📄 সালফে সালেহীন বা পূর্বসূরী কারা?
সকল প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাওয়া তা'আলার জন্য যিনি সমস্ত বিশ্বজগতের প্রতিপালক। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও রসূল মুহাম্মাদ ﷺ, তাঁর পরিবার এবং সকল স্বহাবীদের ওপর।
আজকের বক্তৃতাটির আলোচ্য বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা আগে বর্ণিত হয়েছে, সালফে সালেহীন বা সৎ পূর্বসূরী তথা স্বহাবায়ে কেরামের মানহাজ বা পদ্ধতি এবং উম্মাহর প্রতি একে ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা।
সালফে সালেহীন বা সৎ পূর্বসূরী বলতে মুসলিম জাতির প্রথম প্রজন্ম (First generation)-কে বুঝায়। তারা হলেন, রসূল ﷺ-এর স্বহাবীগণ যা মুহাজির (যারা মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে এসেছেন) এবং আনসার (যারা মদীনায় থেকে মুহাজিরগণকে সাহায্য করেছিলেন) গণের সমন্বয়ে গঠিত। মহিমান্বিত এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মুহাজির ও আনসার তথা প্রথম প্রজন্ম সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে বলেন,
وَالسَّبِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهْجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانِ رَّضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ )
মুহাজির (যারা মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছিলেন) ও আনসারদের (যারা মদীনার অধিবাসী এবং মুহাজিরগণকে সাহায্য করেছিলেন) মধ্যে যারা প্রথম সারির অগ্রগামী (ঈমান আনয়নে) আর যারা তাদেরকে যাবতীয় সৎকর্মে ইহসান বা নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট, তাদের জন্য তিনি প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই হল মহান সফলতা।২
[আয়াতটি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রথম সারির মুহাজির অর্থাৎ মক্কা থেকে মদীনায় প্রথম হিজরতকারী এবং আনসার অর্থাৎ হিজরতকারী মুহাজিরদের আশ্রয় দানকারী, তাঁদের (মুহাজির ও আনসারদের) যারা খাঁটিভাবে মেনে চলবে তাঁদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন এবং তাঁদের চিরস্থায়ী জান্নাতও দিবেন।
তাহলে বুঝা গেল যে, প্রথম সারির মুহাজির ও আনসারগণ যেভাবে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা বুঝেছেন আমাদেরকেও সেভাবে বুঝতে হবে, নিজস্ব পদ্ধতিতে বুঝলে হবে না। কারণ, তাঁদের অনুসরণ করলেই জান্নাতে যাওয়া যাবে। তাঁরাই আমাদের জন্য আদর্শ।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا )
যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রসূলের বিরোধিতা করে এবং মু'মিনদের পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, কত মন্দই না সে আবাস!৩
এ আয়াতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সত্যপথ (রসূল প্রদর্শিত পথ) প্রকাশিত হবার পর রসূল ﷺ-এর বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং মু'মিনদের পথ বাদ দিয়ে অন্য পথ ধরবে, তাঁকে আল্লাহ জাহান্নামে দিবেন। তাহলে আয়াতটিতে উল্লিখিত এই “মু'মিনগণ” কারা? যাঁদের পথ বাদ দিয়ে অন্য পথ ধরলেই আল্লাহ জাহান্নামে দিবেন?
এ আয়াতটি যখন নাযিল হয়েছিল তখন মু'মিন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন স্বহাবীগণ। তাই এতে বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, এ মু'মিনগণ হলেন স্বহাবীগণ। অর্থাৎ কেউ যদি স্বহাবীগণের পথ ছেড়ে ভিন্ন পথ ধরে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দিবেন। তাই স্বহাবীগণ যেভাবে রসূল ﷺ-এর শিক্ষা বুঝেছেন সেভাবেই আমাদেরকে রসূল ﷺ-এর শিক্ষা বুঝতে হবে। স্বহাবীগণ যেভাবে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা বুঝেছেন সেভাবে না বুঝলে তো তাঁদের পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরা হবে। অন্যথায় পথভ্রষ্ট হয়ে ভয়াবহ পরিণাম (জাহান্নাম) ভোগ করতে হবে।]৪
মহামান্বিত আল্লাহ বলেন,
لِلْفُقَرَاءِ الْمُهْجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّدِقُونَ )
(আর এ সম্পদ) সেসব দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য যাদেরকে তাদের বাড়ীঘর ও সম্পত্তি-সম্পদ থেকে উৎখাত করা হয়েছে। যারা আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে, আর তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে সাহায্য করে। এরাই সত্যবাদী।"৫
এ আয়াতটি তাদেরকে নির্দেশ করে যারা মক্কা থেকে হিজরত করেছে। যারা মদীনায় ছিলেন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالَّذِينَ تَبَوَّةُ الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ )
(আর এ সম্পদ তাদের জন্যও) যারা মুহাজিরদের আসার আগে থেকেই (মদীনা) নগরীর বাসিন্দা ছিল আর ঈমান গ্রহণ করেছে। তারা তাদেরকে ভালবাসে যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে। মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে তা পাওয়ার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো কামনা রাখে না, আর তাদেরকে (অর্থাৎ মুহাজিরদেরকে) নিজেদের ওপর অগ্রাধিকার দেয়-নিজেরা যতই অভাবগ্রস্ত হোক না কেন। বস্তুত যাদেরকে হৃদয়ের সংকীর্ণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে তারাই সফলকাম।৬
যারা তাদের (মুহাজির ও আনসারগণ) পরে আসবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَالَّذِينَ جَاءُو مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ )
(এ সম্পদ তাদের জন্যও) যারা অগ্রবর্তীদের পরে (ইসলামের ছায়াতলে) এসেছে। তারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আর আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা কর যারা ঈমানের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের ব্যাপারে আমাদের অন্তরে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বড়ই করুণাময়, অতি দয়ালু।'৭
তারপর যারা এসেছে, জ্ঞান অর্জন করেছে এবং অনুসরণ করেছে সর্বশ্রেষ্ঠ সেই প্রথম প্রজন্ম অর্থাৎ স্বহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে রসূল ﷺ বলেন,
خَيْرُكُمْ قَرْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ )
তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আমার প্রজন্ম (স্বহাবাগণ) এবং তারপর যারা তাদেরকে অনুসরণ করে (তাবেঈগণ) এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করে (তাবে-তাবেঈগণ)।৮
উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানি না রসূল ﷺ তাঁর প্রজন্মের পর দুই প্রজন্মের কথা বললেন, না তিন প্রজন্মের কথা বললেন। তাদের (রসূল ﷺ, তার স্বহাবীগণ, তার পরবর্তী দুই প্রজন্ম) সময়কে বলা হয় উত্তম প্রজন্মের সময়। তারাই হলেন এ জাতির সালাফ বা ন্যায়নিষ্ঠ পূর্বসূরী, যাদের প্রশংসা রসূল ﷺ নিজেই করেছেন ওপরের হাদীসে।
সুতরাং তারা হলেন, এ মুসলিম জাতির আদর্শ এবং তাদের মানহাজ বা পদ্ধতি এ উম্মত অনুসরণ করবে বিশ্বাসে, ইবাদতে, লেনদেনে, আচরণে। সকল বিষয়ে তাদের মানহাজ বা পদ্ধতি নিতে হবে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে। কারণ আয়াত নাযিলের সময় তারা রসূল ﷺ-এর খুব নিকটে ছিলেন। তারা সরাসরি রসূল ﷺ থেকে মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন। তাই এটিই হল সর্বোত্তম মানহাজ। এজন্য মুসলিমরা তাদের মানহাজ বা পদ্ধতি শিখতে তৎপর এবং তাদের মানহাজ দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে। কারণ তাদের পথ না জেনে, না শিখে এবং সে অনুযায়ী কাজ না করে, তাদের (পূর্বসূরীদের) পথ ধরে রাখা সম্ভব নয়। অর্থাৎ সালাফ বা সত্য পূর্বসূরীদের পথ জানতে হবে, তাদের পথের জ্ঞান থাকতে হবে, শিখতে হবে এবং এর ওপর দৃঢ়ভাবে চলতে হবে।
টিকাঃ
২. সূরা তাওবাহ ৯ : ১০০
৩. সূরা নিসা ৪ : ১১৫
৪. অনুবাদক কর্তৃক সংযোজিত
৫. সূরা হাশর ৫৯:৮
৬. সূরা হাশর ৫৯ : ৯
৭. সূরা হাশর ৫৯ : ১০
৮. সহীহ বুখারী ২৬৫১, সহীহ মুসলিম ২৫৩৫
📄 জ্ঞান দিয়ে সালাফদের মানহাজ অনুসরণের গুরুত্ব
সর্বোচ্চ মহান আল্লাহ বলেন,
وَالسَّبِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهْجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ )
মুহাজির (যারা মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেছিলেন) ও আনসারদের (যারা মদীনার অধিবাসী এবং মুহাজিরগণকে সাহায্য করেছিলেন) মধ্যে যারা প্রথম সারির অগ্রগামী (ঈমান আনয়নে) আর যারা তাদেরকে যাবতীয় সৎ কর্মে ইহসান বা নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট, তাদের জন্য তিনি প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত যার তলদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই হল মহান সফলতা।"
এখানে ইহসান (إِحْسَان) মানে হলো ইতক্বান বা একান্ত নিষ্ঠার সাথে। অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্ম তাদের (আনসার-মুহাজিরদের) অনুসরণ করবে একান্ত নিষ্ঠার সাথে এবং এটা কখনও সম্ভব নয় যে, তাদের মানহাজ বা পদ্ধতি না জেনে তাদের অনুসরণ করা যাবে। তাদের মানহাজ বা পদ্ধতি না জেনে বা জ্ঞান অর্জন না করে কেবল সালাফদের বা পূর্বসূরীদের অনুসারী হয়ে কোনো লাভ নেই, এর কোনো ভিত্তি নেই। কার্যত, এটা মানুষের ক্ষতি করবে। তাই সালফে সালেহীন তথা ন্যায়নিষ্ঠ পূর্বসূরীদের পথের জ্ঞান থাকা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক।
এভাবে এ জাতি পূর্বসূরীদের পথের জ্ঞান অর্জন করে এবং শিক্ষা দেয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। এ মানহাজের শিক্ষা দেয়া হয় মসজিদ, স্কুল, প্রতিষ্ঠান, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে। এটাই হল, সালফে সালেহীন তথা পূর্বসূরীদের পদ্ধতি এবং এভাবে এ পদ্ধতির শিক্ষা চলে আসছে। আমরা সালাফদের পদ্ধতি শিখব যা কুরআন ও রসূল ﷺ-এর সুন্নাহ থেকে গৃহীত।
রসূল ﷺ বলেছেন, এ জাতির মধ্যে অনেক মতবিরোধ দেখা দেবে। যেমন তিনি ﷺ বলেন,
افتَرَقَتْ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَافْتَرَقَتْ النَّصَارَى عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَسَتَفْتَرِقُ هَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً كُلُّهَا فِي النَّارِ إِلَّا وَاحِدَةٌ
ইহুদীরা ৭১টি ভাগে বিভক্ত হয়েছিল, খ্রিষ্টানরা ৭২টি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত ৭৩টি দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া সবাই (৭২ দল) জাহান্নামে যাবে।১০
এটা শুনে স্বহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসূল ﷺ, সে দল কোন্টি? তিনি উত্তর দিলেন :
مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمَ وَأَصْحَابِ)
আমি এবং আমার স্বাহাবীগণ আজকের দিনে যার ওপর প্রতিষ্ঠিত (সে দলটি জান্নাতে যাবে)।
এটাই হল সালফে সালেহীন বা ন্যায়নিষ্ঠ পূর্বসূরীদের মানহাজ। এটা ঐ পথ যার ওপর রসূল ﷺ, স্বহাবীগণ ও যারা তাদেরকে নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করবে তারা প্রতিষ্ঠিত। এটা নির্দেশ করে যে, তাদের পথ ধরে রাখতে হলে আগে জানতে হবে, তারপর ধরে রাখতে হবে। কারণ এটাই একমাত্র নাজাত বা মুক্তির পথ। একটি দল ব্যতীত অপর সকল দল (৭২ দল) জাহান্নামে যাবে।
এ মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি হল, "আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ”। বহু দল ও মতের মধ্যে এ দলটিই হল একমাত্র মুক্তিপ্রাপ্ত দল যারা সালফে সালেহীন বা সত্য পূর্বসূরীদের দল। এটা নির্দেশ করে যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের পূর্ব পর্যন্ত অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ধৈর্যের সাথে শক্ত করে এই পথ ধরে রাখবে।
ওপরে বর্ণিত আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ:১১
১. রসূল ﷺ-এর শিক্ষা স্বহাবাদের কাছ থেকে শিখতে হবে।
২. প্রথম সারির মুহাজির ও আনসারগণ এ উম্মতের সকলের জন্য আদর্শ।
৩. প্রথম সারির মুহাজির ও আনসারগণকে খাঁটিভাবে মেনে চললেই আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়া যাবে এবং জান্নাতও নিশ্চিত।
৪. রসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর স্বহাবাদের পথ ছেড়ে ভিন্ন পথ ধরলেই আল্লাহ জাহান্নামে দিবেন।
৫. মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। একটি দল শুধু জান্নাতে যাবে আর বাকি ৭২ দল জাহান্নামে যাবে।
৬. যে দলটি জান্নাতে যাবে তাদের পরিচয় হচ্ছে: তাঁরা রসূল ﷺ ও তাঁর স্বহাবাগণের পথে থাকবে ঐ দিনের মতো যেদিন রসূল ﷺ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
৯. সূরা তাওবাহ ৯ : ১০০
১০. তিরমিযী, হাসান, অধ্যায় ৩৮, কিতাবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ ১৮, এই উম্মতের অনৈক্য : হা. ২৬৪১, মুসনাদ আহমদ ৩৩২, আবূ দাউদ ৪৫৯৬, সিলসিলা সহীহা ২০৩, ২০৪
১১. অনুবাদক কর্তৃক সংযোজিত
📄 মুসলিম জাতির প্রতি রসূল ﷺ-এর উপদেশ
আল-ইরবাদ বিন সারিয়া বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সলাত আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের দিকে ফিরে আমাদেরকে উদ্দেশ করে জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দিলেন। তাতে চোখগুলো থেকে অশ্রু প্রবাহিত হলো এবং অন্তরগুলো বিগলিত হলো। তখন এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রসূল ﷺ! এ যেন বিদায়ী ভাষণ! অতএব আমাদেরকে কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন,
أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللهِ وَالسَّمْعِ وَالطَّاعَةِ وَإِنْ عَبْدًا حَبَشِيًّا فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشُ مِنْكُمْ بَعْدِى فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الْمَهْدِيِّينَ الرَّاشِدِينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِنِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ)
আমি তোমাদেরকে আল্লাহ ভীতির, শ্রবণ ও আনুগত্যের উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (আমীর) একজন হাবশী গোলাম হয়। [শায়খ ড. সালিহ আল ফাওযান বললেন, কার কথা শুনব এবং মান্য করব? মুসলিমদের নেতার] কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাত ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নাত অনুসরণ করবে। তা দাঁত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে থাকবে। সাবধান (ধর্মে) নবাবিষ্কার সম্পর্কে। কারণ প্রতিটি নবাবিষ্কার হলো বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা।১২
অপর বর্ণনায় বলেন, প্রতিটি ভ্রষ্টতা জাহান্নামে নিয়ে যাবে।
এটাই হল জাতির প্রতি মুহাম্মদ ﷺ-এর নির্দেশ। তিনি আমাদেরকে উপদেশ দিলেন সালফে সালেহীন বা সত্য পূর্বসূরী তথা স্বহাবায়ে কেরামের পথের অনুসরণ করতে। কারণ এটাই মুক্তির পথ, এটা আল্লাহর ঐ বাণীর মতোই।
وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصُّكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ )
আর এটাই আমার সঠিক সরল পথ, কাজেই তোমরা তার অনুসরণ কর, আর নানান পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এভাবে তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যাতে তোমরা তাঁকে ভয় করে যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে চলতে পার।১৩
[আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রসূলুল্লাহ ﷺ মাটিতে স্বহস্তে একটি রেখা টানেন। তারপর বলেন: “এটা হচ্ছে আল্লাহর সরল সোজা পথ।” অতঃপর তিনি বামে ও ডানে আরো কতগুলো রেখা টানলেন এবং বললেন: এগুলো হচ্ছে ঐসব রাস্তা যেগুলোর প্রত্যেকটির ওপর একজন করে শয়তান বসে রয়েছে এবং ঐদিকে (মানুষকে) আহ্বান করছে। অতঃপর তিনি ﴾وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِى مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ﴿ - এ আয়াতটি পাঠ করেন। ১৪
জাবির হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী ﷺ-এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এ সময় তিনি এভাবে তাঁর সামনে একটা রেখা টানেন এবং বললেন : “এটা হচ্ছে আল্লাহর পথ।” অতঃপর ডানে ও বামে দু'টি করে রেখা টানেন এবং বলেন, “এগুলো হচ্ছে শয়তানের পথ।” অতঃপর তারপর মধ্যভাগের রেখার উপর স্বীয় হাতটি রাখেন এবং وَأَنَّهُذَا صِرَاطِى مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ (...) আয়াতটি পাঠ করেন।১৫ ১৬
তাই আমাদের আগুন ও সরল পথ থেকে বিচ্যুতিকে ভয় করা উচিত। আমাদের উচিত বিচ্যুত বা বিপথগামী দলগুলোর বিরোধিতা করা এবং ঐ পথ ধরা যাকে রসূল ﷺ, স্বহাবায়ে কেরাম ও তার পরবর্তী প্রজন্ম অনুসরণ করেছেন। এ যুগে এসেও যারা এই সরল পথকে আঁকড়ে ধরে থাকবে তারা এ পথের বিরোধী লোকেদের দ্বারা অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবে। বিরোধীরা তাকে ক্ষতি করা ও ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে। তাই তাকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিরোধীরা তার সরল পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য নানা ধরনের ভয় ও ভীতির সঞ্চার করবে। তাই তার ধৈর্যের প্রয়োজন সরল পথে টিকে থাকার জন্য। তাই তো রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
بَدَأَ الْإِسْلَامُ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَ أَفَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ
ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল। আবার অপরিচিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করবে। এ গরীবদের' জন্য মুবারকবাদ।১৮
স্বহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসূল! গরীব কে? তিনি উত্তর দিলেন, তারা হলেন অসৎ লোকেদের থেকে সৎ লোক। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেছেন, তারা হল, যারা অসৎ লোকগুলোকে সংশোধন করে। তাই সালফে সালেহীন তথা সৎ পূর্বসূরীদের পথ না ধরে কেউ সৎ পথে থাকতে পারবে না। তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَبِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيِّنَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّلِحِينَ وَحَسُنَ أُولَبِكَ رَفِيقًا ذَلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللَّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ عَلِيمًا )
যারা আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করে, তারা নাবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং নেককার লোকদের সঙ্গী হবে, যাদের প্রতি আল্লাহ নিয়ামত দান করেছেন, তারা কতই না উত্তম সঙ্গী! এটা আল্লাহ্র পক্ষ হতে অনুগ্রহ, সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। ১৯
এ কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা প্রত্যেক ফরয ও নফল সলাতে সূরা আল-ফাতিহা পড়া ফরয করেছেন।২০
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ)
আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।২১
এটা সরল পথ। কারণ প্রকৃতপক্ষে এ পথ ছাড়াও অন্যান্য পথ রয়েছে যেগুলো বিচ্যুত ও প্রতারণাপূর্ণ। তাই তো আল্লাহ বলেছেন, আমরা যেন অন্যান্য পথ থেকে আশ্রয় চাই এবং সরল পথে আমাদের পরিচালিত করেন। এটার অর্থ হল একজন যেন সরল পথের হেদায়াত পায় এবং এর ওপর অটল থাকে। অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিধায় তিনি আমাদেরকে প্রত্যেক সলাতে এ দুআ করতে বললেন।
)الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ( -এর অর্থ সরল পথ।
তারা কারা যারা সরল পথ দিয়ে চলে?
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ )
তাদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন। ২২
তারা কারা যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন?
غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ )
তাদের পথ, যারা গযবপ্রাপ্ত (ইয়াহূদী) নয় ও পথভ্রষ্ট (খ্রিষ্টান) নয়।
مِنَ النَّبِيِّنَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّلِحِينَ وَحَسُنَ أُولَبِكَ رَفِيقًا )
তারা নাবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেক্কার লোকদের সঙ্গী হবে, যাদের প্রতি আল্লাহ নি'আমাত দান করেছেন, তারা কতই না উত্তম সঙ্গী!
আমরা আল্লাহকে এই সরল পথে পরিচালিত করার দুআ করি। এটা এই নির্দেশও করে যে, যারা পথভ্রষ্ট হয়েছেন তাদের বিচ্যুত পথ থেকে যেন আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করেন।
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ )
তাদের পথ, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। তাদের পথ, যারা গযবপ্রাপ্ত (ইয়াহুদী) নয় ও পথভ্রষ্ট (খ্রিষ্টান) নয়। ২৩
غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ )
তাদের পথ নয়, যারা গযবপ্রাপ্ত।
আল্লাহ যাদের প্রতি রাগান্বিত তারা হলো, ইহুদী। কারণ তারা সত্য জানত কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করত না। এ জাতির ঐ সমস্ত লোকদের ওপরও আল্লাহ রাগান্বিত যারা ইহুদীদের ন্যায় সত্য জেনেও সে অনুযায়ী কাজ করে না। তাই যারা সত্য জানে, কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করে না তারা ইহুদীদের পথেই রয়েছে। সেই পথের ওপর আল্লাহ রাগান্বিত জ্ঞান অনুযায়ী কাজ না করার জন্য। এ লোকটি জ্ঞান অর্জন করেছে কিন্তু আমলকে বর্জন করেছে। তাই প্রত্যেক ব্যক্তি যাদের জ্ঞান আছে কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করে না তারা আল্লাহর ক্রোধ-এর ওপর রয়েছে।
وَلَا الضَّالِّينَ )
তাদের পথ নয় যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। ২৪
তারা হল ঐ সমস্ত লোক যারা আল্লাহর ইবাদত করে অজ্ঞতা ও বিচ্যুতির সাথে। তারা আল্লাহর ইবাদত করে এবং তারা সন্তুষ্টি কামনা করে ঐ পথের মাধ্যমে যা অবৈধ ও অসত্য। তারা বিদআত করে, যার কোনো প্রমাণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে পাওয়া যায় না।
রসূল ﷺ বলেছেন,
وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ)
এবং প্রত্যেকটি বিদআত হচ্ছে ভ্রষ্টতা।
এটা হল খ্রিষ্টানদের পথ এবং একইভাবে প্রত্যেকে যারা তাদের পথকে অনুসরণ করে। এ উম্মতেরও যেসব লোক আল্লাহর ইবাদত করে এমন পদ্ধতিতে যার প্রমাণ আল্লাহ নাযিল করেননি, তাদের সকল কৃতকর্ম বাতিল।
সূরা ফাতিহার এ দুআ বোধগম্য দুআ যা আমরা প্রত্যেক সলাতে পাঠ করে থাকি। এ দুআর অর্থ আমাদের প্রতিফলিত হওয়া উচিত এবং ব্যবহার করা উচিত সচেতন হৃদয়ে। আমাদের প্রত্যেকের উক্ত সূরার অর্থ জানা উচিত যাতে আমাদের দুআ কবুল হয়। সূরা শেষ করার পর আমরা বলি : آمين (আমীন) অর্থাৎ কবুল করুন।
“আমীন” শব্দের অর্থ হল, হে আল্লাহ! আমাদের দুআ কবুল করুন। তাই একজন মানুষের জন্য এটি একটি শক্তিশালী দুআ যে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং নিজ জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে চায়।
আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, যারা আল্লাহর আশীর্বাদপ্রাপ্ত দলে থাকবে তারা নানা পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন। তাদেরকে বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হবে। অপমানিত হতে হবে বিরুদ্ধবাদীদের দ্বারা। তাই তাদের ধৈর্যের প্রয়োজন। তাইতো রসূল ﷺ বলেছেন, শেষ জমানায় দ্বীনে টিকে থাকা হাতে জ্বলন্ত কয়লা রাখার চেয়েও বেশি কষ্টকর হবে। কারণ তাকে নানা বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু হাতে জ্বলন্ত কয়লা রাখার মতো কষ্টকর হলেও ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এ পথ ফুলশয্যা নয়, বরং এ পথে অনেক ক্ষতি ও বিপত্তি আছে। তাই আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের পূর্ব পর্যন্ত ধৈর্যের সাথে এ পথ আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে। তাহলেই বিচ্যুতির পথ ও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা যাবে। এছাড়া মুক্তির আর কোনো পথ নেই।
টিকাঃ
১২. মুসলিম, আবূ দাউদ হা: ৪৬০৭, সহীহ হাদীস- আলবানী, আহমাদ
১৩. সূরা আন'আম ৬ : ১৫৩
১৪. এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ, ইমাম হাকিম ও ইমাম নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।
১৫. এ হাদীসটি ইমাম আহমদ, ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
১৬. তাফসীর ইবনে কাসীর, অনুবাদক কর্তৃক সংযোজিত
১৭. এখানে গরীব বলতে অল্পসংখ্যক বুঝানো হয়েছে।
১৮. মুসলিম হা: ১৪৫
১৯. সূরা নিসা ৪ : ৬৯-৭০
২০. সহীহুল বুখারী, হা. ৭৫৬. তাওহীদ পাবলিকেশন, ৭১২ (আ.প্র.) ৭২০ (ই.ফা.), মুসলিম ৪/১১, হা. ৩৯৪, মুসনাদে আহমদ, ২২৮০৭
২১. সূরা ফাতিহা ১:৬
২২. সূরা ফাতিহা ১:৭
২৩. সূরা ফাতিহা ১:৭
২৪. সূরা ফাতিহা ১:৭
📄 সালাফদের পথ ভিন্ন অন্য পথে না যেতে সতর্কীকরণ
এখন মানুষেরা সালাফ তথা ন্যায়নিষ্ঠ সত্য পূর্বসূরীদের পথ ছেড়ে অন্য পথে ধাবিত হচ্ছে। তারা তাদের মনগড়া পথ তাদের প্রচারিত সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও বই-পত্রে প্রচার করছে। তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের মানহাজকে হেয় এবং অবমূল্যায়ন করে। তারা (বিপথগামীরা) তাদেরকে চরমপন্থী হিসেবে গণনা করে এবং তাদের মতে সালাফগণ প্রত্যেক মুসলমানকে অবিশ্বাসী মনে করে ইত্যাদি। তাদের দাবিগুলো সালাফীদের কোনো ক্ষতিসাধন করবে না বরং তাদেরই ক্ষতি করবে যাদের ধৈর্য এবং দৃঢ় অঙ্গীকার থাকে না।
অনেকে প্রশ্ন করেন, সালাফ কারা? তারা দাবি করে সালাফগণ অন্যান্য দলের মতোই একটি দল। তারা সাধারণ দলের মতোই একটি দল যাদের আলাদা কোনো মর্যাদা নেই। তাদের মতে এরাই সালাফ। তারা দাবি করে যে, সালাফগণ আর সাধারণ দলের মতোই একটি দল। ঐ লোকেরা প্রকৃতপক্ষে আমাদেরকে সালাফগণের পথ ভিন্ন অন্য পথে নিয়ে যেতে চায়।
এক শ্রেণির লোকেরা বলে, আমরা সালাফদের জ্ঞান ও মানহাজ অনুযায়ী চলতে বাধ্য নই। আমরা তাদের পথ অনুসরণ করব না, বরং আমাদের নিজেদের মানহাজ অনুসরণ করব। আমরা আমাদের নিজস্ব মানহাজ এবং বুঝ তৈরি করব। সালাফদের মানহাজ পুরাতন, তাদের বুঝ তাদের সময়ের জন্য ছিল এবং এটি আমাদের সময়ের সাথে চলে না; যেহেতু আমাদের সময় ভিন্ন। এ কারণে এ ব্যক্তিরা সালাফদের মানহাজ পরিত্যাগ করে এবং তারা নতুন বুঝ তৈরি করে। এ সত্যপথ বিচ্যুত লোকেরা তাদের সৃষ্ট মানহাজ পত্রিকা, ম্যাগাজিন ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে প্রচার করে, যা তাদের দ্বারাই সম্পাদিত। তারা আমাদেরকে সালাফদের পথ ভিন্ন অন্য পথে নিয়ে যেতে চায়। এটা এ কারণে যে, আমরা যেন সালাফদের মানহাজ না জানি। তবে আমরা এ মানহাজ পরিত্যাগ করব এবং তা থেকে জ্ঞান লাভ করব না। এটা উপযুক্ত নয় যে, কেউ সালাফদের জ্ঞান ও বুঝ ব্যতিরেকে নিজেকে সালাফ বলে দাবি করবে। এটাই পথভ্রষ্টরা চায়। তারা চায় আমরা সালাফদের মানহাজ, বুঝ ও জ্ঞান পরিত্যাগ করি এবং তার পরিবর্তে নতুন বুঝ সৃষ্টি করি যা এই সময়ের সাথে উপযুক্ত (তাদের দাবি অনুযায়ী)। এই ধারণাটি ভুল। ইসলামিক আইন-কানুনসমূহ প্রত্যেক পাত্র ও কাল ভেদে প্রয়োগযোগ্য কিয়ামত আসার আগ পর্যন্ত। সালাফদের মাযহাজ প্রত্যেক পাত্র ও প্রত্যেক কালের জন্য যথার্থ। এটি মহান ও সুউচ্চ আল্লাহ প্রদত্ত আলো। সুতরাং প্রতারক ও পথভ্রষ্টদের কথায় প্রতারিত হওয়া যাবে না। তোমরা তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়ো না।
ইমাম মালেক বলেছেন,
لَا يُصْلِحُ آخِرُ هُذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا مَا أَصْلَحَ أَوَّلُهُ )
এ উম্মতের পরবর্তী প্রজন্ম সংশোধিত হবে ঐভাবে যেভাবে পূর্ববর্তী প্রজন্মের লোকেরা সংশোধিত হয়েছিল।
পূর্ববর্তী প্রজন্মের লোকেরা কিভাবে সংশোধিত হয়েছিল? কুরআন-সুন্নাহ এবং তাদের দ্বারা যারা রসূল ﷺ-কে অনুসরণ করেছিলেন। পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা সংশোধিত হবে সেভাবে যেভাবে পূর্ববর্তী প্রজন্মের লোকেরা সংশোধিত হয়েছিল।
ফলে এটি ঐ ব্যক্তির জন্য, যে সালাফদের মানহাজ শিখে, দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে এবং প্রচার করে মুক্তি পেতে চায়। এটাই মুক্তির পথ। এটি নূহ-এর জাহাজের মতো, যে ব্যক্তি এ জাহাজে উঠল সে মুক্তি পেল, যে উঠল না সে পথভ্রষ্টতায় ডুবে গেল। সেজন্য সালাফদের মানহাজ ব্যতীত মুক্তির কোনো উপায় নেই এবং তাদের মানহাজ না শিখে জ্ঞানার্জনের কোনো উপায়ও নেই। এটি আমাদের শিখতে হবে, শিক্ষা প্রদান করতে হবে এবং একইসাথে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ)
আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। ২৫
আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত দুআ করা উচিত, আল্লাহ যেন আমাদেরকে এই পথে পরিচালিত করেন, আমরা যেন তা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারি। এটা ফরয। শুধু আমরা এ পথের ওপর আছি বললেই হবে না, অনুসরণ করছি বললেই হবে না, প্রমাণ ছাড়া দাবি অসার। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ )
এবং যেসব লোক একান্ত নিষ্ঠার সাথে (ঈমান আনয়নে) তাদের অনুগামী। ২৬
এর অর্থ পরবর্তী প্রজন্মের অনুসারীরা পূর্ববর্তীদের পরিপূর্ণভাবে নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করবে এবং একজন পরিপূর্ণভাবে সালাফদের মানহাজের অনুসরণ করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের এ মানহাজের পরিপূর্ণ জ্ঞান রয়েছে এবং সে এটি ধরে রাখতে পারবে না যদি না ধৈর্যশীল হয়। একজনের কারো পক্ষে অবশ্যই মিথ্যুক ও পথভ্রষ্ট লোকের দাবিগুলো শোনা উচিত নয় যা তাকে এ মানহাজ থেকে বিচ্যুত করে। প্রকৃতপক্ষে এটিই সঠিক পথ, মুক্তির পথ। এ পথ ব্যতীত অন্যান্য সব পথই জাহান্নামে পরিচালিত করবে।
স্বহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কোনটি মুক্তির পথ? তিনি ﷺ উত্তর দিলেন,
مَا أَنَا عَلَيْهِ الْيَوْمِ وَ أَصْحَابِي ))
আমি এবং আমার স্বহাবীগণ আজকের দিনে যার ওপর প্রতিষ্ঠিত (সে দলটি জান্নাতে যাবে)।২৭
এটা তাদের বিপক্ষে অনেক বড় সতর্কবাণী। বিশেষভাবে সময়ের সাথে ইসলাম অচেনা রূপ ধারণ করছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং দুর্যোগ বেড়েই চলেছে। তাই মুসলমানদের পক্ষে সালাফদের মানহাজ অনুসরণ অতীব জরুরি। এ পথভ্রষ্টরা বলে যে, আমরা সকলেই মুসলিম।
হ্যাঁ, কিন্তু কোন পথের? যদি মুসলমানরা রসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুসরণ করে তবে এটি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু যারা পথভ্রষ্ট ও ভুল পথে আছে যদিও তারা নামে মুসলমান, তবে এ মুসলমানরা অবশ্যই জাহান্নামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বাস্তব সত্য যে, ইসলাম শুধু দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন ব্যক্তির ইসলাম অনুসরণের দাবি বৈধ হবে না যদি না সে উপকারী জ্ঞান অর্জন করে এবং সালাফদের মানহাজ অনুসরণের প্রবণতা থাকে। এ কারণে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা আক্বীদার বিভিন্ন অধ্যায়, শাখা-প্রশাখা ও বিষয়াদির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা আক্বীদা ও সালাফদের মানহাজের শিক্ষা প্রদানের জন্য সারাংশ তৈরি করেন। এটি ধরে রাখা এবং এর ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ কারণেই, এ বিষয়ের ওপর দৃষ্টি আরোপ এবং মনোযোগ প্রদান করা বিশেষ প্রয়োজন; যেহেতু পথভ্রষ্টরা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং মুসলমানদের এমন আলোর প্রয়োজন যা তাদেরকে অন্ধকার, পথভ্রষ্টতা এবং অজ্ঞতা থেকে আলোর দিকে ধাবিত করবে।
আজকাল এমন অনেক ব্যক্তি আছে যারা স্ব-শিক্ষিত ও নিজেদের জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন দাবি করে। এ সকল ব্যক্তি উপযুক্ত উৎস এবং ভিত্তি হতে জ্ঞান অর্জন করেনি। পক্ষান্তরে তারা তাদের মতো ব্যক্তি, বই ও সংস্কৃতি থেকে জ্ঞান অর্জন করেছে যেমন তারা বলে থাকে। এ জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি আলোর দিকে নিয়ে যায় না, সঠিক পথও দেখায় না। এটা প্রত্যেকের ওপর অপরিহার্য যে, তারা সালাফদের মানহাজ সঠিকভাবে শিখবে, মানবে এবং অনুসরণ করবে। এ পথ অনুসরণের সময় যখন মানুষ দোষারোপ এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে তখন তাকে উপযুক্ত ধৈর্য প্রদর্শন অপরিহার্য। বর্তমানে যারা সালাফদের এ মানহাজ অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে গালিগালাজ এবং সমালোচনা শোনা যায়। মানুষ তাদেরকে সেকেলে হিসাবে গণ্য করে। এ হাসি-ঠাট্টা ও মিথ্যারোপ শুনেই সালাফদের পথ অনুসরণ থেকে দূরে সরা যাবে না। বরং সঠিক মানহাজকে আঁকড়ে ধরে রাখতে হবে। কারণ এটিই মুক্তির পথ। এ কারণেই রসূল ﷺ বলেছেন,
عَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِنِ)
তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাত এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাগণের সুন্নাত অনুসরণ করবে। তা দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরবে।২৮
তিনি আরো বলেন,
فَإِنَّهُ مَنْ يَعِشُ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي )
তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখবে, তাই তোমাদের দায়িত্ব হল আমার সুন্নাতকে ধরে রাখা। ২৯
যখন মতবিরোধ দেখা দিবে তখন কোনো কিছুই একজনকে রক্ষা করতে পারবে না। রসূল ﷺ ও হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণ ব্যতীত। আমাদের উচিত এ মানহাজকে মেনে চলা এবং তাদের দ্বারা পথভ্রষ্ট হওয়া যাবে না যারা এ পথকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং খারাপ বিশেষণ দ্বারা উপস্থাপন করে। এই লোকেরা এ মানহাজকে শুধুমাত্র নিজেদের মধ্যেই অমর্যাদা করে তা নয়, বরং অন্যদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেয়। কারণ তারা এ মানহাজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তাদের এটা করার কারণ হচ্ছে-তারা জানে যে, এটি সঠিক পথ এবং তারা চায় পথভ্রষ্ট করতে। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দারা! তাদের ব্যাপারে সতর্ক হও। শুধুমাত্র এ মানহাজ মানার দাবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখো না। ইসলামী বিশেষজ্ঞদের যারা জ্ঞানী এবং সঠিক পথে চলে-তাদের কাছ থেকে না শিখে বা জ্ঞান অর্জন না করে নিজেকে স্ব-শিক্ষিত ভেবে এতেই সীমাবদ্ধ থেকো না। তোমার দায়িত্ব হচ্ছে, বিপথগামীদের পথ পরিত্যাগ করা, যা থেকে আল্লাহ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন।
وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ )
আর নানা পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।৩০
সেজন্য আমাদের এ পথ অনুসরণ করা বিশেষ প্রয়োজন। যেহেতু বর্তমান সময়ে প্রচুর পরিমাণ বাধা-বিপত্তি, ভ্রান্তপথের আহ্বানকারী এবং অনেকভাবে কুকর্ম ছড়ানোর উপায় বিদ্যমান। শয়তানের কৌশল অনেক দুর্বোধ্য। অন্যান্য পথ শয়তানের দিকে ডাকে। তারা কু-কর্মের দিকে আহ্বান করে, নিষিদ্ধ কাজের দিকে ডাকে এবং ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করে যা তারা উপযুক্ত বুঝ ও সংস্কৃতি মনে করে। তারা বলে, মানুষকে বদ্ধ-মনা এবং চরমপন্থী হওয়া উচিত নয়। এ ধরনের উক্তির কারণে একজন ব্যক্তির সালাফদের মানহাজ ও জ্ঞান ত্যাগ করা উচিত নয়। পরবর্তী প্রজন্মের মানহাজ থেকে সালাফদের মানহাজ অধিক নিরাপদ, জ্ঞানসম্পন্ন ও বিচক্ষণতায় ভরা। সালাফদের মানহাজ নির্ভেজাল এবং এটা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নেয়া। আর পরবর্তী প্রজন্মের পথ ভেজালপূর্ণ বা কলুষিত। সালাফদের মানহাজ পরিষ্কার ও নির্ভেজাল। এ কারণে সালাফদের বইসমূহ যত পুরাতন তত খাঁটি এবং তত তথ্যবহুল ও সহজ। বিশিষ্ট ইসলামিক বিশেষজ্ঞ ইবনে রজব তাঁর “সালাফদের (ন্যায়নিষ্ঠ পূর্বসূরী) জ্ঞান খালাফদের (পরবর্তী অনুসারী) চেয়ে অধিক উৎকৃষ্ট” শিরোনামের বইয়ে বলেছেন, “সালাফদের বাণী সংক্ষিপ্ত কিন্তু জ্ঞানে পরিপূর্ণ। অন্যদিকে খালাফদের বাণী প্রচুর কিন্তু তাতে জ্ঞান খুবই কম।”
এ বিষয়ের ওপর আমাদের গভীর মনোযোগ প্রদান সময়ের দাবি এবং অপরিহার্য। এটাই সালাফদের পথ বা মানহাজ, যা ছাড়া মুক্তির কোনো পথ নেই। এটি সঠিকভাবে শেখা এবং জানার পর মেনে চলতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ঐ নিয়ম ও পন্থা অনুসরণীয় নয় যা ভেজাল ও জালিয়াতি আর যা সালাফদের পথ হিসেবে দাবি করা হয়, অথচ তা ঠিক নয়, বরং মিথ্যা। আমাদেরকে অবশ্যই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
টিকাঃ
২৫. সূরা আল ফাতিহা ১ : ৬
২৬. সূরা তাওবা ৯ : ১০০
২৭. তিরমিযী, হাসান, হা: ২৬৪১, মুসনাদ আহমাদ ৩৩২, আবু দাউদ ৪৫৯৬, সিলসিলা সহীহা ২০৩, ২০৪
২৮. আবূ দাউদ হা : ৪৬০৭, সহীহ ইবনু হিব্বান হা: ৫, মুসনাদ আহমাদ ১৭১৪৪, সহীহ, আলবানী।
২৯. আবূ দাউদ হা : ৪৬০৭, সুনান দারিমী ৯৫, মুসনাদ আহমাদ ১৭১৪৫, সহীহ, আলবানী।
৩০. সূরা আল-আন'আম ৬ : ১৫৩