📄 মসজিদে বিদ‘আতী কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়া
আল্লাহর ঘর মসজিদে বিদ'আতী কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়া জঘন্য অপরাধ। অনেক মসজিদে শিরক ও বিদ'আত মিশ্রিত প্রচারপত্র ও লিফলেট ও দামী তাসবীহ ঝুলতে দেখা যায়। অথচ সাহাবায়ে কেরাম মসজিদে বিদ'আতী কর্মকান্ড হওয়াকে গুরুতর অপরাধ মনে করতেন।
عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فَثَوَّبَ رَجُلٌ فِي الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ قَالَ اخْرُجْ بِنَا فَإِنَّ هَذِهِ بِدْعَةٌ
মুজাহিদ বলেন, আমি একদা ইবনু ওমর এর সাথে ছিলাম। যোহর কিংবা আসরের আযানের পর জনৈক ব্যক্তি মানুষকে ডাকাডাকি করছে। তখন ইবনু ওমর বলেন, তোমরা আমাকে এই মসজিদ থেকে বের করে নাও। কারণ এটা বিদ'আত। ২৬২ বিদ'আতের ঘৃণায় তিনি উক্ত মসজিদে সালাত আদায় না করে বেরিয়ে আসেন। বর্তমানে মসজিদগুলোতে সকাল-সন্ধ্যায় বিদ'আতী যিকিরের মজলিস বসানো হচ্ছে, গোল হয়ে বসে মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী বর্ণনা করা হচ্ছে, তাসবীহ দানা দ্বারা তাসবীহ জপা হচ্ছে, প্রচলিত মুনাজাতের নামে জম-জমাট ব্যবসায় চলছে। অথচ শরী'আত বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সাহাবীগণ ছিলেন খড়গহস্ত। ২৬৩ যেমন এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস উল্লেখ করা যায়। যেমন -
عَنِ الصَّلْتِ بْنِ بُهْرَامٍ قَالَ مَرَّ ابْنُ مَسْعُودٍ بِامْرَأَةٍ مَعَهَا تَسْبِيحُ تُسَبِّحُ بِهِ فَقَطَعَهُ وَأَلْقَاهُ ثُمَّ مَرَّ بِرَجُلٍ يُسَبِّحُ بِحَصَى فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ ثُمَّ قَالَ لَقَدْ سَبَقْتُمْ ! رَكِبْتُمْ بِدْعَةً ظُلْمًا وَلَقَدْ غَلَبْتُمْ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ عِلْمًا!
সালত ইবনু বুহরাম বলেন, ইবনু মাসউদ এক মহিলার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার কাছে দানা ছিল। তা দ্বারা সেই মহিলা তাসবীহ পাঠ করছিল। ইবনু মাসউদ সেগুলো কেড়ে নিলেন এবং দূরে নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর একজন লোকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন, যে পাথর কংকর দ্বারা তাসবীহ পাঠ করছিল। ইবনু মাসউদ তাকে নিজের পা দ্বারা লাথি মারলেন। তারপর বললেন, তোমরা অগ্রগামী হয়েছ! আর অন্ধকার বিদ'আতের উপর আরোহন করেছ! তোমরাই কি মুহাম্মাদ - এর সাহাবী হিসাবে ইলমের দিক থেকে বিজয়ী হয়েছ! ২৬৪ মসজিদ কমিটিকে শরী'আত বিরোধী উক্ত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। কারণ তারা বিদ'আতীকে আশ্রয় দিলে তাদেরও কোন ফরয কিংবা নফল ইবাদত কবুল হবে না। ২৬৫
টিকাঃ
২৬২ আবুদাউদ, হাঃ ৫৩৮
২৬৩ সিলসিলা সহীহাহ, হাঃ ২০০৫
২৬৪ ইবনু ওয়াযযাহ, আল-বিদউ, পৃঃ ২৩, হাঃ ২১; সিলসিলা যঈফাহ, হাঃ ৪৩-এর আলোচনা দ্রঃ সনদ সহীহ
২৬৫ বুখারী, হাঃ ৭৩০০ মুসলিম, হাঃ ৩৩৯৩
আল্লাহর ঘর মসজিদে বিদ'আতী কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়া জঘন্য অপরাধ। অনেক মসজিদে শিরক ও বিদ'আত মিশ্রিত প্রচারপত্র ও লিফলেট ও দামী তাসবীহ ঝুলতে দেখা যায়। অথচ সাহাবায়ে কেরাম মসজিদে বিদ'আতী কর্মকান্ড হওয়াকে গুরুতর অপরাধ মনে করতেন।
عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ كُنْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فَثَوَّبَ رَجُلٌ فِي الظُّهْرِ أَوِ الْعَصْرِ قَالَ اخْرُجْ بِنَا فَإِنَّ هَذِهِ بِدْعَةٌ
মুজাহিদ বলেন, আমি একদা ইবনু ওমর এর সাথে ছিলাম। যোহর কিংবা আসরের আযানের পর জনৈক ব্যক্তি মানুষকে ডাকাডাকি করছে। তখন ইবনু ওমর বলেন, তোমরা আমাকে এই মসজিদ থেকে বের করে নাও। কারণ এটা বিদ'আত। ২৬২ বিদ'আতের ঘৃণায় তিনি উক্ত মসজিদে সালাত আদায় না করে বেরিয়ে আসেন। বর্তমানে মসজিদগুলোতে সকাল-সন্ধ্যায় বিদ'আতী যিকিরের মজলিস বসানো হচ্ছে, গোল হয়ে বসে মিথ্যা ও বানোয়াট কাহিনী বর্ণনা করা হচ্ছে, তাসবীহ দানা দ্বারা তাসবীহ জপা হচ্ছে, প্রচলিত মুনাজাতের নামে জম-জমাট ব্যবসায় চলছে। অথচ শরী'আত বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সাহাবীগণ ছিলেন খড়গহস্ত। ২৬৩ যেমন এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস উল্লেখ করা যায়। যেমন -
عَنِ الصَّلْتِ بْنِ بُهْرَامٍ قَالَ مَرَّ ابْنُ مَسْعُودٍ بِامْرَأَةٍ مَعَهَا تَسْبِيحُ تُسَبِّحُ بِهِ فَقَطَعَهُ وَأَلْقَاهُ ثُمَّ مَرَّ بِرَجُلٍ يُسَبِّحُ بِحَصَى فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ ثُمَّ قَالَ لَقَدْ سَبَقْتُمْ ! رَكِبْتُمْ بِدْعَةً ظُلْمًا وَلَقَدْ غَلَبْتُمْ أَصْحَابَ مُحَمَّدٍ عِلْمًا!
সালত ইবনু বুহরাম বলেন, ইবনু মাসউদ এক মহিলার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার কাছে দানা ছিল। তা দ্বারা সেই মহিলা তাসবীহ পাঠ করছিল। ইবনু মাসউদ সেগুলো কেড়ে নিলেন এবং দূরে নিক্ষেপ করলেন। অতঃপর একজন লোকের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন, যে পাথর কংকর দ্বারা তাসবীহ পাঠ করছিল। ইবনু মাসউদ তাকে নিজের পা দ্বারা লাথি মারলেন। তারপর বললেন, তোমরা অগ্রগামী হয়েছ! আর অন্ধকার বিদ'আতের উপর আরোহন করেছ! তোমরাই কি মুহাম্মাদ - এর সাহাবী হিসাবে ইলমের দিক থেকে বিজয়ী হয়েছ! ২৬৪ মসজিদ কমিটিকে শরী'আত বিরোধী উক্ত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। কারণ তারা বিদ'আতীকে আশ্রয় দিলে তাদেরও কোন ফরয কিংবা নফল ইবাদত কবুল হবে না। ২৬৫
টিকাঃ
২৬২ আবুদাউদ, হাঃ ৫৩৮
২৬৩ সিলসিলা সহীহাহ, হাঃ ২০০৫
২৬৪ ইবনু ওয়াযযাহ, আল-বিদউ, পৃঃ ২৩, হাঃ ২১; সিলসিলা যঈফাহ, হাঃ ৪৩-এর আলোচনা দ্রঃ সনদ সহীহ
২৬৫ বুখারী, হাঃ ৭৩০০ মুসলিম, হাঃ ৩৩৯৩
📄 সাদাকাল্লাহুল আযিম বলার প্রচলন
'কাতারে'র ওয়াকফ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত 'ইসলাম ওয়েব' [islamweb.net] সাইটের (১৩৯৪৫২)-নং ফতোয়ায় 'সাদাকাল্লাহু' বলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে: "কবে ও কিভাবে সাদাকাল্লাহুল আজিম বলার প্রচলন ঘটেছে জানা যায়নি। যেমন বলাঃ
صدقت رب وبلغت رسلك، ونحن على ذلك من الشاهدين، اللهم اجعلنا من شهداء الحق، القائمين بالقسط ، ثم يدعو بدعوات.
এ থেকে আমাদের ধারণা চতুর্থ হিজরিতে 'সাদাকাল্লাহু' বলার প্রচলন ঘটেছে, কারণ হাকিম তিরমিযি চতুর্থ শতাব্দীর আলেম ছিলেন, তবে তার পূর্বেও তার প্রচলন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন।"
'কাতারে'র ওয়াকফ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত 'ইসলাম ওয়েব' [islamweb.net] সাইটের (১৩৯৪৫২)-নং ফতোয়ায় 'সাদাকাল্লাহু' বলা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে: "কবে ও কিভাবে সাদাকাল্লাহুল আজিম বলার প্রচলন ঘটেছে জানা যায়নি। যেমন বলাঃ
صدقت رب وبلغت رسلك، ونحن على ذلك من الشاهدين، اللهم اجعلنا من شهداء الحق، القائمين بالقسط ، ثم يدعو بدعوات.
এ থেকে আমাদের ধারণা চতুর্থ হিজরিতে 'সাদাকাল্লাহু' বলার প্রচলন ঘটেছে, কারণ হাকিম তিরমিযি চতুর্থ শতাব্দীর আলেম ছিলেন, তবে তার পূর্বেও তার প্রচলন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহ ভালো জানেন।"
📄 সৌদি আরবের উলামা পরিষদের ফতোয়া
২৬৬ কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত শেষে সাদাকাল্লাহুল আজিম বলা বিদআত, কারণ নবী , খোলাফায়ে রাশেদা ও কোনো সাহাবী থেকে এরূপ বলা প্রমাণিত নেই, পরবর্তী কোনো ইমাম থেকেও নয়। অথচ কুরআনুল কারিমের প্রতি তাদের গুরুত্ব বেশী ছিল, তারা বেশী তিলাওয়াত করতেন এবং কুরআন সম্পর্কে তারা বেশী জানতেন। নবী বলেনঃ
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدُّ
"যে আমাদের দীনে নতুন কিছু সৃষ্টি করল, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিত্যক্ত।”২৬৭
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেনঃ
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার উপর আমাদের দীন নেই, তা পরিত্যক্ত।”২৬৮
টিকাঃ
২৬৬ লাজনায়ে দায়েমা খ. ৪, পৃঃ ১১৮
২৬৭ বুখারী, হাঃ ২৬৯৭
২৬৮ মুসলিম, হাঃ ১৭২১
২৬৬ কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত শেষে সাদাকাল্লাহুল আজিম বলা বিদআত, কারণ নবী , খোলাফায়ে রাশেদা ও কোনো সাহাবী থেকে এরূপ বলা প্রমাণিত নেই, পরবর্তী কোনো ইমাম থেকেও নয়। অথচ কুরআনুল কারিমের প্রতি তাদের গুরুত্ব বেশী ছিল, তারা বেশী তিলাওয়াত করতেন এবং কুরআন সম্পর্কে তারা বেশী জানতেন। নবী বলেনঃ
مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ فَهُوَ رَدُّ
"যে আমাদের দীনে নতুন কিছু সৃষ্টি করল, যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা পরিত্যক্ত।”২৬৭
ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেনঃ
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ
“যে ব্যক্তি এমন আমল করল, যার উপর আমাদের দীন নেই, তা পরিত্যক্ত।”২৬৮
টিকাঃ
২৬৬ লাজনায়ে দায়েমা খ. ৪, পৃঃ ১১৮
২৬৭ বুখারী, হাঃ ২৬৯৭
২৬৮ মুসলিম, হাঃ ১৭২১
📄 বিদ‘আত থেকে পরিত্রাণের উপায়
১) বিদ'আত বিতাড়নে হিকমত ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করা: পূর্বে আলোচিত অনেক বিদ'আতই অনেক মুসলমানদের জীবনে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে খুব প্রগাঢ় ও দৃঢ়ভাবে গেড়ে বসেছে। তারা এসব বিদ'আতকে দ্বীনেরই একটি অংশ মনে করে এবং ভাবে - এ সকল কাজ সম্পাদন না করলে দ্বীনদারী লঙ্ঘন হবে। তা ছাড়া সুবিধাভোগী কিছু লোকের এসব কর্ম প্রচার ও প্রসারে ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নিরলস পরিশ্রমও একটি বড় কারণ। এ পরিস্থিতি ও পরিবেশ মুহাম্মাদ মুস্তাফা ﷺ-এর প্রকৃত অনুসারী এবং তার আদর্শ প্রচারে সচেষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সমাজ সংস্কার ও বিদ'আত বিতাড়নে রাসূলুল-াহর নীতি আদর্শ ও তার পথ ও পদ্ধতি অনুসরণের দিকে আহ্বান করছে। যেমন: ধৈর্যধারণ করা, মনকে প্রশস্ত করা, কষ্ট সহিষ্ণু মনোবৃত্তি, উত্তম ব্যবহার ও চরিত্র প্রদর্শন করা এবং নির্দেশ বর্ণনা করার সময় উত্তম পন্থা ও প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করা যা হক গ্রহণ ও বাতিল পরিহার করনে উৎসাহ প্রদান করবে। আল্লাহ স্বীয় নবী ﷺ-কে বলছেন -
وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
অর্থ: 'আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।'২৬৯
২) দাওয়াত কর্মীদের অতীব গুরুত্ব পূর্ণ হচ্ছে: তাদের সুন্নত সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে হবে। সুন্নতের অনুসরণের মর্তবা ও গুরুত্ব রসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ, পথ ও কর্মপন্থা অনুকরণের বরকত সম্বন্ধে ধারণা রাখতে হবে এবং এটিই যে তার মুহব্বতের দলিল সেটিও বুঝতে হবে। আর তার আদর্শ ও সুন্নতের বিরোধিতায় মানুষকে রসূলুল্লাহর সুন্নত ও আদর্শ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও অনুসারী সাহাবা ও তাবেয়ীন এবং দ্বীনের পথে অগ্র সেনানী হেদায়াতের রাহবারদের রাস্তা থেকে দুরে সরিয়ে দেয় - সে সম্পর্কে ও ধারণা থাকতে হবে।
৩) বিদ'আত বিতাড়নে একটি প্রজ্ঞাময় কর্ম পদ্ধতি: বিদ'আত বিতাড়ন করতে গিয়ে বিদ'আতে নিমজ্জিত মানুষদেরকে বলা হয় আপনারা যা করছেন এগুলোতো সব বিদ'আত যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায় - তা'হলে মানুষ তার কথা শুনবে না বরং বিরোধিতা করবে। আর যদি বিদ'আত নাম না নিয়ে সুন্নতের মুহাব্বত ও রসূল ﷺ-এর অনুসরণের মর্যাদা কি তাকে ভালবাসার স্বরূপ কি, সুন্নতের অনুসরণই যে তাকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসা -ইত্যাদি পদ্ধতিতে কাজ করা হয়, তাহলে এটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং সুন্নতের প্রতি তারা আকৃষ্ট হবে। ফলে ধীরে ধীরে সুন্নতের প্রসার ঘটবে আর বিদ'আত উঠে যাবে। তাতে মূল কাজ বেশি হবে। তাই দাওয়াত কর্মীদের বিদ'আতের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে জিহাদে অবতীর্ণ না হয়ে সুন্নতের প্রসারতায় আত্মনিয়োগই হবে অধিক ফলদায়ক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের সহায় হন। আমীন।
টিকাঃ
২৬৯ সূরা: আলে ইমরান-১৫৯
১) বিদ'আত বিতাড়নে হিকমত ও কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করা: পূর্বে আলোচিত অনেক বিদ'আতই অনেক মুসলমানদের জীবনে অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে খুব প্রগাঢ় ও দৃঢ়ভাবে গেড়ে বসেছে। তারা এসব বিদ'আতকে দ্বীনেরই একটি অংশ মনে করে এবং ভাবে - এ সকল কাজ সম্পাদন না করলে দ্বীনদারী লঙ্ঘন হবে। তা ছাড়া সুবিধাভোগী কিছু লোকের এসব কর্ম প্রচার ও প্রসারে ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং নিরলস পরিশ্রমও একটি বড় কারণ। এ পরিস্থিতি ও পরিবেশ মুহাম্মাদ মুস্তাফা ﷺ-এর প্রকৃত অনুসারী এবং তার আদর্শ প্রচারে সচেষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সমাজ সংস্কার ও বিদ'আত বিতাড়নে রাসূলুল-াহর নীতি আদর্শ ও তার পথ ও পদ্ধতি অনুসরণের দিকে আহ্বান করছে। যেমন: ধৈর্যধারণ করা, মনকে প্রশস্ত করা, কষ্ট সহিষ্ণু মনোবৃত্তি, উত্তম ব্যবহার ও চরিত্র প্রদর্শন করা এবং নির্দেশ বর্ণনা করার সময় উত্তম পন্থা ও প্রাঞ্জল ভাষা ব্যবহার করা যা হক গ্রহণ ও বাতিল পরিহার করনে উৎসাহ প্রদান করবে। আল্লাহ স্বীয় নবী ﷺ-কে বলছেন -
وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
অর্থ: 'আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।'২৬৯
২) দাওয়াত কর্মীদের অতীব গুরুত্ব পূর্ণ হচ্ছে: তাদের সুন্নত সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে হবে। সুন্নতের অনুসরণের মর্তবা ও গুরুত্ব রসূলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ, পথ ও কর্মপন্থা অনুকরণের বরকত সম্বন্ধে ধারণা রাখতে হবে এবং এটিই যে তার মুহব্বতের দলিল সেটিও বুঝতে হবে। আর তার আদর্শ ও সুন্নতের বিরোধিতায় মানুষকে রসূলুল্লাহর সুন্নত ও আদর্শ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও অনুসারী সাহাবা ও তাবেয়ীন এবং দ্বীনের পথে অগ্র সেনানী হেদায়াতের রাহবারদের রাস্তা থেকে দুরে সরিয়ে দেয় - সে সম্পর্কে ও ধারণা থাকতে হবে।
৩) বিদ'আত বিতাড়নে একটি প্রজ্ঞাময় কর্ম পদ্ধতি: বিদ'আত বিতাড়ন করতে গিয়ে বিদ'আতে নিমজ্জিত মানুষদেরকে বলা হয় আপনারা যা করছেন এগুলোতো সব বিদ'আত যা মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যায় - তা'হলে মানুষ তার কথা শুনবে না বরং বিরোধিতা করবে। আর যদি বিদ'আত নাম না নিয়ে সুন্নতের মুহাব্বত ও রসূল ﷺ-এর অনুসরণের মর্যাদা কি তাকে ভালবাসার স্বরূপ কি, সুন্নতের অনুসরণই যে তাকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসা -ইত্যাদি পদ্ধতিতে কাজ করা হয়, তাহলে এটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে এবং সুন্নতের প্রতি তারা আকৃষ্ট হবে। ফলে ধীরে ধীরে সুন্নতের প্রসার ঘটবে আর বিদ'আত উঠে যাবে। তাতে মূল কাজ বেশি হবে। তাই দাওয়াত কর্মীদের বিদ'আতের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে জিহাদে অবতীর্ণ না হয়ে সুন্নতের প্রসারতায় আত্মনিয়োগই হবে অধিক ফলদায়ক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের সহায় হন। আমীন।
টিকাঃ
২৬৯ সূরা: আলে ইমরান-১৫৯