📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 সাদাকাল্লাহুল আযিম বলার প্রচলন

📄 সাদাকাল্লাহুল আযিম বলার প্রচলন


'কাতারে'র ওয়াকফ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত 'ইসলাম ওয়েব' [islamweb.net] সাইটের (১৩৯৪৫২)-নং ফতোয়ায় 'সাদাকাল্লাহু' বলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে: "কবে ও কিভাবে সাদাকাল্লাহুল আজিম বলার প্রচলন ঘটেছে জানা যায়নি। যেমন বলাঃ
صدقت رب وبلغت رسلك، ونحن على ذلك من الشاهدين، اللهم اجعلنا من شهداء الحق، القائمين بالقسط ، ثم يدعو بدعوات.
এ থেকে আমাদের ধারণা চতুর্থ হিজরিতে 'সাদাকাল্লাহু' বলার প্রচলন ঘটেছে, কারণ হাকিম তিরমিযি চতুর্থ শতাব্দীর আলেম ছিলেন, তবে তার পূর্বেও তার প্রচলন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন।"

'কাতারে'র ওয়াকফ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত 'ইসলাম ওয়েব' [islamweb.net] সাইটের (১৩৯৪৫২)-নং ফতোয়ায় 'সাদাকাল্লাহু' বলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে: "কবে ও কিভাবে সাদাকাল্লাহুল আজিম বলার প্রচলন ঘটেছে জানা যায়নি। যেমন বলাঃ
صدقت رب وبلغت رسلك، ونحن على ذلك من الشاهدين، اللهم اجعلنا من شهداء الحق، القائمين بالقسط ، ثم يدعو بدعوات.
এ থেকে আমাদের ধারণা চতুর্থ হিজরিতে 'সাদাকাল্লাহু' বলার প্রচলন ঘটেছে, কারণ হাকিম তিরমিযি চতুর্থ শতাব্দীর আলেম ছিলেন, তবে তার পূর্বেও তার প্রচলন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন।"

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 সৌদি আরবের উলামা পরিষদের ফতোয়া

📄 সৌদি আরবের উলামা পরিষদের ফতোয়া


২৬৬ কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত শেষে সাদাকাল্লাহুল আজিম বলা বিদআত, কারণ নবী , খোলাফায়ে রাশেদা ও কোনো সাহাবী থেকে এরূপ বলা প্রমাণিত নেই, পরবর্তী কোনো ইমাম থেকেও নয়। অথচ কুরআনুল কারিমের প্রতি তাদের গুরুত্ব বেশী ছিল, তারা বেশী তিলাওয়াত করতেন এবং কুরআন সম্পর্কে তারা বেশী জানতেন। নবী বলেনঃ
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدُّ
"যে আমাদের দীনে নতুন কিছু সৃষ্টি করল, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিত্যক্ত।”২৬৭
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেনঃ
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার উপর আমাদের দীন নেই, তা পরিত্যক্ত।”২৬৮

টিকাঃ
২৬৬ লাজনায়ে দায়েমা খ. ৪, পৃঃ ১১৮
২৬৭ বুখারী, হাঃ ২৬৯৭
২৬৮ মুসলিম, হাঃ ১৭২১

২৬৬ কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত শেষে সাদাকাল্লাহুল আজিম বলা বিদআত, কারণ নবী , খোলাফায়ে রাশেদা ও কোনো সাহাবী থেকে এরূপ বলা প্রমাণিত নেই, পরবর্তী কোনো ইমাম থেকেও নয়। অথচ কুরআনুল কারিমের প্রতি তাদের গুরুত্ব বেশী ছিল, তারা বেশী তিলাওয়াত করতেন এবং কুরআন সম্পর্কে তারা বেশী জানতেন। নবী বলেনঃ
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدُّ
"যে আমাদের দীনে নতুন কিছু সৃষ্টি করল, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিত্যক্ত।”২৬৭
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেনঃ
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার উপর আমাদের দীন নেই, তা পরিত্যক্ত।”২৬৮

টিকাঃ
২৬৬ লাজনায়ে দায়েমা খ. ৪, পৃঃ ১১৮
২৬৭ বুখারী, হাঃ ২৬৯৭
২৬৮ মুসলিম, হাঃ ১৭২১

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 বিদ‘আত থেকে পরিত্রাণের উপায়

📄 বিদ‘আত থেকে পরিত্রাণের উপায়


১) বিদ'আত বিতাড়নে হিকমত ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করা: পূর্বে আলোচিত অনেক বিদ'আতই অনেক মুসলমানদের জীবনে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে খুব প্রগাঢ় ও দৃঢ়ভাবে গেড়ে বসেছে। তারা এসব বিদ'আতকে দ্বীনেরই একটি অংশ মনে করে এবং ভাবে - এ সকল কাজ সম্পাদন না করলে দ্বীনদারী লঙ্ঘন হবে। তা ছাড়া সুবিধাভোগী কিছু লোকের এসব কর্ম প্রচার ও প্রসারে ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নিরলস পরিশ্রমও একটি বড় কারণ। এ পরিস্থিতি ও পরিবেশ মুহাম্মাদ মুস্তাফা ﷺ-এর প্রকৃত অনুসারী এবং তার আদর্শ প্রচারে সচেষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সমাজ সংস্কার ও বিদ'আত বিতাড়নে রাসূলুল-াহর নীতি আদর্শ ও তার পথ ও পদ্ধতি অনুসরণের দিকে আহ্বান করছে। যেমন: ধৈর্যধারণ করা, মনকে প্রশস্ত করা, কষ্ট সহিষ্ণু মনোবৃত্তি, উত্তম ব্যবহার ও চরিত্র প্রদর্শন করা এবং নির্দেশ বর্ণনা করার সময় উত্তম পন্থা ও প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করা যা হক গ্রহণ ও বাতিল পরিহার করনে উৎসাহ প্রদান করবে। আল্লাহ স্বীয় নবী ﷺ-কে বলছেন -
وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
অর্থ: 'আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।'২৬৯
২) দাওয়াত কর্মীদের অতীব গুরুত্ব পূর্ণ হচ্ছে: তাদের সুন্নত সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে হবে। সুন্নতের অনুসরণের মর্তবা ও গুরুত্ব রসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ, পথ ও কর্মপন্থা অনুকরণের বরকত সম্বন্ধে ধারণা রাখতে হবে এবং এটিই যে তার মুহব্বতের দলিল সেটিও বুঝতে হবে। আর তার আদর্শ ও সুন্নতের বিরোধিতায় মানুষকে রসূলুল্লাহর সুন্নত ও আদর্শ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও অনুসারী সাহাবা ও তাবেয়ীন এবং দ্বীনের পথে অগ্র সেনানী হেদায়াতের রাহবারদের রাস্তা থেকে দুরে সরিয়ে দেয় - সে সম্পর্কে ও ধারণা থাকতে হবে।
৩) বিদ'আত বিতাড়নে একটি প্রজ্ঞাময় কর্ম পদ্ধতি: বিদ'আত বিতাড়ন করতে গিয়ে বিদ'আতে নিমজ্জিত মানুষদেরকে বলা হয় আপনারা যা করছেন এগুলোতো সব বিদ'আত যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায় - তা'হলে মানুষ তার কথা শুনবে না বরং বিরোধিতা করবে। আর যদি বিদ'আত নাম না নিয়ে সুন্নতের মুহাব্বত ও রসূল ﷺ-এর অনুসরণের মর্যাদা কি তাকে ভালবাসার স্বরূপ কি, সুন্নতের অনুসরণই যে তাকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসা -ইত্যাদি পদ্ধতিতে কাজ করা হয়, তাহলে এটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং সুন্নতের প্রতি তারা আকৃষ্ট হবে। ফলে ধীরে ধীরে সুন্নতের প্রসার ঘটবে আর বিদ'আত উঠে যাবে। তাতে মূল কাজ বেশি হবে। তাই দাওয়াত কর্মীদের বিদ'আতের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে জিহাদে অবতীর্ণ না হয়ে সুন্নতের প্রসারতায় আত্মনিয়োগই হবে অধিক ফলদায়ক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের সহায় হন। আমীন।

টিকাঃ
২৬৯ সূরা: আলে ইমরান-১৫৯

১) বিদ'আত বিতাড়নে হিকমত ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করা: পূর্বে আলোচিত অনেক বিদ'আতই অনেক মুসলমানদের জীবনে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে খুব প্রগাঢ় ও দৃঢ়ভাবে গেড়ে বসেছে। তারা এসব বিদ'আতকে দ্বীনেরই একটি অংশ মনে করে এবং ভাবে - এ সকল কাজ সম্পাদন না করলে দ্বীনদারী লঙ্ঘন হবে। তা ছাড়া সুবিধাভোগী কিছু লোকের এসব কর্ম প্রচার ও প্রসারে ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নিরলস পরিশ্রমও একটি বড় কারণ। এ পরিস্থিতি ও পরিবেশ মুহাম্মাদ মুস্তাফা ﷺ-এর প্রকৃত অনুসারী এবং তার আদর্শ প্রচারে সচেষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সমাজ সংস্কার ও বিদ'আত বিতাড়নে রাসূলুল-াহর নীতি আদর্শ ও তার পথ ও পদ্ধতি অনুসরণের দিকে আহ্বান করছে। যেমন: ধৈর্যধারণ করা, মনকে প্রশস্ত করা, কষ্ট সহিষ্ণু মনোবৃত্তি, উত্তম ব্যবহার ও চরিত্র প্রদর্শন করা এবং নির্দেশ বর্ণনা করার সময় উত্তম পন্থা ও প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করা যা হক গ্রহণ ও বাতিল পরিহার করনে উৎসাহ প্রদান করবে। আল্লাহ স্বীয় নবী ﷺ-কে বলছেন -
وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
অর্থ: 'আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।'২৬৯
২) দাওয়াত কর্মীদের অতীব গুরুত্ব পূর্ণ হচ্ছে: তাদের সুন্নত সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে হবে। সুন্নতের অনুসরণের মর্তবা ও গুরুত্ব রসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ, পথ ও কর্মপন্থা অনুকরণের বরকত সম্বন্ধে ধারণা রাখতে হবে এবং এটিই যে তার মুহব্বতের দলিল সেটিও বুঝতে হবে। আর তার আদর্শ ও সুন্নতের বিরোধিতায় মানুষকে রসূলুল্লাহর সুন্নত ও আদর্শ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও অনুসারী সাহাবা ও তাবেয়ীন এবং দ্বীনের পথে অগ্র সেনানী হেদায়াতের রাহবারদের রাস্তা থেকে দুরে সরিয়ে দেয় - সে সম্পর্কে ও ধারণা থাকতে হবে।
৩) বিদ'আত বিতাড়নে একটি প্রজ্ঞাময় কর্ম পদ্ধতি: বিদ'আত বিতাড়ন করতে গিয়ে বিদ'আতে নিমজ্জিত মানুষদেরকে বলা হয় আপনারা যা করছেন এগুলোতো সব বিদ'আত যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায় - তা'হলে মানুষ তার কথা শুনবে না বরং বিরোধিতা করবে। আর যদি বিদ'আত নাম না নিয়ে সুন্নতের মুহাব্বত ও রসূল ﷺ-এর অনুসরণের মর্যাদা কি তাকে ভালবাসার স্বরূপ কি, সুন্নতের অনুসরণই যে তাকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসা -ইত্যাদি পদ্ধতিতে কাজ করা হয়, তাহলে এটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং সুন্নতের প্রতি তারা আকৃষ্ট হবে। ফলে ধীরে ধীরে সুন্নতের প্রসার ঘটবে আর বিদ'আত উঠে যাবে। তাতে মূল কাজ বেশি হবে। তাই দাওয়াত কর্মীদের বিদ'আতের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে জিহাদে অবতীর্ণ না হয়ে সুন্নতের প্রসারতায় আত্মনিয়োগই হবে অধিক ফলদায়ক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের সহায় হন। আমীন।

টিকাঃ
২৬৯ সূরা: আলে ইমরান-১৫৯

📘 সালফে সালেহীনের দৃষ্টিতে বিদআত > 📄 প্রচলিত কুসংস্কারসমূহ

📄 প্রচলিত কুসংস্কারসমূহ


নির্দিষ্ট কোন দিনে কবর যিয়ারতের জন্য একত্রিত হওয়া, হাফেজদের দিয়ে কুরআন খতম করিয়ে পারিশ্রমিক দেয়া ইত্যাদি। ঈদ বা জুমার দিন পুরুষ-মহিলা একসাথে বা আলাদা আলাদাভাবে কবরের পাশে একত্রিত হওয়া, খানা বিতরণ অথবা কিছু তথাকথিত মৌলোভী বা কুরআনের হাফেজদেরকে একত্রিত করে কুরআন পড়িয়ে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেয়া ইত্যাদি কাজ সুস্পষ্ট বিদ'আত এবং নাজায়েয। কবর যিয়ারতের জন্য জুমা বা ঈদের দিনের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য প্রামাণিত নয়। অনুরূপভাবে কবরের পাশে কুরআন পড়া বা পড়ানো একাটি ভিত্তিহীন কাজ। একে জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করা আরও বেশি অন্যায়। শুধু তাই নয়, প্রচলিত সালাতেও অসংখ্য বিদ'আত পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া আমাদের সমাজে অনেক বিদ'আতীয় প্রচলিত কুসংস্কার বিদ্যমান রয়েছে তার কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
১) পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পূর্বে ডিম খাওয়া যাবে না। তাহলে পরীক্ষায় ডিম (গোল্লা) পাবে।
২) খাবার সময় সালাম দিতে নেই।
৩) দোকানের প্রথম কাস্টমর ফেরত দিতে নাই।
৪) নতুন স্ত্রীকে নরম স্থানে বসতে দিলে মেজাজ নরম থাকবে।
৫) বিড়াল মারলে আড়াই কেজি লবণ দিতে হবে।
৬) ঔষধ খাওয়ার সময় 'বিসমিল্লাহ বললে' রোগ বেড়ে যাবে।
৭) জোড়া কলা খেলে জোড়া সন্তান জন্ম নিবে।
৮) রাতে নখ, চুল ইত্যাদি কাটতে নাই।
৯) চোখে কোন গোটা হলে ছোট বাচ্চাদের গোপনাঙ্গে লাগালে সুস্থ হয়ে যাবে।
১০) ভাই-বোন মিলে মুরগী জবেহ করা যাবে না।
১১) ঘরের ময়লা পানি রাতে বাইরে ফেলা যাবে না।
১২) ঘর থেকে কোন উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর পেছন থেকে ডাক দিলে যাত্রা অশুভ হবে।
১৩) ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি হবে।
১৪) কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে আড়াই কেজি চাল দিতে হবে।
১৫) ছোট বাচ্চাদের দাঁত পড়লে ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেলতে বলা হয়, দাঁত ফেলার সময় বলতে শিখানো হয়, “ইঁদুর ভাই, ইঁদুর ভাই, তোর চিকন দাঁত টা দে, আমার মোটা দাঁত টা নে।”
১৬) মুরগীর মাথা খেলে মা-বাবার মৃত্যু দেখবে না।
১৭) বলা হয়, কেউ ঘর থেকে বের হলে পিছন দিকে ফিরে তাকানো নিষেধ। তাতে নাকি যাত্রা ভঙ্গ হয় বা অশুভ হয়।
১৮) ঘরের ভিতরে প্রবেশ কৃত রোদে অর্ধেক শরীর রেখে বসা যাবে না। (অর্থাৎ শরীরের কিছু অংশ রৌদ্রে আর কিছু অংশ বাহিরে) তাহলে জ্বর হবে।
১৯) রাতে বাঁশ কাটা যাবে না।
২০) রাতে গাছের পাতা ছেঁড়া যাবে না।
২১) ঘর থেকে বের হয়ে বিধবা নারী চোখে পড়লে যাত্রা অশুভ হবে।
২২) ঘরের চৌকাঠে বসা যাবে না।
২৩) মহিলাদের মাসিক অবস্থায় সবুজ কাপড় পরিধান করতে হবে। তার হাতের কিছু খাওয়া যাবে না।
২৪) বিধবা নারীকে সাদা কাপড় পরিধান করতে হবে।
২৫) ভাঙ্গা আয়না দিয়ে চেহারা দেখা যাবে না। তাতে চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে।
২৬) ডান হাতের তালু চুলকালে টাকা আসবে। আর বাম হাতের তালু চুলকালে বিপদ আসবে।
২৭) নতুন কাপড় পরিধান করার পূর্বে আগুনে ছেক দিয়ে পড়তে হবে।
২৮) নতুন কাপড় পরিধান করার পর পিছনে তাকাতে নেই।
২৯) বৃষ্টির সময় রোদ দেখা দিলে বলা হয় শিয়ালের বিয়ে।
৩০) আশ্বিন মাসে নারী বিধবা হলে আর কোন দিন বিবাহ হবে না।
৩১) খানার পর যদি কেউ গা মোচড় দেয়, তবে বলা হয় খানা না কি কুকুরের পেটে চলে যায়।
৩২) রাতের বেলা কাউকে সুই-সূতা দিতে নাই।
৩৩) গেঞ্জি ও গামছা ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতে নাই।
৩৪) খালি ঘরে সন্ধ্যার সময় বাতি দিতে হয়। না হলে ঘরে বিপদ আসে।
৩৫) গোছলের পর শরীরে তেল মাখার পূর্বে কোন কিছু খেতে নেই।
৩৬) মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কিছু কাটা-কাটি বা জবেহ করা যাবে না।
৩৭) পাতিলের মধ্যে খানা থাকা অবস্থায় তা খেলে পেট বড় হয়ে যাবে।
৩৮) কোন ব্যক্তি বাড়ি হতে বাহির হলে যদি তার সামনে খালি কলস পড়ে যায় বা কেউ খালি কলস নিয়ে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তখন সে যাত্রা বন্ধ করে দেয়, বলে আমার যাত্রা আজ শুভ হবে না।
৩৯) ছোট বাচ্চাদের হাতে লোহা পরিধান করাতে হবে।
৪০) রুমাল, ছাতা, হাত ঘড়ি ইত্যাদি কাউকে ধার স্বরূপ দেয়া যাবে না।
৪১) হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে ভাগ্যে দুর্ভোগ আছে।
৪২) হাত থেকে প্লেট পড়ে গেলে মেহমান আসবে।
৪৩) নতুন স্ত্রী কোন ভাল কাজ করলে শুভ লক্ষণ।
৪৪) পাখি ডাকলে বলা হয় ইষ্টি কুটুম (আত্মীয়) আসবে।
৪৫) কাচা মরিচ হাতে দিতে নাই।
৪৬) তিন রাস্তার মোড়ে বসতে নাই।
৪৭) খানার সময় যদি কারো ঢেকুর আসে বা মাথার তালুতে উঠে যায়, তখন একজন আরেকজনকে বলে, দোস্ত তোকে যেন কেউ স্মরণ করছে বা বলা হয় তোকে গালি দিচ্ছে।
৪৮) কাক ডাকলে বিপদ আসবে।
৪৯) শুঁকুন ডাকলে মানুষ মারা যাবে।
৫০) পেঁচা ডাকলে বিপদ আসবে। যেমন: আবু হুরায়রা বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন,
لا عَدْوَى وَلا هَامَةَ وَلا صَفَرَ وفي رواية ولا نَوْءَ وَلا صَفَرَ ولا غُوَلَ
'দ্বীন ইসলামে সংক্রামক ব্যাধি, কুলক্ষণ, পেঁচা পাখির ডাকের মন্দ প্রতিক্রিয়া, পেটে পীড়াদায়ক সাপ, নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও ভুত বা দৈত বলে কিছু নেই।'২৭০
৫১) তিনজন একই সাথে চলা যাবে না।
৫২) দুজনে ঘরে বসে কোথাও কথা বলতে লাগলে হঠাৎ টিকটিকির আওয়াজ শুনা যায়, তখন একজন অন্যজনকে বলে উঠে “দোস্ত তোর কথা সত্য, কারণ দেখছস না, টিকটিকি ঠিক ঠিক বলেছে।”
৫৩) একজন অন্য জনের মাথায় টোকা খেলে দ্বিতীয় বার টোকা দিতে হবে, একবার টোকা খাওয়া যাবে না। নতুবা মাথায় ব্যথা হবে/শিং উঠবে।
৫৪) ভাত প্লেটে নেওয়ার সময় একবার নিতে নেই।
৫৫) নতুন জামাই বাজার না করা পর্যন্ত একই খানা খাওয়াতে হবে।
৫৬) নতুন স্ত্রীকে স্বামীর বাড়িতে প্রথম পর্যায়ে আড়াই দিন অবস্থান করতে হবে।
৫৭) পাতিলের মধ্যে খানা খেলে মেয়ে সন্তান জন্ম নিবে।
৫৮) পোড়া খানা খেলে সাতার শিখবে।
৫৯) পিপড়া বা জল পোকা খেলে সাতার শিখবে।
৬০) দাঁত উঠতে বিলম্ব হলে সাত ঘরের চাউল উঠিয়ে তা পাক করে কাককে খাওয়াতে হবে এবং নিজেকেও খেতে হবে।
৬১) সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই ঘর ঝাড়ু দেয়ার পূর্বে কাউকে কোন কিছু দেয়া যাবে না।
৬২) রাতের বেলা কোন কিছু লেন-দেন করা যাবে না।
৬৩) সকাল বেলা দোকান খুলে যাত্রা (নগদ বিক্রি) না করে কাউকে বাকী দেয়া যাবে না। তাহলে সারা দিন বাকীই যাবে।
৬৪) দাঁড়ী-পাল্লা, মাপার জিনিস পায়ে লাগলে বা হাত থেকে নিচে পড়ে গেলে সালাম করতে হবে, না হলে লক্ষ্মী চলে যাবে।
৬৫) শুকরের নাম মুখে নিলে ৪০ দিন মুখ নাপাক থাকে।
৬৬) রাতের বেলা কাউকে চুন ধার দিলে চুন না বলে ধই বলতে হয়।
৬৭) বাড়ি থেকে বের হলে রাস্তায় যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় তাহলে যাত্রা অশুভ হবে।
৬৮) কোন ফসলের জমিতে বা ফল গাছে যাতে নযর না লাগে সে জন্য মাটির পাতিল সাদা-কালো রং করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
৬৯) বিনা ওযুতে বড় পীর (!!) আবদুল কাদের জিলানীর নাম নিলে আড়াইটা পশম পড়ে যাবে।
৭০) নখ চুল কেটে মাটিতে দাফন করতে হবে, কেননা বলা হয় কিয়ামতের দিন এগুলো খুঁজে বের করতে হবে।
৭১) নতুন স্ত্রীকে দুলা ভাই কোলে করে ঘরে আনতে হবে।
৭২) মহিলাগণ হাতে বালা বা চুড়ি না পড়লে স্বামীর অমঙ্গল হবে।
৭৩) স্ত্রীগণ তাদের নাকে নাক ফুল না রাখলে স্বামীর বেঁচে না থাকার প্রমাণ।
৭৪) দা, কাচি বা ছুরি ডিঙ্গিয়ে গেলে হাত-পা কেটে যাবে।
৭৫) গলায় কাটা বিশ্বলে রিজাগোর পা ধরে মাপ চাইছে হবে।
৭৬) বেচা কেনার সময় জোড় সংখ্যা রাখা যাবে না। যেমন, এক লক্ষ টাকা হলে তদস্থলে এক লক্ষ এক টাকা দিতে হবে। যেমন, দেন মোহর (কাবীন) এর সময় করে থাকে, একলক্ষ এক টাকা ধার্য করা হয়।
৭৭) বন্ধু মহলে কয়েকজন বসে গল্প-গুজব করছে, তখন তাদের মধ্যে অনুপস্থিত কাউকে নিয়ে কথা চলছে, এমতাবস্থায় সে উপস্থিত হলে, কেউ কেউ বলে উঠে “দোস্ত তোর হায়াত আছে।” কারণ একটু আগেই তোর কথা বলছিলাম।
৭৮) হঠাৎ বাম চোখ কাঁপলে দুঃখ আসে।
৭৯) বাড়ী থেকে কোথাও জাওয়ার উদ্দেশে বেড় হলে সে সময় বাড়ির কেউ পেছন থেকে ডাকলে অমঙল হয়।
৮০) স্বামীর নাম বলা জাবে না এতে অমঙ্গল হয়।
৮১) বাছুর এর গলায় জুতার টুকরা ঝুলালে কারো কু দৃষ্টি থেকে বাঁচা যায়।
৮২) স্ত্রীর নাম ধরে ডাকা যাবে না। যেমনঃ স্ত্রী তার স্বামীর নাম ধরে ডাকতে পারবে না। অথচ হাদীসে স্পষ্টতা রয়েছে যে, স্ত্রী তার স্বামীকে নাম ধরে ডাকতে পারবে। যেমন স্ত্রীর নিকট স্বামী হ'লেন সবচেয়ে সম্মানের পাত্র। অতএব যেভাবে ডাকলে স্বামী খুশি হবেন সেভাবে ডাকা উচিৎ। তবে স্বামী অসন্তুষ্ট না হলে স্ত্রী স্বামীর নাম ধরে ডাকতে পারে। যেমন যয়নব রসূল এর সামনে তার স্বামী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ এর নাম ধরে কথা বলেছিলেন। ২৭১
সুতরাং, যারা বিদ'আত এর অপসারণ করে সুন্নতকে ফিরিয়ে আনবে তাঁদের সম্পর্কে বলা হয়েছে - “বান্ধবহীন স্বজনহীন ইসলামের অনুসারীদের জন্য সুসংবাদ যারা আমার পরে মানুষেরা আমার যেসকল সুন্নত নষ্ট করবে তা ঠিক করবে।”২৭২ আর এ কারনেই সঠিকভাবে জেনে বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে পারি আল্লাহ তা'আলা আমাদের সেই তৌফিক দান করুন, আমীন।

টিকাঃ
২৭০ বুখারী, হাঃ ৫৭১৭; মুসলিম, হাঃ ৫৯৩০; মিশকাত, হাঃ ৪৫৭৮, ৪৫৭৯
২৭১ বুখারী, হাঃ ১৪৬২
২৭২ তিরমিযী, হাঃ ২৬৩০

নির্দিষ্ট কোন দিনে কবর যিয়ারতের জন্য একত্রিত হওয়া, হাফেজদের দিয়ে কুরআন খতম করিয়ে পারিশ্রমিক দেয়া ইত্যাদি। ঈদ বা জুমার দিন পুরুষ-মহিলা একসাথে বা আলাদা আলাদাভাবে কবরের পাশে একত্রিত হওয়া, খানা বিতরণ অথবা কিছু তথাকথিত মৌলোভী বা কুরআনের হাফেজদেরকে একত্রিত করে কুরআন পড়িয়ে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেয়া ইত্যাদি কাজ সুস্পষ্ট বিদ'আত এবং নাজায়েয। কবর যিয়ারতের জন্য জুমা বা ঈদের দিনের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য প্রামাণিত নয়। অনুরূপভাবে কবরের পাশে কুরআন পড়া বা পড়ানো একাটি ভিত্তিহীন কাজ। একে জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ করা আরও বেশি অন্যায়। শুধু তাই নয়, প্রচলিত সালাতেও অসংখ্য বিদ'আত পরিলক্ষিত হয়। তাছাড়া আমাদের সমাজে অনেক বিদ'আতীয় প্রচলিত কুসংস্কার বিদ্যমান রয়েছে তার কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
১) পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পূর্বে ডিম খাওয়া যাবে না। তাহলে পরীক্ষায় ডিম (গোল্লা) পাবে।
২) খাবার সময় সালাম দিতে নেই।
৩) দোকানের প্রথম কাস্টমর ফেরত দিতে নাই।
৪) নতুন স্ত্রীকে নরম স্থানে বসতে দিলে মেজাজ নরম থাকবে।
৫) বিড়াল মারলে আড়াই কেজি লবণ দিতে হবে।
৬) ঔষধ খাওয়ার সময় 'বিসমিল্লাহ বললে' রোগ বেড়ে যাবে।
৭) জোড়া কলা খেলে জোড়া সন্তান জন্ম নিবে।
৮) রাতে নখ, চুল ইত্যাদি কাটতে নাই।
৯) চোখে কোন গোটা হলে ছোট বাচ্চাদের গোপনাঙ্গে লাগালে সুস্থ হয়ে যাবে।
১০) ভাই-বোন মিলে মুরগী জবেহ করা যাবে না।
১১) ঘরের ময়লা পানি রাতে বাইরে ফেলা যাবে না।
১২) ঘর থেকে কোন উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর পেছন থেকে ডাক দিলে যাত্রা অশুভ হবে।
১৩) ব্যাঙ ডাকলে বৃষ্টি হবে।
১৪) কুরআন মাজীদ হাত থেকে পড়ে গেলে আড়াই কেজি চাল দিতে হবে।
১৫) ছোট বাচ্চাদের দাঁত পড়লে ইঁদুরের গর্তে দাঁত ফেলতে বলা হয়, দাঁত ফেলার সময় বলতে শিখানো হয়, “ইঁদুর ভাই, ইঁদুর ভাই, তোর চিকন দাঁত টা দে, আমার মোটা দাঁত টা নে।”
১৬) মুরগীর মাথা খেলে মা-বাবার মৃত্যু দেখবে না।
১৭) বলা হয়, কেউ ঘর থেকে বের হলে পিছন দিকে ফিরে তাকানো নিষেধ। তাতে নাকি যাত্রা ভঙ্গ হয় বা অশুভ হয়।
১৮) ঘরের ভিতরে প্রবেশ কৃত রোদে অর্ধেক শরীর রেখে বসা যাবে না। (অর্থাৎ শরীরের কিছু অংশ রৌদ্রে আর কিছু অংশ বাহিরে) তাহলে জ্বর হবে।
১৯) রাতে বাঁশ কাটা যাবে না।
২০) রাতে গাছের পাতা ছেঁড়া যাবে না।
২১) ঘর থেকে বের হয়ে বিধবা নারী চোখে পড়লে যাত্রা অশুভ হবে।
২২) ঘরের চৌকাঠে বসা যাবে না।
২৩) মহিলাদের মাসিক অবস্থায় সবুজ কাপড় পরিধান করতে হবে। তার হাতের কিছু খাওয়া যাবে না।
২৪) বিধবা নারীকে সাদা কাপড় পরিধান করতে হবে।
২৫) ভাঙ্গা আয়না দিয়ে চেহারা দেখা যাবে না। তাতে চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে।
২৬) ডান হাতের তালু চুলকালে টাকা আসবে। আর বাম হাতের তালু চুলকালে বিপদ আসবে।
২৭) নতুন কাপড় পরিধান করার পূর্বে আগুনে ছেক দিয়ে পড়তে হবে।
২৮) নতুন কাপড় পরিধান করার পর পিছনে তাকাতে নেই।
২৯) বৃষ্টির সময় রোদ দেখা দিলে বলা হয় শিয়ালের বিয়ে।
৩০) আশ্বিন মাসে নারী বিধবা হলে আর কোন দিন বিবাহ হবে না।
৩১) খানার পর যদি কেউ গা মোচড় দেয়, তবে বলা হয় খানা না কি কুকুরের পেটে চলে যায়।
৩২) রাতের বেলা কাউকে সুই-সূতা দিতে নাই।
৩৩) গেঞ্জি ও গামছা ছিঁড়ে গেলে সেলাই করতে নাই।
৩৪) খালি ঘরে সন্ধ্যার সময় বাতি দিতে হয়। না হলে ঘরে বিপদ আসে।
৩৫) গোছলের পর শরীরে তেল মাখার পূর্বে কোন কিছু খেতে নেই।
৩৬) মহিলার পেটে বাচ্চা থাকলে কিছু কাটা-কাটি বা জবেহ করা যাবে না।
৩৭) পাতিলের মধ্যে খানা থাকা অবস্থায় তা খেলে পেট বড় হয়ে যাবে।
৩৮) কোন ব্যক্তি বাড়ি হতে বাহির হলে যদি তার সামনে খালি কলস পড়ে যায় বা কেউ খালি কলস নিয়ে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তখন সে যাত্রা বন্ধ করে দেয়, বলে আমার যাত্রা আজ শুভ হবে না।
৩৯) ছোট বাচ্চাদের হাতে লোহা পরিধান করাতে হবে।
৪০) রুমাল, ছাতা, হাত ঘড়ি ইত্যাদি কাউকে ধার স্বরূপ দেয়া যাবে না।
৪১) হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে ভাগ্যে দুর্ভোগ আছে।
৪২) হাত থেকে প্লেট পড়ে গেলে মেহমান আসবে।
৪৩) নতুন স্ত্রী কোন ভাল কাজ করলে শুভ লক্ষণ।
৪৪) পাখি ডাকলে বলা হয় ইষ্টি কুটুম (আত্মীয়) আসবে।
৪৫) কাচা মরিচ হাতে দিতে নাই।
৪৬) তিন রাস্তার মোড়ে বসতে নাই।
৪৭) খানার সময় যদি কারো ঢেকুর আসে বা মাথার তালুতে উঠে যায়, তখন একজন আরেকজনকে বলে, দোস্ত তোকে যেন কেউ স্মরণ করছে বা বলা হয় তোকে গালি দিচ্ছে।
৪৮) কাক ডাকলে বিপদ আসবে।
৪৯) শুঁকুন ডাকলে মানুষ মারা যাবে।
৫০) পেঁচা ডাকলে বিপদ আসবে। যেমন: আবু হুরায়রা বলেন, রসূলুল্লাহ বলেছেন,
لا عَدْوَى وَلا هَامَةَ وَلا صَفَرَ وفي رواية ولا نَوْءَ وَلا صَفَرَ ولا غُوَلَ
'দ্বীন ইসলামে সংক্রামক ব্যাধি, কুলক্ষণ, পেঁচা পাখির ডাকের মন্দ প্রতিক্রিয়া, পেটে পীড়াদায়ক সাপ, নক্ষত্রের প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও ভুত বা দৈত বলে কিছু নেই।'২৭০
৫১) তিনজন একই সাথে চলা যাবে না।
৫২) দুজনে ঘরে বসে কোথাও কথা বলতে লাগলে হঠাৎ টিকটিকির আওয়াজ শুনা যায়, তখন একজন অন্যজনকে বলে উঠে “দোস্ত তোর কথা সত্য, কারণ দেখছস না, টিকটিকি ঠিক ঠিক বলেছে।”
৫৩) একজন অন্য জনের মাথায় টোকা খেলে দ্বিতীয় বার টোকা দিতে হবে, একবার টোকা খাওয়া যাবে না। নতুবা মাথায় ব্যথা হবে/শিং উঠবে।
৫৪) ভাত প্লেটে নেওয়ার সময় একবার নিতে নেই।
৫৫) নতুন জামাই বাজার না করা পর্যন্ত একই খানা খাওয়াতে হবে।
৫৬) নতুন স্ত্রীকে স্বামীর বাড়িতে প্রথম পর্যায়ে আড়াই দিন অবস্থান করতে হবে।
৫৭) পাতিলের মধ্যে খানা খেলে মেয়ে সন্তান জন্ম নিবে।
৫৮) পোড়া খানা খেলে সাতার শিখবে।
৫৯) পিপড়া বা জল পোকা খেলে সাতার শিখবে।
৬০) দাঁত উঠতে বিলম্ব হলে সাত ঘরের চাউল উঠিয়ে তা পাক করে কাককে খাওয়াতে হবে এবং নিজেকেও খেতে হবে।
৬১) সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই ঘর ঝাড়ু দেয়ার পূর্বে কাউকে কোন কিছু দেয়া যাবে না।
৬২) রাতের বেলা কোন কিছু লেন-দেন করা যাবে না।
৬৩) সকাল বেলা দোকান খুলে যাত্রা (নগদ বিক্রি) না করে কাউকে বাকী দেয়া যাবে না। তাহলে সারা দিন বাকীই যাবে।
৬৪) দাঁড়ী-পাল্লা, মাপার জিনিস পায়ে লাগলে বা হাত থেকে নিচে পড়ে গেলে সালাম করতে হবে, না হলে লক্ষ্মী চলে যাবে।
৬৫) শুকরের নাম মুখে নিলে ৪০ দিন মুখ নাপাক থাকে।
৬৬) রাতের বেলা কাউকে চুন ধার দিলে চুন না বলে ধই বলতে হয়।
৬৭) বাড়ি থেকে বের হলে রাস্তায় যদি হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় তাহলে যাত্রা অশুভ হবে।
৬৮) কোন ফসলের জমিতে বা ফল গাছে যাতে নযর না লাগে সে জন্য মাটির পাতিল সাদা-কালো রং করে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
৬৯) বিনা ওযুতে বড় পীর (!!) আবদুল কাদের জিলানীর নাম নিলে আড়াইটা পশম পড়ে যাবে।
৭০) নখ চুল কেটে মাটিতে দাফন করতে হবে, কেননা বলা হয় কিয়ামতের দিন এগুলো খুঁজে বের করতে হবে।
৭১) নতুন স্ত্রীকে দুলা ভাই কোলে করে ঘরে আনতে হবে।
৭২) মহিলাগণ হাতে বালা বা চুড়ি না পড়লে স্বামীর অমঙ্গল হবে।
৭৩) স্ত্রীগণ তাদের নাকে নাক ফুল না রাখলে স্বামীর বেঁচে না থাকার প্রমাণ।
৭৪) দা, কাচি বা ছুরি ডিঙ্গিয়ে গেলে হাত-পা কেটে যাবে।
৭৫) গলায় কাটা বিশ্বলে রিজাগোর পা ধরে মাপ চাইছে হবে।
৭৬) বেচা কেনার সময় জোড় সংখ্যা রাখা যাবে না। যেমন, এক লক্ষ টাকা হলে তদস্থলে এক লক্ষ এক টাকা দিতে হবে। যেমন, দেন মোহর (কাবীন) এর সময় করে থাকে, একলক্ষ এক টাকা ধার্য করা হয়।
৭৭) বন্ধু মহলে কয়েকজন বসে গল্প-গুজব করছে, তখন তাদের মধ্যে অনুপস্থিত কাউকে নিয়ে কথা চলছে, এমতাবস্থায় সে উপস্থিত হলে, কেউ কেউ বলে উঠে “দোস্ত তোর হায়াত আছে।” কারণ একটু আগেই তোর কথা বলছিলাম।
৭৮) হঠাৎ বাম চোখ কাঁপলে দুঃখ আসে।
৭৯) বাড়ী থেকে কোথাও জাওয়ার উদ্দেশে বেড় হলে সে সময় বাড়ির কেউ পেছন থেকে ডাকলে অমঙল হয়।
৮০) স্বামীর নাম বলা জাবে না এতে অমঙ্গল হয়।
৮১) বাছুর এর গলায় জুতার টুকরা ঝুলালে কারো কু দৃষ্টি থেকে বাঁচা যায়।
৮২) স্ত্রীর নাম ধরে ডাকা যাবে না। যেমনঃ স্ত্রী তার স্বামীর নাম ধরে ডাকতে পারবে না। অথচ হাদীসে স্পষ্টতা রয়েছে যে, স্ত্রী তার স্বামীকে নাম ধরে ডাকতে পারবে। যেমন স্ত্রীর নিকট স্বামী হ'লেন সবচেয়ে সম্মানের পাত্র। অতএব যেভাবে ডাকলে স্বামী খুশি হবেন সেভাবে ডাকা উচিৎ। তবে স্বামী অসন্তুষ্ট না হলে স্ত্রী স্বামীর নাম ধরে ডাকতে পারে। যেমন যয়নব রসূল এর সামনে তার স্বামী আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ এর নাম ধরে কথা বলেছিলেন। ২৭১
সুতরাং, যারা বিদ'আত এর অপসারণ করে সুন্নতকে ফিরিয়ে আনবে তাঁদের সম্পর্কে বলা হয়েছে - “বান্ধবহীন স্বজনহীন ইসলামের অনুসারীদের জন্য সুসংবাদ যারা আমার পরে মানুষেরা আমার যেসকল সুন্নত নষ্ট করবে তা ঠিক করবে।”২৭২ আর এ কারনেই সঠিকভাবে জেনে বুঝে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে পারি আল্লাহ তা'আলা আমাদের সেই তৌফিক দান করুন, আমীন।

টিকাঃ
২৭০ বুখারী, হাঃ ৫৭১৭; মুসলিম, হাঃ ৫৯৩০; মিশকাত, হাঃ ৪৫৭৮, ৪৫৭৯
২৭১ বুখারী, হাঃ ১৪৬২
২৭২ তিরমিযী, হাঃ ২৬৩০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00