এর পেছনে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের পরিচয় দেরিতে হলেও আমাদের নিকট পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই তাদের এই ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরেছে।'
কমিউনিজম তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের অন্যতম বড়ো হাতিয়ার। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রাচ্যের দেশগুলোতে তারা যে আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে, তার উদ্দেশ্য সমাজে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা নয়। ধীরে ধীরে তাদের এই আক্রমণ প্রতিচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও ধেয়ে আসবে। তাদের সমকক্ষ এমন একটি রাষ্ট্রকেও তারা বাঁচতে দেবে না। প্রয়োজনে ইংল্যান্ডের ওপর ইসলামি বিপ্লব, ভারতের ওপর জাপানি বিপ্লব এবং আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিতেও তারা পিছপা হবে না। তাদের উসকে দেওয়া সকল আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- পৃথিবীর বিদ্যমান সমস্ত শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলা এবং তার স্থানে নিজেদের শাসনব্যবস্থা কায়েম; শান্তি প্রতিষ্ঠা করা নয়।'
২১ জুন, ১৯২০ World Mischief শিরোনামে Chicago Tribune আরও একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করে, যেখানে তাদের কুকর্মের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রথম দিকে তারা এই তথ্যগুলোকে মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট গল্প বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষ যখন প্রমাণ উপস্থাপন করতে শুরু করে, তখন তারাই আবার কণ্ঠ পরিবর্তন করে বলে-
'ছোট্ট যে জাতিটি বহুকাল পৃথিবীর অসংখ্য নির্যাতন সহ্য করেছে, তারা যদি শত্রুদের ক্ষমতাচ্যুত করে বিশ্ব শাসন করার স্বপ্ন দেখে, তাতে এমন আশ্চর্য হওয়ার কী আছে?'
Jewish Encyclopedia হতে জানা যায়, খ্রিষ্টযুগ শুরুর আগ পর্যন্ত তাঁদের কোনো রাজা ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে ব্যাবিলন সেনাপতি নেবুচাদ নেজার জেরুজালেম আক্রমণ করে সেখানকার অসংখ্য অধিবাসীকে হত্যা করে এবং ৬০-৭০ হাজার ইজরাইলিকে বন্দি করে নিয়ে যায়; অবশ্য পরে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
৭০ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমানরা আবারও এই পবিত্র ভূমি আক্রমণ করে এবং সবাইকে নির্বাসিত করে। ঠিক তখন থেকে বেলফোর ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা আর কখনো সামষ্টিকভাবে জেরুজালেমে ফিরে যেতে পারেনি। তারা ছিল যাযাবর জাতি। এই কথাগুলো পুনরায় বলার বিশেষ কিছু তাৎপর্য আছে।
ব্যাবিলনদের আক্রমণে প্রথমবারের মতো নির্বাসিত হওয়ার পর তারা এক অদৃশ্য শাসনব্যবস্থার জন্ম দেয়, যাতে নির্বাসিত অবস্থাতেও একতাবদ্ধ থাকা যায়। তবে এই ব্যবস্থাটি তখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। কারণ, কিছুদিন পর তারা আবারও জেরুজালেমে ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন রোমানদের দ্বারা নির্বাসিত হয়, তখন ইহুদিরা শাসনব্যবস্থায় রাজার সংযোজন করে। ইহুদিরা পৃথিবীর যতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ুক না কেন, রাজার নির্দেশ মেনে চলা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি ছিলেন তাদের অভিভাবক। এ পর্যন্ত তারা যতজন রাজা নির্বাচিত করেছে, তাদের সবাইকে বলা হয় 'Exilarch'। এই অদৃশ্য রাষ্ট্রের নামও ছিল ইজরাইল।
ইহুদিরা যতদিন না নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারছে, ততদিন এই শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে তারা ছিল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের পৃথক আদালত ও আইনব্যবস্থাও ছিল। পৃথিবীর যে রাষ্ট্রেই বসবাস করুক না কেন- হোক তা খ্রিষ্টান বা মুসলিমদের দেশ, তারা মনে-প্রাণে এই রাষ্ট্রের সব নিয়মকানুন মেনে চলত। কিন্তু এই রাষ্ট্রটি আজ কোথায়? এটি কি পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে? না, হারিয়ে যায়নি; বরং তা নতুন খোলস ধারণ করেছে।
প্রাচীন সেই রাষ্ট্রটির একটি পার্লামেন্টও ছিল, যার নাম 'সেনহাড্রিন'। এ সম্পর্কে পূর্বের একটি অধ্যায়ে সামান্য আলোচনা করা হয়েছে।
৭১ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই পার্লামেন্ট ব্যবস্থার প্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোথেকে এবং কী উপায়ে এই সদস্যগণ নির্বাচিত হতো, তা কখনো প্রকাশ করা হতো না। তবে তা গণতান্ত্রিক উপায়ে হতো না। একজন রাজা যোগ্যতার ভিত্তিতে সংসদ সদস্যদের নির্বাচন করতেন। এখানে রাজা বলতে তাদের প্রধান ধর্মীয় গুরুকে বোঝানো হয়েছে, যার পরিচয় খুব গোপন রাখা হতো।
জনসাধারণের জান-মাল ও সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়া এই সংসদীয় ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং সাম্রাজ্যবাদ আরও শক্তিশালী করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। Jewish Encyclopedia হতে জানা যায়- এই সদস্যরা নির্বাচিত হতো সম্পদ, প্রতিপত্তি ও ধর্মীয় জ্ঞানের মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে। তাদের সাম্রাজ্যবাদ শুধু প্যালেস্টাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এর বিস্তৃত ঘটেছিল পুরো বিশ্বজুড়ে। কারণ, যদি ইজরাইল প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে প্রতিটি দেশকে ধ্বংস করেই তা করতে হবে।
১৮০৬ সালে নেপোলিয়ন ফ্রান্সে অবস্থানরত ইহুদিদের বিভিন্ন কাজের দরুন ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি একটি সংসদীয় সভার আহ্বান এবং সেখানে এই জাতিগোষ্ঠীর কিছু সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। সেইসঙ্গে এই ঘোষণা দেন- যতদিন না তারা এসব প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারবে, ততদিন তাদের একঘরে করে রাখা হবে।
৯ ফ্রেব্রুয়ারি, ১৮০৭ জ্ঞাতি ভাইদের সমর্থনে সেনহাড্রিনের সদস্যরা প্যারিসে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। তারা ঠিক প্রাচীন কায়দায় নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে। সেখান থেকে ঘোষণা করে- ইজরাইলের মঙ্গল ও উন্নয়নের স্বার্থে যেকোনো কিছু করার অধিকার তাদের আছে। তাই নেপোলিয়ন কী জানতে চাইল আর না চাইল, তা নিয়ে তাদের কিছুই আসে যায় না।
ইহুদিরা নিজেদের ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে সংসদীয় কাঠামোকে আজ অবধি একই রকম রেখেছে। তবে এটা ঠিক, সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবস্থায়ও সামান্য পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে সেনহাড্রিনের আসন সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। সময়ের সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবছর একটি পূর্বনির্ধারিত সময়ে এই সম্মেলনের আহ্বান করা হতো। যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশ থেকে তাদের সদস্যগণ এই সম্মেলনে বাধ্যতামূলক অংশ গ্রহণ করত। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, উৎসাহ প্রদানকারী বক্তা, ধনী ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় গুরু সবাই এই সম্মেলনে আমন্ত্রিত হতো, তবে সদস্যদের অধিকাংশই হতো 'রাবাই'।
রাবাই হওয়ার পাশাপাশি অনেকে ব্যাবসা, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করত। আর এই সদস্যরাই মূলত সেনহাড্রিনের নিয়মিত সভায় আমন্ত্রণ পেত। ব্যাপারটি এমন নয়, শুধু গুপ্ত সদস্যরাই এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেত। আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু মাপকাঠি অনুসরণ করা হতো। যারা এই মাপকাঠিতে অধিক নম্বর পেত, পরের বছর তাদের এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হতো। এই মাপকাঠিতে কী কী বিষয় থাকত তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও কিছুটা অনুমান করা যায়।
হতে পারে অন্যান্য দেশের প্রশাসনিক গভীরতায় কে কতটুকু প্রবেশ করতে পরেছে, জ্যান্টাইলদের ফাঁদে ফেলতে অর্থনীতির নতুন সূত্রটি কে আবিষ্কার করেছে, সমাজ বিভাজনকারী নতুন মতবাদটি কে আবিষ্কার করেছে, ইজরাইলের খুঁটি মজবুত করতে নতুন পরিকল্পনাটি কে তৈরি করেছে ইত্যাদি।
তবে তারা যে সুশৃঙ্খল ও সুগঠিত একটি জাতি, এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। এমন একটি শৃঙ্খল জাতি কিন্তু এক দিনে প্রতিষ্ঠা পায়নি। তাদের আছে চৌকশ অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিমান গুপ্তচর। তারা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে গোপন আলোচনাসভার আয়োজন করে এবং কাজ শেষে গোপনেই সরে পড়ে।
প্রশ্ন হতে পারে, তাদের পররাষ্ট্রনীতি কেমন? উত্তর অনেকটা এ রকম- তারা জ্যান্টাইলদের সর্ববস্থায় শত্রু গণ্য করে। তাদের বিশ্বাস, পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে জ্যান্টাইল সম্প্রদায়ের মোকাবিলা করেই টিকতে হবে। ফলে তাদের পররাষ্ট্রনীতি যে মোটেও বন্ধু সুলভ নয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তারা বর্তমানে দাঁড়িয়ে দূর-ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং সম্মিলিতভাবে এই পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণ করে।
সাধারণ সদস্যদের অনেকেই জানে না, কে তাদের রাজা। সত্যি বলতে, সেনহাড্রিনের সদস্যগণ ব্যতীত অন্য কারও কাছে রাজার পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। খুব সূক্ষ্ম গবেষণার মাধ্যমে সেনহাড্রিনের কিছু সদস্যের পরিচয় অনুমান করা সম্ভব হলেও প্রকৃত রাজার পরিচয় অনুমান করা একেবারেই অসম্ভব।
তাদের এই অদৃশ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার নিয়মকানুন এবং বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে Protocols of the Learned Elders of Zion নামে প্রকাশিত বইটির ২৪ তম প্রটোকলে উল্লেখ আছে-
'এখন বলব কীভাবে পৃথিবীর সব শক্তিশালী রাজ্যের পর্দা ভেদ করে আমরা রাজা ডেভিডের (নবি দাউদ) সিংহাসন পুনরুদ্ধার করব। পৃথিবীর বুকে এই রাজবংশের ধারা আজও বিদ্যমান। বিজ্ঞ, বিচক্ষণ ও শিক্ষিত প্রতিটি ব্যক্তিই এই রাজবংশের উত্তরাধিকারী, যাদের ওপর পুরো বিশ্বের শাসনভার অর্পণ করা হয়েছে।'
বিষয়টি একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে- আমরা তাদের বিরুদ্ধে যত ধরনের প্রতিরোধই গড়ে তুলি না কেন, তারা নিজেদের সিংহাসন পুনরূদ্ধার করবেই। বিশ্বব্যাপী তাদের সাম্রাজ্যবাদ অবশ্যই প্রতিষ্ঠা পাবে- এমন প্রতিজ্ঞা হতে তারা কখনো সরে আসবে না। শুধু যে রাজনীতির মাঠে তারা এই প্রভাব বিস্তার করেছে তা নয়; বরং শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা-দিক্ষা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সমরাস্ত্র কূটনীতির মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনেও নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করেছে।
ইহুদিদের সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার প্রটোকলসমূহ
যার হাত ধরে Protocols of the Learned Elders of Zion পূর্ণ বই আকারে বাজারে প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিচয় কখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। প্রথমে এটিকে রাশিয়ান ভাষায় ছাপানো এবং পরে অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা হয়। ফরাসি বিপ্লব চলাকালে Duc d'Orleans-এর যে ধ্বংসাত্মক রূপ পুরো পৃথিবী দেখতে পায়, বইটিতে ইহুদি সাম্রাজ্যবাদীদের এমনই একটি রূপ উন্মোচিত হয়েছে।
বইটিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে- কে তাদের প্রকৃত শত্রু এবং তারা কাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা তৈরি করছে। এমন নয় যে, নির্দিষ্ট কোনো রাজা বা অভিজাত সম্প্রদায় তাদের এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু; বরং পৃথিবীর পুরো জ্যান্টাইল সম্প্রদায়-ই ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু। জ্যান্টাইল শব্দটি এ বইটিতে অসংখ্যবার এসেছে। এবার এর কিছু প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করা যাক।
প্রথম প্রটোকলে উল্লেখ আছে- 'কোনো সন্দেহ নেই, সততা ও সরলতা মানব চরিত্রের মহৎ দুটি গুণ, কিন্তু রাজনীতির মাঠে এর কোনো স্থান নেই। একজন শক্তিশালী শত্রুকে মোকাবিলা করার চেয়ে এই দুটি মানবীয় গুণ রক্ষা করা অধিক কঠিন ব্যাপার। কারণ, আমাদের শাসনব্যবস্থায় সততা ও সরলতার কোনো স্থান নেই। এগুলো শুধু জ্যান্টাইলদের শাসনব্যবস্থায় পাওয়া যাবে।
বংশ পরম্পরায় আমরা জ্যান্টাইলদের শাসনব্যবস্থায় বারবার আঘাত হেনেছি এবং নিজেদের অনুশাসন চাপিয়ে দিয়েছি। আমাদের শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো অর্থ-সম্পদ, যার মালিক কেবল আমরাই। আর বিজ্ঞান? সেও তো আমাদেরই আবিষ্কার।
আমরা শ্রমিকদের বিভিন্ন মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে জড়িয়ে দেবো। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যমূল্যও বাড়িয়ে দেবো। আমরা বলব- কৃষি উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই বর্ধিত মজুরি তাদের কোনো উপকারেই আসবে না। আমরা সুকৌশলে কৃষকদের মাঝে অরাজকতা ছড়িয়ে দেবো এবং আত্মতৃপ্তির উপায় হিসেবে মদ্যপানে আসক্ত করে তুলব, যা ধীরে ধীরে তাদের জ্ঞানশূন্য জাতিতে পরিণত করবে।
জ্যান্টাইলরা কখনোই আমাদের ষড়যন্ত্রের জাল ছিড়তে পারবে না। আমাদের একাংশ ছদ্মবেশে শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে থাকবে এবং বিভিন্ন অধিকার আদায়ের আন্দোলন উসকে দেবে, যেন বাজার অস্থিতিশীল রাখা যায়। পরে এই অস্থিতিশীল বাজারে নতুন এক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা পাবে, যার মূল প্রণেতা হব আমরাই।'
প্রটোকলগুলো ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখবেন, তারা পুরো মানবজাতিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছে; আমরা ও জ্যান্টাইল। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে, যদি আঠারোতম প্রটোকলে উল্লিখিত অনুচ্ছেদগুলো লক্ষ করেন। যেমন-
'জ্যান্টাইলদের সাথে আমাদের মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে- আমরা হলাম সৃষ্টিকর্তার মনোনীত সম্প্রদায় এবং মানবশ্রেণির মধ্যে উচ্চ। আর জ্যান্টাইলরা হচ্ছে দুই পায়ে চলমান মানব পশু! তাদের না আছে দূরদৃষ্টি, আর না আছে নতুন কিছু আবিষ্কার করার ক্ষমতা। অন্তর্যামী নিজ হাতে এই বিশ্বের শাসনভার আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
'যতদিন না ইহুদি ভাইদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান ও দায়িত্বশীল সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে, ততদিন যেন নিজেদের চারিত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখে। আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
প্রটোকলগুলো বাস্তবায়নে তারা কতটা সফল, তা চারদিকে তাকালেই উপলব্ধি করা সম্ভব। খুব ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে- সেখানে একজন শিক্ষক ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিচ্ছেন। তিনি ছাত্রদের পড়াচ্ছেন, কীভাবে জ্যান্টাইলদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হয়। তা ছাড়া ইহুদিদের পরিকল্পনা কত দূর বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখনও কতটুকু বাকি, তাও এই অনুচ্ছেদগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের কাছ থেকে কোনো প্রকার তথ্য বা মতামত চাওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ তাদের যাবতীয় পরিকল্পনার সবকিছু শুধু একজন গুরুর মাথা থেকে আসছে। আর বাকি সবাই এই অনুশাসন মেনে চলতে বাধ্য।
প্রটোকলটির পাণ্ডুলিপি বাজারে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহুদিরা বলতে শুরু করে-
'সত্যি যদি এমন একটি সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে আমাদের কোনো গোপন পরিকল্পনা থাকত, তবে কখনোই তা জ্যান্টাইলদের সামনে উন্মোচিত হতো না।'
আসলে এটি যে তাদের বা সেনহাড্রিনের কোনো সদস্য প্রকাশ করেছে, তা নয়। আগের একটি অধ্যায়ে বলা হয়েছে- জায়োনিস্টরা খুব গোপনে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে মাঝেমধ্যেই আলোচনা সভার আয়োজন করে। হয়তো বিশেষ কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বহু দিন এই দলটিকে অনুসরণ করত এবং নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রটোকলগুলো জানতে পেরেছিল, যা তিনি পরবর্তীকালে লেকচার নোট আকারে প্রকাশ করেন।
আপনি যদি মন দিয়ে পুরো পাণ্ডুলিপিটা অধ্যয়ন করেন- তবে বুঝতে পারবেন, এই প্রটোকলগুলো আজকে বা একশত বছর আগে তৈরি করা হয়নি। এগুলো তাদের সুদীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম ও সমাজ ব্যবস্থার প্রমাণস্বরূপ। তবে সময়ের প্রেক্ষাপটে এবং কৌশলগত অবস্থার কারণে প্রটোকলগুলোতে সামান্য পরিবর্তন এসেছে। প্রথম প্রটোকলের কোনো একটি অনুচ্ছেদে পাবেন-
'স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ইত্যাদি মতবাদকে আমরা অতি প্রাচীনকাল থেকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু পৃথিবীর বোকা-গর্দভ বুদ্ধিজীবীরা এই মতবাদগুলো নিজেদের অধিকার আদায়ের মাধ্যম বলে মনে করছে এবং এর জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করছে। তারা নিজেরাই আমাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ধ্বংস করেছে। সম্ভবত অতি-বুদ্ধিমান ও সুকৌশলী ব্যক্তিরাও এসব মতবাদের মর্মার্থ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি। তারা কখনো বুঝতে পারেনি- একতা, সাম্য বা স্বাধীনতা বলতে আদৌ কিছুই নেই।'
এই প্রটোকলগুলো পরিবর্তন আনার অধিকার কারা রাখে, সে সম্পর্কে তেরোতম প্রটোকলে আলোচনা করা হয়েছে-
'এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ক্ষমতা কেবল তাদের-ই রয়েছে, যারা বহু শতাব্দী ধরে এই প্রটোকলগুলোকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে।'
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, এখানে বক্তার ব্যক্তিগত কোনো সম্মান বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়নি। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য- ইজরাইলের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় ও মজবুত করা। তারা ইতোমধ্যেই বিভ্রান্তিকর নানা মতবাদ দিয়ে জ্যান্টাইল সমাজব্যবস্থায় ফাঁটল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
এত কিছুর পরও যুগে যুগে জ্যান্টাইলদের মাঝে এমন কিছু ব্যক্তির আগমন ঘটেছে, যারা দীপ্ত কণ্ঠে বলেছে- আজ যা কিছুকে বিজ্ঞান বলে মনে করা হচ্ছে, তার অনেক কিছুই প্রকৃত বিজ্ঞান নয়। যেগুলো আমরা অর্থনৈতিক ও সমাজ ব্যবস্থার বিধান বলে মনে করছি, তা আসলে কোনো বিধান নয়। এগুলো মানব সৃষ্ট কিছু ভ্রান্ত নিয়মকানুন, যা আমাদের মধ্যে ফাঁটল তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে পরিচিত শত্রুদের বিরুদ্ধেও আমরা এক হতে পারছি না। আমরা যেন ইহুদিদের প্রটোকলগুলো নিয়ে কোনো প্রশ্ন করতে না পারি এবং তা নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন বোধ পর্যন্ত না করি, সে জন্য তারা আমাদের ওপর এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। যার দরুন তাদের প্রণীত অনুশাসনগুলো ভেড়ার মতো আত্মস্থ করে বড়ো হচ্ছি।
জ্যান্টাইলদের প্রতি ইহুদিদের দৃষ্টিভঙ্গি
নিজেদের যতই বুদ্ধিমান বা উঁচু শ্রেণির মানুষ মনে করি না কেন, ইহুদিদের কাছে আমরা বোকা, গর্দভ ও সাদামাটা মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রাণী ব্যতীত কিছুই নই। আমাদের সম্পর্কে তাদের ধারণাগুলো যে তাচ্ছিল্যকর হলেও সত্য, তা প্রটোকলের বইটি ভালোভাবে অধ্যয়ন করলেই বোঝা সম্ভব। এবার বাছাই করা কিছু প্রটোকল নিয়ে জ্যান্টাইলদের প্রতি ইহুদিদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা যাক।
প্রথম প্রটোকল দিয়েই শুরু করি-
'মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে ভালো মানুষের চেয়ে খারাপ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের বাগে আনার একমাত্র কৌশল ভয়-ভীতি প্রদর্শন। প্রাতিষ্ঠানিক ও কেতাবি শিক্ষা দিয়ে তাদের কখনো বশ করা যাবে না। ক্ষমতার লোভ সবারই থাকে এবং প্রত্যেকেই নিজেকে শাসকরূপে দেখতে চায়। আর অন্যের ভালোর জন্য নিজের ভালো উৎসর্গ করবে- এমনটা খুব কমই দেখা যায়।
জ্যান্টাইলদের হুজুগে প্রকৃতির বললেও ভুল হবে না। তারা সামান্য আবেগ, বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত অহংকারের দরুনও নিজেদের মধ্যে বিভাজন করতে রাজি। হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গণ-আন্দোলনের ডাক দেয়। আবার দুই-একটি মিথ্যা প্রচারণায় কান দিয়ে মহানায়ককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। বুদ্ধিমান প্রাণী হলে এমনটা কখনোই করত না। তাই তারা অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে কখনো বেরিয়ে আসতে পারে না।
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নতুন কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বে জনসাধারণের অনুমতি আবশ্যক। কিন্তু তারা এটা বোঝে না, বেশিরভাগ মানুষই নিরেট মূর্খ ও বুদ্ধিহীন। তারা একবার ডান পক্ষের পিছে ছোটে, আরেকবার বাম পক্ষের। তাদের কাছ থেকে কখনো গঠনমূলক পরামর্শ পাওয়া সম্ভব নয়।
আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথ ইতোমধ্যেই অনেকটা সহজ হয়ে উঠেছে। জ্যান্টাইল মনস্তত্ত্বের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় আমরা ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছি। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর লোভ-লালসা দেখিয়ে আমরা তাদের বশীভূত করতে সক্ষম হয়েছি। চরিত্রিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে বিভেদ ও পার্থক্যের দেয়াল গড়ে তুলেছি।'
এবার পঞ্চম প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদের দিকে লক্ষ করুন-
'জ্যান্টালরা কাজের চেয়ে প্রতিশ্রুতিকে অধিক গুরুত্ব দেয়, কিন্তু আদৌ তা পূরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাদের বশ করতে পারব; ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা নিয়ে মাথাব্যথা না করলেও চলবে।'
এগারোতম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'আসলে জ্যান্টাইলরা হলো ভেড়ার পাল। আমরা যে বিষয়েই প্রতিশ্রুতি দিই না কেন, তা তারা অন্ধের মতো গ্রহণ করবে। আমরা স্বাধীনতা উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেবো, কিন্তু তার আগে আমরাই তাদের মাঝে অশান্তি, অরাজকতা ও যুদ্ধ ছড়িয়ে দেবো। এই স্বাধীনতার জন্য তাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, তা কি বলতে হবে? আমরা চাইলে এই যুদ্ধ ও শান্তি আলোচনার মেয়াদ ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে নিতে পারব। প্রথমে তাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেবো এবং পরে সেই ভয় থেকে উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দেবো।'
এবার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় জ্যান্টাইলদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে-
'সাধারণত দুঃসাহসী, রোমাঞ্চপ্রিয় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিরা সামাজের প্রশংসা কুড়াতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় (Spy Agency) যোগদান করে। আমরা খুব সহজেই তাদের খুঁজে বের করব এবং পরিকল্পনা মাফিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করব।
কৌতূহলী জ্যান্টাইলরা পুরো বিশ্বকে সামনে রেখে এ পর্যন্ত অসংখ্য গোয়েন্দা সংস্থার জন্ম দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, এই গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেই সমাজের সকল অপরাধ কর্মের রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা তাদের সফলতা এনে দেবো, যা তাদের মাঝে বড়াই ও আহমিকতার জন্ম দেবে। এতে তারা কোনো রকম বাছ-বিচার ছাড়াই আমাদের পরবর্তী পরামর্শগুলো নির্দিধায় গ্রহণ করবে। তোমরা ভাবতেও পারবে না, এই বড়াই ও অহমিকা তাদের কতটা নির্বোধ করে তুলবে! এমতাবস্থায় সামান্য একটি ব্যর্থতাই তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রকৃতপক্ষে জ্যান্টাইলরা ব্যক্তিমোহ, জনপ্রিয়তা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে। কিন্তু ব্যক্তিমোহ আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং জাতীয় উদ্দেশ্যই আমাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য।'
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী জ্যান্টাইলরা মানসিক প্রণোদনা এবং নতুন মতবাদগুলো খাবারের মতো গ্রহণ করে। কিন্তু নতুন মতবাদগুলোর ভবিষ্যৎ ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা করতে রাজি নয়। চোখের দেখায় যা ভালো লাগে, তা-ই তারা গ্রহণ করে।
জায়োনিস্টরা আজ পর্যন্ত অসংখ্য মতবাদ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। যখনই একটি মতবাদ ব্যর্থ হয়েছে, তখনই আরেকটি বাজারে এনেছে। প্রতি ধাপে জ্যান্টাইলরা হয়েছে দুর্বল ও নেতৃত্বশূন্য। দেশের জনগণ যদি এক হয়, তবে সরকার আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য। তবে দেশের জনগণ যে বিষয়টির ভিত্তিতে এক হচ্ছে, সে সম্পর্কেই তো সাধারণ মানুষের পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তারা তা-ই করেছে, যা নেতারা করতে বলছে। বলশেভিক বিপ্লবে প্রলেতারিয়েটদের সূত্রপাত ঠিক এভাবেই হয়। অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলতাকে পুঁজি করে সমাজে সব সময় তৃতীয় একটি গোষ্ঠী লুটপাটের চেষ্টা করে। এটা জানার পরও দেশের রাজনৈতিক দলগুলো অহংকারের দাপটে এক হতে চায় না। ফলে লুণ্ঠনকারী তৃতীয় দলটি ইচ্ছেমতো নিজের স্বার্থ লুফে নেয়। আর এই তৃতীয় পক্ষটি হলো ইহুদি জাতিগোষ্ঠী।
মূলত প্রকৃত উন্নয়ন বলতে কী বোঝায় তা আমরা অনেকেই জানি না। আমাদের পূর্বপুরুষরা চাকা আবিষ্কারের মাধ্যমে মানব সভ্যতায় নতুন যুগের সূচনা করে। সে চাকা দিয়ে তৈরি হয় টারবাইন। প্রবাহমান বাতাস ও পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবিত হয় টারবাইন ঘোরানোর কৌশল, যা দিয়ে আবিষ্কৃত হয় বিদ্যুৎশক্তি। আজ পেট্রোল-ডিজেল দিয়ে ছোটোখাটো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। এখন প্রশ্ন হলো- আসলেই কি চাঁকারূপি টারবাইন সেকেলে প্রযুক্তি? বায়ু ও পানিশক্তি ব্যবহার করে আমাদের পূর্বপুরুষরা যে নতুন শক্তির জন্ম দিয়েছে, তা কি সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে না? এই প্রযুক্তিগুলো কি বর্তমান সমাজের চাহিদা মেটাতে অক্ষম?
আসলে যে বিষয়গুলোকে আমরা 'অগ্রগতির উপায়' বলে স্বীকৃতি দিয়েছি, তা প্রকৃত অর্থে আমাদের দেশ, সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করেছে। অস্থিরতা-বিশৃঙ্খলা সমাজে এমনই বিবর্তনের জন্ম দেয়, যা বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে পেট রক্ষার তাগিদে চোখে যা ভালো দেখায়- তাই আদর্শ বলে গ্রহণ করতে বাধ্য করে, কিন্তু এই আদর্শের পেছনে থাকে শয়তান। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম, রক্ষণশীলতা, পুঁজিবাদ, মৌলবাদ ইত্যাদি সবই এর উদাহরণ, যা তাদের হাত ধরে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। নিজেদের মতবাদগুলো যেভাবে তারা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে, তার কিছু নমুনা নিচে উপস্থাপন করা হলো-
প্রথম প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদ থেকে-
'রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিছকই একটি ধ্বংসাত্মক ধারণা। অনেক রাষ্ট্র আছে যেখানে ক্ষমতায় থাকা দল ব্যতীত অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির অস্তিত্ব নেই। মানুষও চায় না সেখানে কোনো দল গড়ে উঠুক। এমতাবস্থায় ক্ষমতাসীন দলটির পতন ঘটাতে চাইলে সে সমাজের মগজে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়টি ঢুকিয়ে দিতে হবে। বোঝাতে হবে, সবার রাজনীতি করার অধিকার আছে। জনগণ চাইলে তাদের মধ্য হতে যে কাউকে প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতায় বাসাতে পারে। ধীরে ধীরে সে সমাজে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি সহজতর হতে শুরু করবে, যাকে কাজে লাগিয়ে আমরা একাধিক দলের জন্ম দেবো। প্রত্যেক দলের জন্য অসংখ্য সমর্থক গড়ে তুলব। এটাই জ্যান্টাইলদের ঐক্যে ফাঁটল তৈরি করবে, যার শেষ পরিণতি হবে ক্ষমতাশীল দলের পতন এবং নতুন শক্তির ক্ষমতায়ন।'
পঞ্চম প্রটোকলে লক্ষ করুন- 'জনমত নিয়ন্ত্রণে শুরুতেই আমরা বিভিন্ন মতবাদ জ্যান্টাইলদের মগজে ঢুকিয়ে দেবো, যা তাদের মধ্যে হাজারো গোলকধাঁধার জন্ম দেবে। একসময় বিরক্ত হয়ে বলবে- রাজনৈতিক বিতর্কে নিজেদের না জড়ানোই ভালো। এ কৌশলটি রাজনীতির মাঠ থেকে অন্য দলের সমর্থকদের সরিয়ে দিতে সাহায্য করবে।'
দ্বিতীয়ত, আমরা মানুষের অভ্যাসগত চাহিদাগুলো সহজে মিটিয়ে দেবো। অভাব মানুষের হৃদয়ে মানবিকতার জন্ম দেয়, পক্ষান্তরে ভোগ-বিলাস মানুষকে মনুষত্বহীন করে তোলে। যখন মানুষ তাদের ব্যক্তিগত চাহিদাগুলো সহজে মেটাতে পারবে, তখন তারা আর অন্যের চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসবে না। তাদের নিকট ব্যক্তিগত আনন্দ প্রাধান্য পেতে শুরু করবে। ফলে রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়ের মুহূর্তগুলোতে তারা কখনো এক হতে পারবে না। কারণ, ততদিনে তাদের চিন্তাশক্তি একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে।'
তেরোতম প্রটোকলে উল্লেখ আছে- 'তোমরা লক্ষ রাখবে, আমরা শুধু প্রতিশ্রুতির গ্রহণযোগ্যতা চাই। আদৌ তা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা বলি, মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আর এটা এ কারণেই বলি, সাধারণ মানুষ যেন আমাদের কথাগুলোকে সত্য বলে মেনে নেয় এবং সমাজে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।'
অশান্ত জনগণের মাথা থেকে রাজনৈতিক চিন্তা সরিয়ে দিতে আমরা অসংখ্য নতুন সমস্যার জন্ম দেবো। এটা তাদের দৈনন্দিন জীবিকা অর্জনের পথে অনেক বাধা সৃষ্টি করবে। যেমন: মজুরি সমস্যা, চাকরির নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি। এমতাবস্থায় কেউ রাজনৈতিক বিতর্কে মাথা ঘামাতে চাইবে না।
'আমরা তাদের বিনোদন, খেলাধুলা ও আয়েশি জীবনে ডুবিয়ে রাখব। তারা শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং অন্য বিষয়ে চিন্তা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এভাবে একটা সময় তাদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি লোপ পাবে।'
উদারপন্থি, গণতান্ত্রিক ও মুক্তমনা নীতিগুলো ব্যবহার করে জ্যান্টাইলদের বিভিন্ন ঘোরপ্যাঁচের মধ্যে দোল খাওয়াতে শুরু করব। তারা উদারপন্থি নীতিকে প্রগতির অংশ বলে মনে করবে, কিন্তু নির্বোধ এই জাতি প্রগতির সংজ্ঞাই তো জানে না!'
শুধু রাজনীতিবিদরাই নয়; লেখক, কবি, শিক্ষক, সমাজবাদী ও রাবাইয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইহুদিরা পুরো মানবজাতিকে অসংখ্যবার নানা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যার সূচনা হয়েছে হাজার বছর আগেই। শুধু আজকে নয়, অতীতেও তারা এমনটা করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
নবম প্রটোকলের দিকে লক্ষ করুন-
'রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, কমিউনিজম (সাম্যবাদ) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা প্রতিটি জাতিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করব। সেইসঙ্গে তাদের আমাদের সেবায় নিয়োজিত করব। এর মাধ্যমে পৃথিবীর বিদ্যমান প্রতিটি শাসনব্যবস্থাকে আমরা একসময় উপরে ফেলতে সক্ষম হব। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো জাতিকে শান্তিতে থাকতে দেবো না, যতদিন না তারা আমাদের অনুশাসন মেনে নিচ্ছে।'
এরপর, দশম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'যখনই আমরা উদারপন্থি ও গণতান্ত্রিক নীতিগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দিলাম, তখনই তা রাজনৈতিক দলগুলোর রূপরেখা রাতারাতি পালটে দিলো।'
জ্যান্টাইলদের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, সে সম্পর্কে নবম প্রটোকলে উল্লেখ আছে-
'জ্যান্টাইল যুব সমাজের বুদ্ধিবৃত্তি, নৈতিকতাবোধ ও স্বাধীন চিন্তাশক্তি ধ্বংস করতে এক মিথ্যা ও বানোয়াট শিক্ষাব্যবস্থা ইতোমধ্যে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; আমরা যদিও নিজেরা এই শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করব না।'
শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কীভাবে পারিবারিক বন্ধনে ফাঁটল ধরানো সম্ভব, তা দশম প্রটোকলে উল্লেখ করা হয়েছে-
'আমাদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের মাপকাঠিতে পরিণত করব। কর্মজীবনে প্রবেশের পূর্বে এই শিক্ষা পদ্ধতি দ্বারা যোগ্যতা মূল্যায়নের পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়ব। একসময় এই শিক্ষাব্যবস্থা তাদের মাঝে অহমিকা ও অহংকারের জন্ম দেবে, যা পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করতে উসকে দেবে。
যতদিন না কাঙ্ক্ষিত সময়টি হাতের মুঠোয় আসছে, ততদিন পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন আমোদ-প্রমোদে ডুবিয়ে রাখব। যেসব মতবাদের কথা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তা তাদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার নিরন্তন চেষ্টা চালিয়ে যাব।
ডারউইনবাদ, মার্কসবাদ, নাৎসিবাদ ইত্যাদিকে প্রগতিশীলতার উপায় হিসেবে তাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। এসব তত্ত্বের ওপর ভর করে আমরা তাদের নৈতিকতাবোধ ধ্বংস করেছি এবং সামনের দিনগুলোতেও এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটবে না।'
উল্লেখ্য, প্রটোকলগুলোর কোথাও বলা হয়নি- তারা জ্যান্টাইলদের চিরতরে ধ্বংস করে ফেলতে চায়; বরং তারা চায়- জ্যান্টাইলরা যেন তাদের প্রভুত্ব মেনে নেয় এবং চিরকাল দাস হয়ে থাকে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আজ পুরো পৃথিবী এক অদৃশ্য স্বৈরশাসনের অধীনে চলছে।
'আমরা জানি জ্যান্টাইলদের একতার ভিত্তি খুবই দুর্বল। সামান্য কিছু সময়ের জন্য এক হলেও আমরা আবারও তাদের দুর্বল করে ফেলতে পারব। গত দুই হাজার বছরে এ কাজ আমরা অসংখ্যবার করেছি।'
ইহুদি রাষ্ট্রের প্রটোকল ব্যবস্থার আংশিক বাস্তবায়ন
নিছক কৌতূহল নিয়েও যদি 'Protocols of the Learned Elders of Zion' পাঠ করেন, তবে কারও কারও নিকট এ বই নিছক সাহিত্যকর্ম বলে মনে হবে। লেখক সাহেব যেভাবে তার ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার কথা প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে গেছেন, তা সত্যিই অবাক করার মতো। তিনি বলছেন-
'আমরা পরিকল্পনা মাফিক অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এখন আমাদের পক্ষে আর পেছনে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।'
নবম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'এখন আমাদের সামনে আর কোনো বাধা নেই। বিশ্ব কর্মসূচি (নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার) পরিকল্পনায় আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। আদালত, প্রশাসন, আইনশাস্ত্র সবকিছু আজ আমাদের দখলে। একসময় আমরা যাদের প্রজা ছিলাম, আজ তাদেরকেই প্রজারূপে কিনে নিয়েছি। নিঃসন্দেহে আমরা তাদের চেয়েও কঠোর শাসক।'
এবার অষ্টম প্রটোকলের দিকে লক্ষ করুন-
'এই পরিকল্পনায় আমরা বিশ্বজুড়ে বহু অর্থনীতিবিদের জন্ম দেবো। কারণ, অর্থশাস্ত্রের চেয়ে বড়ো কোনো হাতিয়ার পৃথিবীতে নেই। আমরা চারদিকে ব্যাংকার, শিল্পপতি ও ধনকুবেরের মতো অসংখ্য ব্যক্তিত্বের জন্ম দেবো, যারা নিজেদের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বরূপে গড়ে তুলবে। অবুঝ জ্যান্টাইলরা তাদের নিজেদের জীবনাদর্শ বলে মনে করবে, কিন্তু তাদের প্রত্যেকেই হবে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার।'
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় আমাদের যা পড়ানো হচ্ছে, তা তো তাদেরই চাপিয়ে দেওয়া সিলেবাস! বলশেভিক বিপ্লবকালীন সময়ে পৃথিবী এমন এক যুগ পার করেছে, যখন অর্থনীতির ওপর লেখা প্রতি দশটি বইয়ে মধ্যে ৭/৮টি বই-ই ইহুদিরা লিখেছে।
আসলে তাদের লেখা বইগুলো পাঠ করতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জ্যান্টাইল সমাজকে পঙ্গু করতে তারা যখন ইচ্ছাপূর্বক ভুলে ভরা শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, তখন তার বিরুদ্ধে কথা বলতেই হয়। তারাই প্রথম ধর্মভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাইবেল পাঠ বন্ধ করে দিয়েছে।
নবম প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'খ্রিষ্টান পাদরিদের সঙ্গে আমরা সব সময় ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছি। একসময় আমরা তাদের অনেক তোষামোদ করেছি, যেন তাদের গভীরে প্রবেশ করে সব ধরনের নৈতিকতাবোধ ধ্বংস করে দিতে পারি। এখন আর তোষামোদের প্রয়োজন নেই। কারণ, তাদের মাঝে ধর্ম পালনের গুরুত্ব এমনিতেই কমে গেছে। ফলে পোপ ও পাদরিদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে লোপ পেতে শুরু করেছে।'
এরপর প্রথম প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা দিনে দিনে আমাদের আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে। পরিচয় গোপন করে অদৃশ্য ছায়ার ন্যায় আমরা প্রতিটি রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতার ইন্ধন জোগাব। ফলে জ্যান্টাইলরা হাজার চেষ্টা করেও আমাদের সাথে পেরে উঠবে না।'
দ্বিতীয় প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'প্রতিটি যুদ্ধে উভয়পক্ষই যেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আর্থিক দুর্যোগ যেন উভয়ের কপালেই নেমে আসে, তা আমরা নিশ্চিত করব। প্রেক্ষাপট এমনভাবে তৈরি করব, যেন যুদ্ধপরবর্তী সকল ক্ষমতা আমাদের হাতে চলে আসে।'
অন্যদের হেয় ও অপমান করতে তারা কতটা অভ্যস্ত, তা নিচের অনুচ্ছেদগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে-
'জ্যান্টাইল সরকারদের ব্যর্থতার ওপর আমাদের প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত আর্টিক্যাল প্রকাশ করবে। এসব সংবাদ পাঠ করে সাধারণ জনগণ একসময় সরকারের ওপর বিরক্ত হয়ে উঠবে। আসলে একটি রাষ্ট্র চালাতে গিয়ে ছোটোখাটো ভুল সবাই করে। আমরা সরকারের ভুলগুলো এমনভাবে প্রচার করব, যেন তাদের ভালো কাজগুলো কারও নজরে না আসে।'
এবার পঞ্চম প্রটোকল হতে- 'ইতোমধ্যেই আমরা জ্যান্টাইলদের রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা অনেকাংশে খর্ব করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের রায় তা-ই হবে, যা আমরা বলব।'
চোদ্দোতম প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'মিথ্যে, বানোয়াট ও অশ্লীল গল্প-সাহিত্যের বীজ আমরা প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছি, এগুলোই আধুনিকতার অংশ। অতীত ইতিহাস পালটে তার স্থলে নতুন গল্প ঢুকিয়েছি এবং সাধারণ মানুষকে তা বিশ্বাস করিয়েছি।'
বারোতম প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'প্রচার মাধ্যমের সহায়তায় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে খবর সংগ্রহের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীভূত করেছি। একটি চেইন-শৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রায় প্রতিটি দেশের গণমাধ্যমের ওপর অদৃশ্য আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছি।'
সপ্তম প্রটোকলেও ঠিক একই কথা বলা হয়েছে- 'প্রচার মাধ্যমের সহায়তায় আমরা জ্যান্টাইল সরকারদের হাত-পা বেঁধে ফেলব। তারা চাইলেও আমাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবে না। কারণ, আমরা চাইলে যেকোনো মুহূর্তে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জোয়ার বইয়ে দিতে পারব, যা তাদের ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলবে।'
এবার বারোতম প্রেটোকলের দিকে লক্ষ করুন- 'আমাদের সব কূট-পরিকল্পনা দেখেও যখন তারা চুপচাপ বসে আছে এবং ক্ষমতার জন্য উলটো আমাদের কাছেই পরামর্শ প্রার্থনা করছে, তখন তাদের নির্বোধ ও গাধা বলব না কেন?'
পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও বিজয় অর্জন প্রসঙ্গে নবম প্রটোকলে বেশ কিছু কৌশলের কথা বলা হয়েছে- 'প্রথমদিকে জ্যান্টাইলদের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করা বেশ কঠিন ছিল। তাদের মজবুত প্রাচীর আমাদের নিকট দুর্ভেদ্য ছিল। তবে গণতন্ত্রের বিষয়টি তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার পর সবকিছু যেন মুহূর্তেই পালটে গেল। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শিক্ষা-সংস্কৃতির স্বাধীনতা, সম-ভোটাধিকার, সম-আইন সবই হলো গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মূলনীতি। এ বিষয়গুলো সমাজে স্থান পেলে আমাদের জন্য সবকিছু সহজ হয়ে ওঠে।'
আমেরিকাতে ইহুদি সন্তানদের জন্য বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। তারা যেন একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত জ্যান্টাইলদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে থাকে, সে জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা। যে স্কুলগুলোতে ইহুদিদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়, সেগুলোর ঠিকানা এতটাই গোপন রাখা হয়, শহরের বড়ো বড়ো রুই-কাতলারা পর্যন্ত তা জানতে পারে না। এমনকী গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তাদের জ্যান্টাইল ডাক্তারদের কাছে যেতে দেওয়া হয় না; তাদের রয়েছে পৃথক চিকিৎসাব্যবস্থা।
জ্যান্টাইল যুব সমাজের নৈতিকতাবোধ ধ্বংস করতে ইতোমধ্যেই ইহুদিরা অশ্লীলতার অসংখ্য বীজ ছড়িয়ে দিয়েছে। যেমন: জ্যাজ সংগীতের আবিষ্কারক কারা? কারা থিয়েটার ও চলচ্চিত্র শিল্পে নগ্নতার সংযোজন করেছে? কারা পর্নগ্রাফিকে বাণিজ্যিক শিল্পে রূপ দিয়েছে? কারা আমাদের যুবসমাজকে সামরিক বাহিনীতে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করছে? কারা তাদের রোমাঞ্চকর জীবনের লোভ দেখিয়ে যুদ্ধে পাঠিয়ে নিজেদের মুনাফার পকেট ভারী করছে? কারা আমাদের তরুণ-তরুণীদের পোশাক-আশাকে পরিবর্তন এনেছে এবং নগ্নতাকে সভ্য সংস্কৃতির অংশ বলে প্রতিষ্ঠিত করেছে?
এ প্রসঙ্গে ইহুদিদের প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'জ্যান্টাইল যুব সমাজের বুদ্ধিবৃত্তি, নৈতিকতাবোধ ও স্বাধীন চিন্তাশক্তি ধ্বংস করতে আমরা ইতোমধ্যে তাদের ওপর এক অবাস্তব ও অযৌক্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে।'
যখন-তখন মুভি দেখা আজ মধ্যবিত্ত পরিবারের যেকোনো যুবকের নিকট আদর্শ বিনোদন হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে ধনী পরিবারের যুবকদের নিকট অবাধ যৌনাচার আদর্শ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেও স্বীকৃত।
এই নোংরা সংস্কৃতি কীভাবে আমাদের সমাজে স্থান পেল, সে সম্পর্কে থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতশিল্প সম্পর্কিত অধ্যায়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে এই অংশে খুব অল্প করে বলতে চাই- উদারপন্থি ও মুক্তচিন্তা নীতিকে কাজে লাগিয়ে ইহুদিরা বহু অশ্লীল সংস্কৃতি আমাদের সমাজে আমদানি করেছে। এর পেছনে বিনিয়োগ করেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ব্যয়বহুল চিত্তবিনোদন, নেশাজাত দ্রব্য গ্রহণ, জুয়ার আসর, জ্যাজ সংগীত, লোক দেখানো ফ্যাশন, গহনা-অলঙ্কার ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়-ই আজ জ্যান্টাইলদের অভ্যস্ত করে তুলেছে। তাদের বাজিকরদের দৌরাত্ম্যের দরুন ধ্বংস হতে বসেছে বহু জনপ্রিয় ক্রিড়াশিল্প। প্রকৃতপক্ষে মানব জীবনের এমন কোনো শাখা-প্রশাখা নেই, যার ভেতর ইহুদিরা বিষ ঢুকিয়ে দেয়নি।
জ্যান্টাইলরা সাধারণত ষড়যন্ত্রসুলভ মানসিকতা নিয়ে জন্মায় না। সাধারণ মানুষ পরিকল্পনা করে কীভাবে একটি উদ্দেশ্য হাসিল করা যায়, কিন্তু ইহুদিরা পরিকল্পনা করে কীভাবে চার-পাঁচটি উদ্দেশ্য একত্রে হাসিল করা যায়! কেবল একটি রজ্জু ধরে আমরা কখনো তাদের ষড়যন্ত্রের গুহায় প্রবেশ করতে পারব না। এতে ফিরে আসার পথটুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলব। এ জন্য প্রয়োজন পারিপার্শিক বিষয়গুলোর ওপর সুচতুর পর্যবেক্ষণ এবং ইতিহাসের প্রখর জ্ঞানার্জন। তবে এর জন্য প্রথমে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে 'মানসিক অলসতা' নামক বিষয়টি দূর করে ফেলতে হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ইহুদিদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব
বহু পরিকল্পিত বিশ্ব কর্মসূচি (নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার) সফল করতে তারা যে বিষয়গুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তা হলো:
ক. প্রতিটি দেশকে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা।
খ. পুঁজিবাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শিল্পায়নের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
গ. জ্যান্টাইলদের ওপর এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া, যা তাদের চিন্তা-চেতনা ও বুদ্ধিমত্তাকে ধ্বংস করে ফেলবে।
ঘ. বিভিন্ন সৌখিন ও বিনোদনধর্মী বিষয়ের প্রতি সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে তোলা (যেমন: Jazz সংগীত, নেশা দ্রব্য), যা তাদের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ঙ. বিভাজনের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে সমাজে অসংখ্য রাজনৈতিক বিপ্লবের জন্ম দেওয়া।
কীভাবে রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধিগণ (রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী) নির্বাচিত হবে, কীভাবে রাজতন্ত্র ভেঙে গণতন্ত্রের উত্থান হবে, কীভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সংবিধান রচিত হবে এবং কীভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, তার একটিও প্রটোকলগুলোতে উপেক্ষিত হয়নি। তাদের প্রটোকলগুলো নিয়মিত পরিবর্তনে বিশ্বাসী। যেমন: কিছুদিন পরপর সাধারণ নির্বাচন, নতুন নতুন প্রতিনিধির ক্ষমতায়ন, নিয়মিত আইন ও সংবিধান পরিবর্তন করা ইত্যাদি। তারা অগোচরে জনসাধারণকে উসকে দেয়, যেন পরের মেয়াদে নতুন কোনো জনপ্রতিনিধিকে ক্ষমতায় আনা হয়।
প্রথম প্রটোকলটির দিকে লক্ষ করুন- 'একটা সাধারণ ধারণা আমরা স্বাধীন দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। তা হলো- জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে তাদের মধ্য হতে একজন জনপ্রতিনিধি (সরকার) নির্বাচন করা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা চাইলে যখন-তখন এসব প্রতিনিধিদের পালটাতে পারি, ঠিক যেমন হাতমোজা পুরোনো হলে পরিবর্তন করে ফেলি। আমরাই এসব জনপ্রতিনিধিদের জন্ম দিই এবং আমরাই আবার তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিই।'
চাইলে একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি দ্বারা অনেক কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব। কারণ, তার প্রতি সাধারণ মানুষের পূর্ণ বিশ্বাস থাকে। আজ যে শাসনব্যবস্থা পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে অনুসৃত হচ্ছে তা হলো গণতন্ত্র। একই সঙ্গে আরেকটি ব্যবস্থা মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তা হলো- সমাজতন্ত্র। এর আগে যে ব্যবস্থাটি বিশ্বজুড়ে ছিল, তা হলো রাজতন্ত্র।
গণতন্ত্র বলে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার পুরো দেশের শাসনভার গ্রহণ করবে। তাই বলা হয় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তবে এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিটি দেশকে অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হয়, যার মধ্যে থাকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ধর্মঘট, অগ্নিকাণ্ড, সামরিক বিপ্লবসহ আরও অনেক কিছু। কীভাবে একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্ম হবে, তা নিয়ে চতুর্থ প্রটোকলে আলোচনা করা হয়েছে-
'বহু ধাপ পেরিয়ে একটি দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপ পায়। প্রথম ধাপে পুরো দেশে বর্বর যুগের ন্যায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছড়িয়ে পড়ে। আর মানুষ নির্বোধের মতো ডানপক্ষ কিংবা বামপক্ষ সমর্থন করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে। দ্বিতীয় ধাপে, অবৈধ স্বৈরশাসকের জন্ম হয়। যদিও স্বৈরশাসক বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না, কিন্তু তার প্রভাব চিরস্থায়ীভাবে থেকে যায়। এ সময় জনপ্রিয় কিছু নেতা-কর্মীর জন্ম হবে। পরে তাদের মধ্য থেকে এমন কাউকে ক্ষমতায় আনা হবে, যারা শুধু আমাদের পক্ষেই কাজ করবে। প্রয়োজনে আমরা তাকে সরিয়েও দিতে পারব। জ্যান্টাইলদের কেউ এই গোপন খেলাটি বুঝতে পারবে না। তারা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।'
সরকার ব্যবস্থায় 'নিয়মিত পরিবর্তন' বিষয়টি ইউরোপ-আমেরিকার জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। এমন কোনো সিনেটর নেই, যে এর সঙ্গে পরিচিত নয়। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কেবল তখনই পরিবর্তন আসে, যখন তারা ইহুদি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। তাদের ওপর দ্রুত অর্থনৈতিক অবরোধ আসা শুরু করে। সকল বড়ো বড়ো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান মুখ ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করে, যা দেশকে সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। দেশের মানুষ তার বিরুদ্ধে কেন আন্দোলন করছে, তার কিছুই তিনি বুঝতে পারেন না। তিনি দেশপ্রেম থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যান! অথচ গণমাধ্যম ইতোমধ্যেই অন্য একটি দলের পক্ষে চলে গেছে। তারা চাইলে ইচ্ছেমতো সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো জনমত তৈরি করতে পারে। ফলে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা কখনো বন্ধ হয় না। চোদ্দোতম প্রটোকলে বলা আছে-
'প্রশাসনে এত বেশি পরিবর্তন দেখে জ্যান্টাইলরা একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়বে, কিন্তু সরকারবিরোধী ধ্বংসাত্মক আন্দোলনে আমরা পুনরায় তাদের উৎসাহিত করব। সব শেষে রাষ্ট্রব্যবস্থার শান্তি ফিরিয়ে আনতে তারা আমাদের যেকোনো শর্ত মেনে নিতে রাজি হবে।'
বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় তারা কতটা সফল, তা নবম প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদ থেকে বোঝা সম্ভব-
'আজকের দিনে যদি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, তবে তা কেবল ক্ষমতার স্বার্থেই। অথচ তাদের এই ক্ষমতা আমাদের হাতে বন্দি। তারা যা নিয়ে আন্দোলন করবে, তাও আমাদের ইশারায় পরিচালিত হয়। তারা আমাদের বিরুদ্ধে কাদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়বে? তার আশেপাশে যে পার্লামেন্ট সদস্যরা আছে, তারা সবাই তো লোভি প্রকৃতির। তাদের কিনে নেওয়া আমাদের জন্য কোনো ঘটনাই না!'
তারপর আরও বলা হয়েছে-
'বস্তুত, পৃথিবীর বহু রাষ্ট্রপ্রধানকে আমরা ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। তবে এখনও আরও অনেককে সরিয়ে দেওয়ার বাকি আছে।'
এসব আন্দোলনের পেছনে অর্থনৈতিক সহায়তা কোথা থেকে আসবে, সে প্রসঙ্গে নবম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক শত্রুতার দরুন রাষ্ট্রের পুরো ক্ষমতা আমাদের হাতে চলে আসে। ফলে আমরাই তাদের বিবাদের সমাধান করি। এই শত্রুতার মধ্যে আমরা সারাক্ষণ ঘি ঢেলে যাব। এর জন্য যে অর্থ দরকার, তা আমরাই সরবরাহ করব।'
নির্বাচনী প্রচারণার সময় এত অর্থ কোথা হতে আসে তা নিয়ে অনেক তদন্ত হয়েছে, তবে এর উৎস কখনো খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে ইউরোপ-আমেরিকার অধিকাংশ প্রশাসন আজ ইহুদি প্রশাসনে রূপ নিয়েছে।
দ্বিতীয় প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'জনগণের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিকে আমরা শাসক হিসেবে নির্বাচিত করব, তাকে কখনোই সাধারণ জনগণের প্রতি সেবাসীন হতে দেবো না। আমাদের একদল প্রতিনিধি তার উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রণালয়ে কাজ করবে, যারা ছোটোকাল থেকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়ো হয়েছে। এই প্রতিনিধিরা খুব ভালো করেই জানে, কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয় এবং কী করে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়।'
দশম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
কীভাবে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রের অভ্যুত্থান হবে এবং স্বৈরশাসন থেকে নির্বাচনভিত্তিক শাসনব্যবস্থার জন্ম হবে।'
১৯১৮ সালে বলশেভিক বিপ্লবে সোভিয়েত বাহিনী সফল হওয়ার পর রাশিয়ার ইহুদি ছাত্র ও সৈনিকরা রাস্তায় নেমে গাইতে শুরু করে- 'We have given you a God; Now we will give you a king.'
গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ১০ম প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে- 'গণতন্ত্রের যুগ শুরু হলে জনগণ তাদের মধ্য হতে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচনের ধারায় চলে যাবে। ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, আমরা ক্ষমতাশীন ও বিরোধী দলের পেছনে সমান অর্থ খরচ করব। ঠিক যেভাবে মাটির নিচে মাইন পোঁতা হয়, গণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচন করে জ্যান্টাইলরা সমাজে অনুরূপ মাইন পুঁতে রাখবে।'
ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, তার বিপরীতে কিছু রাজনৈতিক দল অবশ্যই থাকবে। তারা বিক্ষোভ, মিছিল ও আন্দোলন নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকবে। শাসকপক্ষ যদি তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে না পারে, তবে নিশ্চিত সরকারের পতন ঘটবে। আবার তা কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বর্বর হতে হবে। সুতরাং দিন যত যাবে, বিস্ফোরক মাইনটি আরও শক্তিশালি হবে।
'আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেব। প্রার্থী হিসেবে তাদেরই অগ্রাধিকার দেবো, যাদের অতীত ইতিহাস কালো অধ্যায়ে পরিপূর্ণ; অনেকটা পানামা কলঙ্কের মতো। কেউ তাদের অতীত ইতিহাস ফাঁস করে দিতে পারে- ক্ষমতায় আসার পর এমন একটি ভয়ে তারা সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকবে। যার দরুন তারা না চাইলেও আমাদের বিশ্বস্ত কর্মীতে পরিণত হবে। এবার তাদের কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন সুবিধা হাতিয়ে নেওয়া কি আমাদের জন্য কঠিন কোনো কাজ হবে?'
এখানে 'পানামা' শব্দটি উল্লেখের কারণ হচ্ছে- পানামা খাল খনন করা নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক গণ্ডিতে প্রচুর দুর্নীতিবাজের জন্ম হয়। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ পর্যন্ত যারা নির্বাচিত হয়েছে, তাদের সকলের ইতিহাসেই কলঙ্কের দাগ রয়েছে। এমন নয় যে, ক্ষমতার গদিতে যারা বসে আছে তাদের কলঙ্কের কথা কেউ জানে না। নির্বাচনের পূর্বে গণমাধ্যমের সহায়তায় কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীর কলঙ্কময় ইতিহাস ঢেকে রাখা হয়। তবে হ্যাঁ, যে পক্ষটিকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চায় না, ইহুদিরা চাইলেই তার কলঙ্ক ফাঁস করে দিতে পারে। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ ইহুদিদের সেই গোপন সংগঠনটির কাছে চিরকালের মতো আটকা পড়ে। যদি জনপ্রতিনিধিরা কখনো অবাধ্য হয়, তবে তাদের অতীত ফাঁস করে জনমনে আগুন ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন কোনো ব্যাপার নয়।
আজকাল রাজনৈতিক পাড়ায় 'ভয়' বিষয়টি যেন সবাইকে পেয়ে বসেছে। শুধু আমেরিকা নয়; জার্মানি, আর্মেনিয়া, রাশিয়া বা হিন্দুস্তান এমন কোনো রাষ্ট্র নেই যারা ইহুদি বা ইজরাইলের বিরুদ্ধে সামান্যতম কথা বলার সাহস করতে পারে। হয়তো লিগ অব নেশনস-এর প্রস্তাবিত কোনো ইস্যুতে তারা ইজরাইলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার সাহস কেউ করতে পারে না; তার ওপর অ্যান্টি-সেমিটিজমের ভূত তো আছেই! ইহুদিদের মধ্যে যারা গরিব, তারা আমাদের ধনীদের চেয়েও অধিক সম্পদশালী। সংখ্যালঘু হওয়ার পরও তারা আজ অধিক ক্ষমতাধর।
বিশ্ব শাসনে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে হলে এই ভয়টি জিইয়ে রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারা যেভাবে এই ভয়ের জন্ম দিয়েছে এবং আজ পর্যন্ত জিইয়ে রেখেছে, তার জন্য সাধুবাদ দেওয়া উচিত। কারণ, এটাও এক ধরনের শিল্প। তাদের সমস্ত পরিকল্পনার মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে। আর যখনই এই ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ে, তখনই তাদের নগ্ন রূপ বেরিয়ে আসে।
সত্য বলতে, ইহুদিরা কোনো অতিমানবীয় প্রাণী নয়। তারাও আমাদের মতো রক্ত-মাংসে গড়া জীব। হতে পারে তারা বুদ্ধিমান ও চৌকস, কিন্তু তাতে এমন কিছু ঘটে যায়নি যে তাদের কুর্নিশ করতে হবে। পৃথিবীতে আমাদের সবার সমানভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। ইহুদিরা যতই চালাক হোক না কেন, এমন কোনো পর্দা নেই যা তাদের কুৎসিত ইতিহাস ঢেকে রাখতে পারে। আর এখানেই তাদের দুর্বলতা। বিশ্ববাসী যদি ইহুদিদের এই দুর্বলতার সন্ধান জানত, তবে ভয় নামক যে পর্দা দিয়ে তারা আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে, তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতো।
ভূ-সম্পদ আক্রমণে ইহুদিদের পরিকল্পনা
আবাসন শিল্পে ইহুদি জমিদারদের ফটকা বাণিজ্যের দরুন বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বের অনেক শহরের চেহারা রাতারাতি বদলে যায়। প্রতিবার জমি বিক্রির সময় পূর্ব মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য নির্ধারণ করা আজ যেন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯১৮-১৯ সাল কমনওয়েলথ কমিটি ভূমি সংকট নিরসনে কিছু আইন প্রণয়ন করে; যদিও তা বহু আগেই করা উচিত ছিল। কমিটির সভাপতি ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে বিশেষ কিছু পরিবারের পরিচয় খুঁজে পায়, যাদের একমাত্র পেশা ছিল ভূমি ব্যাবসা। তারা একই জমি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের মাঝে বারবার ক্রয়-বিক্রয় করত, যেন বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। সবশেষে ভূমির বিক্রয়মূল্য কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছালে ইহুদিরা তা জ্যান্টাইলদের নিকট বিক্রি করত।
একসময় ইউরোপ-আমেরিকার এমন অনেক জায়গা ছিল, যার নাম-গন্ধ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ শোনেনি। তারা সেসব জমি খুব পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত মালিকদের থেকে কিনে নিত। তারা যে মূল্যে জমিগুলো ক্রয়ের প্রস্তাব দিত, তা শুনে জমির মালিকরা ভাবত- এমন জমি তো আর এখানে এসে কেউ ক্রয় করবে না! এ অবস্থায় যে এতটা মূল্য পাচ্ছি তা- ই বা কম কীসে! এই ভেবে অনেকে তাদের জমিগুলো বিক্রি করত। এরপর তারা সেসব জমি উন্নয়নে কিছু কাজ করত। যেমন: স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ইত্যাদি।
এরপর বড়ো বড়ো শহরগুলোতে শুরু হতো প্রচার ও বিজ্ঞাপনের কাজ। সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাদের কিছু সদস্য ছদ্মবেশে এই জমিগুলো ক্রয়ে আগ্রহ দেখাত। এ নিয়ে তাদের প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কলাম প্রকাশ করত, যেন পুরো শহরকে এই জমিগুলোর আলোচনায় সরগরম রাখা যায়। চায়ের দোকান, মদের দোকান এবং বাজারের আলোচনা মঞ্চ প্রতিটি স্থানেই দক্ষ অভিনেতার ন্যায় তারা এই আলোচনা চালিয়ে যেত। তারা নিজ থেকে এই আলোচনায় জ্যান্টাইলদের ডাকত না, কিন্তু উচ্চস্বরে যেভাবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করত, তা সাধারণ মানুষের কৌতূহল অনেকগুণ বাড়িয়ে দিত। না চাইলেও তারা অবচেতন মনে এই গুঞ্জন ঢুকে যেত। মানুষ ভাবত, শহরের বাইরে এখনও এত ভালো জমি পাওয়া যায়! তাহলে সব জমি শেষ হওয়ার আগে নিজেদের জন্য কিছু কিনে রাখছি না কেন? একসময় তাদের এই কূটকৌশলে বিভ্রান্ত হয়ে দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী এই জমিগুলোর প্রতি আগ্রহ দেখাত এবং ক্রয় করত; তবে তা অতি উচ্চমূল্যে, যেমনটা ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং ফ্লোরিডার জমিগুলোর বেলায় হয়। মাঝ থেকে ইহুদিরা হাতিয়ে নিত বিশাল অঙ্কের মুনাফা, যার একটি কমিশন চলে যেত তাদের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কেননা, তারা বিভিন্ন সময়ে অর্থ দিয়ে সাহায্য করত।
মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সাধ্যের মধ্যে একটি সুন্দর বাসা খুঁজে পেতে যে কতটা হিমশিম খায়, তা কারও অজানা নয়। আপসোসের ব্যাপার হচ্ছে- জমি বাণিজ্যের এই শয়তানি সংস্কৃতি আজ জ্যান্টাইলদের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে। যদি কমিটির সভাপতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই অনুসন্ধান না চালাতেন, তাহলে এই তথ্য কখনোই জনসম্মুখে উন্মোচিত হতো না। কারণ, বিভিন্ন দেশের পরিসংখান ব্যুরোকে ইহুদি জাতিগোষ্ঠি একাই নিয়ন্ত্রণ করছে। গোয়েন্দা বাহিনীর ভেতরে তারা গড়ে তুলেছে ছোটো ছোটো আরও অনেক দল, যারা বিখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থার হাত-পা-মাথা হয়ে কাজ করছে। ফলে পরিসংখ্যান ব্যুরো যে তথ্যই প্রকাশ করুক না কেন, তা গোয়েন্দাদের সম্মতি ছাড়া সম্ভব নয়।
উচ্চমূল্যে ভূমি বিক্রি করা ছাড়াও ইহুদিদের এসব জমি ক্রয়ের আরও কিছু উদ্দেশ্য ছিল। যেমন: জ্যান্টাইল কৃষকদের নিজেদের জমি ব্যবহার করতে দেওয়া। বিষয়টি অনেকটা বর্গা চাষের মতো। এর ফলে উৎপাদিত ফসলের একটি বড়ো অংশ তাদের ভান্ডারে চলে যেত। তা ছাড়া অধিকাংশ জমি যদি তাদের দখলে থাকে, তবে জ্যান্টাইলদের পক্ষে কখনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা কৃষক হয়ে মাঠে কাজ করবে। তা ছাড়া যেসব জমিতে সোনা, রুপা, তামা, নিকেল ইত্যাদি মজুত আছে, সেসব জমির প্রতি ইহুদিদের রয়েছে ভিন্ন মাত্রার মোহ। যেমন: আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের জমিগুলো।
যখন ইহুদিরা কোনো দেশ দখলের পরিকল্পনা করে, তখন প্রথমে সে দেশের উৎপাদনশীল জমিগুলো দখলের চেষ্টা চালায়। এর মাধ্যমে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য এবং শিল্পকাজে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ফলে ধীরে ধীরে শিল্পবাজার তাদের দখলে আসে। একই পথে পুঁজিবাজারও হাঁটতে শুরু করে। এরপর তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় শুরু হয় পুঁজিবাজার ও শ্রমবাজারের মধ্যে দ্বন্দ, যার অবসান কখনোই হয় না।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে আমেরিকা প্রচুর পশমি পণ্য জার্মানি থেকে আমদানি করত। যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন আগে তারা সকল অর্ডার তুলে নেয়। এতে জার্মান ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়ে। রাতারাতি সেখানে পশমি পণ্যের দাম কমা শুরু করে। ওত পেতে থাকা জার্মান ইহুদিরা অতি স্বল্পমূল্যে সেগুলো কিনে নেয়। যুদ্ধ শেষ হলে তারা আবার সেই পণ্য আমেরিকান বাজারে উচ্চমূল্যে রপ্তানি করে।
আমেরিকান বাজারে যদি কোনো বিপর্যয় নেমে আসে, তবে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ইহুদিদের প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলো সামনে চলে আসে। বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ইতালিয়ান, পোলিশ, ব্রিটিশ বা জার্মান নাগরিকদের অভিযুক্ত করে, কিন্তু কখনোই নিজেদের নাম উল্লেখ করে না। ইদানীং তারা ভূমি ব্যাবসার এজেন্ট হিসেবে জ্যান্টাইলদের ব্যবহার করছে। ব্যাংকিং জগতেও একই দশা। ফলে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের সনাক্ত করা জ্যান্টাইলদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
পূর্বের একটি প্রটোকলে বলা হয়েছে- বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে ইহুদিরা কৃত্রিম চাহিদার জন্ম দেয়। প্রথমত, বর্গা চাষের ফলে উৎপাদিত পণ্যের বিশাল মালিকানা তাদের দখলে আসে। দ্বিতীয়ত, অবশিষ্ট পণ্য কৃষকদের থেকে কৌশলে কিনে নেয়। এরপর ইহুদিরা হয়ে যায় সকল পণ্যের মধ্যস্বত্বভোগী। তারা যে মূল্য নির্ধারণ করে, তা-ই হয়ে যায় বাজারের বিক্রয় মূল্য; যা পরিশোধে ভোক্তাসমাজ বাধ্য হয়। মূলত ব্যাপারটা এমন- ভোক্তাসমাজ পণ্য ক্রয় করে না; বরং সেগুলোকে জিম্মি থেকে মুক্ত করে মাত্র।
ফটকাবাজির আরও একটি উদাহরণ- আমেরিকার তুলার বাজারকে ইহুদিদের নিজের আয়ত্তে নেওয়া। ব্যাংক ঋণ ছিল তাদের এই কাজের মোক্ষম হাতিয়ার। প্রথমে যতটা সম্ভব তুলা জমির উপযোগিতা কমানো হতো। কৃষকরা ঋণের জন্য ব্যাংকে এলে তাদের চাষের জমি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। নির্ধারিত একরের বেশি জমিতে চাষ করলে ব্যাংক তাদের ঋণ দিত না। ফলে চাহিদা থাকার পরও তুলার উৎপাদন কমে যেত। এতে না শিল্প-মালিকরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ তুলা পেত, আর না কৃষকরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারত। অবশেষে ব্যাংক এসে জমিগুলো দখল করে কৃষকদের ভিখারি বানিয়ে দিত। ফলে জমি ও বাজার দুটোই তাদের হতো। তুলা শিল্পে শয়তানি শক্তির আগ্রাসন নিয়ে একটি গুঞ্জন ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে আমেরিকার আকাশে-বাতাসে উড়ছিল। কিন্তু জ্যান্টাইলরা এর প্রকৃত রূপ তখনই বুঝতে পারে, যখন আর করার কিছু ছিল না।
ভূমি নিয়ে তাদের প্রটোকলগুলোতে তেমন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। যা আলোচনা হয়েছে তা কেবল ষষ্ঠ প্রটোকলে। যেমন:
'বাজারের সব সম্পদ নিজেদের দখলে নিয়ে আমরা একচেটিয়া আধিপত্যের জন্ম দেবো। জ্যান্টাইল রাষ্ট্রগুলো যতই সম্পদশালী হোক না কেন, একসময় তাদেরকে আমাদের সম্পদের ওপরই নির্ভর করতেই হবে। এই নির্ভশীলতা তাদের ঋণের বেড়াজালে আটকে ফেলবে, যা তাদের ওপর জাতীয় দায়রূপে চেপে বসবে। তাদের এই দুর্বলতাকে ব্যবহার করে আমরা আন্তর্জাতিক স্বৈরশাসনের জন্ম দেবো। তখন কেবল আমরাই এই বিশ্ব মানবতাকে মহা-বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব। আমরা কেবল তাদেরই অনুগ্রহ দেখাব, যারা আমাদের সকল অনুশাসন মাথা পেতে নেবে।
দাম্ভিকতা জ্যান্টাইল রাজনীতিবিদদের চরিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও যেহেতু তারা বিশাল ভূ-সম্পদের মালিক এবং স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করতে পারছে, সেহেতু কোনো একদিন তারা আমাদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই যেকোনো মূল্যেই হোক তাদের সব জমি দখল করতে হবে।
এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায়- কৃষকদের বন্ধকি ঋণে আটকে ফেলা। আমরা তাদের ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করব। ধীরে ধীরে ঋণের সুদ কৃষকদের ওপর চেপে বসবে। একসময় জমির মালিক হওয়ার পরও তারা আমাদের অধীনস্থ হবে। এই আনুগত্য তাদের সকল অহংকার ও দাম্ভিকতাকে ধ্বংস করে দেবে।
শিল্প-অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে জ্যান্টাইলদের উৎসাহিত করব, যেন তারা আমাদের নিজেদের অংশ বলে মনে করে। কিন্তু এই উৎসাহ যেন তাদের কোনো উপকারে না আসে সে ব্যবস্থাও করে রাখব। যদি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই আমরা জ্যান্টাইলদের ঋণ দেওয়া শুরু করি, তবে তাদের সম্পদের প্রাচুর্যতা অনেক বেড়ে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় তারা ঋণের দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসবে এবং সব জমি মুক্ত করবে। এমনটা আমরা কখনো হতে দেবো না। ফটকা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্যান্টাইলদের মূলধনশূন্য করব। একসময় তারা সর্বহারা মানুষের মতো অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এবং বাঁচার জন্য আমাদের পায়ে এসে মাথা ঠুকবে।
আমরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে জড়িয়ে দেবো এবং একই সময় বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেবো। আমরা বলব- কৃষি উৎপাদন কম হওয়ার দরুন এ বছর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সু-কৌশলে তাদের মাঝে অরাজকতা ছড়িয়ে দেবো এবং আত্মতৃপ্তির উপায় হিসেবে মদ্যপানে আসক্ত করে তুলব। এভাবে ধীরে ধীরে তারা জ্ঞানশূন্য জাতিতে পরিণত হবে।
মানুষ আমাদের সূক্ষ্ম পরিকল্পনাগুলো কখনোই বুঝতে পারবে না। আমরা লোক দেখানো সমাজসেবার মুখোশ পড়ে বলব- জনসাধারণের মঙ্গল করাই আমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য। কিন্তু এই উদ্দেশ্য দিয়ে আমরা কেবল নিজেদেরই উপকার করব, তাদের নয়।'
এবার আরও দুটি প্রটোকল থেকে কয়েকটি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করছি, যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ :
' যতদিন না জ্যান্টাইলরা আমাদের অর্থ ও ক্ষমতার মাঝে নিজেদের আশ্রয় খুঁজে না নেবে, ততদিন পর্যন্ত ক্ষুধা, দরিদ্রতা, দুর্ভিক্ষ, মতবিরোধ, পারস্পরিক শত্রুতা ইত্যাদিতে আবদ্ধ করে রাখব।' (দশম প্রটোকল)
'একসময় তারা বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক সকল ক্ষমতা আমাদের হাতে তুলে দেবে, আর তখনই আমরা নিজেদের বিশ্ব অধিপতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করব।
'আমরা তাদের ওপর এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দেবো, যা তাদের নৈতিক চেতনাকে পঙ্গু করে দেবে। সেইসঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ধ্বংস করে দেবে।' (পঞ্চম প্রটোকল)
প্রটোকলগুলো যারা তৈরি করেছে, তারা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক ও সম্পদশালী ইহুদি। তারা কী করতে যাচ্ছে এবং কীভাবে করবে, সে বিষয়ে খুব ভালো করে জানে। তারা জানে- যতদিন আকাশে সূর্য উঠবে এবং মৌসুমি বায়ু ও পানির ব্যবস্থা থাকবে, ততদিন পর্যন্ত কৃষকসমাজ অপরাজেয় শক্তি। কারণ, খাদ্যের অভাবই পৃথিবীর প্রকৃত অভাব। যার খাদ্য উৎপাদনের ক্ষমতা আছে, সে অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে অতি আয়েসে নিজের পুরোটা জীবন পার করে দিতে পারে। তাই এমন কিছু করা উচিত, যা দ্বারা এই শান্তিপ্রিয় মানুষদের অশান্ত করে তোলা যায়।
তারা নিজেদের পরিকল্পনায় কতটা সফল, তা চারদিকে চোখ বোলালেই উপলব্ধি করা সম্ভব। আগেই বলা হয়েছে- কৃষি কাজে ইহুদিরা একদমই পারদর্শী ছিল না, কিন্তু ভিন্নধর্মী পণ্য তৈরিতে তারা ছিল ওস্তাদ। রঙিন-কারুকাজ সংবলিত ফুলের টব, পানির পাত্র, টেবিল-চেয়ার ইত্যাদি প্রথম তারাই বাজারে নিয়ে আসে, যা উচ্চমূল্যে বিক্রি করত।
একটা সময় ছিল, যখন এসব পণ্য ক্রয়ে মানুষ কোনো আগ্রহ দেখাত না। তারা বিশ্বাস করত, অর্থ অপচয় দরিদ্রতা ডেকে আনে। ফলে ইহুদিরা বহু বছর এসব পণ্য নিয়ে অপেক্ষা করে। একজন-দুইজন করতে করতে বাজারে একসময় ক্রেতা সংখ্যা বাড়তে থাকে। নতুন নতুন নকশা সংবলিত পণ্য-সামগ্রীকে তারা 'স্টাইল' ও 'ফ্যাশন' নামে পরিচিত করে তোলে। মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়- স্টাইল ও ফ্যাশন হলো আভিজাত্যের অংশ।
একসময় জ্যান্টাইল কৃষকরা দেখল, সৌখিন পণ্যের এই বাণিজ্য আসলেই অনেক লাভজনক। ফসল উৎপাদন করতে অনেক সময় লাগে। সাথে পরিশ্রমও বেশি। তা ছাড়া ফসল একবার নষ্ট হলে সব পরিশ্রম পণ্ড হয়ে যায়। ফলে তারাও এ জাতীয় পণ্য উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ল। আর এভাবেই আমরা জাতি হিসেবে উৎপাদনবিমুখ হয়ে পড়লাম। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই সৌখিন শিল্পে দক্ষ হয়ে ওঠে এবং সমাজের বাহবা পেতে থাকে। কিন্তু আমরা বুঝতেই পারলাম না, যা করছি তা এককথায়- সময় ও পরিশ্রমের অপচয়।
এ প্রসঙ্গে ষষ্ঠ প্রটোকল উল্লেখ আছে- 'জ্যান্টাইলদের শিল্পগুলো ধ্বংস করতে তাদের সৌখিন পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলব, যা তাদের চাহিদা ও রুচিবোধের ধারণা একেবারে পালটে দেবে। এসব চকচকে পণ্য-সামগ্রী ক্রয়ে আমরা তাদের উৎসাহিত করব।'
অনেক পিতা-মাতা, সুশীল সমাজ ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম, তরুণ সমাজকে অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। অনেক জ্ঞানী মানুষ তাদের পরামর্শ দিয়েছে- 'বিলাসিতা পরিত্যাগ করে সম্পদকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করো।' অনেক অর্থনীতিবিদ বলেছে- 'অপ্রয়োজনীয় শিল্পের পিছে না ছুটে এমন সব শিল্পের পেছনে ছোটো, যা দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করবে।' অনেক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান পরামর্শ দিয়েছে- 'সৌখিন পণ্য তৈরি না করে মাঠে গিয়ে ফসল উৎপাদন করো, যেন ক্ষুধার্ত থাকতে না হয়।' এসব সতর্কবাণীর উদ্দেশ্য হলো- আমাদের যুবসমাজ যেন সময় ও শ্রম ভুল পথে নষ্ট না করে।
আমরা সাধারণ মানুষরাই-বা কম কীসে! অপ্রয়োজনীয় সৌখিন পণ্যের চাহিদা তো আমরাই বাড়িয়ে দিয়েছি। একই ধরনের পণ্য ক্রয় করতে করতে ক্রেতারা যখন ক্লান্ত হয়ে উঠে, তখন তারা ভিন্নধর্মী পণ্যের অনুসন্ধান করে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এসব সৌখিন পণ্য ব্যবহারের দরুন ইহুদিরা কি আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
লক্ষ করে দেখবেন, তারা খুব দামি চকচকে কাপড় পরে আপনার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এই জামাগুলো সত্যই খুব দামি এবং কাপড়গুলোও উন্নতমানের। দেখবেন, ইহুদি রমণীরা বড়ো বড়ো হিরার গহনা পরে হেঁটে যাচ্ছে, যার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। মূলত তারা কখনো নিজেদের অসাধু আবিষ্কারের শিকার হবে না। কারণ, তাদের হারানোর ভয় নেই। তারা এসেছে শুধু আমাদের ধ্বংস করতে। তাই ক্ষতি হলে শুধু আমাদেরই হবে, তাদের নয়।
আজ আমাদের মনোবৃত্তি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, পালা বদলের সাথে সাথে নিজেদের মাঝে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতেই হবে, রুচিবোধে পরিবর্তন আনতে হবে এবং বিভিন্ন স্টাইল ও ফ্যাশনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। একসময় আমরা দরিদ্রতার ভয়ে সামান্য অর্থ অপচয় করতেও ভয় পেতাম। আর এখন উপার্জনের একটি অংশ আলাদা করে রাখি, যেন পরবর্তী বছর নতুন কিছু সৌখিন পণ্য ক্রয় করতে পারি। একটি গোষ্ঠী আছে, যারা বহু আগ থেকেই নির্ধারণ করে রাখে আগামী বছর এবং তার পরবর্তী বছরগুলোতে বাজারে নতুন কী কী পণ্য নিয়ে আসা হবে। আমাদের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও দূরদর্শী মনোভাবকে ধ্বংস করে দিয়ে ইহুদিরা গড়ে তুলেছে মুনাফার পাহাড়। মূলত আমরা নিজেরাই তাদের জালে ধরা দিয়েছি।
এবার, প্রথম প্রটোকলের দিকে লক্ষ করুন-
'আমরা জ্যান্টাইলদের কখনো সৌখিন পণ্য ক্রয়ে বাধ্য করব না, কিন্তু তারা এতটাই বোকা যে নিজ থেকেই এই জালে জড়িয়ে পরবে।'
আমাদের মানসিক বিকলাঙ্গতার দরুন 'কৃষক' পেশাটি আজ অনেকের নিকট ঘৃণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এমন রূপ নিয়েছে, কৃষকরাই আজ নিজেদের ঘৃণা করা শুরু করেছে। তারা চায় না তাদের সন্তানরা এই পেশায় আসুক। সন্তানরা যেন অন্য কিছুর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে- এটাই তাদের একমাত্র কামনা। অথচ কৃষি কাজ পৃথিবীর প্রাচীনতম পেশাগুলোর মধ্যে একটি, যা আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জুগিয়েছে।
এমন একটি পেশাকে ঘৃণার চোখে দেখা এবং কৃষকদের সঙ্গে অদ্ভুতের ন্যায় আচরণ করার দরুন সমাজে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, তা সামান্য হলেও উপলব্ধি করতে পারছি। খাদ্য ঘাটতি ও বেকারত্ব যে পৃথিবীর প্রকটতম দুটি সমস্যা, তা আর দলিলসহকারে উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই দুটি সমস্যার উপযুক্ত সমাধান যা হতে পারত, তা আমরা ঘৃণার চোখে এড়িয়ে চলছি। মানুষ আজ সে পথেই হাঁটছে, যে পথে দ্রুত সম্পদ উপার্জন করা যায়; তা মদ-সিগারেট বা সৌখিন পণ্যসামগ্রীর মাধ্যমে হলেও। আসলে মহাদুর্ভিক্ষে পতিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মানবসমাজ উপলব্ধি করতে পারবে না- তারা জ্ঞান ও মানসিকতাকে কতটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে।
টিকাঃ
২৫. আমাদের শহরগুলোতে প্রায়ই বড়ো বড়ো বস্তি দেখা যায়, যেখান প্রচুর মানুষ একত্রে গাদাগাদি করে বসবাস করে। ফরাসি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ইহুদিরা এ রকম একটি সমাজব্যবস্থায় বসবাস করত। তবে ঘেটো শব্দের আক্ষরিক অর্থ বস্তি নয়। ইহুদিরা নিজেদের প্রয়োজনে এরূপ সমাজ ব্যবস্থার উদ্ভব করেছিল, যেন নিজেদের মাঝে সম্পর্কের দৃঢ়তা অটুট রাখতে পারে। ধনি-গরিব সকল শ্রেণির ইহুদিরা একত্রে এখানে বসবাস করত।
ধারণা করা হয়, ধর্মীয় কুসংস্কার, অর্থনৈতিক প্রতিহিংসা ও সামাজিক বিদ্বেষ- এই তিনটি কারণে ইহুদিরা ইতিহাসজুড়ে বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবে তারা স্বীকার করুক আর না-ই করুক, নিছক ধর্মীয় কুসংস্কারে আচ্ছন্ন হয়ে জ্যান্টাইলরা কখনো তাদের বিরুদ্ধে মারমুখি হয়ে ওঠেনি। তবে অর্থনৈতিক প্রতিহিংসাকে একটি কারণ বলা যেতে পারে। কারণ, অর্থ-সম্পদ না চাইলেও অনেক সময় শত্রুর জন্ম দিয়ে ফেলে। তা ছাড়া এত ছোট্ট একটি জাতি এত ধন-সম্পদের মালিক কীভাবে হয়ে উঠল, তাও অনেকের চিন্তার কারণ হয়েছিল। তারা যদিও এ ব্যাপারে নিজেদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলে- সৃষ্টিকর্তা আপন হাতে তাদের অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরিয়ে দিয়েছে। মূলত এসব তাদের বানানো গল্প ছাড়া আর কিছুই নয়।
ইহুদিরা অর্থ-সম্পদকে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করে সমাজকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে রেখেছে তা হলো- উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত।
এই বিভাজন তারা এত সূক্ষ্ম উপায়ে করেছে, তাতে সবাই ধরেই নিয়েছে- যাদের প্রচুর সম্পদ আছে, কেবল তারাই সমাজের উচ্চশ্রেণির। তারা যা-ই বলে, তা-ই সমাজের আইনকানুনে পরিণত হয়। বিষয়টা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে এখন আর কোনো তর্ক- বিতর্ক হয় না। এই অর্থ-সম্পদের উৎস কী, তা নিয়েও যেন কারও কোনো চিন্তা নেই।
বাইবেল অনুযায়ী- মোজেস যখন সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কথা বলতে সিনাই পাহাড়ে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর অবর্তমানে ইজরাইলবাসী স্বর্ণের বাছুর তৈরি করে পূজা শুরু করে, যা Golden Calf নামে পরিচিত। তারা বোঝাতে চেয়েছে- অর্থই ঈশ্বর। সকল উপাসনা কেবল তার নিমিত্তে। যারা এই অর্থ-সম্পদকে গুরুত্ব দেবে, কেবল তারাই হবে সমাজের উচ্চশ্রেণির জনগোষ্ঠী।
এ কারণে দেখা যায়- ইহুদিরা যখন কোনো নতুন দেশে প্রবেশ করত, তখন কেউ পাত্তাই দিত না। কারণ, তাদের অবস্থা ছিল ভিখারির মতো। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই যখন তারা অর্থ-সম্পদে এতটা ফুলে উঠত, রাজা-বাদশাহরাও তাদের নিকট ধরনা দিত।
ইহুদিরা নিজেদের সুবিধার্থে নতুন সব আইনকানুন তৈরি করে সর্বসাধারণের ওপর চাপিয়ে দিত। তারা চাইলে অর্থবাজারে ধ্বস নামে। আবার তাদের মর্জিতেই বাজার চাঙা হয়ে ওঠে এবং লাখো মানুষের জীবিকা চলে। ওয়ালস্ট্রিটসহ পৃথিবীর সব বড়ো বড়ো শেয়ার বাজারের চাবি তো এখন তাদের হাতেই জিম্মি!
সামাজিক বিদ্বেষ নিয়ে বলতে গেলে- সব যুগেই জ্যান্টাইলদের সঙ্গে ইহুদিদের আপত্তিকর কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা যেত, তবে তা আহামরি কিছু ছিল না। এমন অনেক উদাহরণ পাওয়া যাবে, যেখানে একজন খ্রিষ্টান ও নাস্তিক পাশাপাশি বড়ো হয়েছে; সম্পর্কে তারা প্রতিবেশী। ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রায়ই তাদের মাঝে তর্কাতর্কি হতো, কিন্তু তা কখনো রক্তারক্তিতে রূপ নেয়নি।
এ তিনটি বিষয় ছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে, যা তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। আগের অধ্যায়গুলোতে এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে। যেমন: পৃথক জাতীয়তাবাদ নীতি, দেশপ্রেমহীনতা, সামাজিক অনুশাসন ভঙ্গ করা, তথ্য পাচার করা ইত্যাদি। এবার ষড়যন্ত্রময় বিশ্ব রাজনীতিতে ইহুদিরা কীভাবে দাবার গুটি চালছে, তা নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ঊনবিংশ শতাব্দীর অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ইহুদি হলেন Theodor Herzl। তাকে বর্তমান ইজরাইলের অন্যতম রূপকারও বলা হয়। তার একটি বিখ্যাত উক্তি- 'We are a people- One people।' তিনি পরিষ্কার করে বলেন, নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পৃথক জাতীয়তাবাদ নীতির কোনো বিকল্প নেই। ১৮৯৭ সালের প্রথম জায়োনিস্ট সম্মেলনে তিনি বলেন- 'যখন আমরা কোনো বিপদে পতিত হই, তখন অদম্য এক শক্তিকে সঙ্গে করে বিপ্লবী প্রলেতারিয়েটরূপে জেগে উঠি। তখন আর আমাদের পরাজিত করা সম্ভব নয়। আমরা হয়ে উঠি অতুলনীয়-অদম্য শক্তির আধার।'
The Jewish State গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি উল্লেখ করেন-
'আমিও বিশ্বাস করি, অ্যান্টি-সেমিটিজম সত্যি একটি বড়ো আন্দোলন। এই কুরুচিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রতিহিংসা ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে। এটি এমন এক জাতীয় সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যার সমাধান করতে সভ্য দেশের সব রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে একত্রিত করা প্রয়োজন।'
১৯০২ সালে British Royal Commission-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মেজর Evans Gordon-এর প্রশ্নের জবাবে Dr. Herzl বলেন-
'আমি আপনাদের এমন এক রাষ্ট্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবো, যার বর্তমানে কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে দ্রুতই তা বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক কারণে এই রাষ্ট্রের বংশধরদের অসংখ্য শত্রুর মোকাবিলা করতে হয়েছে। আপনারা চাইলে রাষ্ট্রটির পূর্বে বিশেষণ হিসেবে 'ইহুদি' যোগ করতে পারেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন, এই রাষ্ট্রটির পূর্ণরূপ কী হতে পারে!'
Lord Eustace Percy একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক ও রাজনীতিবিদ। সে সময় তিনি এই বিশেষ জাতিগোষ্ঠীটিকে নিয়ে একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করেন, যা পরবর্তী সময় Canadian Jewish Chronicle দ্বারা সমর্থিত হয়। লেখাটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ তুলে ধরা হলো-
'উদারপন্থি ও জাতীয়তাবাদ (Libaralism and Nationalism) এ দুটি নীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইউরোপিয়ান অধিবাসীগণ নিজ নিজ দেশে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকারও এ যাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রশাসনিক পদগুলোতে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে। বিষয়টিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসরত ইহুদিরা প্রচণ্ড প্রতাপের সাথে বেরিয়ে আসে। কীভাবে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক পদগুলো নিজেদের করে নেওয়া যায়, তা নিয়ে উঠেপড়ে লাগে। এভাবে ক্ষমতা যখন হাতে চলে আসে, তখন তারাই আবার নীতি দুটির বিরোধিতা করে। একসময় নীতি দুটির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দলের জন্ম হয়, যা একত্রিত হতে যাওয়া ইউরোপকে পুনরায় দ্বিখণ্ডিত করে ফেলে।
যেকোনো স্বাধীন রাষ্ট্রে হস্তক্ষেপ চালাতে ইহুদিদের সচারাচর দুটি কাজ করতে দেখা যেত। উক্ত রাষ্ট্রের পুরো সাংবিধানিক কাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া এবং সেখানে নিজেদের মনোনীত সমাজব্যবস্থা কায়েম করা।
আজ ইউরোপের আকাশ জায়োনিজম ও বলশেভিজমের মেঘে আচ্ছন্ন। জায়োনিজম হলো ইহুদিদের রাজনৈতিক ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, যা বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিংশ শতাব্দীতে প্রজাতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক মতবাদ দুটি ব্যবহার করে ইহুদিরা যেভাবে কনস্টান্টিনোপল দখল করে এবং তুর্কি বিপ্লবের জন্ম দেয়, ঠিক সেভাবে ইউরোপ দখল করতে আজ তারা বলশেভিক বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে।'
নিজেদের দাপট কায়েম করতে ইহুদিরা বারবার জ্যান্টাইল রাষ্ট্রগুলোকে আক্রমণ করেছে এবং শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটিয়েছে। যেমন: তারা রাজতন্ত্র সরিয়ে প্রজাতন্ত্র, প্রজাতন্ত্রকে সরিয়ে সমাজতন্ত্র এবং অনেক জায়গায় প্রজাতন্ত্র সরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করেছে। পুরো পৃথিবীর শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করে একদিন নিজেদের ক্ষমতা কায়েম করবে এবং সবাইকে গোলাম বানিয়ে ছাড়বে- এটাই ইহুদিদের বিশ্বাস। এর প্রথম ধাপ হিসেবে তারা গণতন্ত্রকে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।
অনৈতিক ও সন্ত্রাসী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দরুন একসময় তাদের একঘরে করে রাখা হতো। তাই তারা নিজেদের জন্য ঘেটোভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলে। ইহুদিদের সংস্পর্শে এসে সমাজ যেন কলুষিত না হয়, সে জন্য তাদের কার্যক্রম নির্দিষ্ট করা ছিল। অর্থাৎ তারা চাইলেই প্রশাসনিক বা ব্যবসায়িক কাজে অংশ নিতে পারত না। ইহুদিরা এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, যা সমাজে তাদের প্রতিষ্ঠা করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী শান্তি আলোচনা এমনই একটি উদাহরণ।
তারা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধ নতুন সব শান্তি-আলোচনার দ্বার খুলে দেয়, যার উঁচু পদগুলো সব সময়ই ইহুদিদের জন্য বরাদ্দ থাকে। আর সেখান থেকেই হাতের ছড়ি ঘুরিয়ে তৈরি করে নতুন আইন-কানুন। এ সম্পর্কে জানতে Sixth Zionist Conference-১৯০৩ নিয়ে যে কেউই গবেষণা করতে পারেন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অটোমানদের হটিয়ে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিদের হাতে প্যালেস্টাইনের চাবি তুলে দেয়। তারপরও বহু প্রতিক্ষিত ইজরাইল প্রতিষ্ঠা করতে তাদের আরও অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হবে। এখনও ইহুদিদের অনেক সদস্যই প্যালেস্টাইনে ফিরে আসেনি। নিরাপত্তা ও আবাসন সংকটের দরুন তারা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
২৫ জুন ১৯২০, American Hebrew ম্যাগাজিনের মুখপাত্র Herman Bernstein তার একটি আর্টিকেলে প্রকাশ করেন-
'কিছুদিন আগে আমেরিকান বিচার বিভাগের এক প্রতিনিধি 'The Jewish Peril' শিরোনামে লেখা একটি পাণ্ডুলিপি নিয়ে আমার কাছে আসেন। পাণ্ডুলিপিটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়া রাশিয়ান কোনো একটি বইয়ের অনূদিত অংশ-বিশেষ, যা অনেক আগেই বাজার থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বিশ্বের পুরো জ্যান্টাইল জনগোষ্ঠীকে কীভাবে ইহুদিরা নিজেদের কবজায় নিয়ে আসবে, সে সম্পর্কে বহু নির্দেশনা পাণ্ডুলিপিটিতে দেওয়া হয়েছে।'
১৮৯৬ সালে Dr. Herzl এই সব নির্দেশনার একটি প্রথমিক খসড়া তৈরি করেন, যা ১৮৯৭ সালে সুইজারল্যান্ডের শহর বাসেলে অনুষ্ঠিত হওয়া জায়োনিস্ট সম্মেলনে প্রথমবারের মতো উপস্থাপন করা হয়। পরে ১৯০৩ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত অসংখ্য ছোটো ছোটো খণ্ডে এই সম্পূর্ণ খসড়াটি বাজারে আসতে থাকে, যা একসময় পূর্ণ গ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয়। রাশিয়ার বাজারে এ নিয়ে প্রচণ্ড হইচই শুরু হওয়ায় গ্রন্থটিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু তত দিনে এর অসংখ্য কপি সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে যায়। এর দরুন এটিকে একেবারে গায়েব করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই সম্পূর্ণ খসড়াটির একটা কপি এখনও ব্রিটিশ জাদুঘরে জমা আছে, যার ওপর লেখা আছে- '১০ আগস্ট, ১৯০৬'।
যে পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে এত হইচই, তার নাম হলো- Protocols of the Learned Elder Zion। এর ওপর ভিত্তি করে ১৯২০ সালে লন্ডনের Kzre and Spottiswoode ম্যাগাজিন একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করে, যা নিয়ে লন্ডনে থাকা ইহুদিরাও হইচই শুরু করে। নিজেদের কলঙ্ক ঢাকতে বিকল্প হিসেবে তারা London Times ম্যাগাজিনকে ব্যবহার করে। তারা Kzre and Spottiswoode-এর প্রকাশিত আর্টিক্যালটিকে 'দুঃখজনক' বলে আখ্যায়িত এবং এ জাতীয় কাজকে পাগলামির অংশ বলেও অভিহিত করে।
কিন্তু এটাই ছিল সেই নীলনকশা, যার ভিত্তিতে ইহুদিরা বিশ্বজুড়ে অসংখ্য যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্ম দিয়েছে। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ তৈরি করেছে। অপসংস্কৃতিতে চারদিক ভরিয়ে তুলেছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় নাস্তিকতার জন্ম দিয়েছে। অর্থব্যবস্থাকে কুক্ষিগত এবং বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী শান্তি আলোচনাগুলোতে কেবল নিজেদের স্বার্থই হাসিল করেছে। ইহুদিদের সংগঠনগুলো আজ পর্যন্ত এই দলিলটির সঙ্গে কোনো রকম সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেনি; বরং এটিকে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে কিছু চক্রান্তকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যমূলক প্রোপাগান্ডার অংশ বলে দাবি করে আসছে।
ইহুদিদের পক্ষ থেকে কোনো স্বীকারোক্তি আসুক বা না আসুক, এই সম্পূর্ণ দলিলটি আজ পর্যন্ত তাদের অন্তিম উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে যেভাবে মিলে যাচ্ছে, তা নিছক কোনো কাকতালীয় ব্যাপার হতে পারে না। পরবর্তী বেশ কয়েকটি অধ্যায়জুড়ে এ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
১৯ জুন, ১৯২০ 'Trotsky Leads Jew-Radicals to World Rule. Bolshevism Only a Tool for His Scheme' শিরোনামে Chicago Tribune একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করে। বলশেভিক বিপ্লব যে ইহুদি গুপ্তচরদের সুদীর্ঘ পরিকল্পনার একটি অংশ, তা এই লেখায় সবিস্তারে তুলে ধরা হয়। তা ছাড়া খুব দ্রুতই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তজুড়ে আরও অনেক ধ্বংসাত্মক আন্দোলন দানা বাঁধতে যাচ্ছে- এমন কড়া হুঁশিয়ারিও সেই লেখনীতে উপস্থাপন করা হয়। ইতঃপূর্বে বহু পত্রিকা প্রতিষ্ঠান ঠিক এ জাতীয় সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছে। এমনও হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের কিছুদিন যেতে না যেতেই তারা সেই কলামটি সরিয়ে নিয়েছে এবং ভুল তথ্য প্রকাশের বিবৃতি দিয়ে মাফও চেয়েছে।
১৯ তারিখে প্রকাশিত আর্টিক্যালটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাণী তুলে ধরা হলো-
'গত দুই বছরে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার অনেক মূল্যবান তথ্য আমাদের হাতে এসেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে- বলশেভিকের মতো আরও অনেক বিপ্লব খুব দ্রুতই পৃথিবীর বুকে আঘাত হানতে যাচ্ছে। যারা নিরন্তর এর পেছনে কাজ করে যাচ্ছে, তাদের পরিচয় দেরিতে হলেও আমাদের নিকট পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। ব্রিটেন ও ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংগঠনগুলো ইতোমধ্যেই তাদের এই ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরেছে।'
কমিউনিজম তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের অন্যতম বড়ো হাতিয়ার। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রাচ্যের দেশগুলোতে তারা যে আন্দোলনের জন্ম দিয়েছে, তার উদ্দেশ্য সমাজে সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা নয়। ধীরে ধীরে তাদের এই আক্রমণ প্রতিচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও ধেয়ে আসবে। তাদের সমকক্ষ এমন একটি রাষ্ট্রকেও তারা বাঁচতে দেবে না। প্রয়োজনে ইংল্যান্ডের ওপর ইসলামি বিপ্লব, ভারতের ওপর জাপানি বিপ্লব এবং আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিতেও তারা পিছপা হবে না। তাদের উসকে দেওয়া সকল আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- পৃথিবীর বিদ্যমান সমস্ত শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলা এবং তার স্থানে নিজেদের শাসনব্যবস্থা কায়েম; শান্তি প্রতিষ্ঠা করা নয়।'
২১ জুন, ১৯২০ World Mischief শিরোনামে Chicago Tribune আরও একটি আর্টিক্যাল প্রকাশ করে, যেখানে তাদের কুকর্মের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রথম দিকে তারা এই তথ্যগুলোকে মিথ্যা, গুজব ও বানোয়াট গল্প বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করে। কিন্তু মানুষ যখন প্রমাণ উপস্থাপন করতে শুরু করে, তখন তারাই আবার কণ্ঠ পরিবর্তন করে বলে-
'ছোট্ট যে জাতিটি বহুকাল পৃথিবীর অসংখ্য নির্যাতন সহ্য করেছে, তারা যদি শত্রুদের ক্ষমতাচ্যুত করে বিশ্ব শাসন করার স্বপ্ন দেখে, তাতে এমন আশ্চর্য হওয়ার কী আছে?'
Jewish Encyclopedia হতে জানা যায়, খ্রিষ্টযুগ শুরুর আগ পর্যন্ত তাঁদের কোনো রাজা ছিল না। খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে ব্যাবিলন সেনাপতি নেবুচাদ নেজার জেরুজালেম আক্রমণ করে সেখানকার অসংখ্য অধিবাসীকে হত্যা করে এবং ৬০-৭০ হাজার ইজরাইলিকে বন্দি করে নিয়ে যায়; অবশ্য পরে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
৭০ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি টাইটাসের নেতৃত্বে রোমানরা আবারও এই পবিত্র ভূমি আক্রমণ করে এবং সবাইকে নির্বাসিত করে। ঠিক তখন থেকে বেলফোর ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা আর কখনো সামষ্টিকভাবে জেরুজালেমে ফিরে যেতে পারেনি। তারা ছিল যাযাবর জাতি। এই কথাগুলো পুনরায় বলার বিশেষ কিছু তাৎপর্য আছে।
ব্যাবিলনদের আক্রমণে প্রথমবারের মতো নির্বাসিত হওয়ার পর তারা এক অদৃশ্য শাসনব্যবস্থার জন্ম দেয়, যাতে নির্বাসিত অবস্থাতেও একতাবদ্ধ থাকা যায়। তবে এই ব্যবস্থাটি তখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। কারণ, কিছুদিন পর তারা আবারও জেরুজালেমে ফিরে আসে। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন রোমানদের দ্বারা নির্বাসিত হয়, তখন ইহুদিরা শাসনব্যবস্থায় রাজার সংযোজন করে। ইহুদিরা পৃথিবীর যতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ুক না কেন, রাজার নির্দেশ মেনে চলা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। তিনি ছিলেন তাদের অভিভাবক। এ পর্যন্ত তারা যতজন রাজা নির্বাচিত করেছে, তাদের সবাইকে বলা হয় 'Exilarch'। এই অদৃশ্য রাষ্ট্রের নামও ছিল ইজরাইল।
ইহুদিরা যতদিন না নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারছে, ততদিন এই শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে তারা ছিল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের পৃথক আদালত ও আইনব্যবস্থাও ছিল। পৃথিবীর যে রাষ্ট্রেই বসবাস করুক না কেন- হোক তা খ্রিষ্টান বা মুসলিমদের দেশ, তারা মনে-প্রাণে এই রাষ্ট্রের সব নিয়মকানুন মেনে চলত। কিন্তু এই রাষ্ট্রটি আজ কোথায়? এটি কি পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে? না, হারিয়ে যায়নি; বরং তা নতুন খোলস ধারণ করেছে।
প্রাচীন সেই রাষ্ট্রটির একটি পার্লামেন্টও ছিল, যার নাম 'সেনহাড্রিন'। এ সম্পর্কে পূর্বের একটি অধ্যায়ে সামান্য আলোচনা করা হয়েছে।
৭১ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই পার্লামেন্ট ব্যবস্থার প্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি। তবে কোথেকে এবং কী উপায়ে এই সদস্যগণ নির্বাচিত হতো, তা কখনো প্রকাশ করা হতো না। তবে তা গণতান্ত্রিক উপায়ে হতো না। একজন রাজা যোগ্যতার ভিত্তিতে সংসদ সদস্যদের নির্বাচন করতেন। এখানে রাজা বলতে তাদের প্রধান ধর্মীয় গুরুকে বোঝানো হয়েছে, যার পরিচয় খুব গোপন রাখা হতো।
জনসাধারণের জান-মাল ও সম্পদের নিরাপত্তা দেওয়া এই সংসদীয় ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং সাম্রাজ্যবাদ আরও শক্তিশালী করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। Jewish Encyclopedia হতে জানা যায়- এই সদস্যরা নির্বাচিত হতো সম্পদ, প্রতিপত্তি ও ধর্মীয় জ্ঞানের মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে। তাদের সাম্রাজ্যবাদ শুধু প্যালেস্টাইনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এর বিস্তৃত ঘটেছিল পুরো বিশ্বজুড়ে। কারণ, যদি ইজরাইল প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তবে প্রতিটি দেশকে ধ্বংস করেই তা করতে হবে।
১৮০৬ সালে নেপোলিয়ন ফ্রান্সে অবস্থানরত ইহুদিদের বিভিন্ন কাজের দরুন ক্ষীপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি একটি সংসদীয় সভার আহ্বান এবং সেখানে এই জাতিগোষ্ঠীর কিছু সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। সেইসঙ্গে এই ঘোষণা দেন- যতদিন না তারা এসব প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারবে, ততদিন তাদের একঘরে করে রাখা হবে।
৯ ফ্রেব্রুয়ারি, ১৮০৭ জ্ঞাতি ভাইদের সমর্থনে সেনহাড্রিনের সদস্যরা প্যারিসে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। তারা ঠিক প্রাচীন কায়দায় নিজেদের কার্যক্রম শুরু করে। সেখান থেকে ঘোষণা করে- ইজরাইলের মঙ্গল ও উন্নয়নের স্বার্থে যেকোনো কিছু করার অধিকার তাদের আছে। তাই নেপোলিয়ন কী জানতে চাইল আর না চাইল, তা নিয়ে তাদের কিছুই আসে যায় না।
ইহুদিরা নিজেদের ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখতে সংসদীয় কাঠামোকে আজ অবধি একই রকম রেখেছে। তবে এটা ঠিক, সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবস্থায়ও সামান্য পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে সেনহাড্রিনের আসন সংখ্যা ছিল মাত্র ১০টি। সময়ের সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবছর একটি পূর্বনির্ধারিত সময়ে এই সম্মেলনের আহ্বান করা হতো। যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশ থেকে তাদের সদস্যগণ এই সম্মেলনে বাধ্যতামূলক অংশ গ্রহণ করত। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, উৎসাহ প্রদানকারী বক্তা, ধনী ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় গুরু সবাই এই সম্মেলনে আমন্ত্রিত হতো, তবে সদস্যদের অধিকাংশই হতো 'রাবাই'।
রাবাই হওয়ার পাশাপাশি অনেকে ব্যাবসা, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করত। আর এই সদস্যরাই মূলত সেনহাড্রিনের নিয়মিত সভায় আমন্ত্রণ পেত। ব্যাপারটি এমন নয়, শুধু গুপ্ত সদস্যরাই এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ পেত। আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু মাপকাঠি অনুসরণ করা হতো। যারা এই মাপকাঠিতে অধিক নম্বর পেত, পরের বছর তাদের এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হতো। এই মাপকাঠিতে কী কী বিষয় থাকত তা নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও কিছুটা অনুমান করা যায়।
হতে পারে অন্যান্য দেশের প্রশাসনিক গভীরতায় কে কতটুকু প্রবেশ করতে পরেছে, জ্যান্টাইলদের ফাঁদে ফেলতে অর্থনীতির নতুন সূত্রটি কে আবিষ্কার করেছে, সমাজ বিভাজনকারী নতুন মতবাদটি কে আবিষ্কার করেছে, ইজরাইলের খুঁটি মজবুত করতে নতুন পরিকল্পনাটি কে তৈরি করেছে ইত্যাদি।
তবে তারা যে সুশৃঙ্খল ও সুগঠিত একটি জাতি, এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। এমন একটি শৃঙ্খল জাতি কিন্তু এক দিনে প্রতিষ্ঠা পায়নি। তাদের আছে চৌকশ অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিমান গুপ্তচর। তারা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে গোপন আলোচনাসভার আয়োজন করে এবং কাজ শেষে গোপনেই সরে পড়ে।
প্রশ্ন হতে পারে, তাদের পররাষ্ট্রনীতি কেমন? উত্তর অনেকটা এ রকম- তারা জ্যান্টাইলদের সর্ববস্থায় শত্রু গণ্য করে। তাদের বিশ্বাস, পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে জ্যান্টাইল সম্প্রদায়ের মোকাবিলা করেই টিকতে হবে। ফলে তাদের পররাষ্ট্রনীতি যে মোটেও বন্ধু সুলভ নয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তারা বর্তমানে দাঁড়িয়ে দূর-ভবিষ্যতের পরিকল্পনা এবং সম্মিলিতভাবে এই পররাষ্ট্রনীতির অনুসরণ করে।
সাধারণ সদস্যদের অনেকেই জানে না, কে তাদের রাজা। সত্যি বলতে, সেনহাড্রিনের সদস্যগণ ব্যতীত অন্য কারও কাছে রাজার পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। খুব সূক্ষ্ম গবেষণার মাধ্যমে সেনহাড্রিনের কিছু সদস্যের পরিচয় অনুমান করা সম্ভব হলেও প্রকৃত রাজার পরিচয় অনুমান করা একেবারেই অসম্ভব।
তাদের এই অদৃশ্য রাষ্ট্রব্যবস্থার নিয়মকানুন এবং বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়ে Protocols of the Learned Elders of Zion নামে প্রকাশিত বইটির ২৪ তম প্রটোকলে উল্লেখ আছে-
'এখন বলব কীভাবে পৃথিবীর সব শক্তিশালী রাজ্যের পর্দা ভেদ করে আমরা রাজা ডেভিডের (নবি দাউদ) সিংহাসন পুনরুদ্ধার করব। পৃথিবীর বুকে এই রাজবংশের ধারা আজও বিদ্যমান। বিজ্ঞ, বিচক্ষণ ও শিক্ষিত প্রতিটি ব্যক্তিই এই রাজবংশের উত্তরাধিকারী, যাদের ওপর পুরো বিশ্বের শাসনভার অর্পণ করা হয়েছে।'
বিষয়টি একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে- আমরা তাদের বিরুদ্ধে যত ধরনের প্রতিরোধই গড়ে তুলি না কেন, তারা নিজেদের সিংহাসন পুনরূদ্ধার করবেই। বিশ্বব্যাপী তাদের সাম্রাজ্যবাদ অবশ্যই প্রতিষ্ঠা পাবে- এমন প্রতিজ্ঞা হতে তারা কখনো সরে আসবে না। শুধু যে রাজনীতির মাঠে তারা এই প্রভাব বিস্তার করেছে তা নয়; বরং শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা-দিক্ষা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সমরাস্ত্র কূটনীতির মতো প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গনেও নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করেছে।
ইহুদিদের সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার প্রটোকলসমূহ
যার হাত ধরে Protocols of the Learned Elders of Zion পূর্ণ বই আকারে বাজারে প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিচয় কখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। প্রথমে এটিকে রাশিয়ান ভাষায় ছাপানো এবং পরে অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করা হয়। ফরাসি বিপ্লব চলাকালে Duc d'Orleans-এর যে ধ্বংসাত্মক রূপ পুরো পৃথিবী দেখতে পায়, বইটিতে ইহুদি সাম্রাজ্যবাদীদের এমনই একটি রূপ উন্মোচিত হয়েছে।
বইটিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে- কে তাদের প্রকৃত শত্রু এবং তারা কাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা তৈরি করছে। এমন নয় যে, নির্দিষ্ট কোনো রাজা বা অভিজাত সম্প্রদায় তাদের এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু; বরং পৃথিবীর পুরো জ্যান্টাইল সম্প্রদায়-ই ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু। জ্যান্টাইল শব্দটি এ বইটিতে অসংখ্যবার এসেছে। এবার এর কিছু প্রটোকল নিয়ে আলোচনা করা যাক।
প্রথম প্রটোকলে উল্লেখ আছে- 'কোনো সন্দেহ নেই, সততা ও সরলতা মানব চরিত্রের মহৎ দুটি গুণ, কিন্তু রাজনীতির মাঠে এর কোনো স্থান নেই। একজন শক্তিশালী শত্রুকে মোকাবিলা করার চেয়ে এই দুটি মানবীয় গুণ রক্ষা করা অধিক কঠিন ব্যাপার। কারণ, আমাদের শাসনব্যবস্থায় সততা ও সরলতার কোনো স্থান নেই। এগুলো শুধু জ্যান্টাইলদের শাসনব্যবস্থায় পাওয়া যাবে।
বংশ পরম্পরায় আমরা জ্যান্টাইলদের শাসনব্যবস্থায় বারবার আঘাত হেনেছি এবং নিজেদের অনুশাসন চাপিয়ে দিয়েছি। আমাদের শাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো অর্থ-সম্পদ, যার মালিক কেবল আমরাই। আর বিজ্ঞান? সেও তো আমাদেরই আবিষ্কার।
আমরা শ্রমিকদের বিভিন্ন মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে জড়িয়ে দেবো। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যমূল্যও বাড়িয়ে দেবো। আমরা বলব- কৃষি উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই বর্ধিত মজুরি তাদের কোনো উপকারেই আসবে না। আমরা সুকৌশলে কৃষকদের মাঝে অরাজকতা ছড়িয়ে দেবো এবং আত্মতৃপ্তির উপায় হিসেবে মদ্যপানে আসক্ত করে তুলব, যা ধীরে ধীরে তাদের জ্ঞানশূন্য জাতিতে পরিণত করবে।
জ্যান্টাইলরা কখনোই আমাদের ষড়যন্ত্রের জাল ছিড়তে পারবে না। আমাদের একাংশ ছদ্মবেশে শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে থাকবে এবং বিভিন্ন অধিকার আদায়ের আন্দোলন উসকে দেবে, যেন বাজার অস্থিতিশীল রাখা যায়। পরে এই অস্থিতিশীল বাজারে নতুন এক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা পাবে, যার মূল প্রণেতা হব আমরাই।'
প্রটোকলগুলো ভালোভাবে লক্ষ করলে দেখবেন, তারা পুরো মানবজাতিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছে; আমরা ও জ্যান্টাইল। বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে, যদি আঠারোতম প্রটোকলে উল্লিখিত অনুচ্ছেদগুলো লক্ষ করেন। যেমন-
'জ্যান্টাইলদের সাথে আমাদের মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে- আমরা হলাম সৃষ্টিকর্তার মনোনীত সম্প্রদায় এবং মানবশ্রেণির মধ্যে উচ্চ। আর জ্যান্টাইলরা হচ্ছে দুই পায়ে চলমান মানব পশু! তাদের না আছে দূরদৃষ্টি, আর না আছে নতুন কিছু আবিষ্কার করার ক্ষমতা। অন্তর্যামী নিজ হাতে এই বিশ্বের শাসনভার আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
'যতদিন না ইহুদি ভাইদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান ও দায়িত্বশীল সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে, ততদিন যেন নিজেদের চারিত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখে। আমাদের জাতীয় অস্তিত্বের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
প্রটোকলগুলো বাস্তবায়নে তারা কতটা সফল, তা চারদিকে তাকালেই উপলব্ধি করা সম্ভব। খুব ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে- সেখানে একজন শিক্ষক ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিচ্ছেন। তিনি ছাত্রদের পড়াচ্ছেন, কীভাবে জ্যান্টাইলদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হয়। তা ছাড়া ইহুদিদের পরিকল্পনা কত দূর বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এখনও কতটুকু বাকি, তাও এই অনুচ্ছেদগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রদের কাছ থেকে কোনো প্রকার তথ্য বা মতামত চাওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ তাদের যাবতীয় পরিকল্পনার সবকিছু শুধু একজন গুরুর মাথা থেকে আসছে। আর বাকি সবাই এই অনুশাসন মেনে চলতে বাধ্য।
প্রটোকলটির পাণ্ডুলিপি বাজারে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহুদিরা বলতে শুরু করে-
'সত্যি যদি এমন একটি সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করা নিয়ে আমাদের কোনো গোপন পরিকল্পনা থাকত, তবে কখনোই তা জ্যান্টাইলদের সামনে উন্মোচিত হতো না।'
আসলে এটি যে তাদের বা সেনহাড্রিনের কোনো সদস্য প্রকাশ করেছে, তা নয়। আগের একটি অধ্যায়ে বলা হয়েছে- জায়োনিস্টরা খুব গোপনে পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে মাঝেমধ্যেই আলোচনা সভার আয়োজন করে। হয়তো বিশেষ কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বহু দিন এই দলটিকে অনুসরণ করত এবং নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করে প্রটোকলগুলো জানতে পেরেছিল, যা তিনি পরবর্তীকালে লেকচার নোট আকারে প্রকাশ করেন।
আপনি যদি মন দিয়ে পুরো পাণ্ডুলিপিটা অধ্যয়ন করেন- তবে বুঝতে পারবেন, এই প্রটোকলগুলো আজকে বা একশত বছর আগে তৈরি করা হয়নি। এগুলো তাদের সুদীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম ও সমাজ ব্যবস্থার প্রমাণস্বরূপ। তবে সময়ের প্রেক্ষাপটে এবং কৌশলগত অবস্থার কারণে প্রটোকলগুলোতে সামান্য পরিবর্তন এসেছে। প্রথম প্রটোকলের কোনো একটি অনুচ্ছেদে পাবেন-
'স্বাধীনতা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ইত্যাদি মতবাদকে আমরা অতি প্রাচীনকাল থেকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু পৃথিবীর বোকা-গর্দভ বুদ্ধিজীবীরা এই মতবাদগুলো নিজেদের অধিকার আদায়ের মাধ্যম বলে মনে করছে এবং এর জন্য জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করছে। তারা নিজেরাই আমাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে এবং নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ধ্বংস করেছে। সম্ভবত অতি-বুদ্ধিমান ও সুকৌশলী ব্যক্তিরাও এসব মতবাদের মর্মার্থ অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি। তারা কখনো বুঝতে পারেনি- একতা, সাম্য বা স্বাধীনতা বলতে আদৌ কিছুই নেই।'
এই প্রটোকলগুলো পরিবর্তন আনার অধিকার কারা রাখে, সে সম্পর্কে তেরোতম প্রটোকলে আলোচনা করা হয়েছে-
'এই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ক্ষমতা কেবল তাদের-ই রয়েছে, যারা বহু শতাব্দী ধরে এই প্রটোকলগুলোকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে।'
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, এখানে বক্তার ব্যক্তিগত কোনো সম্মান বা উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়নি। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য- ইজরাইলের ভবিষ্যৎ সুদৃঢ় ও মজবুত করা। তারা ইতোমধ্যেই বিভ্রান্তিকর নানা মতবাদ দিয়ে জ্যান্টাইল সমাজব্যবস্থায় ফাঁটল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
এত কিছুর পরও যুগে যুগে জ্যান্টাইলদের মাঝে এমন কিছু ব্যক্তির আগমন ঘটেছে, যারা দীপ্ত কণ্ঠে বলেছে- আজ যা কিছুকে বিজ্ঞান বলে মনে করা হচ্ছে, তার অনেক কিছুই প্রকৃত বিজ্ঞান নয়। যেগুলো আমরা অর্থনৈতিক ও সমাজ ব্যবস্থার বিধান বলে মনে করছি, তা আসলে কোনো বিধান নয়। এগুলো মানব সৃষ্ট কিছু ভ্রান্ত নিয়মকানুন, যা আমাদের মধ্যে ফাঁটল তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে পরিচিত শত্রুদের বিরুদ্ধেও আমরা এক হতে পারছি না। আমরা যেন ইহুদিদের প্রটোকলগুলো নিয়ে কোনো প্রশ্ন করতে না পারি এবং তা নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন বোধ পর্যন্ত না করি, সে জন্য তারা আমাদের ওপর এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে। যার দরুন তাদের প্রণীত অনুশাসনগুলো ভেড়ার মতো আত্মস্থ করে বড়ো হচ্ছি।
জ্যান্টাইলদের প্রতি ইহুদিদের দৃষ্টিভঙ্গি
নিজেদের যতই বুদ্ধিমান বা উঁচু শ্রেণির মানুষ মনে করি না কেন, ইহুদিদের কাছে আমরা বোকা, গর্দভ ও সাদামাটা মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রাণী ব্যতীত কিছুই নই। আমাদের সম্পর্কে তাদের ধারণাগুলো যে তাচ্ছিল্যকর হলেও সত্য, তা প্রটোকলের বইটি ভালোভাবে অধ্যয়ন করলেই বোঝা সম্ভব। এবার বাছাই করা কিছু প্রটোকল নিয়ে জ্যান্টাইলদের প্রতি ইহুদিদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা যাক।
প্রথম প্রটোকল দিয়েই শুরু করি-
'মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে ভালো মানুষের চেয়ে খারাপ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের বাগে আনার একমাত্র কৌশল ভয়-ভীতি প্রদর্শন। প্রাতিষ্ঠানিক ও কেতাবি শিক্ষা দিয়ে তাদের কখনো বশ করা যাবে না। ক্ষমতার লোভ সবারই থাকে এবং প্রত্যেকেই নিজেকে শাসকরূপে দেখতে চায়। আর অন্যের ভালোর জন্য নিজের ভালো উৎসর্গ করবে- এমনটা খুব কমই দেখা যায়।
জ্যান্টাইলদের হুজুগে প্রকৃতির বললেও ভুল হবে না। তারা সামান্য আবেগ, বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত অহংকারের দরুনও নিজেদের মধ্যে বিভাজন করতে রাজি। হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গণ-আন্দোলনের ডাক দেয়। আবার দুই-একটি মিথ্যা প্রচারণায় কান দিয়ে মহানায়ককে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। বুদ্ধিমান প্রাণী হলে এমনটা কখনোই করত না। তাই তারা অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা থেকে কখনো বেরিয়ে আসতে পারে না।
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নতুন কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পূর্বে জনসাধারণের অনুমতি আবশ্যক। কিন্তু তারা এটা বোঝে না, বেশিরভাগ মানুষই নিরেট মূর্খ ও বুদ্ধিহীন। তারা একবার ডান পক্ষের পিছে ছোটে, আরেকবার বাম পক্ষের। তাদের কাছ থেকে কখনো গঠনমূলক পরামর্শ পাওয়া সম্ভব নয়।
আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথ ইতোমধ্যেই অনেকটা সহজ হয়ে উঠেছে। জ্যান্টাইল মনস্তত্ত্বের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ শাখায় আমরা ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছি। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর লোভ-লালসা দেখিয়ে আমরা তাদের বশীভূত করতে সক্ষম হয়েছি। চরিত্রিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্যে বিভেদ ও পার্থক্যের দেয়াল গড়ে তুলেছি।'
এবার পঞ্চম প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদের দিকে লক্ষ করুন-
'জ্যান্টালরা কাজের চেয়ে প্রতিশ্রুতিকে অধিক গুরুত্ব দেয়, কিন্তু আদৌ তা পূরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই তাদের বশ করতে পারব; ক্ষমতায় যাওয়ার পর তা নিয়ে মাথাব্যথা না করলেও চলবে।'
এগারোতম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'আসলে জ্যান্টাইলরা হলো ভেড়ার পাল। আমরা যে বিষয়েই প্রতিশ্রুতি দিই না কেন, তা তারা অন্ধের মতো গ্রহণ করবে। আমরা স্বাধীনতা উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেবো, কিন্তু তার আগে আমরাই তাদের মাঝে অশান্তি, অরাজকতা ও যুদ্ধ ছড়িয়ে দেবো। এই স্বাধীনতার জন্য তাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, তা কি বলতে হবে? আমরা চাইলে এই যুদ্ধ ও শান্তি আলোচনার মেয়াদ ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে নিতে পারব। প্রথমে তাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেবো এবং পরে সেই ভয় থেকে উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি দেবো।'
এবার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় জ্যান্টাইলদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে যা বলা হয়েছে-
'সাধারণত দুঃসাহসী, রোমাঞ্চপ্রিয় এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিরা সামাজের প্রশংসা কুড়াতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় (Spy Agency) যোগদান করে। আমরা খুব সহজেই তাদের খুঁজে বের করব এবং পরিকল্পনা মাফিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করব।
কৌতূহলী জ্যান্টাইলরা পুরো বিশ্বকে সামনে রেখে এ পর্যন্ত অসংখ্য গোয়েন্দা সংস্থার জন্ম দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, এই গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমেই সমাজের সকল অপরাধ কর্মের রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা তাদের সফলতা এনে দেবো, যা তাদের মাঝে বড়াই ও আহমিকতার জন্ম দেবে। এতে তারা কোনো রকম বাছ-বিচার ছাড়াই আমাদের পরবর্তী পরামর্শগুলো নির্দিধায় গ্রহণ করবে। তোমরা ভাবতেও পারবে না, এই বড়াই ও অহমিকা তাদের কতটা নির্বোধ করে তুলবে! এমতাবস্থায় সামান্য একটি ব্যর্থতাই তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। প্রকৃতপক্ষে জ্যান্টাইলরা ব্যক্তিমোহ, জনপ্রিয়তা ও আত্মপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে। কিন্তু ব্যক্তিমোহ আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং জাতীয় উদ্দেশ্যই আমাদের জীবনের প্রধান উদ্দেশ্য।'
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী জ্যান্টাইলরা মানসিক প্রণোদনা এবং নতুন মতবাদগুলো খাবারের মতো গ্রহণ করে। কিন্তু নতুন মতবাদগুলোর ভবিষ্যৎ ফলাফল কী হতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা করতে রাজি নয়। চোখের দেখায় যা ভালো লাগে, তা-ই তারা গ্রহণ করে।
জায়োনিস্টরা আজ পর্যন্ত অসংখ্য মতবাদ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। যখনই একটি মতবাদ ব্যর্থ হয়েছে, তখনই আরেকটি বাজারে এনেছে। প্রতি ধাপে জ্যান্টাইলরা হয়েছে দুর্বল ও নেতৃত্বশূন্য। দেশের জনগণ যদি এক হয়, তবে সরকার আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য। তবে দেশের জনগণ যে বিষয়টির ভিত্তিতে এক হচ্ছে, সে সম্পর্কেই তো সাধারণ মানুষের পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তারা তা-ই করেছে, যা নেতারা করতে বলছে। বলশেভিক বিপ্লবে প্রলেতারিয়েটদের সূত্রপাত ঠিক এভাবেই হয়। অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলতাকে পুঁজি করে সমাজে সব সময় তৃতীয় একটি গোষ্ঠী লুটপাটের চেষ্টা করে। এটা জানার পরও দেশের রাজনৈতিক দলগুলো অহংকারের দাপটে এক হতে চায় না। ফলে লুণ্ঠনকারী তৃতীয় দলটি ইচ্ছেমতো নিজের স্বার্থ লুফে নেয়। আর এই তৃতীয় পক্ষটি হলো ইহুদি জাতিগোষ্ঠী।
মূলত প্রকৃত উন্নয়ন বলতে কী বোঝায় তা আমরা অনেকেই জানি না। আমাদের পূর্বপুরুষরা চাকা আবিষ্কারের মাধ্যমে মানব সভ্যতায় নতুন যুগের সূচনা করে। সে চাকা দিয়ে তৈরি হয় টারবাইন। প্রবাহমান বাতাস ও পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবিত হয় টারবাইন ঘোরানোর কৌশল, যা দিয়ে আবিষ্কৃত হয় বিদ্যুৎশক্তি। আজ পেট্রোল-ডিজেল দিয়ে ছোটোখাটো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। এখন প্রশ্ন হলো- আসলেই কি চাঁকারূপি টারবাইন সেকেলে প্রযুক্তি? বায়ু ও পানিশক্তি ব্যবহার করে আমাদের পূর্বপুরুষরা যে নতুন শক্তির জন্ম দিয়েছে, তা কি সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে না? এই প্রযুক্তিগুলো কি বর্তমান সমাজের চাহিদা মেটাতে অক্ষম?
আসলে যে বিষয়গুলোকে আমরা 'অগ্রগতির উপায়' বলে স্বীকৃতি দিয়েছি, তা প্রকৃত অর্থে আমাদের দেশ, সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করেছে। অস্থিরতা-বিশৃঙ্খলা সমাজে এমনই বিবর্তনের জন্ম দেয়, যা বিপন্ন জনগোষ্ঠীকে পেট রক্ষার তাগিদে চোখে যা ভালো দেখায়- তাই আদর্শ বলে গ্রহণ করতে বাধ্য করে, কিন্তু এই আদর্শের পেছনে থাকে শয়তান। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, কমিউনিজম, রক্ষণশীলতা, পুঁজিবাদ, মৌলবাদ ইত্যাদি সবই এর উদাহরণ, যা তাদের হাত ধরে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। নিজেদের মতবাদগুলো যেভাবে তারা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে, তার কিছু নমুনা নিচে উপস্থাপন করা হলো-
প্রথম প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদ থেকে-
'রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিছকই একটি ধ্বংসাত্মক ধারণা। অনেক রাষ্ট্র আছে যেখানে ক্ষমতায় থাকা দল ব্যতীত অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির অস্তিত্ব নেই। মানুষও চায় না সেখানে কোনো দল গড়ে উঠুক। এমতাবস্থায় ক্ষমতাসীন দলটির পতন ঘটাতে চাইলে সে সমাজের মগজে রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিষয়টি ঢুকিয়ে দিতে হবে। বোঝাতে হবে, সবার রাজনীতি করার অধিকার আছে। জনগণ চাইলে তাদের মধ্য হতে যে কাউকে প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষমতায় বাসাতে পারে। ধীরে ধীরে সে সমাজে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টি সহজতর হতে শুরু করবে, যাকে কাজে লাগিয়ে আমরা একাধিক দলের জন্ম দেবো। প্রত্যেক দলের জন্য অসংখ্য সমর্থক গড়ে তুলব। এটাই জ্যান্টাইলদের ঐক্যে ফাঁটল তৈরি করবে, যার শেষ পরিণতি হবে ক্ষমতাশীল দলের পতন এবং নতুন শক্তির ক্ষমতায়ন।'
পঞ্চম প্রটোকলে লক্ষ করুন- 'জনমত নিয়ন্ত্রণে শুরুতেই আমরা বিভিন্ন মতবাদ জ্যান্টাইলদের মগজে ঢুকিয়ে দেবো, যা তাদের মধ্যে হাজারো গোলকধাঁধার জন্ম দেবে। একসময় বিরক্ত হয়ে বলবে- রাজনৈতিক বিতর্কে নিজেদের না জড়ানোই ভালো। এ কৌশলটি রাজনীতির মাঠ থেকে অন্য দলের সমর্থকদের সরিয়ে দিতে সাহায্য করবে।'
দ্বিতীয়ত, আমরা মানুষের অভ্যাসগত চাহিদাগুলো সহজে মিটিয়ে দেবো। অভাব মানুষের হৃদয়ে মানবিকতার জন্ম দেয়, পক্ষান্তরে ভোগ-বিলাস মানুষকে মনুষত্বহীন করে তোলে। যখন মানুষ তাদের ব্যক্তিগত চাহিদাগুলো সহজে মেটাতে পারবে, তখন তারা আর অন্যের চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসবে না। তাদের নিকট ব্যক্তিগত আনন্দ প্রাধান্য পেতে শুরু করবে। ফলে রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়ের মুহূর্তগুলোতে তারা কখনো এক হতে পারবে না। কারণ, ততদিনে তাদের চিন্তাশক্তি একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে।'
তেরোতম প্রটোকলে উল্লেখ আছে- 'তোমরা লক্ষ রাখবে, আমরা শুধু প্রতিশ্রুতির গ্রহণযোগ্যতা চাই। আদৌ তা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা বলি, মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আর এটা এ কারণেই বলি, সাধারণ মানুষ যেন আমাদের কথাগুলোকে সত্য বলে মেনে নেয় এবং সমাজে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়।'
অশান্ত জনগণের মাথা থেকে রাজনৈতিক চিন্তা সরিয়ে দিতে আমরা অসংখ্য নতুন সমস্যার জন্ম দেবো। এটা তাদের দৈনন্দিন জীবিকা অর্জনের পথে অনেক বাধা সৃষ্টি করবে। যেমন: মজুরি সমস্যা, চাকরির নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি। এমতাবস্থায় কেউ রাজনৈতিক বিতর্কে মাথা ঘামাতে চাইবে না।
'আমরা তাদের বিনোদন, খেলাধুলা ও আয়েশি জীবনে ডুবিয়ে রাখব। তারা শুধু নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে এবং অন্য বিষয়ে চিন্তা করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এভাবে একটা সময় তাদের স্বাধীন চিন্তাশক্তি লোপ পাবে।'
উদারপন্থি, গণতান্ত্রিক ও মুক্তমনা নীতিগুলো ব্যবহার করে জ্যান্টাইলদের বিভিন্ন ঘোরপ্যাঁচের মধ্যে দোল খাওয়াতে শুরু করব। তারা উদারপন্থি নীতিকে প্রগতির অংশ বলে মনে করবে, কিন্তু নির্বোধ এই জাতি প্রগতির সংজ্ঞাই তো জানে না!'
শুধু রাজনীতিবিদরাই নয়; লেখক, কবি, শিক্ষক, সমাজবাদী ও রাবাইয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইহুদিরা পুরো মানবজাতিকে অসংখ্যবার নানা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে, যার সূচনা হয়েছে হাজার বছর আগেই। শুধু আজকে নয়, অতীতেও তারা এমনটা করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
নবম প্রটোকলের দিকে লক্ষ করুন-
'রাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, কমিউনিজম (সাম্যবাদ) ইত্যাদি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা প্রতিটি জাতিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করব। সেইসঙ্গে তাদের আমাদের সেবায় নিয়োজিত করব। এর মাধ্যমে পৃথিবীর বিদ্যমান প্রতিটি শাসনব্যবস্থাকে আমরা একসময় উপরে ফেলতে সক্ষম হব। যতদিন পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো জাতিকে শান্তিতে থাকতে দেবো না, যতদিন না তারা আমাদের অনুশাসন মেনে নিচ্ছে।'
এরপর, দশম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'যখনই আমরা উদারপন্থি ও গণতান্ত্রিক নীতিগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে ঢুকিয়ে দিলাম, তখনই তা রাজনৈতিক দলগুলোর রূপরেখা রাতারাতি পালটে দিলো।'
জ্যান্টাইলদের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, সে সম্পর্কে নবম প্রটোকলে উল্লেখ আছে-
'জ্যান্টাইল যুব সমাজের বুদ্ধিবৃত্তি, নৈতিকতাবোধ ও স্বাধীন চিন্তাশক্তি ধ্বংস করতে এক মিথ্যা ও বানোয়াট শিক্ষাব্যবস্থা ইতোমধ্যে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে; আমরা যদিও নিজেরা এই শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করব না।'
শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যবহার করে কীভাবে পারিবারিক বন্ধনে ফাঁটল ধরানো সম্ভব, তা দশম প্রটোকলে উল্লেখ করা হয়েছে-
'আমাদের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ের মাপকাঠিতে পরিণত করব। কর্মজীবনে প্রবেশের পূর্বে এই শিক্ষা পদ্ধতি দ্বারা যোগ্যতা মূল্যায়নের পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়ব। একসময় এই শিক্ষাব্যবস্থা তাদের মাঝে অহমিকা ও অহংকারের জন্ম দেবে, যা পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করতে উসকে দেবে。
যতদিন না কাঙ্ক্ষিত সময়টি হাতের মুঠোয় আসছে, ততদিন পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন আমোদ-প্রমোদে ডুবিয়ে রাখব। যেসব মতবাদের কথা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তা তাদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার নিরন্তন চেষ্টা চালিয়ে যাব।
ডারউইনবাদ, মার্কসবাদ, নাৎসিবাদ ইত্যাদিকে প্রগতিশীলতার উপায় হিসেবে তাদের সামনে উপস্থাপন করেছি। এসব তত্ত্বের ওপর ভর করে আমরা তাদের নৈতিকতাবোধ ধ্বংস করেছি এবং সামনের দিনগুলোতেও এর কোনো ব্যতিক্রম ঘটবে না।'
উল্লেখ্য, প্রটোকলগুলোর কোথাও বলা হয়নি- তারা জ্যান্টাইলদের চিরতরে ধ্বংস করে ফেলতে চায়; বরং তারা চায়- জ্যান্টাইলরা যেন তাদের প্রভুত্ব মেনে নেয় এবং চিরকাল দাস হয়ে থাকে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আজ পুরো পৃথিবী এক অদৃশ্য স্বৈরশাসনের অধীনে চলছে।
'আমরা জানি জ্যান্টাইলদের একতার ভিত্তি খুবই দুর্বল। সামান্য কিছু সময়ের জন্য এক হলেও আমরা আবারও তাদের দুর্বল করে ফেলতে পারব। গত দুই হাজার বছরে এ কাজ আমরা অসংখ্যবার করেছি।'
ইহুদি রাষ্ট্রের প্রটোকল ব্যবস্থার আংশিক বাস্তবায়ন
নিছক কৌতূহল নিয়েও যদি 'Protocols of the Learned Elders of Zion' পাঠ করেন, তবে কারও কারও নিকট এ বই নিছক সাহিত্যকর্ম বলে মনে হবে। লেখক সাহেব যেভাবে তার ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার কথা প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে গেছেন, তা সত্যিই অবাক করার মতো। তিনি বলছেন-
'আমরা পরিকল্পনা মাফিক অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এখন আমাদের পক্ষে আর পেছনে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।'
নবম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'এখন আমাদের সামনে আর কোনো বাধা নেই। বিশ্ব কর্মসূচি (নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার) পরিকল্পনায় আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। আদালত, প্রশাসন, আইনশাস্ত্র সবকিছু আজ আমাদের দখলে। একসময় আমরা যাদের প্রজা ছিলাম, আজ তাদেরকেই প্রজারূপে কিনে নিয়েছি। নিঃসন্দেহে আমরা তাদের চেয়েও কঠোর শাসক।'
এবার অষ্টম প্রটোকলের দিকে লক্ষ করুন-
'এই পরিকল্পনায় আমরা বিশ্বজুড়ে বহু অর্থনীতিবিদের জন্ম দেবো। কারণ, অর্থশাস্ত্রের চেয়ে বড়ো কোনো হাতিয়ার পৃথিবীতে নেই। আমরা চারদিকে ব্যাংকার, শিল্পপতি ও ধনকুবেরের মতো অসংখ্য ব্যক্তিত্বের জন্ম দেবো, যারা নিজেদের আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বরূপে গড়ে তুলবে। অবুঝ জ্যান্টাইলরা তাদের নিজেদের জীবনাদর্শ বলে মনে করবে, কিন্তু তাদের প্রত্যেকেই হবে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ার।'
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় আমাদের যা পড়ানো হচ্ছে, তা তো তাদেরই চাপিয়ে দেওয়া সিলেবাস! বলশেভিক বিপ্লবকালীন সময়ে পৃথিবী এমন এক যুগ পার করেছে, যখন অর্থনীতির ওপর লেখা প্রতি দশটি বইয়ে মধ্যে ৭/৮টি বই-ই ইহুদিরা লিখেছে।
আসলে তাদের লেখা বইগুলো পাঠ করতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জ্যান্টাইল সমাজকে পঙ্গু করতে তারা যখন ইচ্ছাপূর্বক ভুলে ভরা শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, তখন তার বিরুদ্ধে কথা বলতেই হয়। তারাই প্রথম ধর্মভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বাইবেল পাঠ বন্ধ করে দিয়েছে।
নবম প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'খ্রিষ্টান পাদরিদের সঙ্গে আমরা সব সময় ভালো সম্পর্ক বজায় রেখেছি। একসময় আমরা তাদের অনেক তোষামোদ করেছি, যেন তাদের গভীরে প্রবেশ করে সব ধরনের নৈতিকতাবোধ ধ্বংস করে দিতে পারি। এখন আর তোষামোদের প্রয়োজন নেই। কারণ, তাদের মাঝে ধর্ম পালনের গুরুত্ব এমনিতেই কমে গেছে। ফলে পোপ ও পাদরিদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে লোপ পেতে শুরু করেছে।'
এরপর প্রথম প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা দিনে দিনে আমাদের আরও দুর্ভেদ্য করে তুলবে। পরিচয় গোপন করে অদৃশ্য ছায়ার ন্যায় আমরা প্রতিটি রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতার ইন্ধন জোগাব। ফলে জ্যান্টাইলরা হাজার চেষ্টা করেও আমাদের সাথে পেরে উঠবে না।'
দ্বিতীয় প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'প্রতিটি যুদ্ধে উভয়পক্ষই যেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আর্থিক দুর্যোগ যেন উভয়ের কপালেই নেমে আসে, তা আমরা নিশ্চিত করব। প্রেক্ষাপট এমনভাবে তৈরি করব, যেন যুদ্ধপরবর্তী সকল ক্ষমতা আমাদের হাতে চলে আসে।'
অন্যদের হেয় ও অপমান করতে তারা কতটা অভ্যস্ত, তা নিচের অনুচ্ছেদগুলোতে প্রকাশ পেয়েছে-
'জ্যান্টাইল সরকারদের ব্যর্থতার ওপর আমাদের প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত আর্টিক্যাল প্রকাশ করবে। এসব সংবাদ পাঠ করে সাধারণ জনগণ একসময় সরকারের ওপর বিরক্ত হয়ে উঠবে। আসলে একটি রাষ্ট্র চালাতে গিয়ে ছোটোখাটো ভুল সবাই করে। আমরা সরকারের ভুলগুলো এমনভাবে প্রচার করব, যেন তাদের ভালো কাজগুলো কারও নজরে না আসে।'
এবার পঞ্চম প্রটোকল হতে- 'ইতোমধ্যেই আমরা জ্যান্টাইলদের রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়নের ক্ষমতা অনেকাংশে খর্ব করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের রায় তা-ই হবে, যা আমরা বলব।'
চোদ্দোতম প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'মিথ্যে, বানোয়াট ও অশ্লীল গল্প-সাহিত্যের বীজ আমরা প্রতিটি দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি। সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছি, এগুলোই আধুনিকতার অংশ। অতীত ইতিহাস পালটে তার স্থলে নতুন গল্প ঢুকিয়েছি এবং সাধারণ মানুষকে তা বিশ্বাস করিয়েছি।'
বারোতম প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'প্রচার মাধ্যমের সহায়তায় পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে খবর সংগ্রহের বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যেই কেন্দ্রীভূত করেছি। একটি চেইন-শৃঙ্খলের মাধ্যমে প্রায় প্রতিটি দেশের গণমাধ্যমের ওপর অদৃশ্য আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছি।'
সপ্তম প্রটোকলেও ঠিক একই কথা বলা হয়েছে- 'প্রচার মাধ্যমের সহায়তায় আমরা জ্যান্টাইল সরকারদের হাত-পা বেঁধে ফেলব। তারা চাইলেও আমাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবে না। কারণ, আমরা চাইলে যেকোনো মুহূর্তে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জোয়ার বইয়ে দিতে পারব, যা তাদের ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলবে।'
এবার বারোতম প্রেটোকলের দিকে লক্ষ করুন- 'আমাদের সব কূট-পরিকল্পনা দেখেও যখন তারা চুপচাপ বসে আছে এবং ক্ষমতার জন্য উলটো আমাদের কাছেই পরামর্শ প্রার্থনা করছে, তখন তাদের নির্বোধ ও গাধা বলব না কেন?'
পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও বিজয় অর্জন প্রসঙ্গে নবম প্রটোকলে বেশ কিছু কৌশলের কথা বলা হয়েছে- 'প্রথমদিকে জ্যান্টাইলদের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করা বেশ কঠিন ছিল। তাদের মজবুত প্রাচীর আমাদের নিকট দুর্ভেদ্য ছিল। তবে গণতন্ত্রের বিষয়টি তাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়ার পর সবকিছু যেন মুহূর্তেই পালটে গেল। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শিক্ষা-সংস্কৃতির স্বাধীনতা, সম-ভোটাধিকার, সম-আইন সবই হলো গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার মূলনীতি। এ বিষয়গুলো সমাজে স্থান পেলে আমাদের জন্য সবকিছু সহজ হয়ে ওঠে।'
আমেরিকাতে ইহুদি সন্তানদের জন্য বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। তারা যেন একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত জ্যান্টাইলদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে থাকে, সে জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা। যে স্কুলগুলোতে ইহুদিদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করা হয়, সেগুলোর ঠিকানা এতটাই গোপন রাখা হয়, শহরের বড়ো বড়ো রুই-কাতলারা পর্যন্ত তা জানতে পারে না। এমনকী গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও তাদের জ্যান্টাইল ডাক্তারদের কাছে যেতে দেওয়া হয় না; তাদের রয়েছে পৃথক চিকিৎসাব্যবস্থা।
জ্যান্টাইল যুব সমাজের নৈতিকতাবোধ ধ্বংস করতে ইতোমধ্যেই ইহুদিরা অশ্লীলতার অসংখ্য বীজ ছড়িয়ে দিয়েছে। যেমন: জ্যাজ সংগীতের আবিষ্কারক কারা? কারা থিয়েটার ও চলচ্চিত্র শিল্পে নগ্নতার সংযোজন করেছে? কারা পর্নগ্রাফিকে বাণিজ্যিক শিল্পে রূপ দিয়েছে? কারা আমাদের যুবসমাজকে সামরিক বাহিনীতে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করছে? কারা তাদের রোমাঞ্চকর জীবনের লোভ দেখিয়ে যুদ্ধে পাঠিয়ে নিজেদের মুনাফার পকেট ভারী করছে? কারা আমাদের তরুণ-তরুণীদের পোশাক-আশাকে পরিবর্তন এনেছে এবং নগ্নতাকে সভ্য সংস্কৃতির অংশ বলে প্রতিষ্ঠিত করেছে?
এ প্রসঙ্গে ইহুদিদের প্রটোকলে বলা হয়েছে- 'জ্যান্টাইল যুব সমাজের বুদ্ধিবৃত্তি, নৈতিকতাবোধ ও স্বাধীন চিন্তাশক্তি ধ্বংস করতে আমরা ইতোমধ্যে তাদের ওপর এক অবাস্তব ও অযৌক্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে।'
যখন-তখন মুভি দেখা আজ মধ্যবিত্ত পরিবারের যেকোনো যুবকের নিকট আদর্শ বিনোদন হিসেবে বিবেচিত। একইভাবে ধনী পরিবারের যুবকদের নিকট অবাধ যৌনাচার আদর্শ বিনোদনের মাধ্যম হিসেবেও স্বীকৃত।
এই নোংরা সংস্কৃতি কীভাবে আমাদের সমাজে স্থান পেল, সে সম্পর্কে থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতশিল্প সম্পর্কিত অধ্যায়গুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। তবে এই অংশে খুব অল্প করে বলতে চাই- উদারপন্থি ও মুক্তচিন্তা নীতিকে কাজে লাগিয়ে ইহুদিরা বহু অশ্লীল সংস্কৃতি আমাদের সমাজে আমদানি করেছে। এর পেছনে বিনিয়োগ করেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ব্যয়বহুল চিত্তবিনোদন, নেশাজাত দ্রব্য গ্রহণ, জুয়ার আসর, জ্যাজ সংগীত, লোক দেখানো ফ্যাশন, গহনা-অলঙ্কার ইত্যাদি প্রতিটি বিষয়-ই আজ জ্যান্টাইলদের অভ্যস্ত করে তুলেছে। তাদের বাজিকরদের দৌরাত্ম্যের দরুন ধ্বংস হতে বসেছে বহু জনপ্রিয় ক্রিড়াশিল্প। প্রকৃতপক্ষে মানব জীবনের এমন কোনো শাখা-প্রশাখা নেই, যার ভেতর ইহুদিরা বিষ ঢুকিয়ে দেয়নি।
জ্যান্টাইলরা সাধারণত ষড়যন্ত্রসুলভ মানসিকতা নিয়ে জন্মায় না। সাধারণ মানুষ পরিকল্পনা করে কীভাবে একটি উদ্দেশ্য হাসিল করা যায়, কিন্তু ইহুদিরা পরিকল্পনা করে কীভাবে চার-পাঁচটি উদ্দেশ্য একত্রে হাসিল করা যায়! কেবল একটি রজ্জু ধরে আমরা কখনো তাদের ষড়যন্ত্রের গুহায় প্রবেশ করতে পারব না। এতে ফিরে আসার পথটুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলব। এ জন্য প্রয়োজন পারিপার্শিক বিষয়গুলোর ওপর সুচতুর পর্যবেক্ষণ এবং ইতিহাসের প্রখর জ্ঞানার্জন। তবে এর জন্য প্রথমে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে 'মানসিক অলসতা' নামক বিষয়টি দূর করে ফেলতে হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ইহুদিদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব
বহু পরিকল্পিত বিশ্ব কর্মসূচি (নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার) সফল করতে তারা যে বিষয়গুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তা হলো:
ক. প্রতিটি দেশকে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা।
খ. পুঁজিবাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শিল্পায়নের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
গ. জ্যান্টাইলদের ওপর এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া, যা তাদের চিন্তা-চেতনা ও বুদ্ধিমত্তাকে ধ্বংস করে ফেলবে।
ঘ. বিভিন্ন সৌখিন ও বিনোদনধর্মী বিষয়ের প্রতি সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে তোলা (যেমন: Jazz সংগীত, নেশা দ্রব্য), যা তাদের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
ঙ. বিভাজনের বীজ ছড়িয়ে দিয়ে সমাজে অসংখ্য রাজনৈতিক বিপ্লবের জন্ম দেওয়া।
কীভাবে রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধিগণ (রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী) নির্বাচিত হবে, কীভাবে রাজতন্ত্র ভেঙে গণতন্ত্রের উত্থান হবে, কীভাবে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সংবিধান রচিত হবে এবং কীভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে, তার একটিও প্রটোকলগুলোতে উপেক্ষিত হয়নি। তাদের প্রটোকলগুলো নিয়মিত পরিবর্তনে বিশ্বাসী। যেমন: কিছুদিন পরপর সাধারণ নির্বাচন, নতুন নতুন প্রতিনিধির ক্ষমতায়ন, নিয়মিত আইন ও সংবিধান পরিবর্তন করা ইত্যাদি। তারা অগোচরে জনসাধারণকে উসকে দেয়, যেন পরের মেয়াদে নতুন কোনো জনপ্রতিনিধিকে ক্ষমতায় আনা হয়।
প্রথম প্রটোকলটির দিকে লক্ষ করুন- 'একটা সাধারণ ধারণা আমরা স্বাধীন দেশগুলোতে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। তা হলো- জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। সঠিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে তাদের মধ্য হতে একজন জনপ্রতিনিধি (সরকার) নির্বাচন করা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা চাইলে যখন-তখন এসব প্রতিনিধিদের পালটাতে পারি, ঠিক যেমন হাতমোজা পুরোনো হলে পরিবর্তন করে ফেলি। আমরাই এসব জনপ্রতিনিধিদের জন্ম দিই এবং আমরাই আবার তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিই।'
চাইলে একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি দ্বারা অনেক কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব। কারণ, তার প্রতি সাধারণ মানুষের পূর্ণ বিশ্বাস থাকে। আজ যে শাসনব্যবস্থা পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে অনুসৃত হচ্ছে তা হলো গণতন্ত্র। একই সঙ্গে আরেকটি ব্যবস্থা মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তা হলো- সমাজতন্ত্র। এর আগে যে ব্যবস্থাটি বিশ্বজুড়ে ছিল, তা হলো রাজতন্ত্র।
গণতন্ত্র বলে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার পুরো দেশের শাসনভার গ্রহণ করবে। তাই বলা হয় জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। তবে এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে প্রতিটি দেশকে অনেক চড়াই-উতরাই পাড়ি দিতে হয়, যার মধ্যে থাকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, ধর্মঘট, অগ্নিকাণ্ড, সামরিক বিপ্লবসহ আরও অনেক কিছু। কীভাবে একটি গণতান্ত্রিক দেশের জন্ম হবে, তা নিয়ে চতুর্থ প্রটোকলে আলোচনা করা হয়েছে-
'বহু ধাপ পেরিয়ে একটি দেশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রূপ পায়। প্রথম ধাপে পুরো দেশে বর্বর যুগের ন্যায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছড়িয়ে পড়ে। আর মানুষ নির্বোধের মতো ডানপক্ষ কিংবা বামপক্ষ সমর্থন করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে। দ্বিতীয় ধাপে, অবৈধ স্বৈরশাসকের জন্ম হয়। যদিও স্বৈরশাসক বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না, কিন্তু তার প্রভাব চিরস্থায়ীভাবে থেকে যায়। এ সময় জনপ্রিয় কিছু নেতা-কর্মীর জন্ম হবে। পরে তাদের মধ্য থেকে এমন কাউকে ক্ষমতায় আনা হবে, যারা শুধু আমাদের পক্ষেই কাজ করবে। প্রয়োজনে আমরা তাকে সরিয়েও দিতে পারব। জ্যান্টাইলদের কেউ এই গোপন খেলাটি বুঝতে পারবে না। তারা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।'
সরকার ব্যবস্থায় 'নিয়মিত পরিবর্তন' বিষয়টি ইউরোপ-আমেরিকার জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। এমন কোনো সিনেটর নেই, যে এর সঙ্গে পরিচিত নয়। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কেবল তখনই পরিবর্তন আসে, যখন তারা ইহুদি বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। তাদের ওপর দ্রুত অর্থনৈতিক অবরোধ আসা শুরু করে। সকল বড়ো বড়ো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান মুখ ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করে, যা দেশকে সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়। দেশের মানুষ তার বিরুদ্ধে কেন আন্দোলন করছে, তার কিছুই তিনি বুঝতে পারেন না। তিনি দেশপ্রেম থেকেই সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যান! অথচ গণমাধ্যম ইতোমধ্যেই অন্য একটি দলের পক্ষে চলে গেছে। তারা চাইলে ইচ্ছেমতো সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো জনমত তৈরি করতে পারে। ফলে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা কখনো বন্ধ হয় না। চোদ্দোতম প্রটোকলে বলা আছে-
'প্রশাসনে এত বেশি পরিবর্তন দেখে জ্যান্টাইলরা একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়বে, কিন্তু সরকারবিরোধী ধ্বংসাত্মক আন্দোলনে আমরা পুনরায় তাদের উৎসাহিত করব। সব শেষে রাষ্ট্রব্যবস্থার শান্তি ফিরিয়ে আনতে তারা আমাদের যেকোনো শর্ত মেনে নিতে রাজি হবে।'
বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠায় তারা কতটা সফল, তা নবম প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদ থেকে বোঝা সম্ভব-
'আজকের দিনে যদি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, তবে তা কেবল ক্ষমতার স্বার্থেই। অথচ তাদের এই ক্ষমতা আমাদের হাতে বন্দি। তারা যা নিয়ে আন্দোলন করবে, তাও আমাদের ইশারায় পরিচালিত হয়। তারা আমাদের বিরুদ্ধে কাদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়বে? তার আশেপাশে যে পার্লামেন্ট সদস্যরা আছে, তারা সবাই তো লোভি প্রকৃতির। তাদের কিনে নেওয়া আমাদের জন্য কোনো ঘটনাই না!'
তারপর আরও বলা হয়েছে-
'বস্তুত, পৃথিবীর বহু রাষ্ট্রপ্রধানকে আমরা ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। তবে এখনও আরও অনেককে সরিয়ে দেওয়ার বাকি আছে।'
এসব আন্দোলনের পেছনে অর্থনৈতিক সহায়তা কোথা থেকে আসবে, সে প্রসঙ্গে নবম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক শত্রুতার দরুন রাষ্ট্রের পুরো ক্ষমতা আমাদের হাতে চলে আসে। ফলে আমরাই তাদের বিবাদের সমাধান করি। এই শত্রুতার মধ্যে আমরা সারাক্ষণ ঘি ঢেলে যাব। এর জন্য যে অর্থ দরকার, তা আমরাই সরবরাহ করব।'
নির্বাচনী প্রচারণার সময় এত অর্থ কোথা হতে আসে তা নিয়ে অনেক তদন্ত হয়েছে, তবে এর উৎস কখনো খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে ইউরোপ-আমেরিকার অধিকাংশ প্রশাসন আজ ইহুদি প্রশাসনে রূপ নিয়েছে।
দ্বিতীয় প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'জনগণের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিকে আমরা শাসক হিসেবে নির্বাচিত করব, তাকে কখনোই সাধারণ জনগণের প্রতি সেবাসীন হতে দেবো না। আমাদের একদল প্রতিনিধি তার উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রণালয়ে কাজ করবে, যারা ছোটোকাল থেকে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়ো হয়েছে। এই প্রতিনিধিরা খুব ভালো করেই জানে, কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয় এবং কী করে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হয়।'
দশম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
কীভাবে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রের অভ্যুত্থান হবে এবং স্বৈরশাসন থেকে নির্বাচনভিত্তিক শাসনব্যবস্থার জন্ম হবে।'
১৯১৮ সালে বলশেভিক বিপ্লবে সোভিয়েত বাহিনী সফল হওয়ার পর রাশিয়ার ইহুদি ছাত্র ও সৈনিকরা রাস্তায় নেমে গাইতে শুরু করে- 'We have given you a God; Now we will give you a king.'
গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ১০ম প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে- 'গণতন্ত্রের যুগ শুরু হলে জনগণ তাদের মধ্য হতে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচনের ধারায় চলে যাবে। ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, আমরা ক্ষমতাশীন ও বিরোধী দলের পেছনে সমান অর্থ খরচ করব। ঠিক যেভাবে মাটির নিচে মাইন পোঁতা হয়, গণতান্ত্রিক উপায়ে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচন করে জ্যান্টাইলরা সমাজে অনুরূপ মাইন পুঁতে রাখবে।'
ক্ষমতায় যেই আসুক না কেন, তার বিপরীতে কিছু রাজনৈতিক দল অবশ্যই থাকবে। তারা বিক্ষোভ, মিছিল ও আন্দোলন নিয়ে সব সময় ব্যস্ত থাকবে। শাসকপক্ষ যদি তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে না পারে, তবে নিশ্চিত সরকারের পতন ঘটবে। আবার তা কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বর্বর হতে হবে। সুতরাং দিন যত যাবে, বিস্ফোরক মাইনটি আরও শক্তিশালি হবে।
'আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেব। প্রার্থী হিসেবে তাদেরই অগ্রাধিকার দেবো, যাদের অতীত ইতিহাস কালো অধ্যায়ে পরিপূর্ণ; অনেকটা পানামা কলঙ্কের মতো। কেউ তাদের অতীত ইতিহাস ফাঁস করে দিতে পারে- ক্ষমতায় আসার পর এমন একটি ভয়ে তারা সব সময় আতঙ্কগ্রস্ত থাকবে। যার দরুন তারা না চাইলেও আমাদের বিশ্বস্ত কর্মীতে পরিণত হবে। এবার তাদের কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন সুবিধা হাতিয়ে নেওয়া কি আমাদের জন্য কঠিন কোনো কাজ হবে?'
এখানে 'পানামা' শব্দটি উল্লেখের কারণ হচ্ছে- পানামা খাল খনন করা নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক গণ্ডিতে প্রচুর দুর্নীতিবাজের জন্ম হয়। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ পর্যন্ত যারা নির্বাচিত হয়েছে, তাদের সকলের ইতিহাসেই কলঙ্কের দাগ রয়েছে। এমন নয় যে, ক্ষমতার গদিতে যারা বসে আছে তাদের কলঙ্কের কথা কেউ জানে না। নির্বাচনের পূর্বে গণমাধ্যমের সহায়তায় কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীর কলঙ্কময় ইতিহাস ঢেকে রাখা হয়। তবে হ্যাঁ, যে পক্ষটিকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চায় না, ইহুদিরা চাইলেই তার কলঙ্ক ফাঁস করে দিতে পারে। ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ ইহুদিদের সেই গোপন সংগঠনটির কাছে চিরকালের মতো আটকা পড়ে। যদি জনপ্রতিনিধিরা কখনো অবাধ্য হয়, তবে তাদের অতীত ফাঁস করে জনমনে আগুন ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন কোনো ব্যাপার নয়।
আজকাল রাজনৈতিক পাড়ায় 'ভয়' বিষয়টি যেন সবাইকে পেয়ে বসেছে। শুধু আমেরিকা নয়; জার্মানি, আর্মেনিয়া, রাশিয়া বা হিন্দুস্তান এমন কোনো রাষ্ট্র নেই যারা ইহুদি বা ইজরাইলের বিরুদ্ধে সামান্যতম কথা বলার সাহস করতে পারে। হয়তো লিগ অব নেশনস-এর প্রস্তাবিত কোনো ইস্যুতে তারা ইজরাইলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার সাহস কেউ করতে পারে না; তার ওপর অ্যান্টি-সেমিটিজমের ভূত তো আছেই! ইহুদিদের মধ্যে যারা গরিব, তারা আমাদের ধনীদের চেয়েও অধিক সম্পদশালী। সংখ্যালঘু হওয়ার পরও তারা আজ অধিক ক্ষমতাধর।
বিশ্ব শাসনে নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে হলে এই ভয়টি জিইয়ে রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে তারা যেভাবে এই ভয়ের জন্ম দিয়েছে এবং আজ পর্যন্ত জিইয়ে রেখেছে, তার জন্য সাধুবাদ দেওয়া উচিত। কারণ, এটাও এক ধরনের শিল্প। তাদের সমস্ত পরিকল্পনার মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে। আর যখনই এই ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়ে, তখনই তাদের নগ্ন রূপ বেরিয়ে আসে।
সত্য বলতে, ইহুদিরা কোনো অতিমানবীয় প্রাণী নয়। তারাও আমাদের মতো রক্ত-মাংসে গড়া জীব। হতে পারে তারা বুদ্ধিমান ও চৌকস, কিন্তু তাতে এমন কিছু ঘটে যায়নি যে তাদের কুর্নিশ করতে হবে। পৃথিবীতে আমাদের সবার সমানভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। ইহুদিরা যতই চালাক হোক না কেন, এমন কোনো পর্দা নেই যা তাদের কুৎসিত ইতিহাস ঢেকে রাখতে পারে। আর এখানেই তাদের দুর্বলতা। বিশ্ববাসী যদি ইহুদিদের এই দুর্বলতার সন্ধান জানত, তবে ভয় নামক যে পর্দা দিয়ে তারা আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে, তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হতো।
ভূ-সম্পদ আক্রমণে ইহুদিদের পরিকল্পনা
আবাসন শিল্পে ইহুদি জমিদারদের ফটকা বাণিজ্যের দরুন বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বের অনেক শহরের চেহারা রাতারাতি বদলে যায়। প্রতিবার জমি বিক্রির সময় পূর্ব মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্য নির্ধারণ করা আজ যেন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯১৮-১৯ সাল কমনওয়েলথ কমিটি ভূমি সংকট নিরসনে কিছু আইন প্রণয়ন করে; যদিও তা বহু আগেই করা উচিত ছিল। কমিটির সভাপতি ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে বিশেষ কিছু পরিবারের পরিচয় খুঁজে পায়, যাদের একমাত্র পেশা ছিল ভূমি ব্যাবসা। তারা একই জমি পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের মাঝে বারবার ক্রয়-বিক্রয় করত, যেন বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। সবশেষে ভূমির বিক্রয়মূল্য কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছালে ইহুদিরা তা জ্যান্টাইলদের নিকট বিক্রি করত।
একসময় ইউরোপ-আমেরিকার এমন অনেক জায়গা ছিল, যার নাম-গন্ধ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ শোনেনি। তারা সেসব জমি খুব পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত মালিকদের থেকে কিনে নিত। তারা যে মূল্যে জমিগুলো ক্রয়ের প্রস্তাব দিত, তা শুনে জমির মালিকরা ভাবত- এমন জমি তো আর এখানে এসে কেউ ক্রয় করবে না! এ অবস্থায় যে এতটা মূল্য পাচ্ছি তা- ই বা কম কীসে! এই ভেবে অনেকে তাদের জমিগুলো বিক্রি করত। এরপর তারা সেসব জমি উন্নয়নে কিছু কাজ করত। যেমন: স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ইত্যাদি।
এরপর বড়ো বড়ো শহরগুলোতে শুরু হতো প্রচার ও বিজ্ঞাপনের কাজ। সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাদের কিছু সদস্য ছদ্মবেশে এই জমিগুলো ক্রয়ে আগ্রহ দেখাত। এ নিয়ে তাদের প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কলাম প্রকাশ করত, যেন পুরো শহরকে এই জমিগুলোর আলোচনায় সরগরম রাখা যায়। চায়ের দোকান, মদের দোকান এবং বাজারের আলোচনা মঞ্চ প্রতিটি স্থানেই দক্ষ অভিনেতার ন্যায় তারা এই আলোচনা চালিয়ে যেত। তারা নিজ থেকে এই আলোচনায় জ্যান্টাইলদের ডাকত না, কিন্তু উচ্চস্বরে যেভাবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করত, তা সাধারণ মানুষের কৌতূহল অনেকগুণ বাড়িয়ে দিত। না চাইলেও তারা অবচেতন মনে এই গুঞ্জন ঢুকে যেত। মানুষ ভাবত, শহরের বাইরে এখনও এত ভালো জমি পাওয়া যায়! তাহলে সব জমি শেষ হওয়ার আগে নিজেদের জন্য কিছু কিনে রাখছি না কেন? একসময় তাদের এই কূটকৌশলে বিভ্রান্ত হয়ে দেশি-বিদেশি অনেক বিনিয়োগকারী এই জমিগুলোর প্রতি আগ্রহ দেখাত এবং ক্রয় করত; তবে তা অতি উচ্চমূল্যে, যেমনটা ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক এবং ফ্লোরিডার জমিগুলোর বেলায় হয়। মাঝ থেকে ইহুদিরা হাতিয়ে নিত বিশাল অঙ্কের মুনাফা, যার একটি কমিশন চলে যেত তাদের ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কেননা, তারা বিভিন্ন সময়ে অর্থ দিয়ে সাহায্য করত।
মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সাধ্যের মধ্যে একটি সুন্দর বাসা খুঁজে পেতে যে কতটা হিমশিম খায়, তা কারও অজানা নয়। আপসোসের ব্যাপার হচ্ছে- জমি বাণিজ্যের এই শয়তানি সংস্কৃতি আজ জ্যান্টাইলদের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে। যদি কমিটির সভাপতি ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই অনুসন্ধান না চালাতেন, তাহলে এই তথ্য কখনোই জনসম্মুখে উন্মোচিত হতো না। কারণ, বিভিন্ন দেশের পরিসংখান ব্যুরোকে ইহুদি জাতিগোষ্ঠি একাই নিয়ন্ত্রণ করছে। গোয়েন্দা বাহিনীর ভেতরে তারা গড়ে তুলেছে ছোটো ছোটো আরও অনেক দল, যারা বিখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থার হাত-পা-মাথা হয়ে কাজ করছে। ফলে পরিসংখ্যান ব্যুরো যে তথ্যই প্রকাশ করুক না কেন, তা গোয়েন্দাদের সম্মতি ছাড়া সম্ভব নয়।
উচ্চমূল্যে ভূমি বিক্রি করা ছাড়াও ইহুদিদের এসব জমি ক্রয়ের আরও কিছু উদ্দেশ্য ছিল। যেমন: জ্যান্টাইল কৃষকদের নিজেদের জমি ব্যবহার করতে দেওয়া। বিষয়টি অনেকটা বর্গা চাষের মতো। এর ফলে উৎপাদিত ফসলের একটি বড়ো অংশ তাদের ভান্ডারে চলে যেত। তা ছাড়া অধিকাংশ জমি যদি তাদের দখলে থাকে, তবে জ্যান্টাইলদের পক্ষে কখনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। ফলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা কৃষক হয়ে মাঠে কাজ করবে। তা ছাড়া যেসব জমিতে সোনা, রুপা, তামা, নিকেল ইত্যাদি মজুত আছে, সেসব জমির প্রতি ইহুদিদের রয়েছে ভিন্ন মাত্রার মোহ। যেমন: আলাস্কা, ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের জমিগুলো।
যখন ইহুদিরা কোনো দেশ দখলের পরিকল্পনা করে, তখন প্রথমে সে দেশের উৎপাদনশীল জমিগুলো দখলের চেষ্টা চালায়। এর মাধ্যমে উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য এবং শিল্পকাজে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। ফলে ধীরে ধীরে শিল্পবাজার তাদের দখলে আসে। একই পথে পুঁজিবাজারও হাঁটতে শুরু করে। এরপর তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় শুরু হয় পুঁজিবাজার ও শ্রমবাজারের মধ্যে দ্বন্দ, যার অবসান কখনোই হয় না।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে আমেরিকা প্রচুর পশমি পণ্য জার্মানি থেকে আমদানি করত। যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন আগে তারা সকল অর্ডার তুলে নেয়। এতে জার্মান ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পড়ে। রাতারাতি সেখানে পশমি পণ্যের দাম কমা শুরু করে। ওত পেতে থাকা জার্মান ইহুদিরা অতি স্বল্পমূল্যে সেগুলো কিনে নেয়। যুদ্ধ শেষ হলে তারা আবার সেই পণ্য আমেরিকান বাজারে উচ্চমূল্যে রপ্তানি করে।
আমেরিকান বাজারে যদি কোনো বিপর্যয় নেমে আসে, তবে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ইহুদিদের প্রকাশনী প্রতিষ্ঠানগুলো সামনে চলে আসে। বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ইতালিয়ান, পোলিশ, ব্রিটিশ বা জার্মান নাগরিকদের অভিযুক্ত করে, কিন্তু কখনোই নিজেদের নাম উল্লেখ করে না। ইদানীং তারা ভূমি ব্যাবসার এজেন্ট হিসেবে জ্যান্টাইলদের ব্যবহার করছে। ব্যাংকিং জগতেও একই দশা। ফলে প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের সনাক্ত করা জ্যান্টাইলদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
পূর্বের একটি প্রটোকলে বলা হয়েছে- বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে ইহুদিরা কৃত্রিম চাহিদার জন্ম দেয়। প্রথমত, বর্গা চাষের ফলে উৎপাদিত পণ্যের বিশাল মালিকানা তাদের দখলে আসে। দ্বিতীয়ত, অবশিষ্ট পণ্য কৃষকদের থেকে কৌশলে কিনে নেয়। এরপর ইহুদিরা হয়ে যায় সকল পণ্যের মধ্যস্বত্বভোগী। তারা যে মূল্য নির্ধারণ করে, তা-ই হয়ে যায় বাজারের বিক্রয় মূল্য; যা পরিশোধে ভোক্তাসমাজ বাধ্য হয়। মূলত ব্যাপারটা এমন- ভোক্তাসমাজ পণ্য ক্রয় করে না; বরং সেগুলোকে জিম্মি থেকে মুক্ত করে মাত্র।
ফটকাবাজির আরও একটি উদাহরণ- আমেরিকার তুলার বাজারকে ইহুদিদের নিজের আয়ত্তে নেওয়া। ব্যাংক ঋণ ছিল তাদের এই কাজের মোক্ষম হাতিয়ার। প্রথমে যতটা সম্ভব তুলা জমির উপযোগিতা কমানো হতো। কৃষকরা ঋণের জন্য ব্যাংকে এলে তাদের চাষের জমি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। নির্ধারিত একরের বেশি জমিতে চাষ করলে ব্যাংক তাদের ঋণ দিত না। ফলে চাহিদা থাকার পরও তুলার উৎপাদন কমে যেত। এতে না শিল্প-মালিকরা প্রয়োজনীয় পরিমাণ তুলা পেত, আর না কৃষকরা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে পারত। অবশেষে ব্যাংক এসে জমিগুলো দখল করে কৃষকদের ভিখারি বানিয়ে দিত। ফলে জমি ও বাজার দুটোই তাদের হতো। তুলা শিল্পে শয়তানি শক্তির আগ্রাসন নিয়ে একটি গুঞ্জন ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষে আমেরিকার আকাশে-বাতাসে উড়ছিল। কিন্তু জ্যান্টাইলরা এর প্রকৃত রূপ তখনই বুঝতে পারে, যখন আর করার কিছু ছিল না।
ভূমি নিয়ে তাদের প্রটোকলগুলোতে তেমন কিছু উল্লেখ করা হয়নি। যা আলোচনা হয়েছে তা কেবল ষষ্ঠ প্রটোকলে। যেমন:
'বাজারের সব সম্পদ নিজেদের দখলে নিয়ে আমরা একচেটিয়া আধিপত্যের জন্ম দেবো। জ্যান্টাইল রাষ্ট্রগুলো যতই সম্পদশালী হোক না কেন, একসময় তাদেরকে আমাদের সম্পদের ওপরই নির্ভর করতেই হবে। এই নির্ভশীলতা তাদের ঋণের বেড়াজালে আটকে ফেলবে, যা তাদের ওপর জাতীয় দায়রূপে চেপে বসবে। তাদের এই দুর্বলতাকে ব্যবহার করে আমরা আন্তর্জাতিক স্বৈরশাসনের জন্ম দেবো। তখন কেবল আমরাই এই বিশ্ব মানবতাকে মহা-বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারব। আমরা কেবল তাদেরই অনুগ্রহ দেখাব, যারা আমাদের সকল অনুশাসন মাথা পেতে নেবে।
দাম্ভিকতা জ্যান্টাইল রাজনীতিবিদদের চরিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। কিন্তু এখনও যেহেতু তারা বিশাল ভূ-সম্পদের মালিক এবং স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জন করতে পারছে, সেহেতু কোনো একদিন তারা আমাদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই যেকোনো মূল্যেই হোক তাদের সব জমি দখল করতে হবে।
এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায়- কৃষকদের বন্ধকি ঋণে আটকে ফেলা। আমরা তাদের ঋণ গ্রহণে উৎসাহিত করব। ধীরে ধীরে ঋণের সুদ কৃষকদের ওপর চেপে বসবে। একসময় জমির মালিক হওয়ার পরও তারা আমাদের অধীনস্থ হবে। এই আনুগত্য তাদের সকল অহংকার ও দাম্ভিকতাকে ধ্বংস করে দেবে।
শিল্প-অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে জ্যান্টাইলদের উৎসাহিত করব, যেন তারা আমাদের নিজেদের অংশ বলে মনে করে। কিন্তু এই উৎসাহ যেন তাদের কোনো উপকারে না আসে সে ব্যবস্থাও করে রাখব। যদি কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই আমরা জ্যান্টাইলদের ঋণ দেওয়া শুরু করি, তবে তাদের সম্পদের প্রাচুর্যতা অনেক বেড়ে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় তারা ঋণের দাসত্ব থেকে বেরিয়ে আসবে এবং সব জমি মুক্ত করবে। এমনটা আমরা কখনো হতে দেবো না। ফটকা পরিকল্পনার মাধ্যমে জ্যান্টাইলদের মূলধনশূন্য করব। একসময় তারা সর্বহারা মানুষের মতো অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এবং বাঁচার জন্য আমাদের পায়ে এসে মাথা ঠুকবে।
আমরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে জড়িয়ে দেবো এবং একই সময় বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেবো। আমরা বলব- কৃষি উৎপাদন কম হওয়ার দরুন এ বছর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সু-কৌশলে তাদের মাঝে অরাজকতা ছড়িয়ে দেবো এবং আত্মতৃপ্তির উপায় হিসেবে মদ্যপানে আসক্ত করে তুলব। এভাবে ধীরে ধীরে তারা জ্ঞানশূন্য জাতিতে পরিণত হবে।
মানুষ আমাদের সূক্ষ্ম পরিকল্পনাগুলো কখনোই বুঝতে পারবে না। আমরা লোক দেখানো সমাজসেবার মুখোশ পড়ে বলব- জনসাধারণের মঙ্গল করাই আমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য। কিন্তু এই উদ্দেশ্য দিয়ে আমরা কেবল নিজেদেরই উপকার করব, তাদের নয়।'
এবার আরও দুটি প্রটোকল থেকে কয়েকটি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করছি, যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ :
' যতদিন না জ্যান্টাইলরা আমাদের অর্থ ও ক্ষমতার মাঝে নিজেদের আশ্রয় খুঁজে না নেবে, ততদিন পর্যন্ত ক্ষুধা, দরিদ্রতা, দুর্ভিক্ষ, মতবিরোধ, পারস্পরিক শত্রুতা ইত্যাদিতে আবদ্ধ করে রাখব।' (দশম প্রটোকল)
'একসময় তারা বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক সকল ক্ষমতা আমাদের হাতে তুলে দেবে, আর তখনই আমরা নিজেদের বিশ্ব অধিপতিরূপে প্রতিষ্ঠিত করব।
'আমরা তাদের ওপর এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দেবো, যা তাদের নৈতিক চেতনাকে পঙ্গু করে দেবে। সেইসঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও ধ্বংস করে দেবে।' (পঞ্চম প্রটোকল)
প্রটোকলগুলো যারা তৈরি করেছে, তারা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদ, দার্শনিক ও সম্পদশালী ইহুদি। তারা কী করতে যাচ্ছে এবং কীভাবে করবে, সে বিষয়ে খুব ভালো করে জানে। তারা জানে- যতদিন আকাশে সূর্য উঠবে এবং মৌসুমি বায়ু ও পানির ব্যবস্থা থাকবে, ততদিন পর্যন্ত কৃষকসমাজ অপরাজেয় শক্তি। কারণ, খাদ্যের অভাবই পৃথিবীর প্রকৃত অভাব। যার খাদ্য উৎপাদনের ক্ষমতা আছে, সে অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে অতি আয়েসে নিজের পুরোটা জীবন পার করে দিতে পারে। তাই এমন কিছু করা উচিত, যা দ্বারা এই শান্তিপ্রিয় মানুষদের অশান্ত করে তোলা যায়।
তারা নিজেদের পরিকল্পনায় কতটা সফল, তা চারদিকে চোখ বোলালেই উপলব্ধি করা সম্ভব। আগেই বলা হয়েছে- কৃষি কাজে ইহুদিরা একদমই পারদর্শী ছিল না, কিন্তু ভিন্নধর্মী পণ্য তৈরিতে তারা ছিল ওস্তাদ। রঙিন-কারুকাজ সংবলিত ফুলের টব, পানির পাত্র, টেবিল-চেয়ার ইত্যাদি প্রথম তারাই বাজারে নিয়ে আসে, যা উচ্চমূল্যে বিক্রি করত।
একটা সময় ছিল, যখন এসব পণ্য ক্রয়ে মানুষ কোনো আগ্রহ দেখাত না। তারা বিশ্বাস করত, অর্থ অপচয় দরিদ্রতা ডেকে আনে। ফলে ইহুদিরা বহু বছর এসব পণ্য নিয়ে অপেক্ষা করে। একজন-দুইজন করতে করতে বাজারে একসময় ক্রেতা সংখ্যা বাড়তে থাকে। নতুন নতুন নকশা সংবলিত পণ্য-সামগ্রীকে তারা 'স্টাইল' ও 'ফ্যাশন' নামে পরিচিত করে তোলে। মানুষের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়- স্টাইল ও ফ্যাশন হলো আভিজাত্যের অংশ।
একসময় জ্যান্টাইল কৃষকরা দেখল, সৌখিন পণ্যের এই বাণিজ্য আসলেই অনেক লাভজনক। ফসল উৎপাদন করতে অনেক সময় লাগে। সাথে পরিশ্রমও বেশি। তা ছাড়া ফসল একবার নষ্ট হলে সব পরিশ্রম পণ্ড হয়ে যায়। ফলে তারাও এ জাতীয় পণ্য উৎপাদনের দিকে ঝুঁকে পড়ল। আর এভাবেই আমরা জাতি হিসেবে উৎপাদনবিমুখ হয়ে পড়লাম। ধীরে ধীরে আমাদের মধ্য থেকে অনেকেই সৌখিন শিল্পে দক্ষ হয়ে ওঠে এবং সমাজের বাহবা পেতে থাকে। কিন্তু আমরা বুঝতেই পারলাম না, যা করছি তা এককথায়- সময় ও পরিশ্রমের অপচয়।
এ প্রসঙ্গে ষষ্ঠ প্রটোকল উল্লেখ আছে- 'জ্যান্টাইলদের শিল্পগুলো ধ্বংস করতে তাদের সৌখিন পণ্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলব, যা তাদের চাহিদা ও রুচিবোধের ধারণা একেবারে পালটে দেবে। এসব চকচকে পণ্য-সামগ্রী ক্রয়ে আমরা তাদের উৎসাহিত করব।'
অনেক পিতা-মাতা, সুশীল সমাজ ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যম, তরুণ সমাজকে অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। অনেক জ্ঞানী মানুষ তাদের পরামর্শ দিয়েছে- 'বিলাসিতা পরিত্যাগ করে সম্পদকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার করো।' অনেক অর্থনীতিবিদ বলেছে- 'অপ্রয়োজনীয় শিল্পের পিছে না ছুটে এমন সব শিল্পের পেছনে ছোটো, যা দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করবে।' অনেক প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান পরামর্শ দিয়েছে- 'সৌখিন পণ্য তৈরি না করে মাঠে গিয়ে ফসল উৎপাদন করো, যেন ক্ষুধার্ত থাকতে না হয়।' এসব সতর্কবাণীর উদ্দেশ্য হলো- আমাদের যুবসমাজ যেন সময় ও শ্রম ভুল পথে নষ্ট না করে।
আমরা সাধারণ মানুষরাই-বা কম কীসে! অপ্রয়োজনীয় সৌখিন পণ্যের চাহিদা তো আমরাই বাড়িয়ে দিয়েছি। একই ধরনের পণ্য ক্রয় করতে করতে ক্রেতারা যখন ক্লান্ত হয়ে উঠে, তখন তারা ভিন্নধর্মী পণ্যের অনুসন্ধান করে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এসব সৌখিন পণ্য ব্যবহারের দরুন ইহুদিরা কি আদৌ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
লক্ষ করে দেখবেন, তারা খুব দামি চকচকে কাপড় পরে আপনার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এই জামাগুলো সত্যই খুব দামি এবং কাপড়গুলোও উন্নতমানের। দেখবেন, ইহুদি রমণীরা বড়ো বড়ো হিরার গহনা পরে হেঁটে যাচ্ছে, যার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। মূলত তারা কখনো নিজেদের অসাধু আবিষ্কারের শিকার হবে না। কারণ, তাদের হারানোর ভয় নেই। তারা এসেছে শুধু আমাদের ধ্বংস করতে। তাই ক্ষতি হলে শুধু আমাদেরই হবে, তাদের নয়।
আজ আমাদের মনোবৃত্তি এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, পালা বদলের সাথে সাথে নিজেদের মাঝে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতেই হবে, রুচিবোধে পরিবর্তন আনতে হবে এবং বিভিন্ন স্টাইল ও ফ্যাশনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। একসময় আমরা দরিদ্রতার ভয়ে সামান্য অর্থ অপচয় করতেও ভয় পেতাম। আর এখন উপার্জনের একটি অংশ আলাদা করে রাখি, যেন পরবর্তী বছর নতুন কিছু সৌখিন পণ্য ক্রয় করতে পারি। একটি গোষ্ঠী আছে, যারা বহু আগ থেকেই নির্ধারণ করে রাখে আগামী বছর এবং তার পরবর্তী বছরগুলোতে বাজারে নতুন কী কী পণ্য নিয়ে আসা হবে। আমাদের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও দূরদর্শী মনোভাবকে ধ্বংস করে দিয়ে ইহুদিরা গড়ে তুলেছে মুনাফার পাহাড়। মূলত আমরা নিজেরাই তাদের জালে ধরা দিয়েছি।
এবার, প্রথম প্রটোকলের দিকে লক্ষ করুন-
'আমরা জ্যান্টাইলদের কখনো সৌখিন পণ্য ক্রয়ে বাধ্য করব না, কিন্তু তারা এতটাই বোকা যে নিজ থেকেই এই জালে জড়িয়ে পরবে।'
আমাদের মানসিক বিকলাঙ্গতার দরুন 'কৃষক' পেশাটি আজ অনেকের নিকট ঘৃণার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবস্থা এমন রূপ নিয়েছে, কৃষকরাই আজ নিজেদের ঘৃণা করা শুরু করেছে। তারা চায় না তাদের সন্তানরা এই পেশায় আসুক। সন্তানরা যেন অন্য কিছুর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে- এটাই তাদের একমাত্র কামনা। অথচ কৃষি কাজ পৃথিবীর প্রাচীনতম পেশাগুলোর মধ্যে একটি, যা আজ পর্যন্ত সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান জুগিয়েছে।
এমন একটি পেশাকে ঘৃণার চোখে দেখা এবং কৃষকদের সঙ্গে অদ্ভুতের ন্যায় আচরণ করার দরুন সমাজে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, তা সামান্য হলেও উপলব্ধি করতে পারছি। খাদ্য ঘাটতি ও বেকারত্ব যে পৃথিবীর প্রকটতম দুটি সমস্যা, তা আর দলিলসহকারে উপস্থাপনের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই দুটি সমস্যার উপযুক্ত সমাধান যা হতে পারত, তা আমরা ঘৃণার চোখে এড়িয়ে চলছি। মানুষ আজ সে পথেই হাঁটছে, যে পথে দ্রুত সম্পদ উপার্জন করা যায়; তা মদ-সিগারেট বা সৌখিন পণ্যসামগ্রীর মাধ্যমে হলেও। আসলে মহাদুর্ভিক্ষে পতিত হওয়ার আগ পর্যন্ত মানবসমাজ উপলব্ধি করতে পারবে না- তারা জ্ঞান ও মানসিকতাকে কতটা ভুল পথে পরিচালিত করেছে।
টিকাঃ
২৫. আমাদের শহরগুলোতে প্রায়ই বড়ো বড়ো বস্তি দেখা যায়, যেখান প্রচুর মানুষ একত্রে গাদাগাদি করে বসবাস করে। ফরাসি বিপ্লবের আগ পর্যন্ত ইহুদিরা এ রকম একটি সমাজব্যবস্থায় বসবাস করত। তবে ঘেটো শব্দের আক্ষরিক অর্থ বস্তি নয়। ইহুদিরা নিজেদের প্রয়োজনে এরূপ সমাজ ব্যবস্থার উদ্ভব করেছিল, যেন নিজেদের মাঝে সম্পর্কের দৃঢ়তা অটুট রাখতে পারে। ধনি-গরিব সকল শ্রেণির ইহুদিরা একত্রে এখানে বসবাস করত।
📄 প্রকাশনা শিল্পে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র
তথ্য বাণিজ্য করে যে প্রচুর মুনাফা উপার্জন করা সম্ভব, তা ইহুদিদের পূর্বে অন্য কোনো জাতি বাস্তবায়ন করে দেখাতে পারেনি। তারাই প্রথম জাতি, যারা তথ্য বাণিজ্যকে সাংবাদিকতায় রূপদান করেছে। খ্রিষ্টবছর গণনা শুরুর পর থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে কখন কী ঘটতে যাচ্ছে, সেই তথ্য তারা বহু আগেই পেয়ে যেত। তারপর এসব তথ্য নিউজলেটারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করত। কীভাবে ইহুদিরা ভবিষ্যতের সংবাদ আগেই পেয়ে যেত, তা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
আজ পর্যন্ত কখনো কি এমন কারও নাম শুনেছেন, যিনি একই সঙ্গে একাধিক দেশের সংসদ সদস্য ছিলেন? আদৌ কি কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে ইতালি ও জার্মানির সংসদ সদস্য হতে পারবে? ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব?
আশা করি আপনাদের সেনহাড্রিনের কথা মনে আছে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্রতিনিধিগণ এই সভায় একত্রিত হতো। মজার বিষয়- তাদের বেশিরভাগ সদস্যই ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। যেমন: সংসদ সদস্য, সামরিক উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা ইত্যাদি। ফলে তাদের নিকট নিজ নিজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য মজুদ থাকত। সেনহাড্রিনের অধিবেশন বসলে তারা সবাই নিজ নিজ এলাকার খবরাখবর সেখানে উপস্থাপন করত! যেমন : ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা ফ্রান্সের খবর এবং ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরা ইংল্যান্ডের খবর ফাঁস করত। ইউরোপিয়ান রাজারা যত নতুন পরিকল্পনাই গ্রহণ করুক না কেন, সেনহাড্রিনের মাধ্যমে সেই সংবাদ অন্য সদস্যদের কানে চলে যেত। এবার তাদের রাজা উত্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন সব পরিকল্পনা তৈরি করতেন। ইউরোপিয়ান রাজারা হয়তো সেনহাড্রিনের বিষয়টি জানতেন না, তবে তথ্য পাচারের বিষয়টি অনুমান করতে পেরেছিলেন। তাই প্রায় সময় ইহুদিদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো। পুরো বিষয়টি আপনাদের কাছে গল্প বলে মনে হতে পারে।
অনেকেই হয়তো রথসচাইল্ড পরিবারের নাম শুনে থাকবেন। পরিবারটির প্রতিষ্ঠাতা Mayer Amschel Rothschild তার পাঁচ ছেলেকে ইউরোপের পাঁচটি দেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবসায় সূচনা করেন।
ইহুদিদের কাছে তথ্যের কেন এত কদর ছিল, তা Nathan Rothschild-এর ছোট্ট একটি ঘটনা থেকে জানতে পারবেন। নেপোলিয়নকে যখন নির্বাসিত করে এলবা দ্বীপে পাঠানো হয়, তখন ইংল্যান্ড ভেবেছিল হয়তো ইউরোপ থেকে এবার তার বিদায় হলো। তবে নেপোলিয়ান যে আবারও ইউরোপে ফিরে আসবেন, তা অনেকেই ভাবতে পারেনি; এমনকী Nathan নিজেও নয়। এরপর শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধ, যা 'Battle of Waterloo' নামে পরিচিত। সেখানে ইংল্যান্ডের কাছে ফ্রান্সের নেপোলিয়ন বাহিনী পরাজিত হয়।
আগেই বলে রাখি, Nathan ছিল অতি ভীরু ও কাপুরুষ প্রকৃতির মানুষ। সে নিজে কখনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত না। রক্ত দেখলেই চুপসে যেত, তবে প্রতিটি যুদ্ধেই সে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করত। এই যুদ্ধে সে ইংল্যান্ড সেনাবাহিনীর পেছনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে। যুদ্ধ শুরু হওয়া মাত্র মাঠের কোথাও সে লুকিয়ে পড়ে এবং দেখতে থাকে, যুদ্ধের ফলাফল কোন দিকে যায়। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও নেপোলিয়ন যখন তার সৈন্য বাহিনীকে শেষ আক্রমণের আদেশ দেয়, Nathan বুঝে যায়- যুদ্ধের ফলাফল কী হতে যাচ্ছে।
তখন সে দ্রুত ব্রাসেলসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পথে অনেকের সাথে দেখা হয়, কিন্তু যুদ্ধের ফলাফল সে কাউকে জানায় না। ব্রাসেলস থেকে অতি উচ্চমূল্যে একটি ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে দ্রুত ওস্টেন্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে ইংল্যান্ড। ঝড় শুরু হওয়ার দরুন কোনো জাহাজ যেতে রাজি হচ্ছিল না। আগেই বলেছি, Nathan ছিল ভীরু ও কাপুরুষ প্রকৃতির। কিন্তু তার চোখে যে ভাসছে লন্ডন শেয়ার বাজার; যা বর্তমানে অনায়াসে দখল করা সম্ভব! অনেক কষ্টে সে ২,০০০ ফ্রাঙ্ক (Francs) ভাড়া দিয়ে একটি জাহাজ পেল। অবশেষে ভাগ্যের কল্যাণে অর্ধমৃত অবস্থায় ইংল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছাল।
সে সময় কোনো টেলিগ্রাম ছিল না। তাই যুদ্ধের ফলাফল কী হয়েছে, তা কারও পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। ২০ জুন ১৮১৫, Nathan নিজ অফিসে হাজির হয়। তার মনমরা চেহারা দেখে সবাই ঘাবড়ে যায়। চারদিকে জনরব ছড়িয়ে পড়ে ইংল্যান্ড যুদ্ধে হেরেছে। জনরব আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যখন সে যুদ্ধে পরাজিত হওয়া নিয়ে একটি কলাম লিখে। কেউ বুঝতে পারেনি, Nathan কিছু একটা লুকিয়ে রাখছে। ফ্রান্সের সৈন্যরা ইংল্যান্ড আক্রমণ করতে পারে, এই ভেবে অনেকে তাদের শেয়ার বিক্রি করা শুরু করে। এই সুযোগে Nathan সাহেব পানির দামে সবগুলো শেয়ার কিনে নেয়।
পরপর দুই দিন (২০-২১ তারিখ) এই শেয়ার কেনা-বেচা চলল। দ্বিতীয় দিন শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার আগে সে ১ কোটি ডলার সমমূল্যের শেয়ার-সিকিউরিটি ক্রয় করে। এর কিছুক্ষণ পর ইংল্যান্ডের বিজয়ী সেনাবাহিনি যুদ্ধ জয়ের খবর নিয়ে ওয়ালিংটনে হাজির হয়, কিন্তু ততক্ষণে জনসম্পত্তির এক বিশাল অংশ Nathan সাহেবের সিন্ধুকে চলে যায়। এর পুরোটা সম্ভব হয়েছিল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করে মিথ্যা খবর প্রচারের মাধ্যমে।
যেখানে নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের কোনো অস্তিত্ব নেই, সেখানে সংখ্যালঘুরা খুব সহজেই ক্ষমতা দখল করতে পারে। ছোট্ট এই উদাহরণটি এর যথার্থতা প্রমাণ করে। একই ঘটনা ঘটেছে বলশেভিক ও ফরাসি বিপ্লবের সময়ও।
সে সময় রাশিয়া ও ফ্রান্সের সকল বড়ো বড়ো পত্রিকা ছিল ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে। তারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সংবাদ প্রকাশ করত। মূলত সমাজে সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব কতটুকু, তা তখনকার মানুষ বুঝতে পারেনি। প্যারিসের মানুষ অনেক দিন পর্যন্ত জানতই না, তাদের দুর্গ (Bastille) ভেঙে পড়েছে এবং কয়েদিরা পালিয়ে গেছে। আর এখান থেকেই ফরাসি বিপ্লবের সূচনা।
সত্যি বলতে, সাধারণ মানুষ আজ গণমাধ্যমের ওপর আস্থা সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছে। আমরা নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম এবং সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে একতাবদ্ধ হতে পারছি না, যা আমাদের জাতীয় চেতনাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। যে যার মতো নিজের সাফাই গেয়ে যাচ্ছে এবং অন্যের জয়কে নিজের জয় বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
দ্বিতীয় প্রটোকলের দিকে লক্ষ করুন- 'আধুনিক সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হচ্ছে গণমাধ্যম, যা দ্বারা ইচ্ছামতো জনমত তৈরি করা সম্ভব। গণমাধ্যমের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনসাধারণের দৈনন্দিন খবরাখবর উপস্থাপন, সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা এবং এর সম্ভাব্য সমাধান জাতির সামনে তুলে ধরা। কিন্তু আমরা কোনো রাষ্ট্রকেই নিজেদের ইচ্ছামতো গণমাধ্যম ব্যবহার করার সুযোগ দেবো না। কারণ, ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমের লাগাম আমাদের হাতে চলে এসেছে। তবে এ জন্য আমাদের অনেক অশ্রু ও রক্ত ঝরাতে হয়ছে।'
গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ ইত্যাদি যে আন্দোলনের কথাই বলি না কেন, সব আন্দোলন ইহুদিরাই শুরু করেছে। আর এ আন্দোলনের বীজ মানুষের মগজে গেঁথে দিতে দিতে তারা গণমাধ্যমকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এসব আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতারই পরিবর্তন এনেছে, জনজীবনে কোনো পরিবর্তন আনেনি। এ প্রসঙ্গে তৃতীয় প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'রাষ্ট্রীয় সংবিধানে সম-অধিকারের ধারাগুলো মূলত কোনো অধিকারের মধ্যেই পড়ে না। এসব তথাকথিত জন-অধিকার শুধু মানুষের কল্পনাতেই থাকে, কখনো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। খাবার টেবিলে যে সামান্য কিছু রুটির টুকরো উচ্ছিষ্ট থেকে যায়, তা-ই প্রলেতারিয়েটদের অর্জন। কিন্তু কেবল উচ্ছিষ্ট খাবার দিয়েই তাদের সব ভোট কিনে নেব। প্রজা নির্যাতন ও সামরিক অবরোধ দিয়ে তারা আর কতদিন জনমানুষকে আটকে রাখবে? আমরা চাইলে তাদের মাঝে আন্দোলনের জোয়ার বইয়ে দিতে পারি।'
ষষ্ঠ প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদ আবারও উপস্থাপন করছি-
'আমরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে জড়িয়ে দেবো। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেবো। আমরা বলব- কৃষি উৎপাদন কম হওয়ায় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের মাঝে সুকৌশলে অরাজকতা ছড়িয়ে দেবো এবং আত্মতৃপ্তির উপায় হিসেবে মদপানে আসক্ত করে রাখব। এভাবে তারা ধীরে ধীরে জ্ঞানশূন্য জাতিতে পরিণত হবে।'
এরপর উল্লেখ আছে-
'এমতাবস্থায় রক্ষাকর্তা হিসেবে আমরা তাদের সামনে হাজির হব। সামাজিক অচলাবস্থা পরিবর্তনের লোভ দেখিয়ে তাদের সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, সাম্যবাদ (কমিউনিজম) ইত্যাদি আন্দোলনে যোগদানের আহ্বান জানাব। আর এই আহ্বান তাদের বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ ধ্বংস করে দেবে।
আমরা এমন আরও অনেক তত্ত্বের জন্ম দিয়েছি, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অনুশাসন হিসেবে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছে।'
একটি দেশের প্রশাসনকে কীভাবে ভেঙে দেওয়া যায়, তা নিয়ে তৃতীয় প্রটোকলে আলোচনা করা হয়েছে-
'আমাদের সাহসী সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতিনিয়ত আক্রমণাত্মক কলাম লিখবে, যা জনসাধারণের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে। একসময় তাদের এই সামষ্টিক প্রতিক্রিয়া গণ-আন্দোলনে রূপ নেবে, যা সরকারের পতন ঘটিয়ে ছাড়বে।'
বিশ্ব কর্মসূচি বাস্তবায়নে গণমাধ্যম কতটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, তা নিয়ে সপ্তম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'আমরা জ্যান্টাইল সরকারদের উসকে দেবো, যেন তারা প্রতিবাদী জনগণের বিরুদ্ধে পালটা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অর্থাৎ আমাদের কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারের পক্ষে কাজ করবে। এর ফলে সরকার ও সাধারণ মানুষের সম্পর্ক দা-কুমড়ায় রূপ নেবে; এটা আমাদের জন্য খুব দরকারি।'
ইহুদিরা এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে- যেখানে তাদের নিযুক্ত কর্মীরা জনসাধারণের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করার অভিনয় করে থাকে। সাধারণ মানুষ ভাবে- হয়তো তারাই প্রকৃত সাংবাদিক এবং তাদের পক্ষেই কাজ করছে, কিন্তু এটা হলো গোপন ফাঁদ। যদি কখনো সাধারণ মানুষ তথ্যপূর্ণ রিপোর্ট নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে যায়, তবে আর রক্ষা নেই। কারণ, তথ্য-জ্ঞানসম্পূর্ণ এই লোকেদের পরিচয় সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে চলে যাবে। ফলে গুম বা হত্যাকাণ্ডের মতো যেকোনো একটি করুণ পরিণতি তার কপালে লেখা হয়ে যাবে। তাই বলে তারা যে সাধারণ মানুষের কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করে না তা নয়। তবে কী প্রকাশ করবে তা ইহুদিদের সাংগঠনিক স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। গণমাধ্যম নিয়ে তাদের কিছু কৌশল নিচে উপস্থাপন করা হলো :
ক. সাধারণত বড়ো আকারের প্রবন্ধগুলো মানুষ এড়িয়ে যায়। মানুষ ছোটো আকারের প্রবন্ধগুলো পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই পৃষ্ঠা বাড়িয়ে কেউ যেন তা সাহিত্য-কর্ম বানিয়ে না ফেলে, এটাই সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চাওয়া। আবার বড়ো আকারের আর্টিক্যালগুলোতে উৎপাদন খরচ বেশি হয় বলে অধিকাংশ পাঠক তা কিনতে চায় না। স্বাভাবিকভাবে এই লেখাগুলো কম পঠিত হয়। তাই প্রকাশনী শিল্পে তারা নতুন আইন জারি করে- '৩০ পৃষ্ঠার কম প্রতিটি আর্টিক্যালের জন্য দ্বিগুণ খরচ প্রদান করতে হবে।'
কিন্তু নিজেদের বেলায় কম মূল্যে আর্টিক্যাল প্রকাশ করব, যেন তা সর্বত্র অধিক পঠিত হয়। প্রয়োজনে আমরা ভুর্তুকি দিতেও রাজি। ফলে পেশাদারি সুবিধার লক্ষ্যে অনেক জ্যান্টাইল লেখক আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি করতে আসবে। তাদের মধ্যে অনেকে থাকবে, যারা আমাদের বিরুদ্ধে লিখতে ইচ্ছুক। কিন্তু আমাদের অর্থের কাছে তাদের এই দম্ভ হারিয়ে যাবে।
খ. সাংবাদিকতা শিল্পে ইহুদিদের তিনটি স্তর রয়েছে। পুরো পৃথিবী আজ এই কৌশলে ছেয়ে গেছে, কিন্তু কম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হওয়ার দরুন আমরা তা প্রত্যক্ষ করতে পারছি না।
প্রথম স্তরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থাকবে, যারা সতর্কতার সাথে কেবল আমাদের (জায়োনিস্ট) পক্ষেই কথা বলবে। জাতীয় স্বার্থে আঘাত পায় তারা এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করবে না; বরং বাজারের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো পালটা জবাব দিয়ে তাদের থামিয়ে দেবে।
দ্বিতীয় স্তরেরগুলো হবে আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো। তারা আমাদের এবং সাধারণ জনগণ উভয়ের পক্ষেরই কাজ করবে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হবে নিরপেক্ষ শ্রেণির পাঠকদের আকৃষ্ট করা।
তৃতীয় স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো স্পষ্টত আমাদের বিরোধিতা করবে। সমাজের যেসব মানুষ আমাদের বিপক্ষে কথা বলতে চায় এবং শত্রু বলে মনে করে, তারা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজদের দলভুক্ত বলে মনে করবে। কিন্তু এগুলোও যে আমাদেরই প্রতিষ্ঠান, তা তারা বুঝতেও পারবে না।
যেসব প্রতিষ্ঠান আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে, সেগুলো আমাদের অর্থ দিয়েই পরিচালিত হবে। তবে তারা শুধু সেসব বিষয়ে কথা বলবে, যা আমাদের সংশোধন করা প্রয়োজন।
আমাদের পত্রিকাগুলো বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে কথা বলবে। যেমন: শাসনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, রাজতন্ত্র ও নৈরাজ্যবাদ। বোকা জ্যান্টাইলরা এসব মতবাদকে আদর্শ ভেবে বুলি আওড়াবে। আসলে তারা সেভাবেই চিন্তা করবে, যেভাবে আমরা চাইব।
তৃতীয় স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের নানা বিষয় নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেবে, তবে তারা কখনো আলোচনা গভীর পর্যন্ত নিয়ে যাবে না। ফলে সাধারণ জনগণ কখনোই বিতর্কের মূল শিকড় খুঁজে পাবে না। পরে আমাদের প্রথম স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ বিবরণসহ সামনে হাজির হবে এবং উক্ত বিতর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করবে। অর্থাৎ তৃতীয় স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথম স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাস্তা সহজ করে দেবে।
এসব তথাকথিত বিতর্ক জনসাধারণকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী করে তুলবে। আর আমরাও তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেবো, কিন্তু আমাদের নির্দেশনা ভঙ্গ করে তারা কখনো কিছু প্রকাশ করতে পারবে না।
আবার কখনো যদি প্রয়োজন হয়, তবে তৃতীয় স্তরের গণমাধ্যম আমাদের বিরুদ্ধে যে বিতর্কের জন্ম দেবে, তা খণ্ডাতে দ্বিতীয় স্তরের গণমাধ্যম সামনে এগিয়ে আসবে।
'আমাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করার দরুন জ্যান্টাইলরা আর নিজেদের পত্রিকা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রয়োজন বোধ করবে না। অর্থাৎ যুদ্ধ করার মতো কোনো অস্ত্রই তাদের থাকবে না। ফলে কোনো রকম বাধা-বিপত্তি ছাড়াই আমরা তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করব।'
অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, আজ গণমাধ্যমের কোনো সংবাদ বিশ্বাস করতে চাইলে প্রথমে দেখতে হবে উক্ত সংবাদটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তারপর দেখতে হবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কে, তার আইনজীবী কে, কাদের সঙ্গে তার আঁতাত রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক কে, সমাজের সঙ্গে তার কেমন যোগাযোগ, কোন কোন প্রতিষ্ঠানগুলো এ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে এবং কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের নিয়মিত উঠাবসা রয়েছে।
Jewish Encyclopedia পড়লে আপনি এমন অনেক পত্রিকা প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে পারবেন, যেগুলো ইহুদিদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পরপরই বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত তাদের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে সত্যের মতো আর কোনো বিষ নেই, যা এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীটি এত ভয় পায়। তাদের গোপন পরিকল্পনার সামান্য কিছু ফাঁস হয়ে যাওয়ার অর্থই হলো- তাদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
Baron Moses Montefiore ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত ইহুদি ব্যাংকার। পোলান্ডের বিখ্যাত শহর ক্রাকউতে থাকাকালে তিনি নিজের জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের উল্লেখ করে বলেন-
'তোমরা কী সব ফালতু বিষয় নিয়ে কথা বলছ? যতদিন না গণমাধ্যমের পুরো নিয়ন্ত্রণ আমাদের দখলে আসবে, ততদিন পর্যন্ত যাই করি না কেন, সব ব্যর্থতায় রূপ নেবে। তাই আমাদের উচিত বিশ্ব গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যেন সাধারণ মানুষকে অন্ধ ও বোকা বানানো সম্ভব হয়।'
যে যুগে সাংবাদিকতাশিল্পে স্বাধীনতা ছিল
২৫ জুন, ১৯২১, নিউইয়র্কের Independent পত্রিকা প্রতিষ্ঠান হতে 'New York and the Real Jew' শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করা হয়। উক্ত কলামের লেখক ছিলেন Rollin Lynde Hartt। কলামটির ছোট্ট একটি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-
'ইহুদিরা হলো আমেরিকার প্রথম শ্রেণির প্রাণীবিশেষ। তাদের নিয়ে কেউ কিছু লিখতে যেয়ো না। তুমি হয়তো সত্য উপস্থাপন করতে চাইছ, কিন্তু সেই লেখা যদি অনিচ্ছাবশত তাদের বিরুদ্ধে চলে যায়, তবে তোমাকে নিয়ে চারদিকে সমালোচনার এমন ঝড় শুরু হবে, যা কখনো বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই তাদের প্রসঙ্গে সবার নীরব থাকাই উচিত।'
ধরুন, কোনো টুপি কোম্পানি তাদের নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা করল। এবার সেই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে তারা চারদিকে প্রচার শুরু করবে যে, বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীদের চামড়া দিয়ে টুপি তৈরি করার কারণে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবী হয়তো তার অনেক সন্তানকে হারাতে বসেছে। নিছক সৌখিনতার বশে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত বন্য প্রাণী হত্যা করছে, তাদের অবশ্যই সামাজিকভাবে বর্জন করা উচিত। তাদের জন্য প্রকৃতি ভারসাম্য হারাতে বসেছে।
এরপর টুপি কোম্পানিটির ইতিহাস এবং কীভাবে বিভিন্ন প্রাণীর চামড়া দিয়ে টুপি তৈরি করছে, সেই গল্প খুব করুণ উপায়ে উপস্থাপন করবে, যেন সাধারণ মানুষ অবচেতন মনে তাদের বর্জন করতে বাধ্য হয়। তাদের এ জাতীয় আক্রমণের স্বীকার হয়েছে- এমন কয়েকেটি প্রতিষ্ঠানের নাম হলো: Herald Newspaper, A. T. Stewart Company, Grand Union Hotel at Saratoga, G.P. Putnam's Sons ইত্যাদি।
New York Herald দীর্ঘ নব্বই বছর সংবাদিকতা শিল্পে রাজত্ব করেছে। বহু চেষ্টা করেও প্রতিষ্ঠানটির মালিক James Gordon Bennett-কে তারা কাবু করতে পারেনি। এমন সাম্রাজ্যবাদী সমাজেও যে একটি প্রতিষ্ঠান এত দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে, এটা চাট্টিখানি কথা নয়।
যেকোনো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের নিকট তারা ছিল বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহের নিমিত্তে ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে তারা শাখা অফিস গড়ে তুলেছিল। ১৮৮০ সালের আগ পর্যন্ত ইহুদিরা মিডিয়া জগতে আজকের মতো দাপুটে অবস্থানে ছিল না। যখন তাদের কোনো স্ক্যান্ডাল নিয়ে চারদিকে গুঞ্জন শুরু হতো, তখন তারা দলবেঁধে বিভিন্ন পত্রিকা প্রতিষ্ঠানে হাজির হতো, যেন তাদের এই বিষয়গুলো প্রকাশ করা না হয়। অর্থের জোরে হোক আর অন্য উপায়ে হোক, পত্রিকা ও ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা নিজেদের করে নিত। তারা একসময় বুঝল- এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পিছে দৌড়ে লাভ হবে না, যতদিন না নিজেরা এই শিল্পে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারছে।
তাদের কিছু ব্যাংকার Bennett সাহেবকে অনুরোধ করল, যেন প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের দায়িত্ব তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় তাদের ব্যাংকারগণ মেক্সিকো সরকারকে বড়ো অঙ্কের বেশ কয়েকটি ঋণ দিয়েছিল, যার দ্বারা সেখানে প্রচুর শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো খুব গোপনে তাদেরই সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হতো, যা তখন পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারেনি। একসময় এ সবগুলো প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। অবস্থা এমন দাঁড়ায়, যেন পুরো মেক্সিকো দেশটাই দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা চায়নি এই গোপন ষড়যন্ত্রের খবর প্রচারিত হোক, কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও তারা Herald-এর একজন কর্মীকেও কাবু করতে পারেনি। যথা সময়ে এই সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কিছু বিষয় আছে, যা পত্রিকা প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো প্রকাশ করে না। কারণ, এতে তারা নিজেরাই বিপদে পড়বে। সংবাদপত্র ক্রয় করতে আমরা যে টাকা দিই, তাতে কেবল কাগজের মূল্যই ওঠে। কলম, কালি, ছাপাখানা, বিদ্যুৎ খরচ এবং কর্মীদের মজুরি কোথা থেকে জোগাড় করে? তা ছাড়া এত এত জায়গা ঘুরে তাদের সাংবাদিকরা যে খবর জোগাড় করে, সেই খরচই-বা আসে কোত্থেকে? এখানেই তাদের দুর্বলতা। এতসব খরচ কাটিয়ে মুনাফা আসে বিজ্ঞাপনের হাত ধরে। আজ ইউরোপ-আমেরিকার সব বড়ো বড়ো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান তাদের দখলে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, পত্রিকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের উৎস তারাই? যত যাই হোক, পত্রিকাগুলোও তো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। যে সংবাদ প্রকাশে আর্থিক ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে, তা তারা কখনোই প্রচার করবে না।
১৮৮০-এর দশকে ইহুদিরা নিজেদের মধ্য থেকে নিউইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। সকল পত্রিকা প্রতিষ্ঠানের কাছে গোপন চিঠির মাধ্যমে প্রস্তাব করা হয়, তারা যেন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তাদের প্রার্থীদের প্রচারণার কাজে অংশ নেয়। এত বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব পেয়ে সবাই যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। Bennett সাহেব তখন দেশের বাহিরে ছিলেন। Herald-এর একজন কর্মী টেলিগ্রামযোগে তাকে চিঠিটি পাঠায়। তিনি বলেন- 'পুরো চিঠি আগামীকালের পত্রিকায় ছাপিয়ে দাও।'
তিনি এও পরিষ্কার করে উল্লেখ করতে বলেন- 'আমাদের উদ্দেশ্য সমাজের সেবা করা, কোনো রাজনীতিবিদের তোষামোদ করা নয়।' তার একটি বিশেষ গুণ ছিল, তিনি ধর্ম পরিচয় উল্লেখ করে কোনো সংবাদ প্রকাশ করতেন না। কেবল কূটকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করতেন।
সকালের প্রথম ঘণ্টায় পত্রিকা হাতে পেয়ে শুধু ইহুদিরাই নয়; জ্যান্টাইলরা পর্যন্ত অবাক হয়ে যায়। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষ এমন দুঃসাহসিক কাজের অভিবাদন জানাতে ভুল করে না। অন্যদিকে, ইহুদিরা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে শুরু করে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, এই পত্রিকায় আর কখনো কোনো বিজ্ঞাপন ছাপানো হবে না। এতে তাদের বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ হবে প্রায় ৬ লাখ ডলার। এমতাবস্থায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আদৌ বেঁচে থাকতে পারত কি না সন্দেহ। সবাই ভেবেছিল, তিনি হয়তো এখানেই থেমে যাবেন। কিন্তু তিনি যে আরও বড়ো যুদ্ধে নামবেন, তা কেউ-ই অনুমান করতে পারেনি। সেকালে এটি ছিল নিউইয়র্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা প্রতিষ্ঠান। শহরের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই পত্রিকা পড়ত। পুরো ইউরোপ ও আমেরিকার অন্যান্য প্রদেশগুলোকে হিসাব করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে।
তার পত্রিকায় জ্যান্টাইলদের বিজ্ঞাপনও কম প্রকাশিত হতো না, তবে ইহুদিদের বিজ্ঞাপনগুলো পত্রিকার আকর্ষণীয় পৃষ্ঠাগুলোতে বড়ো আকারে ছাপানো হতো। কারণ, তারা খরচ বেশি দিত। অন্যদিকে জ্যান্টাইলদের বিজ্ঞাপনগুলো ছোটো করে পৃষ্ঠার বিভিন্ন কোনায় ছাপানো হতো। তিনি নতুন এক ফন্দি করলেন। যারা এতদিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন পত্রিকায় বড়ো করে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারত না, তাদের সবাইকে ডিসকাউন্ট মূল্যে আমন্ত্রণ জানালেন। সে সময় সাধারণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিকট এমন একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার ছিল কল্পনাতীত ব্যাপার। এমন অফার পেয়ে সবাই যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ল। অবস্থা এমন দাঁড়াল- কাকে বাদ দিয়ে কাকে রাখবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। ফলে তার প্রতিষ্ঠান আগের মতো লাভ না করলেও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেল; বরং তার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেল।
জ্যান্টাইল সমাজে এই পত্রিকার চাহিদা আরও বাড়তে শুরু করল। অপর দিকে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন ইহুদিদের পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণও কমে যেতে শুরু করল। এমন নয় যে, শহরে আর কোনো পত্রিকা প্রতিষ্ঠান ছিল না, কিন্তু Herald-এর মান ছিল অন্য পর্যায়ের।
একসময় তারা পুনরায় এই প্রতিষ্ঠানটির নিকট ফিরে আসতে বাধ্য হলো। Bennett সাহেব কোনো প্রতিশোধ নিলেন না। তবে বললেন- 'পত্রিকার বিভিন্ন কলাম-স্থান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্যদের নিকট বিক্রি হয়ে গেছে। চুক্তির সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিজ্ঞাপন সরিয়ে দেওয়া যাবে না।' এরপর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে উঠল। তিনি যে সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী নন তা আগেই উল্লেখ করেছি, কিন্তু ইহুদিরা তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ছুড়ে মারল। তারা পত্র মারফত জিজ্ঞেস করল- 'কী পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তিনি বিজ্ঞাপন প্রচারস্বত্ব জ্যান্টাইলদের নিকট বিক্রি করেছেন।' তিনি এবারও পুরো চিঠি পত্রিকায় ছাপিয়ে দিলেন। সেদিন যতজন পত্রিকাটি পড়েছে, তাদের কেউ যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিল না। যুদ্ধে আবারও জিতলেও Bennett সাহেবকে এবার চরম মূল্য দিতে হলো। হতাশা ও অপমানে ইহুদিরা পুনরায় তাদের বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিল; যেমনটা করেছিল ১৮৮৭ সালে প্রথমবারের মতো। পত্রিকা জগতে এবার তারা নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে। তারা বুঝতে পারে, তথ্যজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে হাজার পরিকল্পনা করেও কোনো লাভ হবে না।
ক্ষমতার দাপট দিয়ে হোক আর অর্থের লোভ দেখিয়ে হোক, ধীরে ধীরে তারা সকল পত্রিকা প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের করে নিতে শুরু করে। Bennett সাহেবও বার্ধক্যে পৌঁছে গেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তার মৃত্যুর পর ইহুদিরা এই প্রতিষ্ঠান কিনে নিতে চাইবে। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসতেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি উইল করে যান- একক কোনো উত্তরসূরির নিকট এই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কখনো অর্পিত হবে না। যারা এতদিন পর্যন্ত Herald-এর জন্য কাজ করেছে, তাদের সকলের মাঝে এর সম্পদ ও মুনাফা সমানভাবে বণ্টিত হবে। ১৯১৮ সালের মে মাসে তিনি পরলোক গমন করেন।
দিনটির জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। ইতঃপূর্বে তারা কেবল বিজ্ঞাপনই বন্ধ করেনি; বরং প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কমিয়ে দিতে এমন কিছু নেই যা করেনি। একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে একজন দক্ষ লোকের হাতে পরিচালিত হতো, মৃত্যুর পর তা একাধিক ব্যক্তির হাতে চলে যায়। ফলে ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এমন নয় যে তাদের কেউ এই শিল্পে দক্ষ ছিল না, কিন্তু পেছন থেকে একটি গোষ্ঠী বারবার তাদের ব্যবসায়িক পথ আটকে দাঁড়াচ্ছিল। এই বাধা তারা সহজভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি। তা ছাড়া অহংকার আর বড়াই নিয়ে নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও ছিল।
ইহুদিরা ভেবেছিল, যখন প্রতিষ্ঠানটি একেবারে মুনাফাশূন্য হয়ে পড়বে এবং পরিচালনা পর্ষদ অভ্যন্তরীণ সমস্যায় হ-য-ব-র-ল হয়ে পড়বে, তখন হয়তো ট্রাস্টি বোর্ড এটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেবে; হলোও তাই, কিন্তু ইহুদিদের চেয়ে অধিক মূল্যের প্রস্তাব দিয়ে Frank A. Munsey পত্রিকাটি কিনে নেয়। পুরোনো নাম মুছে নতুন নাম দেওয়া হয় New York Sun। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডারগণ সম্পদ ভাগাভাগি করে বিভিন্ন দেশে চলে যায়। আর এভাবেই আমেরিকায় স্বাধীন সাংবাদিকতা শিল্পের ইতি ঘটে।
তথ্য বাণিজ্য করে যে প্রচুর মুনাফা উপার্জন করা সম্ভব, তা ইহুদিদের পূর্বে অন্য কোনো জাতি বাস্তবায়ন করে দেখাতে পারেনি। তারাই প্রথম জাতি, যারা তথ্য বাণিজ্যকে সাংবাদিকতায় রূপদান করেছে। খ্রিষ্টবছর গণনা শুরুর পর থেকে ইউরোপের দেশগুলোতে কখন কী ঘটতে যাচ্ছে, সেই তথ্য তারা বহু আগেই পেয়ে যেত। তারপর এসব তথ্য নিউজলেটারের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে প্রেরণ করত। কীভাবে ইহুদিরা ভবিষ্যতের সংবাদ আগেই পেয়ে যেত, তা বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।
আজ পর্যন্ত কখনো কি এমন কারও নাম শুনেছেন, যিনি একই সঙ্গে একাধিক দেশের সংসদ সদস্য ছিলেন? আদৌ কি কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে ইতালি ও জার্মানির সংসদ সদস্য হতে পারবে? ইতিহাসে এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব?
আশা করি আপনাদের সেনহাড্রিনের কথা মনে আছে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্রতিনিধিগণ এই সভায় একত্রিত হতো। মজার বিষয়- তাদের বেশিরভাগ সদস্যই ছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। যেমন: সংসদ সদস্য, সামরিক উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা ইত্যাদি। ফলে তাদের নিকট নিজ নিজ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য মজুদ থাকত। সেনহাড্রিনের অধিবেশন বসলে তারা সবাই নিজ নিজ এলাকার খবরাখবর সেখানে উপস্থাপন করত! যেমন : ফ্রান্সের প্রতিনিধিরা ফ্রান্সের খবর এবং ইংল্যান্ডের প্রতিনিধিরা ইংল্যান্ডের খবর ফাঁস করত। ইউরোপিয়ান রাজারা যত নতুন পরিকল্পনাই গ্রহণ করুক না কেন, সেনহাড্রিনের মাধ্যমে সেই সংবাদ অন্য সদস্যদের কানে চলে যেত। এবার তাদের রাজা উত্থাপিত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন সব পরিকল্পনা তৈরি করতেন। ইউরোপিয়ান রাজারা হয়তো সেনহাড্রিনের বিষয়টি জানতেন না, তবে তথ্য পাচারের বিষয়টি অনুমান করতে পেরেছিলেন। তাই প্রায় সময় ইহুদিদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতো। পুরো বিষয়টি আপনাদের কাছে গল্প বলে মনে হতে পারে।
অনেকেই হয়তো রথসচাইল্ড পরিবারের নাম শুনে থাকবেন। পরিবারটির প্রতিষ্ঠাতা Mayer Amschel Rothschild তার পাঁচ ছেলেকে ইউরোপের পাঁচটি দেশে পাঠিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবসায় সূচনা করেন।
ইহুদিদের কাছে তথ্যের কেন এত কদর ছিল, তা Nathan Rothschild-এর ছোট্ট একটি ঘটনা থেকে জানতে পারবেন। নেপোলিয়নকে যখন নির্বাসিত করে এলবা দ্বীপে পাঠানো হয়, তখন ইংল্যান্ড ভেবেছিল হয়তো ইউরোপ থেকে এবার তার বিদায় হলো। তবে নেপোলিয়ান যে আবারও ইউরোপে ফিরে আসবেন, তা অনেকেই ভাবতে পারেনি; এমনকী Nathan নিজেও নয়। এরপর শুরু হয় সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধ, যা 'Battle of Waterloo' নামে পরিচিত। সেখানে ইংল্যান্ডের কাছে ফ্রান্সের নেপোলিয়ন বাহিনী পরাজিত হয়।
আগেই বলে রাখি, Nathan ছিল অতি ভীরু ও কাপুরুষ প্রকৃতির মানুষ। সে নিজে কখনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত না। রক্ত দেখলেই চুপসে যেত, তবে প্রতিটি যুদ্ধেই সে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করত। এই যুদ্ধে সে ইংল্যান্ড সেনাবাহিনীর পেছনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে। যুদ্ধ শুরু হওয়া মাত্র মাঠের কোথাও সে লুকিয়ে পড়ে এবং দেখতে থাকে, যুদ্ধের ফলাফল কোন দিকে যায়। পরাজয় নিশ্চিত জেনেও নেপোলিয়ন যখন তার সৈন্য বাহিনীকে শেষ আক্রমণের আদেশ দেয়, Nathan বুঝে যায়- যুদ্ধের ফলাফল কী হতে যাচ্ছে।
তখন সে দ্রুত ব্রাসেলসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পথে অনেকের সাথে দেখা হয়, কিন্তু যুদ্ধের ফলাফল সে কাউকে জানায় না। ব্রাসেলস থেকে অতি উচ্চমূল্যে একটি ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে দ্রুত ওস্টেন্ডে পৌঁছায়। সেখান থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে ইংল্যান্ড। ঝড় শুরু হওয়ার দরুন কোনো জাহাজ যেতে রাজি হচ্ছিল না। আগেই বলেছি, Nathan ছিল ভীরু ও কাপুরুষ প্রকৃতির। কিন্তু তার চোখে যে ভাসছে লন্ডন শেয়ার বাজার; যা বর্তমানে অনায়াসে দখল করা সম্ভব! অনেক কষ্টে সে ২,০০০ ফ্রাঙ্ক (Francs) ভাড়া দিয়ে একটি জাহাজ পেল। অবশেষে ভাগ্যের কল্যাণে অর্ধমৃত অবস্থায় ইংল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছাল।
সে সময় কোনো টেলিগ্রাম ছিল না। তাই যুদ্ধের ফলাফল কী হয়েছে, তা কারও পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। ২০ জুন ১৮১৫, Nathan নিজ অফিসে হাজির হয়। তার মনমরা চেহারা দেখে সবাই ঘাবড়ে যায়। চারদিকে জনরব ছড়িয়ে পড়ে ইংল্যান্ড যুদ্ধে হেরেছে। জনরব আরও ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যখন সে যুদ্ধে পরাজিত হওয়া নিয়ে একটি কলাম লিখে। কেউ বুঝতে পারেনি, Nathan কিছু একটা লুকিয়ে রাখছে। ফ্রান্সের সৈন্যরা ইংল্যান্ড আক্রমণ করতে পারে, এই ভেবে অনেকে তাদের শেয়ার বিক্রি করা শুরু করে। এই সুযোগে Nathan সাহেব পানির দামে সবগুলো শেয়ার কিনে নেয়।
পরপর দুই দিন (২০-২১ তারিখ) এই শেয়ার কেনা-বেচা চলল। দ্বিতীয় দিন শেয়ার বাজার বন্ধ হওয়ার আগে সে ১ কোটি ডলার সমমূল্যের শেয়ার-সিকিউরিটি ক্রয় করে। এর কিছুক্ষণ পর ইংল্যান্ডের বিজয়ী সেনাবাহিনি যুদ্ধ জয়ের খবর নিয়ে ওয়ালিংটনে হাজির হয়, কিন্তু ততক্ষণে জনসম্পত্তির এক বিশাল অংশ Nathan সাহেবের সিন্ধুকে চলে যায়। এর পুরোটা সম্ভব হয়েছিল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করে মিথ্যা খবর প্রচারের মাধ্যমে।
যেখানে নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের কোনো অস্তিত্ব নেই, সেখানে সংখ্যালঘুরা খুব সহজেই ক্ষমতা দখল করতে পারে। ছোট্ট এই উদাহরণটি এর যথার্থতা প্রমাণ করে। একই ঘটনা ঘটেছে বলশেভিক ও ফরাসি বিপ্লবের সময়ও।
সে সময় রাশিয়া ও ফ্রান্সের সকল বড়ো বড়ো পত্রিকা ছিল ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণে। তারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সংবাদ প্রকাশ করত। মূলত সমাজে সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব কতটুকু, তা তখনকার মানুষ বুঝতে পারেনি। প্যারিসের মানুষ অনেক দিন পর্যন্ত জানতই না, তাদের দুর্গ (Bastille) ভেঙে পড়েছে এবং কয়েদিরা পালিয়ে গেছে। আর এখান থেকেই ফরাসি বিপ্লবের সূচনা।
সত্যি বলতে, সাধারণ মানুষ আজ গণমাধ্যমের ওপর আস্থা সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে ফেলেছে। আমরা নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম এবং সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে একতাবদ্ধ হতে পারছি না, যা আমাদের জাতীয় চেতনাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। যে যার মতো নিজের সাফাই গেয়ে যাচ্ছে এবং অন্যের জয়কে নিজের জয় বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
দ্বিতীয় প্রটোকলের দিকে লক্ষ করুন- 'আধুনিক সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হচ্ছে গণমাধ্যম, যা দ্বারা ইচ্ছামতো জনমত তৈরি করা সম্ভব। গণমাধ্যমের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনসাধারণের দৈনন্দিন খবরাখবর উপস্থাপন, সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা এবং এর সম্ভাব্য সমাধান জাতির সামনে তুলে ধরা। কিন্তু আমরা কোনো রাষ্ট্রকেই নিজেদের ইচ্ছামতো গণমাধ্যম ব্যবহার করার সুযোগ দেবো না। কারণ, ইতোমধ্যেই গণমাধ্যমের লাগাম আমাদের হাতে চলে এসেছে। তবে এ জন্য আমাদের অনেক অশ্রু ও রক্ত ঝরাতে হয়ছে।'
গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, সাম্যবাদ ইত্যাদি যে আন্দোলনের কথাই বলি না কেন, সব আন্দোলন ইহুদিরাই শুরু করেছে। আর এ আন্দোলনের বীজ মানুষের মগজে গেঁথে দিতে দিতে তারা গণমাধ্যমকে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এসব আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতারই পরিবর্তন এনেছে, জনজীবনে কোনো পরিবর্তন আনেনি। এ প্রসঙ্গে তৃতীয় প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'রাষ্ট্রীয় সংবিধানে সম-অধিকারের ধারাগুলো মূলত কোনো অধিকারের মধ্যেই পড়ে না। এসব তথাকথিত জন-অধিকার শুধু মানুষের কল্পনাতেই থাকে, কখনো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। খাবার টেবিলে যে সামান্য কিছু রুটির টুকরো উচ্ছিষ্ট থেকে যায়, তা-ই প্রলেতারিয়েটদের অর্জন। কিন্তু কেবল উচ্ছিষ্ট খাবার দিয়েই তাদের সব ভোট কিনে নেব। প্রজা নির্যাতন ও সামরিক অবরোধ দিয়ে তারা আর কতদিন জনমানুষকে আটকে রাখবে? আমরা চাইলে তাদের মাঝে আন্দোলনের জোয়ার বইয়ে দিতে পারি।'
ষষ্ঠ প্রটোকলের একটি অনুচ্ছেদ আবারও উপস্থাপন করছি-
'আমরা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনে জড়িয়ে দেবো। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দেবো। আমরা বলব- কৃষি উৎপাদন কম হওয়ায় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের মাঝে সুকৌশলে অরাজকতা ছড়িয়ে দেবো এবং আত্মতৃপ্তির উপায় হিসেবে মদপানে আসক্ত করে রাখব। এভাবে তারা ধীরে ধীরে জ্ঞানশূন্য জাতিতে পরিণত হবে।'
এরপর উল্লেখ আছে-
'এমতাবস্থায় রক্ষাকর্তা হিসেবে আমরা তাদের সামনে হাজির হব। সামাজিক অচলাবস্থা পরিবর্তনের লোভ দেখিয়ে তাদের সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, সাম্যবাদ (কমিউনিজম) ইত্যাদি আন্দোলনে যোগদানের আহ্বান জানাব। আর এই আহ্বান তাদের বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ ধ্বংস করে দেবে।
আমরা এমন আরও অনেক তত্ত্বের জন্ম দিয়েছি, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অনুশাসন হিসেবে গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছে।'
একটি দেশের প্রশাসনকে কীভাবে ভেঙে দেওয়া যায়, তা নিয়ে তৃতীয় প্রটোকলে আলোচনা করা হয়েছে-
'আমাদের সাহসী সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যক্তিকে নিয়ে প্রতিনিয়ত আক্রমণাত্মক কলাম লিখবে, যা জনসাধারণের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে। একসময় তাদের এই সামষ্টিক প্রতিক্রিয়া গণ-আন্দোলনে রূপ নেবে, যা সরকারের পতন ঘটিয়ে ছাড়বে।'
বিশ্ব কর্মসূচি বাস্তবায়নে গণমাধ্যম কতটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, তা নিয়ে সপ্তম প্রটোকলে বলা হয়েছে-
'আমরা জ্যান্টাইল সরকারদের উসকে দেবো, যেন তারা প্রতিবাদী জনগণের বিরুদ্ধে পালটা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অর্থাৎ আমাদের কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারের পক্ষে কাজ করবে। এর ফলে সরকার ও সাধারণ মানুষের সম্পর্ক দা-কুমড়ায় রূপ নেবে; এটা আমাদের জন্য খুব দরকারি।'
ইহুদিরা এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে- যেখানে তাদের নিযুক্ত কর্মীরা জনসাধারণের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করার অভিনয় করে থাকে। সাধারণ মানুষ ভাবে- হয়তো তারাই প্রকৃত সাংবাদিক এবং তাদের পক্ষেই কাজ করছে, কিন্তু এটা হলো গোপন ফাঁদ। যদি কখনো সাধারণ মানুষ তথ্যপূর্ণ রিপোর্ট নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে যায়, তবে আর রক্ষা নেই। কারণ, তথ্য-জ্ঞানসম্পূর্ণ এই লোকেদের পরিচয় সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে চলে যাবে। ফলে গুম বা হত্যাকাণ্ডের মতো যেকোনো একটি করুণ পরিণতি তার কপালে লেখা হয়ে যাবে। তাই বলে তারা যে সাধারণ মানুষের কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করে না তা নয়। তবে কী প্রকাশ করবে তা ইহুদিদের সাংগঠনিক স্বার্থের ওপর নির্ভর করে। গণমাধ্যম নিয়ে তাদের কিছু কৌশল নিচে উপস্থাপন করা হলো :
ক. সাধারণত বড়ো আকারের প্রবন্ধগুলো মানুষ এড়িয়ে যায়। মানুষ ছোটো আকারের প্রবন্ধগুলো পড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। তাই পৃষ্ঠা বাড়িয়ে কেউ যেন তা সাহিত্য-কর্ম বানিয়ে না ফেলে, এটাই সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চাওয়া। আবার বড়ো আকারের আর্টিক্যালগুলোতে উৎপাদন খরচ বেশি হয় বলে অধিকাংশ পাঠক তা কিনতে চায় না। স্বাভাবিকভাবে এই লেখাগুলো কম পঠিত হয়। তাই প্রকাশনী শিল্পে তারা নতুন আইন জারি করে- '৩০ পৃষ্ঠার কম প্রতিটি আর্টিক্যালের জন্য দ্বিগুণ খরচ প্রদান করতে হবে।'
কিন্তু নিজেদের বেলায় কম মূল্যে আর্টিক্যাল প্রকাশ করব, যেন তা সর্বত্র অধিক পঠিত হয়। প্রয়োজনে আমরা ভুর্তুকি দিতেও রাজি। ফলে পেশাদারি সুবিধার লক্ষ্যে অনেক জ্যান্টাইল লেখক আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরি করতে আসবে। তাদের মধ্যে অনেকে থাকবে, যারা আমাদের বিরুদ্ধে লিখতে ইচ্ছুক। কিন্তু আমাদের অর্থের কাছে তাদের এই দম্ভ হারিয়ে যাবে।
খ. সাংবাদিকতা শিল্পে ইহুদিদের তিনটি স্তর রয়েছে। পুরো পৃথিবী আজ এই কৌশলে ছেয়ে গেছে, কিন্তু কম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হওয়ার দরুন আমরা তা প্রত্যক্ষ করতে পারছি না।
প্রথম স্তরে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থাকবে, যারা সতর্কতার সাথে কেবল আমাদের (জায়োনিস্ট) পক্ষেই কথা বলবে। জাতীয় স্বার্থে আঘাত পায় তারা এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করবে না; বরং বাজারের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো পালটা জবাব দিয়ে তাদের থামিয়ে দেবে।
দ্বিতীয় স্তরেরগুলো হবে আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো। তারা আমাদের এবং সাধারণ জনগণ উভয়ের পক্ষেরই কাজ করবে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হবে নিরপেক্ষ শ্রেণির পাঠকদের আকৃষ্ট করা।
তৃতীয় স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো স্পষ্টত আমাদের বিরোধিতা করবে। সমাজের যেসব মানুষ আমাদের বিপক্ষে কথা বলতে চায় এবং শত্রু বলে মনে করে, তারা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজদের দলভুক্ত বলে মনে করবে। কিন্তু এগুলোও যে আমাদেরই প্রতিষ্ঠান, তা তারা বুঝতেও পারবে না।
যেসব প্রতিষ্ঠান আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলবে, সেগুলো আমাদের অর্থ দিয়েই পরিচালিত হবে। তবে তারা শুধু সেসব বিষয়ে কথা বলবে, যা আমাদের সংশোধন করা প্রয়োজন।
আমাদের পত্রিকাগুলো বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে কথা বলবে। যেমন: শাসনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, প্রজাতন্ত্র, রাজতন্ত্র ও নৈরাজ্যবাদ। বোকা জ্যান্টাইলরা এসব মতবাদকে আদর্শ ভেবে বুলি আওড়াবে। আসলে তারা সেভাবেই চিন্তা করবে, যেভাবে আমরা চাইব।
তৃতীয় স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের নানা বিষয় নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেবে, তবে তারা কখনো আলোচনা গভীর পর্যন্ত নিয়ে যাবে না। ফলে সাধারণ জনগণ কখনোই বিতর্কের মূল শিকড় খুঁজে পাবে না। পরে আমাদের প্রথম স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ বিবরণসহ সামনে হাজির হবে এবং উক্ত বিতর্কিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করবে। অর্থাৎ তৃতীয় স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথম স্তরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর রাস্তা সহজ করে দেবে।
এসব তথাকথিত বিতর্ক জনসাধারণকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী করে তুলবে। আর আমরাও তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেবো, কিন্তু আমাদের নির্দেশনা ভঙ্গ করে তারা কখনো কিছু প্রকাশ করতে পারবে না।
আবার কখনো যদি প্রয়োজন হয়, তবে তৃতীয় স্তরের গণমাধ্যম আমাদের বিরুদ্ধে যে বিতর্কের জন্ম দেবে, তা খণ্ডাতে দ্বিতীয় স্তরের গণমাধ্যম সামনে এগিয়ে আসবে।
'আমাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করার দরুন জ্যান্টাইলরা আর নিজেদের পত্রিকা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রয়োজন বোধ করবে না। অর্থাৎ যুদ্ধ করার মতো কোনো অস্ত্রই তাদের থাকবে না। ফলে কোনো রকম বাধা-বিপত্তি ছাড়াই আমরা তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করব।'
অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, আজ গণমাধ্যমের কোনো সংবাদ বিশ্বাস করতে চাইলে প্রথমে দেখতে হবে উক্ত সংবাদটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তারপর দেখতে হবে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কে, তার আইনজীবী কে, কাদের সঙ্গে তার আঁতাত রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক কে, সমাজের সঙ্গে তার কেমন যোগাযোগ, কোন কোন প্রতিষ্ঠানগুলো এ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে এবং কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের নিয়মিত উঠাবসা রয়েছে।
Jewish Encyclopedia পড়লে আপনি এমন অনেক পত্রিকা প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে পারবেন, যেগুলো ইহুদিদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পরপরই বন্ধ হয়ে গেছে। মূলত তাদের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে সত্যের মতো আর কোনো বিষ নেই, যা এই আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীটি এত ভয় পায়। তাদের গোপন পরিকল্পনার সামান্য কিছু ফাঁস হয়ে যাওয়ার অর্থই হলো- তাদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
Baron Moses Montefiore ছিলেন অষ্টাদশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত ইহুদি ব্যাংকার। পোলান্ডের বিখ্যাত শহর ক্রাকউতে থাকাকালে তিনি নিজের জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের উল্লেখ করে বলেন-
'তোমরা কী সব ফালতু বিষয় নিয়ে কথা বলছ? যতদিন না গণমাধ্যমের পুরো নিয়ন্ত্রণ আমাদের দখলে আসবে, ততদিন পর্যন্ত যাই করি না কেন, সব ব্যর্থতায় রূপ নেবে। তাই আমাদের উচিত বিশ্ব গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যেন সাধারণ মানুষকে অন্ধ ও বোকা বানানো সম্ভব হয়।'
যে যুগে সাংবাদিকতাশিল্পে স্বাধীনতা ছিল
২৫ জুন, ১৯২১, নিউইয়র্কের Independent পত্রিকা প্রতিষ্ঠান হতে 'New York and the Real Jew' শিরোনামে একটি কলাম প্রকাশ করা হয়। উক্ত কলামের লেখক ছিলেন Rollin Lynde Hartt। কলামটির ছোট্ট একটি অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-
'ইহুদিরা হলো আমেরিকার প্রথম শ্রেণির প্রাণীবিশেষ। তাদের নিয়ে কেউ কিছু লিখতে যেয়ো না। তুমি হয়তো সত্য উপস্থাপন করতে চাইছ, কিন্তু সেই লেখা যদি অনিচ্ছাবশত তাদের বিরুদ্ধে চলে যায়, তবে তোমাকে নিয়ে চারদিকে সমালোচনার এমন ঝড় শুরু হবে, যা কখনো বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই তাদের প্রসঙ্গে সবার নীরব থাকাই উচিত।'
ধরুন, কোনো টুপি কোম্পানি তাদের নিয়ে নেতিবাচক সমালোচনা করল। এবার সেই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে তারা চারদিকে প্রচার শুরু করবে যে, বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীদের চামড়া দিয়ে টুপি তৈরি করার কারণে অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবী হয়তো তার অনেক সন্তানকে হারাতে বসেছে। নিছক সৌখিনতার বশে যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত বন্য প্রাণী হত্যা করছে, তাদের অবশ্যই সামাজিকভাবে বর্জন করা উচিত। তাদের জন্য প্রকৃতি ভারসাম্য হারাতে বসেছে।
এরপর টুপি কোম্পানিটির ইতিহাস এবং কীভাবে বিভিন্ন প্রাণীর চামড়া দিয়ে টুপি তৈরি করছে, সেই গল্প খুব করুণ উপায়ে উপস্থাপন করবে, যেন সাধারণ মানুষ অবচেতন মনে তাদের বর্জন করতে বাধ্য হয়। তাদের এ জাতীয় আক্রমণের স্বীকার হয়েছে- এমন কয়েকেটি প্রতিষ্ঠানের নাম হলো: Herald Newspaper, A. T. Stewart Company, Grand Union Hotel at Saratoga, G.P. Putnam's Sons ইত্যাদি।
New York Herald দীর্ঘ নব্বই বছর সংবাদিকতা শিল্পে রাজত্ব করেছে। বহু চেষ্টা করেও প্রতিষ্ঠানটির মালিক James Gordon Bennett-কে তারা কাবু করতে পারেনি। এমন সাম্রাজ্যবাদী সমাজেও যে একটি প্রতিষ্ঠান এত দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে, এটা চাট্টিখানি কথা নয়।
যেকোনো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের নিকট তারা ছিল বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সংগ্রহের নিমিত্তে ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে তারা শাখা অফিস গড়ে তুলেছিল। ১৮৮০ সালের আগ পর্যন্ত ইহুদিরা মিডিয়া জগতে আজকের মতো দাপুটে অবস্থানে ছিল না। যখন তাদের কোনো স্ক্যান্ডাল নিয়ে চারদিকে গুঞ্জন শুরু হতো, তখন তারা দলবেঁধে বিভিন্ন পত্রিকা প্রতিষ্ঠানে হাজির হতো, যেন তাদের এই বিষয়গুলো প্রকাশ করা না হয়। অর্থের জোরে হোক আর অন্য উপায়ে হোক, পত্রিকা ও ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা নিজেদের করে নিত। তারা একসময় বুঝল- এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পিছে দৌড়ে লাভ হবে না, যতদিন না নিজেরা এই শিল্পে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারছে।
তাদের কিছু ব্যাংকার Bennett সাহেবকে অনুরোধ করল, যেন প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের দায়িত্ব তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সে সময় তাদের ব্যাংকারগণ মেক্সিকো সরকারকে বড়ো অঙ্কের বেশ কয়েকটি ঋণ দিয়েছিল, যার দ্বারা সেখানে প্রচুর শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো খুব গোপনে তাদেরই সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হতো, যা তখন পর্যন্ত কেউ বুঝতে পারেনি। একসময় এ সবগুলো প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। অবস্থা এমন দাঁড়ায়, যেন পুরো মেক্সিকো দেশটাই দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা চায়নি এই গোপন ষড়যন্ত্রের খবর প্রচারিত হোক, কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও তারা Herald-এর একজন কর্মীকেও কাবু করতে পারেনি। যথা সময়ে এই সংবাদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কিছু বিষয় আছে, যা পত্রিকা প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো প্রকাশ করে না। কারণ, এতে তারা নিজেরাই বিপদে পড়বে। সংবাদপত্র ক্রয় করতে আমরা যে টাকা দিই, তাতে কেবল কাগজের মূল্যই ওঠে। কলম, কালি, ছাপাখানা, বিদ্যুৎ খরচ এবং কর্মীদের মজুরি কোথা থেকে জোগাড় করে? তা ছাড়া এত এত জায়গা ঘুরে তাদের সাংবাদিকরা যে খবর জোগাড় করে, সেই খরচই-বা আসে কোত্থেকে? এখানেই তাদের দুর্বলতা। এতসব খরচ কাটিয়ে মুনাফা আসে বিজ্ঞাপনের হাত ধরে। আজ ইউরোপ-আমেরিকার সব বড়ো বড়ো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান তাদের দখলে। তাহলে বুঝতেই পারছেন, পত্রিকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞাপনের উৎস তারাই? যত যাই হোক, পত্রিকাগুলোও তো ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। যে সংবাদ প্রকাশে আর্থিক ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে, তা তারা কখনোই প্রচার করবে না।
১৮৮০-এর দশকে ইহুদিরা নিজেদের মধ্য থেকে নিউইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়। সকল পত্রিকা প্রতিষ্ঠানের কাছে গোপন চিঠির মাধ্যমে প্রস্তাব করা হয়, তারা যেন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তাদের প্রার্থীদের প্রচারণার কাজে অংশ নেয়। এত বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব পেয়ে সবাই যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। Bennett সাহেব তখন দেশের বাহিরে ছিলেন। Herald-এর একজন কর্মী টেলিগ্রামযোগে তাকে চিঠিটি পাঠায়। তিনি বলেন- 'পুরো চিঠি আগামীকালের পত্রিকায় ছাপিয়ে দাও।'
তিনি এও পরিষ্কার করে উল্লেখ করতে বলেন- 'আমাদের উদ্দেশ্য সমাজের সেবা করা, কোনো রাজনীতিবিদের তোষামোদ করা নয়।' তার একটি বিশেষ গুণ ছিল, তিনি ধর্ম পরিচয় উল্লেখ করে কোনো সংবাদ প্রকাশ করতেন না। কেবল কূটকর্মে জড়িত ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করতেন।
সকালের প্রথম ঘণ্টায় পত্রিকা হাতে পেয়ে শুধু ইহুদিরাই নয়; জ্যান্টাইলরা পর্যন্ত অবাক হয়ে যায়। সেইসঙ্গে সাধারণ মানুষ এমন দুঃসাহসিক কাজের অভিবাদন জানাতে ভুল করে না। অন্যদিকে, ইহুদিরা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে শুরু করে। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, এই পত্রিকায় আর কখনো কোনো বিজ্ঞাপন ছাপানো হবে না। এতে তাদের বাৎসরিক ক্ষতির পরিমাণ হবে প্রায় ৬ লাখ ডলার। এমতাবস্থায় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আদৌ বেঁচে থাকতে পারত কি না সন্দেহ। সবাই ভেবেছিল, তিনি হয়তো এখানেই থেমে যাবেন। কিন্তু তিনি যে আরও বড়ো যুদ্ধে নামবেন, তা কেউ-ই অনুমান করতে পারেনি। সেকালে এটি ছিল নিউইয়র্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা প্রতিষ্ঠান। শহরের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই পত্রিকা পড়ত। পুরো ইউরোপ ও আমেরিকার অন্যান্য প্রদেশগুলোকে হিসাব করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে।
তার পত্রিকায় জ্যান্টাইলদের বিজ্ঞাপনও কম প্রকাশিত হতো না, তবে ইহুদিদের বিজ্ঞাপনগুলো পত্রিকার আকর্ষণীয় পৃষ্ঠাগুলোতে বড়ো আকারে ছাপানো হতো। কারণ, তারা খরচ বেশি দিত। অন্যদিকে জ্যান্টাইলদের বিজ্ঞাপনগুলো ছোটো করে পৃষ্ঠার বিভিন্ন কোনায় ছাপানো হতো। তিনি নতুন এক ফন্দি করলেন। যারা এতদিন আর্থিক সীমাবদ্ধতার দরুন পত্রিকায় বড়ো করে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারত না, তাদের সবাইকে ডিসকাউন্ট মূল্যে আমন্ত্রণ জানালেন। সে সময় সাধারণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিকট এমন একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রচার ছিল কল্পনাতীত ব্যাপার। এমন অফার পেয়ে সবাই যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ল। অবস্থা এমন দাঁড়াল- কাকে বাদ দিয়ে কাকে রাখবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন। ফলে তার প্রতিষ্ঠান আগের মতো লাভ না করলেও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেল; বরং তার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেল।
জ্যান্টাইল সমাজে এই পত্রিকার চাহিদা আরও বাড়তে শুরু করল। অপর দিকে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যাওয়ার দরুন ইহুদিদের পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণও কমে যেতে শুরু করল। এমন নয় যে, শহরে আর কোনো পত্রিকা প্রতিষ্ঠান ছিল না, কিন্তু Herald-এর মান ছিল অন্য পর্যায়ের।
একসময় তারা পুনরায় এই প্রতিষ্ঠানটির নিকট ফিরে আসতে বাধ্য হলো। Bennett সাহেব কোনো প্রতিশোধ নিলেন না। তবে বললেন- 'পত্রিকার বিভিন্ন কলাম-স্থান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্যদের নিকট বিক্রি হয়ে গেছে। চুক্তির সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিজ্ঞাপন সরিয়ে দেওয়া যাবে না।' এরপর পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে উঠল। তিনি যে সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী নন তা আগেই উল্লেখ করেছি, কিন্তু ইহুদিরা তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ছুড়ে মারল। তারা পত্র মারফত জিজ্ঞেস করল- 'কী পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে তিনি বিজ্ঞাপন প্রচারস্বত্ব জ্যান্টাইলদের নিকট বিক্রি করেছেন।' তিনি এবারও পুরো চিঠি পত্রিকায় ছাপিয়ে দিলেন। সেদিন যতজন পত্রিকাটি পড়েছে, তাদের কেউ যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিল না। যুদ্ধে আবারও জিতলেও Bennett সাহেবকে এবার চরম মূল্য দিতে হলো। হতাশা ও অপমানে ইহুদিরা পুনরায় তাদের বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিল; যেমনটা করেছিল ১৮৮৭ সালে প্রথমবারের মতো। পত্রিকা জগতে এবার তারা নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে। তারা বুঝতে পারে, তথ্যজগৎ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে হাজার পরিকল্পনা করেও কোনো লাভ হবে না।
ক্ষমতার দাপট দিয়ে হোক আর অর্থের লোভ দেখিয়ে হোক, ধীরে ধীরে তারা সকল পত্রিকা প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের করে নিতে শুরু করে। Bennett সাহেবও বার্ধক্যে পৌঁছে গেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, তার মৃত্যুর পর ইহুদিরা এই প্রতিষ্ঠান কিনে নিতে চাইবে। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে নিজের ছেলের মতো ভালোবাসতেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি উইল করে যান- একক কোনো উত্তরসূরির নিকট এই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কখনো অর্পিত হবে না। যারা এতদিন পর্যন্ত Herald-এর জন্য কাজ করেছে, তাদের সকলের মাঝে এর সম্পদ ও মুনাফা সমানভাবে বণ্টিত হবে। ১৯১৮ সালের মে মাসে তিনি পরলোক গমন করেন।
দিনটির জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল। ইতঃপূর্বে তারা কেবল বিজ্ঞাপনই বন্ধ করেনি; বরং প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কমিয়ে দিতে এমন কিছু নেই যা করেনি। একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে একজন দক্ষ লোকের হাতে পরিচালিত হতো, মৃত্যুর পর তা একাধিক ব্যক্তির হাতে চলে যায়। ফলে ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এমন নয় যে তাদের কেউ এই শিল্পে দক্ষ ছিল না, কিন্তু পেছন থেকে একটি গোষ্ঠী বারবার তাদের ব্যবসায়িক পথ আটকে দাঁড়াচ্ছিল। এই বাধা তারা সহজভাবে মোকাবিলা করতে পারেনি। তা ছাড়া অহংকার আর বড়াই নিয়ে নিজেদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলও ছিল।
ইহুদিরা ভেবেছিল, যখন প্রতিষ্ঠানটি একেবারে মুনাফাশূন্য হয়ে পড়বে এবং পরিচালনা পর্ষদ অভ্যন্তরীণ সমস্যায় হ-য-ব-র-ল হয়ে পড়বে, তখন হয়তো ট্রাস্টি বোর্ড এটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেবে; হলোও তাই, কিন্তু ইহুদিদের চেয়ে অধিক মূল্যের প্রস্তাব দিয়ে Frank A. Munsey পত্রিকাটি কিনে নেয়। পুরোনো নাম মুছে নতুন নাম দেওয়া হয় New York Sun। প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডারগণ সম্পদ ভাগাভাগি করে বিভিন্ন দেশে চলে যায়। আর এভাবেই আমেরিকায় স্বাধীন সাংবাদিকতা শিল্পের ইতি ঘটে।